কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/ইয়থ্ কমিউনিটি মাল্টিমিডিয়া সেন্টার

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ইয়ুথ কমিউনিটি মাল্টিমিডিয়া সেন্টার
সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম
পরিদর্শনের তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০০৯ থকে ৩১ অক্টোবর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন
১. মোঃ আজিজুল হাকিম, কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার (সি.আর.সি), যশোর
২. সুভাষ দেবনাথ, এস কে টেলিসেন্টার (কেডিকেএস), হবিগঞ্জ

যিনি তত্ত্বাবধান করেছেনসঞ্জয় চৌধুরী
ইয়ুথ কমিউনিটি মাল্টিমিডিয়া সেন্টার, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম


১. টেলিসেন্টার পরিচিতি
ক. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ:
১ মার্চ ২০০৪ইং

খ. যেভাবে শুরু হয়েছিল:
ইউনেস্কোর আর্থিক সহযোগিতায় স্থানীয় এনজিও ইপসার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সীতাকুন্ড শহরে টেলিসেন্টারটির কার্যক্রম শুরু হয়।

গ. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন:
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভাল, পরিবেশ ভাল, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান টেলিসেন্টারের পাশে অবস্থিত ইত্যাদি কারনে এই স্থানটি টেলিসেন্টারের জন্য নির্বাচন করা হয়।

ঘ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা
কম্পিউটার ০৭টি
ফটোস্ট্যাট মেশিন ০১টি
প্রিন্টার মেশিন ০১টি
লেমিনিটিং মেশিন ০১টি
ভিডিও ক্যামেরা ০২টি
ইন্টারনেট মডেম ০১টি

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ:
টেলিসেন্টারে জিপিআরএস মডেম এর ইন্টারনেট সংযোগ আছে।

চ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি:
১৫টি সরকারী প্রয়োজনীয় ফরম, জিয়ন সিডি (তিনটি), ইপসার বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের ভিডিও সিডি/ডকুমেন্টারি।


২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি
ক. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা

নাম পদবী কি কাজ করছে?
সঞ্চয় চৌধুরী ফিল্ড অর্গানাইজার টেলিসেন্টারে বাস্তবায়িত সকল কাজের সমন্বয়ক।
আব্দুল হাকিম ভলেন্টিয়ার কম্পিউটার প্রশিক্ষনের জন্য সেন্টারে ছাত্র/ছাত্রীদের আসার জন্য উৎসাহিত করে তোলেন।

খ. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া
সঞ্চয় চেŠধুরী: সঞ্চয় চৌধুরী উক্ত টেলিসেন্টারে প্রথমে ভলেন্টিয়ার হিসাবে নির্বাচিত হন এবং টেলিসেন্টারের কার্যক্রম বাস্তবায়নে অন্যদেরকে সহযোগিতা করেন। এভাবে কাজের মাধ্যমে সকলের নিকট পরিচিতি লাভ করেন। পরে যখন টেলিসেন্টারে একজন স্থায়ী কর্মীর প্রয়োজন হয়, তখন তিনি পরীক্ষা দিয়ে কাজ করার জন্য নির্বাচিত হন। গত তিন বছর ধরে সঞ্চয় চৌধুরী এই টেলিসেন্টারের দায়িত্বে আছেন।
আব্দুল হাকিম: বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে কাজ করায় সুযোগ পান।

গ. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ

সময় সঞ্চয় চৌধুরী আব্দুল হাকিম
সকালে ১. কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান
২. ফটোকপির কাজ করা
১. কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান
২. ফটোকপির কাজ
দুপুরে ১. ভিডিও চিত্র তৈরি
২. ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে যোগযোগ
১. ভিডিও চিত্র তৈরি
২. ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে যোগযোগ
বিকেলে ১. কম্পিউটার প্রশিক্ষাণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান
২. মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার সম্পর্কে সকলকে জানানো
১. কম্পিউটার প্রশিক্ষাণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান
২. মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার সম্পর্কে সকলকে জানানো
সন্ধায় ১. বিল ভাউচার তৈরী এবং
২. হিসাব নিকাশ রেজিস্টারবদ্ধ করা।
১. বিল ভাউচার তৈরী এবং
২. হিসাব নিকাশ রেজিস্টারবদ্ধ করা।

