কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/বাগমনিরাম এস. কে. সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সিএলপি সেন্টার

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বাগমনিরাম এস. কে. সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কম্পিউটার লারনিং সেন্টার (সিএলপি) দামপাড়া, চট্টগ্রাম পরিদর্শনের তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০০৯ থকে ৩১ অক্টোবর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন শাহনেওয়াজ মল্লিক (সেলিম) ঢেউ পল্লীতথ্য কেন্দ্র বাসাইল, টাংগাইল যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন মোহাম্মদ বদিউল আলম বাগমনিরাম এস, কে, সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সিএলপি সেন্টার সিনিয়র সহকারী শিক্ষক দামপাড়া, চট্টগ্রাম

১. পরিচিতি K. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ: ২৬ এপ্রিল ২০০৯। L. যেভাবে শুরু হয়েছিল: কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেন আমেরিকা প্রবাসী ড. মনোয়ারা বেগম। তিনি বাগমনিরাম এস, কে বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী। প্রবাসে থেকে তিনি চিন্তা করলেন যে, বর্তমান বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তির দিক থেকে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা তাদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছি। তাই তিনি ডি.নেট এর কারিগরী সহযোগিতায় সিএলপি প্রকল্পের মাধ্যমে এই টেলিসেন্টারটি স্থাপন করেন। এখানে প্রথমে একটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার ও ইন্টারনেট সংযোগ চালু করে কম্পিউটার ল্যাবটির সূচনা করেন। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: কেন্দ্রটি যদিও একজনের ঐকান্তিক ইচ্ছার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে সরকারী ও বেসরকারী ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোগে এটি তথ্যসেবার একটি মডেলে পরিণত হয়েছে বলে আমি মনে করি। মোহাম্মদ বদিউল আলম: সেন্টারের পরিবেশ খুব ভালো। যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হলে শিক্ষার্থীদেরকে আইটি জ্ঞানার্জনে সহায়তা করবে। M. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল: বাগমনিরাম এস.কে.সিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি স্কুল হওয়া সত্ত্বেও এই স্কুলটিতে কোন কম্পিউটার ল্যাব ছিলনা। স্কুলটি যখন চট্টগ্রামের অন্যান্য স্কুল থেকে তথ্যপ্রযুক্তিগত দিক থেকে পিছিয়ে তখনই চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান ডা. মনোয়ারা বেগম তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি ডি.নেট নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যারা সারা বাংলাদেশেই প্রতিটি জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন তাদের কারিগরী সহযোগিতায় বাগমনিরাম এস.কে.সিটি বালিকা বিদ্যালয়ে একটি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপ করেন। ডি.নেটের সিএলপি প্রকল্পের অধীনে এবং দুইজন প্রশিক্ষকের সহযোগিতায় এই বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা আজ কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির উপর দক্ষ হয়ে বের হচ্ছে। N. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন: বাগমনিরাম এস, কে বিদ্যালয়টি সিটি কর্পোরেশনের অধীনে হলেও এটি একটি অবহেলিত স্কুল। এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রীরা বেশির ভাগই বর্তমান সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সন্তান। ছাত্রীদের অভিভাবকরা তাদের পড়ালেখার পাশাপাশি তাদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিতে পারে না, অন্যান্য ধনী পিতামাতাদের মত তারা তাদের সন্তানদেরকে কম্পিউটার কিনে দিতে পারেন না। তাই স্বাভাবিক ভাবেই উক্ত স্কুলের ছাত্রীরা তথ্যপ্রযুক্তি গত দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। এই সকল দিক বিবেচনা করেই এই স্থানে উক্ত টেলিসেন্টারটি স্থাপন করার জন্য নির্বাচন করা হয়।

