কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/গউফ ইউনিয়ন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

গউফ ইউনিয়ন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার
মাহিদিয়া, চাঁচড়া, যশোর
পরিদর্শনের তারিখ: ০৮ অক্টোবর ২০০৯ থকে ১২ অক্টোবর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন
১. মোহাম্মদ সফিক উল্যা (কিশোর), হোসেন কম্পিউটারস্, কালামুখী বাজার, কবিরহাট, নোয়াখালী
২. রত্না খাতুন, পাশ পল্লীতথ্য কেন্দ্র, গ্রাম- চতুরা, ডা: রতিগ্রাম, উপ: রাজারহাট, জেলা- কুড়িগ্রাম
৩. মোঃ জুলকার নাঈম, ব্রাক রাজেন্দ্রপুর গণকেন্দ্র পাঠাগার, গাজীপুর

যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন
মহসিন হাওলাদার, গউফ ইউনিয়ন ইনফরমেশন সেন্টার, যশোর

১. টেলিসেন্টার পরিচিতি

ক. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ:
১৭ই ডিসেম্বর, ২০০৭ ইং

খ. যেভাবে শুরু হয়েছিল:
শুরুতেও তথ্য ছিল, প্রযুক্তি ছিলনা। গণগবেষণা ও উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (গউফ) প্রতিষ্ঠিত চাঁচড়াস্থ এই টেলিসেন্টার যাত্রা শুরু করে তিন বছর আগে। তবে গউফ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা জনাব মোহাম্মদ জাকারিয়া তৃণমূলে তথ্য চর্চার বিষয়টি শুরু করেন তারও অনেক আগে- ১৯৮৮ সালে । এই জন্যে গণগবেষণা পদ্ধতি প্রয়োগ করে অভীষ্ঠ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে তথ্য সংগ্রহ করা হত। তখনো তথ্য প্রযুক্তির বর্তমান অর্থে বিকাশ ঘটেনি। প্রযুক্তি বিহীন তথ্য সংগ্রহ ও বিতরনের প্রধান বিষয়গুলো ছিল: কৃষি, জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, সচেতনতা, পল্লী কর্মসংস্থান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা/ আবহাওয়া/ জলবায়ুর পরিবর্তন ইত্যাদি। তথ্য সৃজন প্রক্রিয়ায় গবেষকের পরিবর্তে সাধারণ জনগনই এখানে মূখ্য ভুমিকা পালন করে থাকে। সাধারণ মানূষই যেহেতু এ ধরনের গবেষণায় প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকেন সে জন্যে নাম দেয়া হয়েছিল গণগবেষণা।

এক সময় মোহাম্মদ জাকারিয়া বিটিএনের প্রধান নির্বাহী মাহমুদ হাসানের সাথে নীলফামারীস্থ প্রথম পল্লী তথ্য কেন্দ্র দেখতে যান। উক্ত কেন্দ্রের কাজে আকৃষ্ঠ হয়ে ডি.নেট এর নির্বাহী পরিচালক ড. অনন্য রায়হানের কাছে যশোরে টেলিসেন্টার স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। চাঁচঢ়া ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত গউফের টেলিসেন্টারে পল্লীতথ্য কেন্দ্রেরও সকল কার্যক্রম পরিচালিত হতে শুরু করে। এরপর গউফ সংস্থা প্রধান বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অধীনে পরিচালিত ইউআইসি প্রকল্পের অধীনে ইউএনডিপির আর্থিক ও প্রযুক্তিগত

সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করেন। ইউআইসির সহযোগিতা যুক্ত হবার ফলে টেলিসেন্টারটির কার্যক্রমে আরো গতির সঞ্চার হয়। বর্তমানে টেলিসেন্টারটি ডি.নেট এবং বাংলাদেশ সরকার উভয় দিক থেকেই সহায়তা পাচ্ছে। টেলিসেন্টারটির বর্তমান পরিবর্তিত নাম হচ্ছে- ইউনিয়ন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার (UISC) । অতি সম্প্রতি বিটিএনয়ের সাথে যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল আপ্রোচে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন প্রকল্প টেলিসেন্টারর আরেকটি মাত্রা যুক্ত করেছে।

গ. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন:
চাঁচড়া টেলিসেন্টার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে অবস্থিত। এজন্য টেলিসেন্টারের ম্যানেজার ও তথ্যকর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখে কাজ করতে পারে। কোন ধরনের সমস্যা হলে চেয়ারম্যান দ্রুত সমাধান করে দেন। ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে হওয়ার কারণে এলাকার সকল শ্রেণীর লোক এখানে আসে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সেবা গ্রহণ করে। ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বিধায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। এছাড়া পাশেই বাজার রয়েছে।

গউফ সংস্থা বিশ্বাস করে যে দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে তৃণমূলে অবস্থিত স্থানীয় সরকারকে অবশ্যই শক্তিশালী করতে হবে। গউফ মনে করে - শক্তিশালী ইউনিয়ন পরিষদই শক্তিশালী বাংলাদেশের তৃণমূল পিলার। গ্রাম পর্যায়ের পরিকল্পনার সমষ্টিই ইউনিয়ন উন্নয়ন পরিকল্পনা। চলমান টেলিসেন্টারটি এই ধারনার ভবিষ্যৎ পাইলটিং ও সংস্থার প্রস্ত্ততিতে আছে। তা করতে হলে ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সক্ষমতার সরো জমিনে জ্ঞান প্রয়োজন। প্রয়োজন মিথষ্ক্রিয়ার। তাছাড়া স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে অনেক এনজিও কাজের ধারাবহিকতা রক্ষা করা যায়নি গ্রাম পর্যাযে কাঠামোর অভাবে। গউফ সংস্থা আরো বিশ্বাস করে যে ভবিষ্যতের অনেক ভালো কাজ এনজিও-ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগের ভেতর দিয়েই গড়ে উঠবে।

গউফের কল্পচিত্রে - গ্রামীণ গণতন্ত্রের ভিত্তিই হবে ইউনিয়ন পরিষদ, তৃণমূলের সাধারণ মানূষের আশা আকাক্ষার প্রতীক।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোহাম্মদ সফিক উল্যা (কিশোর): টেলিসেন্টারের মানেজার এবং তথ্য কর্মীদের সাথে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সম্পর্ক ভালো। এই জন্য তথ্যকর্মী কোন এলাকায় কাজ করতে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়লে সংশ্লিষ্ট এলাকার মেম্বার সেই সমস্যার সমাধানে এগিয়োসেন। পরিষদের সচিব টেলিসেন্টারের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন। এটাও টেলিসেন্টারটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে স্থাপনের অন্যতম কারণ। গউফ সংস্থা বিস্বাস করে যে এনজিও ইউনিয়ন পরিষদের নিরস্তর মিথষ্ক্রিয়ার ভেতর দিয়েই গণ অংশগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার গড়ে উঠবে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা

সেবার নাম় কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে বিশেষ মন্তব্য
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ছাত্র/ছাত্রী ছাত্র সকাল ১০টা-১টা,

ছাত্রী বিকাল ৩টা-৫টা

তিন মাস মেয়াদী কোর্স
কোর্স ফি ৬০০ টাকা
কোর্স ফি প্রশিক্ষণের আগে জমা দিতে হয়।
কম্পোজসহ প্রিন্ট,
শুধু কম্পোজ,
শুধু প্রিন্ট
ছাত্র/ছাত্রী, এলাকার জনগণ, যুবক/যুবতী, যার যখন দরকার টেলিসেন্টার চলাকালীন যে

কোন সময় (সকাল ৯টা-বিকাল ৫টা)

প্রতি পৃষ্ঠা -১০টাকা

প্রতি পৃষ্ঠা -৮টাকা
প্রতি পৃষ্ঠা- ৮টাকা

ছবি তোলা (ডিজিটাল ক্যামেরায়) পার্সপোর্ট সাইজ, ৩আর সাইজ এলাকার জনগণ, মহিলা, ছাত্র/ ছাত্রী, যুবক/যুবতি যে কোন সময় (সকাল ৯টা-বিকাল ৫টা) প্রতি কপি ৫টাকা, প্রতি কপি ১০ টাকা,
ক্যামেরা ভাড়া দেয়া এলাকার জনগণ, মহিলা, ছাত্র/ ছাত্রী, যুবক/ যুবতী যে কোন সময় (সকাল ৯টা-বিকাল ৫টা) ১ম ২ঘন্টা ১০০টাকা, পরবর্তী প্রতি ঘন্টা ১০০টাকা
ইন্টারনেট ব্রাউজিং ছাত্র/ছাত্রী, বেকার যুবক ইত্যাদি যে কোন সময় (সকাল ৯টা-বিকাল ৫টা) ৩০ মিনিট ১০টাকা, ১ ঘন্টা ২০ টাকা
হেল্প লাইনে মোবাইল টু মোবাইল কথা বলা এলকার কৃষক, মহিলা, পুরুষ ইত্যাদি সকাল ৯টা- বিকাল ৫টা প্রতি মিনিট ২ টাকা

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোহাম্মদ সফিক উল্যা (কিশোর): টেলিসেন্টারটিতে যেকোন কাজের জন্য খুব কম মূল্যে নেয়া হয়। এতে করে মানুষ উপকৃত হচ্ছে ও বেশি বেশি সেবা গ্রহন করতে আসছে।
মোঃ জুলকার নাঈম: কম্পিউটার প্রশিক্ষনে শুধু ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ও ইন্টারনেট ব্রাউজিং শিখানো হয়। এছাড়া যদি কম্পিউটারের বেসিক অপারেশন শিখানো হত তাহলে প্রশিক্ষনটি আরও ফলপ্রসূ হতো। প্রশিক্ষনের সময় প্রয়োজনীয় হ্যান্ড নোটের মান আরও উন্নত করা যেতে পারে। কোর্স শেষ হয়ে গেলে ফ্রি প্র্যাকটিস করার সুযোগ নেই। ফ্রি প্র্যাকটিসের সুযোগ দিতে পারলে ভাল হত।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা
ল্যাপটপ
কম্পিউটার সেট- (মনিটর, সিপিইউ, মাউস, কীবোর্ড, স্পিকার, ইউপিএস)
প্রিন্টার
জেনারেটর
ডিজিটাল ক্যামেরা
মোবাইল ফোন
মডেম
মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর
হেড ফোন
ওয়েব ক্যাম

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোহাম্মদ সফিক উল্যা (কিশোর): কম্পিউটারের সংখ্যা আরো বাড়ালে ভাল হত। তাহলে অধিক ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করানো যেত।
রত্না খাতুন: কম্পিউটারে কোন আর্থিং এর ব্যবস্থা নেই। এ কারণে কম্পিউটার দুটি যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

চ. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ:
আছে। গ্রামীণ জিপিআরএস সংযোগ।

ছ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি:
গুণিজন, নারী ও নকশা (১টি), জিয়ন (বিভিন্ন বিষয়ক তথ্যের সিডি), মিনার কার্টুন (৪ খন্ড একত্রে), সিসিমপুর (সিডি), গুণীজন (সিডি), কম্পিউটার এ্যপ্লিকেশন এর সিডি (অফিস ২০০৩, বিজয়, বাংলা সর্ট একত্রে রাইট করা সিডি)।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোহাম্মদ সফিক উল্যা (কিশোর): পরিবারের বাবা মায়ের জন্য বা বয়স্কদের জন্য সচেতনতা মূলক বাল্য বিবাহ, আর্সেনিক, এইডস ইত্যাদি নাটিকার সিডি নেই যা যোগ করা উচিত।
রত্না খাতুন: আরও নতুন সিডি যোগ করা উচিত, যেমন শিক্ষামূলক সিডি, বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক সিডি ইত্যাদি।
মোঃ জুলকার নাঈম: টেলিসেন্টারে আরও সিডি যোগ করা উচিত। সেগুলো হল- ঠাকুরমার ঝুলি, ঘরে বসে বিশ্ব দেখুন, শিক্ষামূলক সফটওয়্যার সিডি (যেমন- গণিত, ইংরেজী), বিভিন্ন ধরনেল সচেতনতা মূলক সিডি (যেমন- আর্সেনিক, বাল্যবিবাহ, এইডস ইত্যাদি)


২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি

ক. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা

নাম পদবী কি কাজ করছে?
মহসীন হাওলাদার টেলিসেন্টার ম্যানেজার টেলিসেন্টারটি ম্যানেজমেন্ট করা, প্রশিক্ষণার্থীদেরকে প্রশিক্ষন দেয়া, ইন্টারনেট সেবা ও সকল প্রকার সেবা দেয়া এবং তথ্য কর্মী, মোবাইল লেডির সাথে সমন্বয় করা।
আলীমুন সিদ্দিকী তথ্য কর্মী তথ্য সেবা দেয়া, মাসিক রির্পোট/ প্রতিবেদন তৈরি, হেলপ লাইনে কথা বলানো ও উঠান বেঠক করা। তৃণমূলে মটিভেশনে বিশেষভাবে দক্ষ।
নার্গিস পারভীন তথ্য কর্মী (মোবাইল লেডি) গ্রামে গ্রামে গিয়ে তথ্য সেবা প্রদান, নতুন ইউজার তৈরী করা, হেলপ লাইনে কথা বলানো, স্কাইপের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের সাথে পরিবার পরিজনের কথা বলানো, মানুষের বাড়ী গিয়ে তথ্য সেবা প্রদান, কম্পিউটার ট্রেনিং করানো। নারী স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষভাবে দক্ষ ।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোঃ জুলকার নাঈম: টেলিসেন্টারের কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য তাদের আরো প্রশিক্ষণ নেয়া উচিৎ। প্রশিক্ষণগুলো হতে পারে কম্পিউটারে উচ্চতর প্রশিক্ষন, টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ইত্যাদি।

