কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/ঢেউ পল্লীতথ্য কেন্দ্র

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ঢেউ পল্লীতথ্য কেন্দ্র বাসাইল, টাঙ্গাইল পরিদর্শনের তারিখ: ০৮ অক্টোবর ২০০৯ থকে ১১ অক্টোবর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন

মো. আ. সালাম (সেন্টার ম্যানেজার) এলাঙ্গী, ঊষা পল্লীতথ্য কেন্দ্র, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ। তাছফিয়া জাহান দিপা সামছউদ্দীন নাহার পল্লীতথ্য কেন্দ্র বৈটপুর, বাগেরহাট মো. জিয়াউর রহমান সুন্দরবন আইটি এক্সেস সেন্টার ৮, হাজী মহসীন রোড, খুলনা। শাহনেওয়াজ মল্লিক (সেলিম) ঢেউ পল্লীতথ্য কেন্দ্র বাসাইল, টাঙ্গাইল

১. টেলিসেন্টার পরিচিতি K. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ: ১লা ফেব্রুয়ারী ২০০৯। L. যেভাবে শুরু হয়েছিল: ঢেউ পল্লীতথ্য কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অফিসার সেলিম ভাইয়ের সাথে ডি.নেট-এর মোশারফ ভাইয়ের আগের থেকেই পরিচয় ছিল। সেই পরিচয় সূত্রে মোশারফ ভাইয়ের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন ডি.নেট পল্লীতথ্য নামে একটি কার্যক্রম বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠা করেছে। তখন তিনি পল্লীতথ্যের কার্যক্রম সর্ম্পকে মোশারফ ভাইয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত জানেন। তারপর সেলিম ভাই তার প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালককে বিষয়টি অবগত করেন। এরপর এ বিষয়ে ডি.নেট এর মাসুদ ভাইয়ের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে শুরু হয় ঢেউ পল্লীতথ্য কেন্দ্রটি। ডি.নেটের মাসুদ ভাই টাঙ্গাইল শহরের বাসাইল গ্রামে আসেন এবং বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন শেষে বাসাইল এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট একটি টিনের ঘর নিয়ে পল্লীতথ্য কার্যক্রমটি বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি করেন। এখানকার মানুষের চাহিদা ও জীবন-যাত্রার মান বিবেচনা করে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। M. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল: ডি.নেট (ডেভেলপমেন্ট বিসার্চ নেটওয়ার্ক) এর উদ্যোগে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত অবলম্বন ২ প্রকল্পের অধীনে এ পল্লীতথ্য কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘ডেভেলপমেন্ট ফর হিউমেন এসিস্ট্যান্ট ওয়ার্ক (ঢেউ)’ পল্লীতথ্য কেন্দ্রটি স্থাপন ও পরিচালনা করছে। N. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন: এই স্থানেটি টেলিসেন্টার স্থাপনের জন্য উপযুক্ত ছিল এবং এলাকার মানুষের চাহিদা ছিল। এই এলাকাটি তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ভালো মনে হয়েছিল। এলাকার মানুষের সামাজিক বৈষ্যম্য দূর করাও ছিল এটি নির্বাচনের অন্যতম একটি কারণ। O. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা ডেস্কটপ কম্পিউটার ১ ল্যাপটপ ১ জেনারেটর ১ মোবাইল ১ পেন ড্রাইভ ১ মডেম ১ প্রিন্টার ১ ডিজিটাল ক্যামেরা ১


P. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ: আছে। গ্রামীণ ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ Q. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি: জীয়ন তথ্যভান্ডার, বিভিন্ন প্রকার সচেতনতামূলক সিডি, সরকারী ফরম, কৃষি বিষয়ক সমস্যার সমাধান সম্পর্কিত এ্যানিমেশন।



