কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/ব্র্যাক মাদলা গণকেন্দ্র পাঠাগার

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ব্রাক মাদলা গণকেন্দ্র পাঠাগার ফুলতলা, বগুড়া
পরিদর্শনের তারিখ: ০৭ নভেম্বর ২০০৯ থেকে ১১ নভেম্বর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন
১. শেখ সাইদুর রহমান, আমাদের গ্রাম প্রকল্প, ঝনঝনিয়া, রামপাল, বাগেরহাট
২. মিতরাণী পোদ্দার (মিতু), ইনটিগ্রেটেড ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (আইভিডিএস), ৩২/২, মায়ানীড়, শুক্রবন

যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন
১. মো: আব্দুল কুদ্দুস, ব্রাক মাদলা গণকেন্দ্র পাঠাগার, ব্রাক শিক্ষা কর্মসূচী (বিইপি- পেইস), ফুলতলা, বগুড়া।


১. টেলিসেন্টার পরিচিতি

ক. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ:
১১ জানুয়ারী ১৯৯৭ ইং

খ. যেভাবে শুরু হয়েছিল
আলোক কুমার মন্ডল প্রথমে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে ব্রাকের কাছে আবেদন করে একটি রেজুলেশন তৈরি করেন। ব্রাক ২৫,০০০ হাজার টাকা অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং শর্ত থাকে যে কমিউনিটি ৬০,০০০ হাজার টাকা জোগাড় করে ব্রাকের কাছে জমা দিবে। কমিউনিটির ৬০,০০০ হাজার টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা এবং ব্রাকের ২৫,০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ হাজার টাকা নিয়ে মোট ৩৫,০০০(২৫,০০০+১০,০০০) টাকা দিয়ে কেন্দ্রের জন্য ফার্নিচার কেনা হয়। অবশিষ্ট মোট ৫০,০০০ টাকার(৩৫০০০+১৫০০০) সাথে ব্রাক আরো ৫০,০০০ হাজার টাকা) যোগ করে অর্থাৎ মোট ১ লক্ষ টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। ব্র্যক পরবর্তীতে ১ লক্ষ টাকার ১ হাজার বই অনুদান হিসেবে প্রদান করে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান: আমাদের টেলিসেন্টারটি (আমাদের গ্রাম) শুরু হয় ১৯৯৩ ইং সালে। আমাদের টেলিসেন্টারটি মূলত শুরু করেছিল ৫ বন্ধু মিলে। প্রত্যেকে তাদের নিজ গ্রাম থেকে কাজ শুরু করে। এভাবে আস্তে আস্তে টেলিসেন্টারটি সম্প্রসারিত হতে থাকে।
মিতরাণী পোদ্দার (মিতু): আমাদের সংগঠনের (আইভিডিএস) পল্লীতথ্য কেন্দ্র এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। তবে আশা রাখি- ডিসেম্বর মাসে আমরা কার্যক্রম শুরু করতে পারব।

গ. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল
১৯৯৭ সালে আলোক কুমার মন্ডল পাঠাগারটি শুরু করেছিলেন ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। বর্তমানে তিনি ব্রাকের একজন উন্নয়নকর্মী আর বর্তমানে যে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি আছে তার কোথাও তার নাম নেই। যদিওবা তিনিই পাঠাগারের স্বাক্ষী স্বরূপ, আমরা তাকে পাইনি কিন্তু তার নাম জেনেছি লাইব্রেরিয়ানের কাছ থেকে।

ঘ. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন:
ব্রাকের গণকেন্দ্র পাঠাগারগুলো মূলত যে কোন স্কুলের সাথে করতে হয়। যে কারণে মাদলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করে করা হয়েছে। জায়গাটি গ্রামের মানুষের কাছে ভাল লাগায় গণকেন্দ্র পাঠাগারটি করা হয়েছে। কেন্দ্রের পাশে একটা বাজার রয়েছে। যে কারণে জায়গাটি নির্বাচন করতে সুবিধা হয়েছে। টেলিসেন্টারের চারপাশের রাস্তাঘাট বেশ উন্নত হওয়ায় টেলিসেন্টারে আসতে অসুবিধা হবে না।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান: আমাদের টেলিসেন্টারটি নির্বাচনের কারণ হলো টেলিসেন্টারের পাশে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থাও বেশ ভাল। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় টেলিসেন্টারটি প্রত্যেকের নজরে আসবে।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা

সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি?
হলে কিভাবে
মন্তব্য
শিশু কর্ণার শিশু ও কিশোর কিশোরীদের ১১.০০ - ৫.০০টা পর্যন্ত ভর্তি ফি- ৫০ টাকা ফ্রি কমানো উচিত।
মোবাইল ইউনিট/ ভ্রাম্যমান পাঠাগার গ্রামের নারীদের জন্য-
যারা পাঠাগারে আসতে পারে না
৪-৬টা পর্যন্ত সপ্তাহে একদিন সদস্য ফি নেয়া হয় সদস্য ফি কমানো উচিত
যুব প্রশিক্ষণ/ কম্পিউটার শিখানো বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য সাতদিন ফ্রি ট্রেনিং অথবা তিন মাসের কোর্স ভর্তি ফি- ৫০০ টাকা একজন প্রতিবন্ধী থাকে, এটা ভাল লক্ষণ।
ই-গণকেন্দ্র সদস্যদের জন্য পাঠাগারের কম্পিউটারে সবসময় ডাটাবেস থাকে। ভতি ১০০ টাকা rকমানো উচিত
গণসচেতনতা গ্রামের জনগণের জন্য মাসে তিনটি ডকুমেন্টরি ছবি দেখানো হয় ব্রাক সাপোর্ট করে ভালো একটি প্রোগ্রাম
স্বাস্থ্য বার্তা গ্রামের মানুষকে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সন্ধ্যাবেলা কোন ফি নেয়া হয় না
শিক্ষণীয় সি.ডি ছাত্রছাত্রীদের সকালে ফি নেয়া হয় না

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান: আমাদের টেলিসেন্টারের সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন তথ্যসেবা, সবার জন্য কম্পিউটার শিক্ষা, স্বাস্থ্য শিক্ষা, কম্পিউটার শিখানো।

চ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা
কম্পিউটার
প্রিন্টার
ভিডিও সিডি ১৭
বিভিন্ন বোর্ড
ম্যাপ
পশু পাখির চার্ট
আলমারি
টেবিল
চেয়ার ২১ ২১
প্লাস্টিক পাটি
পেপার স্টান্ড
র‌্যাক
বেঞ্চ
ট্রয় লাইব্রেরি
বাগাডলি
ট্রাঙ্ক
ঘন্টা
ব্যানার
রড লাইট
ভ্যানগাড়ি

ছ. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ
পাঠাগারে কোন ইন্টারনেট সংযোগ নেই

জ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি
আমার ছেলেবেলা, ঘরে বসে বিশ্ব দেখুন, শিশু পাঠ, আপনার পিসি আপনার বন্ধু, বিজ্ঞান পর্ব-১, সৌর জগত ও পৃথিবী, মানচিত্র, ঠাকুরমার ঝুলি, মীনা কাটুৃন, লায়ন কিং, আমাদের কম্পিউটার ইত্যাদি সিডি রয়েছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান: আমাদের টেলিসেন্টারে বিভিন্ন সামাজিক নাটক, বাউল আব্দুল করিমের কিছু গান, স্বাস্থ্য বিষয়ক ১-৬ সিরিজের বই। এছাড়া বিভিন্ন ম্যাগাজিন এবং গল্পের বই রয়েছে।
মিতরাণী পোদ্দার (মিতু): মোট ১৭টি আছে কিন্তু আমরা ১১টি সিডির নাম সংগ্রহ করতে পেরেছি বাকী সিডিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।


২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি

ক. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা

নাম পদবী কি কাজ করছে?
শেফালী রাণী সরকার কর্মসূচী সংগঠক টেলিসেন্টারটি কিভাবে পরিচালনা হচ্ছে সেগুলো দেখাশোনা করেন। লাইব্রেরির আয়-ব্যায়ের হিসাব রাখেন। যদি কোন কিছু মেরামত করতে হয় তাহলে তিনি ব্রাক থেকে টাকা নিয়ে মেরামত করেন।
মো. আব্দুল কুদ্দুস আইসিটিও হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং কম্পিউটার ট্রেইনার। তাছাড়া হাট বাজারে গ্রামবাসীদের বিভিন্ন ধরণের ভিডিও দেখান ।
প্রণতী রাণী কুন্ডু লাইব্রেরিয়ান অফিস খোলা থেকে শুরু করে অফিসে যাবতীয় কাজ করেন। লাইব্রেরির তত্ত্বাবদান করেন পুরোপুরী ভাবে এবং বাচ্চাদেরকে কম্পিউটার শেখান।
মো: আতিকুর রহমান ডিএমপিএসিই সর্বসাকুল্যে তিনি লাইব্রেরির ভালো মন্দ দেখা শোনা করেন।