খ. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া
আলীমুন ছিদ্দিকী: এই টেলিসেন্টারে তিনি একজন তথ্য কর্মী হিসাবে কাজ করছেন। এলাকার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আলীমুন ছিদ্দিকী জন সাধারনকে সেবা দিয়ে আসেছেন। আলীমুন ছিদ্দিকী সর্ব প্রথম ১৯৭৬ সালে ‘‘বাঁচতে শিখা’’ তে কাজ শুরু করেন প্রতিষ্ঠাতা কর্মী হিসাবে। এরপর তিনি গণগবেষণা ও উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ জাকারিয়ার চিন্তাধারায় আকৃষ্ঠ হয়ে গণ গবেষণা ও উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (গউফ) এ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই কাজ করেন। এরপর ডি.নেট এর সহযোগিতায় ২০০৭ সালে ইউনিয়ন ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টার (গউফ) ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়নের ভবনে চালু হওয়ায় তিনি তথ্য কর্মী হিসাবে কাজ করার জন্য নির্বাচিত হন।

নার্গিস পারভীন: তিনি এই টেলিসেন্টারে একজন তথ্যকর্মী ও মোবাইল লেডি হিসাবে কাজ করছেন। এখানে কাজ করার আগে তিনি এখান থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এইচ.এস.সি পাশের পর নারগিস যশোরের একটি Clinic এ নার্স হিসাবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে টেলিসেন্টারে কর্মী প্রয়োজন হলে উনি লিখিত নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন এবং উত্তীর্ণ হন এবং পরে মৌখিক পরীক্ষায উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

গ. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ

সময় আলীমুন ছিদ্দিকী নার্গিস পারভীন:
সকালে ১. হাজিরা খাতায় সই করা।

২. মুভমেন্ট রেজিষ্টারে Movement লিখে গ্রামে গ্রামে তথ্য সেবা দেয়ার জন্য বের হয়ে পড়া।

১. সকালে নয়টার মধ্যে সেন্টারে এসে প্রথমে হাজিরা খাতায় সই করেন। পরে অফিসের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা যাচাই করেন এবং ষ্টাফদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

২. পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক মাঠ পরিদর্শন খাতায় সই করে মাঠে বেরিয়ে যান।
৩. মাঠে গিয়ে পূর্ব ঘোষিত উঠান বৈঠক করেন এবং নতুন বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করেন। বৈঠকে কৃষি, স্বাস্থ্য সহ নানা তথ্যসেবা বইয়ের মাধ্যমে দিয়ে থাকেন।

দুপুরে ১. টেলিসেন্টারে ফিরে আসা।
২. নতুন ইউজারদের লেজারে ও কম্পিউটারে এন্ট্রি করা।
১. হাজিরা খাতায় সাক্ষর করা
২. মুভমেন্ট রেজিস্টারে মুভমেন্ট লিখে গ্রামে বেরিয়ে পড়া।
বিকেলে ১. গ্রাম থেকে যেসব প্রশ্ন (যেমন : স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিক্ষা বিষয়ক), হেলপ লাইনে খরচ বেশি হওয়ার কারনে হেলপ লাইনে কথা হয়নি সেই গুলো ঢাকায় ই-মেইল করা এবং এর উত্তর গুলো আসলে সেই তথ্য গুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেওয়া।
২. ছাত্রীদেরকে প্রশিক্ষন দেয়া।
১. গ্রাম থেকে অফিসে/টেলিসেন্টারে ফিরে আসা।
২. নতুন ইউজারদেরকে লেজার বইয়ে এবং কম্পিউটারে এন্ট্রি দেওয়া।
সন্ধায় ১. টেলিসেন্টার সন্ধ্যায় বন্ধ থাকে।

২. তবে তথ্য কর্মীরা যেকোন সময় তাদের বাড়ীতে অর্থাৎ যেকোন জায়গায় যেকোন সময় তথ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

১. গ্রাম থেকে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন প্রশ্ন (যেমন-স্বাস্থ্য, কৃষি বিষয়ক) যেগুলো এলাকার লোকেরা হেলপ লাইনে খরচ বেশি হওয়ার কারনে আসে না, সেই সব প্রশ্নগুলো এনে কম্পোজ করে মেইল করে ঢাকায় পাঠায় এবং উত্তর আসলে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট পৌঁছে দেয়া। ফি- ৫টা মাত্র।
২. ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোহাম্মদ সফিক উল্যা (কিশোর): টেলিসেন্টারটি কাজের ধারাবাহিকতা আছে। তাই তারা সফল ভাবে কাজ করতে পারছে। অর্থাৎ আমাদের ও কাজের ধরন অনুসারে ভাগ করে নেওয়া উচিত।
মোঃ জুলকার নাঈম: গ্রামে গিয়ে তথ্যকর্মী প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা দিয়ে থাকেন। এছাড়া প্রতিমাসে ২/৩ বার ভ্যানে ক্যাম্পের আয়োজন করেন। তাতে একটি ভ্যানে কম্পিউটার সেট নেয়া হয় এবং গ্রামে গ্রামে সিডির মাধ্যমে সচেতনতা মূলক সিডি দেখানো হয়। কোন কারনে বিদ্যুৎ চলে গেলে তখন ল্যাপটপের মাধ্যমে সিডি প্রদর্শন করা হয়।

ঘ. সামাজিক প্রতিকূলতা
তথ্য সেবা দিয়ে টাকা চাইলে লোকজন বিরূপ মন্তব্য ও তথ্যের জন্য টাকা দিতে হবে কেন বলে মন্তব্য করে।
বিদ্যুৎ থাকে না, এতে করে কম্পিউটার ট্রেনিং ও তথ্যের জন্য ই-মেইল করা যায় না। ফলে বিদ্যুৎ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
তথ্য সেবা নিয়ে যে মানুষ উপকৃত হতে পারে সে বিশ্বাস মানুষের মধ্যে কম। তাই তারা সহজে বিশ্বাস করতে চায় না যে, তারা তথ্য অনুসারে কাজ করলে উপকৃত হবে।
হেল্পলাইনে প্রায় সময় বিশেষজ্ঞদের সঠিক সময়ে পাওয়া যায়না।
হেল্পলাইনে কথা বলে জনগণ সঠিক পরামর্শ না পেলে তারা বিভিন্নভাবে মন্তব্য করে। শেষে তাদের মোবাইল ফি ফিরিয়ে দিতে হয়।
টেলিসেন্টার এর কেন্দ্রব্যবস্থাপক ছাড়া কেউ মেইল সার্চ করেনা। কেন্দ্রব্যবস্থাপক কেন্দ্রে থাকলে নেট কানেকশন থাকে, তাছাড়া থাকেনা।

