বিষয়বস্তুতে চলুন

চিন্তন ও নির্দেশনা/দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি

উইকিবই থেকে

একজন শিক্ষার্থী যখন পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করে এবং শ্রেণিকক্ষের পাঠ মুখস্থ করে, তখন সেই তথ্য কোথায় যায়? দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি শেখার ক্ষেত্রে একেবারে অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন শিক্ষার্থী যা কিছু শেখে, তা হয়তো স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি কিংবা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে সংরক্ষিত হয়। যদিও উভয় ধরনের স্মৃতিই তথ্য সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবুও এগুলো মানুষের শেখার ধরন, উপলব্ধি এবং অর্থ নির্মাণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। শিখন ও স্মৃতি একে অপরকে অবিরত প্রভাবিত করে। যেমনিভাবে পূর্বের অভিজ্ঞতা বা পূর্বজ্ঞান নতুন কোনো বিষয় শেখাকে আরও সহজ করে তোলে। এই অধ্যায়ে আমরা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির উপাদান, কার্যকারিতা ও কাঠামোর বিষয়ে আলোচনা করব। এটি মূলত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ মডেল ভিত্তিক। আমরা এই কাঠামোটিকে জ্ঞানের সঙ্গে সংযুক্ত করে বিশ্লেষণ করব কীভাবে তথ্য দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে পৌঁছে, সেখানে সংরক্ষিত হয় এবং কীভাবে তা পুনরুদ্ধার করা যায়। সর্বশেষে, আমরা নতুন ও প্রচলিত কিছু মডেল তুলে ধরব, যেগুলো দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে।

দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির গঠন ও কার্যকারিতা

[সম্পাদনা]

দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির ধারণক্ষমতা অসীম এবং স্থায়ী বলে মনে করা হয়, যেখানে একজন মানুষ জীবদ্দশায় যত রকম অভিজ্ঞতা অর্জন করে, তার সবই সংরক্ষিত থাকতে পারে। সকল শিক্ষার্থীর জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি থাকা আবশ্যক। এটি কীভাবে কাজ করে, এর গঠন ও প্রক্রিয়া বোঝা শিক্ষার্থীদের নিজের শেখা আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ করে দেয়।

আমাদের দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে দীর্ঘ সময়ে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ তথ্য থাকে এবং স্বল্পমেয়াদী স্মৃতির (যা অন্য একটি অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে) মতো এটি টিকিয়ে রাখার জন্য ক্রমাগত অনুশীলন বা পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন হয় না। এখানে সংরক্ষিত তথ্য স্মরণ অথবা পুনর্গঠন করা হয়, পুনরাবৃত্তি নয়। দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিকে সাধারণত তিনটি জ্ঞানের বিভাগে ভাগ করা হয়: ঘোষণামূলক জ্ঞান, প্রক্রিয়াগত জ্ঞান, এবং শর্তাধীন জ্ঞান

ঘোষণামূলক জ্ঞান (বা শব্দার্থিক জ্ঞান) হলো এমন তথ্য যা আমরা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি। অন্যদিকে প্রক্রিয়াগত জ্ঞান হলো এমন দক্ষতা ও প্রক্রিয়া যা আমরা অনায়াসে সম্পাদন করতে পারি, কিন্তু স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি না (পরবর্তী অংশে উৎপাদন নিয়ম এবং ACT-R তত্ত্বে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে)। শর্তাধীন জ্ঞান বোঝায়, কখন ঘোষণামূলক ও প্রক্রিয়াগত জ্ঞান প্রয়োগ করতে হয় সে সম্পর্কে জানা।

ঘোষণামূলক জ্ঞান প্রক্রিয়াগত জ্ঞান  শর্তাধীন জ্ঞান 
মোবাইল ফোন একটি পোর্টেবল টেলিফোন। ফোন কল করতে জানা। কখন ফোন রিসিভ বা কেটে দিতে হয়।
গাড়ির সাধারণত চারটি চাকা থাকে। গাড়ি চালাতে জানা। কখন সিটবেল্ট বাঁধতে বা খোলার দরকার।

চিত্র ১: ঘোষণামূলক, প্রক্রিয়াগত এবং শর্তাধীন জ্ঞানের উদাহরণ

জ্ঞানের ভিত্তি নির্মাণকারী উপাদান

[সম্পাদনা]

“জ্ঞানের ভিত্তি নির্মাণকারী উপাদান” বলতে এমন পাঁচটি মানসিক কাঠামো বোঝানো হয় যা অনেক তাত্ত্বিকদের মতে একত্রে কাজ করে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে সংরক্ষিত সকল মানসিক কাঠামো ও তথ্যের ভিত্তি গঠন করে।[] মূলত, এগুলো দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির উপাদান। যদিও অনেকগুলো উপাদানের মাঝে মিল থাকতে পারে, প্রতিটির কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। প্রথম তিনটি উপাদান ঘনিষ্ঠভাবে ঘোষণামূলক জ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, আর শেষ দুটি সাধারণত প্রক্রিয়াগত জ্ঞানের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।[]

ধারণা কী? ধারণা হলো এমন মানসিক গঠন, যার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন তথ্য উপাদানকে অর্থবোধক ছোট ছোট ভাগে ভাগ করি এবং শ্রেণিবদ্ধ করি। এটি নতুন তথ্য বুঝতে সাহায্য করে।[] এগুলোকে বলা হয় “শব্দার্থিক জ্ঞানের অংশবিশেষ”, যেগুলো তথ্য স্মরণ করার সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে। এগুলো সাধারণত ঘোষণামূলক জ্ঞানের আওতায় পড়ে।[]

যেমন, "বিড়াল" সম্পর্কে ধারণা দিতে গেলে বলা যায় এটি এমন এক প্রাণীশ্রেণি যাদের গঠন, আকার ও আচরণে মিল থাকে: তারা ছোট, লোমযুক্ত এবং ‘ম্যাও’ শব্দে যোগাযোগ করে। তাদের রঙ হতে পারে সাদা, কালো, বাদামি ইত্যাদি; আবার তারা গৃহপালিত বা বন্য হতে পারে। তবুও, এরা সবাই "বিড়াল" শ্রেণির মধ্যে পড়ে।

বহুল পরিচিত বা সাধারণ ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি ধারণাকে বলা হয় প্রোটোটাইপ[] যেমন, উত্তর আমেরিকার একটি আদর্শ বাস্কেটবল লিগের প্রোটোটাইপ হতে পারে “ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (NBA)”।

ধারণা গঠনের উপায় কী? ধারণা গঠনের প্রধান দুটি তত্ত্ব আছে। প্রথমত, কেউ কেউ মনে করেন ধারণা হলো মস্তিষ্কের বিমূর্ত মানসিক গঠন, যেগুলো ইন্দ্রিয়-প্রতিবর্তক পদ্ধতির থেকে আলাদাভাবে গঠিত হয়।[] অন্যদিকে, fMRI এর মতো নিউরোইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ধারণা তৈরি হয় ইন্দ্রিয়-প্রতিবর্তক উপাদানের সঙ্গে মিলিয়ে, এবং দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে সেগুলো বহু-মাত্রিকভাবে সংরক্ষিত হয়।[]

আমরা আমাদের ধারণাকে সাধারণত তিন শ্রেণিতে ভাগ করি: পদার্থ, প্রক্রিয়া এবং মানসিক অবস্থা।[] যেমন, “প্রক্রিয়া” বলতে বোঝায় এমন এক ধারাবাহিক ঘটনা যা থেকে আমরা নির্দিষ্ট ফল প্রত্যাশা করি, যেমন—কিছু ফেলে দিলে তা মাধ্যাকর্ষণজনিত কারণে পড়ে যাবে। “মানসিক অবস্থা” বোঝায় এমন অভ্যন্তরীণ অনুভূতি বা আবেগ, যেমন—দুঃখিত, খুশি বা অনিশ্চিত বোধ করা।

ধারণা তৈরির কৌশল সম্পর্কে তিনটি স্বীকৃত পদ্ধতি রয়েছে: (১) সংরক্ষণশীল মনোযোগ কৌশল, যেখানে ব্যক্তি প্রাসঙ্গিক বৈশিষ্ট্য দেখে সঠিক উদ্দীপনা নির্বাচন করে।[] (২) মনোযোগ গেম্বলিং কৌশল, যেখানে ব্যক্তি একবারে সব বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও এটা দ্রুত কাজ করে, ভুলের সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এবং (৩) স্ক্যানিং কৌশল, যেখানে ব্যক্তি একাধিক অনুমান একসঙ্গে পরীক্ষা করে দেখে। এই পদ্ধতিও দ্রুত, কিন্তু মানসিক চাপ বেশি হওয়ায় মনে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।[]

প্রস্তাবনা

[সম্পাদনা]

প্রস্তাবনা এমন মানসিক ধারণা যা দিয়ে ভাষাগত তথ্য এবং অধিকাংশ ঘোষণামূলক জ্ঞান সংরক্ষিত হয় বলে তাত্ত্বিকরা বিশ্বাস করেন।[] প্রস্তাবনা হলো সবচেয়ে ছোট মানসিক বিবৃতি যা অর্থ বহন করে, তবে ধারণার তুলনায় আরও জটিল। কারণ এটি একাধিক ধারণার ভিত্তিতে গঠিত হয় এবং সেগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক নির্দেশ করে।[] একটি প্রস্তাবনাকে সত্য বা মিথ্যা হিসেবে বিচার করা যায়।[]

উদাহরণ: “লুক মেয়াদোত্তীর্ণ টিকিট কিনেছে।”

১. লুক টিকিট কিনেছে। (ঘটনাটি অতীতে ঘটেছে।)

২. টিকিটটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।

এই দুটি প্রস্তাবনা মিলিয়ে একটি “প্রস্তাবনামূলক নেটওয়ার্ক” তৈরি হয় যা নির্দিষ্ট তথ্য স্মরণ বা পুনরুদ্ধার করার সময় সক্রিয় হয়।

স্কিমাটা কী? স্কিমাটা হলো এমন মানসিক কাঠামো যা একজন ব্যক্তির সাধারণ কারণ ও ফলাফলের জ্ঞানকে উপস্থাপন করে।[] আমরা যে কোনও জ্ঞান অর্জন করি, তা স্কিমার মাধ্যমে সংগঠিত হয় এবং এটি তথ্যের এনকোডিং, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য দায়ী।[] স্কিমাটা গঠিত হয় বাহ্যিক পরিবেশ ও পূর্বজ্ঞান একত্রে কাজ করে।[] ডানদিকে প্রদত্ত চিত্রটি "স্তন্যপায়ী প্রাণীর জ্ঞান" সংক্রান্ত একটি স্কিমার উপস্থাপন হতে পারে।

