কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/ইউসেপ এ.কে.খান টেকনিক্যাল স্কুল সিএলপি সেন্টার

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ইউসেপ এ.কে.খান টেকনিক্যাল স্কুল কম্পিউটার লারনিং সেন্টার (সিএলপি)
মহরা, কালুরঘাট, চট্টগ্রাম
পরিদর্শনের তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০০৯ থকে ৩১ অক্টোবর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন
১. মো. কুদরত আলী, শিলমান্দী পাপড়ী কমিউনিটি রির্সোস সেন্টার, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন নরসিংদী
যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন
সুজিত দাস, ডিনেট, ঢাকা


১. টেলিসেন্টার পরিচিতি

ক. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ:
১ মার্চ ২০০৯ ইং

খ. যেভাবে শুরু হয়েছিল:
ইউসেপ বাংলাদেশ পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি কারিগরী শিক্ষায় দক্ষ করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে আসছে। ইউসেপ বাংলাদেশের অর্থদাতা আই-কে ফাউন্ডেশন, ভিএবি- এনজে এন্ড সিএসডিসি। তারা মনে করে কারিগরী শিক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার শিক্ষা দিতে পারলে ছাত্র ছাত্রীরা বর্তমানে চাকরির বাজারে টিকে থাকতে পারবে এবং বর্তমান যুগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। তাই তারা প্রতিটি শিশুকে কম্পিউটারে মৌলিক শিক্ষাসহ একটি যুগোপযোগী শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করলেন। ১লা জানুয়ারি ০৯ আই-কে ফাউন্ডেশন, ভিএবি- এনজে এন্ড সিএসডিসি এর অর্থায়নে এবং ডি.নেটের কারিগরী সহযোগিতায় কার্যক্রম শুরু করেন। ফেব্রুয়ারী মাস থেকে সি এল পি (কম্পিউটার লারনিং সেন্টার) তাদের কার্যক্রম শুরু করেন।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে এবং ডি.নেটের কারিগরী সহযোগিতায় সিএলপি কার্যক্রম একটি মহৎ কার্যক্রম। ইউসেপ বাংলাদেশ একে খান টেকনিক্যাল বিদ্যালয়ের প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী এক একটি সম্ভাবনা। তবে এখানে টেলিসেন্টারটি শুধু বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আইটিতে দক্ষ করে তুলছে। সেখানে বাহিরের লোকজনের কোন উপকারে আসতে পারছে না। আমার মনে হয় একটি সুন্দর পরিকল্পনা হাতে নিলে এলাকার লোকজনেরও আইটি সেক্টরে জ্ঞানলাভ করার সুযোগ ঘটবে।

গ. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল:
ইউসেপ বাংলাদেশ, আইকে ফাউন্ডেশন, ভিএবি এনজি, সিএসডিস এবং ডি.নেট।

ঘ. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন:
এখানকার ছাত্রছাত্রীরা সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং সবচাইতে অবহেলিত। আর্থিক ভাবে তারা এতটা অস্বচ্ছল যে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আইটি জ্ঞান অর্জন করতে পারতো না। এই ছাত্রছাত্রীরা যেন কারিগরী শিক্ষার সাথে সাথে কম্পিউটার জ্ঞান লাভ করতে পারে, এ জন্য এখানে নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের অনেক এলাকার বিদ্যালয় থেকে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা এ,কে খান টেকনিক্যাল বিদ্যালয়ে আসে।

ঙ. টেলিসেন্টারের সেবাগুলো কি কি?

সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম ট্রেড শিক্ষার্থী সকাল ০৮.৩০ থেকে ০৫.৩০ বিনামূল্যে
কম্পিউটার প্র্যাকটিক্যাল এস এস সি (ভোকেশনাল শিক্ষার্থী) রুটিন ক্লাস অনুযায়ী বিনামূল্যে
ইন্টারনেট সেবা শিক্ষার্থী, তাদের পিতামাতা এবং শিক্ষকদেরকে যখন প্রয়োজন বিনামূল্যে
তথ্য সেবা কমিউনিটির সকলকে যখন প্রয়োজন বিনামূল্যে

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: যেহেতু স্কুলটির মূল কাজ বা সেবা হচ্ছে ট্রেড ভিত্তিক ছাত্রছাত্রীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা। স্কুল ভিত্তিক টেলিসেন্টারটিতে আরও কিছু সেবা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে, যেমন- ১. মেয়েদের বয়সন্ধি বিষয়ক সিডি দেখানো, ২. স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা মূলক সিডি দেখানো।

