কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/উদয়ন পল্লীতথ্য কেন্দ্র

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

উদয়ন পল্লীতথ্য কেন্দ্র
সাঘাটা, গাইবান্ধা
পরিদর্শনের তারিখ: ০৭ নভেম্বর ২০০৯ থকে ১১ নভেম্বর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন
১. দিদারূল আলম, ই-ভিলেজ, মাইজদি, নোয়াখালী
২. মো. নাজমুল হোসেন, ব্রাক ভবানীপুর গণকেন্দ্র পাঠাগার, গাজীপুর ৩. মো: শফিকুল শেখ, আমাদের গ্রাম, শ্রীফলতলা, বাগেরহাট

যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন
মো: আখতারুজ্জামান মৃধা, উদয়ন পল্লীতথ্য কেন্দ্র, সাঘাটা, গাইবান্ধা


১. টেলিসেন্টার পরিচিতি
ক. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ:
১০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ ইং

খ. যেভাবে শুরু হয়েছিল:
মো. শাহাদত হোসেন মন্ডল, পরিচালক, উদয়ন বলেন ডি.নেট যখন গাইবান্ধা জেলাতে পল্লীতথ্য কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় তখন জিইউক ও পল্লীবধূ আবেদন করে চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু আমরা ব্যক্তিগত ও এলাকার জনগণের চাহিদার কথা চিন্তা করে পল্লীতথ্য কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেই এবং ডি.নেট এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হই।

গ. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল:
ডি.নেট (ডেভেলপমেন্ট বিসার্চ নেটওয়ার্ক) এর উদ্যোগে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত অবলম্বন ২ প্রকল্পের অধীনে এ পল্লীতথ্য কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থা’ পল্লীতথ্য কেন্দ্রটি স্থাপন ও পরিচালনা করছে

ঘ. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন:
উদয়ন একটি স্বেচ্ছাসেবী স্বাবলম্বী সংস্থা। পরিচালকের মাধ্যমে জানা গেল এলাকার সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রাপ্তির সুযোগ ও তথ্য প্রযুক্তির সেবা থেকে বঞ্চিত। এই অসহায় মানুষগুলোর কাছে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্দ্যেশ্যে এবং প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সহজ যোগাযোাগ গড়ে তুলতে এই স্থানটি টেলিসেন্টার এর জন্য নির্বাচন করা হয়।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা

সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে
কৃষি গ্রামের কৃষকদের দিনের যে কোন সময় ৩ থেকে ৫ টাকা করে
শিক্ষা ছাত্রছাত্রীদের দিনের যে কোন সময় ৩ থেকে ৫ টাকা করে
স্বাস্থ্য মহিলা বিশেষ সময় সেবা বুঝে ফি নেওয়া হয়।
কম্পোজ ও প্রিন্ট সাধারণ মানুষ সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ১০-১৫ টাকা
ইন্টারনেট ব্রাউজিং সবধরনের মানুষ সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টা- ৩০ টাকা
প্রবাসীদের সাথে স্কাইপে কথা বলা প্রবাসীদের স্বজনদের দুপুর একটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত নুন্যতম- ১০০ টাকা
সচেতনতা সর্বসাধারণ বিশেষ সময় সেবা বুঝে ফি নেয়া হয়।
আত্মকর্মসংস্থান সর্বসাধারণ বিশেষ সময় সেবা বুঝে ফি নেয়া হয়।
লাগসই প্রযুক্তি সর্বসাধারণ বিশেষ সময় সেবা বুঝে ফি নেয়া হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সর্বসাধারণ বিশেষ সময় সেবা বুঝে ফি নেয়া হয়।
আইন ও মানবাধিকার সর্বসাধারণ বিশেষ সময় সেবা বুঝে ফি নেয়া হয়।
পল্লী কর্মসংস্থান সর্বসাধারণ সব সময় সেবা বুঝে ফি নেয়া হয়।
সরকারী ফরম সর্বসাধারণ সব সময় সেবা বুঝে ফি নেয়া হয়।
বিষয় ভিত্তিক ক্যাম্প সর্বসাধারণ পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রতিজন- ১০ টাকা করে