চিত্র ২. স্কিমাটা: স্তন্যপায়ী প্রাণী সম্পর্কে জ্ঞান

স্কিমাটাকে স্ক্যাফোল্ডিংয়ের মানসিক সমতুল্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে। অন্য কথায়, আমরা যখন নিজেদেরকে উপন্যাসের পরিস্থিতিতে খুঁজে পাই বা নতুন তথ্য শিখি, তখন আমরা যে স্কিমাটা গঠন করি তা আমাদের জন্য সহায়তা প্রদান করবে ।[১০]

স্কিমাটা কীভাবে গঠিত হয়? একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রাক-বিদ্যমান স্কিম্যাটিক জ্ঞান রাখা নতুন এনকোডেড তথ্য স্মরণ করার চেষ্টা করার সময় নতুন তথ্য ধরে রাখার উন্নত স্মৃতির সাথে যুক্ত হয়েছে।[১১]  এটি ঘটে বলে বিশ্বাস করা হয়। কারণ এটি নতুন তথ্যকে মস্তিষ্কে (এবং এইভাবে সক্রিয় স্কিমাতে) আরও দ্রুত একীভূত করার অনুমতি দেয়।[১১]  আমাদের স্কিমাতে এনকোড করা তথ্যগুলো স্লট হিসাবে পরিচিত যা সাজানো হয়; নির্দিষ্ট মানসিক "বিভাগগুলো"। এর মধ্যে আমাদের জ্ঞান এনকোড করা হয়, সংরক্ষণ করা হয়, পুনরুদ্ধার করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত এটি সামগ্রিকভাবে কীভাবে অনুভূত হয়।[]  যখন একটি স্কিমাটা বিকশিত হয়েছে এবং ঘটনা বা ধারণাগুলোর একটি সাধারণ ঘটনা হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে, তখন এটি সম্ভবত আমাদের দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির একটি অংশ হয়ে উঠবে যেখানে এটি আমাদের স্মৃতিচারণ এবং ভবিষ্যতের কোনও স্কিম্যাটিক তথ্যের ভিত্তি হিসাবে কাজ করতে থাকবে যা এনকোড করা যেতে পারে।[]  এই প্রক্রিয়াটিকে স্কিম্যাটিক ইনস্ট্যান্টিয়েশন বলা হয়।[১২]

প্রোডাকশন

[সম্পাদনা]

প্রোডাকশন হলো if-then বা "যদি-তারপর" বিবৃতি। এটি কর্মের নিয়মগুলোর একটি সেট হিসাবে কাজ করে। এটি আমাদের সমস্ত পদ্ধতিগত জ্ঞানকে পরিচালনা করে।[১৩]  এখানে যদি-তারপর প্রোডাকশনর একটি উদাহরণ: "যদি ট্র্যাফিক লাইট সবুজ থেকে হলুদ হয়ে যায়, তাহলে ধীর হয়ে যান"। প্রোডাকশনগুলো তাত্ক্ষণিক, স্বয়ংক্রিয় মানসিক ধারণা। এগুলো ঘটনাগুলোর একটি সাধারণ ক্রমের পুনরাবৃত্তিমূলক মুখোমুখী হওয়ার ফলে মানুষের দ্বিতীয় প্রকৃতি হতে শেখা হয়।  তারা এই ঘটনাগুলোর জন্য উৎপাদন বিধি এবং প্রত্যাশার একটি সেট সরবরাহ করে। এটি প্রস্তাবগুলোর মতোই উৎপাদন নেটওয়ার্ক হিসাবে পরিচিত ইন্টারেক্টিভ গ্রুপগুলোতে সংগঠিত হয়। এটি  প্রায়ই একটি উৎপাদন সক্রিয় করে, অন্যান্য প্রোডাকশনগুলো ট্রিগার করে। চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এটি জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া ও ক্রিয়ার একটি ধারায় প্রতিক্রিয়া জানায়। পরবর্তী বিভাগে স্মৃতির তত্ত্ব হিসাবে উৎপাদন এবং উৎপাদন বিধিগুলোর বিষয়ে আরও বিশদ আলোচনা করা হবে।

স্ক্রিপ্ট

[সম্পাদনা]
চিত্র ৩. হোটেলে চেক-ইন করার একটি শিশুর স্ক্রিপ্ট

স্ক্রিপ্ট হলো এমন মানসিক গঠন যা আমাদের সব ধরনের প্রক্রিয়াগত জ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।[১৪] সাধারণভাবে স্বীকৃত যে স্ক্রিপ্ট আমাদের সামাজিক পরিবেশ বুঝতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো সামাজিক পরিস্থিতি ও ঘটনার নিয়ন্ত্রণে থাকা তথ্য প্রদান করে, যেমন—কে কী করবে, কখন করবে, কাকে করবে এবং কেন করবে।[১৫] মানুষ নানা পরিস্থিতিতে, যেমন হোটেলে চেক-ইন করার সময়, স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে থাকে। স্ক্রিপ্ট সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং একই ধরনের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে বিকশিত হয়।[১৪] উদাহরণস্বরূপ, আপনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হোটেলে চেক-ইন করার নিজস্ব একটি স্ক্রিপ্ট তৈরি করতে পারেন, যা আপনাকে সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে আচরণ করতে হবে তা সংগঠিত করতে, মনে রাখতে ও প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করে। ডানদিকে প্রদর্শিত চিত্রটি হোটেল চেক-ইনের একটি শিশুর স্ক্রিপ্ট।

এই ভিত্তি উপাদানগুলোর শিক্ষায় প্রয়োগ

[সম্পাদনা]

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব শিক্ষকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ যে তারা স্কিমা, ধারণা, প্রস্তাবনা, স্ক্রিপ্ট—এই মানসিক উপাদানগুলোর কার্যকারিতা ভালোভাবে বুঝুক এবং কীভাবে এগুলো একত্রে কাজ করে শেখা, জ্ঞান অর্জন ও বিকাশে ভূমিকা রাখে তা উপলব্ধি করুক। এর মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করতে পারে, শিক্ষার্থীরা তাদের এই মানসিক প্রক্রিয়াগুলোকে সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগাচ্ছে (যেমন—নতুন পাঠ্যসূচির আগে রিভিউ পাঠ প্রদান করে পুরনো প্রডাকশন, স্কিমা বা প্রস্তাবনাকে সক্রিয় করা এবং ভবিষ্যতে সহজে পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া)। এই প্রক্রিয়াগুলোর অন্তর্নিহিত কার্যপ্রণালি সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে শিক্ষকরা ভালোভাবে বুঝতে পারবেন কীভাবে শেখা ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের নতুন তথ্য বুঝতে ও স্মরণে রাখতে কীভাবে সহায়তা করতে হবে।

এনকোডিং: কীভাবে তথ্য দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে পৌঁছে, সংরক্ষিত হয় এবং পুনরুদ্ধার হয়

[সম্পাদনা]

এই অংশে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত এনকোডিং প্রক্রিয়া নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা থাকবে। এনকোডিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী অধ্যায়ে থাকবে।

তথ্য কীভাবে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে পৌঁছায়: মডাল মডেল

[সম্পাদনা]
চিত্র ৪. মডাল মডেলের চিত্র

মডাল মডেল হলো সবচেয়ে বিস্তৃতভাবে গৃহীত মডেলগুলোর একটি, যা ব্যাখ্যা করে কীভাবে পরিবেশ থেকে আসা তথ্য অনুভব করা হয় এবং একটি ধারাবাহিক মানসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে পৌঁছে। এই মডেল অনুসারে তথ্য তিনটি “নিম্ন স্তরের” স্মৃতি ব্যবস্থা অতিক্রম করে, প্রতিটিই আলাদা কার্যপ্রণালিতে কাজ করে।[১৪] এই মডেলটি প্রতিটি স্মৃতির ধাপ এবং তাদের মধ্যে সম্পর্কিত প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরে (এই মডেলের আরও বিশদ আলোচনা পরবর্তী অধ্যায়ে রয়েছে)।

তথ্য সংরক্ষণ

[সম্পাদনা]

এনকোডিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে তথ্য ওয়ার্কিং মেমরি থেকে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে স্থানান্তরিত হয় এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি নির্ধারণ করে তথ্য কতটা ভালোভাবে স্মরণে থাকবে। নিচে কয়েকটি পরিচিত ও ব্যবহৃত এনকোডিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কৌশল আলোচনা করা হয়েছে।

মডাল মডেল অনুসারে, পুনরাবৃত্তি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে তথ্য স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিতে সক্রিয় রাখা হয়, সাধারণত বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে। "মেইনটেন্যান্স রিহার্সাল" বলতে বোঝায় বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তথ্য রিসাইক্লিং, যাকে রুট মেমোরাইজেশনও বলা হয়। তবে এটি অপেক্ষাকৃত অগভীর এনকোডিং পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ পুনরাবৃত্তি বন্ধ হলে তথ্য দ্রুত ভুলে যাওয়া শুরু হয়। "এলাবরেটিভ রিহার্সাল" হলো একটি অধিক অর্থবোধক এনকোডিং পদ্ধতি, যেখানে নতুন শেখার তথ্য পূর্ববর্তী শেখা তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করে অর্থ তৈরি করা হয়। যদিও এটি বেশি মানসিক সম্পদ ব্যবহার করে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে তথ্য ধরে রাখতে বেশি কার্যকর।[১৬]

বিস্তারণ

[সম্পাদনা]

বিভিন্ন এলাবরেটিভ এনকোডিং কৌশল রয়েছে, যেগুলো নতুন তথ্যকে সহজে প্রক্রিয়াজাত বা স্মরণ করতে সহায়তা করে। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় কৌশল হলো নিমোনিক্স, যা পরিচিত তথ্যের সঙ্গে নতুন তথ্য জুড়ে বেশি পরিশীলিত এনকোডিং সম্পন্ন করে। এই কৌশলে ছন্দ, অঙ্গভঙ্গি, সংক্ষিপ্ত শব্দ ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।[১৪] যেমন, “SEG” (steak, eggs, garlic) দিয়ে একটি বাজার তালিকা মনে রাখা যায়। অন্য কৌশলের মধ্যে আছে “মিডিয়েশন”—নতুন তথ্যকে পূর্ব পরিচিত অর্থবোধক কিছু সঙ্গে যুক্ত করা, এবং “ইমেজারি”—মনে রাখার জন্য উপযুক্ত দৃশ্য কল্পনা করা।[১৪] আপনি চাইলে এসব তথ্য নিজের বাড়ির পরিবেশের সঙ্গে কল্পনা করতে পারেন—বসার ঘরের দরজা খুললেই রসুনের গন্ধ, পাশে ডিমের বাক্স, ডাইনিং টেবিলে স্টেক রাখা আছে। এইভাবে, আপনি বসার ঘর থেকে ডাইনিং রুম পর্যন্ত কল্পনাভ্রমণ করে তথ্যগুলো মনে রাখতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট তত্ত্বসমূহ

