কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/ইসলামাবাদ বালিকা এতিমখানা

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ইসলামাবাদ বালিকা এতিমখানা কম্পিউটার লারনিং সেন্টার (সিএলপি)
ঝাউডাঙ্গা, চট্টগ্রাম
পরিদর্শনের তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০০৯ থকে ৩১ অক্টোবর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন
১. অলোক কুমার মন্ডল, ব্র্যাক- কাঁচপুর গণকেন্দ্র পাঠাগার, সোনারগাঁ, নারায়নগঞ্জ

যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন
সুজিত দাস, ডিনেট, ঢাকা


১. টেলিসেন্টার পরিচিতি

ক. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ:
১লা সেপ্টেম্বর, ২০০৯

খ. যেভাবে শুরু হয়েছিল:
প্রতিষ্ঠানটিতে মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার পাশাপাশি তাদেরকে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত করার চাহিদা অনুভূত হয়। মূলত: প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এ কে খান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মেয়েদের কম্পিউটার জ্ঞানদান করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ফাউন্ডেশনের মালিকের বোনের ছেলে মোঃ মিখাইল ইসলাম উদোক্তাদের অন্যতম হয়ে ডি.নেট ঢাকা কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করেন। অতঃপর ডি.নেট ঢাকা থেকে ৪টি কম্পিউটার এবং প্রজেক্টরসহ ১টি মাল্টিমিডিয়া ইসলামাবাদ বালিকা এতিমখানকে প্রদান করেন। সেই থেকে মেয়েরা পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মেয়েরা এখান থেকে ইন্টারনেট বিষয়ক জ্ঞানও নিচ্ছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: ইসলামাবাদ বালিকা এতিমখানায় প্রতিষ্ঠিত টেলিসেন্টারটি অসহায় এবং সমাজের একেবারে পিছিয়েপড়া মেয়েদের খুবই উপকারে আসছে। তবে যেহেতু এতিমখানাটিতে সাধারণের প্রবেশিধাকার নেই, তাই বাইরের সাধারন জনগণের এখান থেকে সেবা গ্রহনের কোন সুযোগ পায় না।

গ. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল:
ইসলামাবাদ বালিকা এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা এ কে খান ফাউন্ডেশান কর্তৃক এটি প্রতিষ্ঠা হয়। মূলত: ফাউন্ডেশানের মালিকের বোনের ছেলে মোঃ মিখাইল ইসলাম এর উদ্যোগে ডি.নেট এর সহযোগিতায় এটি শুরু হয়েছিল।

ঘ. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন:
এই এতিমখানায় অধ্যায়নরত মেয়েরা সমাজের সব চাইতে অবহেলিত এবং আর্থিকভাবে এতটাই অস্বচ্ছল যে তারা ইচ্ছা করলেও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সাথে তারা কখনোই পরিচিত হতে পারতো না ও এই সেবা কখনও গ্রহণ করতে পারবে না। এতিমখানার মেয়েদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শেখানোর ব্যবস্থা করলেও বাইরের কোন প্রতিষ্ঠানে আনা-নেওয়া খুবই কঠিন ও দু:সাধ্য ব্যাপার। যেহেতু এ সকল মেয়েরা লেখাপড়ায়ও অনেক পিছিয়ে, তাই মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে শেখালে তারা সহজে শিখতে পারবে এবং মনে রাখতে পারবে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: টেলিসেন্টারটির পরিচালনা পর্ষদ খুবই আন্তরিক।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা

সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে মন্তব্য
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এতিমখানার মেয়েদের শনিবার থেকে বুধবার ৩.৩০টা - ৫.০০টা কোন ফি নেয়া হয় না। মাসে ২ ব্যাচ প্রশিক্ষণ হয়

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: এখানে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও মেয়েদের এখনও শেখানো শুরু হয়নি। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে একজন শিক্ষককে ১০০০ টাকা সম্মানী ভাতা এবং প্রতি ব্যাচের ১ জন শিক্ষার্থীকে ২০০ টাকা প্রদান করা হয়।