ঙ. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার

ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন
www.gmail.com

www.yahoo.com

ফ্রি মেইলের মাধ্যমে চিঠিপত্র ও ডকুমেন্ট আদান প্রদান করা।
www.pollitathya.ning.com পল্লীতথ্যের ব্লগে সকল তথ্য বিনিময় ও পরামর্শ গ্রহন করা।
www.pollitathya.org পল্লীতথ্যের সকল সেবা সমূহ পাওয়া যায়।
www.prothom-alo.com দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করনের মাধ্যমে আপডেট খবর পাওয়া।
www.educationboard.gov.bd সকল বোর্ডের এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল পেতে।
www.dpe.gov.bd প্রাইমারী স্কুলের সকল তথ্য পেতে।
www.nu.edu.bd জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার ফলাফল ও তথ্য পেতে।
www.jeebika.com বিভিন্ন চাকুরীর তথ্য সম্পর্কে জানা
www.jeeon.com জীয়ন নামে তথ্যভান্ডারের তথ্য সম্পর্কে জানা

চ. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান তথ্যকর্মী পল্লীতথ্যের ব্লগ- http://www/pollitathya.ning.com ও জিমেইল এর সদস্য সদস্য।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোঃ জুলকার নাঈম: তথ্যকর্মীর অন্যান্য অনলাইন ব্লগ যেমন: http://www.telecentrebd.ning.com , http:www.telecente.org গ্রুপের সদস্য হওয়া উচিত।

ছ. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে
আলীমুন ছিদ্দিকী: মঞ্জুয়ার নামক মাহিদিয়া গ্রামের এক মহিলার পায়ে ঘাঁ ছিল। এই ঘাঁ থেকে পঁচন শুরু হয়। এতে করে পঁচা গন্ধে তার স্বামী তাকে তালাক দিবে বলে মনস্থির করে। এতে মনজোয়ারা ভেঙ্গে পড়ে। পরে সে খবর পেয়ে আলীমুন ছিদ্দিকীর কাছে আসে। তারপর আলীমুন ছিদ্দিকীর পরামর্শে হেলপ লাইনে কথা বলে ডাক্তার থেকে পরামর্শ মতে সে ঔষধ সেবন করে, এতে ১৫ দিনের মাথায় সে সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায়। তারপর তথ্যকর্মী আলীমুন ছিদ্দিকী তার স্বামী আব্দুল গণিকে জিজ্ঞাসা করে তুমি কি আর বিয়ে করবে। তার উত্তরে আব্দুল গনি বলে মনহোয়ারা এখন ভাল হয়ে গেছে সুতরাং বিয়ে করার কি দরকার। এতে করে আলীমুন ছিদ্দিকীর কাজ করতে আরও উৎসাহ বেড়ে যায়।

নার্গিস পারভীন: তিনি বর্তমান চাকরির আগে অত্র এলাকার একটি বেসরকারী ক্লিনিকের নার্স হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তার পূর্বে তিনি অত্র টেলিসেন্টার থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তখন নার্স থাকা অবস্থায়ও তিনি তথ্যপ্রযুক্তির উপর কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন কারন তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে সব ধরনৈর সেবা দেওয়া সম্ভব। নার্স থাকলে হয়ত স্বাস্থ্য বিষয়ক ছাড়া অন্য কোন সেবা দিতে পারতেন না। মূলত এই দিকটি তাকে বেশি উৎসাহিত করেছে।

জ. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
: টেলিসেন্টারটিতে বর্তমানে ২টি কম্পিউটার আছে। ভবিষ্যতে আরও কিছু কম্পিউটার যুক্ত করে একটি কম্পিউটার ল্যাব তৈরীর ইচ্ছা তাদের আছে। টেলিসেন্টারটিতে কোন ফটোকপি মেশিন নেই। ভবিষ্যতে ফটোকপি মেশিন কেনার ইচ্ছা আছে। স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি প্রেসার মাপার যন্ত্র প্রয়োজন যেটি বর্তমানে টেলিসেন্টারটিতে নেই। ভবিষ্যতে একটি প্রেসার মাপার যন্ত্র কেনার ইচ্ছা তাদের আছে যাতে করে তারা আরও ভালভাবে স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারেন।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোঃ জুলকার নাঈম: টেলিসেন্টারটিতে অনলাইনে কোন কেনাবেচা করা হয় না। এটি যুক্ত করা যেতে পারে যাতে এলাকার লোকজন অনলাইনে জিনিসপত্র বিক্রি এবং কিনতে পারে।

ঝ. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন
আলীমুন ছিদ্দিকী: তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করে চলেছেন। তার স্বামী মোঃ ছিদ্দিক হোসেন অসুস্থ অবস্থায় বাসায় পড়ে রয়েছে। তার ছেলে মেয়ে ৬ জন। ২ ছেলের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী, অন্য ছেলেও মানুষের মত মানুষ হতে পারে নাই। সে এখন মোটর সাইকেলে ভাড়া টেনে কোন রকম দিন পার করছে। আর ৪ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন অতি কষ্টে। তথ্যকর্মী হিসেবে কাজ করে জীবনের সাথে সংগ্রাম করে জীবন যাপন করছেন। আলীমুন ছিদ্দিকী প্রথম ১৯৭৬ সালে কাজ করা শুরু করেন ‘‘বাঁচতে শেখা’’ এনজিও এর প্রতিষ্ঠাতা এঞ্জেলা গোমেজের সাথে। তারপর ১৯৮৮ সালে তিনি মোহাম্মদ জাকারিয়া সাহেবের (গউফ) এর সাথে কাজ করা শুরু করেন এবং আজও কাজ করছেন নিষ্ঠার সাথে। তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য সেবা দিয়ে মানুষকে সহযোগিতা করা এবং এতেই তিনি আনন্দ পান। মানুষকে তথ্য সেবা দিয়ে উপকার করার মাধ্যমেই তার শেষ জীবন পার করতে চান এ তথ্য কর্মী।