[সম্পাদনা]
প্রক্রিয়ার স্তর তত্ত্ব
[সম্পাদনা]

ক্রেইক ও লকহার্টের প্রভাবশালী দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, শিক্ষার্থীরা তখনই বেশি লাভবান হয় যখন তারা নতুন তথ্য নিয়ে মানসিক বিশ্লেষণ করে—স্মৃতি তখন প্রাকৃতিকভাবে গঠিত হয়। কিন্তু তথ্য কতটা গভীরভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়েছে, তার উপর নির্ভর করে স্মৃতির দীর্ঘস্থায়িত্ব। তত্ত্বটি বলে, যত গভীরভাবে তথ্য প্রক্রিয়াজাত হবে এবং যত বেশি অর্থ দেওয়া হবে, তা তত বেশি সময় মনে থাকবে, আর অগভীর প্রক্রিয়ায় তা দ্রুত ভুলে যাওয়া সম্ভবনা বেশি।[১৪] আরও অর্থবহ কার্যকলাপে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া, বিশেষ করে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া তাদের শেখাকে আরও টেকসই করে তোলে।[১৪]

দ্বৈত-কোডিং তত্ত্ব
[সম্পাদনা]

অ্যালান পাইভো কর্তৃক প্রস্তাবিত এই তত্ত্বে বলা হয়েছে, তথ্য দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে দৃষ্টিগ্রাহ্য বা মৌখিক অথবা উভয় উপায়ে সংরক্ষিত হতে পারে।[১৭] অনেক গবেষক একমত যে তথ্য চিত্র ও ভাষা উভয় রূপে প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষিত হলে তা বেশি মনে থাকে।[১৮] উদাহরণস্বরূপ, মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যাবলি শেখানোর সময় চিত্র ও পাঠ্য একসঙ্গে দেখালে শিক্ষার্থীরা ভালো শিখতে পারে। এই তত্ত্ব মাল্টিমিডিয়া শেখার জ্ঞানতাত্ত্বিক তত্ত্বের ভিত্তির সঙ্গে মিল রাখে।[১৯]

মাল্টিমিডিয়া শেখার জ্ঞানতাত্ত্বিক তত্ত্ব
[সম্পাদনা]

রিচার্ড মায়ার[১৯] চিত্র ও ভাষার সংমিশ্রণ নিয়ে গবেষণা করে দেখিয়েছেন, উপযুক্তভাবে উপস্থাপন করলে তা অত্যন্ত কার্যকর শিক্ষণ উপায় হতে পারে। এই তত্ত্ব তিনটি মূল ধারার উপর ভিত্তি করে গঠিত: ক) দ্বৈত-কোডিং তত্ত্ব থেকে ধারণা; খ) ওয়ার্কিং মেমরির ধারণক্ষমতা সীমিত হওয়ায় কগনিটিভ লোড তত্ত্ব অনুসারে শিক্ষণ এমনভাবে হওয়া উচিত যাতে মেমরিতে চাপ কম হয়;[২০] এবং গ) শেখা মানে তথ্য সংগঠিত ও একত্রিত করার প্রক্রিয়া।[২১]

তথ্য পুনরুদ্ধার

[সম্পাদনা]

সপ্রসারণ সক্রিয়করণ

[সম্পাদনা]

দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষিত থাকায় কখনও কখনও নির্দিষ্ট তথ্য সময়মতো স্মরণে আনা কঠিন হতে পারে। এটা ঘটে সপ্রসারণ সক্রিয়করণ নামে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যার মানে হলো—যখন মস্তিষ্কে একটি নির্দিষ্ট তথ্য সক্রিয় হয়, তখন তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যও সক্রিয় হতে পারে, কারণ স্মৃতির মধ্যে তথ্যগুলো একটি আন্তঃসংযুক্ত নেটওয়ার্কে গঠিত।[২২] যেমন, যদি বেন ভাবছে—"এই মুহূর্তে বৃষ্টি থেমে গেলে কত ভালো হতো", তাহলে এটি তাকে স্মরণ করাতে পারে যে তার এক সপ্তাহ পরে পিকনিকে বৃষ্টি বাধা হতে পারে কিনা, এবং সেটি থেকে মনে পড়তে পারে যে তাকে তার সাথীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিতে হবে।

পুনর্গঠন

[সম্পাদনা]

অনেক সময় পুরনো ঘটনার মতো কিছু স্মৃতি সহজে মনে পড়ে না। তখন আমাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যবস্থা যেসব সংকেত মনে আছে সেগুলোর সাহায্যে যুক্তিভিত্তিক পুনর্গঠন করে একটি স্মৃতি তৈরি করে, যা হয়তো আসল ঘটনার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না, কিন্তু যুক্তিসঙ্গত।[২৩] উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ১০ বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে একটি লেকের পাশে পিকনিকে গিয়েছিলেন, তাহলে হয়তো আপনি পুরো ভ্রমণ মনে করতে পারবেন কিন্তু ঠিক কী উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন তা না—এবং তখন আপনি সেটিকে “লেকের আশেপাশে হাইকিং ট্রিপ” বলে ব্যাখ্যা করতে পারেন, যা ঘটনাটির সঙ্গে মিল থাকলেও পুরোপুরি এক নয়।

ভুলে যাওয়া

[সম্পাদনা]

যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য তথ্য অ্যাক্সেস করা না হয়। তবে আমরা শেষ পর্যন্ত এটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম নাও হতে পারি। এটি ক্ষয় বা হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ঘটতে পারে। এর অর্থ তথ্য সংকেতকে দুর্বল করা এবং অন্যান্য বিরোধী তথ্য যথাক্রমে আমরা যে স্মৃতির টুকরোটি স্মরণ করার চেষ্টা করছি তাতে হস্তক্ষেপ করে।  উদাহরণস্বরূপ, আমরা আর মনে করতে পারি না যে আমরা কোনও কনসার্টে কী টি-শার্টটি পরেছিলাম। কারণ তখন থেকে কয়েক বছর হয়ে গেছে, বা যদি আমরা মনে করি এটি নীল ছিল। তবে সম্প্রতি একটি বন্ধু উল্লেখ করেছে যে এটি আসলে সবুজ ছিল। এর একটি স্নায়বিক ব্যাখ্যা হলো আমাদের মস্তিষ্কের কোষ এবং তাদের মধ্যে সংযোগগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং এমনকি মারা যেতে পারে যদি আমরা তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার না করি।

ক্ষয় এবং হস্তক্ষেপের প্রক্রিয়া সত্ত্বেও, জ্ঞান অত্যন্ত দীর্ঘ সময়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে সংরক্ষণ করা যেতে পারে, বিশেষ করে উপযুক্ত ধরণের প্রম্পট এবং তথ্য মনে রাখার অন্যান্য উপায়ে।[২৪]  এর মধ্যে পূর্বে উল্লিখিত কৌশলগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন স্মৃতিবিদ্যা এবং সম্প্রসারণ ব্যবহার করা।

দক্ষতা এবং দক্ষতার স্বয়ংক্রিয়তা

[সম্পাদনা]

সুস্পষ্ট বা ঘোষণামূলক জ্ঞান অনেকগুলো প্রক্রিয়া যেমন নির্দেশনা, অভিজ্ঞতা এবং তথ্য মনে রাখার জন্য জ্ঞানীয় কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে অর্জন এবং তৈরি করা যেতে পারে (পূর্বে উল্লিখিত)।

কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেখিয়েছেন যে ঘোষণামূলক জ্ঞানকে পদ্ধতিগত জ্ঞানে রূপান্তরিত করা যেতে পারে। কারণ অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতার সাথে কোনও কাজে আরও দক্ষ হয়ে ওঠে, মূলত এর অর্থ হলো সুস্পষ্ট জ্ঞানের স্থাপনা এত স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায় যে এটি একটি অন্তর্নিহিত দক্ষতায় পরিণত হয়।  উদাহরণস্বরূপ, যখন আমরা প্রথমবারের মতো কোনও উপহার মোড়ানোর চেষ্টা করি, আমরা প্রক্রিয়াটির প্রতিটি ধাপ স্পষ্ট করার চেষ্টা করতে পারি, যেমন: উপহারের জন্য সঠিক আকারের মোড়ানো কাগজের একটি টুকরো সন্ধান করুন; উপহারের চারপাশে এটি মোড়ানো; অতিরিক্ত কাগজ কাটা; মোড়কটি সুরক্ষিত করতে টেপ ব্যবহার করুন। আমরা বারবার কাজটি সম্পাদন করার সাথে সাথে এই পদক্ষেপগুলো স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায়, মূলত প্রতিটি পদক্ষেপকে পৃথকভাবে বিস্তৃত বিবেচনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দূর করে। এর আরও বিশদ উদাহরণ অ্যাক্ট-আর তত্ত্বের পরবর্তী বিভাগে পাওয়া যাবে।

দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি এবং শেখা: উচ্চতর এনকোডিং প্রক্রিয়াগুলোকে উত্সাহিত করা

[সম্পাদনা]

যখন কেউ আরও জটিল তথ্য এনকোড করে উচ্চতর এনকোডিং প্রক্রিয়া সাধারণত তখন সক্রিয় হয়। উচ্চতর এনকোডিং প্রক্রিয়াগুলি সাধারণত উচ্চতর শিক্ষাগত/শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য অর্জনে আরও বেশি সাহায্য করে।[] প্রশিক্ষকদের এই ধরনের প্রক্রিয়াগুলিকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা উচিত। যেমনটি আগে দেখানো হয়েছে, শিক্ষার্থীরা যত বেশি বিস্তারিতভাবে শিখতে হবে তথ্য এনকোড করবে তত বেশি ভালো পারফর্ম করবে। পূর্ব জ্ঞান সক্রিয়করণ এবং নির্দেশিত সহকর্মীদের প্রশ্ন করার মতো পদ্ধতির মাধ্যমে, প্রশিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাসঙ্গিক স্কিমাটা সক্রিয় করতে পারেন এবং বোধগম্যতা এবং চিন্তা-উদ্দীপক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সুযোগ প্রদান করতে পারেন। পূর্ব জ্ঞান সক্রিয়করণ শিক্ষার্থীদের নতুন শেখার কার্যকলাপের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে: ইতিমধ্যেই পরিচিত তথ্যের একটি ভিত্তি নতুন শেখার তথ্যকে নির্দেশিত করতে সাহায্য করতে পারে।[] ধরে রাখার জন্য, প্রশিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের স্বয়ংক্রিয়তা অর্জন না করা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু কাজ অনুশীলন করতে উৎসাহিত করতে পারেন।[] যতটা সম্ভব, প্রশিক্ষকদের নিষ্ক্রিয় শেখার পরিবর্তে সক্রিয়ভাবে শেখার জন্য শিক্ষার্থীদের তাদের শেখার ক্ষেত্রে আরও বেশি জড়িত করা উচিত।

দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির কাজ: মূল্যায়ন এবং গবেষণা

[সম্পাদনা]

দীর্ঘ সময় ধরে সংগৃহীত স্মৃতিগুলো দীর্ঘমেয়াদী ধরে রাখার আরও বেশি সম্ভাবনা থাকে। তবে স্মৃতির গুণমানটি পরিমাণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। গুণমান অভিজ্ঞতার সময় ব্যক্তির দ্বারা সংগৃহীত সংবেদনশীল তথ্যকে বোঝাতে পারে, যেমন মুভি থিয়েটারে পপকর্নের গন্ধ নেওয়া, এবং মানের উপাদানগুলোর মধ্যে দ্বিমুখী সম্পর্ক থাকতে পারে, যেমন পপকর্নের গন্ধ পাওয়া এবং সিনেমাগুলোর কথা চিন্তা করা বা সিনেমাগুলোতে থাকা এবং পপকর্নের স্বাদ মনে রাখা।

এই ক্ষেত্রে করা বেশিরভাগ গবেষণা স্ব-মূল্যায়ন বা স্বতন্ত্র স্মৃতি পরীক্ষার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যার উভয় ক্ষেত্রেই ত্রুটির সঠিক পরামিতি রয়েছে, যদিও কার্যকরী চৌম্বকীয় অনুরণন ইমেজিং ডিভাইসগুলি কোনও ব্যক্তির মস্তিষ্কের কার্যকলাপকে আক্রমণাত্মকভাবে দেখার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যান্ডারসন, ফিঞ্চাম, কিন এবং স্টোকো [২৫] এই কৌশলটি ব্যবহার করে একটি পরীক্ষা করেছিলেন যাতে পদ্ধতিগত সম্পাদন, লক্ষ্য নির্ধারণ, ঘোষণামূলক স্মৃতি থেকে নিয়ন্ত্রিত পুনরুদ্ধার এবং চিত্র উপস্থাপনা গঠন এবং মস্তিষ্কের কর্টিকাল অঞ্চলের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। এই পরীক্ষার ফলাফলগুলি দেখায় যে এই চারটি অঞ্চলের প্রতিটি ইমেজিং ডিভাইসে একটি ভিন্ন কর্টিকাল অঞ্চল আলোকিত করে। এই প্রমাণগুলি দেখায় যে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চল এই বিভিন্ন অঞ্চল পরিচালনা করে, তবে কৌশলটির সমালোচনাগুলি তুলে ধরে যে আমরা এখনও জানি না কেন এই কার্যকলাপ ঘটে এবং ক্রিয়াকলাপের বিন্যাস তৈরি করার জন্য মনের মধ্যে কোন সংযোগ তৈরি হচ্ছে। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, এই ধরণের পরীক্ষাগুলি আমাদের পূর্বের তুলনায় আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও বেশি অন্তর্দৃষ্টি দেয় এবং দেখায় যে কীভাবে বিভিন্ন তথ্য মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলকে উদ্দীপিত করতে পারে, তাই আমরা জানি যে তারা সব সময় সক্রিয় থাকে না।

স্মৃতির অন্যান্য পরিবর্তনশীল এবং ক্রমবর্ধমান তত্ত্ব

[সম্পাদনা]

নেটওয়ার্ক মডেল

[সম্পাদনা]
চিত্র ৫। একটি নেটওয়ার্ক মডেলের উদাহরণ

নেটওয়ার্ক মডেলকে মাইন্ড ম্যাপিং বা মস্তিষ্ক-ঝড় জালের সাথে তুলনা করা যেতে পারে কারণ তথ্য একটি ওয়েব-সদৃশ প্যাটার্ন দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করা হয়। এটি সাধারণত সাধারণ থেকে আরও নির্দিষ্ট তথ্য বা বিভাগে স্থানান্তরিত হয়। এটি একটি ছোট শিশু যেভাবে ধীরে ধীরে চার পা এবং পশমযুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা বিকাশ করে, তা শেখার অনুরূপ হবে যে একটি কুকুর এবং বিড়ালের বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগ রয়েছে। নেটওয়ার্কিং মডেলগুলি তথ্যের ছোট ইউনিটগুলিকে সংগঠিত করার আরও সহজ উপায়গুলির মধ্যে একটি যখন তারা বিষয়ের মধ্যে অন্যান্য অংশের সাথে সম্পর্কিত করে। এই মডেলটি সরাসরি শিক্ষাদানে ব্যবহার করা হয়েছে - "মাইন্ড ম্যাপিং শিক্ষার্থীদের তাদের শেখার প্রক্রিয়াগুলি পরিকল্পনা, পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়নের দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছিল। এটি তাদের মেটাকগনিটিভ জ্ঞান অর্জন করতে এবং নতুন সমস্যা এবং পরিস্থিতি সমাধানের জন্য তাদের বোধগম্যতা স্থানান্তর করতে সহায়তা করেছিল।"[২৬]

সংযোগবাদী মডেল

[সম্পাদনা]
A general model of what a Connectionist Model might look like
চিত্র ৬। একটি সংযোগবাদী মডেল কেমন হতে পারে তার একটি সাধারণ মডেল

সংযোগবাদী মডেল হল একটি 'মস্তিষ্কের রূপক' যা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, সঞ্চয় এবং পুনরুদ্ধার মডেলের জন্য ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী কম্পিউটার রূপককে গ্রহণ করে; এটিকে সমান্তরাল বিতরণ প্রক্রিয়াকরণ মডেলও বলা হয়। এই মডেলটিতে প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে বোঝার ধারণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; এর একটি উদাহরণ হল বাম দিকে একটি সরল রেখা সহ একটি আকৃতি থাকা, ডানদিকে একটি '৩' আকৃতি থাকা। '১২ |৩ ১৪' সিরিজে এটিকে তেরো নম্বর হিসাবে দেখা হবে, তবে 'A |৩ C' ক্রমানুসারে এটি 'B' অক্ষর হিসাবে পড়া যেতে পারে। প্রেক্ষাপটের সাথে অভিযোজনযোগ্যতা এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে জ্ঞানীয় কাজগুলিকে একত্রিত করার ক্ষমতার কারণেই সংযোগবাদী মডেলটি এই গতিশীলতাগুলিকে আরও ভালভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এই তত্ত্বটি বিভিন্ন সমান্তরাল থেকে মানুষের চিন্তা প্রক্রিয়াগুলিকে দেখে কারণ মানব মস্তিষ্ক একই সময়ে এবং এমনভাবে একাধিক চিন্তার দিক বিবেচনা করতে সক্ষম হয় যে কম্পিউটার তুলনা বা সংযোগ করার কথা ভাবে না। যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যান্য মডেলগুলিতে তথ্য পুনরুদ্ধারের একটি স্টোর-রিট্রিভাল দিক রয়েছে যেখানে তথ্য সংযোগের ধরণ সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনে পুনরুদ্ধার করা হয়। বিকল্পভাবে, সংযোগবাদী মডেল তত্ত্ব দেয় যে প্যাটার্ন বা সংযোগের উপাদানগুলিকে তাদের সংযোগের শক্তি হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়, পুনরুদ্ধার এবং পুনরায় সংযোগ স্থাপনের জন্য।[২৭] এই বিষয়ে ভিকার্স এবং লির একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ছিল: "শব্দার্থগত বা অর্থপূর্ণ তথ্যের সংযোগবাদী বিবরণগুলি অর্থকে সীমিত সংখ্যক বৈশিষ্ট্যের সক্রিয়করণ হিসাবে ধারণা করার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, অন্তত ইনপুট স্তরে।"[২৮] এর অর্থ হল এই তত্ত্বটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে যদি তথ্যটি কেবল তথ্য মুখস্থ করার চেয়ে গভীর হয়।

স্মৃতির উৎপাদন-নিয়ম-সম্পর্কিত তত্ত্ব

[সম্পাদনা]

মানব জ্ঞানীয় সিস্টেমের গবেষণায়, উৎপাদন (বা কখনও কখনও উৎপাদন বিধি হিসাবে পরিচিত) একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর বা সমস্যা সমাধানের নিয়ম। এগুলো সাধারণত আমাদের দীর্ঘমেয়াদী মার্মারিতে উপাদান হিসাবে বিবেচিত হয় (নীচের জ্ঞানীয় মনোবিজ্ঞানের প্রোডাকশন বিভাগটি দেখুন)। মূলত, প্রতিটি উৎপাদন চিন্তাভাবনা প্রক্রিয়ার একটি একক গাইডিং পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এটি সাধারণত কোন ধরণের পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নিতে হবে তার একটি প্রেসক্রিপশন হিসাবে উপস্থাপিত হতে পারে - একটি "শর্ত-ক্রিয়া" বা "যদি-তারপর" ক্রম।[২৯]  উদাহরণস্বরূপ, ডিম ভাজার মূল লক্ষ্যের মধ্যে একটি উৎপাদনকে এভাবে চিত্রিত করা যেতে পারে:

যদি লক্ষ্য হয় একটি ডিম ভাজা,

এবং কাঁচা ডিমটি তার খোসা থেকে সরানো হয়ে থাকে,

এবং প্যানটি সঠিক তাপমাত্রায় পৌঁছানোর জন্য উত্তপ্ত করা হয়,

তারপর কাঁচা ডিমটি প্যানে রাখুন,

এই পরিস্থিতিতে, উৎপাদন অবস্থার উপর নির্ভর করে কর্মের পথ নির্দেশ করে। শর্ত পূরণ হয়ে গেলে (ডিমটি তার খোসা থেকে সরানো হয়েছে; প্যানটি সঠিক তাপমাত্রায় পৌঁছেছে, ইত্যাদি), নিয়মটি প্রযোজ্য হয় এবং কাজটি (ডিমটি প্যানে রাখা) করা হয়।

