কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/আলোকিত গ্রাম

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আলোকিত গ্রাম
কাহালু , বগুড়া
পরিদর্শনের তারিখ: ০৭ নভেম্বর ২০০৯ থকে ১১ নভেম্বর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন
১. মো.মহসীন হাওলাদার, গউফ পল্লী তথ্যকেন্দ্র, ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ, মাহিদিয়া বাজার, যশোর
২. শামীম আহমেদ (সুমন), প্রিজম পল্লীতথ্য কেন্দ্র, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ

যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন
এ,এইচ,এম, উজ্জল, আলোকিত গ্রাম, কাহালু, বগুড়া


১. টেলিসেন্টার পরিচিতি
ক. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ:
১৯ মে জানুয়ারী ২০০৬ ইং

খ. যেভাবে শুরু হয়েছিল
ক্যাটালিষ্ট এর উদ্দ্যোগে শুরু হয়েছিল। স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে টেলিসেন্টারটি শুরু হয়েছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শামীম আহমেদ (সুমন): এলাকার অনেক তথ্য বঞ্চিত মানুষের আশা এই টেলিসেন্টার থেকে তারা অনেক তথ্য পাবে।

গ. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল
জনাব নুরুজ্জামান সোহেল (পরিচালক, আলোকিত গ্রাম), জনাব গোলাম হাসনাইন সোহান এবং মো: তরিকুল ইসলাম (তারেক)- মূলত এই তিন জনের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো.মহসীন হাওলাদার: ‘‘তথ্যই দিন বদলের পথ্য’’ এই অঙ্গিকারকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাহালু থানার নুরুজ্জামান সোহেল নিজস্ব উদ্যোগে এই টেলিসেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ঘ. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন
কাহালু থানাতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বেশি এবং এখানকার মানুষের কাছে আগে কোন প্রতিষ্ঠান তথ্য প্রযুক্তি পৌঁছায়নি । এখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কৃষিজীবির সংখ্যা বেশি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষার হার ভালো। ফলে এখানে টেলিসেন্টারের মাধ্যমে অনেক আয় সম্ভব।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো.মহসীন হাওলাদার: তথ্যের অভাবে আগে তাদের অনেক খেসারত দিতে হয়েছে। কিন্তু এখন কিছুটা হলেও এখানকার মানুষ তাদের তথ্যের চাহিদা এই টেলিসেন্টারের মাধ্যমে পূরণ করতে পারছে। তাদের উক্তি এরকম, টেলিসেন্টার যেন প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে হয়।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা
কম্পিউটার ৪টি
প্রিন্টার ২টি
ডিজিটাল ক্যামেরা ২টি
স্ক্যানার ১টি
আইপি.এস ১টি
ইন্টারনেট মডেম ১টি
তথ্যমূলক সিডি অনেক

চ. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ
টেলিসেন্টারে গ্রামীণ ফোনের ওয়ার্লেস মডেম এর সংযোগ আছে।

ছ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি
কৃষি (আলু), পোল্ট্রি, মৎস্য এর উপর তথ্য এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ঠিকানা আছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত:
মো.মহসীন হাওলাদার: টেলিসেন্টারে অফলাইন তথ্য ভান্ডার প্রয়োজন অনুযায়ী আছে।
এ,এইচ,এ, উজ্জল: টেলিসেন্টারে যে সব সিডি রয়েছে তার সাথে আরও অনেক নতুন নতুন সিডি যোগ করতে হবে।


২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি

ক.তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা

নাম পদবী কি কাজ করছে?
মো. এ.এইচ,এম উজ্জ্বল ম্যানেজার অফিসিয়াল কাজ করে থাকেন
মো. সোহাগ এসিস্টেন্ট অফিসিয়াল কাজ করে থাকেন
মো. আলী হাসান ফিল্ড অরগানাইজার অফিসিয়াল কাজ করে থাকেন
মো. তরিকুল ইসলাম তারেক প্রশিক্ষক অফিসিয়াল ও প্রশিক্ষণের কাজ করে থাকেন

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো.মহসীন হাওলাদার: এই টেলিসেন্টারে আরো কর্মী প্রয়োজন আছে এবং একজন মহিলা কর্মীর বিশেষ প্রয়োজন।