ঘ. সামাজিক প্রতিকূলতা:
বিদ্যুৎ সমস্যা

ঙ. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার

ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন
www.ypsa.com.org ইপসার তথ্য জানার জন্য
www.yahoo.com নিজের আইডি খোলার জন্য/যোগাযোগ
www.gmail.com জিমেইলে আইডি এবং কাজ করার জন্য
www.educationbord..gov.bd লেজাল্ট জানার জন্য
www.animal.com বিভিন্ন প্রাণী সম্পর্কে দেখার জন্য
www.msme.com.bd ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীদের তথ্য জানার জন্য এবং সংশোধন করার জন্য
www.google.com খুঁজার জন্য
www.mission2011.net.bd টেলিসেন্টার সম্পর্কে জানার জন্য।
www.bnnrc.net কমিউনিটি রেডিওর তথ্য জানার জন্য

চ. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান:
তিনি কোন ব্লগের সদস্য নন। তবে Yahoo ও Gmail এ তার ইমেল একাউন্ট আছে।

ছ. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে
সঞ্চয় চৌধুরী: টেলিসেন্টার কর্মীর ছোট বেলা হতে কম্পিউটার এ কাজ করার প্রতি আগ্রহ ছিল, সমাজের মানুষের কল্যাণের জন্য টেলিসেন্টারে কাজ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। পূর্বে ভলেন্টিয়ার হিসাবে কাজ করতেন, সে কারনে টেলিসেন্টারে কাজ করার প্রতি আগ্রহ বেশি।
আব্দুল হাকিম: তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট যুক্ত থাকা প্রয়োজন বিধায় তিনি এই পেশার সাথে জড়িত হন। ইপসার প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ হারুন ভাই এর কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে এবং কম্পিউটারের গুরুত্ব তার নিকট থেকে বুঝতে পেরে তিনি এ কাজের সাথে যুক্ত হন।

জ. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কম্পিউটার সেন্টারটি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাভূক্ত করা, যুব উন্নয়নের সেবা সমূহ চালু করা, স্পোকেন ইংলিশ কোর্স চালু করা, সাংস্কৃতিক দল তৈরী করা, কমিউনিটি রেডিও স্টেশন তৈরি।

ঝ. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন
সঞ্চয় চৌধুরী: পরিবারের প্রধান মা। বাবা ২০০২ সালে ষ্ট্রোক করে মারা যান। মা সংসার পরিচালনা করছেন। মোট সদস্য সংখ্যা ৪ জন, মা সহ তিন ভাই। বড় ভাই একটি ইলেকট্রিক দোকান পরিচালনা করেন, মেজ ভাই ও ছোট জন লেখাপড়া করেন। তিনি অবিবাহিত, বর্তমানে স্নাতক পড়ছেন।
আব্দুল হাকিম: পরিবারের প্রধান বাবা তিনিই সংসার পরিচালনা করে থাকেন। মোট সদস্য সংখ্যা ১১ জন, চার ভাই, দুই বোন, বড় দুই ভাইয়ের সন্তান দুই জন। বড় ভাই চাকুরী করেন, মেজ ভাই কাঠ মিস্ত্রী, ছোট ভাই বেকার, সবার ছোট জন টেলিসেন্টারে ভলেন্টিয়ার হিসবে কাজ করেন। তিনি বর্তমানে অবিবাহিত এবং ডিগ্রী পড়ছেন।


৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে
ক.তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান:
টেলিসেন্টারটি সীতাকুন্ডে অবস্থিত যা চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশ মুখ। টেলিসেন্টারের পশ্চিমে সমুদ্র যার দূরত্ব ৪ কিলোমিটার, পূর্বে রেল স্টেশন পাহাড় যার দূরত্ব ৩ কিলো মিটার, দক্ষিনে- বন্দরনগর চট্টগ্রাম যার দূরত্ব ৩৭ কিলোমিটার, উত্তরে- আবাসিক এলাকা। এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ২০,০০০ জন।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা:
এলাকার অধিকাংশ মানুষের পেশা চাকzুর (প্রায় ৪৫%) এবং ব্যবসা (প্রায় ৩৫%)। এছাড়া দিনমজুর এবং অন্যান্য পেশাজীবি মানুষ আছে।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো:
এলাকার অবকাঠামো ব্যবস্থা ভাল, বিশেষ করে অধিকংশ বাড়ী পাকা এবং কিছু ঘরবাড়ী আধা পাকা। রাস্তাঘাট অধিকাংশ পাকা আর বাকি রাস্তা ইটের সলিং। শহর এলাকা বলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভাল। যদিও টেলিসেন্টারটি শহরের মধ্যে সে জন্য এখানে ১৬টি ইন্টারনেটের দোকান রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবস্থা যথেষ্ট ভাল।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান:
এলাকায় সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ভূমি অফিস, উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিস, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা অধিদপ্তর, কৃষি ব্যাংক, পোষ্ট অফিস, থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারী বিদ্যালয় সমূহ। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইপসা, পদক্ষেপ, প্রশিকা, গ্রামীন ব্যাংক, মাতৃভূমি, আশা, ব্রাক, চার্চ, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এ.বি ব্যাংক, মহাবিদ্যালয়, মহিলা কলেজ, প্রাথমিক স্কুল ২টি, কিন্ডারগার্টেন ২০টি, মাধ্যমিক ২টি এবং প্রায় ৫০টি শিল্প কারখানা।