নার্গিস পারভীন: টেলিসেন্টারের একজন তথ্যকর্মী এবং এখানে মোবাইল লেডি হিসাবে পরিচিত। টেলিসেন্টার স্থাপনের শুরু থেকেই এই টেলিসেন্টারে তার নিয়মিত আশা যাওয়া ছিল। তার মা গউফের সমবায় সমিতির সদস্য । এস.এস.সি পাস করার পর নার্গিস এই টেলিসেন্টার থেকে কম্পিউটারের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তখনও টেলিসেন্টারটিতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এইচ.এস.সি পাস করার পর তিনি প্রথম দিকে যশোরের একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নার্স হিসাবে কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে টেলিসেন্টারে কর্মরত একজন তথ্যকর্মী চাকরি ছেড়ে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে উক্ত টেলিসেন্টারে তথ্যকর্মী হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি টেলিসেন্টারে একজন তথ্যকর্মী হিসাবে সফলতার সাথে কাজ করছেন।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোহাম্মদ সফিক উল্যা (কিশোর): আলীমুন ছিদ্দিকীর সাথে কথা বলে বুঝা গেল যে, আসলে তিনি সাংসারিক ভাবে কিছু না পেলেও এলাকার মানুষের ভালবাসা পাচ্ছেন।


৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে

ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান:
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের অনেকগুলো পাড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে গউফ পল্লীতথ্য কেন্দ্রের কর্ম এলাকা। এটি চাঁচড়া ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় গ্রাম মাহিদিয়া গ্রামের চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২য় তলায় অবস্থিত। চাঁচড়া ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৪১,৪৩৮ জন এবং স্বাক্ষরতার গড় হার ৫৬.২৩%।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা:
এলাকার অধিকাংশ লোকই জীবিকার জন্য কৃষির উপর নির্ভরশীল। এছাড়া ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সরকারী এবং বেসরকারী চাকুরিজীবিও রয়েছে। হিসাব করে দেখা গেছে, টেলিসেন্টার থেকে সেবা গ্রহনকারী ৮০.৬ ভাগের মাসিক গড় আয় সীমার মধ্যে। নারী সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে ৮২.৪ ভাগ গৃহিনী এবং ১৫ ভাগ ছাত্রী। আর পুরুষ সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ব্যবসায়ী এবং এর পরেই রয়েছে ছাত্র , কৃষিজীবী এবং চাকুরিজীবিদের অবস্থান।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো:
এলাকার অবকাঠামোতে বিদ্যুৎ একটি বড় সমস্যা। বিদ্যুৎ প্রায়ই থাকে না। পল্লী বিদ্যুতের লাইন হওয়ায় সমস্যাটা বেশি। হিসাব করে দেখা গেছে শতকরা ৪৫ ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে। ইন্টারনেট সংযোগ শুধুমাত্র টেলিসেন্টার ছাড়া অন্য কোথাও নেই। এলাকার রাস্তাঘাটের মধ্যে শুধু মূল সড়কটি পিচঢালা। এছাড়া মূলসড়ক থেকে গ্রামের ভিতর যাওয়ার সব রাস্তা কাঁচা। এতে করে বর্ষার সময় বেশি সমস্যা হয়।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান:
এলাকায় সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ইত্যাদি। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এমপিওভুক্ত হাইস্কুল (১টি), এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা (১টি), আশা, দীপ্তি, জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন, সৃজনশীল প্রভৃতি এছাড়াও যশোরের অন্যান্য লোকাল এনজিও রয়েছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোঃ জুলকার নাঈম: টেলিসেন্টারটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় সব সময় লোকজন আসে। তাছাড়া কোন সমস্যা হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দ্রুত তার সমাধান করেন। কেউ কেউ তাৎক্ষনিক স্বাস্থ্য সেবার জন্য টেলিসেন্টারে এলে তাকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।

ঙ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ:
উক্ত এলাকায় ৩টি ক্ষুদ্র ফোন ফ্যাক্সের দোকান ও একটি ডিজিটাল স্টুডিও রয়েছে কিন্তু কোন সাইবার ক্যাফে নেই।


৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল

ক. এলাকার জনগণকে টেলিসেন্টারের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য টেলিসেন্টারের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী:

উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ
স্বাস্থ্য ক্যাম্প প্রত্যেক ৩ মাস পরপর স্বাস্থ্য ক্যাম্প করা হয় এতে এম.বি.বি.এস ডাক্তার আসেন এবং এর জন্য যারা সেবা গ্রহন করেন তাদের থেকে ৫টাকা করে নেয়া হয়।
কৃষি ক্যাম্প কৃষি ক্যাম্প থেকে যে কেউ সাথে সাথে তথ্য নিতে পারে। এর জন্য কোন ফি নেয়া হয় না। টেলিসেন্টার থেকে উপকারভোগীদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
আইন ক্যাম্প আইন ক্যাম্পে সবাই আইনী সহযোগিতার ও পরামর্শের জন্য টেলিসেন্টারে আসে। এতে মহিলা/ মেয়েদেরকেই বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ক্যাম্প শিক্ষা ক্যাম্পে কোন স্কুল বা বাড়ীর উঠানে শিক্ষার্থীরা সবাই মিলিত হয়ে। সবাইকে কার্টুন, সিসিমপুর ও শিক্ষামূলক ভিডিও দেখানো হয়। ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে উদ্ভাবনী শিক্ষা তথা মান সম্মত শিক্ষার সম্ভাব্য উপায় সমুহের উপর শিক্ষক, গার্জিয়ান ও শিক্ষার্থীদের ধারনা সমুহ একত্র করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ ভাবে নজর দেয়া হচ্ছে- কম্পিউটার প্রযুক্তি যুক্ত হলে কিভাবে শিক্ষার মান বিকশিত হতে পারে তার উপর। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া থেকে ই-শিক্ষার মাল মশলা সংগ্রহের ইচ্ছা সংস্থার রয়েছে। আমাদের অনুমান শিক্ষার মানের বিকাশে কম্পিউটার প্রযুক্তি অনন্য ভূমিকা রাখবে।
ভ্যান ও উঠান বৈঠক ভ্যানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ। আবার গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক পুরুষ ও মহিলাদেরকে নিয়ে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোহাম্মদ সফিক উল্যা (কিশোর): আমি আমার টেলিসেন্টারটির পরিচিতির জন্য এরকম উদ্যোগ গ্রহনের চেষ্টা করব। এই ক্যাম্প গুলোর মাধ্যমে মানুষকে খুব সহজে উদ্ধুব্ধ করা যায়। যার কারনে পরবর্তীতে কোন সমস্যায় পড়লে এলাকার জনগন টেলিসেন্টারে আসে।
মোঃ জুলকার নাঈম: তিন মাস পর পর একটি করে ক্যাম্পের আয়োজন করে টেলিসেন্টার কর্তৃপক্ষ। এতে করে এলাকার লোকজন ছাড়াও বাইরে থেকে আমন্ত্রিত অতিথিরা এসে এক বিশাল মিলন মেলার সৃষ্টি করে। এখানে টেলিসেন্টার থেকে প্রদত্ত সেবার ধরন সম্পর্কে সবাই জানতে পারে।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
টেলিসেন্টার এলাকার এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে থাকে। টেলিসেন্টার ‘দীপ্তি’ নামের একটি বেসরকারী সংস্থার সাথে লিগ্যাল এইড বিষয়ে সরাসরি কাজ করে। এলাকার লোকজন আইনি বিষয়ে কথা বলতে টেলিসেন্টারে আসলে তাদেরকে ‘দীপ্তি’ নামক সংস্থাটিতে পাঠানো হয় অথবা তাদের পরামর্শ নিয়ে টেলিসেন্টারে আগত লোকজনকে জানানো হয়। যেহেতু টেলিসেন্টারটি ইউনিয়ন পরিষদের ভিতর অবস্থিত, সেহেতু সরকারী কোন কাজের খবর (যেমন- বয়স্ক ভাতার তালিকা, জন্ম নিবন্ধন ইত্যাদি) এলাকার লোকজন টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জানতে পারে। এছাড়া পরিষদের চেয়ারম্যান সরকারী কোন ঘোষণা টেলিসেন্টারের মাধ্যমে লোকজনকে অবহিত করে। টেলিসেন্টার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি কাজ করে। বিশেষ করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র/ ছাত্রীদের নিবন্ধনের সময় এবং উপবৃত্তির জন্য ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকদের ছবি তোলার কাজ টেলিসেন্টার করে থাকে। এই ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামে বিভিন্ন এনজিও ক্ষুদ্র খণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। চলমান এই খণ কার্যক্রমের সাথে প্রয়োজনীয় তথ্যের সমন্বয় ঘটলে কি ধরনের প্রভাব সৃষ্টি হয় তার উপর একটি কর্ম গবেষণা হাতে নেয়ার পরিকল্পনা সংস্থার রয়েছে।