খ. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া
তরিকূল ইসলাম (তারেক): তরিকুল ইসলাম মূলত বিএ পাস করে যখন বেকার তখন তার আত্মীয় তাকে প্রস্তাব দেন আলোকিত গ্রামের সঙ্গে কাজ করার জন্য। পূর্বে কলেজ জীবনে তিনি রাজনীতি করতেন। রাজনীতি করতে গিয়ে তাকে অনেক অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। এক পর্যায়ে রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে তিনি মানুষের সেবা এবং নিজের জীবনের পরিবর্তনের জন্য এই পেশায় নিজেকে উৎস্বর্গ করেছেন। তিনি বলেন আমি অন্ধকারের মধ্যে ছিলাম এখন আলোর সন্ধান পেয়েছি।
এএইচএম উজ্জ্বল: উজ্জ্বল প্রথমে কম্পিউটার শিক্ষা নিতে আসেন। পরিচালক সোহেল ভাইয়ের তাকে কর্মী হিসেবে পছন্দ হয় এবং যোগ্য মনে হয়। মাঝে মাঝে অফিসিয়াল অনেক কাজে সোহেল ভাইকে তিনি সাহায্য করতেন। এভাবেই সোহেল ভাই এক সময় তাকে চাকুরীর প্রস্তাব দেন।

পরিদর্শনকারীর মতামত:
শামীম আহমেদ (সুমন): উজ্জ্বল মনে প্রাণে একজন আন্তরিক মানুষ। তাকে দেখলেই মনে হয় আলোকিত গ্রামের একজন আলোদানকারী মানুষ।

গ. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ

সময় তরিকূল ইসলাম (তারেক) এএইচএম উজ্জ্বল
সকালে নয়টা তিনি টেলিসেন্টারে আসেন এবং সবার সাথে বসে আলোচনা করে কর্ম পরিকল্পনা করেন। পরে তিনি তার শিক্ষার্থীদের দুপুর পর্যন্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেন নয়টার সময় তিনি টেলিসেন্টারে আসেন। প্রথমে হাজিরা খাতায় নিজের নাম এন্ট্রি করেন। তারপর কম্পিউটার চেক করেন। এভাবেই তিনি সকাল থেকে দিনের কাজ শুরু করেন।
দুপুরে দুপুরের খাবার খেয়ে কম্পিউটার কম্পোজ এর কাজ করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের কাজ, ছবি তোলা, তথ্যসেবা দেয়া ইত্যাদি করা হয়। সকাল থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত অফিসিয়াল কাজ দেখাশুনা করেন। দুপুরে লাঞ্চ করতে বাড়িতে যান।
বিকেলে গান ডাউনলোড, ছবি তোলার কাজ করা হয় এবং তথ্যসেবা দেয়া হয়। লাঞ্চ সেরে অফিসে ফিরে আসেন। কোন কাজ থাকলে বগুড়াতে যেতে হয়।
সন্ধায় সন্ধ্যায় সবার সাথে আলোচনা করে টেলিসেন্টার বন্ধ করে বাড়িতে ফিরে যান। সন্ধ্যায় সমস্ত কাজ কর্ম ঠিকঠাক ভাবে বুঝে ও বুঝিয়ে বাড়িতে চলে যান।

ঘ. সামাজিক প্রতিকূলতা
গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে তথ্যকেন্দ্র সম্পর্কে যথেষ্ঠ জ্ঞান না থাকায় তারা তথ্যকেন্দ্রে আসতে দ্বিধা বোধ করেন।
সেন্টারে কোন মহিলা কর্মী না থাকায় মহিলাদের তথ্যসেবা প্রদানে সমস্যা হয়।
বিনা পয়সার সেবা গ্রহনের প্রবণতা খুব বেশি।
ইন্টারনেট সমস্যা কিছুটা হয়।

ঙ. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার

ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন
www.byabsharkhobor.com ব্যবসা সম্বন্ধে বিভিন্ন তথ্য পরামর্শ গ্রহণ।
www.agriculture.com কৃষি তথ্য সম্বন্ধে জানা।

চ. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান
তথ্যকর্মীদের কেউই কোনো ব্লগ কিংবা অনলাইন গ্রুপের সদস্য না।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শামীম আহমেদ (সুমন): এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি ইমেইল এড্রেস খুলবেন এ ব্যাপারে আমাকে তিনি জানান।