ঙ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ:
কম্পিউটার দোকান ১৫- ১৮টি, কম্পিউটার দোকানের সাথে ইন্টারনেট সংযোগ ১০টি দোকান, ফোন ফ্যাক্সের দোকান ৫টি, ডিজিটাল স্টুডিও ৭-১৫টি, ইন্টারনেট দোকানে সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার তথা ক্যাফে হিসাবে পরিচিতি ৫টি দোকান।

চ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা:
বিখ্যাত চন্দ্রনাথ মন্দির, কলেজ রোড থেকে শুরু করে পাহাড় পর্যন্ত ৬০-৭০টি মন্দির রয়েছে, বিশাল পাহাড় যার উচ্চতা ৬০০ ফুট, ঝর্ণা আছে ৫-১০টি, সীতার কুন্ড আছে। এছাড়াও গ্লাস, সিমেন্ট, ক্যামিকেল ফ্যাক্টরি মিলে মোট ৫০টি শিল্প কারখানা আছে।


৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল ক. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী

উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ
ব্যানার ব্যানার তৈরী করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঝুলিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা
ভলেন্টিয়ার ভলেন্টিয়ারের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে যোগাযোগ।
সমিতির সদস্য কর্তৃক ঋনের টাকা গ্রহণের সময় সদস্যদের সাথে টেলিসেন্টারে পরিচিতি কার্যক্রম আলোচনার মাধ্যমে প্রচার।
ইপসা কর্মী ইপসার বিভিন্ন কর্মীর মাধ্যমে জানানো হয়।
ছাত্র-ছাত্রী যারা শিখে যায় তাদের কাছ থেকে জেনে।

খ. স্থানীয় সরকার এবং অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
ইপসা এই সেন্টার পরিচালনা করার জন্য স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়ে থাকে, যেমন: এই সেন্টারে কমিউনিটি রেডিও পরিচালনা করতে চায়, তাই ঐ বিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করে থাকে।

গ. এলাকার ক্ষুদ্র ব্যসায়ীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
কম্পিউটার ট্রেনিং এবং ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে থাকে। প্রতি মাসে গড়ে ৫ হতে ৭ জন কৃষককে www.msme.com.bd - এই ওয়েব সাইট হতে কিছু কিছু তথ্য সেবা দেয়া হয়।

ঘ. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
নারীরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে পারে।


৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা
ক. দৈনিক কর্মসময়:
টেলিসেন্টার সকাল ৯.০০ থেকে ৫.০০ পর্যন্ত খোলা থাকে

খ. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন:
টেলিসেন্টারে কর্মী একজন সে কারনে টেলিসেন্টারে সকল কাজ তিনি একা করে থাকেন।

গ. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা:
ছাত্র/ছাত্রীদেরকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান, ফটোকপি, ভিডিও চিত্র ধারণ ও এডিটিং করা, মাল্টিমিডিয়া পরিচালনা করা, ভলেন্টিয়ারদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া, ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে যোগাযোগ করা, হিসাব নিকাশ করা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা করা।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ:
টেলিসেন্টারে শুধু কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীদের হিসাব রাখা হয় তিনটি রেজিস্টারে। তবে সেবা গ্রহিতার হিসাব রাখা হয় না। পরিদর্শনকারীর তথ্য ভিজিটর বই এ রাখা হয়।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া:
টেলিসেন্টার ম্যানেজার ও ইপসা স্থানীয় অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার দুজন মিলে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন।

চ. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ:
টেলিসেন্টারে রক্ষিত সকল আইসিটি টুলস সমূহ থেকে যে আয় হয় সে সকল আয় ও ব্যয়ের তথ্য রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হয়। টেলিসেন্টারে রেজিস্টার খাতা, ক্যাশ বুক ও লেজার বুক ইত্যাদি রয়েছে।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন:
ইপসা এর নিয়ম অনুসারে কর্মীদের বাৎসরিক মূল্যায়ন করা হয়। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে মূল্যায়ন পত্রে কাজের বিস্তারিত লেখা হয়। পরে প্রোগ্রাম অফিসার কাজ ভিত্তিক নাম্বার দিয়ে মূল্যায়ন করেন।