চ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা
ডেস্কটপ কম্পিউটার ১১
মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর (স্ক্রিন সহ) ০১
হোয়াইট বোর্ড ০১
জিপিঅরএস মডেম (মাইক্রোফোন সহ) ০১
ইউপিএস
প্রিন্টার ০১
স্পিকার (মাইক্রোফোন সহ) ০৩
নেটওয়ার্ক সুইচ ০১

ছ. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ:
গ্রামীন ফোন এর ইন্টারনেট সংযোগ আছে।

জ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি:
মা্ইক্রোসফট অফিস, এডোব এবং মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার এর সিডি ও ডিভিডি, অপারেটিং সিস্টেম (লিনাক্র্ এবং ইউনিক্র্ সহ), কম্পিউটার শিখি (বই), কম্পিউটার (হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্কিং) শিখার উপর নানারকম বই ও সিডি, প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটের ঠিকানা, সামাজিক সচেতনা বৃদ্ধিমূলক ৭টি ভিন্ন ডকুমেন্টারি ডিভিডি, ইংরেজি শিক্ষার জন্য কম্পিউটার এর উপর ডিভিডি, কম্পিউটারের মাধ্যমে গণিত শিক্ষা এর উপর ডিভিডি।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা মূলক সিডি, জিয়ন তথ্য সিডি, সরকারী সকল ধরনের ফরম, মেয়েদের বয়সন্ধি মূলক তথ্য সিডি প্রভৃতি রাখলে মেয়েদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা সহজ হবে।


২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি

ক. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা

নাম পদবী কি কাজ করছে?
সায়েদ আবু মাযহার সেন্টার ইনচার্জ প্রশিক্ষণ প্রদান, সেন্টার ব্যবস্থাপনা ও রক্ষনাবেক্ষণ
মো: মাহমুদ আলম ছাত্র প্রশিক্ষণে সহায়তা করেন
মো: আজাদ ছাত্র প্রশিক্ষণে সহায়তা করেন
মো: বাপ্পি ছাত্র প্রশিক্ষণে সহায়তা করেন
মো: ফাহিম আহমেদ ছাত্র প্রশিক্ষণে সহায়তা করেন
মো: আলমগীর ছাত্র প্রশিক্ষণে সহায়তা করেন

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: টেলিসেন্টারটিতে কর্মরত সকলের সাথে আলোচনা করে জানা গেল টেলিসেন্টারটিতে ট্রেড ভিত্তিক ছাত্রছাত্রীদের মাঝ থেকে যে ভাল বুঝে তাকে আযহার স্যার এর সাথে সহযোগিতা করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এটা একটা ভাল উদ্যোগ। এক্ষেত্রে স্যার জরুরী কাজে বাহিরে থাকলে তারা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারে।

খ. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া
সায়েদ আবু মাযহার: তিনি কম্পিউটার ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারী ছিলেন যা অন্যান্য শিক্ষকদের ছিল না। আইসিটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে তার স্বচ্ছ ধারণা ছিল। সর্বোপরি ইউসেপ- বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ মনে করেন তিনি পারবেন।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: টেলিসেন্টারে কাজ করার জন্য নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ড্যাম যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন সেটা হল- কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার জন্য টেলিসেন্টার কর্মীর পাশাপাশি ইউনিয়ন বেইজ একটি আইসিটি কমিউনিটি এ্যাকশন গ্রুপ তৈরি করে তাদেরকে কাজের সাথে জড়িয়ে ফেলে।

গ. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ

সময় বদিউল আলম
সকালে ১. সেন্টার খোলা
২. বিদ্যুৎ সংয়োগ দেয়া এবং আইটি ডিভাইস চালু করা
৩. লেকচার তৈরি করা
৪. রুটিন অনুয়ায়ী লেকচার দেয়া
দুপুরে ১. লেকচার তৈরি করা
২. রুটিন অনুয়ায়ী লেকচার দেয়া
৩. আইটি সেবা দেয়া
বিকেলে ১. লেকচার তৈরি করা
২. রুটিন অনুয়ায়ী লেকচার দেয়া
৩. সকল ডিভাইস এর বিদুৎ বন্ধ করা
৪. পরবর্তী দিনের প্লান করা
৫. সেন্টার বন্ধ করা

