কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/দিগন্তের ডাক পল্লীতথ্য কেন্দ্র

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

দিগন্তের ডাক পল্লীতথ্য কেন্দ্র চরবাটা, সূবর্ণচর, নোয়াখালী পরিদর্শনের তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০০৯ থকে ৩১ অক্টোবর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন

শাহালা হাবিবি সুন্দরবন আইটি একসেস সেন্টার, হাজী মহসিন রোড, খুলনা মো. তছলিম বিশ্বাস বাতিঘর-ই-তথ্যকেন্দ্র মানিকগঞ্জ নার্গিস পারভীন গউফ পল্লী তথ্যকেন্দ্র পুলের হাট রাজগঞ্জ রোড, যশোর রীতা রানী দে দিগন্তের ডাক পল্লীতথ্য কেন্দ্র মাইজদি, নোয়াখালী

১. টেলিসেন্টার পরিচিতি

K. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ: ২৩ অক্টোবর ২০০৫ইং L. যেভাবে শুরু হয়েছিল: গ্রামে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করার লক্ষ্যে ডি.নেট বাংলাদেশের চারটি জেলায় প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করে। জেলাগুলো হলো বাগেরহাট, নোয়াখালী, নীলফামারী এবং নেত্রকোনা। ডি.নেট এসব এলাকায় এলাকাভিত্তিক জরিপ করে এবং এই এলাকাকে প্রত্যন্ত ও উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে গুরুত্ব দেয়। জরিপে দেখা যায়, এ এলাকার মানুষ আধুনিক প্রযুক্তিগত তথ্যসেবা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। পরবর্তীতে নোয়াখালীর দিগন্তের ডাক এর পরিচালক আবু নাসের (পান্নু) এর সহযোগিতায় নোয়াখালীর চরবাটা ইউনিয়নে সুবর্ণচর গ্রামে এ কেন্দ্রটি চালু হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে বিশেষ সহযোগিতা করেন। একারণে তথ্যকেন্দ্রটি ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে স্থাপন করা হয়। পরিদর্শনকারীর মতামত মো. তছলিম বিশ্বাস: ইউনিয়ন পরিষসদের ভবনে কেন্দ্রটি স্থাপন করায় এর গ্রহণযোগ্যতা বেশি নার্গিস পারভীন: গউফ পল্লীতথ্যকেন্দ্রটি একটি তথ্যমেলার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল M. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল: তথ্যকেন্দ্রটি ডি.নেট এর অর্থায়নে এবং দিগন্তের ডাক-এর আবু নাসের পান্নু, মহমুদুল হক ফয়েজ, তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব খায়রুল আনম সেলিম এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কেন্দ্রটি শুরু হয়েছিল। পরিদর্শনকারীর মতামত মো. তছলিম বিশ্বাস: টেলিসেন্টারটি স্থাপনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিশেষ সহযোগিতার ব্যাপারটি লক্ষ্যনীয় N. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন: নোয়াখালী জেলায় মোট ১৩২টি ইউনিয়ন পরিষদ আছে। তারমধ্যে ডি.নেট চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদে দিগন্তের ডাকের সহযোগিতায় পল্লীতথ্যকেন্দ্রটি স্থাপন করে। শুরতে স্থানীয় সরকারকে এ ব্যাপারে সম্পৃক্ত করা হলে বেশি ফলপ্রসু হবে বলে সবাই ধারণা করেন। এলাকার অধিকাংশ লোক কৃষক। গ্রাম থেকে জেলা শহরের দূরত্ব অনেক, তাই তারা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। গ্রামের নারীরা আধুনিক তথ্য বা পরামর্শ থেকে বঞ্চিত ছিল। মূলত তাদের কাছে তথ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই স্থানে টেলিসেন্টার স্থাপন করা হয়। কেন্দ্রটি শুরু করার সময় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনে করেন যে, কেন্দ্রটি তার ইউনিয়ন পরিষদে হলে জনগণ এটাকে সহজে গ্রহণ করবে এবং সবাই কেন্দ্রটি থেকে সেবা নিতে পারে। O. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা কম্পিউটার ৩টি ক্যামেরা ১টা আইপিএস ১টা ইউপিএস ৩টা প্রিন্টার ১টি লেমিনেটিং মেশিন ১টি ওজন মাপার যন্ত্র ১টি মাটি পরীক্ষার যন্ত্র ১টি স্পিকার ১টি হেড ফোন সিডি


P. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ: টেলিসেন্টারে গ্রামীন ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ আছে। Q. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি: জীয়ন, নারী ও নকশা (বই ও সিডি), ছাত্রী প্রশিক্ষণ (সিডি), নারীর জন্য তথ্য প্রযুক্তি, টেলিসেন্টার সহায়িকা, শিশু শিক্ষা (সিডি), মিনা ও সিসিমপুর কার্টুন (সিডি), সামাজিক সচেতনতামূলক (সিডি) ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন ইত্যাদি বিষয়ে প্রায় ১২০টি সিডি আছে। পরিদর্শনকারীর মতামত মো. তছলিম বিশ্বাস: অফলাইনে তাদেন অনেক তথ্য আছে, যা অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানেই নেই।

২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি K. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা নাম পদবী কি কাজ করছে? মোঃ কামাল উদ্দিন চৌধুরী কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সমন্বয়, জনগণকে সম্পৃক্তকরণ, হিসাব নিকাশ, প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে যোগাযোগ, ই-মেইল, ইন্টারনেট ব্রাউজ, হেল্পলাইনের তত্ত্বাবধান এবং মাসিক প্রতিবেদন প্রস্ত্তত ঝরনা রানী তথ্যকর্মী ও প্রশিক্ষক অফিসে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও তথ্যসেবা প্রদান জয়শ্রী রানী দাস ইনফোলেডি গ্রামে গ্রামে গিয়ে হেল্পলাইনের মাধ্যমে তথ্যসেবা, মাসিক প্রতিবেদন প্রস্ত্তত ও জনগণকে সম্পৃক্তকরণ রফিকুল ইসলাম তথ্যকর্মী জনগণকে সম্পৃক্তকরণ ইয়াসিন মিয়া পাহারাদার পাহারা দেয়া, অতিথিদের দেখাশুনা করা

L. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া  মোঃ কামাল উদ্দিন চৌধুরী: ২০০৫ সালে ডি.নেট এলাকা ভিত্তিক জরিপ করে এই কেন্দ্র স্থাপন করে। পরবর্তীতে ডি.নেট তথ্যকেন্দ্রে একজন তথ্যকর্মী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। কামাল ঐ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে দরখাস্ত করে এবং পরীক্ষা দিয়ে নির্বাচিত হয়। ২০০৫ সালের ২৩ শে অক্টোবর থেকে কামাল এ কেন্দ্রে কাজ করছেন।  জয়শ্রী রানী দাস: তথ্যকেন্দ্র চালুর পর একদিন তথ্যসেবা নিতে আসেন। তখন তার সাথে ডি.নেট-এর রায়হান ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয় এবং তিনি তথ্যকর্মীর কাছে জয়শ্রী সম্পর্কে জেনে তাকে তথ্যকর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য নির্বাচন করেন।  ঝরনা রানী দেবনাথ: তথ্য কেন্দ্র চালু হওয়ার পর তারা বিভিন্ন স্কুল কলেজের নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি দেয়। ঝরনা রানী দেবনাথ এই বিজ্ঞপ্তি দেখে দরখাস্ত করে এবং পরীক্ষা দিয়ে নির্বাচিত হয়ে তথ্য কেন্দ্রে যোগদান করেন। M. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ সময় জয়শ্রী রানী দাস মোঃ কামাল উদ্দিন চৌধুরী ঝরনা রানী দেবনাথ সকালে ১. অফিস খোলা ও পরিষ্কার করা ২. মেইল চেক করা 1. অফিস রুম খুলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেন 2. হাজিরা খাতায় মাঠ পরিদর্শন লিপিবদ্ধ করেন ১. অফিস খোলা ও হাজিরা খাতা মেনটেইন করা ২. মেইল চেক করা এবং প্রশিক্ষণ দেয়া দুপুরে ১. গ্রামে গিয়ে তথ্যসেবা প্রদান ২. মুভমেন্ট রেজিস্ট্রারে লেখা 1. মেইল চেক করা, তথ্য সেবা প্রদান ১. তথ্য সেবা প্রদান বিকেলে ১. সেবা গ্রহীতাকে সেবা দেয়া ২. তাদের তথ্য এন্ট্রি করা 1. প্রতি বৃহস্পতি বার বিকেলে বাচ্চাদের শিক্ষামূলক কার্টুন দেখান 2. অন্য দিন বিকালে গ্রামে যান 3. কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেন ছাত্রছাত্রীদের ১. সেবা গ্রহীতাকে সেবা দেয়া ২. কোন কোন দিন গ্রামে যাওয়া সন্ধায় ১.পুনরায় মেইল দেখা ২. অফিস বন্ধ করা 1. অফিস বন্ধ করে বাড়ীতে ফিরে যান ১. অফিস নিজ দায়িত্বে বন্ধ করা N. সামাজিক প্রতিকূলতা:  তথ্যকর্মী হিসেবে শুরুতে সবাই ভালভাবে গ্রহণ করেনি। তবে তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার জনগণের আস্থা ফিরে আসে;  দূরের গ্রামে মেয়ে কর্মীর একা যেতে সমস্যা হয়। তখন কেন্দ্রের অন্য কাউকে সাথে নিতে হয়;  মেয়েদের কাজ করার ব্যাপারে ধর্মীয় বিভিন্ন কুসংস্কার রয়েছে;  স্বাস্থ্য বিষয়ক কোনো পরামর্শের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী সদর হাসপাতালে যেতে বললে জনগণ খুশী হয় না কারণ, সদর হাসাপাতালের উপর জনগণের আস্থা নেই;  তথ্য গ্রহণের বিনিময়ে টাকা দিতে চায় না। এলাকার মানুষজন বলে টাকা দিব ডাক্তারকে। তারা ঔষধ দিবে কিন্তু তথ্যকেন্দ্র ঔষধ দিবেনা, তাহলে তথ্য দিয়ে কী করব?  কম্পিউটারে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে যন্ত্রের নানা সমস্যা দেখা দিলে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়; O. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন 1. www.bdjobs.com চাকুরীর তথ্য পাওয়ার জন্য 2. www.dvlottery.state.gov ডিভি তথ্য পূরন করার জন্য 3. www.educationboard.gov.bd রেজাল্ট পাওয়ার জন্য 4. www.google.com তথ্য সংগ্রহ করার জন্য 5. www.jeebika.com.bd চাকুরীর তথ্য (গ্রামীণ) 6. www.pallitathya.org বিভিন্ন বিষয়ে তথ্যসেবা দেয়ার জন্য

P. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান: তথ্যকর্মীদের কেউই কোনো ব্লগ কিংবা অনলাইন গ্রুপের সদস্য না Q. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে  জয়শ্রী রানী দাস: এলাকার অনেক মানুষের পোল্ট্রি ব্যবসা যখন ধ্বংসের পথে, তখন তথ্যকেন্দ্রের সেবা তাদের উপকারে আসে। এ ঘটনা তাকে একাজে সম্পৃক্ত থাকতে উৎসাহিত কারে।  ঝরনা রানী দেবনাথ: সে ইন্টারনেট সম্পর্কে আগে তেমন জানত না। কিন্তু এই কেন্দ্রে চাকুরী পাওয়ার পর ইন্টারনেট সম্পর্কে তার ব্যাপক ধারণা হয়েছে। যেহেতু সে মেয়ে তাই গ্রামের সহজ সরল সাধারণ মানুষ তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে উৎসাহ বোধ করে আর এই জন্যই সে এই কাজটি করতে উৎসাহিত হয়েছিল। সাধারণত অন্যান্য পেশায় এত সব জানতে পারতনা সে। কিন্তু এই পেশায় সে বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানতে পারছে। R. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা  জয়শ্রী রানী দাস: শুরুতে তথ্যকেন্দ্র বেশ ভালোভাবে শুরু হলেও এক পর্যায়ে তা আর থাকে না। তবে তার এটি কাটিয়ে ওঠে কেন্দ্রটি ভালভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।  ঝরনা রানী দেবনাথ: তার পরিকল্পনা হলো আরও দক্ষতা অর্জন করে কেন্দ্রটি ভালভাবে চালানো এবং স্বচ্ছল করে গড়ে তোলা।  মোঃ কামাল উদ্দিন চৌধুরী: কেন্দ্র শুরুর প্রথমে অবস্থা্ন ভাল ছিল। কিন্তু এখন সেরকম অবস্থান নেই। তাই তাদের কেন্দ্রটি স্বচ্ছল করতে হবে। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আরো উন্নত করতে হবে। S. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন  জয়শ্রী রানী দাস: তার পিতার নাম চিত্ত রঞ্জন দাস। মায়ের নাম হেনা রানী দাস, তার বাবা নেই, তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড় এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছোট ভাই অনার্সে পড়ে এবং বোন ডিগ্রি পড়ে, মা গৃহিণী। মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারের মেয়ে তিনি।  ঝরনা রানী দেবনাথ: স্বামী: লক্ষণচন্দ্রনাথ। পরিবারের লোকসংখ্যা ৫ জন। তার বিবাহ হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। বিবাহের পরে তিনি ২০০০ সালে মাস্টার্স শেষ করেন এবং বিবাহের তিন বছর পর তার একটি ছেলে হয়েছে। বাচ্চার বয়স যখন ৫ বছর তখন তিনি তথ্যকেন্দ্রে তথ্যকর্মী হিসাবে হাজ শুরু করেন।

৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে K. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান: চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত নোয়াখালী জেলার উপকূলবর্তী উপজেলা সূবর্ণচর। সূবর্ণচরের পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় কেন্দ্রটি অবস্থিত। এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ৩০,০০০ জন। L. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের প্রধান পেশা: এলাকার অধিকাংশ মানুষের পেশা কৃষি। এছাড়া মৎস্য চাষ, গবাদি পশু পালন, হাঁস মুরগীর খামার, হস্তশিল্প প্রভৃতি কাজ করে থাকে। এলাকার নারীরা হাতের কাজ করে থাকেন। M. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো: এটা মূলত উপকূলীয় চর এলাকা। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পাকা। বিদ্যুৎ সংযোগ আছে, তবে লোডশেডিং সমস্যা প্রকট। ইন্টারনেট সংযোগ আছে। N. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান: এলাকায় সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ইত্যাদি। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে উপকূল উন্নয়ন সংস্থা, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা। এছাড়াও গ্রামীণ ব্যাংক, প্রশিকা, আশা সহ বিভিন্ন ধরনের ছোটখাট এনজিও এবং স্কুল কলেজ রয়েছে। O. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ: স্থানীয় বাজারে ফোন ফ্যাক্স এবং ডিজিটাল স্টুডিও এর দোকান আছে। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহালা হাবিবি: ফোন ফ্যাক্সের দোকান এবং স্টুডিওকে টেলিসেন্টারে রূপান্তরে আগ্রহী করা উচিৎ। P. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা: স্টীমারঘাট প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, বয়ারচর, মেঘনার সমুদ্র তট, দক্ষিন চর মজিদ গ্রামে পরিবেশ নজর কাড়ে। বয়ারচর মেঘনায় সমুদ্রতট (রুপালী ইলিশ) পাওয়া যায়। এখানে অনেক বড় একটি মাছের প্রজেক্ট রয়েছে। চারিদিকে নারিকেল গাছ দিয়ে ঘেরা। তাছাড়া এখানে বাদাম, তরমুজ, বিভিন্ন শাক সবজি চাষ করা হয়।

৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল

K. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী: উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ তথ্যমেলা সম্পূর্ণ তথ্যকেন্দ্রটা দিনব্যাপী যেখানে মেলা হয় সেখানে নিয়ে যান অর্থাৎ ভ্রাম্যমান টেলিসেন্টার। বিভিন্ন সিডি দেখানো হয়। মাইক বিভিন্ন ধরণের সেবা প্রচার করার জন্য তারা গ্রামে গ্রামে মাইকিং, লিফলেট, ক্যালেন্ডার বিতরণ করেন। কৃষি ক্যাম্প কৃষি বিষয়ক তথ্যসেবা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয় এবং কৃষকদের সাথে আলোচনা করা হয়। শিক্ষা ক্যাম্প ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে শিক্ষা বিষয়ক আলোচনা, রচনা, কুইজ প্রতিযোগিতা চিত্রাংকন, শিক্ষামূলক ভিডিও প্রদর্শন এবং মত বিনিময়। স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থানীয় একজন ডাক্তার দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেন এবং হেল্প লাইনের মাধ্যমে সেবা দেন। আইন ক্যাম্প স্থানীয় নোয়াখালী থেকে তারা একজন আইন বিশেষজ্ঞ এবং এলাকার নির্যাতিত নারীদের নিয়ে আইন ক্যাম্প করা হয়। ব্যানার পোষ্টার, লিফলেট ব্যানার, পোষ্টার ও লিফলেটের সাহায্যে তথ্যকেন্দ্র সম্পর্কে জানানো। পরিদর্শনকারীর মতামত রীতা রানী: কেন্দ্রের নারী কর্মীরা মেয়েদের গোপনীয়তা রক্ষা করে। L. এলাকার ক্ষুদ্র ব্যসায়ীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা: এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরণের ক্ষুদ্র উদ্যোগ সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ করে। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা উন্নয়ন ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কিভাবে বাজারজাত করা যায় সে সম্পর্কে জানানো হয়। M. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা: এলাকার নারীরা টেলিসেন্টার থেকে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সেবা গ্রহণ করে, ওজন ও উচ্চতা মাপে, হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। মুরগির কোন সমস্যা হলে তারা তথ্য কেন্দ্রে এসে জিয়ন থেকে তাদের সেই সমস্যাটা সম্পর্কে তথ্য নেন এবং অনেক সময় হেল্পলাইনের মাধ্যমে সমাধান দেয়া হয়। N. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা: এলাকার শিশু কিশোররা শিক্ষামূলক কার্টুন যেমন: সিসিমপুর, মীনা প্রভৃতি দেখে। এছাড়া এলাকার শিশুরা ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ করে।

৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা K. দৈনিক কর্মসময়: টেলিসেন্টার সকাল ৯.০০ থেকে ৫.০০ পর্যন্ত খোলা থাকে L. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন: কেন্দ্র ব্যবস্থাপক হিসাব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে এবং অন্যদেরকে মাসিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে দেন। M. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা: সকালে অফিস পরিস্কার করে হাজিরা খাতা লেখা। কম্পিউটারে মেইল চেক করে মুভমেন্ট রেজিস্টার লিখে ফিল্ডে গিয়ে তথ্য সেবা দেয়া, বুলেটিন, জিয়নের ও হেল্পলাইনের মাধ্যমে তথ্য সেবা দেয়া । নতুন সেবাগ্রহীতার নাম অন্তর্ভূক্ত করা এবং প্রতিদিনের যাবতীয় তথ্য ডাটা এন্ট্রি করে এরপর অফিস বন্ধ করে নিজ দায়িত্বে। N. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ: নতুন সেবাগ্রহীতাকে সেবাকার্ড দেয়া হয় এবং রেজিস্ট্রারে নিবন্ধন করা হয় এবং তাকে সদস্য বানানো হয়। তার যাবতীয় তথ্য কম্পিউটারে এন্ট্রি করা হয় এবং পরবর্তীতে গ্রহীতা আবার আসলে তাকে পুরোনো কার্ডের মাধ্যমে সেবা দেয়া হয়। O. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া: মাসিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী দৈনন্দিন কাজের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ত্রৈমাসিক কর্মপরিকল্পনা ও চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু নতুন কাজের ক্ষেত্রে তারা সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেয় কে কিভাবে কাজ করবে। P. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ:সেবা গ্রহীতার রশিদ থেকে প্রতিদিনের আর্থিক হিসাব করা হয়। দৈনিক আর্থিক হিসাব থেকে মাসিক হিসাব তৈরি করা হয় এবং এগুলো এক্সেলে এন্ট্রি করা হয়। Q. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন: টেলিসেন্টার কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয় কাজের দক্ষতা, আন্তরিকতা, উপস্থিতি ও সেবা গ্রহীতার মতামতের উপর ভিত্তি করে। প্রতিষ্ঠান তাদেরকে আর্থিকভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। তবে সমাজের মানুষ তাদের সামাজিকভাবে যথেষ্ট মূল্যায়ন করে থাকে। R. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা: টেলিসেন্টারটিতে দুটি রুম। একটিতে কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, তথ্যসেবা দেয়া, কম্পোজ করা, ভিডিও চিত্র প্রদর্শন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, প্রিন্ট, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেইল ইত্যাদি করা হয়। দ্বিতীয় রুমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ করা হয় এবং লেমিনেটিং করা হয়।

৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম

K. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে জিয়নের মাধ্যমে তথ্যসেবা কৃষক, মৎস্যজীবিদের তথ্য দেয়া হয় প্রতিদিন মৌখিক তথ্য বিনা পয়সা প্রিন্ট নিলে ৩-৪ টাকা/পৃষ্ঠা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রতিদিন ২ মাসের কোর্স ১,৫০০ টাকা হেল্পলাইন (বিশেষজ্ঞ পরামর্শ) কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, নারী ও অন্যান্য প্রতিদিন মোবাইল ২-৫ টাকা/৩মিনিট ইমেইলে প্রিন্ট ৮ টাকা তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তথ্য সেবা সাধারণ মানুষ বিশেষ করে কৃষক, নারী, শিশু ইত্যাদি প্রতিদিন না ইন্টারনেট ভিত্তিক তথ্য সেবা স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, বেকার যুবক, চাকুরীজীবি প্রবাসী ইত্যাদি প্রতিদিন পরীক্ষার ফলাফল ১০ টাকা ই-মেইল করা প্রিন্ট ৮ টাকা ক্যাম্পের মাধ্যমে তথ্য (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ইত্যাদি) সেবা নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ সবাইকে দেয়া হয় না কম্পিউটার কম্পোজ শিক্ষক, চাকুরীজীবি, সাধারণ পেশার মানুষ প্রতিদিন ১০/১৫ টাকা/পৃষ্ঠা মাটি পরীক্ষা কৃষক প্রতিদিন ২৫ টাকা/নমুনা ওজন ও উচ্চতা প্রসূতি মহিলা, শিশু বৃদ্ধ সবাইকে নাম মাত্র মূল্যে এই সেবা দেয়া হয় প্রতিদিন ১ টাকা স্বাস্থ্য ক্যাম্প এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন সেবা দেয় প্রতি ৩ মাসে ১ বার না ভিডিও প্রদর্শন কৃষক, নারী ও শিশুদের বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে ভিডিও দেখানো হয় প্রতিদিন ২ টাকা আইন ক্যাম্প এলাকার নির্যাতিত মানুষদের জন্য নোযাখালী সদর থেকে উকিল এনে আইনী সহায়তা দেয়া হয় প্রতি ৩ মাসে ১ বার না শিক্ষা ক্যাম্প শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক তথ্য নিয়ে এই সেবা দেয় প্রতি ৩ মাসে ১ বার না কম্পোজ সাধারন মানুষকে এই সেবা দেয় প্রতিদিন ১৫ টাকা/পৃষ্ঠা জরুরী তথ্য দুর্যোগের সময় জরুরী তথ্য সকল জনগনের জন্য উন্মুক্ত জরুরী সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সব ধরনের মানুষ এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় বিষয় জানতে পারে প্রতি ৩ মাসে ১ বার না তথ্য মেলা সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীদের মেলার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি জানানো হয় প্রতি ৩ মাসে ১ বার না ডিজিটাল ছবি প্রায় সব ধরণের গ্রামবাসীরা এ সেবা গ্রহণ করে থাকে এখন আর এ সেবা প্রদান করা হয় না পরিদর্শনকারীর মতামত নার্গিস পারভীন: গউফ কেন্দ্রে আমরা ভ্যানে করে সমস্ত যন্ত্রপাতি নিয়ে তরকারি বিক্রি করার মত করে তথ্য বিক্রি করি। মো. তছলিম বিশ্বাস: টেলিসেন্টারটি পরিচালনার জন্য সেবার ফি বাড়ানো উচিত। বর্তমানে যে ফি নেয়া হয় তা এটি পরিচালনার জন্য যথেষ্ট নয়। তাছাড়া এলাকায় আরো অনেক ধরনের তথ্য সেবার চাহিদা রয়েছে। কেন্দ্রের পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি এবং কারিগরি দক্ষতার অভাব রয়েছে। তাদের ডিজিটাল ছবি তোলার ব্যবস্থা আছে কিন্তু ডিজিটাল ক্যামেরা নেই, মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল ক্যামেরার ও ইন্টারনেট মডেমের কাজ চলছে। কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলে স্থানীয়ভাবে ঠিক করার লোক নেই। হেল্পলাইন সেবা বর্তমানে বন্ধ।

L. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয় সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ তথ্য সেবা মোবাইল লেডি বাড়ী বাড়ী সেবা দিয়ে তাদের ফসলের ক্ষতি রোধ করে হেলপলাইন হেল্প লাইনের সাহায্যে ঘবে বসে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবা পায় ভিডিও চিত্র প্রদর্শন বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্টুন, জিয়নের বিভিন্ন সেবা তথ্য ভিডিও দেখে তাদের সচেতনতা বাড়ে তথ্য মেলা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তথ্য ইত্যাদি তথ্য মেলার সাহায্যে জনগণ পায় ভ্রাম্যমান তথ্য কেন্দ্র জনগন তথ্য সম্পর্কে সহজে জানতে পারে বিভিন্ন ক্যাম্প শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন ক্যাম্প ইত্যাদিরর মাধ্যমে জনগন তাদের অসুবিধা পূরণ করতে পারে ই-মেইল গ্রামবাসীরা তাদের কাগজপত্র খুব দ্রুত দেশ বিদেশে পাঠাতে পারে ইন্টারনেট ব্রাউজিং শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট ব্রাউজ এর মাধ্যমে বিশ্ব জ্ঞানভান্ডারে প্রবেশ করে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এলাকার ছাত্র/ছাত্রী কম মূল্যে কম্পিউটার শিখতে পারে কম্পিউটার কম্পোজ কম্পোজের জন্য তথ্য কেন্দ্র না থাকলে তাদের অনেক দূরে এসে সেবা নিতে হত ডিজিটাল ছবি দ্রুত ছবি পেয়ে থাকে লেমিনেটিং এখানে কম মূল্যে লেমিনেটিং করতে পারে ওজন ও উচ্চতা মাপা গর্ভবর্তী নারীদের ওজন মাপা, সাধারন মানুষ ওজন ও উচ্চতা মাপতে পারে মাটি পরীক্ষা কৃষকরা সহজে ইউপির তথ্য কেন্দ্রে মাটি পরীক্ষা করে তার গুনাগুন সম্পর্কে ধারণা পায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিভিন্ন তথ্য সেবা নিয়ে সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান করে বলে জনগণ এগুলোর মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করে

M. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা  ফটোকপি  কালার প্রিন্টার  ইন্টারনেট এর মাধ্যমে ভিসা চেক করা  বিপি ব্লাড প্রেশার মেশিন  নেবুলাইজার মেশিন  ল্যাপটপের মাধ্যমে তথ্যসেবা দেয়া  একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তার প্রয়োজন

৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায় K. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো: টেলিসেন্টার পরিচালনায় অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো আর্থিক অস্বচ্ছলতা। এছাড়া পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাব, লোডশেডিং, ছোট কম্পিউটার ল্যাব ইত্যাদি সমস্যা রয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য কর্মীদের মাঝে কাজের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এছাড়াও কর্মীরা যথেষ্ট দক্ষতার অভাব রয়েছে। পরিদর্শনকারীর মতামত শাহালা হাবিবি: আর্থিক স্বচ্ছলতা হলেই প্রতিবন্ধকতা কাঠানো যাবে এটা ঠিক নয়; সবগুলোর প্রতিই সমান নজর দেয়া উচিৎ। L. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্য : কোন কারিগরী সমস্যা হলে প্রথমে জেলা সদরের দিগন্তের ডাক এর হেড অফিসে এর সাথে মোবাইলে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে ও পরামর্শ নেয়। এভাবে সমাধান না হলে জেলা সদর সেন্টার থেকে কেউ একজন এসে মেরামত করে দিয়ে যায়। M. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা: টেলিসেন্টার কর্মীদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের এর অভাব। তাদের মধ্যে কাজের বন্টন ঠিক নেই। N. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে: সময় ও পরিবেশের চাহিদা উপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। বেতন ভাতা বৃদ্ধি, কর্মীদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা, সঠিকভাবে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা।

৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয় K. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে): গড়ে মাসে ১০০০-১২০০ জন সেবা গ্রহণ করে থাকে L. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে: টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ৮০-৮৫ ভাগ লোক জানে M. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে: কেন্দ্রটি ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত। এলাকার জনগণ এ কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সহায়তা পায়। তথ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। যদি কেন্দ্রে কোন ক্যাম্প হয় তাহলে এলাকার লোকজন তাদের সাহায্য করে। অন্যান্য বিষয়েও জনগণ তাদের সাথে শেয়ার করে। N. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা) কম্পিউটার ৩টা ১০০,০০০ প্রিন্টার ১টা ২,০০০ ক্যামেরা ১টা ১,৭০০ ইন্টারনেট মোবাইল ১,২০০ নোকেয়া মোবাইল সেট ৫,০০০ আইপিএস ১টা ৪,০০০ ইউপিএস ৩টা ৯,০০০ সাউন্ড বক্স ১টা ১,৮০০ রেডিও ১টা ১,২০০ ছবি প্রিন্টার ১,২০০ ওজন মাপার যন্ত্র, মাটি পরীক্ষার মেশিন ১,৫০০ আলমারী, চেয়ার, টেবিল ২০,০০০ ফাইলপত্র, অন্যান্য সামগ্রী, সাইকেল ০০ সাইন বোর্ড+প্রচার খরচ ১০,০০০ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান খরচ ৭,০০০ সর্বমোট ১৬৫,৬০০


O. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল:কর্মকান্ডের শুরুতে ডি.নেট যন্ত্রপাতি বিনিয়োগ করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ তাদের ভবনে দুটি ঘর, আসবাবপত্র ইত্যাদি প্রদান করে। এছাড়া দিগন্তের ডাক এবং তথ্যকর্মীরা নিজেরাও বিনিয়োগ করেছে। P. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ: টেলিসেন্টার স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ করেনি। Q. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা) বিদ্যুৎ বিল ৮০০ ইন্টারনেট বিল ১,০০০ মোবাইল বিল ৫০ চার (৪) জন কর্মীর বেতন ৮,০০০ আপ্যায়ন খরচ ৫০ প্রিন্টারের কালি ৩০০

স্টেশনারী	২০০

কম্পিউটার মেরামত ১,০০০ ইন্টারনেট টাওয়ার ৪,০০০


R. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা) কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ৭০০ ডিভি লটারি ৩,০০০ কম্পিউটার কম্পোজ ১০০-৩০০ হেল্প লাইন ৫০ তথ্য সেবা ২০ ওযন উচ্চতা মাপা ২৫ ই-মেইল ১৫ সরকারী ফরম (প্রিন্ট) ৫ (প্রতি পৃষ্ঠা) সেলাই প্রশিক্ষণ ১,০০০ মাটি পরীক্ষা ৫০