পরিদর্শনকারীর মতামত
দিদারূল আলম: আমার সেন্টারে সব ধরনের মানুষের জন্য ব্রাউজিং ফি ২৫ টাকা, স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২০ টাকা। বিদেশে কথা বলার জন্য কোন বাড়তি চার্জ নেয়া হয় না। সাধারণত ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর মত প্রতি ঘন্টা হিসাবে চার্জ নেয়া হয়। কর্মজীবি/বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সরকারী ফরম সরবরাহ করা হয় যা প্রতি পৃষ্ঠা ৫ টাকা হারে নেয়া হয়। ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ফরম ২০ টাকা (অপারগতা প্রকাশে ফ্রি)। তথ্য প্রদান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সভা সেমিনারে কোন ফি নেওয়া হয় না। গরীব ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণের জন্য কোন টাকা নেওয়া হয় না। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি দেয়া হয়।
মো. নাজমুল হোসেন: এ কেন্দ্রে ইন্টারনেটের লাইন থাকলেও ধীর গতির কারণে মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়তে হয়। এই ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া দরকার।

চ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা
কম্পিউটার
প্রিন্টার
মডেম
স্ক্যানার
ওজন মাপা যন্ত্র
বিপি মেশিন
প্রিন্টার
ল্যাপটপ
মোবাইল সেট
বাইসাইকেল
ডিজিটাল ক্যামেরা
হেডফোন
ওজন মাপার যন্ত্র
ফটোকপি মেশিন

ছ. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ:
টেলিসেন্টারে গ্রামীন ফোনের (আনলিমিটেড) ইন্টারনেট সংযোগ আছে।

জ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি:
এইডস সচেতনতা (সিডি), জীয়ন তথ্যভান্ডার, মিনা কার্টুন ও সিসিমপুর (সিডি), সামাজিক নাটক (সিডি), নারীর রাজনীতি (সিডি), বর্ণশেখা (সিডি), গুণীজন (সিডি), নারী ও নকশা (বই) এবং বিভিন্ন সময় প্রচারিত বুলেটিন।


২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি

ক. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা

নাাম পদবী কি কাজ করছে?
মো: আক্তারুজ্জামান মৃধা সেন্টার পরিচালক সেন্টার ব্যবস্থাপনা, তথ্য ও পরামর্শ সেবা, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ব্যবস্থাপনা।
সুমনা আক্তার লাবণী ইনফো লেডী ভিডিও প্রদর্শন, প্রেসার মাপা, হেল্পলাইন, স্বাস্থ্যসেবা, ওজন মাপা, তথ্য সেবা, স্কাইপ সেবা ইত্যাদি।
লিপি বেগম প্রশিক্ষক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, কম্পোজ, ফটোকপি প্রভৃতি।