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: স্কুল ভিত্তিক টেলিসেন্টারটি রুটিন অনুযায়ী ক্লাস পরিচালনা করা হয়ে থাকে। টেলিসেন্টার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা গেল প্রতিটি ক্লাসের আগে তাদের প্লান তৈরি করে জমা দিতে হয়।

ঘ. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার

ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন
www.google.com অপিরিচিত এবং অজানা যে কোন কিছু খোঁজা এবং সে সর্ম্পকে জানা
www.prothomalo.com প্রতিদিনের সংবাদ পাঠ
www.ittefaq.com প্রতিদিনের সংবাদ পাঠ
www.hotmail.com, www.gmail.com, www.yahoo.com ইমেইল আদান প্রদান
www.bbc.co.uk বিবিসি বাংলা সংবাদ শোনা
www.voa.com ভয়েস অব আমেরিকার সংবাদ শোনা
www.radiotofun.com অনলাইনে গান শোনা
www.youtube.com ডকুমেন্টারি, শিক্ষা এবং গান এর ভিডিও দেখা
www.music.com.bd পুরাতন এবং আধুনিক বাংলা গানের জন্য
www.facebook.com মানুষকে চেনা এবং তাদের সাথে জ্ঞান ও ভাবনা শেয়ার করা
www.clpbangladesh.ning.com ব্লগ পড়া এবং আপলোড করা
www.jeeon.com অফলাইন তথ্য ও সেবার জন্য

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: টেলিসেন্টার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা গেল তিনি ওয়েব সাইট ভিজিট করেছেন অনেক বেশি।যেহেতু স্কুলটি ছিল কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেক্ষেত্রে তাদেরকে বিভিন্ন মডেলের যন্ত্রাংশ দেখার জন্য বিভিন্ন ওয়েব সাইট ভিজিট করে দেখানো হত।

ঙ. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান
http:\\clpbangladesh.ning.com www.facebook.com
www.tagged.com
www.ucepbd.org
www.hotmail.com
www.yahoo.com
www.gmail.com
www.aob.com
www.youthbc.com,
www.telecentrebd.ning.com

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: অন লাইনে ব্লগ গ্রুপের সদস্য হওয়া এ বিষয়টি আমার জন্য ছিল একেবাড়ে নতুন। স্টাফ এক্সচেঞ্চ প্রোগ্রাম না হলে হয়তো বা এত সুন্দর একটি বিষয় না জানা থেকে যেত, এ জন্য স্টাফ এক্সচেঞ্জ কে ধন্যবাদ ।

চ. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে:
একদিন সৈয়দ আবু মাযহার স্যার কম্পিউটার ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য সাইবার ক্যাফেতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি বিষয় আবিষ্কার করলেন যে, দরিদ্র ও হতদরিদ্র এবং পিছিয়ে পড়া মানুষ কিভাবে সাইবার ক্যাফে থেকে তাদের সেবা গ্রহণ করবে। কারণ সেখানে যে খরচ তা তাদের পক্ষে সেবা নেয়া সম্ভব নয়। তখন থেকে তিনি মনে প্রাণে চিন্তা করতে থাকলেন একটি সুযোগের জন্য এবং তিনি সুযোগ পেয়েও গেলেন। ইউসেপ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন যে, তাদের প্রত্যেকটি ট্রেডভিত্তিক ছাত্রছাত্রীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সহ আইটি সেক্টরে বেসিক জ্ঞান বা ধারণা দেয়ার। মাযহার স্যার যখন পিছিয়ে পড়া গরীব মানুষের ছেলেমেয়েদের কম্পিউটার জ্ঞান দেয়ার চিন্তা করেছিলেন এবং সেটা অক্টোবর ০৮ থেকে শুরু করলেন। তার বেশ কিছু দিন পরে মার্চ ০৯ থেকে ডি.নেট এর কারিগরী সহযোগিতায় তা পরিপূর্ণভাবে করার সুযোগ পেলেন। মাযহার স্যার এর আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল আইটি সেক্টরে কাজ করার এ জন্য তিনি জীববিজ্ঞানে মাস্টার্স পাশ করার পরও ইনফরমেশন টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি করেন। এজন্য তিনি ডি.নেটকে ধন্যবাদ জানান কারণ তার ইচ্ছা ডি.নেটের কারিগরী সহায়তায় পরিপূর্ণতা লাভ করেছে।