চ. তেথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা
কম্পিউটার
মাল্টিমিডিয়া
প্রজেক্ট
ইন্টারনেট মডেম
প্রিন্টার
ইউ.পি.এস

ছ. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ:
গ্রামীন ফোন এর ইন্টারনেট সংযোগ আছে।

জ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি:
বর্ণ শেখা সিডি, গুণীজন সিডি, সিসিমপুর সিডি।

পরিদর্শনকারীর মতামত অলোক কুমার মন্ডল: টেলিসেন্টারটিতে আরও নতুন নতুন সিডি সংযোগন করা যেতে পারে। যেমন : মীনা কার্টুন, ঠাকুরমার ঝুলি, আর্সেনিক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ঘরে বসে বিশ্ব দেখুন, এইডস সচেতনতা, পরিবেশ, গনিত, ইংরেজী বিষয়ের উপর, ভূমিকম্প এবং সাম্প্রতিক ইস্যুর উপর সিডি।


২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি

ক. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা

নাম পদবী কি কাজ করছে?
বিবি ফাতেমা প্রোগ্রাম অফিসার এতিমখানার কো-অর্ডিনেটর হিসাবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন।
রাজিয়া হক প্রধান শিক্ষিকা প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন, মেট্রোন হিসাবেও কাজ করেন।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: টেলিসেন্টারের দু’জন কর্মী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন ডি.নেট থেকে। দু’জন প্রশিক্ষণ পরিচালানার জন্য ৬ মাস করে ভাগ করে নিয়েছেন। বর্তমানে বিবি ফাতেমা প্রশিক্ষণ করাচ্ছেন। সেহেতু ২ ব্যাচ পাশাপাশি এক মাসে প্রশিক্ষণ চলে, তাই একজনে দু’ব্যাচে না করিয়ে দুজনে দু’ ব্যাচ প্রশিক্ষণ করালে ভালো হতো। নতুবা ২য় জন ভুলে যেতে পারে। টেলিসেন্টার কর্মীদের আরও উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে এবং মাঝে মাঝে রিফ্রেশার্সের ও ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

খ. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া
বিবি ফাতেমা: নির্বাচন করার যৌক্তিকতা হল তিনি আগে থেকেই কম্পিউটার জ্ঞান সম্পন্ন। এছাড়া প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কর্মী ব্যবস্থাপনাসহ অনেকগুলি কাজ তিনি করেন। একাডেমিক কাজ হিসেবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ করার একটি সময়ও তিনি বের করতে পারেন।
রাজিয়া হক: প্রধান শিক্ষিকাকে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক প্রধান হিসাবে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

গ. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ

সময় বদিউল আলম
সকালে ৮.৪৫ মি. পিটিতে অংশগ্রহণ
৯.০০ মি. ক্লাস শুরু
দুপুরে ১২.০০ মি. অফিসের অন্যান্য কাজ দেখাশুনা করা
বিকেলে ৩.৩০ মি. কম্পিউটার ক্লাস শুরু
৫.০০ মি. কম্পিউটার ক্লাস শেষ
রাতে রাতে মেয়েদের পড়ালেখা দেখা।

ঘ. সামাজিক প্রতিকূলতা:
প্রতিদিনের কাজ করতে গিয়ে এখনও পর্যন্ত কোন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়নি। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চলে গেলেও আই.পি.এস এর ব্যবস্থা থাকায় কোন সমস্যা হয় না।

ঙ. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার

ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন
www.educationboard.gov.bd শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে জানার জন্য
www.google.com তথ্য অনুসন্ধানের জন্য
www.yahoo.com তথ্য আদান প্রদানের জন্য

চ. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান:
টেলিসেন্টার ব্লগের সদস্য। ব্লগের ঠিকানাটি হল : http://www.telecentrebd.ning.com

