কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/রুরাল নলেজ সেন্টার- সাহেরখালী

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

রুরাল কলেজ সেন্টার, সাহেরখালী সাহেরখালী, মিরসরাই, চট্টগ্রাম পরিদর্শনের তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০০৯ থকে ৩১ অক্টোবর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন

সহঃ অধ্যাপক কাজী আফতাব হোসেন নগরকান্দা ডিগ্রী কলেজ (সিএলপি) নগরকান্দা, ফরিদপুর। স্বপন দেবনাথ কে.এন.কে.এম গ্রামীণ তথ্যকেন্দ্র কাড়াপাড়া, বাগেরহাট শিরিন আক্তার রুরাল নলেজ সেন্টার সাহেরখালী, মিরসরাই, চট্টগ্রাম

১. টেলিসেন্টার পরিচিতি K. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ: ১লা জুলাই ২০০৬ ইং L. যেভাবে শুরু হয়েছিল: প্রাথমিক পর্যায়ে আরম্ভ হয় বিএনএনআরসির মাধ্যমে। পরবর্তীতে ইপসা ছিন্নমূল অর্থাৎ গ্রামের নিরীহ মানুষ যারা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তাদের সুযোগ সুবিধা দানের জন্য সায়েবখালী রুরাল কলেজ সেন্টার (RKC) স্থাপন করেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এন.জি.ও নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিনিকেশন (বিএনএনআরসি) এর সাথে ইপসার ১ বছরের চুক্তি হয় এবং বিএনএনআরসি কারিগরি সহযোগিতা করে। ইপসা ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহন করে। M. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল: ইপসা ও BNNRC এর যৌথ উদ্যোগে কার্যক্রম শুরু হয়। N. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন: এ ধরনের টেলিসেন্টার ৫-৭ কি.মি. এর মধ্যে নাই, যোগাযোগের সুবিধার, বিদ্যুৎ ও ফোন কভারেজ রয়েছে, মহিলাদের প্রযুক্তি শিক্ষা দান, স্বল্প মূল্যে সেবা প্রদান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান দান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধা নিশ্চিত করা, স্থানীয় জ্ঞান বিষয়ক সেবা প্রদান, লোক সমাগম, টেলিসেন্টার সংলগ্ন দুইটি হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। O. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা কম্পিউটার ৩ প্রিন্টার ১ ল্যান্ড ফোন ফোন ১ (র‌্যাংগসটেল) লেমিনেটিং মেশিন ১

P. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ: আছে। র‌্যাংগসটেল- এর নো ইউস নো পেইড ধরনের সংযোগ। Q. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি: ইপসা রুরাল নলেজ সেন্টার, সাহের খালী কেন্দ্রে কোন সিডি নাই। শিক্ষামূলক বা জ্ঞান অন্বেষনের জন্য সংশ্লিষ্ট কোন বই, জার্নাল, সাময়িকী ইত্যাদি কিছুই নেই। পরিদর্শনকারীর মতামত কাজী আফতাব হোসেন: জিয়ন, মিনা কার্টুনসহ অন্যান্য জ্ঞানমূলক, শিক্ষামূলক তথ্য বা সিডি থাকার দরকার। আমার কেন্দ্রে জিয়নসহ নানাবিধ তথ্যমূলক অফ লাইনের ব্যবস্থা আছে যা থেকে ছাত্র, শিক্ষক, কৃষকসহ নানা পেশার মানুষ নানান ভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি K. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা নাম পদবী কি কাজ করছে? শিরিন আক্তার আরকেসি ম্যানেজার টেলিসেন্টার পরিচালনা L. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া  শিরিন আক্তার: শিরিন আক্তার আর কে সি ম্যানেজার সাহেরখালী কেন্দ্রের প্রথম জাতীয় পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে আবেদন করেন। এরপর ইপসা আবেদন পত্র যাচাই বাচাই করে তাকে পরীক্ষার জন্য মনোনিত করেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয় এবং ইপসা তাকে মনোনয়ন দেন। M. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ সময় শিরিন আক্তার সকালে ১. অফিস/টেলিসেন্টার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা ২. সেন্টারে রক্ষিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা দুপুরে ১. ছাত্র/ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ ২. ইন্টারনেটে ব্রাউজিং ৩. বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সেবা দেওয়া বিকেলে ১. ছাত্র/ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ ২. লেমেনিটিং করা ৩. ফোন করা। সন্ধায় ১. ফোন করা। ২. প্রতিদিনের হিসাব নিকাশ সহ রেজিস্টার আপডেট করা। N. সামাজিক প্রতিকূলতা • বিদ্যুৎ সমস্যা- মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ থাকে না। • নিরাপত্তার অভাব- টেলিসেন্টার ম্যানেজার নারী বিধায় নিজের এবং টেলিসেন্টারের নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন। • ধর্মীয় বাধা- অধিকাংশ নারীরা ঘরের বাইরে আসতে চায় না। • যাতায়াতের সমস্যা- রাস্তা ঘাট অনুন্নত হওয়ায় চলাফেরা করতে অসুবিধা হয়। O. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন www.ypsa.org প্রতিদিনে ইপসার খবরাখবর জানা যায় ও দেখা যায়। www.jeeon.com কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনব্যবস্থাপনা, ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। www.e-mela.com সংবাদ পত্রের খবর পড়ার জন্য। www.educationboard.gov.bd এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য। www.chakri.com.bd চাকুরীর খবর জানার জন্য। www.versityadmition.com ইউনিভারসিটির ভর্তির খবরের জন্য। P. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান: তিনি কোন ব্লগের সদস্য নন। তবে yahoo.com এ তার ইমেল একাউন্ট আছে। পরিদর্শনকারীর মতামত কাজী আফতাব হোসেন: জ্ঞান লাভের তিন উপায় হলো (১) শিক্ষা (২) পর্যবেক্ষন ও (৩) মানুষের সাথে মেলামেশা। বিভিন্ন অগ্রানাইজেশনের সদস্য হলে একে অপরের তথ্য আদান প্রদান করে অজানাকে জানা এবং জানাকে জয় করা যায়। Q. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে  শিরিন আকতার: তিনি পূর্বে শিক্ষকতা করতেন। এ পেশায় আসার পিছনে তাকে উৎসাহিত করেছে- তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ করা, একই স্থানে বসে বিভিন্ন স্থানের খবরা খবর ইন্টারনেটের জানা, তথ্য ও প্রযুক্তি সর্ম্পকে নতুন নতুন বিষয জানতে পারা, প্রযুক্তিগত শিক্ষা দিতে আনন্দ পাওয়া, কম সময় ও খরচে কাজ করা, সমাজে বিভিন্ন স্তরের লোকের সাথে পরিচিত হওয়া। R. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:  শিরিন আকতার: টেলিসেন্টারের আরো যন্ত্রপাতি বাড়িয়ে যেমন: কম্পিউটার ডিজিটাল ক্যামেরা, ফটোকপিয়ার মেশিন, স্পাইরাল মেশিন ব্যবহার করে টেলিসেন্টার কার্যক্রম আরো প্রসার করা। কর্ম এলাকায় গ্রাম পর্যায়ে গ্রুপ মিটিং করার মাধ্যমে আরকেসি ও আইসিটি সম্পর্কে জানানো। কর্ম এলাকাস্থ বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী ও জেলে সম্প্রদায়কে আরকেসির মাধ্যমে কিভাবে সেবা প্রদান করা যায় সে বিষয় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করা। আরকেসি টেলিসেন্টারের আর্থিক আয় বৃদ্ধি করা। এলাকার ক্ষুদ্র উদ্যোগীদের অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসায় আয়/ব্যয় হিসাব করে উন্নতি সাধন করা। S. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন  শিরিন আকতার: তথ্যকর্মী শিরীন আক্তারের গ্রাম ১৪ নং হাইতকান্দি, পোঃ হাইতকান্দি, উপজেলা মিরসরাই, জেলা চট্টগ্রাম। তার জন্ম ১৯৭৫ সালের ১৫ই নভেম্বর মিরসরাই উপজেলার ১১ নং মঘাদিয়ায় তার পিতৃলয়ে। তিনি বিবাহিত। বিবাহিত জীবন ৫ বছর। ভাগ্যবান, ভদ্র মেজাজের বৃশ্চিক রাশির জাতক তিনি। ছোট বেলায় লেখাপড়া করেছেন গ্রামের স্কুলে। এরপর তিনি ডিগ্রি লাভ করার জন্য নিজামপুর ডিগ্রি কলেজে পড়াশোনা করেন। তথ্য প্রযুক্তি ভাল লাগে বিধায় শিক্ষকতা চাকুরী ছেড়ে দিয়ে ইপসা রুরাল নলেজ সেন্টারে টেলিসেন্টার ম্যানেজার হিসাবে চাকরী নিয়েছেন ২০০৬ সালের ১লা জুলাই। তখন থেকে চলছে তার কর্ম ব্যস্ততা। কখনো এলাকার ছেলেমেয়েদের সাথে, কখনো এলাকার পর্দানশীল মহিলাদের সাথে কথা বলেন। টেলিসেন্টারে আসার জন্য তাদের আহবান করেন। এ ব্যাপারে তার জীবন সঙ্গী মফিজুল ইসলাম তাকে সর্বদা সাহায্য করে থাকেন।

৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে K. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান: মীর সরাই উপজেলার ১৬নং সাহেরখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ভোরের বাজারের পার্শ্বে নিজামপুর কলেজ রোডের মাঝে সায়েরপুর ইপসা পরিচালিত রুরাল নলেজ কেন্দ্র অবস্থিত। এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ৬০৫০০ / ২৪৫০০ জন। L. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা: এখানকার জনগনের প্রধান পেশা কৃষি। এছাড়াও মৎস্য, পশুপালন, বাঁশ, বেতের জিনিসপত্র তৈরী, নঁকশী কাথা সেলাই, পাখা তৈরী, শীতল পাটি বোনা প্রভৃতি কাজে নিয়োজিত। কিছু লোক মধ্য-প্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চাকুরীরত রয়েছেন। এখানের কিছু কিছু মহিলারা মোড়া তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। পরিদর্শনকারীর মতামত কাজী আফতাব হোসেন: এখানকার সাগরের ইলিশ মাছ ও শীতল পাটিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র অন লাইনে বেচাকেনার ব্যবস্থা করলে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যেতো বলে আমি মনে করি। এখানে শীতল পাটি এত সুন্দর যা চোখে পড়ার মত। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর চাহিদা ব্যাপক আকার ধারন করতো এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও এর প্রসার ঘটত। M. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো: এলাকার অবকাঠামো ব্যবস্থা মোটামুটি ভাল। এখানকার অধিকাংশ বাড়ি কাঁচা এবং কিছু বাড়ি আছে আধপাকা। রাস্তাঘাট অধিকাংশ ইটের সলিং আর বাকি যে রাস্তাসমূহ তা কাঁচা। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভাল। টেলিসেন্টারটি যেহেতু গ্রামে সেহেতু এখানে ইন্টারনেট সংযোগ দ্বিতীয়টি আর নাই। N. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান: এলাকায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জনতা ব্যাংক, ডাকঘর ও ১টি সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্র্যাক, গ্রামীন ব্যাংক, ইপসা, আশা, কেয়ার, আফকা, স্কারস, এ্যাওয়াক, সেবা, ১টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১টি কেজি স্কুল আছে। এ ছাড়া ও রয়েছে কয়েকটি বৈদ্য মন্দির ও হিন্দুদের মন্দিরও আছে। O. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ: ফ্যাক্সের দোকান নাই, ফোনের দোকান নাই। সাইবার ক্যাফ নাই। ডিজিটাল স্টুডিও আছে ১টি। P. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা অনেক বড় বন ও বনের পাশেই সাগর- সেখান থেকে জেলেদের মাছ ধরে কাঁধে করে বিক্রির দৃশ্য চোখে পড়বে। গরমের দিনের আরাম শীতল পাটি। সেই শীতল পাটি তৈরি হয় এই সাহেরখালী গ্রামে। প্রতিটি বাড়ির আশেপাশে রয়েছে শীতল পাটির গাছ এবং সেই ছাল থেকে তৈরি হয় শীতল পাটি। আছে বৌদ্ধ বিহার। যেখানে রয়েছে বুদ্ধ দেবের সুন্দর নয়নাভিরাম মূর্তি। বৌদ্ধ বিহারের সংখ্যা চারটি।

৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল K. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী: উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ ইপসা, পিএসসিপি গ্রুফ ইপসা পিএসসিপির গ্রুপের সদস্যদের প্রযুক্তিমূলক শিক্ষা পরিবার পরিকল্পনা, ও স্বাস্থ্যসম্মত পরামর্শ দেয়া। ইপসা নলেজ ভলান্টিয়ার ইপসা নলেজ ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে টেলিসেন্টারের প্রচারমূলক কাজ করা হয়। গ্রুপ মিটিং ইপসা- সদস্যদের গ্রুপ মিটিং করে টেলিসেন্টারে সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। বাড়িতে গিয়ে উঠান বৈঠক টেলিসেন্টার কর্মীকে এলাকার সেবা গ্রহণে সম্পৃক্ত করার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে টেলিসেন্টারের গল্প বলা। সাধারণত: মুরবিবদের ডাকা হয় এবং তাদের টেলিসেন্টারের কার্যক্রমের উপর ধারনা দেওয়া হয় এবং ছাত্র/ছাত্রীদের ও অনুরূপ ধারণা দেওয়া হয়। L. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা: এনজিও কর্মীরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার কম্পোজ, প্রিন্ট ও ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে আসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং কম্পিউটার কম্পোজ ও প্রিন্ট এর কাজে আসে।

M. এলাকার ক্ষুদ্র ব্যসায়ীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা: এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা টেলিসেন্টার থেকে সেবা গ্রহণ করে, কৃষি, শীতল পাটি, পোল্ট্রি ফার্ম, নকশী কাঁথা, বেত ও বাঁশ শিল্প, মৎস্য সম্পর্কিত গ্রহণ করে। N. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা : এলাকার নারীরা সাধারণত টেলিফোন করে থাকে। মাঝে মধ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সহ অন্যান্য সেবা গ্রহন করে। O. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা: স্বল্প সংখ্যক শিশু টেলিসেন্টারের সেবা গ্রহণ করে থাকে। তারা Paint এ ছবি আঁকতে পারে।

৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা K. দৈনিক কর্মসময়: টেলিসেন্টার সকাল ৯.০০ থেকে ৫.০০ পর্যন্ত খোলা থাকে L. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন: কর্মী যেহেতু ১ জন তিনি সকল দায়িত্ব পালন করেন। M. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা: প্রথমে টেলিসেন্টারটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেন। তারপর হাজিরা খাতাই সই করা। ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ কাজে নিয়োজিত থাকেন। ইন্টারনেট ব্রাউজিং, কম্পোজ-প্রিন্ট করে থাকেন। পরিশেষে হিসাব নিকাশ করে থাকেন। N. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ: পরিদর্শন বইয়ের মাধ্যমে পরিদর্শনকারীগণ ও সেবা গ্রহীতাদের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বইয়ে সই করে সংরক্ষণ করা হয়। ছবি তুলে রাখা হয়না। O. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া: স্থানীয় জনগণের চাহিদা ভিত্তিক নতুন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত হয়। P. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ: ক্যাশবুক ও লেজার বুক এর মাধ্যমে। এছাড়া প্রতিদিনের আর্থিক হিসাব দৈনিক রেজিষ্টার খাতায় রাখা হয়। Q. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন: টেলিসেন্টার কর্মীদের উর্ধ্বতম কর্মকর্তাদের প্রশ্ন উত্তর ফরমেট পূরণের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। R. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা: টেলিসেন্টারটি একটি রুমে সাজানো। এখানে তিনটি কম্পিউটার, একটি লেমিনেটিং মেশিন, একটি প্রিন্টার, একটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন পোস্টার ও লিফলেট দিয়ে সাজানো রয়েছে। রুমটিতে বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সেবামূলক কার্যক্রম হয়।


৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম K. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে কম্পিউটার ট্রেনিং ছাত্রছাত্রী সকাল ৯টা- বিকাল ৫টা অফিস প্রোগ্রাম- ১০০০ টাকা কম্পোজ ও প্রিন্টিং সকল জনসাধারণ সকাল ৯টা- বিকাল ৫টা কম্পোজ ও প্রিন্টিং ২০ টাকা এবং প্রিন্টিং ১০ টাকা লেমিনেটিং সকল জনসাধারণ সকাল ৯টা- বিকাল ৫টা এফোর সাইজ ১০ টাকা পাসপোর্ট সাইজ ৫ টাকা ফোন সকল জনসাধারণ সকাল ৯টা- বিকাল ৫টা প্রতি মিনিট ২ টাকা ইন্টারনেট সকল জনসাধারণ সকাল ৯টা- বিকাল ৫টা ঘন্টা ৩০ টাকা দুর্যোগকালীন সময়ে সংবাদ প্রেরণ সকল জনগনকে ফ্রি সার্ভিস K. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয় সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে চাকুরীতে অভিজ্ঞতা দেখানো লেমিনেটিং স্বল্প মূল্যে সেবা পেয়ে থাকেন ফোন করা স্বল্প মূল্যে সেবা পেয়ে থাকেন কম্পোজ-প্রিন্টিং স্বল্প মূল্যে সেবা পেয়ে থাকেন ইন্টারনেটে ব্যবহার ইন্টারনেটে চাকুরীর খবর জানা L. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা • ডিজিটাল ক্যামেরা। • ফটোকপি। • স্ক্যানার • স্পাইরাল বাইন্ডিং • বিকল্প বিদ্যুৎ অর্থাৎ জেনারেটর

৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায় K. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো: বিদ্যুৎ সমস্যা, লোকবল কম, কুরিয়ার সার্ভিস নেই। L. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্যা: কারিগরী সমস্যা সমাধান করতে আইসিটিতে দক্ষ লোকদের কেন্দ্রে এনে অথবা সীতাকুন্ড বা চট্টগ্রামে নিয়ে দেখাতে হয়। M. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা: টেলিসেন্টার কর্মীদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে কারিগরী কারিগরী সমস্যা। N. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে: কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এর উপর প্রশিক্ষণ দেয়া।

৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয় K. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে): গড়ে মাসে ১৫ - ৩০ জন সেবা গ্রহণ করে থাকে L. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে: টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ১৫ - ২০ ভাগ লোক জানে M. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে: অংশগ্রহণের মাধ্যমে। এয়াড়াও তারা জনগণ ভলেনটিয়ার সহায়তা করে থাকে। পরিদর্শনকারীর মতামত শিরিন আকতার: প্রতিমাসে ৩০ জনের বেশি সেবা গ্রহণ করা দরকার। টেলিসেন্টারের অবস্থান সম্পর্কে ১০০% লোক জানা দরকার। N. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা) কম্পিউটার ৩টি ৯৬,০০০ লেমিনেটিং মেশিন ১টি ১২,০০০ প্রিন্টার ১টি ১০,০০০ মোবাইল র‌্যাংগসটেল ইন্টারনেট সহ ১০,০০০ ফ্যান ১,২০০ ফার্নিচার/আসবাবপত্র ১২,০০০

O. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল: বিএনএনআরসি। P. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ: টেলিসেন্টার স্থাপনের জন্য কোন আর্থিক ঋণ গ্রহণ করা হয়নি। Q. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা) কর্মীদের বেতন ৫,০০০ বিদ্যুৎ বিল ১৫০ অফিস ব্যবস্থাপনা ১,৫০০ স্টেশনারী ১,০০০ যাতায়াত খরচ ৫০০ আপ্যায়ন ৩০০

R. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা) কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ৫,০০০ কম্পোজ ও প্রিন্টিং ৪০০

লেমিনেটিং	৫০০

মোবাইল ২০০ ইন্টরনেট ১,০০০


৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা উপকারভোগীর নামঃ মো: শাহ আলম পিতার নাম: মৃত মোকলেসুর রহমান। মাতার নাম: মোসাম্মদ মোছেনা খাতুন। মো: শাহ আলম এর গ্রাম পূর্ব সাহেরখালী, ডাকঘর সাহেরখালী, উপজেলা মীরের সরাই। সাত ভাই ও এক বোন। ভাইদের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। মি: রহমান ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়নের ওয়ার্ড নং ৬ এর সদস্য। অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি অন্যতম। সামাজিক ও আর্থিক দিক থেকে তার অবস্থান প্রথম দিকে। এলাকার কোন অনুষ্ঠান তাকে ছাড়া প্রায় অসম্ভব। তার একটি ডেয়রী ফার্ম ছিল। বর্তমানে একটি পোল্ট্রি ফার্ম আছে। উপকারভোগীর বিভিন্ন কাজের সহতা অত্র কেন্দ্র থেকে পেয়ে থাকেন যেমন, কম্পিউটার কম্পোজ, টেলিফোন ইত্যাদি। অন্য জায়গার তুলনায় কম খরচে এখানে কম্পোজ করতে পারেন, তাছাড়া সময়ের অপচয় হয় না।

উপকারভোগীর নাম : মো: ইউনুচ পিতার নাম: কবির আহম্মেদ মাতা: নুর খাতুন মো: ইফনুচের গ্রাম উত্তর হাইত কান্দি, ডাকঘর হাইতকান্দি, উপজেলা: মিরসরাই, জেলা চট্টগ্রাম। তিন ভাই ও এক বোন। পিতা মাতা ভাই বোন ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে তিনি সমাজে বসবাস করে। কিন্তু তার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। বাবা চট্টগ্রামে ‘আমিন জুট মিলস’ প্রতিষ্ঠানে স্বল্প বেতনে ওয়ার্কার পদে কাজ করতেন। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। বড়ভাই অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করে স্পীড বোট চালক হিসেবে কাজ করে কোন মতে সংসার চালান। এই অবস্থায় দুই ভাই ও একবোন এর লেখাপড়া চালিয়ে সংসার চালানো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ইউনুচ এস.এস.সি পরীক্ষার পর সাহেরখালী রুরাল নলেজ সেন্টার (আরকেসি) তে কম্পিউটার ‘অফিস প্রোগ্রাম’ প্রশিক্ষণ নিয়ে ছবিযুক্ত জাতীয় ভোটার নিবন্ধন আইডি কার্ড রেজিষ্ট্রেশন ফরম পুরন করে ১০,০০০ টাকা আয় করে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা চালায়। বর্তমানে সে চট্টগ্রামে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর কাজ করে প্রতি মাসে সংসারে মা-বাবা ও বোনের সামান্য চাহিদা মেটাতে পারছে। ইউনুচের স্বপ্ন কম্পিউটারে আরো দক্ষতা অর্জন করা, উন্নয়ন বিষয়ক আরো জ্ঞান অর্জন করা, পরিবারের একজন উপার্জনকারীর ভূমিকা পালন করা, প্রতিবেশী তথা গ্রামবাসীদেরকে তথ্য সমৃদ্ধ করা এবং সম্মানজনক পেশা বেছে নেয়া। অভাবী সংসারে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা, উন্নয়নমূলক শিক্ষা লাভ করে তা সমাজের অন্যান্যদের তথ্যসমৃদ্ধ করা।