ছ. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
আইপিএস বা নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন আইসিটি ডিভাইস এবং সফটওয়্যার অর্মতভূক্ত করে ছাত্রছাত্রীদের সে বিষয়ে ধারণা দেয়া। ইউসেপ বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে যেখানে জেনারেল নিয়মে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে তাদেরকে কম্পিউটার বেসিক কোর্স করানো এবং যারা অষ্টম শ্রেণী শেষ করে নবম বা ট্রেড ভিত্তিক বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজ করে তাদেরকে গ্রাফিক ডিজাইন, উচ্চতর প্রোগ্রামিং কোর্স করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: ভবিষ্যত পরিকল্পনা গুলো অত্যন্ত সুন্দর। তারা প্রতিটি স্কুলকে এক একটি টেলিসেন্টারে পরিণত করতে চাই। আমার কাছে মনে হয়েছে তারা প্রতিটি ক্লাসে আইসিটি ব্যবহার করে ক্লাস পরিচালনা করলে আরও বেশি ভাল হত।

জ. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন:
সায়েদ আবু মাযহার: তথ্যকর্মী জীববিজ্ঞানে মাস্টার্স পাশ করেছেন। তিনি পাশাপাশি কম্পিউটার বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিপ্লোমা ডিগ্রি গ্রহণ করেছেন ১৯৯৪ ইং। যদিও তিনি পড়ালেখা করেছেন জীববিজ্ঞানে কিন্তু তিনি জীববিজ্ঞানে ক্যারিয়ার গড়েননি, ক্যারিয়ার গড়েছেন আইসিটি সেক্টরে। প্রথম ক্যারিয়ার জীবনে তিনি যোগ দেন কম্পিউটার টিচিং সেন্টারে এবং সেখানে তিনি বিভিন্ন প্যাকেজে প্রোগ্রামিং এর উপর প্রশিক্ষণ দেন। সেখানে তিনি বেশ কিছুদিন চাকুরী করেন। তারপর তিনি যোগ দেন সফটওয়্যার কোরডিনেশন ইন দ্যা ডায়রেক্টোরেট অব প্রাইমারী এডুকেশন আনডার আ বোরিং এইড এন্ড ম্যানেজম্যান্ট। এটা ছিল পাঁচ বছরের একটি প্রোজেক্ট। এরপর তিনি যোগ দেন ইউসেপ বাংলাদেশে টিচার হিসাবে। যদিও তিনি শিক্ষক, তিনি শুধু অষ্টম শ্রেণীর একটি ক্লাস নেন এক ঘণ্টা ব্যাপী কিন্তু কাজ করেন অল সাপোর্টিং এন্ড অল দ্যা আইসিটি সার্ভিসেস।


৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে

ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান:
এই এলাকাটি কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত এবং কালুরঘাট ও জিয়া কমপ্লেক্র্ নামে পরিচিত।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা:
মৎস্য চাষী, গার্মেন্টস কর্মী, কৃষক, পোল্ট্রি ব্যবসায়ী, রপ্তানীকারক প্রভৃতি।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো:
রাস্তা আছে তবে খুব ভালো না, ইন্টার নেট সংয়োগ নেই, বিদুৎ সরবরাহ খুবই বাজে। মফস্বল শহর হলেও পুরোপুরি গ্রামের মত অবস্থা।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান:
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইস্পাহানী বেসরকারী বিদ্যালয়, সাফা মোতালিব সরকারী কলেজ, সাফা মোতালিব সরকারী মাদ্রাসা, এএলখান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, এসকেকিউ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ইস্পাহানী জুট মিলস লিমিটেড, এ.কে.খান শিল্প এলাকা, এ.কে.খান ইউসেপ টেকনিক্যাল বিদ্যালয় ইত্যাদি।

ঙ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ:
এলাকায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার, সাইবার ক্যাফে আছে। এছাড়াও প্রচুর ফোন ফ্যাক্রে্র দোকান ও ডিজিটাল স্টুডিও রয়েছে।

চ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা:
সাফা মোতালিব সরকারী কলেজ, ইস্পাহানী শিল্প এলাকা, এ. কে. খান শিল্প এলাকা, কালুরঘাট ব্রিজ, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র, জিয়া কমপ্লেক্র্ প্রভৃতি।


৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল

ক. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী

প্রদর্শনী এবং প্রচার সাধারন মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সেবাসমূহ সম্প্রসারনের উদ্দেশ্যে শিক্ষা ভ্রমনের মত প্রদর্শনী ও ক্যাম্পেইন আয়োজন করা এবং অফলাইন ও অনলাইন কনটেন্ট দেখানো
ফলাফল প্রকাশ বিভিন্ন পরীক্ষা ও চাকুরীর ফলাফল সবাইকে বিনামূল্যে প্রদান


৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা

ক. দৈনিক কর্মসময়:
সকাল ৮.৩০ থেকে বিকাল ৫.৩০ পর্যন্ত

খ. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন:
টেলিসেন্টারটি কর্মী দু’জন। ৬ মাস একজন প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বাকী ৬ মাস অন্যজন। এভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন। প্রতি ব্যাচে ৮ জন করে শিক্ষার্থী আছে।


৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম

ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয়

সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ
তথ্য প্রযুক্তি সেবা কমিউনিটির সকলকে - যখন তারা কোন সমস্যায় পড়ে
শিক্ষার্থী ও শিশুদেরকে - আগ্রহ অনুযায়ী জ্ঞান আরোহন
তথ্য সেবা কমিউনিটির সকলকে, শিক্ষার্থী ও শিশুদেরকে
অন্যান্য সেবা যখন প্রয়োজন


৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়

ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো:
বিদ্যুৎ সমস্যা, প্রাতিষ্ঠানিক বাদ্ধ-বাধকতা, ইউসেপ বাংলাদেশ স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা দরিদ্র পরিবারের হওয়াতে তাদের কম্পিউটার ভীতি কাজ করে, তথ্যকর্মী বা সেন্টার ইনচার্জ এর একক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা।

খ. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্যা:
সাপ্তাহিক এবং মাসিক ভিত্তিতে টেলিসেন্টারের সমস্যাগুলো আলোচনা করে সমাধান করা হয়। টেলিসেন্টার ম্যানেজারের কম্পিউটার ডিপ্লোমা থাকায় এ সকল সমস্যার সমাধান তিনি নিজেই করে থাকেন। বড় সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে বাহিরে নিয়ে সমাধান করা হয়।

গ. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা:
ইংরেজী ভাষা গণিতে দক্ষতার অভাব। সাধারন জ্ঞানের স্বল্পতা।


৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয়

ক.তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে):
টেলিসেন্টারে গড়ে মাসে ২৪০ জন গরীব শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিতে পারে।

খ. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে:
অবস্থান সম্পর্কে এলাকার ৬০% লোক অবগত।

গ. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে:
অংশগ্রহন ও পরামর্শ প্রদান।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা)
উপকরণ (১২টি কম্পিউটার, ১টি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ৩টি স্পিকার, ১টি নেটওয়ার্কিং সিস্টেম, ১২টি আসবাবপত্র, ১২টি টিউব লাইট, দুই মুখী বৈদুতিক তার সংযোগ) ২৭৬,০০০
সেন্টার ইনচার্জ এর বেতন প্রতি মাসে ১৫,০০০

ঙ. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল:
ইউসেপ বাংলাদেশ, আই,কে ফাউন্ডেশন, ডি.নেট, সিএসডিসি প্রোজেক্ট চুক্তি অনুযায়ী দিয়েছে।

চ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ:
কোন ঋণ গ্রহণ করা হয়নি।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: টেলিসেন্টার স্থাপনে আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, যদি টেলিসেন্টারটি গ্রামে স্থাপন করি তাহলে সেটা হতে হবে ইউনিয়ন ভিত্তিক। কমিউনিটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কমিউনিটির বিত্তবানদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। কমিউনিটির একটি মানুষের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে টেলিসেন্টার স্থাপন করা সহজ হবে।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা)
বিদুৎ বিল ৫,০০০
জেনারেটর ৩,০০০
বেতন ১৫,০০০
রক্ষনাবেক্ষণ ৫০০
অফিস সহকারী ৩,০০০
ইন্টারনেট ফি ১,০০০

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: টেলিসেন্টারটিতে খরচের পরিমাণ বেশি বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় খরচ বেশি হচ্ছে। খরচ কমানোর ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

জ. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত:
নাই

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কুদরত আলী: টেলিসেন্টারটিতে আয়ের অনেক সুযোগ রয়েছে কিন্তু টেলিসেন্টারটি ডোনার কর্তৃক পরিচালিত এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা হতদরিদ্র ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সেবা দেয়া হচ্ছে টেলিসেন্টারটির মূল লক্ষ্য।