গ. স্থানীয় সরকার এবং অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
টেলিসেন্টারটি সরাসরি স্থানীয় সরকার অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের সাথে কাজ করছে।

ঘ. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা :
এলাকার নারীরা স্বাস্থ্য বিষয়ক সেবার জন্য টেলিসেন্টারে আসে এবং হেলপ লাইনে বিশেষজ্ঞদের সাথে সরাসরি কথা বলে। এভাবে তারা তাদের সেবাগ্রহণ করে। এছাড়া আইন বিষয়ক কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে তারা টেলিসেন্টার থেকে আইনি সহায়তা ও তথ্যসেবা পেয়ে থাকে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোঃ জুলকার নাঈম: এলাকার নারীরা স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যাগুলো অনেক সময় তাদের স্বামীদের বলতে লজ্জা পায় (বিশেষ করে স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ ও জরায়ূ সংক্রান্ত রোগসহ অন্যান্য মেয়েলি সমস্যা)। সেক্ষেত্রে সে মোবাইল লেডির কাছে তার সমস্যা সহজেই বলতে পারে এবং মোবাইল লেডির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সহজেই পেতে পারে।ঃ

ঙ. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
এই এলাকার শিশুকিশোররা বিভিন্ন ভাবে তথ্য সেবা গ্রহণ করে তাকে। শিশুরা এখানে এসে বিভিন্ন কার্টুন দেখে সচেতন হচ্ছে। এমনকি বাবা মাদের আচরনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। খালি পায়ে পায়খানায় না যাওয়া, খাবার আগে হাতমুখ ভালভাবে ধোওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বেশ লক্ষনীয়। পাপাশাপাশি কিশোররাও উপকৃত হচ্ছে বিভিন্ন গুণীজনদের সিডি দেখে শিক্ষনীয় এনিমেশন দেখে, পড়ালেখার মাধ্যমে তারা এই টেলিসেন্টার থেকে সেবা গ্রহণ করছে। সবচেয়ে গুুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে শিশুরা অল্প বয়সেই কম্পিউটারমুখী হচ্ছে যার সুফল তাদের মানসম্মত শিক্ষায় পড়বে। এর সুফল তারা সারা জীবন ভোগ করবে। শিক্ষাক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের ডিজিটাল ভিভাইডের সামাজিক অভিশাপ এভাবেই অঙ্কুরে বন্ধ করা যেতে পারে।


৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা

ক. দৈনিক কর্মসময়:
প্রতিদিন সকাল ৯.০০টা থেকে বিকাল ৫.০০টা পযন্ত খোলা থাকে। মাঝে মধ্যে বিকাল ৫টার পরও খোলা থাকে।

খ. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন:
এই টেলিসেন্টারটির কর্মীরা প্রতি সপ্তাহে ১দিন আলোচনার মাধ্যমে এক সপ্তাহের কাজ এর সিডিউল তৈরি করে থাকে। মাঝে মধ্যে একজন কর্মীর সমস্যা দেখা দিলে অন্যজন কর্মী তার কাজটি করে।

গ. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা:
টেলিসেন্টার কর্মীরা প্রতিদিন টেলিসেন্টারে এসে নিজেদের মধ্যে কিছুক্ষন আলাপ করে নেয়। প্রতিদিনের শুরুতে কে কি কাজ করবে তা উক্ত আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। টেলিসেন্টারটিতে যেহেতু ৩ জন তথ্যকর্মী আছে, সেহেতু যার যে বিষয়ে দক্ষতা আছে সে সেই বিষয়ের উপর কাজ করে। টেলিসেন্টার ম্যানেজার কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রিন্ট করা ও ছবি তোলার ব্যাপারে দক্ষ। সে প্রতিদিন এসে উক্ত কাজগুলো সম্পাদন করে। বাকী ২ জন তথ্যকর্মী গ্রামে গ্রামে ঘুরে তথ্যসেবা প্রদান করে এবং ফিল্ড থেকে তথ্য এনে সংরক্ষণ করে। এছাড়া মাসিক প্রতিবেদন বা রিপোর্টের কাজও তারা করে থাকে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ:
টেলিসেন্টারে সেবা গ্রহীতাদের তালিকা লেজার বইয়ে এন্ট্রি দেয়া হয়। এটাকে সার্ভিস কার্ড রেজিস্ট্রার বলে। এছাড়া টেলিসেন্টারটিতে Telecentre Management System (TMS) নামে একটি Software আছে সেখানে সকল সেবা গ্রহীতাদের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। টেলিসেন্টারে আগত সেবা গ্রহীতাদের কোন ছবি তুলে রাখা হয় না।


ঙ. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া:
টেলিসেন্টারের দৈনন্দিন কাজের জন্য তথ্যকর্মীরা দিনের শুরুতে বসে কে কি করবে তা ঠিক করে নেয় এবং কর্ম পরিকল্পনা অনুযাযী কাজ সম্পাদন করে। এছাড়া নতুন কোন কাজের ক্ষেত্রে টেলিসেন্টারের তথ্যকর্মীরা ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে আলোচনায় বসে এবং তাদের পরামর্শ মত কাজ সম্পন্ন করে।