জ. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা:
ইপসা অফিসের দ্বিতীয় তলার পুরো একটি ফ্ল্যাটে মোট চারটি রুম নিয়ে টেলিসেন্টার। প্রবেশের প্রথমে সাংস্কৃতি চর্চা রুম- রুমটি মেঝেতে বিছানা চাদার বিছানো সাথে আরামে বসার জন্য একটি করে কুশনপাতা। কম্পিউটার রুমে চারটি কম্পিউটার আছে, যেখানে ছাত্রী/ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়; ভিতরে অফিস রুম- রুমে ১টি কম্পিউটার, ২টি টেবিল, ২টি আলমারী ও একটি বুক সেলফ দিয়ে সাজানো; চতুর্থ রুমটি হচ্ছে অনুষ্ঠান তৈরি ও প্রচার করার জন্য।


৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা{| class="wikitable" |- ! সেবার নাম ! কাদের দেয়া হয় ! কখন দেয়া হয় ! কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে |- | কম্পিউটার প্রশিক্ষণ | সকল জনগণকে | সকাল ৯:০০ থেকে বিকাল ৫:০০ | কোর্স ফি ১০০০ টাকা (২ কিস্তিতে) |- | ফটোস্ট্যাট | অফিস কর্তৃপক্ষকে | সকাল ৯:০০ থেকে বিকাল ৫:০০ | প্রতি কপি ১ টাকা, অফসেট পেপার ২ টাকা |- | কম্পোজ ও প্রিন্ট | সকল জনগণকে | সকাল ৯:০০ থেকে বিকাল ৫:০০ | প্রতি কপি ১০ টাকা |- | লেমিনেটিং | সকল জনগণকে | সকাল ৯:০০ থেকে বিকাল ৫:০০ | পাসপোর্ট সাইজ প্রতিটি ৫ টাকা |- | ভিডিও ক্যামেরা | সকল জনগণকে | সকল সময় | অনুষ্ঠানের পরিধি অনুযায়ী |- | সরকারী ফরম | সকল জনগণকে | সকাল ৯:০০ থেকে বিকাল ৫:০০ | প্রিন্টের জন্য ১০ টাকা |- | জিয়ন সিডি | সকল জনগণকে | সকাল ৯:০০ থেকে বিকাল ৫:০০ | বিনামূল্যে |- | ইন্টারনেট | সকল জনগণকে | সকাল ৯:০০ থেকে বিকাল ৫:০০ | প্রতি ঘন্টা ১৫ টাকা |- | মাল্টিমিডিয়া | দেয়া হয় না | নিজেদের কাজে ব্যবহার হয় | |- | অনুষ্ঠান প্রচার | সবার জন্য | | ফি নেয়া হয় না |}

খ. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয়

সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ
ফটোকপি নিজেদের কাজে ব্যবহার করা হয়।
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রশিক্ষণ নিয়ে সেবা গ্রহিতারা চাকুরি, ব্যবসা, ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে।
কম্পোজ এবং প্রিন্ট কম খরচে সহজে করতে পারছে
লেমিনেটিং কম খরচে সহজে করতে পারছে
ভিডিও ক্যামেরা কম খরচে সহজে করতে পারছে
সরকারী ফরম বাহির থেকে নিতে সময় প্রয়োজন। অনেকসময় মানুষ জানে না কোথায় তা পাওয়া যায়।
জিয়ন তথ্য সেবা কম খরচে সহজে তথ্য পাচ্ছে
ইন্টারনেট কম খরচে পাচ্ছে
মাল্টিমিডিয়া বড় পর্দায় ছবি দেখার মাধ্যমে বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারছে। অনেকে একই স্থানে বসে বিষয়সমূহ উপলব্ধি বরতে পারছে।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা
স্পোকেন ইংলিশ কোর্স
হার্ডওয়্যার সফ্টওয়্যার কোর্স
গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স
অটোক্যাড কোর্স
ডকুমেন্ট তৈরি করা
এডিটিং সেন্টার তৈরী করা
বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান করা; যেমন- সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান, নাচের প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা।


৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়
ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো:
মানুষ ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চায়, কম্পিউটার কোর্স বেশি, কর্মীর ঘাটতি, সিদ্ধান্তহীনতা, কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা, আইসিটি টুলস সমূহের যান্ত্রিক সমস্যা, যথেষ্ট প্রচার প্রচারণা না থাকা, দক্ষ কর্মীর অভাব।