খ. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া
মো. আব্দুল কুদ্দুস: জাতীয় পত্রিকায় তিনি ব্রাক গণকেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি দেখে এ কাজের জন্য দরখাস্থ জমা দেন। পরে ইন্টারভিউতে উত্তীর্ণ হন এবং ব্রাক তাকে ব্রাকের গণকেন্দ্রের জন্য নির্বাচিত করেন। এভাবেই তিনি এই টেলিসেন্টারে কাজ করার জন্য আসেন।
প্রণতী কুন্ডু: প্রথমে লাইব্রেরির সার্কুলার দেখান কিন্তু ওনার একমাত্র মেয়ে দেড় বছরের ছিল তাই তিনি ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি । পরবর্তীতে আড়াই বছর পর আবার সার্কুলার দেখেন লাইব্রেরিয়ান পদের জন্য আর ততদিনে ওনার একমাত্র মেয়েও বড় হয়ে যায়। তখন তিনি নির্দ্বিধায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ও পাশ করেন। পরবর্তীতে লাইব্রেরির কমিটি ও ব্রাকের প্রতিনিধিরা তাকে যোগ্য বলে বিবেচনা করেন। এখানে লাইব্রেরিরও কিছু নিয়ম-কানুন আছে। যেমন:- লাইব্রেরিয়ান বিবাহিত হতে হবে, লাইব্রেরিয়ানের বাড়ী স্কুল থেকে ১ কি.মি এর মধ্যে হতে হবে, পড়াশুনায় কমপক্ষে এসএসসি পাশ হতে হবে। এভাবে সব কিছু মিস প্রণীতি কুন্ডুর অনুকহলে ছিল এবং বর্তমানে তিনিই একজন আদর্শ লাইব্রেরিয়ান।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান: আমি এইচ,এস,সি পরীক্ষা দেবার পর টেলিসেন্টারে কম্পিউটার শেখার জন্য ভর্তি হই। কোর্স শেষ করার পর টেলিসেন্টারের কর্মীরা আমাকে তাদের টেলিসেন্টারে কাজ করার জন্য বলে। তারপর থেকে আমি তাদের সাথে কাজ করা শুরু করি।

গ. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ

সময় মো. আব্দুল কুদ্দুস প্রণতী কুন্ডু
সকালে ১. সকালে অফিসে এসে হাজিরা বইতে সই করেন।
২. এরপর ফিল্ডের কাজে বের হয়ে যান।
১. তালা খুলে আগে তিনি জিনিসপত্র দেখেন।
২. ঝাড়ু দেন।
৩.টেবিল-চেয়ার, আলমিরা, কম্পিউটার কাপড় দিয়ে ধূলা বালি ঝেড়ে পরিস্কার করেন।
৪.পাঠকদের রেজিস্ট্রেশনের বইতে পাঠকরা সই করেন।
দুপুরে ১. বিভিন্ন পাঠাগারে গিয়ে তিনি দেখেন কোন পাঠাগারের কম্পিউটারে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা।
২. যদি থাকে তা সমাধান করেন।
১. খাতায় স্বাক্ষর করেন ও ছাত্রদের স্বাক্ষর নেন।
২. কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেন ।
৩. ছাত্রদেরকে পত্রিকা দেন পড়ার জন্য এজন্য বই রেজিস্ট্রেশনে সই করতে হয়।
৪. সদস্য কার্ড, বুক কার্ড- চার জায়গায় ছাত্ররা সই করেন।
বিকেলে ১. বিকাল এবং সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট পর্যন্ত এ সকল পাঠাগারে ঘুরে ঘুরে দেখেন কোন সমস্যা আছে কিনা। ১. বাচ্চাদের কম্পিউটার শেখান।
২. শেফালী দিদির তার সাথে বসে আয় ব্যয়ের হিসাব করেন, ভালো মন্দ গল্প করেন।
৩.বই লেনদেন করে, বাৎসরিক ক্যালেন্ডার-এ তুলতে হয়।
সন্ধায় ১. সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট পর্যন্ত যেহেতু অফিস সময়, তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি ঐ একই কাজ করেন। ১. জানালা দরজা ঠিকমতো বন্ধ করেন, লাইট, ফ্যান কম্পিউটারের সুইচ অফ করেন এবং তালা দিয়ে বাড়ি যান।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান: সকালে অফিসে এসে কোন দিন কাকলী দিদির সাথে ফিল্ডে যাই। আবার কোন দিন সকালে অফিসে এসে কলেজে যাই। কলেজ থেকে এসে দুপুরে কম্পিউটার ক্লাসে সহযোগিতা করি। এভাবে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত টেলিসেন্টারে কাজ করি।

ঘ. সামাজিক প্রতিকূলতা
নতুন সদস্যদের অর্ন্তভুক্ত করতে সমস্যা হয় কিন্তু তিনি দক্ষতার সহিত নবায়ন করে থাকেন প্রতি বছর।
পাঠক আসে না। পরীক্ষার পর কিংবা স্কুলের শেষে পাঠক কম আসে।
বেতন সমস্যা। ভবিষ্যতে বাড়তে পারে কিন্তু অনুদানের উপর নির্ভরশীল যদি অনুদান আসে কিংবা সদস্য সংখ্যা বাড়ে তাহলে বেতন বাড়তে পারে।
সামাজিক বিশ্বাস- ওনার উপর যথেষ্ট পরিমাণ আস্থা আছে। অন্য কোন এন জিও এখানে সমস্যা করেনা। তাছাড়া ধর্মীয় বাঁধা নেই বললেই চলে।