চ. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ:
টেলিসেন্টারটির আর্থিক হিসাব রেজিষ্ট্রার খাতায় লিখে রাখা হয়। এছাড়া Daily Info Salary নামাক Software এ প্রতিদিনের হিসাব প্রতিদিন এন্ট্রি দেওয়া হয়।

পরিদর্শনকারীর মতামত:
মোহাম্মদ সফিক উল্যা (কিশোর): আমার টেলিসেন্টারে আমি শুধু রেজিস্ট্রার খাতায় হিসাব লিখে থাকি। তবে আমি যদি Daily info Salary software ব্যবহার করি তাতে আমার হিসাব করা সহজ হবে।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন:
টেলিসেন্টারের কর্মীদের মূল্যায়ন: এই টেলিসেন্টারটি ডি,নেট এর পল্লীতথ্য কেন্দ্র। তাই ডি.নেট এর কর্মকর্তাগণ ফিল্ড ভিজিট করেন এবং কাজের দক্ষতার উপর ভিত্তি করে কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়।

জ. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা:
টেলিসেন্টারে মাত্র ১টি রুম। এক রুমে সব ধরনের কাজ সম্পন্ন হয়। রুমের একপাশে ২টি কম্পিউটার সেখানে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এক কোনার দিকে ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তোলা হয়। এছাড়া টেলিসেন্টারে ঢুকতেই একটি টেবিল আছে সেখানে টেলিসেন্টারের ম্যানেজার এবং তথ্যকর্মীরা বসেন এবং হেলপ লাইনে লোকজন এখানে থেকেই কথা বলে।

'পরিদর্শনকারীর মতামত
মোঃ জুলকার নাঈম: টেলিসেন্টারের রুমটি একটু বড় হলে ভাল হত। টেলিসেন্টারটি ২ রুমের হলে এক রুমে কম্পিউটার প্রশিক্ষনের জন্য কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা যেত এবং অন্য রুমে তথ্যসেবা প্রদান করা যেত।


৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম

ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয়

সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ
স্বাস্থ্য সেবা স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে এলাকার মনোয়ারা নামের একজন নারীর স্বাস্থ্য ভালো হয়েছে এবং সুস্থ হয়েছে।
কৃষি তথ্য সেবা সাহাব উদ্দিন নামের এলাকার একজন কৃষকের কচু ক্ষেতে পচন লেগেছিল। তখনি সে টেলিসেন্টারের হেলপ লাইনে কৃষিবিদের সাথে কথা বলে তার কচু ক্ষেতের পচন রোধ করেছে এবং লাভবান হয়েছে।
আইন সেবা মনোয়ারার মেয়ে ধর্ষিত হয়ে হেল্পলাইনে আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার পেয়েছে।
ক্যাম্পের মাধ্যমে সেবা স্বাস্থ্য ক্যাম্পের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিযে আসা হয় এবং মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে জন সাধারণ স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করে।
ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলা এলাকার ছাত্র/ছাত্রীরা রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য ছবি তুলতে টেলিসেন্টারে আসে। এছাড়া অভিভাবকরাও আসে ছবি তোলার জন্য। এখানে ছবি তোলার খরচ স্টুডিও এর চেয়ে কম।
কম্পিউটার কম্পোজ কম্পিউটারের মাধ্যমে কম্পোজ করা এবং প্রিন্ট করার সুযোগ আছে এখানে। আশেপাশে কোন কম্পিউটার সেন্টার না থাকার কারনে সবাই এখানে কম্পোজ ও প্রিন্ট করে।
ইন্টারনেটে রেজাল্ট ইন্টারনেটে বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল সবাই জানতে পারে টেলিসেন্টার থেকে।
কম্পিউটার ট্রেনিং কম্পিউটার ট্রেনিং এর মাধ্যমে ছাত্র/ছাত্রী ও অন্যান্য শ্রেণীর লোকজনকে ট্রেনিং দেয়া হয়। এখানথেকে ট্রেনিং নিয়ে অনেকে চাকরি পেয়েছে।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা
ফটোকপি মেশিনের চাহিদা আছে।
স্থানীয় সঠিক তথ্যের চাহিদা আছে।
কম্পিউটারের অভাবে প্রশিক্ষনে ছাত্র/ ছাত্রী পর্যাপ্ত পরিমানে ভর্তি করা যাচ্ছে না।
ইন্টারনেট লাইন ব্রড ব্যান্ড।
টেলিফোন লাইন থাকলে ভালো হতো।


৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়

ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো:
ফটোপ্রিন্টার নেই, যার জন্য সঠিক সময়ে ছবি দিতে পারেনা। মানুষ তথ্য সেবা নিয়ে টাকা দিতে চায়না। তারা ভাবে তথ্য ফ্রি দেয়া হয়। হেল্পলাইনে ডাক্তার না কে কথা বলে সেবাগ্রহণকারীর বুঝতে সমস্যা হয়।

খ. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্যা:
টেলিসেন্টারে কোন কারিগরী সমস্যা হলে টেলিসেন্টার ম্যানেজার নিজে প্রথমে সমাধান করার চেষ্টা করেন। অতি সমস্যায় পড়লে সে ডি.নেট হেলপ লাইনে কথা বলে সমস্যার সমাধান করে নেয়।

গ. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা:
টেলিসেন্টারের ম্যানেজার ছাড়া অন্যান্য তথ্য কর্মীদের কম্পিউটারের দক্ষতার অভাব আছে। যার কারণে ম্যানেজার মহসীন সাহেব কোন কারনে বাহিরে গেলে অন্যান্য কর্মীরা কম্পিউটার সম্পর্কিত অনেক কাজের সমাধান দিতে পারেনা।

ঘ. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে:
এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য সকল তথ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোঃ জুলকার নাঈম:
টেলিসেন্টারের তথ্যকর্মীরা অন্য টেলিসেন্টারে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ধারণা লাভ করতে পারে। তাছাড়া যে সব প্রতিষ্ঠান (যেমন- ব্র্যাক) টেলিসেন্টার পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করে সেই সব প্রতিষ্ঠানে তথ্যকর্মীদের প্রেরণ করা যেতে পারে।


৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয়

ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে):
গড়ে প্রতিমাসে ৩৫০ জন সেবা পেয়ে থাকে।

খ. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে:
টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ৮০ ভাগ লোক জানে

