কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/কাড়াপাড়া নারী কল্যাণ সংস্থা গ্রামীণ তথ্য কেন্দ্র

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কাড়াপাড়া নারী কল্যাণ সংস্থা গ্রামীণ তথ্য কেন্দ্র
বাগেরহাট
পরিদর্শনের তারিখ: ১১ নভেম্বর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন ১. আবু জুবায়ের, দিগন্তের ডাক পল্লীতথ্য কেন্দ্র, মাইজদি, নোয়াখালী

যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন ১. স্বপন দেবনাথ, কে.এন.কে.এস গ্রামীণ তথ্য কেন্দ্র, কে.এন.কে.এস (কাড়াপাড়া নারী কল্যান সংস্থা), বাগেরহাট

১. টেলিসেন্টার পরিচিতি

ক. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ:
২৫ জুলাই ২০০৯।

খ. যেভাবে শুরু হয়েছিল
প্রথম আলো খুলতেই একটি টেলিসেন্টার গ্রামের মানুষের কি কি উপকারে আসে তা চোখে পড়ল কে.এন.কে.এস (কাড়াপাড়া নারী কল্যাণ সংস্থা)-র নির্বাহী পরিচালক অনিতা রায়-এর চোখে। তিনি তখন থেকে ভাবতে থাকেন কি করে এমন একটি তথ্য কেন্দ্র তার সংস্থায় গ্রামের মানুষের কাজে লাগতে পারে এবং কোথায় পাবেন এটি করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা। ঠিক কয়েক মাস পরেই বাংলাদেশ এন.জি.ও ফাউন্ডেশন থেকে একটি ইমেইল পান তথ্যকেন্দ্র করার জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেয়ার বিষয়ে। তাদের শর্তে রাজি হয়ে গেলেন নির্বাহী পরিচালক অনিতা রায়। এভাবেই শুরু হয় কে.এন.কে.এস গ্রামীন তথ্য কেন্দ্র।

গ. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল
বাংলাদেশ এন.জি.ও ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে কে.এন.কে.এস (কাড়াপাড়া নারী কল্যাণ সংস্থা) পরিচালনা করে আসছে।

ঘ. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন
কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি ও মৎস্য তথ্য দেয়ার জন্য, স্কুল , কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রী ও শিক্ষকবৃন্দের প্রয়োজনী যুগোপযোগী তথ্যের জন্য, কম খরচে ডিজিটাল স্টুডিও, কম খরচে ইন্টারনেট ব্যবহার, বেকার শিক্ষিত যুবকদের জন্য, কম খরচে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, সঠিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা, গ্রামের মানুষের দৈনিক পেপার পড়ার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

পরিদর্শনকারীর মতামত আবু জুবায়ের: উপরোক্ত কারন ছাড়াও এ কেন্দ্রের স্থানটি গ্রামের প্রবেশমুখে, এছাড়াও এখানে পূর্ব থেকেই সংস্থার অন্যান্য কার্যক্রম সফলতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা

সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে
কৃষি,মৎস চাষ ও স্বাস্থ্য সেবা এলাকার সকল জনসাধারনকে যে কোন সময শুধু একটি ১০ টাকা দিয়ে কার্ড করে তথ্য কেন্দ্রের সদস্য হতে হয় এবং প্রিন্টিং খরচ নেয়া হয়।
ডিজিটাল স্টুডিও এলাকার সকল জনসাধারনকে অফিস চলাকালীন সময তথ্য কেন্দ্র নির্ধারিত ফি নেয়া হয
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রয়োজন অনুসারে জনসাধরনকে সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত। (ব্যাচ করে) তথ্য কেন্দ্র নির্ধারিত ফি নেয়া হয
পত্রিকা পড়া, ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা, ইমেল করা সকল জনসাধরকে অফিস চলাকালীন সময়ে তথ্য কেন্দ্র নির্ধারিত ফি নেয়া হয়
বিভিন্ন শিক্ষামুলক ভিডিও প্রদর্শন এলাকার জনসাধারণ সহ সরকারী বিভিন্ন দিবসে অফিস চলাকালীন সময়ে কোনো ফি নেয়া হয় না