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: পল্লীতথ্য ব্লগের সদস্য হওয়া প্রয়োজন। তাহলে নতুন নতুন অনেক তথ্যই সে পাবে। এছাড়া কোন সমস্যা হলে ব্লগে লিখে তার সমাধান পেতে পারে।

ছ. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে:
টেলিসেন্টার কর্মীদ্বয় এ ধরনের ঘটনার কথা বলতে পারেননি। বিবি ফাতেমা বর্তমানে চট্টগ্রাম বেতারে উপস্থাপিকা হিসাবে কাজ করছেন। রাজিয়া হক, বাংলাদেশ বেতার রাঙামাটি কেন্দ্রের উপস্থাপিকা হিসাবে ১২ বছর চাকুরী করেছেন।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: উপস্থাপিকা হিসাবে বেতারের সম্মানী কম হওয়ায় এবং দরিদ্র শিশুদের সেবার মানসিকতা থেকে তাদের এ কাজে আগ্রহী করে তুলেছে।

জ. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
এতিমখানার স্কুলটিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করানোর পরিকল্পনা আছে। সকল শিক্ষার্থীকে তারা এই শিখনের আওতায় আনতে চান। এছাড়া বিভিন্ন তথ্য ভিত্তিক কন্টেন্ট বাড়িয়ে তাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা আছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: যেহেতু প্রতিষ্ঠানটিতে শুধু মেয়েরা থাকে। তাই একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে এর আশপাশের শুধু মেয়েদের এই সেবায় সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

ঝ. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন :
রাজিয়া হক: পিতা-মৃত মোজাম্মেল হক, মাতা-রওশন আরা বেগম-এর জন্ম রাঙ্গাঁমাটি জেলার বনরূপা রেস্ট হাউজে ১৯৭৮ সনের ১৪ ফেব্রুয়ারী। বাবার চাকুরী সূত্রে ছেলেবেলা কেটেছে রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার তবলছড়ি এলাকায়। মাধ্যমিক রাঙ্গুঁনিয়া সোনারগাঁ উচ্চ বিদ্যালয় এবং উচ্চ মাধ্যমিক রাঙ্গামাটি সরকারী মহিলা কলেজ থেকে। মাত্র তিন বছর বয়স থেকে নানার বাড়িতে মানুষ হওয়া রাজিয়া হক ৫ বোন আর ২ ভাইয়ের মধ্যে বড়। কিন্তু ১৯৮৭ সনে নানার মৃত্যুর পর মূলত: তার কষ্টের জীবন শুরু হয়। ক্লাস ফাইভে পড়া মেয়েটি তখন থেকেই সেলাই কাজের সাথে জড়িত হয়ে সংসারের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের খরচ চালানোর যাত্রা শুরু। বাবা সরকারী চাকুরে হলেও যে বেতন পেতেন তাতে এত বড় সংসারের খরচ চালানো ও ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ যোগানো খুবই কষ্টকর হতো। উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে পড়াকালীন তিনি বাংলাদেশ বেতার রাঙ্গাঁমাটি কেন্দ্রের কন্ঠস্বর পরীক্ষায় ৪০ জনের মধ্যে ১ম স্থান অধিকার করে উপস্থাপিকা হিসাবে ১৬.০৫.৯৮ থেকে রাঙ্গাঁমাটি সম্প্রচার কেন্দ্রে কাজ শুরু করেন। উপস্থাপনার পাশাপাশি কনসুলেটেড হয়ে প্রায় ৫ বছর চাকুরী করেন। এভাবেই রাঙ্গাঁমাটি বেতারে তার ১২টি বছর কেটে যায়। এরপর চট্টগ্রামের ইসলামাবাদে এ কে খান ফাউন্ডেশানের পরিচালনায় ইসলামাবাদ বালিকা এতিমখানায় প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে যোগদান করেন। এখানে যোগদান করতে তাকে সহযোগিতা করেন এই প্রতিষ্ঠানের কর্মরত বিবি ফাতেমা স্বপ্না। যিনি এই ফাউন্ডেশানের প্রোগ্রাম অফিসার হিসাবে কর্মরত। তিনি চট্টগ্রাম বেতারেও উপস্থাপিকা হিসাবে কাজ করেন এবং সেই সূত্র ধরেই রাজিয়া হকের পূর্ব পরিচিত। বিবি ফাতেমা তার অত্যন্ত কাছের মানুষ এবং আত্মার আত্মীয়। প্রধান শিক্ষিকার পাশপাশি অনেক কাজও দেখাশুনা করেন তিনি।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে মানুষ হওয়া রাজিয়া হককে কঠোর পরিশ্রমী ও অত্মপ্রত্যয়ী বলে মনে হয়েছে। কঠোর অধ্যবসায় থাকলে মানুষ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে সে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এতিম মেয়েদের পড়ালেখা শেখানোর পাশাপাশি তাদের পরিচর্যায় তার আগ্রহও আমাকে মুগ্ধ করেছে।


৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে
ক.তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান:
প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম শহরের ঝাউতলা এলাকায় অবস্থিত। পাহাড়ের অনেক উঁচু টিলায় এর অবস্থান। সেখানকার পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম ও স্বাস্থ্যকর।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা:
এলাকার জনগণের প্রধান পেশা হল ব্যবসা। এছাড়া চাকুরীজীবি ও শ্রমিক শ্রেণীও রয়েছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: টেলিসেন্টারটিতে এলাকার শহরের জনসংখ্যা, শিক্ষা, পেশা সহ অন্যান্য তথ্য রাখলে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হবে তেমনি সেন্টারটি তথ্য ভান্ডার সমৃন্ধ হবে।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো:
এলাকার রাস্তাঘাট ভাল। সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বেশিরভাগ আছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভাল। লোডশেডিং তুলনামূলক কম। আশে পাশে ইন্টারনেট সংযোগ আছে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান:
এলাকায় যে সকল সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান আছে তা হল:- প্রাথমিক বিদ্যালয় (সরকারী), মাধ্যমিক বিদ্যালয় (বেসরকারী), UCEP স্কুল, আবহাওয়া অফিস, ক্লিনিক।

ঙ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ:
এলাকায় ফোন ফ্যাক্সের দোকান, সাইবার ক্যাফে, ডিজিটাল স্টুডিও সহ অন্যান্য সুবিধা আছে।

চ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা:
পাহাড় ও উঁচু টিলাই দর্শনীয়।


৪. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা ক. দৈনিক কর্মসময়:
শনিবার থেকে বুধবার বিকাল ৩.০০টা থেকে ৫.০০টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

খ. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন:
টেলিসেন্টারটি কর্মী দু’জন। ৬ মাস একজন প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বাকী ৬ মাস অন্যজন। প্রতি ব্যাচে ৮ জন করে শিক্ষার্থী আছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল:টেলিসেন্টার কর্মীদ্বয় ৬ মাস করে সময় ভাগ না করে ২ ব্যাচে ২ জনে পরিচালানা করলে ভাল হয়। উল্লেখ্য, মাসে ২ ব্যাচ শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।

গ. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা:
বিকাল ৩.৩০ মিনিটে কম্পিউটার ক্লাস শুরু করেন এবং বিকাল ৫.০০ মিনিটে কম্পিউটার ক্লাস শেষ করেন।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: এতিমখানায় প্রতিষ্ঠিাত বিধায় অন্যান্য সেন্টারের মত না। তবে এখানে যে কোন সময় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আছে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ:
টেলিসেন্টার পরিদর্শনকারীদের মন্তব্য ও পরামর্শ লেখার জন্য একটি রেজিস্টর ব্যবহার করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া:
টেলিসেন্টারের দৈনন্দিন এবং নতুন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নেওয়া হয়।