ছ. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে
তরিকুল ইসলাম: তার কম্পিউটার শেখার প্রতি খুবই আগ্রহ ছিল। কম্পিউটার শিখতে শিখতে তিনি মনে মনে একজন প্রশিক্ষক হতে চাইলেন। এক সময় তিনি এই টেলিসেন্টারের কম্পিউটার প্রশিক্ষক হয়ে গেলেন। তথ্য প্রযুক্তি দিয়ে নিজের আর্থিক পরিবর্তন সম্ভব সেই জন্য তিনি এই পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন।
উজ্জ্বল: তিনি ব্যক্তিগত ভাবে পরিচালক সাহেবকে পছন্দ করতেন। তিনি এই সেন্টারে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতেন। তাদের এই কার্যক্রমের আওতায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং কৃষকদের তথ্য দেয়াটা তার কাছে খুবই ভালো লাগে। তার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের সেবা করা এবং এখানে এসে তাই পেয়েছেন। তাই কাজ করতে ভালো লাগে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শামীম আহমেদ (সুমন): আসলে উজ্জ্বল ব্যক্তিগত জীবনে একজন কর্মঠ লোক। তিনি যে কোন কাজকে খুব ভালবাসেন। প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে চান।

জ. থ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তরিকুল ইসলাম: তিনি নিজেই একটা টেলিসেন্টারের মালিক হতে চান এবং বড় করে একটা ট্রেনিং সেন্টার করতে চান এই কাহালু গ্রামে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি কাহালু গ্রামের ও দেশের দিন বদল ঘটাতে চান।
উজ্জ্বল: ভবিষ্যতে নিজে সমাজ কল্যাণকর প্রতিষ্ঠান করতে চান। গরীব, অভাবী, উপকার বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ভব্যিষতের প্রতিটি সেকেন্ড ব্যয় করতে চান।

ঝ. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন
তরিকুল ইসলাম: তিনি এক জন তথ্যকর্মী। তার জীবন সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর তার দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে বুকের মধ্য থেকে। তিনি ছাত্রজীবনের কথা বলেন। ছাত্রজীবনে তিনি রাজনীতি করতেন। মোট কথা রাজনীতি ছিল তার ধ্যান ধারণা। রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি অনেক অপমানিত, লাঞ্ছিত হয়েছেন এমনকি জেল খেটেছেন। ছাত্র জীবন থেকে তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং মনে মনে স্বপ্ন দেখেন তিনি একজন নামকরা কম্পিউটার প্রশিক্ষক হবেন। রাজনীতি থেকে কেন ফিরে আসলেন এবং কেন এই পেশা বেছে নিলেন? উত্তরে তিনি বললেন- রাজনীতি করে অনেক দুর্নাম অর্জন করেছি। সুনাম অর্জন করতে তাই এই পেশা বেছে নিয়েছি। এতে আছে শুধু সুনাম। এখন আমাকে অনেকে সম্মান করে। এছাড়া আমি এই পেশা থেকে নিজের আর্থিক পরিবর্তন ঘটিয়েছি। তিনি বলেন তার একটি বাচ্চা আছে। তার স্বপ্ন নিজের একটি বড় কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করার এবং সন্তানকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা।
উজ্জ্বল: পিতা: আহম্মদ আলী, মাতা: জোসনা বিবি। তারা তিনভাই, কোন বোন নেই। তিনি সবার ছোট। বিবাহ করেছেন নিজের পছন্দের মেয়েকে পারিবারিক ভাবে এবং খুব সুখে আছেন। উজ্জ্বলের ইচ্ছা তার সংসারটা হবে একটি আদর্শ সংসার। তার ইচ্ছা এক ছেলে ও এক মেয়ে হোক তাদের সংসারে।


৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে
ক. থ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান
বগুড়া শহর থেকে ২০ কি.মি দূরে অবস্থিত টেলিসেন্টার আলোকিত গ্রাম। সেন্টারটি কাহালু উপজেলার অবস্থিত। এখানকার জনসংখ্যা প্রায় ২৫০,০০০ জন।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা
এলাকার জনগণের প্রধান পেশা হচ্ছে ধান চাষ। এরপর মানুষ ব্যবসার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে। চাকুরীজীবিদের সংখ্যাও দিনে দিনে বাড়ছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত:
মো.মহসীন হাওলাদার: এই কাহালু উপজেলার মানুষ কৃষি নির্ভর। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় তার কৃষি সংক্রান্ত অনেক তথ্য তাদের দরকার।
শামীম আহমেদ (সুমন): কাহালু উপজেলার মানুষ অত্যন্ত বেশি।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো
এলাকাতে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে মোটামুটি ৮০%। কিন্তু ব্যবস্থাপনা খুব একটা ভাল নয়। ইন্টারনেট সংযোগ খুবই কম। যারা ব্যবহার করে তার ব্যক্তিগত ভাবে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। রাস্তাঘাট পাকা কিন্তু গ্রামের মধ্যে রাস্তা কাঁচা।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান
এলাকায় সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে উপজেলা পরিষদ, থানা, ইউনিয়ন পরিষদ, পশু হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভূমি অফিস, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ইত্যাদি। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন এন.জি.ও প্রতিষ্ঠান।

ঙ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ
স্থানীয় বাজারে টেলিসেন্টার (গ্রামীন সি.আই. সি), ফোনফ্যাক্সের দোকান ও ডিজিটাল স্টুডিও আছে। পরিদর্শনকারীর মতামত
মো.মহসীন হাওলাদার: এখানে অনেক কম্পিউটার ব্যবসায়ী আছে যারা বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল সেবা দিয়ে থাকে। কিন্তু কেউ তথ্য সেবা দেয় না।

চ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা
কথিত আছে এই গ্রামে বেহুলা লক্ষিন্দের অবস্থান করেছিল এবং এখানেই সে জীবন ফিরে পেয়েছে। এছাড়া এই গ্রামে যেতে বগুড়া শহরে অবস্থিত আছে বেহুলা লক্ষিন্দর এর বাসর ঘরের পুরাতন সেই আবাস স্থল যেখানে লক্ষীন্দরকে লোহার মহল ভেদ করে সাপ দংশন করেছিল । সেটি গোকুল গ্রামের মধ্যে অবস্থিত। এছাড়া আছে শাহ সুলতান বখলী মহী সাওয়ার (র:) এর মাজার শরীফ। এছাড়া আছে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মহাস্থানঘর। যা সত্যিই আশ্চর্যজনক। আছে মহাস্থানঘরের যাদুঘর।


৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল
ক. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী

উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ
বিভিন্ন ধরনের সেমিনার জনসাধারণকে টেলিসেন্টারের উপকারিতা জানানোর জন্য সেমিনার করা হয়েছে
মাইকিং পুরো এলাকাতে (থানায়) জনগণকে জানানোর জন্য মাইকিং
স্বাস্থ্য ক্যাম্প পুরো এলাকাতে (থানায়) মানুষের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা কর্মসূচি পালন
শিক্ষা ক্যাম্প প্রতি মাসে একদিন সবাইকে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা প্রদান এবং মেয়েদের ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ
ভিডিও চিত্র প্রদর্শন পুরো থানা জুড়ে ফ্রি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো.মহসীন হাওলাদার: তাদের উদ্বুদ্ধ করণ কৌশল ঠিক আছে কিন্তু পর্যাপ্ত নয়।
শামীম আহমেদ (সুমন): টেলিসেন্টারটি এলাকাতে ব্যাপক পরিচিত। এ জন্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই টেলিসেন্টারে প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করে।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার এনজিও, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ইন্টারনেট সেবা, কম্পোজ, ছবি তোলা সহ বিভিন্ন সেবা দেয়া হয়।

গ. স্থানীয় সরকার এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
স্থানীয় সরকারী প্রতিষ্ঠান এর কম্পোজের কাজগুলো করে থাকে।

পরিদর্শনকারীর মতামত:
মো.মহসীন হাওলাদার: তাদের সম্পর্ক ভাল।

ঘ. এলাকার ক্ষুদ্র ব্যসায়ীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কৃষি ও মৎস্য তথ্য জানার জন্য কেন্দ্রে আসেন।

পরিদর্শনকারীর মতামত:
মো.মহসীন হাওলাদার: ব্যবসায়ীদের কেন্দ্রমূখী করতে হবে। এ জন্য নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

ঙ. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
এলাকার নারীরা ছবি তোলা সহ বিভিন্ন ধরনের কম্পোজ এর কাজ করতে টেলিসেন্টারে আসে এবং শিক্ষিত নারীরা কম্পিউটার ট্রেনিং এর মাধ্যমে নিজেদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলছে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
শামীম আহমেদ (সুমন): সেন্টারটিতে নারী তথ্য কর্মী না থাকার কারণে নারীরা এই সেন্টারে কম আসে।