পরিদর্শনকারীর মতামত  শাহনেওয়াজ মল্লিক: কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণরত ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, তারা আগে কখনো কম্পিউটার ব্যবহার জানতো না। এমনকি কেউ কেউ কম্পিউটার কি এই জিনিসটাই জানতো না। এখন তারা কম্পিউটারের মাধ্যমে দেশের অনেক ভাল ভাল স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারে এবং কম্পিউটার তাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি বিনোদনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।  মোহাম্মদ বদিউল আলম: বাগমনিরাম এস, কে, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সিএলপি এর জন্য তিনটি জিনিসি খুবই দরকারী, তা হলো: সেন্টারের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইন্টারনটে এর মান। O. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে মন্তব্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ স্কুলের ছাত্রীদের বিদ্যালয় পাঠদান কার্যক্রমের পূর্বে ও পরে (সকাল ৯.০০ টা হতে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত প্রতি ব্যাচে ৮ জন করে) কোন প্রকার ফি নেওয়া হয় না। প্রশিক্ষন মডিউলের জন্য ১২০ টাকা নেয়া হয়। ইন্টারনেট প্রশিক্ষণ স্কুলের ছাত্রীদের বিদ্যালয় পাঠদান কার্যক্রমের পূর্বে ও পরে কোন প্রকার ফি নেওয়া হয় না। পরীক্ষার ফলাফল স্কুলের ছাত্রীদের বিদ্যালয় পাঠদান কার্যক্রমের পূর্বে ও পরে কোন প্রকার ফি নেওয়া হয় না। অফিস প্যাকেজ কোর্স প্রশিক্ষণ স্কুলের ছাত্রীদের বিদ্যালয় পাঠদান কার্যক্রমের পূর্বে ও পরে কোন প্রকার ফি নেওয়া হয় না। ইন্টারনেট ব্রাউজিং স্কুলের ছাত্রী শিক্ষক শিক্ষিকা পাঠদান কার্যক্রমের বহির্ভূত সময়ে কোন প্রকার ফি নেওয়া হয় না। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: বাগমনিরাম স্কুলের ছাত্রীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের শেষ পর্যায়ে ছাত্রীদের ইন্টারনেটের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং একজন শিক্ষককে ১০০০ টাকা সম্মানী ভাতা এবং প্রতি ব্যাচের ১ জন শিক্ষার্থীকে ২০০ টাকা প্রদান করা হয়।

P. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা কম্পিউটার ৪ প্রিন্টার ১ ইন্টারনেট মডেম ১ ইউ.পি.এস ৪


Q. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ: টেকনো এইজ মডেম ব্যবহার করা হয়। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: চারটি কম্পিউটারের সাথে চারটি ইউপিএস সংযোগ রয়েছে, তা খুবই ভাল। বিদ্যুৎ চলে গেলে ১০ মিনিট পর্যন্ত কম্পিউটার চালু থাকে। এই সেন্টারে দুইজন প্রশিক্ষক রয়েছেন, তারা সপ্তাহে তিনদিন করে ক্লাস নেন। তবে আমার মনে হয় তাদের দুইজনের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে, যা আমরা তাদের সাথে কথা বলে বুঝলাম। R. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি: জীয়ন তথ্যভান্ডার, বীজগণিতের সিডি, ভ্রমণ দৃশ্যের সিডি। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: টেলিসেন্টারে আরো নতুন নতুন শিক্ষামূলক সিডির প্রয়োজন আছে। শিক্ষা বিষয়ক যেমন (ইংরেজী, রসায়ন, পদার্থ) ইত্যাদি সিডি থাকলে এই স্কুলটিকে ডিজিটাল স্কুলে রূপান্তর করা সম্ভব।




২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি

K. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা নাম পদবী কি কাজ করছে? মো.বদিউল আলম সিনিয়র সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং মইনুদ্দিন সহকারী শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: টেলিসেন্টারটি পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে আমার খুবই ভাল লাগল। তাদের টেকনিক্যাল জ্ঞান মোটামুটি ভাল। তারা যদি হার্ডওয়্যার বিষয়ক আরো প্রশিক্ষণ পায় তাহলে সেন্টারের ছোটখাট সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবেন।

L. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া  জনাব বদিউল আলম: তিনি আইবিএম থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত একজন প্রশিক্ষক। গণিতের শিক্ষক হওয়ায় গর্ভনিং বডি তাকে প্রাথমিকভাবে উক্ত সেন্টারের কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন।  জনাব মইনুদ্দিন: উনিও আগে থেকে কম্পিউটারে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হওয়ায় তাকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচিত করা হয়। পরিদর্শনকারীর মতামত মোহাম্মদ বদিউল আলম: অনেক আগে থেকেই সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করার আগ্রহ ছিল। একইসাথে মানুষের সাথে মেশা এবং তাদেরকে জানার চেষ্টা করি। টেলিসেন্টারের মাধ্যমে এরকম একটি কাজ সম্ভব এবং আইটি জ্ঞানার্জনও সম্ভব।

M. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ সময় বদিউল আলম সকালে ১. কম্পিউটারগুলো সচল আছে কিনা দেখা। ২. ডি.নেট এ ইমেইল করা। ২. কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শুরু করা। দুপুরে ১. টিফিন বিরতীতে ছাত্রীদের অর্জিত জ্ঞানের ভিত্তিতে অনুশীলন কার্যক্রম চালান হয়। বিকেলে ১. কম্পিউটার ল্যাবের সবকিছু যথাযথভাবে আছে কিনা দেখা হয়। তারপর ল্যাব বন্ধ করা হয়।

পরিদর্শনকারীর মতামত  শাহনেওয়াজ মল্লিক: পরিদর্শনকালে আমি্ এইটুকু উপলব্ধি করেছি যে, তাদের কাজ শুরু এবং শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। টেলিসেন্টার পরিচালনার জন্য দৈনিক ও মাসিক কর্মপরিকল্পনা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।  মোহাম্মদ বদিউল আলম: শিক্ষক হিসেবে আমি জানি কিভাবে শিক্ষার্থীদের শেখাতে হয় এবং টেলিসেন্টারে কিভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। টেলিসেন্টার এর কাজগুলোও খুবই মজার। এ কাজ আমাকে দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করবে যা আমার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।

N. সামাজিক প্রতিকূলতা  লোড শেডিং  সিটি কর্পোরেশন, শিক্ষাবোর্ড এবং ডি.নেট এর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় না থাকায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ধীরগতিতে চলে।  শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম্পিউটার শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবনের অভাব।  কারিগরী জ্ঞান না থাকা।  ছাত্রীরা আইটি জ্ঞান পরিপূর্ণ ভাবে অর্জন করতে পারছে না।  হার্ডওয়্যার সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান না থাকা। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: টেলিসেন্টারটি পরিদর্শন কালে বুঝতে পারলাম যে, টেলিসেন্টারটি তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে বাড়তি চাপের মুখে পড়ে। আমার মনে হয় টেলিসেন্টারের কার্যক্রম যদি ডিনেট অফিস এবং সিটি কর্পোরেশনককে বুঝানো যায় তবে তথ্যকর্মীদের উপর হতে চাপ কমবে। মোহাম্মদ বদিউল আলম: সিএলপিতে কারিগরি দিক থেকে অভিজ্ঞ কেউ না থাকায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কিছু প্রতিকহলতার মুখে পড়বে। তাই প্রতিটি টেলিসেন্টারে কারিগরি দিক থেকে অভিজ্ঞ কারো থাকা উচিত।

O. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন সকল পত্রিকার ওয়েব সাইট দৈনিক দেশ বিদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন তথ্য জানার জন্য স্কলার শিপ উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার জন্য ইমিপ্রেশন ইমিপ্রেশন সংক্রান্ত সকল ওয়েব সাইট গুলো পরিদর্শন করা ডি.নেট ডি.নেট এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানার জন্য টেলিসেন্টার নেটওয়ার্ক টেলিসেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানার জন্য শিক্ষা বোর্ড রেজাল্ট ও শিক্ষা বিষয়ক তথ্য জানার জন্য। www.google.com তথ্য খুঁজে বের করতে ব্যবহার করি। skype চ্যাট করার জন্য ব্যবহার করি।

পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: তথ্যকর্মীদের আরো অনেক ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে, তাহলে তারা তথ্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে নতুন নতুন তথ্য পাবেন, তাদের উচিত বাংলাদেশ সরকারের যে সকল ওয়েব ঠিকানা রয়েছে সেগুলো সংগ্রহ করা। এই ঠিকানাগুলো যদি তাদের কাছে থকে তাহলে অনেক সুযোগ সুবিধা টেলিসেন্টারগুলো ভোগ করতে পারবে। জনগণ তাদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাবে। P. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান: সদস্য নন। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: তথ্যকর্মীকে পল্লীতথ্য ব্লগের সদস্য হওয়া উচিত। তাহলে সে প্রতিদিন অনেক নতুন নতুন তথ্য পাবে এবং কোন সমস্যার সম্মুক্ষন হলে ব্লগ থেকে তার সমাধান পেতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস।

Q. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে  বদিউল আলম: তথ্যপ্রযুক্তিগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়া ছাত্রীদের উৎসাহিত করা ও জ্ঞানদানের লক্ষ্যে এই পেশার সাথে উনি যুক্ত হয়েছেন। তাছাড়া শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি আইটি সম্পর্কে নিজের আরো জানার আগ্রহ থেকেই মূলত এই পেশায় যুক্ত হওয়া। পরিদর্শনকারীর মতামত মোহাম্মদ বদিউল আলম: তথ্যকর্মীর আইটি সম্পর্কে জানার আগ্রহ আমাকে অভিভূত করেছে। তিনি ছাত্রীদের শিক্ষাদানের পাশাপাশি নিজেকেও একজন শিক্ষার্থী হিসেবে মনে করেন। তিনি তথ্য প্রযুক্তির প্রতি প্রবল আগ্রহী ও উৎসাহী একজন মানুষ। ভাল লেগেছে তার এই আগ্রহ ও উৎসাহ দেখে।

R. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: টেলিসেন্টারটিতে বর্তমানে চারটি কম্পিউটার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ভবিষ্যতে আরো কিছু কম্পিউটার এনে এটিকে একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাবে রূপান্তরিত করা হবে। টেলিসেন্টার থেকে ছাত্রীদের যত প্রকার তথ্য প্রযুক্তিগত সেবা রয়েছে তা প্রদান করা হবে। ছাত্রীদের আইটি শিক্ষায় অত্যন্ত দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং সিটি কর্পোরেশনের যতগুলো স্কুল আছে তার শিক্ষা প্রধানের সাথে আলোচনা করে প্রতিটি স্কুলে একটি করে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে। বাগমনিরাম স্কুলটিকে একটি ডিজিটাল স্কুল হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। ডি.নেট ও সিটি কর্পোরেশন যদি তাদের টেকনিক্যাল কন্টন্টগুলো বাড়িয়ে দেয় তাহলে এগিয়ে যেতে অনেক সহজ হবে বলে তারা মনে করেন। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে এইটুকু বলতে চাই যে, তথ্যকর্মীর আগ্রহ ও স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব, আর এজন্য দরকার ডি.নেট ও সিটি কর্পোরেশনের সহায়তার হাত। তাহলে উক্ত স্কুলটি একটি ডিজিটাল স্কুলে রূপান্তরিত করা খুব কঠিন হবে না।

S. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন  বদিউল আলম: তিনি ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাজী আবুল খায়ের এবং মাতা লায়লা বেগম। তিনি ১৯৮৭ সালে কৃতিত্বের সাথে এস,এস,সি পাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাশ করেন। তিনি ২০০০ সালে বাগমনিরামপুর এস,কে,বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হন। শিক্ষকতার পাশাপাশি কম্পিউটার এর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন এবং একসময় আইবিএম এর সহযোগিতায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নেন। তিনি ২০০৩ সালের শেষের দিকে বিয়ে করেন, বর্তমানে দুই সন্তানের জনক। তিনি ডি,নেট এর সিএলপি প্রকল্পের একজন তথ্যকর্মী হিসেবে বর্তমানে শিক্ষকতার পাশাপাশি বাগমনিরাম এস,কে,সিটি বালিকা বিদ্যালয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে

K. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান: চট্টগ্রাম শহরের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে বাগমনিরাম ওয়ার্ডের দামপাড়া এলাকাটি। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভূক্ত। এই স্থানটির নাম হচ্ছে ওয়াসা মোড়। L. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা: এলাকার ২০% চাকুররীজীবি, ৫০% বিভিন্ন ছোট বড় ব্যবসায়ী এবং ৩০% শ্রমজীবি ও দিনমজুর। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: টেলিসেন্টারটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে অবস্থিত হওয়ার এই স্থানের সঠিক জনসংখ্যার হিসাব আমরা পাইনি। যেহেতু এলাকার অধিকাংশ লোক ব্যবসায়ী সেহেতু তথ্যকর্মীরা যদি তাদের টেলিসেন্টার এর সেবা সম্পর্কে বুঝাতে সক্ষম হয় তাহলে আমি মনে করি এলাকার জন্য অনেক উপকার হবে। M. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো: সিটি কর্পোরেশনের অর্ন্তভূক্ত হওয়াতে নাগরিক সুযোগ সুবিধা বেশি। বিদ্যুৎ আছে তবে প্রতিদিন দুই ঘন্টার বেশি লোডশেডিং হয়। এলাকাতে বেশ কয়েকটি কম্পিউটারের দোকান আছে। সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: এলাকার জনগণের সাথে আলোচনা করে বুঝতে পারলাম যে, তথ্যপ্রযুক্তি সর্ম্পকে তাদের তেমন ধারণা নেই। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে ব্যবসায়িক কার্যকলাপ যে অনেকাংশে সহজ করা যায় এ কথাটি তথ্যকর্মীদের বাঝাতে হবে। N. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান: সরকারী প্রষ্ঠিানের মধ্যে রয়েছে ওয়াসা, জাতীয় মসজিদ, এম এ আজিজ উদ্দিন স্টেডিয়াম, উচ্চ বিদ্যালয় (দুইটি), বালিকা মহা বিদ্যালয় (একটি), প্রাথমিক বিদ্যালয় (চারটি), সার্কিট হাউজ, পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় ইত্যাদি। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে আবাসিক হোটেল ২০ টি, এনজিও অফিস ২ টি ইত্যাদি। O. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ: এলাকাতে ফোন, ফ্যাক্স, সাইবার ক্যাফে, ডিজিটাল স্টুডিও ইত্যাদি রয়েছে। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: এই টেলিসেন্টারটির মাধ্যমে কোন ব্যবসায়িক চিন্তা করা যাবে না। কেননা এই এলাকায় অনেক এ ধরণের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুধু সেবা প্রদানের কাজটিই অব্যাহত রাখতে হবে। এখান থেকে টেলিসেন্টারের সেবাগুলো নিশ্চিত করা যেতে পারে।

P. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা:  চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ, যেখানে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।  এম, এ আজিজ স্টেডিয়াম, খেলাধুলা ছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই স্টেডিয়াম ব্যবহৃত হয়।  ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট সম্মেলন কদ্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এখানে রয়েছে বিভিন্ন কনসালটেন্ট অফিস এবং আইএলটিএস সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল

K. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ শিক্ষা ক্যাম্প প্রতিমাসে বিদ্যালয়ে প্রতিটি ক্লাসে ছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। মাইক বিভিন্ন ধরণের সেবা প্রচার করার জন্য তারা গ্রামে গ্রামে মাইকিং, লিফলেট, ক্যালেন্ডার বিতরণ করেন। কৃষি ক্যাম্প কৃষি বিষয়ক তথ্যসেবা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয় এবং কৃষকদের সাথে আলোচনা করা হয়। শিক্ষা ক্যাম্প ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে শিক্ষা বিষয়ক আলোচনা, রচনা, কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন, শিক্ষামূলক ভিডিও প্রদর্শন এবং মত বিনিময়। স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থানীয় একজন ডাক্তার দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেন এবং হেল্প লাইনের মাধ্যমে সেবা দেন। আইন ক্যাম্প স্থানীয় নোয়াখালী থেকে তারা একজন আইন বিশেষজ্ঞ এবং এলাকার নির্যাতিত নারীদের নিয়ে আইন ক্যাম্প করা হয়। ব্যানার পোষ্টার, লিফলেট ব্যানার, পোষ্টার ও লিফলেটের সাহায্যে তথ্যকেন্দ্র সম্পর্কে জানানো।

পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: সিটি কর্পোরেশনে যে সকল স্কুল রয়েছে সে সকল স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে যদি ওরিয়েন্টেশন করা যায় তাহলে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি স্কুলে এই রকম আইসিটি ল্যাব স্থাপন করা সম্ভব। L. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা: না, তবে ভবিষ্যৎ ইচ্ছা আছে। M. স্থানীয় সরকার এবং অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা: কোন কাজ নেই। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: টেলিসেন্টারটি যেহেতু চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে সরাসরি কাজ করে সেহেতু সিটি কর্পোরেশনের উচিত সিটির অধীনে প্রতিটি স্কুলে এর সাথে যোগাযোগ সৃষ্টি করে দেয়া, তাহলে সিটি কর্পোরেশনের ৮০% স্কুলে এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়বে। এক্ষেত্রে ডি.নেট ও সিটি কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্ক যদি একসাথে কাজ করে তাহলে প্রতিটি স্কুলকে এক একটি ডিজিটাল স্কুলে রূপান্তর করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। N. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা : এলাকার কোন নারী টেলিসেন্টার থেকে সেবা নিতে আসে না কিন্তু বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের সেবা পেয়ে থাকে; যেমন: কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার ফলাফল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং ইত্যাদি। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: টেলিসেন্টারটি যেহেতু একটি বালিকা বিদ্যালয়ে অবস্থিত সেহেতু ুস্কুলের ছাত্রীদের ছাড়া মূলত অন্য কাউকে সেবা প্রদান করা যায় না।

৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা

K. দৈনিক কর্মসময়: টেলিসেন্টারটি সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। L. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন: দুই জন সপ্তাহে তিন দিন করে কাজ ভাগ করে নেয়। M. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা: টেলিসেন্টার কর্মীদের একটি কাজের পরিকল্পনা প্রধান শিক্ষক হতে করা হয়েছে। তারা প্রাতিষ্ঠানিক তালিকাতেই কাজ করে থাকেন; যেমন: সকালে নয়টা তিরিশ মিনিটে ল্যাব খুলেন, সকল কম্পিউটার সচল আছে কিনা পরীক্ষা করেন এবং তারপর প্রাতিষ্ঠানিক কর্ম পরিকল্পনা মাফিক কাজ করেন। N. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ: টেলিসেন্টার পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গÖ্রহীতাদের কোন তালিকা সংরক্ষিত হয়না। তবে পরিদর্শনকারীদের মন্তব্য ও পরামর্শ লেখার জন্য একটি রেজিস্টর বহি ব্যবহার করা হয়। O. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া: টেলিসেন্টারের দৈনন্দিন এবং নতুন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে নেওয়া হয়। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি টেলিসেন্টার কর্মীদের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া উতি। তাহলে কর্মীদের কাজ করতে সুবিধা হয়। P. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ: টেলিসেন্টারটির আর্থিক হিসাব আলাদাভাবে রাখা হয়না, প্রাতিষ্ঠানিক হিসেবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এখানে দৈনন্দিন কোন আয় হয়না এবং আলাদাভাবে কোন ব্যয় করা হয় না। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: টেলিসেন্টারের আয়ের বিষয়টি এখন থেকেই ভাবা উচিত, প্রশিক্ষকের কাছ থেকে জানতে পারলাম প্রতিমাসে প্রিন্টারের নতুন কালি দরকার হয়, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ প্রিন্ট করে কোন টাকা প্রদান করেন না। যদি এখন থেকে এটা বন্ধ করা না যায় তাহলে টেলিসেন্টার পরিচালনা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। Q. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন: টেলিসেন্টার কর্মীদের আলাদা ভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। যেহেতু এই সেন্টার পরিচালনার পাশাপাশি দু’জনই প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য একাডেমিক দায়িত্ব পালন করেন তাই তাদের মূল্যায়ন প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে করা হয়। তবে ডি.নেট তাদের আলাদাভাবে মূল্যায়ন করেন। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: টেলিসেন্টার কর্মীদের এই কাজের জন্য আলাদাভাবে মূল্যায়ন হওয়া উচিত বলে মনে করি। এ ব্যাপারে ডি.নেট এর এগিয়ে আসা উচিত এবং বিটিএন এ ধরনের কাজে একটি আলাদা মূল্যায়ন নির্দেশিকা তৈরি করতে পারে। R. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা: টেলিসেন্টারটি এক কক্ষ বিশিষ্ট। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও দাপ্তরিক কার্যক্রমগুলো একই রুমে হয়। রুমটিতে চারটি টেবিলে সারিবদ্ধভাবে কম্পিউটার রাখা হয়েছে।