মূল বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

প্রোডাকশনর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি উৎপাদনকে একটি নিয়ম বা পদক্ষেপ হিসাবে চিন্তা করা যেতে পারে এবং যার শিক্ষা অন্যান্য প্রোডাকশন অর্জন থেকে আলাদাভাবে ঘটতে পারে।  এছাড়াও, এই প্রকৃতির। কারণে, যখন একটি বিস্তৃত এবং জটিল দক্ষতা বা জ্ঞানীয় ফাংশন / প্রক্রিয়া অর্জিত হয়, এর অর্থ সম্ভবত এই যে প্রোডাকশনর পুরো সিরিজটি দক্ষতা গঠন করে তা শিখেছে - সংযুক্ত উপলক্ষ্যগুলো একটি বিস্তৃত লক্ষ্য অর্জনের জন্য একত্রিত হয়।  উদাহরণস্বরূপ, ডিম ভাজার উদাহরণে, রান্না প্রক্রিয়াটির আগে আরেকটি কাজ হতে পারে যেমন নিকটতম মুদি দোকানটি সনাক্ত করা এবং ডিম কিনতে সেখানে যাওয়া। এটি ডিম রান্না করার সামগ্রিক লক্ষ্যে নিজেই একটি উপলক্ষ্য। অবশ্যই, একটি প্রক্রিয়াতে প্রোডাকশনর সংখ্যা তার জটিলতার উপর নির্ভর করে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল যে উৎপাদন নিয়মগুলো প্রকৃতির বিমূর্ত এবং অনুরূপ প্রকৃতির বিভিন্ন কাজের পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে পারে।  উদাহরণস্বরূপ, ডিম ভাজার জন্য পূর্বোক্ত প্রোডাকশনগুলো শাকসবজি ভাজার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। এটি প্যানটি যথেষ্ট গরম হওয়ার শর্তে এবং তারপরে প্যানে শাকসবজি রাখার পদ্ধতিতে একই আকস্মিকতা জড়িত।

এছাড়াও, প্রোডাকশনগুলো অনুশীলনের একটি ডোমেনের জন্য নির্দিষ্ট হতে পারে, যেমন গণিতে বীজগণিতের মধ্যে, বা তুলনামূলকভাবে সাধারণ, যেমন ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে।[৩০]

জ্ঞানীয় মনোবিজ্ঞানে প্রোডাকশন

[সম্পাদনা]

সাধারণত, জ্ঞানীয় মনোবিজ্ঞানে, ঘোষণামূলক জ্ঞান (বা ঘোষণামূলক স্মৃতি) বনাম পদ্ধতিগত জ্ঞানের একটি দ্বৈততা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতার ধরণের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যবহৃত হয় যা আমরা সকলেই দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে ধারণ করি। ঘোষণামূলক জ্ঞান এমন ধারণা বা প্রস্তাবগুলোকে বোঝায় যা স্পষ্টভাবে বিবৃত বা স্পষ্ট করা যেতে পারে। তবে পদ্ধতিগত জ্ঞান কেবল দক্ষতা বা কর্মকে বোঝায় যা একটি লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্পাদন করা যেতে পারে। পদ্ধতিগত জ্ঞান প্রায়ই শব্দে প্রকাশ করা কঠিন। এই অর্থে, ঘোষণামূলক বনাম পদ্ধতিগত এই দ্বৈততাটিকে স্পষ্ট বনাম অন্তর্নিহিত জ্ঞান বা স্মৃতি হিসাবেও উল্লেখ করা যেতে পারে।

এই প্রসঙ্গটি মাথায় রেখে, প্রোডাকশনগুলো সাধারণত অন্তর্নিহিত, পদ্ধতিগত জ্ঞান বিভাগের অধীনে আসে। প্রকৃতপক্ষে, উৎপাদনের নিয়মগুলোকে প্রায়ই পদ্ধতিগত জ্ঞানের বিষয়বস্তু বা "দক্ষতার মূর্ত প্রতীক" হিসাবে বর্ণনা করা হয়,[। কারণ এগুলো কর্ম বা জ্ঞানের কোর্স পরিচালনার জন্য পৃথক পদক্ষেপ। মূলত, সহজ কথায়, প্রোডাকশনগুলো "কীভাবে জিনিসগুলো করা যায়" সম্পর্কে,[ যা পদ্ধতিগত জ্ঞান সম্পর্কে।

সাধারণভাবে, অনুশীলন এবং আরও অভিজ্ঞতার সাথে, একটি দক্ষতা আরও স্বয়ংক্রিয় হয়ে ওঠে। এর অর্থ যে প্রোডাকশনগুলো দক্ষতা গঠন করে তা দ্রুত এবং আরও ধারাবাহিকভাবে আগুন দেয়। এটি হওয়ার সাথে সাথে অভিনয়কারী প্রতিটি পৃথক উৎপাদন সম্পর্কে কম সচেতন হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে একক তরল ক্রিয়া হিসাবে ফায়ারিং প্রোডাকশনর ক্রমটি উপলব্ধি করতে

উৎপাদন নিয়মের প্রমাণ

[সম্পাদনা]

উৎপাদন নিয়মগুলো মনস্তাত্ত্বিকভাবে বাস্তব এই যুক্তি তৈরি করতে গিয়ে অ্যান্ডারসন দাবি করেছেন যে প্রমাণের প্রথম অংশটি হলো উৎপাদন বিধিগুলো দক্ষতা এবং জ্ঞানীয় কাজগুলোর অগ্রগতির একাধিক দিক বর্ণনা করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত।  অর্থাৎ, তারা কীভাবে কাজগুলো সম্পাদন করা হয় তার একটি যৌক্তিক এবং প্রশংসনীয় ব্যাখ্যা সরবরাহ করে। অ্যান্ডারসন উদ্ধৃত প্রমাণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো উৎপাদন বিধিগুলো ব্যবহার করে আমরা দক্ষতা বা কার্য সম্পাদন করা হচ্ছে বলে একজনের আচরণের দিকগুলো ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম।  উদাহরণস্বরূপ, যখন আমরা একটি প্যান গরম হয়ে যাওয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করি, তখন আমরা আশা করতে পারি যে সে এতে খাবার রাখবে (শর্তসাপেক্ষ ক্রিয়া)।

অ্যাক্ট-আর মডেল: উৎপাদন বিধিগুলোর উপর ভিত্তি করে জ্ঞান এবং দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির একটি মডেল

[সম্পাদনা]

উৎস সম্পাদনা] একটি অত্যন্ত বিশিষ্ট তত্ত্ব যা উৎপাদন বিধিগুলোর প্রয়োগকে প্রতিফলিত করে তা হলো চিন্তা-যৌক্তিক (এসিটি-আর) তত্ত্বের অভিযোজিত চরিত্র, জন অ্যান্ডারসনের মানব জ্ঞানের তত্ত্ব যা জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াগুলোর বিল্ডিং ব্লক হিসাবে উৎপাদন বিধি ব্যবহার করে। এসিটি-আর তত্ত্ব দ্বারা উত্থাপিত কেন্দ্রীয় যুক্তিটি হলো একটি জটিল জ্ঞানীয় দক্ষতা প্রচুর সংখ্যক পৃথক "লক্ষ্য-সম্পর্কিত জ্ঞানের ইউনিট" নিয়ে গঠিত।

এসিটি-আর এর ইতিহাস

[সম্পাদনা]

তত্ত্বটি মূলত হিউম্যান অ্যাসোসিয়েটিভ স্মৃতি (এইচএএম) তত্ত্ব থেকে উদ্ভূত হয়েছিল (এই তত্ত্বের অন্যতম স্রষ্টাও ছিলেন জন অ্যান্ডারসন, এসিটি-আর তত্ত্বের স্রষ্টা) যা মানুষের স্মৃতি এবং জ্ঞানের কিছু দিক ব্যাখ্যা করেছিল। এটি ঘোষণামূলক জ্ঞানের ধারণার সাথে জড়িত ছিল। তবে পদ্ধতিগত জ্ঞানের সাথে মোকাবিলা করেনি।

এটিকে ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার করে, জন অ্যান্ডারসন তখন প্রস্তাব করেছিলেন যে পদ্ধতিগত জ্ঞান উৎপাদন বিধি নিয়ে গঠিত। তার তত্ত্বের কয়েকটি রূপকে সূক্ষ্ম-সুর করার পরে, তিনি ১৯৮৩ সালে মূল অ্যাক্ট তত্ত্বটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটির লক্ষ্য ছিল জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াগুলোর বিস্তৃত ব্যাখ্যা করা।

পরবর্তীকালে, জ্ঞানীয় দক্ষতার উপর আরও প্রমাণ এবং উদীয়মান তথ্য বিবেচনায় নেওয়ার পরে, অ্যান্ডারসন বিশ্বাস করেছিলেন যে জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াতে যুক্তিসঙ্গত বিশ্লেষণের একটি উপাদানকে মূল অ্যাক্ট তত্ত্বের কিছুটা "যান্ত্রিক" প্রকৃতির সাথে একীভূত করা উচিত,[ এবং তাই তিনি অ্যাক্ট-আর (যুক্তিসঙ্গত জন্য আর) তত্ত্ব তৈরি করেছিলেন। এটি তিনি অনুভব করেছিলেন যে পরিবেশের প্রতি বৃহত্তর অভিযোজিত এবং নির্বাচনী দক্ষতার। কারণে মূলটির চেয়ে উন্নতি ছিল।

তত্ত্বটির প্রাথমিক ফোকাস ছিল মানুষের স্মৃতি এবং জ্ঞান। এর সর্বাধিক বিশিষ্ট প্রয়োগ এবং বিকাশের বেশিরভাগই কম্পিউটার মডেল টিউটর (বুদ্ধিমান শিক্ষক) হয়েছে। সংক্ষেপে, এগুলো কম্পিউটার সফ্টওয়্যার যা উৎপাদন-নিয়ম-ভিত্তিক মডেলগুলো উল্লেখ করে সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থী / শিক্ষার্থীদের গাইড করতে পারে যা এই জাতীয় সমস্যার সমাধান তৈরি করে।  এই কম্পিউটার টিউটরগুলো মূলত গণিত এবং বিজ্ঞানের মতো ডোমেনগুলোতে বিকশিত এবং ব্যবহৃত হয়। টিউটরিং সিস্টেম হিসাবে এসিটি-আর এর অ্যাপ্লিকেশনগুলোর আরও বিশদ একটি ভিন্ন অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে।

এসিটি-আর এর মূল নীতি[

[সম্পাদনা]

তিনটি মৌলিক ধারণা রয়েছে যা তত্ত্বটি তৈরি করে: ক) এই জ্ঞান ইউনিটগুলোর প্রতিনিধিত্ব; (খ) তাহাদের অধিগ্রহণ; গ) জ্ঞানীয় প্রক্রিয়ায় তাদের স্থাপনা।  এগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

জ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব
[সম্পাদনা]

তত্ত্বের একটি কেন্দ্রীয় মতবাদ হলো জ্ঞান উভয়ই ঘোষণামূলক জ্ঞানের উপাদান (যা প্রস্তাবনামূলক, শব্দার্থিক জ্ঞান, যেমন আগে উল্লেখ করা হয়েছে) এবং পদ্ধতিগত জ্ঞান (যা উৎপাদন বিধি হিসাবে উপস্থাপিত হয়) এবং দুটি জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াকরণে একসাথে কাজ করে।