চ. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
এলাকার শিশু কিশোরেরা এই সেন্টারে ভিডিও গেম খেলতে আসে। কিশোররা মোবাইলে গান ডাউনলোড, সিডি রাইট, কম্পোজ এর সেবা নিতে আসে।

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো.মহসীন হাওলাদার: শিক্ষনীয় অনেক ভিডিও দেখালে অনেক শিশু কিশোররা উপকৃত হত।


৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা
ক. দৈনিক কর্মসময়:
টেলিসেন্টার সকাল ৯.০০ থেকে রাত ৯.০০ পর্যন্ত খোলা থাকে।
খ. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন
কর্মীদের মাঝে দুই জন অফিসে থাকেন, একজন ফিল্ডে যান।
গ. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা
তরিকুল ইসলাম (তারেক): সকালে টেলিসেন্টারে এসে পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেন। বিকেলে বিভিন্ন কম্পোজের কাজ এবং তথ্য ও পরামর্শ সেবা দিয়ে থাকেন। এইভাবে বিরামহীন ভাবে চলে রাত ৯.০০ টা পর্যন্ত। কোন কোন দিন রাত ১২.০০ টা বেজে যায়।
উজ্জ্বল: সকাল নয়টার সময় অফিসে এসে পরিষ্কার করেন। তারপর বিভিন্ন কাজগুলো গুছিয়ে ফেলেন। লাঞ্চের আগ পর্যন্ত অফিসিয়াল কাজ করেন। লাঞ্চ সেরে অফিসে বসেন। তারপর কোন কাজ থাকলে শহরে আসেন। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অফিসের কাজ শেষ করে বাড়িতে ফেরেন।
ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ
সেবা গ্রহীতার তালিকা রেজিষ্টারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করে থাকেন। প্রয়োজনে ছবি তোলা হয়ে থাকে।
ঙ. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া
প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচালক কর্মচারীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে নতুন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত নেন।
চ. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ
রেজিস্টার ও কম্পিউটার এর মাধ্যমে আর্থিক হিসাব তুলে রাখা হয়।
ছ. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন
টেলিসেন্টারের কাজ এবং আয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
জ. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা
এই সেন্টারে মোট একটি প্রশস্ত রুম। এই রুমে মোট চারটি কম্পিউটার আছে। দুইটি কম্পিউটার রুমের দুই কোনায় সামনের দিকে আছে। আর দুইটি আছে রুমের মাঝ বরাবর।


৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম
ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা

সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে মন্তব্য
তথ্য ও পরামর্শ সেবা সকল জনগণকে সকাল ৯.০০ টা থেকে রাত ৯টা প্রয়োজন মতো অনেক ক্ষেত্রে ফ্রি
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ছাত্র/ছাত্রী, এনজিওকর্মী সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ৫০০/- মাসিক হিসেবে মেয়েদের জন্য ফ্রি
ইন্টারনেট সেবা সকল জনগণকে ১৫ টাকা প্রতি ঘণ্টা কৃষিতথ্য ফ্রি দেওয়া হয়।
কৃষি তথ্য কৃষকদের ফ্রি
মৎস্য তথ্য মৎস্য চাষী ১০ টাকা
শিক্ষা তথ্য ছাত্রছাত্রী ১০ টাকা
ডিজিটাল ষ্টুডিও সকল জনগণকে ৪ কপি- ৩০ টাকা
ফ্লেক্সিলোড সকল জনগণকে ১০/- - ১০,০০০/-
মোবাইল গান এবং রিংটোন ডাউনলোড সকল জনগণকে প্রতি গান ২/- কোরআন তেলাওয়াত
কম্পিউার কম্পোজ সকল জনগণকে পেজ অনুসারে

পরিদর্শনকারীর মতামত
শামীম আহমেদ (সুমন): এই টেলিসেন্টারে এসে দেখলাম এলাকার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রশ্নসহ বিভিন্ন কাজ এখান থেকে করে নেয়।