২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি

K. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা নাম ঈদবী কি কাজ করছে? আসাদুর রহমান সেন্টার ম্যানেজার সেন্টারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করে এবং অন্যান্য কর্মীদের পরিচালনা করে বিলকিস আক্তার ইনফো লেডি ফিল্ডে তথ্য প্রচার এবং তথ্য দিয়ে থাকে। শাহনেওয়াজ মল্লিক সেলিম প্রোগ্রাম অফিসার প্রোগ্রামটির দেখাশুনার দায়িত্ব পালন করে। আবু রায়হান ট্রেইনার কম্পিউটার ট্রেনিং এর কাজ করে। L. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া  আসাদুর রহমান: ২০০৭ সালে এস.এস.সি পাশ করেন। প্রথম থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য কিছু একটা করার জন্য মনটা ব্যাকুল ছিল। কিন্তু নিজের সীমাবদ্ধতার কারণে সম্ভব হত না। গত বছর জানতে পারলেন বাসাইল থানার হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নত করার জন্য একটা তথ্যকেন্দ্র চালু হচ্ছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ সহজেই দেশ বিদেশের এবং কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ক তথ্য সেবা নাম মাত্র মূল্য দিয়েই পেয়ে যাবে। তার আগে থেকে তিনি কম্পিউটারে অভিজ্ঞ ছিলেন। তাই অনেকটা বিনা মেঘে বৃষ্টির মত হাতের কাছেই পেয়ে গেলেন।যোগ দিলেন পল্লীতথ্য কেন্দ্রের সেন্টার ম্যানেজার হিসেবে।  বিলকিস আক্তার: তিনি প্রথমে সেন্টার ম্যানেজার আসাদুর রহমানের কাছ থেকে জানতে পারেন এখানে একজন তথ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। তখন তিনি বায়োডাটা জমা দেন এবং নিয়োগ পরীক্ষার দিন হাজির হন। নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমেই তিনি নির্বাচিত হন।  আবু রায়হান: কম্পিউটার প্রশিক্ষণে নানাবিধ সস্যায় পড়লে সেন্টার কম্পিউটার প্রশিক্ষকের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রথমে আবু রায়হান আবেদন করেন। ঢেউ পল্লীতথ্য কেন্দ্রের প্রধান ও ফোকাল ব্যক্তি ভাইভার মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেন। সেই থেকে তিনি কাজ করে আসছেন। M. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ সময় আসাদুর রহমান বিলকিস আক্তার আবু রায়হান

সকালে ১. কম্পিউটার অন করে ইমেইলে সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ২. আনুষাঙ্গিক কাজ করেন। ৩. সবাইকে কর্মপরিকল্পনা মাফিক কাজ ভাগ করে দেন। ১. ৯টার সময় অফিসে আসেন। ২. মুভমেন্ট লিখে ফিল্ডে যান। ১. সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করা। ২. ছাত্রদের প্রশিক্ষণ শুরু করা।