৬. টলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম

K. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয় সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা আগে কখনো কম্পিউটার ব্যবহার কিভাবে করতে হয় তা জানতো না। কিন্তু গত পাঁচ মাসে তারা অনেকে এমএসওয়ার্ড, এক্সেল এর কাজ জানে। এমনকি তাদের অনেকে ফটোশপে ছবির কাজ অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে করতে সক্ষম। ইন্টারনেট ব্রাউজিং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করে বিভিন্ন তথ্য জানা যায়। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: টেলিসেন্টারটিতে যদি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর থাকে এবং শিক্ষামূলক কোন সিডি থাকে তা হলে ছাত্রীদের আরো ভালভাবে প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি তথ্যকর্মীদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ আবশ্যক।

L. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা : • ফটোষ্ট্যাট মেশিন  ডিজিটাল ক্যামেরা  মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর  এলাকার নারী সমাজকে কম্পিউটার শিক্ষায় প্রশিক্ষণ প্রদান  স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন সিডি বা ডিভিডি  নানা ধরনের শিক্ষামূলক ভিডিও ইত্যাদি।

৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়

K. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো: বিদ্যুৎ সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক কিছু বাধ্যবাধকতা, তথ্যকর্মীদের কারিগরী জ্ঞানের স্বল্পতা, তথ্যকর্মীরা এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষমতা, শিক্ষার্থীদের আইটি জ্ঞানের ধারা পুরোপুরি না বুঝা, ছাত্রীদের অভিভাবক কম্পিউটার শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করতে না পারা, কম্পিউটার এর ক্রয়মূল্য বেশি এবং যন্ত্রাংশের কারিগরি জ্ঞানের অভাব, আমাদের দেশে উন্নত কারিগরি প্রশিক্ষণের অভাব, ইন্টারনেট সংযোগ ক্রয় মূল্য বেশি ইত্যাদি। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: সেন্টারটিতে বিকল্প বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা রাখা যেমন:- আইপিএস, জেনারেটর ইত্যাদি। ডি.নেটের সহযোগিতায় তথ্যকর্মীদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ। মূলত হার্ডওয়্যারের প্রশিক্ষণটাই তাদের এখন বেশি দরকার। মোহাম্মদ বদিউল আলম: যারা কম্পিউটার নিয়ে কাজ করেন, নারী পুরুষ উভয়কেই হার্ডওয়ার সমস্যার সমাধান জানা উচিত। তাই প্রত্যেকে যাতে প্রশিক্ষণ পায় সরকারের এরকম উদ্যোগ নেয়া উচিত। L. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্যা: টেলিসেন্টারে কোন কারিগরী সমস্যা হলে টেলিসেন্টার ম্যানেজার নিজে প্রথমে সমাধান করার চেষ্টা করেন। তিনি ব্যর্থ হলে ডি.নেটের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা চেষ্টা করেন ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে। যদি সমাধান না হয় তাহলে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: টেলিসেন্টার ম্যানেজারের কারিগরী কোন ডিগ্রী নেই। এজন্য সবসময় তার পক্ষে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়না। হেল্প লাইনের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক একজন কারিগরী বিষয়ে ডিগ্রীধারী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করা যেতে পারে। মোহাম্মদ বদিউল আলম: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে এ সম্পর্কিত প্রতিটি ক্ষেত্রের উপর জ্ঞান থাকতে হবে। সরকার এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল জ্ঞান সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। M. তেথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা: তাদের প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অন্যতম হলো তাদের কারিগরি দক্ষতা বিশেষ করে কম্পিউটার হর্ডওয়্যার এর উপর কোন ধারনা নেই, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগহণে তথ্যকর্মীদেরকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রদানে অনীহা। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: সেন্টার ম্যানেজার ছাড়া অন্য যারা এই কাজের সাথে জড়িত তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। তাহলে টেলিসেন্টারে কারিগরি কোন বাঁধা থাকবে না। মোহাম্মদ বদিউল আলম: প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরী হতে হবে। N. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে: সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য সবার আগে প্রয়োজন তথ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, বিভাগীয় পর্যায়ে ওয়ার্কশপের আয়োজন করা, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরি জ্ঞানের ব্যবস্থা করা। এছাড়া দক্ষ আইটি কর্মী নিয়োগ করা যেতে পারে। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: এই সেন্টারের তথ্য কর্মীদের অন্য সেন্টারে প্রেরণ করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে বলে আমি মনে করি। মোহাম্মদ বদিউল আলম: সরকারের উচিত এখটি বিভাগ চালু করা যেখান থেকে আইটি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়া যাবে এবং গ্রাম ও শহরের সবাই এই সুবিধা পাবে।

৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয়

K. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে): ৩৫ জন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নেন। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ছাড়া অন্য কোন সেবা প্রদান করা হয়না। L. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে: টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ১০ ভাগ লোক জানে M. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে সহায়তা করে। N. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা) কম্পিউটার ও ল্যাব তৈরী এবং রক্ষনাবেক্ষণ প্রায় ১৮০,০০০ টাকা

আসবাবপত্র প্রায় ১৫,০০০ টাকা

O. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল: ডা. মনোয়ারা বেগম ৪টি কম্পিউটার প্রদান করেন এবং ডি.নেট কারিগরী প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেন। P. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ: কোন ঋণ গ্রহণ করা হয়নি। Q. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা) ইন্টারনেট ১০০০ টাকা অফসেট পেপার ২০ টাকা প্রিন্টারের কালি ২০০ টাকা


R. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা) এসো কম্পিউটার শিখি বই বিক্রি ২৪০ টাকা


পরিদর্শনকারীর মতামত শাহনেওয়াজ মল্লিক: এই টেলিসেন্টারটি বাণিজ্যিক ভাবে চলে না বলে তাদের কোন আয়ের খাত নেই। কিন্তু সেন্টারটি টিকিয়ে রাখার জন্য মাসে কিছু টাকা আয় হওয়া প্রয়োজন। কেননা এক বছর পর ডি.নেট যখন কোন টাকা প্রদান করবে না তখন সেন্টারটি কিভাবে চলবে এ বিষয়টি এখনই ভাবতে হবে।

৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা

উপকারভোগীর নামঃ পাখী আক্তার পাখী আক্তার বাগমনিরাম সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর একজন ছাত্রী। সে সি.এল.পি সেন্টার থেকে ফ্রি প্রশিক্ষণ নেয় এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরকে প্রশিক্ষণ সহায়তা করে বিধায় ডি.নেট থেকে ২০০ টাকা সম্মানী প্রদান করা হয়। সে তার পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য বর্তমানে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষকের কাজ করে থাকে।