গ. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে:
এলাকার লোকজন বিভিন্ন ভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে। যেমন- একে অন্যকে উদ্ভুদ্ধ করছে, মুখে মুখে প্রচার করছে, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসছে এবং তার সমাধান পেয়ে উপকৃত হচ্ছে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত পরিমান (টাকা)
কম্পিউটার - ২ডঁ ৮০,০০০
প্রিন্টার (লেজার)- ১টি ১২,০০০
ডিজিটাল ক্যামেরা - ১টি ১৭,০০০
ইউপিএস- ১টি ৬০০০
কম্পিউটার টেবিল-২টি ৮,০০০
আলমারী- ১টি ১২,০০০
মোবাইল- ১টি ৪,০০০
মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর- ১টি ৬৫,০০০
জেনারেটর- ১টি ১৫০০০
ফ্যান- ১টি ২০০০
ল্যাপটপ- ১টি ৫০,০০০
সিডি বক্স-১টি ১৫,০০০
মডেম- ১টি ৬,০০০
অন্যান্য ফার্নিচার বাবদ ২০,০০০

ঙ. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল:
ডি.নেট ও গউফ মিলে খরচ বহন করেছে। শুধুমাত্র জেনারেটর ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সরকারের ব্যবস্থাপনায় ইউএনডিপি এর আর্থিক সহায়তায় দেয়া হয়েছে।

চ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ:
টেলিসেন্টার স্থাপনের জন্য গউফ সমবায় সমিতি থেকে ঋণ গ্রহন করতে হয়েছিল। খরচটা ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

ছ.তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত পরিমান (টাকা)
স্টেশনারী বাবাদ ৭০০
ইন্টারনেট বিল ১,২০০
আপ্যায়ন ২০০
দৈনিক পত্রিকা (আঞ্চলিক) ১২০
কম্পিউটার ল্যাব খরচ চাহিদার উপরে আনুমানিক ৩০০
যাতায়াত খরচ ২,৫০০
ষ্টাফদের বেতন ৮,৩৩৫

পরিদর্শনকারীর মতামত
মোহাম্মদ সফিক উল্যা (কিশোর): টেলিসেন্টারটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে হওয়ায় এর মাসিক ভাড়া দিতে হয় না, বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না। তাই আমার সেন্টারটি আমি ইউনিয়ন পরিষদে দিতে আগ্রহী। এতে করে টেলিসেন্টারটি জনগন ও এলাকার গুনীজনের কাছে বেশি গ্রহনযোগ্য হবে।

জ. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা)
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ৪,৮০০
ছবি তোলা ১,৫০০
কম্পিউটার কম্পোজ ৪০০
হেলপ লাইনে আয ৫০০
ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয ২০০
ভিডিও এর মাধ্যমে আয় ৫০০
ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে ডাক্তার দ্বারা আয় ১,০০০


৮. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা
উপকারভোগীর নাম : মোছা. মঞ্জু আরা বেগম
স্বামীর নাম:আবদুল গনি
উপকারভোগীর গ্রাম মাহিদিয়া (উত্তর পাড়া), ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়ন, উপজেলা- সদর, জেলা- যশোর।

মঞ্জুয়ারার পরিবার খুবই দরিদ্র। তারপরও সমাজে সম্মান আছে। তিনি ৫ সন্তানের মা- ৩ জন মেয়ে ও ২ জন ছেলে। মঞ্জুয়ারার পায়ে ঘাঁ হয়েছিল প্রায় ৭ বছর আগে। স্থানীয় ডাঃ সাইদুর রহমান তাঁর দুই পায়ের মাংস কেটে অপারেশন করে। তার পরও তার রোগ ভাল হয় না। দিন দিন তার পায়ের মাংস পঁচতে থাকে। এতে করে দুর্গন্ধে তার আশে পাশে কেউ যেতে পারে না। এ দিকে তার স্বামী আব্দুল গনি তাকে তালাক দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তারপর সে ইউনিয়ন ইনফরমেশন সেন্টার (গউফ) পল্লীতথ্য কেন্দ্রে যায়। সেখান থেকে হেলপ লাইনে সে ডাক্তার এর সাথে কথা বলে। প্রথম দিন ডাক্তার তাকে ১টি ঔষধ দেয় এবং প্রথম দিন তার কি রমক অনুভূতি হয় তা জানাতে বলে। প্রথম দিনের ঔষধ খাওয়ার পর মনযোয়ারা ডাক্তারকে দ্বিতীয় দিন বলে, এই ৭ বছর পর ১ রাত ভালভাবে ঘুমিয়েছি। দ্বিতীয় দিন ডাক্তার মনযোয়ারাকে ১৫ দিনের প্রায় ৪৫০ টাকার ঔষধ দেয়। এই ১৫ দিন ঔষধ সেবনের পর মনযোয়ারা সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায়। সে এখনও ভাল আছে। এতে করে তার পরিবার রক্ষা হয়। তার স্বামী আর একটি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত থেকে বিরত হয়।


সমাপনী মন্তব্য :গ্রাম রুপান্তরের মাল মশলা
উপরে বর্ণনা, কাহিনী ও সারনী দিয়ে তথ্যের পর তথ্য সাজিয়ে আমরা একটি বক্তব্য দাঁড় করানোর প্রয়াস পেয়েছি। তৃণমূলে আমাদের প্রয়াসের কথা বলতে চেয়েছি। তিন পরিদর্শকের চোখে আমাদেরকে দেখতে চেয়েছি। গণগবেষণা, তথ্য প্রযুক্তি ও ইউনিয়ন পরিষদ -এই তিন উপাদানের মিথষ্ক্রিয়ায় কি বেরিয়ে আসে গউফ তা দেখতে আগ্রহী। গণগবেষণা মানুষের অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞানকে শানিত করে। তথ্য প্রযুক্তির পরশে তা কহপমন্ডুকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৃহত্তর পরিমন্ডল থেকে আহরন করে আরো পুষ্ট হয়। ব্যষ্টি আর সমষ্টির মাঝে যে নিরন্তর খেলা গ্রামের সংখ্যা গরিষ্ঠ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে তা অনুধাবন ও তদনুযায়ী কর্মকৌশল অবলম্বনের বুদ্ধিজাত ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া সঞ্চারিত হতে শুরু করে। ইউনিয়ন পরিষদ যেভাবে জন্ম হয়েছিল সে নিয়ে কথা আছে। কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিমন্ডলে এর ইতিবাচক ব্যবহারের যে সুযোগ তৈরী হয়েছে তার প্রয়োগের এখনই সময়। গ্রাম পর্যায়ে কোন কাঠামো নাই বলেই ইউনিয়ন পরিষদকে ভর করে পরিবর্তনের পথে এগুতে হবে। তৃণমূলে সুচিত জ্ঞান প্রক্রিয়ার প্রাতিষ্ঠানিকীকরন প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদগুলিকে এই মহতী কাজে ব্যবহার করতে পারলেই গ্রামগুলি জেগে উঠবে। ভবিষ্যতের জ্ঞান সমাজের বিকাশ এপথেই আসবে। তেমন জ্ঞানসমাজ হবে দারিদ্রমুক্ত সমাজ। জ্ঞান গ্রাম দারিদ্র মুক্ত গ্রাম।