কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্ক

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্ক
www.mission2011.net.bd


বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্ক এদেশের টেলিসেন্টার নিয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের একটি সমন্বিত উদ্যোগ। এটি এটি আন্দোলন যার লক্ষ্য হলো সকল নাগরিকের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক টেকসই তথ্য ও জ্ঞানব্যবস্থা বিনির্মাণ। ২০০৭ সালের জানুয়ারী মাসে এ নেটওয়ার্কের প্রতিষ্টা যার বর্তমান সদস্য স্যংখা ৬৪। টেলিসেন্টার নিয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের মধ্যে সমন্বয় ও একে একটি আন্দোলনে রূপ দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্কের জন্ম।

সরকার, বেসরকারী খাত, এনজিও, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উন্নয়ন সহযোগী ও অন্যান্য অংশীদারের আয়োজনে স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিভিন্ন মডেলের তথ্য ও জ্ঞানব্যবস্থা বিনির্মাণ এবং জীবন-জীবিকার নানা তথ্য ও জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রন্তিক মানুষকে দারিদ্র্য উত্তরণে সহায়তা করাই বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্ক এর উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্কের একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায় যে, সারাদেশে বিভিন্ন মডেলের তিন হাজারেরও বেশী টেলিসেন্টার বা তথ্যকেন্দ্র রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে, বিভিন্ন এলাকায় নানামূখী সেবা প্রদানের মাধ্যমে এ কেন্দ্রগুলো জনগণের তথ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শহর-গ্রামের বৈষম্য লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এর ফলে যেমন জনগণের জীবন-জীবিকার মান উন্নয়ন হচ্ছে, তেমনি জীবন-জীবিকার অনেক নতুন সম্ভাবনার দিক উন্মোচন হচ্ছে। এসকল টেলিসেন্টার শুধু তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক সুবিধা জনগণের কাছে নিয়ে যায়নি, সামগ্রিক উন্নয়নে যেমন কৃষি উৎপাদন, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিক্ষার সুযোগ, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সর্বোপরি গ্রামের মানুষের সকল প্রয়োজনে ভূমিকা রাখছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অনেকগুলো সম্ভাবনাময় নতুন সরকারী নীতি ঘোষিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্ল্যেখযোগ্য হলো “তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ”। বাংলাদেশ সরকার তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ ঘোষণার মাধ্যমে জনগণের তথ্যের অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেছে। কিন্তু গ্রামের মানুষের তথ্যে প্রবেশাধিকারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো না থাকায় এ অধ্যাদেশ তার অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছতে যথেষ্ট বেগ পেত। টেলিসেন্টার আন্দোলন এ আন্দোলনের সাথে একটি পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। এছাড়াও সরকার ইতোমধ্যে কমিউনিটি রেডিও অধ্যাদেশ, ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স প্রদান, সরকারীভাবে ওয়েবসাইটে তথ্য উপস্থাপন এবং অনেকগুলো নতুন ই-গভর্নেন্স সেবা সংযুক্তির মাধ্যমে টেলিসেন্টার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি কৃষি ক্লাব, পোষ্ট অফিসেও এ সংক্রান্ত সেবা চালু করার পরিকল্পনা চলছে। ইউএনডিপি বাংলাদেশ, যারা বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্কের মিশন ২০১১- এর প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার, এ ব্যাপারে সরকারের সাথে কাজ করছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় কমিউনিটি ই-সেন্টার স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানদের টেলিসেন্টার স্থাপনে সহযোগিতা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারের বাইরেও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, ইন্টেল, মাইক্রোসফট - এর মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এ কাজে তাদের সম্পৃক্ততার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে টেলিসেন্টার ডট অরগ শুরু থেকেই এ কাজে বাংলাদেশ টেলিসেন্টার নেটওয়ার্কের সাথে কাজ করছে। এভাবে একটি বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বের (Multi-stakeholder Partnership) মাধ্যমে টেলিসেন্টার আন্দোলন এগিয়ে চলছে।

আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সকল মানুষের তথ্যে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের তিন থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে একটি করে টেলিসেন্টার গড়ে তোলা। এক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারী বেসরকারী অবকাঠামো যেমন, ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ডাকঘর, পাঠাগার, এনজিও অফিস, ক্লাব ইত্যাদিকে জ্ঞান সমাজ প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং এ সকল প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক কারিগরী সহায়তা প্রদান করা। এ প্রক্রিয়াকে কার্যকর করার জন্য সরকারী ভাবে অর্থায়ন করার বিষয়টি অতি জরুরী।

দেশের সকল সরকারী ঘোষণা, নীতিমালা, সর্বোপরি সকল নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত তথ্যাদি স্ব-স্ব মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভাবে তুলে ধরা। এক্ষেত্রে এ সকল তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা উচিত।

দেশের সকল সরকারী বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান যাদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রান্তিক জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত, সেগুলোকে বাংলা ভাষায় নিয়মিত ভাবে ওয়েবসাইট ও সিডির মাধ্যমে প্রকাশ করা।

ইন্টারনেটের গতি ও ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কম খরচে এর সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা যাতে দেশের সকল নাগরিকের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়।

প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোস্তরের জনগণের তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক দক্ষতার সৃষ্টি করা একান্ত প্রয়োজন। এ জন্য সরকারী পর্যায়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষণের নিয়মিত ব্যবস্থা চালু করা যাতে করে প্রান্তিক অঞ্চলের উদ্যোগী ও আগ্রহী তরুণ তরুণীরা তথ্য ও জ্ঞান ব্যবস্থাকে পুঁজি করে টেলিসেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে স্বকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।