চ. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ:
টেলিসেন্টারটির আর্থিক হিসাব আলাদা ভাবে রাখা হয় না। প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এছাড়া দৈনন্দিন কোন আয় এখান থেকে হয় না এবং ব্যয়ও আলাদা ভাবে কিছু হয় না।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: টেলিসেন্টারটির আয়ের বিষয়টি এখন থেকে ভাবা উচিত। কেননা গ্রামীন ফোনের সংযোগ এর বিল বর্তমানে ডি.নেট দিলেও ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখা সম্ভব নাও হতে পারে।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন:
টেলিসেন্টার কর্মীদের আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। সেহেতু এই সেন্টার পরিচালনার পাশাপাশি দু’জনেরই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও একাডেমিক দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাই তাদের মূল্যায়ন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করা হয়। তবে ডি.নেট এর পক্ষ থেকে সেন্টারটি পরিদর্শন করা হয় এবং তারা মূল্যায়ন করেন।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: টেলিসেন্টার কর্মীদ্বয়ের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়ন করা হলেও শুধুমাত্র এই কাজের জন্য একটি মূল্যায়ন হওয়া উচিত। এই মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠান ও ডি.নেট আলাদাভাবে করতে পারে। এ ব্যাপারে ডি.নেট এর এগিয়ে আসা উচিত।

জ. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা:
টেলিসেন্টারটি একটি রুমে স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কম্পিউটার রাখার জন্য টেবিল এবং শিক্ষার্থীদের বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা আছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: টেলিসেন্টার রুমটি আইটি সংক্রান্ত তথ্য, পোষ্টার দিয়ে সাজালে ভাল হয়।


৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা:

সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গরীব, এতিম, অনাথ মেয়েরা বিনামূল্যে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
সিডি প্রদর্শন সিডির মাধ্যমে বর্ণ শিখছে, গুণীজনদের সম্পর্কে জেনে নিজেরা উৎসাহিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনে জ্ঞানার্জন হচ্ছে

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা:
বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক সিডির চাহিদা আছে যা তাদের জীবন সম্পর্কিত।


৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়
ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো:
টেলিসেন্টারটি পরিচালনায় এখনও পর্যন্ত কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি।

পরিদর্শনকারীর মতামত
অলোক কুমার মন্ডল: টেলিসেন্টারটি প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত বিধায় আগামীতে কোন প্রতিবন্ধকতা এলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয়েছে।

খ. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্যা:
এখনও পর্যন্ত কোন কারিগরি সমস্যা হয়নি বলে জানান। তবে তেমন কোন সমস্যা হলে তা স্থানীয়ভাবে সমাধান করবেন বলে জানান।

গ. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা:
কর্মী দু’জনের দক্ষতার মধ্যে বিবি ফাতেমার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় কিছুটা সুবিধা হয়েছে। অন্যজন রাজিয়া হকের পূর্বের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না, যদিও দু’জন একসাথে ডি.নেট থেকে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তবুও এই প্রশিক্ষণই যথেষ্ট না। ফলে রাজিয়া হক প্রশিক্ষণ পরিচালনায় ভয় পান।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শাহনেওয়াজ মল্লিক: সেন্টার ম্যানেজার ছাড়া অন্য যারা এই কাজের সাথে জড়িত তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। তাহলে টেলিসেন্টারে কারিগরি কোন বাধাঁ থাকবে না।

ঘ. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে:
এ সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও রিফ্রেশার্সের ব্যবস্থ করা যেতে পারে। এ ছাড়া ডি.নেট সহ বিটিএন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে সমস্যাগুলি হাতে কলমে তাৎক্ষনিকভাবে সমাধান করা যেতে পারে।


৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয়
ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে):
টেলিসেন্টারে গড়ে মাসে ১৬ জন গরীব শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিতে পারে।

খ. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে:
অবস্থান সম্পর্কে এলাকার ৫% লোক অবগত।

গ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

কম্পিউটার ও ল্যাব তৈরী এবং রক্ষনাবেক্ষন প্রায় ২৭৬,০০০ টাকা

ঘ. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল:
স্থাপনের খরচ প্রতিষ্ঠান থেকে বহন করা হয়েছে।

ঙ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ:
কোন ঋণ গ্রহণ করা হয়নি।