ঙ. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার
না তিনি কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করেননি। কারণ ওখানে কোন ইন্টারনেট সংযোগ নেই।

চ. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান
না, কোন অনলাইন (ইমেইল কিংবা ব্লগ) গ্রুপের সদস্য নন।

ছ. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে
মো. আব্দুল কুদ্দুস: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স শেষ করার পর কিছু দিন বেকার হয়ে বসে থাকেন। একদিন পর তার ছোট ভাইয়ের পত্রিকায় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে তাকে সবাই দরখাস্থ দেয়ার জন্য বলে। কিন্তু তার একটাই কথা তিনি এই চাকুরী করবেন না। পরে ছোট ভাইয়েরা তাকে অনেক বুঝায়। কয়েক দিন ভেবে চিন্তে তিনি রাজি হন এবং দরখাস্থ জমা দেন। এরপর ইন্টারভিউতে তিনি উত্তীর্ণ হন এবং কাজে যোগদান করেন। মূলত ছোট ভাইদের উৎসাহে তিনি এই কাজে যোগদান করেন। পরিবার থেকেও তিনি অনেক উৎসাহ পেয়েছেন। পূর্বে কিছুদিন রকসি ফুড কোম্পানিতে কাজ করেন এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কিছু দিন স্ক্যান সিমেন্ট এ ব্র্যান্ড প্রোমোটর হিসেবে রাজশাহীতে কাজ করেন।
প্রণতী কুন্ডু: বেশির ভাগ সময় ছেলে মেয়েদের সাথে কথা বলে তিনি আনন্দ পান। লাইব্রেরিতে বসে পত্রিকা পড়েন, ঘরে থাকলে পত্রিকা পড়া হতোনা। বাচ্চারা মাঝে মধ্যে ভালোবেসে কলম দেয়, এমনকি তারা কখনও কখনও পেপারের বিলও দিয়ে দেয় যখন বুঝতে পারে যে কোন রকম অর্থনৈতিক সমস্যা হচ্ছে। সবার সঙ্গে কথা বলা, টিচারদের সাথে কথা বলা, স্কুল ও লাইব্রেরি ভিজিট করতে আসা বিদেশীদের সাথে কথা বলা কিন্তু ঘরে থাকলে তা সম্ভব হতো না। এখানে তিনি কাজ করতে যে আনন্দ পান সেটাই তাকে প্রতিদিন কাজের ক্ষেত্রে সজীব করে রাখে। তিনি পূর্বে কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেননা।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান: আমার সেন্টারে কাজ করার জন্য মূলত আমি আমার পরিবার থেকে উৎসাহ পেয়েছি। আগে যেহেতু অন্য কোন পেশার সাথে যুক্ত ছিলাম না। সে কারণে পরিবার বিশেষ করে মা আমাকে উৎসাহ দিয়েছে।

জ. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মো. আব্দুল কুদ্দুস: তার ইচ্ছা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেশের বাইরে যাওয়া এবং সফটওয়্যারে কাজ করা। এখন তার পরিকল্পনা চাকুরির পাশাপাশি বিএসসি ইনজিনিয়ারিং পড়া শেষ করা ।
প্রণতী কুন্ডু: তিনি আশা রাখেন যে, ভবিষ্যতে লাইব্রেরী আরো ভালো হোক। বেতন বাড়ুক, ইন্টারনেট আসুক, তাছাড়া তিনি লাইব্রেরিয়ান পদমর্যাদার জন্য আরও ভালো ট্রেনিং নিতে আগ্রহী । নিজের একমাত্র মেয়েকে চাকুরির সাথে সাথে যাতে মানুষ করতে পারেন । তার ইচ্ছা লাইব্রেরিতে আরো নতুন নতুন বই আসুক।

ঝ. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন
মো. আব্দুল কুদ্দুস: রাজশাহী জেলাতে যাত্রাগাচী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। বাবা মো. জয়েন উদ্দিন পেশায় কৃষক। মাতা রোকেয়া বেগম পেশায় গৃহিণী। বড় বোন মাস্টার্স পাশ করার পর ব্র্যাকে চাকুরি করেন। ছোট বোন মাস্টার্স পাশ করে মাকে পরিবারের কাজে সহযোগিতা করছেন। মেজ চাচা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মা-বাবা, দুই বোন, এক চাচাকে নিয়ে তার পরিবার।
প্রণতী কুন্ডু: স্বামী প্রশান্ত কুন্ডু - ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মেয়ে পাঁপড়ী কুন্ডু দশম শ্রেণীর এর ছাত্রী। প্রণীতি কুন্ডু নিজের সাংসারিক কর্মকান্ড সকাল ১১টার মধ্যে শেষ করেন এবং নিজে তৈরি হয়ে লাইব্রেরিতে আসেন। স্বামী চলে যায় ভোর ছটায় দোকান খুলার জন্য আর মেয়েও নিজের পড়াশুনা শেষ করে স্কুলে চলে যায়। সংসার ছোট হওয়ায় তিনি সুন্দর ভাবে সবকিছু সামলাতে পারেন।


৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে

ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান
মাদলা এলাকাটি বগুড়ার একটি নীরব গ্রাম। ভেঁপা মাটির মৌমৌ গন্ধ যেন মাতাল করে দেয় আর রাস্তার ধারে পাকা হলুদ ধানের ছড়াছড়ি। জনসংখ্যার দিক থেকে কম হলেও অধিকাংশ লোকই শিক্ষিত ও সচেতন। জনসংখ্যা আনুমানিক ৩০০০ থেকে ৪০০০।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা:
এলাকার ভেজামাটিতে কৃষি কাজ ভাল হয়। অধিকাংশ লোক কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন। অন্যরা ব্যবসায়ী এবং চাকুরি করে জীবন যাপন করেন। কিন্তু তাদের সংখ্যা কম।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো:
এলাকার অবকাঠামো খুবই উন্নত। এখানে রিক্সা কম এবং লোকাল বাস নেই বললেই চলে। প্রধান বাহন সিএনজি। বিদ্যুৎ আছে তবে শহর থেকে অদূরে যারা গরীব- তাদের জন্য বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে। ইন্টারনেট নেই বললেই চলে। যা আছে তাওবা মডেম ব্যবহার করে চলে। রাস্তাঘাট খুবই ভালো, উন্নত, দুই এক জায়গা বৃষ্টি-কাদার জন্য রাস্তা খারাপ। গ্রামের লোকজনের যাতায়াত এর জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হয় না। মাদলা থেকে খুবই নিকটে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের পৈতৃক ভিটা বাঘাবাড়ী।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান:
এলাকায় সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অফিস, উপজেলা অফিস, সরকারী হাসপাতাল, ইউনিয়ন পরিষদ, পোস্ট অফিস, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ইত্যাদি। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেজি স্কুল এবং আশা, ব্র্যাক, টিএমএমএস সহ বিভিন্ন ধরনের ছোটখাট এনজিও এবং স্কুল কলেজ রয়েছে।

ঙ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ:
এখানে ফোন ও ফ্যাক্সের দোকান প্রচুর তবে বগুড়া শহরে সাইবার ক্যাফে নেই বললেই চলে। ডিজিটাল স্টুডিও প্রচুর।

চ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা:
এলাকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে জমিদার তাপস সরকারের একটি রাজবাড়ি রয়েছে। এলাকার বাইরে উল্লেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে মহাস্থানগড়, বেহুলা লক্ষীনদার বাসর ঘর, হযরত শাহ সুলতান (বল্সী) (রা:) এর মাজার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাড়ি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এখানে রামচন্দ্রপুর, রামকৃষ্ণপুর ও মালিপাড়া এ তিনটি গ্রামকে সংযুক্ত করে একটিই মাত্র স্কুল, যা তিন গ্রামের জন্য বিখ্যাত।


৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল

ক. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী

উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ
ভ্রাম্যমান মোবাইল ইউনিট/ পাঠাগার গ্রামের মেয়ে এবং মহিলাদের জন্য বিশেষভাবে ভ্যানে করে ঘন্টা বাজিয়ে গ্রামের ভিতর দুটি স্টেশনে অবস্থান করেন লাইব্রেরিয়ান স্বয়ং নিজে। যাতে করে মেয়েরা ও মহিলারা পিঁছিয়ে না থাকে। প্রতি সপ্তাহে এক দিন। বই, পুরাতন পেপার, ম্যাগাজিন দেয়া হয়।
যুব প্রশিক্ষণ গ্রামের বেকার যুবক যুবতীদের জন্য কম্পিউটার কোর্স ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ যেমন: হাস মুরগী পালন, মাছ চাষ, কৃষি কাজ, সেলাই কাজ, গরু মোটাতাজাকরণ ইত্যাদির ওপর প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ শেষে ঋণ প্রদান করা হয়।
রক্তদান কর্মসূচী/ চক্ষু শিবির যুবকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য রক্ত দান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তাছাড়া বয়স্কদের জন্য চক্ষু শিবির করা হয় ।
শীতবস্থ্র বিতরণ গ্রামের দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
ডিভিডি প্রদর্শন মাঝে মাঝে হাট বাজারে শিক্ষণীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ডকুমেন্টারি ছবি প্রদর্শন করা হয় মাসে একবার।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান: আমার সেন্টার যে সকল কাজ করে:
স্বাস্থ্য শিক্ষা- গ্রামে গ্রামে গিয়ে মহিলাদের বুঝানো হয়,
সবার জন্য কম্পিউটার শিক্ষা- সবার মধ্যে কম্পিউটারের জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়া।
জ্ঞান মেলা- গ্রামে একটা মেলা করা হয়। মেলাতে বিভিন্ন ধরণের স্টল বসে। বিনোদন হিসেবে দাবা, কেরাম, চিত্র অংকন ইত্যাদি আয়োজন করা হয়ে থাকে।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
তহবিল বাড়ানোর জন্য ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বরদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। যদি কখনোও সম্ভব হয় ইউনিয়ন থেকে অনুদান পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে গম অনুদান হিসাবে পায়। একবার ইউনিয়ন পরিষদ গম বিক্রি করে ১২,০০০ টাকা দেয় গণকেন্দ্র পাঠাগারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উপজেলা থেকে মাঝে মাঝে বই পাওয়া যায়। অনেক সময় ধর্মীয় বইও পাওয়া যায়। যুব প্রশিক্ষনের জন্য সরকার ট্রেনিং দিয়ে থাকে। এজন্য ৩০-৪০ জন কে নিয়ে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের সাথে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে হয়।