খ. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া
লিপি বেগম (৩১): তিনি এই এলাকার স্থানীয়। তাঁর স্বামী দীর্ঘ ১২ বছর যাবত প্রবাসে আছেন। তাদের একটি কন্যা সন্তান আছে। কিন্তু তার স্বামী ঠিকমত খোঁজ খবর নেন না। লিপি বেগম এর বাবা-মাও দায়িত্ব নিতে চাইছিলেন না। লিপিকে বললেন দ্বিতীয় বিবাহের জন্য। তিনি দ্বিতীয় বিবাহে রাজি নন। নিজে স্বাবলমী^ হওয়ার জন্য উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থায় আসেন। উদয়নের নির্বাহী জনাব শাহাদাত সাহেব তাকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের কথা বলেন। তিনি এখানে প্রশিক্ষণ নেন। এখন তিনি উদয়ন পল্লীতথ্য কেন্দ্রের প্রশিক্ষক হিসাবে আছেন। পাশাপাশি উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থার অফিসিয়াল কম্পোজের কাজও করেন। এখন তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন। পল্লীতথ্য কেন্দ্রে সেবা দিচ্ছেন ও নিজের সন্তানকে শিক্ষিত করছেন, আর স্বামীর প্রতিক্ষায় আছেন। যদি কোনদিন ফিরে আসে আবার।
সুমনা আক্তার লাবণী: তিনি প্রথমে উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ডি,নেট এর পল্লীতথ্য কেন্দ্র চালু হলে টেলিসেন্টার ম্যানেজার লাবণীকে ইনফো লেডী হিসাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন এবং এ সম্পর্কে ধারণা দেন। লাবণী এই আইটি বিষয় ভালভাবে জানা ও বোঝার জন্য এবং একইসাথে মানুষের সেবা করার ইচ্ছা থাকায় ইনফো লেডি হিসাবে যোগ দেন। এখন লাবণী উদয়ন পল্লী তথ্যকেন্দ্রে ইনফো লেডি হিসাবে কর্মরত আছেন।
মো: আক্তারুজ্জামান মৃধা: তিনি উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থায় সাইন বোর্ড, ব্যানার পোষ্টার বাঁধাই এর কাজ করতেন। ২০০৭ সালের জুন মাসে ইউএসএস এর কর্মী মারফত জানতে পারেন একজন তথ্য কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। তখন উক্ত পদে আবেদন করলে ডি.নেট ও ইউএসএস প্রতিনিধিসহ সকল আবেদনকারীর সাথে আলোচনা ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হন।

গ. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ

সময় লিপি বেগম সুমনা আক্তার লাবণী মো: আক্তারুজ্জামান মৃধা
সকালে ১. সকাল বেলা নয়টায় আসেন।
২. জাতীয় সঙ্গীতে যোগ দেন।
৩. সেন্টারে গিয়ে প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করেন।
১.মোবাইল, ল্যাপটপ, পেসার মাপার যন্ত্র নিয়ে গ্রামে যান এবং গ্রামের মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেন। সকাল নয়টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত। ১. সকল কম্পিউটারের বিদ্যুৎ লাইন চেক করে কম্পিউটারগুলো চালু করা।
২. ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে ইমেইল চেক করা।
৩. কর্মীদের সাথে আলোচনা ও কর্মপরিকল্পনা অনুসারে ফিল্ডে যাওয়া।
দুপুরে ১. অফিসের কম্পোজ ও ফটোকপি করেন।
২. প্রশিক্ষণ দেন।
১. দুপুরে খাবার গ্রহণের পর হেল্প লাইন ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ।
২. রোগীদের দেখেন।
১ ফিল্ড থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে কম্পোজ করা
২. আবার ইমেইল চেক করা।
৩. কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে কথা বলা এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও সমাধান খুঁজে বের করা।
বিকেলে ১. শিশুদের ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী। ১. গ্রামের সকল জনগণের জন্য তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দেন। ১. কর্ম এলাকায় গিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়া।
২. তাদের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন করা।
৩. তাদের আরো কোন সমস্যা থাকলে তা জানা।
সন্ধায় ১. আবার ই-মেইল চেক করা ও সেন্ড করা।
২. জীয়ন দেখা।
৩. ইন্টারনেট ব্রাউজ করা।
৪. কম্পিউটার এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানার জন্য সময় ব্যয় করা।

ঘ. সামাজিক প্রতিকূলতা
ইনফো লেডী এখন তেমন কোন সমস্যা ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু গ্রামের মানুষ প্রথম প্রথম বিভিন্ন কানা-ঘুষা ও নানারকম কথা বলত। তখন তাকে সহজভাবে নেয়নি;
ইনফো লেডীকে সাইকেল চালিয়ে গ্রামে তথ্য প্রদান করতে হয় বলে অনেক সময় সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়;
প্রথমে সেবার বিনিময়ে টাকা দিতে চায় না;
সাংবাদিক মনে করতো;