ঘোষণামূলক জ্ঞান এনকোড করা হয়, সংরক্ষণ করা হয় এবং মানব স্মৃতির খণ্ড বা পৃথক ইউনিটগুলোতে প্রতিনিধিত্ব করা হয় যা স্কিমাটা (জ্ঞান কাঠামো) এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রতিটি অংশে বিষয় আইটেম সম্পর্কে প্রস্তাব বা বর্ণনামূলক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি স্লটে সঞ্চিত রয়েছে,[ কোন বৃহত্তর বিভাগের অন্তর্গত তা সহ। খণ্ডগুলো একটি পাঠ্য বা গ্রাফিকাল বিন্যাসে প্রতিনিধিত্ব করা যেতে পারে।  উদাহরণস্বরূপ, একটি ডিম ভাজা সম্পর্কে একটি অংশ পাঠ্যভাবে প্রতিনিধিত্ব করা যেতে পারে: একটি ডিম ভাজা এক ধরণের রান্নার দক্ষতা; রান্না করার আগে ডিমটি তার শেল থেকে সরানো প্রয়োজন; তাপ দরকার। ডানদিকে একটি অংশের সম্ভাব্য গ্রাফিকাল উপস্থাপনা।

অন্যদিকে, পদ্ধতিগত জ্ঞান প্রোডাকশনর একটি সেট হিসাবে প্রতিনিধিত্ব করা হয়।  পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে, প্রোডাকশনগুলো উপলক্ষ্যগুলোর একটি আন্তঃসংযুক্ত সিরিজের রূপ নিতে পারে যা একটি বিস্তৃত লক্ষ্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে।

দুই ধরনের জ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক হলো ঘোষণামূলক জ্ঞান কাঠামোর অংশগুলো প্রোডাকশন সংঘটিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত এবং কর্মের কোর্স সরবরাহ করে। উদাহরণস্বরূপ, ডিম রান্না করার জন্য, একজনকে অবশ্যই তাদের কেনার জন্য জ্ঞানের অংশগুলো থাকতে হবে, তাদের শাঁস থেকে তাদের সরিয়ে ফেলতে হবে এবং প্যান প্রস্তুত করতে হবে ইত্যাদি। এর মধ্যে একটি না থাকলে পদ্ধতিগত জ্ঞানে ফাঁক থাকবে। অতএব, জ্ঞানের আরও বেশি অংশ থাকার অর্থ আরও উপলব্ধ উৎপাদন বিধি এবং আরও ভাল পদ্ধতিগত জ্ঞান। এটিও বিবেচনা করা যেতে পারে যে ঘোষণামূলক জ্ঞানকে পদ্ধতিগত জ্ঞানে রূপান্তরিত করা যেতে পারে, যেমন পরবর্তী বিভাগে আলোচনা করা হবে।

জ্ঞান অর্জন
[সম্পাদনা]

ঘোষণামূলক জ্ঞান মোটামুটি সরল উপায়ে অর্জিত হয়, হয় পরিবেশ থেকে তথ্য বা ধারণার উপলব্ধি থেকে বা সরাসরি নির্দেশ থেকে (তথ্য দেওয়া হচ্ছে)।  যেহেতু প্রোডাকশনকে অবহিত করার জন্য জ্ঞানের ঘোষণামূলক অংশগুলো প্রয়োজন, তাই অ্যাক্ট-আর তত্ত্বের এই তত্ত্বটি বোঝায় যে কোনও জ্ঞানীয় বা পদ্ধতিগত কার্য সম্পাদন করার জন্য জ্ঞান থাকা মূলত কার্যটির প্রয়োজনীয় তথ্যের সমস্ত পৃথক অংশ সংগ্রহ করা জড়িত - কাজটি "এর অংশগুলোর যোগফল"।  অতএব, জটিল কাজগুলোর জন্য অনেকগুলো খণ্ড সংগ্রহের প্রয়োজন।

অন্যদিকে পদ্ধতিগত জ্ঞানে উৎপাদন বিধিগুলোর অধিগ্রহণ কিছুটা বেশি কঠিন এবং কম সোজা, যেহেতু এগুলো কেবল বলা বা স্পষ্ট করা যায় না। মূলত, তারা শুধুমাত্র ঘোষণামূলক জ্ঞান মোতায়েন করা হয় হিসাবে শেখা হয়। এর অর্থ হলো শিক্ষার্থীরা যখন কাজগুলো করে তখন উৎপাদন বিধিগুলো অর্জন করে, কেবল যখন তাদের ঘোষণামূলক তথ্য দেওয়া হয় তখন নয়। এটি লক্ষণীয় গুরুত্বপূর্ণ যে এই স্থাপনাটি কেবল প্রোডাকশনগুলো সংঘটিত হওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রেক্ষাপট এবং শর্তে ঘটতে পারে। যখন কোনও কার্য সম্পাদনের শর্তগুলো উপযুক্ত হয়, তখন লক্ষ্য-ভিত্তিক জ্ঞানীয় ক্রিয়াকলাপগুলো সংঘটিত হতে পারে, যেখানে ঘোষণামূলক অংশগুলো ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করা হয় (বা "সম্পাদন")। এইভাবে, এটি বিবেচনা করা যেতে পারে যে লক্ষ্যের দিকে ব্যক্তির কর্মকে গাইড করার জন্য তারা মূলত উৎপাদন নিয়মে রূপান্তরিত হয়।  অনুশীলনের মাধ্যমে, রূপান্তরের এই প্রক্রিয়াটি গতি এবং নির্ভুলতার ক্ষেত্রে উন্নত বা শক্তিশালী করা যেতে পারে।  সুতরাং, অনুশীলন এবং প্রতিক্রিয়া জন্য সুযোগ প্রদান উৎপাদন নিয়ম অধিগ্রহণ উত্সাহিত করার একটি অত্যন্ত অনুকূল উপায়।

জ্ঞানের প্রয়োগ প্রসঙ্গ
[সম্পাদনা]

এই দিকটি অ্যাক্ট-আর এর ব্যাখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যে কীভাবে আমাদের জ্ঞানীয় কাঠামো টাস্ক বা সমস্যা সমাধানের একটি নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে সঠিক ধরণের জ্ঞানকে তলব করতে সক্ষম। এটি যৌক্তিক বিশ্লেষণের কাজ - তত্ত্বের নামের "আর" অংশ। যৌক্তিক বিশ্লেষণের প্রক্রিয়াটি মনের মধ্যে সক্রিয় হওয়ার জন্য সঠিক অংশ এবং উৎপাদন বিধিগুলো নির্ধারণ করার জন্য দুটি উপাদান চিহ্নিত করে: ক) অতীতে এই জাতীয় পরিস্থিতিতে এই জাতীয় জ্ঞান ভালভাবে কাজ করার সম্ভাবনা; খ) এই জাতীয় জ্ঞান হাতের পরিস্থিতিতে ভাল কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুটি। কারণকে একত্রিত করে, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি জ্ঞানের একটি অংশের প্রদত্ত কার্য প্রসঙ্গে উপযুক্ত এবং প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেয়।

সংক্ষেপে, এটি এটিও বোঝায় যে মানব জ্ঞানীয় সিস্টেম কোন ধরণের কাজগুলোতে কী ধরণের জ্ঞান উপযুক্ত হয়েছে তার একটি রেকর্ড বজায় রাখে, যদিও এটি মনের মধ্যে একটি অবচেতন প্রক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং, এই দিকটির তত্ত্বের ব্যাখ্যা মূলত একটি পরিসংখ্যানগত প্রক্রিয়া বর্ণনা করে।

এসিটি-আর এর তাত্ত্বিক দিকগুলোর সংক্ষিপ্তসার

[সম্পাদনা]

সংক্ষেপে, অ্যাক্ট-আর তত্ত্ব অনুসারে, ঘোষণামূলক জ্ঞান তার আশেপাশের পরিবেশে তথ্যের উপলব্ধি দ্বারা এনকোড করা হয় (একজন শিক্ষার্থী শিক্ষক, পিতামাতা এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশাবলী সহ) ইত্যাদি); কোনও কার্য সম্পাদন বা সমস্যা সমাধানের প্রসঙ্গে এই জাতীয় ঘোষণামূলক জ্ঞান (প্রায়ই এর অনেকগুলো ইউনিট) প্রয়োগ করতে শেখার ফলে পদ্ধতিগত জ্ঞান বিকশিত হয়; এবং প্রদত্ত পরিস্থিতিতে মোতায়েন করার জন্য সঠিক ধরণের জ্ঞানের নির্বাচন জ্ঞানীয় সিস্টেমের অনুমান অনুসারে ঘটে যে জ্ঞানের একটি অংশ দরকারী এবং উপযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু।

এসিটি-আর তত্ত্বের জন্য প্রয়োগ এবং অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণ

[সম্পাদনা]

এখন পর্যন্ত অ্যাক্ট-আর এর বেশ কয়েকটি অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মধ্যে, অ্যান্ডারসন এবং তার সহকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত একজোড়া পরীক্ষা উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতামূলক প্রমাণ দেয় যা তত্ত্বটিকে সমর্থন করে। এই পরীক্ষাগুলো অধ্যয়ন করেছিল যে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকগুলো বিভিন্ন মিড-ওয়ে পয়েন্টগুলোর মধ্য দিয়ে শুরু থেকে চূড়ান্ত গন্তব্যগুলোতে একটি মানচিত্রে (পিটসবার্গ, পেনসিলভেনিয়ার শহরের) সর্বাধিক দক্ষ রুটগুলো কাজ করেছিল, ব্যয় এবং সময়ের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে।  পরীক্ষাগুলো শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ করে করা হয়েছিল। কারণ তারা কম্পিউটার স্ক্রিনে মানচিত্রটি দেখেছিল এবং চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য তারা যে অবস্থানগুলোতে যেতে বা পাস করতে চেয়েছিল সেগুলোতে ক্লিক করেছিল।

বিষয়গুলো থেকে প্রাপ্ত ফলাফলগুলো একই নেভিগেশন সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য অ্যাক্ট-আর তত্ত্বের (উৎপাদন বিধিগুলোর সেট ব্যবহার করে) উপর ভিত্তি করে কম্পিউটার মডেল দ্বারা উত্পাদিত "চিন্তাভাবনা প্রক্রিয়া" এবং সমাধানগুলোর সাথে তুলনা করা হয়েছিল। নীচের সারণী এই নেভিগেশন টাস্কে রুট নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত মডেলের উৎপাদন বিধিগুলোর কয়েকটি উদাহরণ দেখায়:

[আদেশে] কম্বিন-রুট
যদি লক্ষ্যটি হলো অবস্থান ১ থেকে অবস্থান ২ এ একটি রুট সন্ধান করা,

আর এখানে location ৩ যাওয়ার একটা রাস্তা আছে, এবং location ৩ location২ এর কাছাকাছি,

তারপর Location ৩ এ রুট নিন,

এবং সেখান থেকে আরও পরিকল্পনা করুন।

ডাইরেক্ট-রুট
যদি লক্ষ্যটি হলো অবস্থান ১ থেকে অবস্থান ২ এ একটি রুট সন্ধান করা,

আর location ১ থেকে location ২ পর্যন্ত একটা রুট আছে,

তারপর সেই পথেই যাও।

টেবিল ২. নেভিগেশন টাস্কের রুট নির্ধারণের জন্য উৎপাদন বিধিগুলোর উদাহরণ

এসিটি-আর মডেলের চিন্তাভাবনার উপায়টি স্নাতক শিক্ষার্থীদের একবারে এক ধাপের সাথে তুলনা করা হয়েছিল - মডেল দ্বারা তৈরি রুটের প্রতিটি একক পছন্দ (প্রতিটি একক উৎপাদন) প্রতিটি শিক্ষার্থীর দ্বারা তৈরি প্রতিটি পছন্দের পাশাপাশি রাখা হয়েছিল (তারা যে মিড-ওয়ে পয়েন্টগুলোতে ক্লিক করেছিল)। ফলাফলগুলো দেখিয়েছে যে এসিটি-আর মডেলের রুটের সিদ্ধান্তগুলো "৬৭% সময়" শিক্ষার্থীদের সাথে মেলে,[ এবং এমনকি যদি তারা তা না করে। তবে তারা শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় শীর্ষ পছন্দগুলোর সাথে মেলে, মানব বিষয়গুলো জ্ঞানীয়ভাবে যেভাবে আচরণ করে তার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সমান্তরাল।

উপরন্তু, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান ছিল যে রুট পছন্দগুলো করার ক্ষেত্রে কম্পিউটার মডেলের বিলম্ব (নেওয়া সেকেন্ডের সংখ্যা) বিষয়গুলোর সিদ্ধান্তের গতির সাথে খুব মিল ছিল। যদিও এই সন্ধানটি তুলনামূলকভাবে সাধারণ পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল, এটি সম্ভবত জ্ঞানীয় কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে উৎপাদন বিধিগুলোর উপর ভিত্তি করে রায় দেওয়ার জন্য মানব জ্ঞানীয় সিস্টেমের প্রয়োজনীয় সময় সম্পর্কিত অ্যাক্ট-আর তত্ত্বের ধারণাগুলোকে সমর্থন করে (সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিভিন্ন রুট পছন্দগুলো বিবেচনা করুন এবং মূল্যায়ন করুন)।

চূড়ান্ত ফলাফল যা এসিটি-আর তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা হলো পরীক্ষার সময়কালে (প্রায় এক সপ্তাহ) অনুশীলনের সাথে, মানব বিষয়গুলো রুট পরিকল্পনার অনুকূলকরণের গতিতে উন্নত হয়েছিল, সম্ভবত উন্নত কার্য সম্পাদনে শক্তিশালী উৎপাদন বিধিগুলোর নীতিকে সমর্থন করে।

অ্যান্ডারসন এই মানচিত্র নেভিগেশন ক্রিয়াকলাপের গুরুত্ব এবং এসিটি-আর তত্ত্বকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে এর প্রমাণের কথা উল্লেখ করেছেন,[ দিয়েছিলেন যে এটি একটি বাস্তব জীবনের কাজ জড়িত যেখানে মানুষকে ব্যয় এবং সময়ের মতো বাস্তব। কারণ এবং পরিণতি বিবেচনা করতে হবে, বিমূর্ত, একাডেমিক সমস্যাগুলোর উপর ভিত্তি করে পরীক্ষার এর বিপরীতে গাণিতিক, যেখানে সত্য পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত খুব কম প্রভাব রয়েছে। তদতিরিক্ত, গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন রুট সন্ধানের এই জাতীয় কাজটিতে একাধিক সমাধান জড়িত। এর অর্থ সমাধানগুলো সাফল্যের বিভিন্ন ডিগ্রি। এটি এটিকে আরও বাস্তবসম্মত পরীক্ষা করে তোলে যে এসিটি-আর মডেলটি মানুষের জ্ঞানীয় সিস্টেমের পক্ষে সত্য কিনা।

এই পরীক্ষাগুলো ছাড়াও, এসিটি-আর তত্ত্বের জন্য অন্যান্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতামূলক সমর্থনের মধ্যে ইন্টেলিজেন্ট টিউটরিং সিস্টেমগুলোতে (আইটিএস) বিনিয়োগ করা কাজটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি রিটার এবং তার সহকর্মীদের মতো পণ্ডিতদের দ্বারা বিস্তারিতভাবে অন্বেষণ করা হয়েছে।  যদিও এই অধ্যায়ের পরিধির মধ্যে নয়, কম্পিউটার টিউটরিং সিস্টেম সম্পর্কিত আরও আলোচনা একটি ভিন্ন অধ্যায়ে দীর্ঘ করা হবে।

এসিটি-আর তত্ত্বের নির্দেশমূলক প্রভাব

[সম্পাদনা]

তত্ত্বের পূর্বোক্ত নীতি এবং বৈশিষ্ট্যগুলোর উপর ভিত্তি করে, অ্যান্ডারসন এট আল টিউটরিং সিস্টেম ডিজাইনের জন্য নীতিগুলোর একটি তালিকা সরবরাহ করে। এর মধ্যে কয়েকটি সাধারণভাবে নির্দেশমূলক নকশার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, যেমন ধারণাগুলো সহ: ক) প্রোডাকশনর একটি সেট হিসাবে একটি দক্ষতার প্রতিনিধিত্ব করা; খ) সমস্যা সমাধানে উপ-লক্ষ্য (প্রোডাকশন) স্পষ্ট করা; (গ) হস্তান্তরযোগ্য উৎপাদন বিধিমালা প্রচারের সময় কতিপয় সমস্যার প্রেক্ষাপটে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান; ঘ) স্মৃতি লোড কমাতে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় উৎপাদন নিয়মগুলোতে ফোকাস; ঙ) কোন কাজে সূক্ষ্ম দানাদার উৎপাদন বিধি কতটুকু থাকা প্রয়োজন তার উপর নির্ভর করে উপযুক্ত গ্র্যানুলারিটির নির্দেশনা প্রদান; চ) শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অর্জনের সাথে সাথে শিক্ষামূলক সহায়তা যথাযথভাবে প্রত্যাহার করা।

কগনিটিভ টিউটর এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পেতে আপনি সমস্যা সমাধান, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং যুক্তি (সমস্যা সমাধানের জন্য ২.৫ জ্ঞানীয় শিক্ষক) এবং লার্নিং ম্যাথমেটিক্স (বীজগণিত শেখানোর জন্য ৪.৫ জ্ঞানীয় শিক্ষক) অধ্যায়ে যেতে পারেন।

এসিটি-আর তত্ত্বের সমালোচনা এবং প্রতিক্রিয়া

[সম্পাদনা]

ACT-R তত্ত্ব বলে যে কোনও দক্ষতা (বা জ্ঞানীয় কাজ) অর্জন বা বোঝার জন্য কেবল সেই স্বতন্ত্র উৎপাদনগুলি শেখা জড়িত হওয়ায় এটি পূর্ব-নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অর্জন করার পরিবর্তেগঠনমূলক শিক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে যে জ্ঞান বা দক্ষতার বোঝাপড়া শিক্ষার্থী নিজেই তৈরি করে।

এটি, তত্ত্বের ধারণার সাথে মিলিত হয়ে যে শিক্ষার্থীদের উত্তর বা সমস্যার সমাধানগুলি উৎপাদন নিয়মের নির্দিষ্ট সেটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত বা কব্জাবদ্ধ করা উচিত, এটি জ্ঞানের প্রতি কিছুটা আচরণগত-ভিত্তিক পদ্ধতি দিয়েছে। এটি মেটাকগনিশনের মতো উপাদানগুলিকে দমিয়ে রেখেছে। অ্যান্ডারসন এবং অন্যান্যরা এই বলে প্রতিক্রিয়া জানান যে ACT-R এর পদ্ধতি আচরণবাদী পদ্ধতির সাথে মিল রাখে যে নির্দেশনা কীভাবে একটি দক্ষতা বা কাজকে উপাদানগুলিতে বিভক্ত করার উপর ফোকাস করা উচিত, তবে তারা যুক্তি দেন যে ACT-R সাধারণ আচরণগত পদ্ধতির তুলনায় আরও বিমূর্ত উপায়ে (সম্ভবত প্রসঙ্গের মধ্যে আরও স্থানান্তরযোগ্য) কাজটি উপস্থাপন করে।[৩১]

উপরন্তু, জন অ্যান্ডারসন স্বীকার করেছেন যে, যেহেতু তত্ত্বের একটি মূল শিক্ষাগত বা নির্দেশনামূলক নকশার অন্তর্নিহিত অর্থ হল একটি কাজ সম্পন্ন করার জন্য পৃথক উৎপাদন নিয়ম অর্জনকে উৎসাহিত করা, তাই তত্ত্বের প্রাথমিক জোর শেখার দক্ষতা হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। আশ্চর্যজনকভাবে, এই অগ্রাধিকারটি তাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে হতে পারে যারা দক্ষতা বা গতির চেয়ে শেখার গভীরতা বা সমৃদ্ধিকে মূল্য দেন। অ্যান্ডারসনের প্রতিক্রিয়া হল যে শেখার গভীরতাকে কেবল ঘোষণামূলক এবং উৎপাদন (পদ্ধতিগত) জ্ঞানকে সমৃদ্ধকারী হিসাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যার মধ্যে অনুশীলন এবং প্রতিক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত।[৩২]