গ. স্থানীয় সরকার এবং অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:'
স্থানীয় সরকারের অনুদান গ্রহণ হচ্ছে প্রদান কাজ। অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠানে পাঠাগার স্থাপনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা।

ঘ. এলাকার ক্ষুদ্র ব্যসায়ীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা :
এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা টেলিসেন্টার থেকে যুবকের প্রশিক্ষণ করে, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ, হাঁস মুরগী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটারের কাজ করে। এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এ সকল সেবা গ্রহণ করে স্বনির্ভর হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।

ঙ. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা :
এলাকার নারীরা ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার থেকে বই গ্রহণ করে। এজন্য প্রথমে নারীদেরকে ২০ টাকা দিয়ে পাঠাগারের সদস্য হতে হয়। এছাড়াও অনেকে ৭ দিনের ফ্রি ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করে স্বনির্ভরের পথ বেছে নেয়। মহিলাদের হাঁসমুরগি পালন, সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ফ্রি। অনেকে অল্প টাকার বিনিময়ে তিন মাস ব্যাপী যুব প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান:আমার সেন্টার থেকে এলাকার নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এক দিনের জন্য কম্পিউটার ট্রেনিং দেয়া হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা দেয়া হয়, এছাড়া অন্যান্য সেবা তাদের দেয়া হয়।

চ. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
এলাকার শিশু কিশোরেরা গণকেন্দ্র পাঠাগারে বিভিন্ন ধরনের গানের আসর, গল্পের আসর, ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা, কম্পিউটার কোর্সে অংশগ্রহণ করে। এবং এছাড়া বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা আছে গণকেন্দ্র পাঠাগারে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান: আমার সেন্টারে এলাকার শিশু কিশোরদের কম্পিউটার শেখানো হয়। বিনোদনের জন্য দাবা, ক্যারাম খেলতে দেয়া হয়। চিত্রাঙ্কন, গণিত প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি সেবা দিয়ে থাকি।


৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা

ক. দৈনিক কর্মসময়:
গণকেন্দ্র পাঠাগার দৈনিক ছয় ঘন্টা খোলা থাকে। সকাল ১১.০০ থেকে বিকাল ৫.০০ পর্যন্ত।

খ. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন:
টেলিসেন্টারের আয় ব্যয়ের হিসাব দুপুরের খাবারের পর দুজনে বসে (মিস প্রণীতি কুন্ডু ও শেফারী সরকার মল্লিক) এক সঙ্গে করে থাকেন। এছাড়া পাঠাগারের অন্য কোন কাজ ভাগ করে নেয়া হয় না। মিস প্রণীতি একাই সকল কাজ তত্ত্বাবধান করেন।