পরিদর্শনকারীর মতামত শাহালা হাবিবি: এখানে ফটোকপি ও ডিজিটাল স্টুডিওর ব্যবস্থা করে সেন্টারে আয় আরও বাড়ানো যেতে পারে।

৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা

উপকারভোগীর নামঃ আব্দুল বারি বাবার নামঃ মৃত মাফুজুল হক মায়ের নামঃ ফাতেমা খাতুন বাবা, মা এবং ৮ ভাইবোনের সংসার তাদের। ভাইবোনের মধ্যে তিনি ৭ম, তার প্রধান পেশা পোল্ট্রি ব্যবসা। এছাড়া তিনি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের উপজেলা প্রতিনিধি। পত্রিকাগুলো হচ্ছে- ভোরের ডাক, বাংলাদেশ সময়, সংবাদ। সামাজিক ভাবে সাংবাদিক হিসেবে তার বেশ পরিচিতি এবং গ্রহণযোগ্যতা আছে। আর্থিকভাবে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। শুরুতে তথ্যকেন্দ্র চালুর আগে এখানে পোল্ট্রি ব্যবসার জন্য কোন তথ্য, চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি পোল্ট্রি ব্যবসার জন্য কোন প্রশিক্ষক বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। তিনি নিজেও কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই অর্থনৈতিক প্রয়োজনে ৫০০টি ১ দিনের বয়লার বাচ্চা দিয়ে পোল্ট্রি খামার শুরু করেন। পোল্ট্রি খামার শুরুর ২০ দিনের মধ্যে খামারে মোরগ-মুরগীর নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। বচ্চাগুলি রোগাক্রান্ত হয় এবং বেশিরভাগ মারা যায়। তিনি অনেক ধরনের চেষ্টা করেও খামারের বাচ্চাগুলি রক্ষা করতে পারেননি। তখন তথ্যকেন্দ্র সম্পর্কে জানতে পারলেন যে, পল্লীতথ্য থেকে উন্নয়ন কর্মকান্ড সংক্রান্ত তথ্য দেয়া হয়। তখন তিনি উদ্ভুদ্ধ হয়ে সেখানে আসেন এবং তথ্যকর্মীর কাছে খামারের পরিচর্যা বা করণীয় সম্পর্কে তথ্য নিয়ে আবার শুরু করেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হন।

নাম: আলাউদ্দিন। পিতা: মো. ঘানিফ গ্রাম: পূর্বচরবাটা, উপজেলা নোয়াখালী। আলাউদ্দিনের বাবা ১০ সদস্যের পরিবার পরিচালনার দায়িত্ব সামলান সামান্য পেইন্টারের কাজ করে। বাবার নিষেধ অমান্য করে ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েছিলেন আলাউদ্দিন। একদিন স্থানীয় আনছার মিয়ার হাট পল্লীতথ্য কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পরেন, মেঘনা মাল্টিপারপাস কোম্পানীতে লোক নিয়োগ করা হবে। দরখাস্ত দেন, এরপর ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পেয়ে যান। বেতন সামান্য হলেও পরিবারের সবাই খুশি। ফলে লেখা পড়ায় এখন বেশ উৎসাহ বোধ করছেন। এই তথ্যকেন্দ্র না হলে তার পক্ষে সম্ভব হত না চাকুরীর সন্ধান করা। হয়তো লেখাপড়ার ইতি টানতে হতো।

নাম: কাজী আব্দুল্লা পিতা: আবুল হোসেন গ্রাম: মধ্যচর বাটা বয়স: ৩৫ বছর/ শিক্ষা ৮ম কাজী আব্দুল্লা কেন্দ্রটি থেকে কৃষি বিষয়ক তথ্য গ্রহণ করেন। তার ধানে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছিল তখন তিনি তথ্যকেন্দ্রে এসে বললে তথ্যকর্মী জয়শ্রী হেল্পলাইনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং ঔষধের নাম লিখে দেন। তিনি এটা কিনে নিয়ে জমিতে দেন এবং তার ধানের পোকার আক্রমণ থেকে মুক্ত হয়। তাকে কষ্ট করে গ্রাম থেকে শহরে আসতে হয়নি। গ্রামে বসেই তথ্যকর্মী তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে। এজন্য তার যাওয়া আসার কোন ভাড়া লাগেনি এবং সে তার ঐ যাওয়া আসার টাকা দিয়ে ঔষধ কিনতে পেরেছিল।