শব্দকোষ

[সম্পাদনা]
অর্থের নিয়োগ
যখন অর্থ একটি অনুভূত উদ্দীপনা বরাদ্দ করা হয়
স্বয়ংক্রিয়তা
একটি স্বয়ংক্রিয় স্তরে একটি দক্ষতার বিকাশ যেখানে এটি একটি অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়া হয়ে যায় যা অনেক চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয় না
মাল্টিমিডিয়া লার্নিংয়ের জ্ঞানীয় তত্ত্ব
মেয়ারের তত্ত্বটি ডুয়াল-কোডিং তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে, এই ধারণাটি যে জ্ঞানীয় লোড অবশ্যই শেখার ক্ষেত্রে পরিচালনা করা উচিত এবং এই ধারণাটি যে শেখার সাথে সংগঠিত এবং সংহতকরণের তথ্য জড়িত
ধারণা
মানসিক তথ্যকে অর্থপূর্ণ বিভাগ এবং কাঠামোতে বাছাই করার একটি উপায়; একটি "জ্ঞানের বিল্ডিং ব্লক"
শর্তসাপেক্ষ জ্ঞান
বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান এবং কখন এবং কেন তাদের ব্যবহার করতে হবে; "কেন জানার" জ্ঞান
ঘোষণামূলক জ্ঞান
বাস্তব জ্ঞান যেমন রাজধানী শহর এবং বীজগণিতের সূত্র জানা; "কি জানার" জ্ঞান
ডুয়াল কোডিং থিওরি
পাইভিওর তত্ত্ব যে ভিজ্যুয়াল এবং পাঠ্য উভয় বিন্যাসে তথ্য সরবরাহ করা শেখার উপকার করতে পারে
এপিসোডিক স্মৃতি
স্মৃতি যা প্রতিটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জন্য নির্দিষ্ট
অত্যাবশ্যকীয় শিক্ষা
প্রক্রিয়াজাত তথ্য বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানীয় চাহিদা
বহিরাগত জ্ঞানীয় লোড
মূল জ্ঞানীয় কাজের বাইরে জ্ঞানীয় লোড সৃষ্টি করে এমন কিছু
এফএমআরআই
কার্যকরী চৌম্বকীয় অনুরণন ইমেজিং। একটি নিউরোইমেজিং প্রযুক্তি যা মস্তিষ্কের সক্রিয় অঞ্চলে রক্ত প্রবাহের পরিবর্তনগুলো সনাক্ত করে মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম
ভুলে যাওয়া
স্মৃতি মনে করা যায় না
আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়াকরণ
জ্ঞানীয় চাহিদা যা প্রক্রিয়াজাত তথ্য বোঝার জন্য দরকারী। তবে সম্পূর্ণরূপে প্রয়োজনীয় নয়
অন্তর্নিহিত জ্ঞানীয় লোড
যে কোনও প্রদত্ত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানীয় লোড
দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি
স্মৃতি যা দিন, মাস, বছর এবং / অথবা দশক ধরে বিকশিত হয়। স্মৃতির স্থায়ী সঞ্চয় সারা জীবন ধরে বিকশিত হয়
পদ্ধতিগত জ্ঞান
গাড়ি চালানো, স্কিইং করা বা কফি তৈরির মতো প্রতিদিনের কাজগুলো কীভাবে সম্পন্ন করা যায় সে সম্পর্কে জ্ঞান; "কিভাবে জানার" জ্ঞান
প্রোটোটাইপ
একটি অত্যন্ত সাধারণ / বিশিষ্ট ধারণা
স্মরণ
যখন পূর্বে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে সঞ্চিত তথ্য মনে রাখা হয়
পুনর্গঠন
যখন পূর্বে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে সঞ্চিত তথ্য স্মরণে পুনর্গঠন করা হয়। তবে ঠিক মনে রাখা হয় না
রেফারেন্সিয়াল হোল্ডিং
যখন কেউ অস্থায়ীভাবে তথ্য ওয়ার্কিং স্মৃতির মধ্যে রাখে যখন অন্যান্য তথ্য একযোগে প্রক্রিয়া করা হয়
রিহার্সাল
জ্ঞানীয় পুনরাবৃত্তি যা তথ্যকে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে সক্রিয় থাকতে দেয়
পুনরুদ্ধার
দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির বাইরে এবং ওয়ার্কিং স্মৃতিতে তথ্য স্থানান্তর করার কাজ
স্কাফলোডিং
কোনও বস্তু (বা স্কিমাটা) "নির্মাণাধীন" থাকাকালীন সহায়তার একটি অস্থায়ী কাঠামো যা সম্পন্ন হওয়ার পরে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সহায়তার আর প্রয়োজন হয় না।
স্কিমাটা বা স্কিমাটা
জ্ঞানীয় কাঠামো (গুলো) যা জ্ঞান সংগঠিত করতে এবং চিন্তাভাবনা, উপলব্ধি এবং মনোযোগকে গাইড করতে সহায়তা করে
শব্দার্থিক স্মৃতি
সাধারণ ধারণা এবং পদ্ধতির অনির্দিষ্ট স্মৃতি; নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত ঘটনা বা অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত নয়
সেন্সরি রেজিস্টার
ওয়ার্কিং স্মৃতির মধ্যে একটি জ্ঞানীয় ফাংশন যেখানে অনুভূত ইনপুটটি অর্থ গ্রহণের জন্য সংরক্ষণ করা হয়
অ্যাক্টিভেশন ছড়ানো
অন্য সম্পর্কিত ধারণার স্মরণ দ্বারা উদ্ভূত একটি ধারণার স্মরণ

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ১.০০ ১.০১ ১.০২ ১.০৩ ১.০৪ ১.০৫ ১.০৬ ১.০৭ ১.০৮ ১.০৯ ১.১০ ১.১১ Bruning, R., & Schraw, G. (2011). Cognitive psychology and instruction (5th ed.). Pearson Education
  2. Khajah, M. M., Lindsey, R. V., & Mozer, M. C. (2014). Maximizing students' retention via spaced review: Practical guidance from computational models of memory. Topics in Cognitive Science, 6(1), 157-169. doi:10.1111/tops.12077
  3. ৩.০ ৩.১ উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; “Bonner” নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  4. Chi, M.T.H., de Leeuw, N., Chiu, M., & La Vancher, C. (1994). Eliciting self-explanations improves understanding. Cognitive Science, 18, 439-477.
  5. Bruner, J.S., Goodnow, J.J., & Austin, G.A. (1956). A study of thinking. New York, NY: Wiley
  6. Remue, J., De Houwer, J., Barnes-Holmes, D., Vanderhasselt, M., & De Raedt, R. (2013). Self-esteem revisited: Performance on the implicit relational assessment procedure as a measure of self- versus ideal self-related cognitions in dysphoria. Cognition and Emotion, 27(8), 1441-1449. doi:10.1080/02699931.2013.786681
  7. Anderson, J.R. (2005). Cognitive psychology and its implications (6th ed.). New York: Worth
  8. Jui-Pi Chien. (2014). Schemata as the primary modelling system of culture: Prospects for the study of nonverbal communication. Sign Systems Studies, 42(1), 31-41. doi:10.12697/SSS.2014.42.1.02
  9. Le Grande, M. R., Elliott, P. C., Worcester, M. U. c., Murphy, B. M., Goble, A. J., Kugathasan, V., et al. (2012). Identifying illness perception schemata and their association with depression and quality of life in cardiac patients. Psychology, Health & Medicine, 17(6), 709-722. doi:10.1080/13548506.2012.661865
  10. Sternberg, R. J., & Sternberg, K. (2012). Cognitive psychology (6th ed.). Belmont, CA: Wadsworth.
  11. ১১.০ ১১.১ van Kesteren, Marlieke T. R., Rijpkema, M., Ruiter, D. J., Morris, R. G. M., & Fernàndez, G. (2014). Building on prior knowledge: Schema-dependent encoding processes relate to academic performance. Journal of Cognitive Neuroscience, 26(10), 2250-2261. doi:10.1162/jocn_a_00630
  12. Rumelhart, D.E. (1981). The building blocks of cognition. In J.T Guthrie (Ed.), Comprehension and teaching: Research reviews (pp. 3-26). Newark, DE: International Reading Association.
  13. Anderson, J. R. (1993). Rules of the mind. Hillsdale, NJ: Lawrence Erlbaum.
  14. ১৪.০ ১৪.১ ১৪.২ ১৪.৩ ১৪.৪ ১৪.৫ ১৪.৬ উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; “Bruning”2 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  15. Trillingsgaard, A. (1999). The script model in relation to autism. European Child & Adolescent Psychiatry, 8(1), 45. Retrieved from http://search.ebscohost.com/login.aspx?direct=true&db=aph&AN=4689586&site=ehost-live
  16. Craik, F.I.M. (1979). Human memory. Annual Review of Psychology, 30, 63-102.
  17. Paivio, A. (1986). Mental representations: A dual-coding approach. New York, NY: Oxford University Press.
  18. Butcher, K.R. (2006). Learning from text with diagrams: Promoting mental model development and inference generation. Journal of Educational Psychology, 98, 182-197.
  19. ১৯.০ ১৯.১ Mayer, R.E. (2001). Multimedia learning. New York, NY: Cambridge University Press.
  20. van Merrienboer, J.J.G., & Sweller, J. (2005). Cognitive load and complex learning: Recent developments and future directions. Educational Psycholog Review, 17, 147-177.
  21. Mayer, R. E. (2008). Applying the science of learning: Evidence-based principles for the design of multimedia instruction. Cognition and Instruction, 19, 177–213.
  22. Anderson, J.R. (2010). Cognitive Psychology and its implications. (7th ed.). New York, NY: Worth.
  23. Koriat, A., Goldsmith, M. & Pansky, A. (2000). Toward a psychology of memory accuracy, In S.Fiske (Ed.), Annual review of psychology, (pp. 481-537). Palo Alto, CA: Annual Reviews.
  24. Erdelyi, M.H. (2010). The ups and downs of memory. American Psychologist, 65, 623-633.
  25. Anderson, J.R., Fincham, J.M., Qin, T., & Stocco, A. (2008). A central circuit of the mind. Trends in Cognitive Psychology, 12, 136-143.
  26. Ismail, M. N., Ngah, N. A., & Umar, I. N. (2010). The effects of mind mapping with cooperative learning on programming performance, problem solving skill and metacognitive knowledge among computer science students. Journal Of Educational Computing Research, 42(1), 35-61. doi:10.2190/EC.42.1.b
  27. McClelland, J. L. (1988). Connectionist models and psychological evidence. Journal of Memory and Language, 27, 107-123.
  28. Vickers, Douglas, & Lee, Michael D. (1997). Towards a dynamic connectionist model of memory. Behavioral and Brain Sciences, 20, 40-41. doi:10.1017/S0140525X97460016
  29. Anderson, J. R., & Matessa, M. (1997). A production system theory of serial memory. Psychological Review, 104(4), 728-748. Retrieved from http://www.ebscohost.com/
  30. Anderson, J. R. (1990). Cognitive psychology and its implications. New York, NY: Freeman.
  31. Anderson, J. R., Corbett, A. T., Koedinger, K. R., & Pelletier, R. (1995). Cognitive tutors: Lessons learned. The Journal of the Learning Sciences, 4(2), 167-207. Retrieved from: http://www.jstor.org/
  32. Anderson, J. R. (1993). Rules of the mind. Hillsdale, NJ: Lawrence Erlbaum.