কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/বাতিঘর-ই-তথ্যকেন্দ্র

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বাতিঘর-ই-তথ্যকেন্দ্র সিংগাইর, মানিকগঞ্জ পরিদর্শনের তারিখ: ০৮ অক্টোবর ২০০৯ থকে ১১ অক্টোবর ২০০৯ যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন

মো.হাফিজুর রহমান (বাবু) নাবিক পল্লীতথ্য কেন্দ্র ফুলছড়ি, গাইবান্ধা শাহজাহান আলী বিপাশ বিটিএন রিসোর্স সেন্টার, ঝিনাইদহ ঝিনাইদহ মো. এখলাছুর রহমান কালিকাপুর দরিদ্র কল্যাণ সংস্থা পল্লীতথ্য কেন্দ্র হবিগজ্ঞ তছলিম বিশ্বাস বাতিঘর-ই-তথ্যকেন্দ্র সিংগাইর, মানিকগঞ্জ

১. টেলিসেন্টার পরিচিতি

K. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ: ১লা ডিসেম্বর ২০০৮ ইং L. যেভাবে শুরু হয়েছিল: জানালা বাংলাদেশ, বি আই আই ডি পর্যবেক্ষনে জানতে পারে এই অঞ্চলের বেশির ভাগ লোক কৃষক এবং প্রবাসী। তখন তাদের মূল্যবান তথ্য কৃষক এবং প্রবাসীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য এই উদ্দোগ নেন। উক্ত তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের পর ধীরে ধীরে এটি এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠে এবং আস্থার সৃষ্টি হয়। একইসাথে তথ্যকেন্দ্রের ম্যানেজার তসলিম বিশ্বাস তার দক্ষ কাজের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করেন। পরিদর্শনকারীর মতামত মো.হাফিজুর রহমান: এলাকায় টেলিসেন্টারটি ‘বাতিঘর’ নামে পরিচিত হলেও এর অফিসিয়াল নাম ‘বাতিঘর-ই-তথ্যকেন্দ্র’। সেই সাথে অত্র প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ফোনের গ্রামীণ ফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার (জিপিসিআইসি), যদিও জিপিসিআইসি হিসেবে এই সেন্টারের তেমন পরিচিতি নেই। M. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল: বাতিঘর-ই-তথ্য কেন্দ্রটি জানালা বাংলাদেশ এবং বি আই আই ডি এর গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টারের এর যৌথ উদ্দ্যোগে শুরু হয়েছিল। তথ্যকেন্দ্রটিতে জানালা বাংলাদেশ বিশেষ ভূমিকা রাখে। মূলত বিআইআইডি ও জানালা বাংলাদেশ এই সেন্টারটির স্থাপনা থেকে শুরু করে যাবতীয় হিসাব নিকাশ, আয়-ব্যয়ের ধারণা, নতুন ব্যবসায়ের সম্ভাবনা প্রভৃতি বিষয়ে দেখাশোনা করে থাকে। N. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন: এই অঞ্চলের বেশিরভাগ লোক কৃষক এবং অল্প শিক্ষিত। তাদের বিভিন্ন তথ্য ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিতে তথ্যকেন্দ্রের গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া এই অঞ্চলের অনেকই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের সাথে কথাবার্তা বলা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠানো, পাসপোর্ট পাঠানো ইত্যাদির জন্য তথ্যকেন্দ্রের প্রয়োজন খুবই বেশি। বাতিঘর-ই-তথ্যকেন্দ্রটি বায়রা বাজারে অবস্থিত। এই বায়রা বাজারে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার লোক ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আসে। এছাড়া এর পাশ দিয়ে চলে গেছে একটি সড়ক যা দিয়ে প্রচুর লোক যাতায়াত করে। বায়রায় এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন স্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কিন্ডার গার্টেন। স্কুল, কলেজের প্রচুর ছাত্র-ছাত্রীরা এই তথ্যকেন্দ্রে বিভিন্ন তথ্য ও ছবি তোলার জন্য আসে। এইসব কারণেই মূলত জানালা বাংলাদেশ ও বি আই আই ডি এবং সি আই সি স্থানটি নির্বাচন করেন। O. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা কম্পিউটার (মনিটরসহ) ৩ ফটো প্রিন্টার ১ ডকুমেন্ট প্রিন্টার ১ ওয়েবক্যাম ১ হেডফোন ও পাবলিক ফোন ৩ সাউন্ড বক্স ১ ইউপিএস ৩ স্ক্যানার ১ জিপি মডেম ১ ইনফো সেন্টার (কিয়স্ক) ১ লেমিনেটিং মেশিন ১ জেনারেটর ১ ডিজিটাল ক্যামেরা ১ সিলিং ফ্যান ৩

P. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ: টেলিসেন্টারে জিপি মডেমে এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ নেয়া হয়েছে। Q. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি: টেলিসেন্টারে টার্চ স্কীন কম্পিউটারে কিছু তথ্য আছে। কৃষকরা যেসকল সমস্যা নিয়ে এসেছে এবং যে সমাধান দেয়া হয়েছে সেগুলো তারা অফলাইন তথ্য হিসেবে সংরক্ষণ করে রেখেছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত যেসব কৃষি সমস্যার সমাধান কৃষি বিষিয়ক ওয়েবসাইট গুলো থেকে পাওয়া যায় না সেগুলো বিআইআইডি থেকে ইমেইলে সেন্টারে পাঠানো হয়। এই তথ্য গুলোও সেন্টারের কম্পিউটারে জমা থাকে। ২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি K. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা নাম পদবী কি কাজ করছে? তছলিম বিশ্বাস ল্যাব ম্যানেজার/সেন্টার ম্যানেজার সেন্টারের সার্বিক পরিচালনা, তথ্য সংগ্রহ, রিপোর্ট তৈরি, আয় ব্যয়ের হিসাব রাখা ইত্যাদি। এ.কে.এম.রোকন উদ্দিন কম্পিউটার প্রশিক্ষক কম্পিউটার ট্রেনিং প্রদান ও কম্পিউটার কম্পোজ জীবন খান বাবু এসিস্ট্যান্ট অফিস ঘর পরিস্কার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ আনা। এখানে ওখানে যোগাযোগ ও ছবি উঠানোর কাজ। পরিদর্শনকারীর মতামত মো.হাফিজুর রহমান: অন্তত: একজন নারী কর্মী থাকা দরকার।

L. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া  মো. তসলিম বিশ্বাস: পিতা- মৃত মজিদ বিশ্বাস, গ্রাম- বাড্ডা বায়রা, সিংগাইর, মানিকগঞ্জ। তিনি বিএ পাশ করার পর ঢাকার ফুজিকালার ল্যাবে ফটো এডিটিং এর কাজ করতন। বি আই আই ডি যখন বাতিঘর স্থাপনের উদ্যোগ নেয় তখন তসলিম বিশ্বাস তার এক ভাই এর মাধ্যমে জানতে পেরে যোগাযোগ করেন। বি আই আই ডি যেরকম কর্মী চাচ্ছিল যেমন কম্পিউটারে দক্ষ, হ্যান্ডসাম, এলাকায় পরিচিত, শিক্ষিত মোটামুটি তার সব গুণ তসলিম বিশ্বাসের মধ্যে ছিল। যার কারণে তাকে বাতিঘর-ই তথ্যকেন্দ্রের জন্য নিবার্চন করা হয়।  এ.কে.এম রোকন উদ্দিন: পিতা-মৃত এ. কে. এম হেলাল উদ্দিন, মাতা-মোছা: আলেয়া বেগম, গ্রাম-ছোট কালিয়াকৈর, ইউপি-বনধারা, ডাকঘর- প্রি কালিয়াকৈর, জেলা-মানিকগঞ্জ। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে ৬ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। অত্র টেলিসেন্টার ’বাতিঘরে’ কলেজ প্রভাষক জনাব মো: আলী নাসেরের যোগ দেয়ার কথা থাকলেও তিনি দেননি। তখন তিনি বাতিঘরের ল্যাব ম্যানেজার বা সেন্টার ম্যানেজার মো: তসলিম বিশ্বাসকে উক্ত পদে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান এবং কম্পিউটার ট্রেইনারের কাজ করবেন বলে নিশ্চয়তা দেন। এই নিশ্চয়তা ও আগ্রহের ভিত্তিতে অত্র টেলিসেন্টারের ম্যানেজার এ কে এম রোকন উদ্দিনকে পার্ট টাইম কম্পিউটার ট্রেইনার হিসেবে নির্বাচিত করেন।  জীবন খাঁন বাবু : পিতা- মৃত শরীফ খাঁন, মাতা- সোহাগী বেগম, গ্রাম- চারাভাঙ্গা, ডাকঘর- বায়রা, উপজেলা- সিংগাইর, জেলা- মানিকগঞ্জ। জীবন খাঁন বাবুর বড় ভাই উক্ত টেলিসেন্টার থেকে কম্পিউটার শিখেছিলেন। তখন তথ্যকেন্দ্রের ম্যানেজার তছলিম বিশ্বাস বড় ভাইয়ের কাছে একজন সৎ, দক্ষ, কম্পিউটার দক্ষ লোকের কথা বলেন। বড় ভাই তাকে জানালে তাতে সম্মতি জানান। এর পূর্বে তিনি ঢাকায় একটি কোম্পানীতে চাকুরী করেছিলেন। M. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ সময় মো. তসলিম বিশ্বাস এ.কে.এম রোকন উদ্দিন জীবন খাঁন বাবু সকালে ১. প্রথমে এসে অফিস খোলা এবং অফিস পরিষ্কার করা ২. গতদিনের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা ১. ২ জনকে কম্পিউটার শেখান (এমএস ওয়ার্ড) এবং প্রয়োজন হলে কম্পিউটার টাইপ করেন। ১. সকাল আটটায় তথ্য কেন্দ্রটি খুলে পরিস্কার করে। ২. রেজিষ্টার খাতা প্রস্ত্তত করে। দুপুরে ১. প্রতিদিনের ধারাবাহিক কাজ করা ২. দুপুরের খাবার খেতে যাওয়া। ১. ২ জনকে কম্পিউটার শেখান (এমএস ওয়ার্ড) এবং প্রয়োজন হলে কম্পিউটার টাইপ করেন। ১. দুপুর প্রায় দুইটার দিকে খাওয়ার জন্য হোটেলে যায়। ২. খাওয়া শেষে আবার তথ্যকেন্দ্রে আসে। বিকেলে ১. ধারাবাহিক কাজ করা। যখন যে কাজ তার হাতে থাকে সেই কাজ করা। ২. কৃষকদের সাথে মাঝে মাঝে বৈঠক করা। ১. পার্ট টাইম কম্পিউটার ট্রেইনার হেতু কোন কাজ করেন না।