পরিদর্শনকারীর মতামত
আবু জুবায়ের: এছাড়াও ক্যাম্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়।

চ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা
কম্পিউটার
ডেস্কটপ কম্পিউটার
ল্যাপটপ কম্পিউটার
ফটোপ্রিন্টার
নরমাল প্রিন্টার
ইউপিএস
ডিজিটাল ক্যামেরা
স্ক্যানার
ইন্টারনেট মোডেম
মাইক
ওয়েবক্যাম
সাউন্ড বক্স
হেডফোন

ছ. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ
গ্রামীন জিপিআরএস সংযোগ রয়েছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত আবু জুবায়ের: এখানে নেট ওয়ার্কের সমস্যা প্রকট। মডেমকে জানালার বাইরে দিয়ে নেট ব্রাউজ করতে হয়

জ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি
অফলাইনের তথ্যের মধ্যে রয়েছে জীয়ন সিডি; বিভিন্ন প্রকার শিক্ষামুলক ভিডিও সিডি যেমন: বাল্যবিবাহ, যৌতুক, কুমড়ো চাষ, মোম তৈরী ইত্যাদি। শিশুদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন প্রকার শিক্ষা মুলক কার্টুন ছবি সহ বিভিন্ন প্রকার এ্যানিমেশন।


২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি

ক. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা

নাম পদবী কি কাজ করছে?
স্বপন দেবনাথ টেলিসেন্টার ম্যানেজার টেলিসেন্টারটি পরিচালনা করার জন্য সব কিছু করে থাকেন।
শিরীন সুলতানা তথ্য কর্মী মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সাধারন মানুষের সমস্য নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাদের সমস্যার সঠিক পরামর্শ অনলাইন এবং অফলাইনের মাধ্যমে দিয়ে থাকেন।
পরেশ দেবনাথ স্বেচ্ছাসেবক মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সাধারন মানুষের সমস্য নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাদের সমস্যার সঠিক পরামর্শ অনলাইন এবং অফলাইনের মাধ্যমে দিয়ে থাকেন।

খ. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া
স্বপন দেবনাথ: প্রথমে কর্মী নির্বাচনের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় ও জনবহুল স্থানে, এরপর আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদনের ভিত্তিতে পরীক্ষার মাধ্যমে এখানে নির্বাচিত হলেন।

গ. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ

সময় স্বপন দেবনাথ
সকালে ১. মুভমেন্ট রেজিষ্টারে সই করে মাঠ পর্যায়ে চলে যান।

২. বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সমস্যার কথা শোনেন এবং ল্যাপটপের মাধ্যমে তা সমাধান করে থাকেন।

দুপুরে ১. ছবি এডিট করা

২. মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খোঁজা

বিকেলে ১. কম্পিউটার প্রশিক্ষণ

২. তথ্যকেন্দ্রে আসা জনসাধরনকে সেবা প্রদান

সন্ধায় ১. কম্পিউটার প্রশিক্ষন

২. তথ্যকেন্দ্রে আসা জনসাধরনকে সেবা প্রদান

ঘ. সামাজিক প্রতিকূলতা
কিছুটা ধর্মীয় গোঁড়ামী দেখা দেয়। অনেকে মনে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছবি তুলে এবং বিভিন্ন রকম কথা বলে যেমন, বেধর্মী কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু যারা এই ধরনের কথা বলে তাদেরকে তখন সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলে তারাই আবার সেন্টারের কাজে সাহায্য করে থাকে। ডিজিটাল স্টুডিও নিয়ে যখন মানুষের মাঝে বলা হয় যে এখানে খুব কম খরচে ছবি তোলা হয় তখন পাশ্ববর্তী দোকান গুলো তথ্যকেন্দ্র সম্পর্কে বিভিন্ন প্রকার কথা বলে থাকে। এরপর তাদেরকে আমাদের উদ্দেশ্যটা সঠিক ভাবে বললে তারা বুঝতে পারে। প্রথম প্রথম সামাজিক ভাবে বিশ্বাস করাতে খুব কষ্ট হতো এখন আর কোন কষ্ট হয় না।