দুপুরে ১. কেন্দ্রে কেউ আসলে তাকে সেবা দেন। ১. ১টার দিকে সেক্টরে ফিরে আসেন। ২. বাচ্চাদের পড়ান। বিকেলে তথ্যকর্মী যে সকল তথ্যসেবা দিয়ে আসে সেগুলো লিখে রাখেন ১. বিকেলে নিজেদের প্রস্ত্ততি। জীয়ন দেখা ২. প্রশ্ন যোগাড় ইত্যাদি করে। ১. সকলে কাজ শেষ করা ২. বিকেলের ব্যাচকে প্রশিক্ষণ দেয়া। সন্ধ্যা ১.পাঁচটায় তিনি বাড়ি চলে যান। N. সামাজিক প্রতিকূলতা: প্রথমে মানুষ বিশ্বাস করতে চাইতো না। অন্য এনজিওরা এলাকায় কাজ করে এবং মানুষকে অনেক কিছু ফ্রি দেয় যা মোবাইল লেডির কাজে সমস্যা তৈরি করে। মানুষ তার কাছে অন্য যে সেবাগুলো চায় তা সে দিতে পারে না; যেমন- ওজন মাপা, প্রেসার মাপা, ইত্যাদি। O. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন www.pallitathya.org.bd পল্লীতথ্য সম্পর্কে জানার জন্য www.telecente.org টেলিসেন্টার সম্পর্কে জানার জন্য www.bdjobs.com চাকুরীর খবর জানার জন্য www.jeebika.com চাকুরীর খবর জানার জন্য www.jeeon.com সকল প্রকার তথ্য জানার জন্য www.educationboard.gov.bd পরীক্ষার রেজাল্ট দেখার জন্য P. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান: pallitathya.ning.com, yahoo mail, skype, facebook.com ইত্যাদি। Q. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে  আসাদুর রহমান: তিনি দেখতেন যে এলাকার সাধারণ মানুষ সাধারণ কিছু তথ্যের অভাবে বা না জানার কারণে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। যেগুলো বর্তমানে তারা সরবরাহ করছেন।  বিলকিস আক্তার: তিনি আগে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। সেখানে তার কাজ ছিল ফিল্ডে বিভিন্ন ধরণের সেবা দেওয়া। তাই তিনি যখন এই কাজের কথা শোনেন, তখন তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং বায়োডাটা জমা দেন। এই কার্যক্রমের কথা শুনে তার ভালো লেগেছিল।  আবু রায়হান: তিনি একটি কম্পিউটার কেন্দ্রের সাথে যুক্ত ছিলেন কিন্তু সেখানে মনের তৃপ্তিমত কোন কাজ করতে পারতেন না। দরিদ্র মেধাবীদের জন্য তার কাজ করার অনেক সাধ থাকলেও কোন প্রকার সাধ্য ছিলনা। যখনই তিনি পল্লীতথ্য কেন্দ্রের নিয়োগ পেলেন, তখন আগের চাকুরী ছেড়ে পল্লীতথ্যে এসে যোগ দিলেন। এখন তিনি তার মনের বাসনা পূরণ করছেন পল্লীতথ্যের মাধ্যমে। এখানে আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিশ্রম করে নাম মাত্র একটা চার্জ নেন। এজন্য তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করেন। R. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:  আসাদুর রহমান: আছে। ভবিষ্যৎ এ নিজেই একটা টেলিসেন্টার স্থাপন করবেন।  বিলকিস আক্তার: ভবিষ্যতে তিনি এ প্রতিষ্ঠানে জড়িত থেকে কাজ করতে এবং মানুষকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে চান এটাই তার চাওয়া। দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টাও তিনি করবেন।  আবু রায়হান: হ্যাঁ আছে। ভবিষ্যৎ এ এ তথ্যকেন্দ্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য যতগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তিনি সবগুলোই গ্রহণ করবেন। S. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন:  আসাদুর রহমান: ২ভাই, ২বোন। পিতামাতার সাথেই থাকেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচ,এস,সি পাশ। কম্পিউটার ও মানুষের সেবা করা তার নেশা। খুবই বন্ধু প্রিয়। প্রিয় খাবার ডাল ভাত ও আলু ভর্তা।  বিলকিস আক্তার: তার গ্রামের নাম ভাসাইল। বিলকিস বেগম ৬ ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট। তার বাবা কৃষি কাজ করে আমাদের সংসার চালাত। তিনি যখন ছোট তখন তার লেখাপড়া করার কোন সুযোগ ছিল না। কারণ বাবার সঙ্গে ক্ষেতে কাজ করতে হতো। কাজের ফাকে সুযোগ করে লেখাপড়া চালিয়ে নিতেন। এভাবে তিনি অনেক কষ্ট করে এস.এস. সি পাশ করেন। কিন্তু তার অন্য বোনেরা লেখাপড়া করার সুযোগ পায়নি। তারপর তিনি একটা এন.জি.ও তে চাকুরি করার সুয়োগ পান। চাকুরির পাশাপাশি তিনি এইচ.এস.সি পরীক্ষা দেয়ার চিন্তা করেন। কিন্তু সংসারের অভাব অনাটনে তা আর সম্বভ হয়নি। কিছুদিন পর তার বাবা তার বিয়ে দেন। বিয়ের কিছুদিন পর তার অফিসের প্রজেক্ট শেষ হয়ে যায়, তখন চাকুরিটাও আর থাকেনা। এর পর তিনি ২০০৭ সালে ওয়াশা কম্পানিতে চাকুরি পান, সেখানে ফিল্ড কর্মী হিসেব কাজ করতেন। এরপর কিছুদিন পর তার একটা মেয়ে হয়। তখন তিনি শারীরিক অসুস্থাতার কারনে চাকুরি ছেড়ে দেন। তারপর থেকে তিনি ঘরে বসে দিন কাটাতেন আর ভাবতেন যদি কোন চাকyুরর সুযোগ পেতেন তাহলে বেশ উপকার হত। কারণ স্বামীর আর্থিক অবস্থা ভাল ছিলনা। তখন একটা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারেন ঢেউ পল্লীতথ্য কেন্দ্র একজন তথ্যকর্মী নিবে এবং তিনি দরখাস্ত করেন। কিছুদিন পর তারা নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ডাকে। বিলকিস বেগম সহ একসঙ্গে ১৪ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে থেকে তিনি চাকুরিটা পেয়ে যান। তিনি খুবই ভয়ে ছিলেন যদি চাকুরিটা না হয়। চাকরিটা হওয়ায় তিনি খুবই খুশি। এটা তার আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে সাহায্য করবে। তারপর থেকে এখানে তথ্যকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। ভাল লাগছে কাজ করতে। এরকম একটা পেশা নিয়ে তিনি এই প্রথম কাজ করছেন। এর আগে তিনি এরকম নাম শুনেননি। গ্রামের মানুষের উপকার করতে পারছেন।

৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে K. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান: ঢাকা বিভাগের টাংগাইল জেলার পূর্ব দিকে অসংখ্য নদ-নদী ঘেরা এই বাসাইল থানা। বাসাইল একটি ছোট থানা। যার জনসংখ্যা । এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ১ লক্ষেরও অধিক। L. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা: এই এলাকার ৭০% মানুষের প্রধান পেশা হল কৃষি হলেও তাঁতী ও কামার সম্পদায়ের বেশ বড় জনগোষ্ঠী রয়েছে, এছাড়াও ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবি আছে বেশ কিছু। এসব ব্যবসা কেন্দ্রগুলো এখানে এলাকা ভিত্তিক গড়ে উঠেছে। এখানে শিক্ষিতের হার কম। M. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো: এলাকার অবকাঠামো মোটামুটি ভালো। এখানে বিদ্যুৎ সারাদিন থাকে কিন্তু রাতে থাকে না। ইন্টারনেট সংযোগ আছে ৫/৬টি প্রতিষ্ঠানে কিন্তু ব্যবহার কম। রাস্তাঘাট শহর অঞ্চলে ভালো। গ্রামের দিকে মাটির রাস্তা, বর্ষার দিনে পানি ভরে কাদা হয়ে যায়। যা মানুষজনের চলাচলের জন্য কষ্টসাধ্য। N. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান: এলাকায় সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিন্ডার গার্ডেন ৫টি, কোচিং সেন্টার ২টি, এনজিও ১৫টি, টেলিসেন্টার ৩টি ইত্যাদি আছে। O. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ: ফোন ফ্যাক্সের দোকান আছে ৪০/৫০টার মতো। সাইবার ক্যাফে নেই। ডিজিটাল স্টুডিও ৫/৬টি। P. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা: ঢেউ পল্লীতথ্যের পাশেই অবস্থিত বড় বাড়ি, রায়বাড়ি, জরাশাহী মাজার ইত্যাদি। বড় বাড়ির উল্ল্যেখযোগ্য বিষয় হল এখানে যে বসবাস করত তার নাম ছিল আরশাফ খানশুর। তিনি তখনকার সময়ে এই এলাকার রাজার নায়েব ছিলেন । এই জন্য তিনি সকলের কাছে গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন এবং সকলে তাকে সম্মান করত। জরাশাহী এক জন্য ধর্মপ্রান ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য তার ভক্তরা একটা মাজার তৈরি করে এবং তার নামে এলাকায় একটা স্কুল তৈরি হয়।

৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল

K. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী: উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ আইনি ক্যাম্প, স্বাস্থ্য ক্যাম্প, শিক্ষা ক্যাম্প, কৃষি ক্যাম্প। বিভিন্ন ক্যাম্পের মাধ্যমে মানুষকে তথ্য সেবা তারা দিয়ে থাকে।

মেলা	তথ্য মেলায় তারা মানুষকে তথ্য সেবা দিয়ে থাকে।

ভ্যান মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট ভ্যান মাইকিং এর মাধ্যমে তারা তথ্য প্রচার করে থাকে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন তারা এই কার্যক্রম সম্পর্কে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। স্কুল মিটিং গণ্যমাণ্যদের নিয়ে মিটিং বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সাথে মিটিং করে। এবং গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সাথে মিটিং করে। L. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা : এলাকার নারীরা এই তথ্যকেন্দ্র থেকে অনেক সেবা গ্রহণ করে। তারা কৃষি ও বিভিন্ন প্রকার গাছের সমস্যার সমাধান পান এখান থেকে। তাছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন, মানবাধিকার, বিভিন্ন প্রকার সেলাইয়ের ডিজাইন, ছবি উঠানো ইত্যাদি সেবা নেন। M. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা: এলাকার শিশু কিশোররা এখান থেকে বিভিন্ন প্রকার শিক্ষামূলক ভিডিও, এ্যানিমেশন ও কার্টুন দেখে।

৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা K. দৈনিক কর্মসময়: টেলিসেন্টার সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। L. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা: সেন্টার ম্যানেজার সকালে অফিসে এসে রুম খুলে পরিস্কার করে সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মোবাইল লেডী ও কম্পিউটার প্রশিক্ষককে তাদের কাজ ভাগ করে দেন এবং নিজের কাজ করেন। M. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ: যারা এখানে পরিদর্শন করতে আসে তারা পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষর ও মন্তব্য করেন। আর সেবা গ্রহীতারা সেবা রেজিষ্টারে তাদের বিবরণ লিখে থাকেন। ছবি তুলে রাখা হয়। N. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া: সবাই এক সাথে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। O. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ: হিসাবের জন্য ক্যাশ খাতা, লেজার খাতা, ব্যাংক খাতা রয়েছে। হিসাবের রির্পোট করা হয়। প্রোগ্রাম অফিসার হিসাবের বিষয়টি দেখেন। P. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা: টেলিসেন্টারটির ৩টি রুম। প্রথমটিতে আনুষাঙ্গিক সেবা সহ অন্যান্য যাবতীয় কাজ। দ্বিতীয় রুমে ট্রেনিং দেয়া হয়। তৃতীয় রুমে ভিডিও দেখানো এবং স্কুলের বাচ্চাদের প্রাথমিক শিক্ষা দেয়া হয়।

৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম K. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে কৃষি সকল কৃষককে সকাল থেকে বিকেল নামমাত্র ফি নেয়া হয় স্বাস্থ্য রোগীদেরকে সকাল থেকে বিকেল নামমাত্র ফি নেয়া হয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ যারা শিখতে আগ্রহী সকাল থেকে বিকেল তিন মাসে ৭০০ টাকা কম্পোজ সকল শ্রেণীর মানুষের সকাল থেকে বিকেল ১০-১২ টাকা মাত্র L. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয় সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ কৃষি শাকসবজি গাছে আগের তুলনায় ফল বেশি আসে স্বাস্থ্য জ্বর, ঠান্ডা, মাথাব্যথাসহ ছোটখাট রোগ সেরেছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ অন্য জায়গার তুলনায় অনেক কম টাকা লাগে কম্পিউটার প্রিন্ট ও কম্পোজ অন্য জায়গার তুলনায় অনেক কম টাকা লাগে ছবি তোলা অন্যান্য জায়গায় টাকা বেশি নেয় এবং যাতায়াত খরচ লাগে এবং সময় বাঁচে। ইন্টারনেট সেবা অন্যান্য জায়গায় টাকা বেশি নেয় এবং যাতায়াত খরচ লাগে এবং সময় বাঁচে। এছাড়াও সব জায়গায় ইন্টারনেট সেবা নেই। সুযোগ-সুবিধা কম বিষয় ভিত্তিক সেবা এ সেবাগুলো অন্যান্য জায়গায় পাওয়া যায়না। তথ্য সেবা এ সেবা অন্যান্য জায়গায় পাওয়া যায়না। M. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা  ওজন মাপা  রক্তচাপ মাপা  জ্বরমাপা

৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায় K. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো: কেন্দ্রের আয় কম। সেন্টারে কম্পিউটার যথেষ্ট পরিমানে নেই। ট্রেনিং দেওয়ার পর ছাত্রছাত্রীরা টাকা দিতে চায়না। উপকরণের কিছু অভাব রয়েছে। তথ্য সেবা নিয়ে টাকা দিতে চায়না। L. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্যা: একজন সেচ্ছাসেবক কম্পিউটার সম্পর্কে ভাল জানেন। তার কাছ থেকে কারিগরী সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করে। তিনি যদি সমাধান করতে না পারের তাহলে টাঙ্গাইল শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। M. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা: সেন্টার ম্যানেজারের কম্পিউটারে দক্ষতা কম । দ্রুত লিখতে পারেন না। N. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে: ভাল ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা

৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয় K. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে): গড়ে মাসে ২০০ - ৩০০ জন সেবা গ্রহণ করে থাকে L. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে: টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ৮০ ভাগ লোক জানে M. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে: এলাকার জনগণ যখন যেভাবে পারে সাহায্য করার চেষ্টা করে এবং সাহায্য করে। N. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ: প্রায় ২০০,০০০ টাকা। O. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল: ঢেউ এবং ডিনেট। P. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গস্খহণ: টেলিসেন্টার স্থাপনের জন্য কোন আর্থিক ঋণ গ্রহণ করা হয়নি। Q. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা) বাসা ভাড়া ৩,৫০০ বিদ্যুৎ বিল ৮০০ ইন্টারনেট ১,০০০ কর্মী বেতন ৯,০০০


R. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা) তথ্যসেবা ১৫০-২০০ ছবি ২০০-৫০০ কম্পোজ ১০০-২৫০ ট্রেনিং ১০০০-১৫০০ ইন্টারনেট, ইমেইল ১০০-১৫০ কার্ড দিয়ে সাহায্য করা ১০০ অন্যান্য ৬০০-৮০০


৯. সাফল্যের কাহিনী

উপকারভোগীর নামঃ দীপা সরকার সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান ভাল। তিনি এখান থেকে তার পরীক্ষার রেজাণ্ট জানতে পেরেছেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে। তিনি কম সময়ে অতি দ্রুত ও কম খরচে তার সেবাটা পেয়েছেন। যা অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব ছিলনা। রেজাল্টের জন্য তাকে কলেজ বা অন্য কোথাও ছুটোছুটি করতে হয় নি। তিনি জানতেন টেলিসেন্টারে ইন্টারনেট আছে, তথ্যকর্মী তাকে বলেছিল। তাই তিনি এখানে এসে রেজাল্ট নিতে পেরেছেন।