ঙ. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার

ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন
১. www.google.com ওয়েব ঠিকানা ও তথ্য অনুসন্ধান করার জন্য খোঁজার জন্য।
২. www.educationboard.gov.bd পরীক্ষার রেজাল্টের জন্য।
৩. www.yahoo.com তথ্য আদান প্রদান করার জন্য
৪. www.gmail.com ই-মেইল এর জন্য
৫. www.bangladesh.gov.bd সরকারী তথ্য এর জন্য
৬. www.pallitathya.org.bd পল্লীতথ্য কার্যক্রম সম্পর্কে
৭. www.dshe.gov.bd মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অধিদপ্তর

চ. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান
www.pallitathya.ning.com
www.gmail.com
www.yahoo.com
www.skype.com

ছ. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে
লিপি বেগম: ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তিনি আনন্দ পান। গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা যখন এসএসসি, এইচএসসি অথবা কোন রেজাল্ট দেখার জন্য আসে এবং তারা উত্তীর্ণ হলে তাদের আনন্দে তিনি নিজেকেও সামিল করে নেন।
সুমনা আক্তার লাবণী: দরিদ্র শিশুদের সেবার মানসিকতা তাকে এ কাজে আগ্রহী করে তুলেছে।
মো: আক্তারুজ্জামান মৃধা: পূর্ব পেশা ছিল আর্ট (সাইনবোর্ড,ব্যানার, ইত্যাদি লেখার ব্যবসা)। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল।

জ. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
লিপি বেগম: কম্পিউটার সম্পর্কে তিনি আরও জানতে চান, আরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিতে চান। নিজেকে আরও দক্ষ হিসাবে গড়ে তুলতে এবং কাজ করতে চান।
ঝরনা রানী দেবনাথ: তার পরিকল্পনা হলো আরও দক্ষতা অর্জন করে কেন্দ্রটি ভালভাবে চালানো এবং স্বচ্ছল করে গড়ে তোলা।
সুমনা আক্তার লাবণী: ইনফো লেডীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে কিভাবে এই সেন্টারে আয় বৃদ্ধি করা যায় এবং এই টেলিসেন্টারকে উন্নতির দিকে ধাবিত করা যায়। একইসাথে নিজেকে আরো বেশি তথ্য প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত করা।
মো: আক্তারুজ্জামান মৃধা: তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানা এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তা কাজে লাগানো।

ঝ. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন:
সুমনা আক্তার লাবণী: গ্রামের স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করার পর উদয়নে যোগ দেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। তাদের বিবাহিত জীবন সাত বছরের। ইনফো লেডী এক সন্তানের মা। এখন তিনি এইচএসসিতে অধ্যয়নরত। তার স্বামীর বাড়ি কচুয়াঘাট গ্রামে। তিনি অনেক প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করে গ্রামের জনগণকে তথ্য সেবা পরিবেশন করে আসছেন।
মো: আক্তারুজ্জামান মৃধা (২৬): গ্রাম: ধানঘড়া, পো: খামার ধনারুহো, থানা: সাঘাটা, জেলা: গাইবান্ধা। পিতা: মো: মমতাজুর রহমান, পেশায় মসজিদের ইমাম। মাতা: মোছা: আসমা বেগম, গৃহিণী। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে আখতারুজ্জামান মৃধা বড়। তিনি বিবাহিত। পূর্বে আর্ট এর ব্যবসা (সাইনবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ইত্যাদি) করতেন। বর্তমানে উদয়ন পল্লীতথ্যকেন্দ্রে চাকুরী করছেন। তিনি মনে করেন যদি এই পেশার সাথে জড়িত না হতেন সারা জীবন ইন্টারনেট কি এবং কম্পিউটারের ছোট ছোট সমস্যার সমাধান জানতেন না। তিনি ডি.নেট ও উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থার নিকট চির কৃতজ্ঞ।


৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে

ক.তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান :
উদয়ন পল্লীতথ্য কেন্দ্র যমুনা নদীর পার্শ্ববর্তী জেলা গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারী গ্রামে অবস্থিত। সাঘাটা উপজেলার পূর্বে যমুনা নদীর অপর পারে জামালপুর জেলার দেওয়ালগঞ্জ অবস্থিত। এখানকার জনগণের প্রধান পেশা কৃষি। এখানকার মোট জনসংখ্যা ২৫০২৬৯ জন।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা:
যাদের শতকরা ৮০% লোক কৃষিজীবি ও ২০% লোক চাকুরী, ব্যবসা ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। এখানকার প্রধান কৃষি ফসল হচ্ছে, ধান, পাট, ভূট্টা, গম।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো:
দিনে ১-৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকে, এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক পাকা কিন্তু খুবই ভগ্ন দশা এবং পল্লী এলাকার সড়কগুলো কাঁচা। ইন্টারনেট গ্রামীণ ফোনের সংযোগ নেয়াতে এই এলাকায় স্পীড খুব ধীরগতি এবং মাঝে মাঝে থাকে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান:
এলাকায় সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, পশু সম্পদ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কৃষি অধিদপ্তর, ভূমি অফিস, স্বাস্থ্য কম্প্লেক্স, শিক্ষা অফিস, খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস, পরিসংখ্যান অফিস, পল্লী উন্নয়ন, আনসার ও বিডিপি ইত্যাদি। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আশা, ব্র্যাক, নিজেরা করি, উদয়ন স্বাবলম্বি সংস্থা, এম,কে,এস, আত্ম উন্নয়ন, গণ কল্যাণ সংস্থা, মহিলা উন্নয়ন কর্মসূচী, বিডব্লিউএইচসি, টি,এম,এস,এস।

ঙ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ:
ফোনের দোকান আছে- ১১টি, সাইবার ক্যাফে নাই, ডিজিটাল স্টুডিও আছে- ১২-১৫টি।

চ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা:
একটি কালী মন্দির আছে যেখানে প্রতি হাট বারে একটি করে পাঠা বলি দেয়া হয়। বৈশাখ মাসে একমাস ব্যাপী মেলা হয়। ঐ সময় প্রতিদিন পাঠা বলি দেয়া হয়।


৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল

ক. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী

উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ
উঠান বৈঠক বাড়ির উঠোনে ১০-১৫ জন নিয়ে উঠান বৈঠক হয়।
ভ্যান ক্যাম্প ভ্যানে মাইক নিয়ে গ্রামে গ্রামে জীয়ন সিডি ও ভিডিও দেখান হয়।
স্বাস্থ্য ক্যাম্প কোন এমবিবিএস ডাক্তার নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে প্রচার করে রোগী দেখা হয়।
কৃষি ক্যাম্প এলাকার কৃষকদের একত্রিত করে কৃষিবিদ নিয়ে এসে সরাসরি প্রশ্ন উত্তর এর ব্যবস্থা।
আইন ক্যাম্প উকিল নিয়ে এসে সুবিধা বঞ্চিত লোকদের আইন সচেতনতা বাড়ানো হয়।
শিক্ষা ক্যাম্প গ্রামের স্কুলগুলোতে শিক্ষা বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
এনজিও গুলো বিভিন্ন সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করে। স্কুল কলেজ ছাত্রছাত্রীরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন তথ্যের জন্য আসে।

গ. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা :
প্রবাসী স্বামীর সাথে মেইল ও কথা বলা, স্বাস্থ্য সেবা, প্রেসার মাপা, ওজন মাপা, কৃষি ও আইন তথ্য।

ঘ. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
শিশুরা সিসিমপুর, মিনা কার্টুন সহ অন্যান্য কার্টুন ছবি দেখে। কিশোররা আসে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহন, বিনোদনমূলক চলচ্চিত্র দেখা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, তথ্য সেবা গ্রহন প্রভৃতি কারনে।


৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা

ক. দৈনিক কর্মসময়:
শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে ছয়টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

খ. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন:
কর্মীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দায়িত্ব ভাগ করে নেন - কেউ মাঠে, কেউ অফিসে, কেউবা প্রশিক্ষণে।