সন্ধায় ১. ধারাবাহিক কাজ করা। ২. রাত আটটার সময় অফিস বন্ধ করা। ১. পার্ট টাইম কম্পিউটার ট্রেইনার হেতু কোন কাজ করেন না। ১. যাবতীয় হিসাব এন্ট্রি করে


N. সামাজিক প্রতিকূলতা • কম্পিউটারের সংখ্যা কম। • অফিস ব্যবস্থাপনা নেই। • প্রশিক্ষণার্থীদের কম্পিউটার শেখানোটাই একটা চ্যালেঞ্জ। • জেলা শহরে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে চায়। • বিদ্যুৎ প্রায়ই থাকে না।

O. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন www.ruralinfobd.com কৃষি বিষয়ক তথ্য আছে www.facebook.com সামাজিক যোগাযোগ বিষয়ক ওয়েবসাইট www.ridro.com গান ডাউনলোড করা হয় www.janala.com কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য আছে www.bdjobs.com চাকুরীর জন্য www.gpic.org গ্রামীণফোন তথ্য কেন্দ্রের জন্য www.forms.gov.com সরকারী ফরমের জন্য www.cellbazar.com ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য www.biid.org.bd ই-কৃষক বিষয়ক তথ্যের জন্য www.prothomalo.com প্রথম আলো পত্রিকার জন্য www.ittefaq.com ইত্তেফাক পত্রিকার জন্য www.education.com শিক্ষামূলক তথ্য www.sarch3.com বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য P. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান মো. তসলিম বিশ্বাস ও এ. কে. এম রোকন বিভিন্ন ব্লগের সদস্য। যেমন: Gmail, My Space, yahoo.com, facebook.com, Hagged.com, amadermanikgonj। বাবু কোন ইমেইল কিংবা ব্লগ গ্রুপের সদস্য নন। Q. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে  এ.কে.এম রোকন উদ্দিন: ছোট বেলা থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কম্পিউটার বই পড়ে নিজের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় এই পেশায় উৎসাহিত হয়েছেন। সেই সাথে মেজ বোন হোসনে আরা বেগম কম্পিউটার শিখতে আগ্রহী করে তুলেছে। ছোট বোন সুইটি আক্তার ডিভি - ১৯৯৭তে আমেরিকাতে যায়। বর্তমানে সে আমেরিকায় মেডিকেলের ছাত্রী। এই দৃষ্টিকোণ থেকেও তিনি এই পেশায় আগ্রহী হয়েছেন। পূর্বে পেশা ভিত্তিক কোন কাজ করে নাই। তবে বেশ কিছু দিন ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়েছেন।  জীবন খাঁন বাবু: এই কাজে নিয়োজিত হওয়ার পূর্বে উনি ঢাকায় একটি কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। পরে দেখতে পেলেন এখান থেকে অনেক কৃষক বিভিন্ন তথ্য নিয়ে উপকৃত হচ্ছে। তাই সে মানুষের উপকার করা ও সেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে এই কাজ করতে আগ্রহী হন। পরিদর্শনকারীর মতামত মো.হাফিজুর রহমান: কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও এ কাজে তিনি (এ. কে. এম রোকন) এগিয়ে এসেছেন। অটল বিশ্বাস ও আগ্রহ মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যায়। ইনিই তার প্রমাণ। R. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা  মো. তসলিম বিশ্বাস: সেন্টারে মাটি পরীক্ষার যন্ত্র সংযুক্ত করা, একটি আলাদা করে সাইবার ক্যাফে তৈরি, আরো আধুনিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ইনফোসেন্টার বা টার্চস্কীন কম্পিউটারে আরো স্থানীয় তথ্য আপ লোড করা এবং নিজেকে কম্পিউটারে প্রশিক্ষিত করা।  এ.কে.এম রোকন উদ্দিন: ইংরেজিতে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠত হওয়া। পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করা। কম্পিউটারে পারদর্শী হওয়া। এক সময় তিনি অবশ্যই আমেরিকায় যাবেন।  জীবন খাঁন বাবু: সাইবার ক্যাফে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, মহিলাদের কাজের ব্যবস্থা করা, ব্যক্তিগভাবে অন্যান্য জায়গায় টেলিসেন্টার করা। পরিদর্শনকারীর মতামত মো.হাফিজুর রহমান: এ.কে.এম রোকন উদ্দিন কম্পিউটার বিষয়ে হ্যান্ডবুক তৈরি করেছেন। তার সবচেয়ে কষ্টের জায়গা-তার আয় খুব কম। কিন্তু তার গর্ব তিনি একজন প্রশিক্ষক। S. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন:  মো. তসলিম বিশ্বাস: পিতা- মৃত আ.মজিদ বিশ্বাস, গ্রাম- বাড্ডা, বায়রা, সিগাইর, মানিকগঞ্জ। তার বয়স ২৬ বছর। তিনি বাতিঘর ই তথ্যকেন্দ্রের সেন্টার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চার ভাই এর মধ্যে সবার ছোট। বড় ভাই শাহিন বিশ্বাস ঢাকায় ব্যবসা করেন। দ্বিতীয় ভাই শামিম বিশ্বাস মালয়েশিয়া থাকেন। তৃতীয় ভাই মামুন বিশ্বাস স্থানীয় ব্যবসা করেন। অন্য সব ভাই বিবাহিত। কিন্তু তসলিম এখনো বিয়ে করেনি। এস এস সি ১৯৯৮, এইচ এস সি ২০০১ পাস করেন। তেজগাও কলেজ থেকে বিএ দেন। তিনি খুব কাজ ভক্ত এবং মিশুক। ভাল ও ভদ্র ছেলে হিসেবে এলাকায় পরিচিত।  জীবন খাঁন বাবু: পিতা- মৃত শরীফ খাঁন, মাতা সোহাগী বেগম, গ্রাম- চারভাঙ্গা, ডাকঘর- বায়রা, উপজেলা- সিংগাইর, জেলা- মানিকগঞ্জ। দুইভাই। কোন বোন নেই। দরিদ্রতার জন্য বেশি লেখা পড়া করতে পারেনি। তার ছোট ভাই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে।

৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে

K. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান: মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার ১নং বায়রা ইউনিয়নের বায়রা বাজারে বাতিঘর-ই-তথ্য কেন্দ্রটির অবস্থান। বায়রা ইউনিয়নের মোট আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কি.মি। এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ২২,৩৭৩ জন। L. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা: বাংলাদেশের যেকোন গ্রামাঞ্চলের মত এখানকারও ৮০% মানুষ কৃষক। এখানকার প্রধান শস্য আখ, সরিষা, ধান, পাট, আলু, ভুট্টা, সবজী। এছাড়াও ঐ অঞ্চলের অনেকই প্রবাসী এবং স্থানীয়রা পোল্ট্রি চাষ, মৎস্য চাষ, ব্যবসা ইত্যাদি করে থাকে। পরিদর্শনকারীর মতামত মো.হাফিজুর রহমান: তবে অনেক কৃষক সহপেশা হিসাবে ব্যবসাকে বেছে নিয়েছে। পাশাপাশি তারা অন্যান্য কাজের সাথে জড়িত। M. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো: ইউনিয়নের প্রায় পাঁচটি গ্রামে বিদ্যুৎ সুবিধা আছে। অত্র টেলিসেন্টারই এক মাত্র ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। ইউনিয়নের প্রায় ৫ কি.মি পাকা ও প্রায় ২৫ কি.মি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। তবে গ্রামের অধিকাংশ রাস্তা কাঁচা হলেও যথেষ্ট ভাল। N. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান: এলাকায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তহসিল অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্র্যাক, গ্রামীন ব্যাংক, আশা, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ আছে। পরিদর্শনকারীর মতামত মো. এখলাছুর রহমান: মূলত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে ঐ তথ্য কেন্দ্রটিতে ছাত্রছাত্রীরা প্রচুর ছবি উঠানোর জন্য আসে। O. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ: এলাকায় টেলিসেন্টার ছা্ড়াও গ্রামীণ ফোন এর সিআইসি রয়েছে। বিভিন্ন ফোন ফ্যাক্সের দোকান, ডিজিটাল স্টুডিও ইত্যাদি রয়েছে। কিন্তু কোন সাইবার ক্যাফে নাই। P. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা: এই অঞ্চলের নওধা গামের পারিল অঞ্চলে রয়েছে ইব্রাহীম একরামুল হক বাগদাদী (র.) এর মাজার। এছাড়া রফিক নগরে রয়েছে শহীদ রফিক স্মৃতি জাদুঘর ও পাবলিক গ্রন্থাগার। ঐ অঞ্চলের ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে ধলেশ্বরী নদী। এছাড়াও বায়রায় রয়েছে বিশাল বড় একটি বাজার। পার্শ্ববর্তী সাটুরিয়া উপজেলার ‘বালীহাকি জমিদার বাড়ি’ উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। বায়রা গ্রামেই রয়েছে বিখ্যাত জর্জ বাড়ি। বাড়িটি বর্তমানে তহসিল অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল K. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ ই-কৃষক ক্যাম্প এ পর্যন্ত দুইটি কৃষি ক্যাম্প করেছেন। একটি সৌরভ গ্রামে এবং অন্যটি নয়াবাড়ি গ্রামে। ক্যাম্প দুইটিতে গড়ে উপস্থিত ছিল প্রায় ১৫০ জন। মোবাইলে মেসেজের শুভেচ্ছা www.wadja.com থেকে মোবাইলে ফ্রি মেসেজ পাঠানোর সুবিধা আছে। এলাকার নির্ধারিত কিছু ব্যাক্তিকে মেসেজ পাঠনো হয়। উঠান বৈঠক কৃষকদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উঠান বৈঠক করা হয় যেখানে কৃষকদের সেন্টার থেকে কৃষি সমস্যার সমাধান নেয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়। ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যক্তিগত পর্যায়ে যখন যার সাথে দেখা হয় তখনই সেবা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে থাকেন। পরিদর্শনকারীর মতামত মো.হাফিজুর রহমান: ব্যক্তিগত যোগাযোগই তার মূল অস্ত্র। প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণের জন্য মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট, উঠান বৈঠক এ সেন্টারের সফলতা আনবে বলে আমি মনে করি। তবে ব্যক্তিগত যোগাযোগটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করে উদ্বুদ্ধকরণ কাজ করা যেতে পারে। L. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা: সরকারী প্রতিষ্ঠান এনজিও এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে তেমন কোন সম্পৃক্ততা নেই। তবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন বলে তারা পরামর্শের জন্য যেমন ঋণ গ্রহণ, স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় তথা ইত্যাদির জন্য আসেন। এছাড়া ব্র্যাক কম্পোজের কাজ করে থাকে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও তথ্য ও ছবি তোলার কাজ করে থাকে। M. এলাকার ক্ষুদ্র ব্যসায়ীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা : এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এলাকার টেলিসেন্টার থেকে শুধু ছবি তোলা, ফ্লেক্সি লোড এবং কিছু কম্পিউটার কম্পোজ এর কাজ করে। N. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা : ছবি তোলা, মোবাইল ফোন করা, ছবি লেমিনেটিং করা, মার্কসিট ও সার্টিফিকেট লেমিনেটিং করা, বিদেশে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কথা বলা, কম্পোজ সেবা গ্রহণ করা, হেল্পলাইনে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করা। O. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা: শিশুরা ইনফোসেন্টারে কম্পিউটার গেমস খেলতে আসে।

৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা K. দৈনিক কর্মসময় L. প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে শুক্রবার সকাল আটটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত খোলা থাকে। বিদ্যুৎ না থাকলে সন্ধ্যা/রাতে বন্ধ থাকে। M. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন: অত্র সেন্টারে তিনজন কর্মীর পূর্ব নির্ধারিত দায়িত্ব বন্টন রয়েছে। N. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ: টেলিসেন্টার সেবা গ্রহিতাদের তালিকা রেজিস্টার ভুক্ত করা হয়। একটি খাতায় গ্রহিতাদের নাম লেখা হয় এবং কত টাকা পরিশোধ করা হল তা লেখা হয়। O. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া: টেলিসেন্টারে দৈনন্দিন ও নতুন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত সেন্টার ম্যানেজারেই নিয়ে থাকে। P. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ: প্রতিদিন একটি খাতায় সেখানে গ্রহিতার নাম ও টাকার পরিমাণ লেখা হয়। Q. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা: টেলিসেন্টারটি বেশ ভাল ভাবে সাজিয়েছে। টেলিসেন্টারটির মূলত রুম একটি। একটি রুমকে পার্টিশন দিয়ে আলাদা আলাদা কাজ করে থাকে। তবে স্টুডিওর রুমটি আলাদা। রুমের এক পাশে অফিস এবং ওয়েটিং রুম, অন্য এক পাশে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া হয় । ছবি উঠানো হয় আলাদা একটি রুমে ।

৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম K. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে মন্তব্য কৃষি ও অন্যান্য তথ্য কৃষকদের। তাদের সমস্যার কথা জানার পর। হ্যাঁ, বিশেষ করে পরামর্শ প্রিন্ট দিয়ে নেবার পর। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ছাত্র ছাত্রীদের। প্রতিদিন সিডিউল অনুযায়ী। ২ মাসে ২০০০ টাকা। ছবি তোলা, ইমেইল এবং বিদেশে কথা বলা ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষদের। সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ৪ কপি পার্সপোট সাইজ ছবি- ৬০টাকা। ছবি তোলা বাবদ একটু বেশি নেয়া হয়। লার্নিং গেম ছাত্রছাত্রীদের। যে কোন সময় অফিস সময় না। পরীক্ষার ফল, সিভি পূরণ, সিডি বাছাই ছাত্রছাত্রী, সকলের জন্য উন্মুক্ত। সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। হ্যাঁ, কাজ বুঝে। মোবাইল সার্ভিস মোবাইলের যন্ত্রাংশ বিক্রয় শিক্ষক, কৃষক, ছাত্র, ব্যবসায়ী। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ফি নেয়া হয়। ফি নির্ভর করে কাজের ধরনের ওপর। এ সেবার কাস্টমার খুব কম। এ বাজারে এ সেবা প্রদানের অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফ্লেক্সি লোড মোবাইল ব্যবহারকারী, কৃষক, ছাত্র, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সরকারী কর্মচারী। প্রতিদিন সকাল ৮ টা হতে রাত ৮ টা পর্যন্ত। নির্ধারিত ও চাহিদা মোতাবেক। তবে নগদ মূল্যে। এ সেবার কাস্টমার খুব কম। এ বাজারে এ সেবা প্রদানের অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। লেমিনেটিং, স্টেশনারী ছাত্র/ছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী দপ্তরে। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত। ফি নেওয়া হয়। নগদমূল্যে চাহিদার উপর ভিত্তি করে। লেমিনেটিং কাস্টমার রয়েছে। স্টেশনারী সেবাটি উন্নত নয়। সিডি রাইট গান ও রিংটোন ডাউনলোড ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি ছাত্র, বেকার যুবক। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত। ফি নেওয়া হয়। নগদ মূল্যে কাজের ধরনের ওপর নির্ভরশীল। এই সেবার গ্রাহক কম। ওয়াল পেপার (রিং টোন ওয়াল পেপার) যারা মোবাইল ব্যবহার করে বিশেষ করে ছাত্র। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। ফি নেওয়া হয়। প্রতি ওয়াল পেপার বাবদ ৫ টাকা। চাহিদা রয়েছে। অনেকেই এ বাজারে এ সার্ভিস প্রদান করে। ইন্টারনেট শিক্ষক, ছাত্র, প্রবাসীর আত্মীয় স্বজন। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত। ফি নেয়া হয়। ঘন্টা প্রতি ৩০ টাকা। এ সেবার জনপ্রিয়তা বেশি। তবে কাস্টমার সৃষ্টি করতে হবে।