পরিদর্শনকারীর মতামত আবু জুবায়ের: কর্মী তার নিজ যোগ্যতাবলে মাঠের সমস্যা সমূহ সমাধান করে থাকেন।

ঙ. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার

ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন
http://www.blri.gov.bd বিভিন্ন পশুপাখি সম্পর্কে জানার জন্য।
www.agrobanglagroup.org বাংলাদেশের কৃষি, পশু-পাখি পালন ও রোগ প্রতিরোধে করনীয় সম্পর্কে জানার জন্য।
http://banglalibrary.evergreenbangla.com বাংলা গল্প, কবিতা,প্রবন্ধ ইত্যাদি বিষয় পড়ার জন্য।
http://www.boi-mela.com বই মেলায় যে সকল বই আছে তা পড়ার জন্য।
http://www.jeebika.com বাংলায় চাকুরীর খবর জানার জন্য।
http://www.talkenglish.com ইংরেজী শেখার জন্য।
http://www.educationboard.gov.bd বিভিন্ন পরীক্ষার রেজাল্ট জানার জন্য।
http://health.evergreenbangla.com স্বাস্থ্য বিষয়ে জানার জন্য।
http://www.prothom-alojobs.com চাকুরীর খবর জানার জন্য।
http://www.bdnews24.com বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার খবর পড়ার জন্য।
http://www.ragatracks.com বিভিন্ন গান শোনা এবং ডাউনলোড করার জন্য
http://www.krishibangla.com/ বাংলাদেশের কৃষি, পশু-পাখি পালন ও রোগ প্রতিরোধে করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য।
www.ovidhan.org এটি অনলাইন ইংলিশ টু বাংলা এবং ইংলিশ টু ইংলিশ ডিকশনারীর ওয়েবসাইট। এখানে কেউ কোন ইংরেজী ওয়ার্ড লিখে সার্চ দিলেই ঐ ওয়ার্ডটির অনেকগুরো বাংলা এবং ইংরেজী প্রতিশব্দ আসবে।
http://grameentathya.ning.com/ এটি একটি ব্লগ সাইট। এখানে বিভিন্ন প্রকারের তথ্য পাওয়া যাবে।

চ. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান
স্বপন দেবনাথ ইহাহু, স্কাইপ, বিবিসি জানালা, গ্রামীন তথ্য কেন্দ্র ব্লগ এর সদস্য।

পরিদর্শনকারীর মতামত
আবু জুবায়ের: নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এ কেন্দ্রের কর্মীদের ইন্টারনেটে সবসময় পদচারনা রয়েছে এবং বিভিন্ন ব্লগ সাইটে সরব দেখা যায়।

ছ. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে
স্বপন দেবনাথ: পূর্বে একটি স্কুল প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত ছিলেন। প্রথমত তথ্য প্রযুক্তির নিয়ে কাজ করতে ভাল লাগে এবং আরো ভালো লাগে যখন মানুষকে ইন্টারনেট এর মাধ্যমে সঠিক তথ্যটি দেয়া হয় তখন তারা যে আনন্দ প্রকাশ করে। এই আনন্দ তাকে কাজে বেশ উৎসাহিত করে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
আবু জুবায়ের: কেন্দ্রের সাথে কর্মীর আন্তরিকতার মাধ্যমেই কর্মীর ভাল লাগার দিকটি ফুটে উঠে।

জ. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
স্বপন দেবনাথ: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হল এরকম টেলিসেন্টার কৃষি ভিত্তিক এবং অধিকাংশ জনগন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে আছে, সে সব এলাকায় স্থাপন করা।