গ. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা :
সকাল নয়টা থেকে দুইটা পর্যন্ত মোবিলাইজিং, প্রশ্ন সংগ্রহ, ভিডিও সেবা, উঠান বৈঠক। দুইটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত কম্পিউটার কম্পোজ, ই-মেইল চেক, ই-মেইল করা, আনুসাঙ্গিক সেবা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইত্যাদি।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ:
টেলিসেন্টার পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহিতার কোন তালিকা বা ছবি সংরক্ষিত হয় না। তবে সেবা প্রদান ফর্মের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়। টেলিসেন্টার কর্মী তার কাজ তালিকাবদ্ধ করেননা।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া:
পরিচালক মহোদ্বয়ের সাথে আলোচনা ও কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। টেলিসেন্টার ম্যানেজার অন্যান্য কর্মীদের কাজ দেখাশোনা করেন এবং প্রয়োজন অনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

চ. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ:
এক্সেলে ফরমেট করা নির্দিষ্ট খাতে আয় ও ব্যয় সমূহ পোস্টিং দেয়া হয়। পরবর্তীতে তা প্রিন্ট নিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া ক্যাশ বুক,লেজার বুক, ভাউচার ফাইল, আর্থিক প্রতিবেদন প্রভৃতি প্রস্ত্তত করা হয়। পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. নাজমুল হোসেন: সমস্ত হিসাবের জন্য একটি সফটওয়্যারের ব্যবস্থা করলে হিসাব রাখা আরও সহজ হতো।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন:
প্রতি বছর শেষের দিকে কর্মী মূল্যায়ন করা হয়। প্রথমে ফরমেট তৈরী করে কর্মী আত্মমূল্যায়ন ও সংগঠন থেকে মূল্যায়ন করা হয়।

জ. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা:
টেলিসেন্টারটিতে তিনটি রুম: ১. ম্যানেজার রুম, ২. স্বাস্থ্য সেবা ও তথ্য সেবা রুম, ৩. কম্পিউটার প্রশিক্ষণ রুম। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ রুমে কম্পিউটার রাখার জন্য টেবিল এবং শিক্ষার্থীদের বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা আছে।


৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম

ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয়

সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ স্বল্প খরচে এলাকার সকল জনগণ তথ্য প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ নিচ্ছে
সিডি প্রদর্শন সিডির মাধ্যমে বর্ণমালা শিখছে এবং বিভিন্ন ধরনের লার্নিং হচ্ছে।
কম্পিউটার কম্পোজ ও প্রিন্ট সঠিক মূল্য ও নিকটে
ইন্টারনেট সঠিক মূল্য ও নিকটে
ভিডিও তাদের বিনোদন হয় ও অনেক বিষয় জানতে পারে
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্ম সংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির
ফটোকপি সঠিক মূল্য ও নিকটে
জীয়ন কম মূল্যে ও তাদের হাতের নিকটে
স্বাস্থ্য এমবিবিএস ডাক্তার দেখাতে পারছে ও বিশেষজ্ঞের সাথে সরাসরি সাক্ষাত
কৃষি কৃষি বিষয়ে জানতে পারে।
আইন দালালদের দৌরাত্ব থেকে রেহাই পায়
শিক্ষা শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও দেশ ও বিদেশের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা
রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা
রক্তে ডায়াবেটিস পরীক্ষা
প্রেগনেন্সির আধুনিক চিকিৎসা সেবা
মাটি পরীক্ষা।
শিক্ষামূলক সিডি।


৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়

ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো:
টেলিসেন্টার পরিচালনায় অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো লোডশেডিং, ধীরগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট, কম্পিউটার জনিত সমস্যা।

খ. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্যা:
টেলিসেন্টারের কোন কারিগরী সমস্যা হলে প্রথমে পরিচালক আক্তারুজ্জামান মৃধা নিজে চেষ্টা করেন। তিনি ব্যর্থ হলে ডি.নেট থেকে সহযোগিতা নিয়ে বা জেলা সদরে গিয়ে সারিয়ে আনেন।