পরিদর্শনকারীর মতামত মো.হাফিজুর রহমান: ডিজিটাল ছবি প্রিন্ট এ কেন্দ্রের প্রধান সেবা এবং ৯০% আয় এই সেবা থেকে হয়। ছবির মান যথেষ্ট ভাল হওয়ায় এ সেবাটি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মো. এখলাছুর রহমান: এছাড়াও উক্ত টেলিসেন্টারে রয়েছে- সেল বাজার, ব্যবহার নির্দেশিকা, ডিজিটাল স্টুডিও, কম্পোজ, প্রিন্টিং, লেমিনেটিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ইন্টারনেট, চাকুরীর তথ্য, খবরের কাগজ ইত্যাদি।

L. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয় সেবার নাম জনগণের লাভ ডিজটাল ছবি প্রিন্ট পছন্দসই ছবি অতি সহজে ও দ্রুত পেয়ে থাকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিজকে যুগোপযোগী করতে হাতের কাছে পাওয়া যায়। দূরে যেতে টাকা খরচ হয়। এখানে যাতায়াত খরচ হয় না পাবলিক ফোন নিরিবিলি পরিবেশে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে ফ্লেক্সি লোড দ্রুত সেবা পায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় না ও নির্ভরতা পায় স্টেশনারী সঠিক মূল্যে মানসম্মত দ্রব্যাদি পায় মোবাইল সার্ভিসিং ভালো গ্যারান্টি পায় ও অধিক সময় সার্ভিস দেয় কম্পিউটার কম্পোজ দূরে গিয়ে আর করতে হয় না। যাতায়াত ব্যয় কম হয় লেমিনেটিং একত্রে অধিক সেবা পায়। ফলে সময় ও খরচ বাঁচে সিডি রাইটিং নিজের চাহিদা মতো সকল তথ্য ভিডিও তথ্য নিতে পারে ইন্টারনেট সার্ভিস উপজেলা বা জেলা সদরে যেতে হয় না। ফলে সময় খরচ যাতায়াত খরচ কমে। সুবিধা পাওয়া যায় কৃষি বিষয়ক সাধারণ তথ্য ও পরামর্শ সেবা সমস্যার সমাধান পায়, নিজের জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। দূরে শহরে বা বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হয় না, খরচ কম।

M. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা: মাটি পরীক্ষা

৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়

K. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো: সেন্টার ম্যানেজার বলেন টেলিসেন্টারের সেবা বৃদ্ধি করা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া সম্ভব নয়। L. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্য: সামান্য কোন সমস্যা হলে ম্যানেজার নিজে সমাধান করেন। যদি বড় ধরনের কোন সমস্যা হয় তাহলে মানিকগঞ্জ শহরে কিংবা ঢাকাতে গিয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়। M. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা: আনুষ্ঠানিকভাবে টেলিসেন্টার পরিচালনার জন্য বি আই আই ডি ও জানালা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কর্মীদের কোন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়নি। হার্ডওয়্যার জনিত অদক্ষতা। ইনফো সেন্টার অপগ্রেড নিজে করতে না পারা। কৃষি বিষয়ে স্বল্প জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা। N. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে: কম্পিউটার, অফিস ব্যবস্থাপনা, হিসাব ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা দরকার।

৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয় K. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে): গড়ে মাসে ৬০০ জন সেবা গ্রহণ করে থাকে L. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে: টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ৫০ ভাগ লোক জানে M. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে: উঠান বৈঠকে অংশগ্রহনের মাধ্যমে সহযোগিতা করে। সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে এমন ব্যক্তিকে সেন্টারে পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেন্টার ম্যানেজারকে আমন্ত্রন জানানো হয়। N. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত পরিমান (টাকা) ইনফোসেন্টার (কিয়স্ক)- একটি ১০০,০০০ কম্পিউটার- তিনটি ৭৫,০০০ প্রিন্টার- দুইটি ১৫,০০০ ডিজিটাল ক্যামেরা- একটি ১১,০০০ স্ক্যানার- একটি ৩,৫০০ জিপি মডেম- একটি ৭,৫০০ ডেকোরেশন বাবদ ৬০,০০০ জামানত বাবদ ২০,০০০ জেনারেটর ১৪,০০০ টেবিল, চেয়ার ও আনুসাঙ্গিক ১০,০০০

O. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল: : জানালা বাংলাদেশ এবং বি আই আই ডি P. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ: টেলিসেন্টার স্থাপনের জন্য কোন আর্থিক ঋণ গ্রহণ করা হয়নি। Q. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

আয়ের খাত মাসিক পরিমান (টাকা) দোকান ঘরভাড়া ১,২০০ সহকারীর ভাতা ১,৮০০ সেন্টার ম্যানেজারের বেতন ৬,০০০ বিদ্যুৎ বিল ৮০০ আপ্যায়ন ২০০ স্টেশনারী ১০০ কম্পিউটার কালি ৫০০ যাতায়াত ১,০০০ অন্যান্য ৪০০

R. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা) ছবি তোলা ও প্রিন্ট ৭,০০০০ বিদেশে কথা বলা ৩,০০০০ রিংটোন, গান লোড ও মোবাইল ২,০০০ ইন্টারনেট ৩,০০০ কম্পিউটার ট্রেনিং ৩,০০০ কম্পিউটার কম্পোজ ৬০০ অন্যান্য ১০০০


৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা

উপকারভোগীর নামঃ মো: আবু তাহের পিতার নাম: মো: হারুন অর রশিদ মাতার নাম: আছিয়া বেগম মো: আবু তাহের এর গ্রাম-চরকৃষ্ণপুর, ইউনিয়ন-কৃষ্ণপুর, উপজেলা ও জেলা-মানিকগঞ্জ। তিনি বায়রা বাজারে ভাইভাই টেলিকম সার্ভিসের মালিক। এই প্রতিষ্ঠানে ফ্লেক্সিলোড মোবাইল সার্ভিস, সিডি রাইট, ফোন ব্যবসা করে থাকেন। সমাজে তিনি সৎ ও আদর্শবান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি। ব্যবসা থেকে তিনি প্রতিমাসে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করেন । অবস্থা ভালো। কৃষি কাজ থেকে তার একটা আয় আছে যা দ্বারা সংসার চলে। তার বাড়িতে মিষ্টি লাউয়ের গাছে লাউ বড় হলে পঁচে যায়। এই সমস্যার সমাধানের জন্য টেলিসেন্টারে এলে সেন্টার ম্যানেজার হেল্পলাইনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করিয়ে একটি ঔষধের নাম ও তার ব্যবহার বিধি জানিয়ে দেন। সেই মোতাবেক মানিকগঞ্জ জেলা সদরে গিয়ে ঔষধ এনে প্রয়োগ করেন। ফলে তার গাছের মিষ্টি লাউ পঁচা বন্ধ হয়ে যায়। ঔষধ প্রয়োগের ফলে কোন মিষ্টি লাউ পঁচে নাই। লাউ গাছের সকল লাউ বড় হয়। ফলে লাউ খেয়ে কাঁচা বাজার ক্রয় করতে হয় নাই। এলাকাবাসীর মাঝে বন্টন করেছে। বিক্রি করেছে। সে নিজে ও সেই সাথে অন্যরাও উপকৃত হয়েছে। উপকারভোগীর গল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ছবি ‘‘বাতিঘর ই-তথ্য কেন্দ্রে’’ রয়েছে।

উপকারভোগীর নাম : আমানউল্লাহ আমানউল্লাহর গ্রাম- চরজামালপুর, বায়রা, মানিকগঞ্জ। তার অনেক বড় একটি বাউকুল বাগান আছে। বাউকুল গাছের ফুল আসার সময় ফুল গাছের পাতায় এক রকম পোকায় আক্রমণ করে। পাতা কুঁকড়িয়ে যাচ্ছিল। ফুল মরে যাচ্ছিল। এরপর একদিন তথ্যকেন্দ্রে এসে জানানোর পর তথ্যকর্মী বাবু খান ক্যামেরা সহ তার বাগানের ছবি তুলে নিয়ে বি আই আই ডি এর গবেষকদের কাছে সমস্যার কথা জানান। তারা উত্তর দিয়ে পাঠায়, তথ্যকেন্দ্রে এরপর সেটা প্রিন্ট করে আমানউল্লাহকে দেয়। আমানউল্লাহ জমিতে ঔষধ প্রয়োগ করে ফল পায়। তার জমি থেকে প্রায় এক লাখ টাকার বাউকুল পায়। আমান এই তথ্যসেবা নিয়ে খুব খুশি।