ঝ. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন
স্বপন দেবনাথ: পিতাঃ মৃত: বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ; মাতাঃ অনিতা দেবনাথ। তার স্থায়ী ঠিকানা - গ্রাম এবং পোষ্টঃ তুষখালী, উপজেলাঃ মঠবাড়িয়া, জেলাঃ পিরোজপুর, বর্তমান ঠিকানাঃ গ্রাম+পোষ্টঃ কাড়াপাড়া, উপজেলাঃ বাগেরহাট সদর, জেলাঃ বাগেরহাট। তিনি তুষখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে থেকে এস,এস,সি ১৯৯৬ সালে প্রথম বিভাগে পাশ করেন। এর পর সরকারী পি.সি কলেজ, বাগেরহাট থেকে ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগে এইচ,এস,সি পাশ করেন এবং বি.এস.এস(অর্থনীতি) তে অনার্স শেষ করে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীততে মার্ষ্টাস করেন। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়া চলাকালীন সময়ে তার পিতা পরলোক গমন করেন। এর পর তিনি কে.এন.কে.এস এ ২০০১ সালে ৫ ডিসেম্বর কম্পিউটার সেকশনে চাকুরী গ্রহন করেন এবং বর্তমানে বাগেরহাটে আছেন। তার শখ এবং আশা কম্পিউটারে আরো ভাল কাজ শেখা ও করা এবং বিটিএন-এর সাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো।

৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে

ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান
ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে এটি বাগেরহাট সদর উপজেলার ১ নং ইউনিয়ন । এর পশ্চিমে রয়েছে খানজাহান আলী পির সাহেবের মাজার এবং ঐতিহ্যবাহী ষাটগুম্বজ মসজিদ, পূর্বে বাগেরহাট শিল্প নগরী (বিসিক), দক্ষিনে দিকে সুন্দরবন এলাকা, উত্তরে বাগেরহাট পৌরসভা এবং প্রধান শহর। এলাকায় প্রায় ১০,০০০ লোকের বসবাস।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা
এলাকার জনগনের প্রধান পেশা কৃষি ও মাছ চাষ। এছাড়া চাকুরী , ব্যবসায়, শ্রমিক বা দিনমজুর প্রভৃতি কাজ করে থাকে।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো:
সব কিছু এলাকায় ভালভাবে রয়েছে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ:
সরকারী প্রতিষ্ঠান ৭ টি- সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু একাডেমী, ডাকঘর। বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে রয়েছে পূবালী ব্যাংক, মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা, ব্র্যাক এর একটি শাখা অফিস।

ঙ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা
এলাকায় গুরুতপুর্ণ স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী পীর সাহেবের মাজার, ষাটগম্বু^জ মসজিদ, নয় গুম্বজ মসজিদ, এক গুম্বজ মসজিদ, অযোধ্যার মঠ, সুন্দরবন।


৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল

ক. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী

উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ
স্বাস্থ্য ক্যাম্প প্রতি বৃহস্পতিবার টেলিসেন্টারে একজন এফ.সি.পি.এস ডাক্তার এনে বিনা মূল্যে রোগী দেখার ব্যবস্থা করা হয়।
ভিডিও প্রদর্শন প্রায়ই বাজার, স্কুল, মন্দির এসব জনবহুল এলাকায় শিক্ষামূলক ভিডিও দেখানোর আয়োজন করা হয় ফলে জনগন আরো বেশি টেলিসেন্টারের সাথে সম্পৃক্ত হয়।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরী করা, এনজিও কর্মীরা বিভিন্ন ওয়েব সাইট ব্যবহার করে, শিক্ষা প্রতিষ্টান সমূহ বিভিন্ন সময় তাদের সরকারী ফরম সংগ্রহ করে।

গ. স্থানীয় সরকার এবং অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর টেলিসেন্টার থেকে বিভিন্ন সময় তথ্য নেয় এবং একইসাথে টেলিসেন্টারও তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদ ও টেলিসেন্টারের মধ্যে নিয়মিত তথ্য আদান প্রদান হয়ে থাকে।

ঘ. এলাকার ক্ষুদ্র ব্যসায়ীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা :
এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা টেলিসেন্টার থেকে সেবা গ্রহন করে যেমনঃ কোন কিভাবে মাছ চাষ করলে বেশি লাভ হবে, সবজি চাষ, মুরগীর খামার করা ইত্যাদি।