গ. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা:
টেলিসেন্টার কর্মীদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, হার্ডওয়্যার এর কাজে দূর্বল, ক্ষুদ্র ব্যবসায় সম্পর্কে জ্ঞানহীন।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. নাজমুল হোসেন: কর্মীদের আরও দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণ ও রির্ফেশার্সের ব্যবস্থা করা উচিত। পাশাপাশি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিলে ভাল হয় ।

ঘ. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে:
প্রশিক্ষণ ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট এর ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। নিজ নিজ কাজের দায়িত্ব ভাগ করতে হবে। উন্নতমানের যন্ত্রাংশ ব্যবস্থা করতে হবে।


৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয়

ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে):
গড়ে মাসে ১৫০-৫০০ জন সেবা গ্রহণ করে থাকে

খ. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে:
টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ৪৫%-৫০% ভাগ লোক জানে

গ. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে:
বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে। একে অন্যকে জানানো।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ:

খরচের খাত অংক (টাকা)
কম্পিউটার তিনটি ৯০,০০০
প্রিন্টার একটি ১৪,০০০
মোবাইল সিম ও সেট ১৫,০০০
বাইসাইকেল ৩,৫০০
স্ক্যানার ৪,০০০
মডেম ও সিম ১২,০০০
ডিজিটাল ক্যামেরা ১৮,০০০
ওজন মাপা মেশিন ৭৫০
আসবাবপত্র ২০,০০০
ল্যান সেটাপ ৫,০০০
জীয়ন তথ্য ভান্ডার ১৪,৫০০
লিফলেট ১০,০০০

ঙ. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল:
উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থা

চ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ:
টেলিসেন্টার স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ করেনি।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা)
মোবাইল বিল ৫০
প্রিন্টিং ষ্টেশনারী ১৪০
কুরিয়ার সার্ভিস ২০
ইন্টারনেট বিল ৪,৭০০
তথ্যকর্মীর বেতন ১৬,৫৮৪

জ. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা)
জীয়ন সেবা
হেল্পলাইন ১৩১
ইন্টারনেট ব্রাউজিং ৭০
স্থানীয় তথ্য সেবা ৩০
কম্পোজ ও প্রিন্ট ২,৩৬৫
ইমেইল ৪৮০
ওজন মাপা ৩৫
প্রসাব পরীক্ষা ২০
ম্যাসেঞ্জার ১০০
ওজন মাপা ৩৫
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ৩,০০০
সরকারী ফরম ২০
কম্পিউটার সার্ভিসিং ১০০
ফটোকপি ৮,০০০
ডাটা এন্ট্রি ৩,৪৮৭


৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা

উপকারভোগীর নামঃ শাকিলা ফেরদৌসি
স্বামী: রুস্তম আকন্দ
উপজেলা: সাঘাটা
জেলা: গাইবান্ধা
শাকিলা ফেরদৌসি একজন গৃহবধু। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পড়াশোনা শেষ করে বিসিএস পরীক্ষা দিচ্ছেন। তার স্বামী জাপানি প্রবাসী। বিয়ের কিছু দিন পর তার স্বামী বিদেশ চলে যায়। তিনি যদি স্বামীর সাথে কথা বলতে চান তাহলে তাকে গাইবান্ধা জেলা শহরে যেতে হত। তারপর কোন ফোন ইন্টারনেটে দোকানে গিয়ে স্বামীকে মোবাইল ফোন থেকে ফোন করে বলতে হত যে আমি অমুক দোকানে আছি। তুমি ফোনের দোকানে যাও। কম্পিউটার এর সামনে বস। তারপর কথা বলা- এটা তার জন্য দূরূহ ব্যাপার ছিল। কারণ জাপানের সময় ব্যবধান আর বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান অনেক। এরপর সেখানে স্বামী প্রায় সময় ব্যস্ত থাকতেন। নারী শহরে যেতে হলে বাবা- ভাই বা শ্বশুরকে নিয়ে যেতে হত। তার উপর বাড়ি ফেরার একটা তাড়া সব সময় কাজ করে, যেহেতু তিনি মহিলা এবং ঘর গৃহস্থালির অনেক কাজ থাকে।
উদয়ন পল্লীতথ্য কেন্দ্র উদয়ন মহিলা কলেজের সাথে। উদয়ন মহিলা কলেজে শাকিলা ফেরদৌসির ভগ্নিপতি চাকুরি করেন। তাঁর কাছ থেকে জানতে পারেন উদয়ন পল্লীতথ্য কেন্দ্র থেকে স্কাইপ এর মাধ্যমে বিদেশে কথা বলা যায়। যার সাথে কথা বলছেন তার ছবিও দেখা যায় ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে।
এর পর থেকে ফেরদৌসি পল্লীতথ্য কেন্দ্রে আসেন এবং নিয়মিত প্রবাসী স্বামীর সাথে যোগাযোগ করেন। এখন আর তাকে কষ্ট করে গাইবান্ধা শহরে যেতে হয় না। বাড়ির কাছেই আছে পল্লীতথ্য কেন্দ্র।
ছয় মাস আগে তার কোল জুড়ে আসে তাদের প্রথম সন্তান। স্কাইপের মাধ্যমে তিনি তার স্বামীর সাথে কথা বলেন। প্রবাসী স্বামী তার বাচ্চাকে দেখেন। পল্লীতথ্য কেন্দ্র না থাকলে তিনি হয়ত তার বাচ্চার ছবি তুলে তা পাঠাতেন খামে করে। পৌঁছত ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় পর ।
এতে তার অনুভূতি অভাবনীয়, গাইবান্ধার, সাঘাটা উপজেলার ধনরূয়ার পুটিমারি থেকে সুদূর জাপানে কথা বলা যায় ও ছবি দেখা যায় তাও আবার স্বল্প খরচে। এটা তার কাছে কিছু কাল আগেও ছিল কল্পিত ব্যাপার, গল্পের মত। আর এ দূরহ কাজটি সম্ভব হয়েছে উদয়ন পল্লীতথ্য কেন্দ্র থাকার কারণে।

উপকারভোগীর নাম: আঙ্গুর বেগম
স্বামী: জয়নাল আবেদিন
গ্রাম: খামার ধানারোহা
উপজেলা: সাঘাটা
জেলা: গাইবান্ধা
হেল্প লাইনে সুস্থ হল আঙ্গুর বেগম। গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার খামার ধরারোহা একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। এখনও গ্রামের নারীরা অত্যাচারিত হচ্ছে স্বামীদের দ্বারা। খামার ধনারোহ গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিনী আঙ্গুর বেগম। কথায় আছে নুন আনতে যাদের পান্তা ফুরায়, তাদের সংসারে কলহ লেগে থাকে। একদিন আঙ্গুর বেগমের স্বামী কাজ থেকে ফিরে রাগের মাথায় প্রচুর মারধার করে। এই মারার কারণে আঙ্গুর বেগমের একটি হাত দিয়ে অনেক মাস কাজ করতে পারেনি। ইচ্ছা থাকলেও ভালমানের কোন ডাক্তারের সেবা নিতে না পারায় বহুদিন তাকে এইভাবে কাটাতে হয়েছে। নিত্য যাদের তথ্য নিয়ে কাজ সেই পল্লীতথ্যের কর্মী একদিন পৌঁছে গেল তার কাছে। তথ্যকর্মী মো: আক্তার উজ্জামান এবং ইনফো লেডি লাবণী আক্তার সকল ঘটনা শুনে ডি.নেট পরিচালিত হেল্প লাইনে ফোন করে এবং সেখান থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়া গেল। ইনফো লেডি হেলপ লাইনের মাধ্যমে ঔষধের নাম লিখে দিল। কয়েক দিন খাওয়ার পরে ভাল হয়ে গেল আঙ্গুর বেগম। তাঁর স্বামী এখন আর তাকে মারেনা, আঙ্গুর এখন সেলাই মেশিনের কাজ করে স্বামীর সংসারে সহযোগিতা করে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে স্কুলে লেখাপড়া করে। আঙ্গুরা বেগমের সুফল দেখে গ্রামের সকলে পল্লীতথ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সে অন্য মহিলাদের পল্লীতথ্যকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করে।