কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/আরবান পল্লীতথ্য কেন্দ্র

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আরবান পল্লীতথ্য কেন্দ্র
রাজপাড়া, পূর্বধলা, নেত্রকোনা
পরিদর্শনের তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০০৯ থকে ৩১ অক্টোবর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন
১. এ,এইচ,এম,উজ্জ্বল, আলোকিত গ্রাম, কাহালু বাজার
২.মো: এহসানুল ইসলাম, ফমরেড মো: ফরহাদ তথ্য কেন্দ্র, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড,পঞ্চগড়
যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন
রওশন আরা খাতুন,আরবান পল্লীতথ্য কেন্দ্র,রাজপাড়া, পূর্বধলা, নেত্রকোনা


১. টেলিসেন্টার পরিচিতি
ক. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ:
১লা অক্টোবর ২০০৭ ইং
খ. যেভাবে শুরু হয়েছিল:
২০০৬ সালে ডি.নেট পরিচালিত নেত্রকোনার টেলিসেন্টারটি আরবান এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আরিফুজ্জামান পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে তথ্যকেন্দ্রটি স্থানীয় সংগঠন অমাস এর সাথে অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে শুরু হলে ঐ তথ্যকেন্দ্রটিও তিনি বেশ কৌতুহল নিয়ে কয়েকবার পরিদর্শন করেন। কিভাবে এমন একটি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা যায় এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে তিনি ডি.নেট অফিসে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে ‘‘আরবান পল্লীতথ্য কেন্দ্র’’-টি শুরু করেন।
গ. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল:
আরবান-এর সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনায় এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
ঘ. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন:
তথ্যসেবা প্রদানে এলাকার অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। তথ্যপ্রযুক্তি (ইন্টারনেট, ই-মেইল) ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ ও বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখা।
ঙ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা
ডেস্কটপ কম্পিউটার
মডেম- নোকিয়া ৩১১০
হেডফোন
ওয়েব ক্যামেরা
সাউন্ড বক্স
প্রিন্টার
ডিজিটাল ক্যামেরা ক্যানন

চ. টেলিসেন্টারে ইন্টারনেট সংযোগ:
আছে। গ্রামীণ ফোনের ইন্টারনেট।
ছ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি:
জীয়ন তথ্য ভান্ডার- সিডি; স্থানীয় তথ্য ভান্ডার- ডাটা ব্যাংক; সরকারী ফরম- সিডি; ভিডিও সিডি- মিনা, মনি, সিসিমপুর, নাটিকা; কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা-তৃতীয় শ্রেণী, প্রশিক্ষণ ভিত্তিক সিডি- ব্লক বাটিক, প্লাস্টিক খেলনা, মোমবাতি তৈরি, চপ্পল তৈরি, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, জুয়েলারী প্রোডাকসান, সাবান তৈরি, স্ক্রিন প্রিন্ট, উন্নত চুলা, এগ্রি এনিমেশন। পোষাক ডিজাইন সিডি; সফল নারীদের জীবনী- বেগম রোকেয়া, নিলুফার ইয়াসমিন ইত্যাদি। প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা মূলক সিডি; তথ্যকেন্দ্র সংবলিত সিডি- অবলম্বন। নারীর জন্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন প্রকাশনা।

২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি
ক. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা

নাম পদবী কি কাজ করছে?
রওশন আরা খাতুন প্রোগ্রাম ম্যানেজার-আরবান আইটি ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপক- আরবান পল্লীতথ্য কেন্দ্র টেলিসেন্টার পরিচালনা এবং সিডিউল মোতাবেক ক্লাস নেয়া
মো. আবুল আরশাদ কম্পিউটার প্রশিক্ষক কম্পিউটার ক্লাস, ডাটা সংগ্রহ, যোগাযোগ ও সমন্বয়
সূচিত্রা রানী দাস কম্পিউটার প্রশিক্ষক কম্পিউটার ক্লাস
শাহিদা বেগম তথ্যকর্মী তথ্য প্রদান