খ. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয়

সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এখানকার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে চাকুরী পেয়েছে।
কৃষি তথ্য কৃষি তথ্য নিয়ে কৃষকরা ভালোভাবে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হয়েছে।
মৎস্য তথ্য মৎস্য তথ্য গ্রহণ করে বিভিন্ন রোগ বালাই এর চিকিৎসা করতে পেরেছে।
পোল্ট্রি তথ্য পোল্ট্রি তথ্য গ্রহণ করে পোল্ট্রি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে
সরকারী তথ্য বিভিন্ন ধরনের সরকারী ফার্ম এখান থেকে পেয়ে তারা লাভবান হয়েছে।
ইমেইল দেশ বিদেশের বিভিন্ন তথ্য পেয়ে তারা উপকৃত হয়েছে।
ডিজিটাল স্টুডিও কম খরচে কম সময়ে ছবি উঠিয়ে তারা দলিল করতে সক্ষম হয়েছে।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা
মাটি পরীক্ষার মেশিন
পানি পরীক্ষার মেশিন
মুরগীর রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাব


৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়
ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো
এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না। এছাড়া আপাতত কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।

খ. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্যা
টেলিসেন্টারে কোন ছোট কারিগরী সমস্যা হলে নিজেরাই এর সমাধান করে। বড় কোন সমস্যা হলে শহরে গিয়ে সমাধান করা হয়।

গ. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা
টেলিসেন্টার কর্মীদের দক্ষতা অনুযায়ী বেতনভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। প্রতিষ্ঠান এখনো এ কারণে দক্ষ কর্মী পাচ্ছেনা।

ঘ. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে
প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সেবা মূলক কর্মকান্ড আরো বাড়াতে হবে। একইসাথে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যেন আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়ায় এমন উদ্দ্যোগ নিতে হবে।


৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয়

ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে):
গড়ে মাসে ৯০০ জন সেবা গ্রহণ করে থাকে

খ. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে
: টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ৭০ ভাগ লোক জানে।

গ. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে
প্রচারণার মাধ্যমে, সেবা গ্রহণ করে ও বুদ্ধি পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা)
কম্পিউটার ৪টি ১২০,০০০
স্ক্যানার ১টি ৬,০০০
প্রিন্টার ২টি ১২,০০০
মডেম ১টি ৪,৫০০
সিম ১টি ৫০০
আই.পি.এস ১টি ২৫,০০০
ডিজিটাল ক্যামেরা ২টি ২৮,০০০
ওযেব ক্যামেরা ১টি ১,৫০০
আসবাব পত্র ১৫,০০০
অন্যান্য যন্ত্রপাতি ১০,০০০
মোট ২২২,৫০০

ঙ. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল:
নিজস্ব খরচে

চ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ
টেলিসেন্টার স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ করেনি।

পরিদর্শনকারীর মতামত:
এ,এইচ,এস, উজ্জল: সেন্টার পরিচালক নিজে সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছেন শুধু গ্রামের মানুষের উপকার করার লক্ষ্যে।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা)
কমীৃর বেতন ১০,০০০
কাগজ ১,০০০
ফটোপেপার ১,২০০
কালি (প্রিন্টার) ১,৫০০
ঘর ভাড়া মাসিক ১,০০০
বিদ্যুৎ বিল ৮০০
অন্যান্য ২,০০০

জ. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা)
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ২,০০০ - ৮,০০০
কম্পোজ ৩,০০০ - ৫,০০০
ছবি তোলা ২,০০০ - ৩,০০০
তথ্যসেবা ৫,০০০ (কিছু ফ্রি)
রিং ও গান ডাউনলোড ১,৫০০ - ২,৫০০
ফ্লেক্সি লোড ৩,০০০
ইন্টারনেট ই-মেইল ২,০০০
সার্ভিসিং ও অন্যান্য ২,০০০


৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা

উপকারভোগীর নামঃ মোছা: মাকছুদা আক্তার মৌসুমী
পিতা- মো: মোজাম্মেল হোসেন
মাতা- মোছা: মিনারা বেগম
মাকছুদা আক্তারের গ্রাম পালপাড়া, থানা কাহালু, জেলা বগুড়া। তিনি একজন ছাত্রী। ’আলোকিত গ্রাম’ এর টেলিসেন্টারে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি উপকৃত হয়েছেন। কম্পিউটার শিখে এখন নিজেই কম্পোজ করেন। তিনি অনেক চাকুরির দরখাস্ত করেছেন। আশা করা যাচ্ছে তার চাকzুর হয়ে যাবে। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তিনি একটি ভাল চাকুরি করতে চান।