গ. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা:
প্রথমে দরজা খুলে জিনিসপত্র ঠিকঠাক আছে কিনা ঝাড়ু দেওয়া, আসবাবপত্র মোছা, স্বাক্ষর বইতে স্বাক্ষর করা, লেনদেন বইতে স্বাক্ষর নেয়া, পাঠক রেজিস্টারে স্বাক্ষর নেয়া, সদস্য কার্ড, বুক কার্ডে স্বাক্ষর নেয়া। মোট ২১ টি রেজিস্টার মেইন্টেইন করতে হয়। ছাত্রছাত্রীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেন। বাচ্চাদের খেলার সরঞ্জাম ও ছবি আঁকার সরঞ্জাম বের করে দেন।সব হিসাব বাৎসরিক ক্যালেন্ডারে তোলা ইত্যাদি কাজ করে থাকেন।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ:
নতুন সেবাগ্রহীতাকে সেবাকার্ড দেয়া হয় এবং রেজিস্ট্রারে নিবন্ধন করা হয় এবং তাকে সদস্য বানানো হয়। তার যাবতীয় তথ্য সদস্য নাম্বার হিসাবে রেজিস্ট্রি খাতায় সংরক্ষিত করে রাখা হয়। ছবি তুলে রাখা হয়। লাইব্রেরির সদস্য প্রথমে এসে রেজিস্টার বইতে সই করবে। তারপর তার পছন্দ অনুযায়ী বই পড়বে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান: আমার টেলিসেন্টারে সেবা গ্রহীতাদের তালিকা কম্পিউটারে এন্ট্রি করে রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের কোন ছবি তুলে রাখা হয় না।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া: নতুন সিদ্ধান্তের জন্য ব্রাক পাঠাগারের কমিটিকে প্রস্তাব দেয়। কমিটি রাজি হলে তারপর কাজ শুরু হয়।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শেখ সাইদুর রহমান: কোন নতুন কাজের সিদ্ধান্তের জন্য আমার সেন্টারের পরিচালককে জানানো হয়। তারপর পরিচালকের সাথে এবং সেন্টারের ম্যানেজারের সাথে আলোচনা করে সিদ্দান্ত গৃহিত হয়।

চ. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ:
আর্থিক হিসাব রাখার জন্য রেজিস্টার খাতা রয়েছে। বিল ভাউচার, ব্যাংকের চেক বই ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হয়। রেজিস্টার বইতে ব্রাক এবং কমিটি অর্থাৎ ব্রাকের প্রতিনিধি এবং কমিটির প্রতিনিধি স্বাক্ষর করে।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন:
গ্রামের লোকজন এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ভাল সম্মান পেয়ে থাকেন। এটা তাদের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। কিন্তু ব্রাক আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে।

জ. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা:
পাঠাগারের মাত্র একটিই রুম আর সেটা সুন্দর ভাবে সাজানো আছে। তাকের মধ্যে হাজার খানেক বই সুন্দর করে গোছানো। এছাড়া হারমনিয়াম, তবলা সবই আছে। বাচ্চাদের খেলার সরঞ্জাম রাখা আছে ঝুড়ির মধ্যে।দেওয়ালের চারিদিকে মহর্ষীদের পাঠাগার সংক্রান্ত বাণী লেখা আছে- যেমন: যে গৃহে বই নেই, সেই গৃহে আত্মাও নেই- জন হেনরী; বই কিনে কেউ কখনো দেউলিয়া হয়নি- সৈয়দ মুজতবা আলী; বই পাঠ করতে যে ভালবাসে তার শত্রু কম- রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর। এছাড়া অঙ্কন প্রতিযোগিতার কিছু ছবি, বিশ্বের ম্যাপ, পশু-পাখি ও ফল ফলাদির ছবি বাঁধানো আছে দেয়ালে।


৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম

ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয়

সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কম্পিউটারে সম্পর্কে মৌলিক ধারণা পাচ্ছে এবং পরিচালনা করতে পারছে।
যুব প্রশিক্ষণ যুব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিজেরা স্বাবলম্বি হতে পারছে।
নারী সেলাই প্রশিক্ষণ সেলাই শিখে নারীরা ঘরে বসে আয় করতে পারছে।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শিশুদের মধ্যেকার প্রতিভার চর্চা হয়।
ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার নারীরা যাতে পিছিয়ে না থাকে সেজন্য আলাদা ভাবে তাদেরকে গুরুত্ব দেয়া হয়।
ডিভিডি প্রদর্শন গ্রামবাসীদের যাতে স্বাস্থ্য. শিক্ষা, আইন বিষয়ে সচেতন হয় সেজন্য তাদেরকে ডকুমেন্টরি ফিল্ম দেখানো হয়।
শীতকালীন কেন্দ্র বিতরণ দুস্থ গ্রামবাসীদের জন্য শীতকালীন বস্ত্র দেয়া হয়।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা:
স্বাস্থ্য বিষয়ক যেমন: এইডস বিষয়ক বই, স্যানিটেশন প্রভৃতির উপর বই চায় গ্রামবাসীরা কিন্তু পাঠাগার থেকে দেয়া হয় না।


৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়

ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো:
লাইব্রেরিয়ান অসুস্থ থাকলে নোটিশ বোর্ডে নোটিশ দিয়ে লাইব্রেরী বন্ধ রাখা হয়। লাইব্রেরিয়ান ট্রেনিং নিতে গেল ব্রাকের নিয়ম অনুসারে লাইব্রেরি বন্ধ রাখে, তাতে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতি হয়। এছাড়াও স্থানীয় জনসাধারণের সম্পৃক্ততা কম। ম্যানেজিং কমিটির আন্তরিকতার অভাব এবং জনসাধারণের পাঠাগার সম্পর্কে অসচেতনতা- ইত্যাদি।