খ. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্যা:
ছোট ধরনের কোন সমস্যা বুঝলে টেলিসেন্টারের ম্যানেজার সমাধান করে কিন্তু বড় ধরনের কোন সমস্যা হলে টেকনিশিয়ানকে ডেকে যান্ত্রিক সমস্যার সমাধান করা হয়।

গ. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা:
টেলিসেন্টার কর্মীদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব। নতুন কোন আইসিটি টুলস সেন্টারে আনলে কর্মী তাৎক্ষনিকভাবে কাজ করতে পারেনা তখন কাজ করতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়।

ঘ. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে:
প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, টেলিসেন্টারে কর্মী বৃদ্ধি, কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ভলান্টিয়ার নির্বাচন করা, আইসিটি টুলস সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা প্রদান, কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা করা, সময় সম্পর্কে সচেতন হওয়া, কর্মীকে নিজস্ব স্বাধীনতা প্রদান, ম্যানেজম্যান্ট কমিটিরি সাথে নিয়মিত মিটিং করা, দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত দেয়া।

৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয়
ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে):
গড়ে মাসে ২০ -২৫ জন সেবা গ্রহণ করে থাকে

খ. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে:
টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ৩০ ভাগ লোক জানে

গ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা)
কম্পিউটার ৭সেট ৭০০,০০০
মাল্টিমিডিয়া ১টি ১১৫,০০০
ভিডিও ক্যামেরা ২টি ৭০,০০০
ফটোস্ট্যাট মেশিন ১টি ১৩০,০০০
লেজার প্রিন্টার ১২,০০০
স্ক্যানার ১টি ৩,০০০
লেমিনেটিং ১টি ৯,০০০
GPRS মডেম ১টি ৪,৫০০

ঘ. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল:
ইউনেস্কো এর ফান্ড থেকে উপকরণ কেনা।

ঙ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গস্খহণ:
না।

চ. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা)
বিদ্যুৎ বিল ১২০০
আইটি যন্ত্রপাতি মেরামত ১০০০
ফটোকপির জন্য কাগজ ক্রয় ৩০০০
কার্টিজ ক্রয় ৪০০
সিডি ক্রয় ২০০
আপ্যায়ন ১০০

ছ. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা)
কম্পিউটার ট্রেনিং ২০০০
ফটোকপি ৫০০০
ভিডিও ক্যামেরা ১০০০
মাল্টিমিডিয়া ১০০০
অন্যান্য ২০০


৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা
উপকারভোগীর নামঃ মো: জাহিদুল ইসলাম জহির
ব্যক্তিগতভাবে তিনি একজন অভিনেতা এবং গায়ক। এলাকার মানুষ তাকে এই দু’পরিচয় সহ আর্ট ডিরেক্টর হিসাবে চেনে। তার সামাজিক অবস্থান ভাল, আর আর্থিক অবস্থার দিক দিয়ে তিনি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। তিনি টেলিসেন্টার থেকে ভিডিও অপারেটিং এবং ভিডিও এডিটিং এর কাজ শিখে বর্তমানে নিজে কাজ করছেন। তার নিজের কোন প্রতিষ্ঠান নাই তবে তিনি টেলিসেন্টারের ভিডিও ক্যামেরা ভাড়া নিয়ে ভিডিও এর কাজ করে ছবি এডিটিং করে লাভবান হচ্ছেন।

উপকার ভোগীর নামঃ মোঃ হাকিম মোল্লা

তিনি একজন ইপসার সেচ্ছাসেবক এবং ইপসার প্রোগ্রাম অফিসারের সহকারী ও ভিডিও ক্যামেরা ম্যান। তার সামাজিক অবস্থান ভাল। তিনি ভিডিও ক্যামেরা চালাতে পারদর্শি কিন্তু নিজেস্ব কোন প্রতিষ্ঠান নেই, তাই তিনি  ইপসার ভিডিও ক্যামেরা চালিয়ে থাকেন।

উপকার ভোগীর নামঃ সবুজ কর্মকার
তিনি একজন প্রতিবন্ধী। তার হাতে সমস্যা আছে।তিনি এই সেন্টারে হতে ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এখন উপজেলা ভূমি অফিসে কাজ করছেন।

উপকার ভোগীর নামঃ মিতা
তিনি প্রভাবশালী এক পরিবারের স্ত্রী। সেন্টার হতে কম্পিউটার শিখে এখন একটা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে কাজ করছেন।