ঙ. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা :
নারীরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ,স্বাস্থ্য সেবা এবং বাড়িতে সবজি চাষ করে কি ভাবে বেশি টাকা আয় করা যায় সে বিষয়ে সেবা গ্রহন করে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
আবু জুবায়ের: মোবাইল লেডীর কাছ থেকে ছবি তোলাসহ অন্যান্য সেবা গ্রহন করে। শিক্ষিতজন সহ এলাকাবাসীর অনেকেই বিদেশে অবস্থানরত আত্নীয়ের সাথে স্কাইপ বা ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে চ্যাট করতে পারে।

চ. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
এলাকার শিশু কিশোররা এখানে এসে কম্পিউটারে গেমস খেলে, কার্টুন ছবি দেখে।

৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা

ক. দৈনিক কর্মসময়:
সকাল নয়টা থেকে সন্ধা ছয়টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
আবু জুবায়ের: এছাড়াও সেবাগ্রহিতাদের চাহিদা অনুযায়ী এর আগে বা পরেও কেন্দ্রের ব্যবস্থাপককে কেন্দ্র অবস্থান করতে দেখা গেছে। বন্ধের দিনসমূহেও প্রয়োজনে খোলা রাখা হয়।

খ. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন:
তথ্য কর্মী এবং ম্যানেজার নিজের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ভাগাভাগি করে নেয়।

গ. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা
একজন টেলিসেন্টার কর্মী প্রতিদিন অফিসে এসে অফিসের প্রয়োজনীয় কাজ করে। পরে সে মাঠ পর্যায়ে চলে যায় এবং তাদের প্রয়োজনানুসারে সেবা প্রদান করে থাকে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ
সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সেবা গ্রহনকারী রেজিষ্টারে লিখে রাখা হয়। ছবি তুলে রাখা হয় না।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া
এলাকার চাহিদাগুলো একত্র করে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে নতুন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চ. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ
ক্যাশ বুক, লেজার বুক এবং কম্পিউটারে একসেল প্রোগ্রামে রাখা হয়।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন
ছয় মাস পরপর একটি চেকলিষ্ট এর মাধ্যমে কর্মীদের মুল্যায়ন করা হয়।

জ. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা
টেলিসেন্টারটি দুটি রুম, একটি ওয়েটিং রুম এবং একটি সেবাপ্রদানের জন্য।

পরিদর্শনকারীর মতামত
আবু জুবায়ের: একটি বড় ও একটি ছোট রুমের মাধ্যমে এ কেন্দ্রটি পরিচালিত হয়। বড় রুমের মধ্যেই সুন্দরভাবে সকল সেবা প্রদানের জন্য সাজানো হয়েছে। ছোট রুমটি ওয়েটিং রুম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও আলাদা গোসলখানা রয়েছে।


৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম

ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয়

সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ
কম্পিউটার প্রশিক্ষন তারা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারে।
ছবি তোলা অন্যান্য স্থানের থেকে কম মূল্যে তারা পেয়ে থাকে।
কার্টুন ছবি দেখা কোন প্রকার ফি প্রদান করা লাগে না।
ইন্টারনেট ভিত্তিক সেবা অন্যান্য স্থানের থেকে কম মূল্যে তারা পেয়ে থাকে।
কৃষি ভিত্তিক সেবা অন্যান্য স্থানের থেকে কম মূল্যে তারা পেয়ে থাকে।
মাছ চাষ সংক্রান্ত সেবা অন্যান্য স্থানের থেকে কম মূল্যে তারা পেয়ে থাকে।
আইন পরামর্শ অন্যান্য স্থানের থেকে কম মূল্যে তারা পেয়ে থাকে।
কম্পিউটার প্রশিক্ষন তারা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারে।
ছবি তোলা অন্যান্য স্থানের থেকে কম মূল্যে তারা পেয়ে থাকে।
কার্টুন ছবি দেখা কোন প্রকার ফি প্রদান করা লাগে না।
ইন্টারনেট ভিত্তিক সেবা অন্যান্য স্থানের থেকে কম মূল্যে তারা পেয়ে থাকে।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা:
বিষয় ভিত্তিক তথ্যের উপর এলাকার কৃষক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ করানো।


৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়

ক. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্য:
নিজেরাই সমাধান করতে পারে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
আবু জুবায়ের: নতুন কেন্দ্র হওয়াতে সকল যন্ত্রপাতি এখনো নতুন। তাই এখনো তেমন বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি।

খ. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা
টেলিসেন্টার কর্মীদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব। এছাড়াও পারিবারিক অস্বচ্ছলতা, টেলিসেন্টারের ভবিষ্যত সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া, হার্ডওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকা, কথা বলার পারদর্শীতার অভাব, সঠিক কর্মপরিকল্পনা না থাকা প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে।

গ. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে
৩ মাস বা ৬ মাস পরপর ভাল প্রশিক্ষন এর ব্যবস্থা করা।


৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয়

ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে):
৭০ জন সেবা গ্রহন করে

খ. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে:
টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ৮০ ভাগ লোক জানে

গ. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে
সকলে মিলে তথ্যকেন্দ্রে আসে এবং প্রতিবেশীসহ অন্যান্য বন্ধু বান্ধবদের মাঝে এর প্রচারের মাধ্যমে এলাকার জনগন সতঃস্ফুর্ত ভাবে কার্যক্রমে সহায়তা করে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা)
ল্যাপটপ ১ টি ৪৭,০০০
ডেক্সটপ কম্পিউটার ৩ টি ৭৫,০০০
ডিজিটাল ক্যামেরা ১০,০০০
প্রিন্টার নরমাল ৩,০০০
প্রিন্টার (ছবির জন্য ফটো প্রিন্টার) ৬,৫০০
ইন্টারনেট সংযোগের মোডেম ৪,০০০
ওয়েব ক্যামেরা ১,৮০০
স্ক্যানার ৩,০০০
ইউপিএস ২ টি ৫,৬০০
হেডফোন ৫০০
মাইক ২,৫০০
আসবাবপত্র ৫,০০০

ঙ. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল
বাংলাদেশ এন জি ও ফাউন্ডেশান এবং নিজস্ব অর্থায়ন

চ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ
কোন ঋন নেয়া হয়নি।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত অংক
তথ্য কর্মীদের বেতন ৮,০০০
বিদ্যূত বিল ২০০
ছবি সংক্রান্ত ২০০
ইন্টারনেট ৩৫০
প্রচার ৫০০
যাতায়ত ৫০০
মেরামত ৫০০
আপ্যায়ন ৫০০
আনুষঙ্গিক ৫০০

জ. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত আয়ের পরিমান (এক মাসে)
কম্পিউটার প্রশিক্ষন ৩,০০০
ছবি তোলা ৩,৫০০
তথ্য ও আনুষঙ্গিক সেবা প্রদান ২,০০০

পরিদর্শনকারীর মতামত
আবু জুবায়ের: অন্যান্য আয়ের পাশাপাশি ক্যাম্পের মাধ্যমেও আয় হয়ে থাকে। এছাড়াও স্কাইপ বা ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যেমে আয় করা সম্ভব


৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা

উপকারভোগীর নামঃ নজিবর শেখ উপকারভোগী একজন কৃষক এবং আর্থিক অবস্থান মোটামুটি ভাল। উপকারভোগী যখন প্রথমে কৃষি খামার শুরু করে তখন তার ফসলের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছিল পোকামাকড় এবং বিভিন্ন প্রকার রোগের কারনে। ঠিক তখনই কে.এন.কে.এস গ্রামীন তথ্য কেন্দ্রের কথা জানতে পারেন এবং তিনি এখানে এসে প্রতিনিয়ত সেবা নেয়া শুরু করেন। কে.এন.কে.এস গ্রামীন তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে তথ্যসেবা নিয়ে তিনি বাজার থেকে পোকার ওষুধ কিনে আনেন এবং তা প্রয়োগের মাধ্যমে পোকামাকড় ও বিভিন্ন প্রকার রোগের হাত থেকে রক্ষা পান। পরে ভাল ফসল ঘরে তোলে। এছাড়াও সময়মতো ও প্রয়োজনমতো সার প্রয়োগ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য পেয়েছেন।