খ. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্যা:
লাইব্রেরির কোন কারিগরী সমস্যা হলে মিস শেফালীকে জানান। প্রথমে মৌখিক ও পরবর্তীতে লিখিত ভাবে জানান হয়। তখন মিস শেফালী ব্রাক থেকে টাকা নিয়ে ঠিক করে দেন।

গ. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা:
কম্পিউটারে আরো দক্ষতার অভাব। নতুন বই ও লেখদের সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। লাইব্রেরিয়ানকে ট্রেনিং গ্রহণ করতে হবে। যেহেতু তিনি একা সে কারণে দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুক্ষীন হতে হয়।

ঘ. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে:'
কম্পিউটারের ট্রেনিং ও লাইব্রেরিয়ান ট্রেনিং এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব। লাইব্রেরিয়ান যেহেতু একা সব কাজ করেন সেক্ষেত্রে তার একজন সহযোগী হলে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা দূর করা যাবে।


৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয় -ব্যয়

ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে):
গড়ে মাসে ১৫০-১৮০ জন। আবার কখনো কখনো ৮০ থেকে ৯০ জন সেবা গ্রহণ করে থাকে।

খ. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে:
টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ৮০ ভাগ লোক জানে

গ. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে:
এলাকার জনগণের উদ্যোগ ছাড়া পাঠাগারটি তৈরী করা সম্ভব হতো না।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা)
আসবাবপত্র ৩৫০০০
কম্পিউটার ২৫০০০
বই ১০০,০০০
লাইব্রেরিয়ারেনর স্যালারি ৬৫০
পেপার বিল ১৮৩
বিদ্যুৎ বিল ১৩৪
স্টেশনারি ৬২

ঙ. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল:
ব্রাক অনুদান এবং কমিউনিটি।

চ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ:
কোন ধরণের ঋণ গ্রহণ করা হয়নি।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা)
মাসিক বেতন লাইব্রেরীয়ানদের ৬৫০
বিদ্যুৎ বিল ১৩৪
পেপার বিল ২০৫
স্টেশনারী ৬২
কম্পিউটার খাতে খরচ ২০০

জ. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা)
ব্যাংক ইন্টারেস্ট ১,৮৬০
নতুন সদস্যের ফি ৬২
কম্পিউটার থেকে আয় ৪,০০০
ভ্যান থেকে আয় ৫০০


৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা

উপকারভোগীর নাম: মো. শামিম জায়দার
পিতা: গণি জায়দার
শামিম জায়দার এর গ্রাম বাদলা, পোষ্ট অফিস মাদলা, উপজেলা শাহাজানপুর, জেলা বগুড়া। মৎস্য চাষ করে তিনি উপকৃত হয়েছেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। যে কারণে পরিবারকে সে সহযোগিতা করতে পারছে।

উপকার ভোগীর নাম: মিস প্রণীতি কুন্ডু
মিস প্রণীতি কুন্ডু স্বয়ং নিজেই পাঠাগার থেকে উপকৃত হয়েছেন। প্রণীতি কুন্ডুর ছিলেন চার বোন আর পাঁচ ভাই। বাবা মা বড় সংসার। বাবা তামাক ব্যবসায়ী, রংপুর থেকে নিয়ে এসে তামাক ব্যবসা করতেন। এসএসসি পর্যন্ত পড়াশুনা করার পর স্বামীর বাড়ী চলে আসেন, সেখানেও স্বামীর নয় ভাই, তিনবোন আর বাবা মা নিয়ে বড় সংসার। প্রণীতির স্বামী হলেন ভাইদের মধ্যে চার নম্বর। যদিও বিয়ের পরে সকলেই আরাদা আলাদা থাকেন। স্বামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সকাল ছয়টায় দোকান খোলেন। প্রণীতি কুন্ডুর একমাত্র মেয়ের বয়স যখন দেড় বছর তখন মনে হয় তিনি যদি চাকুরি করেতেন তাহলে সংসারের উপকার হত। নিজের খরচ চালাতেন, দেবর ননদদেরও কিছু কিনে দিতে পারেন। তখন বিজ্ঞপ্তি দেখে চাকুরির জন্য পরীক্ষা দেন, পরে নির্বাচিত হলে লাইব্রেরিয়ান ট্রেনিং নিতে সাত দিনের জন্য ময়মনসিংহ টার্ক এ যান। তখন জীবনে প্রথম একা বাইরে থাকেন। বেতন ভাতা যদি একটু বাড়ে তাহলে তার জীবনে আরও স্বচ্ছলতা আসতো।