খ. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া
সুচিত্রা রানী দাস : তিনি প্রথমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ভর্তি হন এবং নিয়মিত ক্লাস করেন। তিনি খুব সহজে কম্পিউটার সর্ম্পকে বুঝতে পারেন। এরপর সেন্টার ম্যানেজার কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেন। তখন তিনি এখানে চাকুরীর জন্য আবেদন করেন। তাঁর কাজ দেখে কম্পিউটার শিক্ষক হিসাবে নির্বাচন করা হয়।
রওশন আরা খাতুন: কম্পিউটারের মৌলিক জ্ঞান ছিল। এছাড়া এ ধরনের কাজে পূর্বের অভিজ্ঞতা, আগ্রহ ও উৎসাহের ভিত্তিতে।
গ. সামাজিক প্রতিকূলতা:
লোডশেডিং এবং ইন্টারনেটের গতি খুবই মন্থর হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ করার কষ্টকর। কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীদের দুই ব্যাচে ক্লাস নিতে হয়। এলাকার জনগণের মধ্যে শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব। ধর্মীয় গোড়ামি, যেমন: নারীরা বিভিন্ন অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও তথ্যসেবা গ্রহণ করার জন্য বাড়ী থেকে বের হতে চায় না।
ঘ. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার

ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন
www.jeeon.com.bd কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন, কর্মসংস্থান, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সচেতনতা ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য জানা
www.gunijan.org গুণীজনদের বিভিন্ন গবেষণালব্দ তথ্য ও উপাত্ত সম্পর্কে জানা
www.dnet.org.bd ডি.নেট পরিবার ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে আপডেট
www.jeebika.com.bd ক্যাটাগরী ওয়াইজ যোগ্যতা অনুযায়ী ও জেলাভিত্তিক কর্মসংস্থানের তথ্য জানা। উল্লেখ্য বাংলা ওয়েবসাইট হওয়ায় তথ্য দিতে সুবিধা।
www.mcc.bd.com মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট এন্ড কমিউনিকেশন লি. সম্পর্কে জানা
www.jeeon.com.bd/thikana তথ্য জানার জন্য (বিভিন্ন বিষয়)
www.dshe.gov.bd এমপিও ভুক্তি সম্পর্কে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য জানা
www.mission2011.net.bd বিটিএন এর বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য
www.education.gov.bd শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানার জন্য।
www.ecs.gov.bd বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাইট দেখার জন্য
www.dpe.gov.bd প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য দেখার জন্য

ঙ. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান:
www.telecenterbd.ning.com, www.pallitathya.ning.bd, www.gcepbd.ning.com, yahoo এবং gmail
চ. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে
সূচিত্রা রানী দাস : তথ্যকর্মীর কাজ করলে সকল ধরনের মানুষের কাছে পৌঁছা যায়। তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে কম্পিউটারের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রদানের বিষয়টি তাকে বেশ উৎসাহিত করছে।
রওশন আরা খাতুন: তথ্যকেন্দ্রের কাজ সেবামূলক কাজ বলে তিনি উৎসাহিত হয়েছেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তিতে নিজেকে তৈরি করার বিশেষ সুবিধা আছে এবং বর্তমানে অনেক সেবাগ্রহণকারী উপকৃত হয়ে যখন খুব হাসিখুশি মুখ নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আসে, ধন্যবাদ দিতে আসে, তখন তিনি সব সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হন।
ছ. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সূচিত্রা রানী দাস : ব্যক্তিগত জীবনে পড়াশুনার পাশাপাশি তথ্যকর্মীর কাজ করে নতুন জ্ঞান অর্জন এবং কম্পিউটারে নিজেকে অনেক বেশি দক্ষ করে তোলার ইচ্ছা।
রওশন আরা খাতুন: আরবান পল্লীতথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলার প্রতিটি ঘরে চাহিদামত তথ্য প্রযুক্তি পেঁŠছে দিয়ে একটি তথ্যনির্ভর জ্ঞান সমাজ গড়ে তোলায় বিশেষ ভূমিকা রাখা।
ছ. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন
সূচিত্রা রানী দাস : পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে প্রথম সন্তান। পড়াশুনার পাশাপাশি তথ্যকর্মী ও কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে বেশ ভাল লাগে।
রওশন আরা খাতুন: তিনি বাবা মায়ের পাঁচ সন্তানের মধ্যে পঞ্চম ও অতি আদরের সন্তান। এসএসসি পাশ করার পর বিয়ে হয়ে যায়। সংসার ও সন্তানকে দেখাশুনার পাশাপাশি বি.এ.পাশ করেন। কিছু প্রতিবন্ধকতার কারনে যথেষ্ঠ ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও দুইবার রেজিষ্ট্রেশন করে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিতে পারেননি। বি.এ পাশ করার পর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ৫ বছর শিক্ষকতা করেন এবং পূর্বধলা পৌরসভার মহিলা কমিশনারেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তথ্যকর্মীর কাজের মতো বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িয়ে যান। ২০০৭ সালে আরবান পল্লীতথ্য কেন্দ্রে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও তথ্যকর্মী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে স্বামী, সন্তান ও আরবান পল্লীতথ্য কেন্দ্র নিয়ে ব্যস্ত একটি মানুষ।

৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে
ক. এলাকার ভৌগলিক অবস্থান:
নেত্রকোণার জেলার পশ্চিমে পূর্বধলা অবস্থিত। পূর্বধলার উত্তর পশ্চিম অঞ্চল উঁচু এবং ক্রমান্বয়ে পূর্ব দক্ষিণ অঞ্চল ঢালু। এখানকার জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন থেকে পাঁচ লক্ষ।
খ. এলাকার জনগণের প্রধান প্রধান পেশা:
পূর্বধলার মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। এখান মোট জনগোষ্ঠীর ৮০ ভাগ মানুষ কৃষিকাজে নিয়োজিত। মৎস্য চাষ এখানকার মানুষের দ্বিতীয় পেশা কারণ ভৌগলিক এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে এখানে প্রচুর জলাশয় সৃষ্টি হয়। এই জলাশয় থেকে প্রচুর মাছ আহরণ করে জনগণ জীবিকা নির্বাহ করে।
গ. এলাকার অবকাঠামো:
এলাকায় অধিকাংশ জায়গায় পল্লীবিদ্যুৎ এর সংযোগ আছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ আছে। এলাকার রাস্তাঘাট মোটামুটি ভালো, কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব একটা ভালোনা। এখানে অল্প কিছু রাস্তা পাকা আর বেশিরভাগ রাস্তা কাঁচা।
ঘ. এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান:
এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, এনজিও ইত্যাদি আছে।
ঙ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ:
এলাকায় ফ্যাক্সের দোকান আছে ১টি। সাইবার ক্যাফে নেই। ডিজিটাল স্টুডিও আছে- ৫টি।
চ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা:
রাজধলা বিল, রাজবাড়ী- রাজপাড়া, ফকিরবাড়ী (জারিয়া ইউনিয়ন)- লেটির কান্দা, রাণীকং মিশন (দূর্গাপুর উপজেলা), পাহাড় (যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ কি:মি), কমরেড মনি সিং এর জন্মস্থান, জয়া ভাদুরী/জয়া বচ্চন এর পৈতৃক ভিটা/রাজবাড়ী বাঘবেড়।
৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল
ক. এলাকার জনগণকে টেলিসেন্টারের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী

উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ
স্বাস্থ্য ক্যাম্প তথ্যকর্মীরা গ্রামে গিয়ে মেয়েলী সমস্যার কথা শুনে এসে। তথ্য কেন্দ্রে এসে জিয়ন হেল্পলাইন এর কাছে থেকে সহযোগীতা নিয়ে সমস্যা সমাধান করে।
কৃষি ক্যাম্প তথ্যকর্মী গ্রামে গিয়ে কৃষকের কাছে গিয়ে ফসল বা, ফলজ গাছ এর সমস্যাগুলি শুনে। টেলিসেন্টার জিয়ন হেল্পলাইনের মাধ্যামে সমস্যা সমাধান করে।
শিক্ষা ক্যাম্প তথ্যকর্মীরা স্কুল, কলেজে গিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলে একটা তারিখ করে তখন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে।
আইন ক্যাম্প


তথ্যকর্মীরা গ্রামে গিয়ে, সম্পত্তি, যৌতুক নারী নির্যাতন সমস্যাগুলি শুনে তারা গ্রামের গণ্যমান্য লোকদের নিয়ে সমস্যা সমাধান করে।
বাজার/মেলা বিভিন্ন সিডি প্রদর্শনের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ, ব্যানার, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ।
সামাজিক কাঠামো এনজিও, সিবিও, ক্লাব, সমিতি, মসজিদ, মন্দিরে গিয়ে মত বিনিময়ের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকর

খ. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
তথ্যকর্মীর মাধ্যমে এলাকার নারীরা টেলিসেন্টার থেকে ব্যাপকভাবে সেবা গ্রহণ করে থাকে। যেমন: স্বাস্থ্য, কৃষি, অকৃষি উদ্যোগ, আইন সেবা ইত্যাদি।
গ. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
হ্যাঁ, সেবা গ্রহণ করে। যেমন: শিক্ষামূলক ভিডিও সিডি মিনা কার্টুন, সিসিমপুর, শিক্ষামূলক নাটিকা প্রদর্শন। শিক্ষামূলক বই যেমন: সাতরং, ছুটির দিনে ইত্যাদি বই পড়া।

৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা
ক. দৈনিক কর্মসময়:
টেলিসেন্টার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন: পরীক্ষার ফলাফল প্রদান, এমপিও ভুক্তির বিষয় সম্পর্কে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে বা জরুরী ই-মেইল করার ক্ষেত্রে অধিক সময় কেন্দ্র খোলা থাকে।
খ. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন:
একজন টেলিসেন্টার কর্মী সকালে অফিসে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। তথ্যকর্মী ঐ দিন কাজের সম্পর্কে আলোচনা কর। কম্পিউটার ক্লাস সিডিউল অনুযায়ী নেওয়া। তথ্য/সেবা আদান প্রদানের জন্য মাঠে যাওয়া। মাঠ থেকে ফিরে সংগ্রহকৃত তথ্য/সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জীয়ন তথ্য ভান্ডার থেকে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা। অন্যথায় বিভিন্ন প্রশ্ন/চাহিদাগুলো কম্পোজ করে প্রয়োজনীয় সেবা হেল্পলাইনে প্রেরণ। অন্যদিনের এবং পরবর্তী দিনের কার্য সর্ম্পকিত আলোচনা। সন্ধ্যা ৬টায় সব কাজ সম্পাদন করে হাজিরা খাতায় সই করে বাড়ীতে প্রস্থান।
গ. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ:
সেবা রেজিস্টার কার্ডের মাধ্যমে তালিকা সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাম্প বা মতবিনিময় সভার অংশগ্রহণকারীদের তালিকা বিভিন্ন ফরমেট এর মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। সেবা গ্রহণকারীর কোন ছবি তোলা হয় না।
ঘ. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া:
স্টাফ মিটিং এর মাধ্যমে নতুন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। জরুরী ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ঙ. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ:
ক্যাশবুক, লেজারবুক, সেবাদান ফরম, মাসিক ট্রেনিং রিপোর্টের মাধ্যমে আর্থিক হিসাব রাখা হয়।
চ. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন:
টেলিসেন্টারের কর্মীদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, কাজের প্রতি আন্তরিকতা, সততা, সময়ানুবর্তীতা, সৃজনশীলতা ও সহনশীলতার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।
ছ. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা:
টেলিসেন্টারটি মোট দুটি রুম দিয়ে সাজানো হয়েছে। যেমন: তথ্যকেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ রুম। তথ্যকেন্দ্র: আগত অতিথিদের অর্থাৎ যারা সেবা নিতে আসেন তাদের সেবা প্র্রদান করা হয় এই রুমের মাধ্যমে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ: কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীরা এই রুমের মাধ্যামে থিওরি ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাস করানো হয়।

৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম
ক.তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা

সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে মন্তব্য
তথ্যসেবা (জীয়ন ও স্থানীয়) সকল শ্রেণীপেশার জনসাধারণ শুক্রবার ছাড়া সকাল ৮.০০ থেকে রাত ৮.০০ পর্যন্ত। স্বচ্ছল ব্যাক্তিদের কাছ থেকে নূন্যতম সেবামূল্য নেয়া হয়।অস্বচ্ছল সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে কোন সেবামূল্য নেয়া হয় না চাহিদামত (বিশেষ ক্ষেত্রে বার ও সময়সীমা নেই)।
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ছাত্রছাত্রী, চাকুরীজীবি, শিক্ষক, বেকার যুবক-যুবতী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী। শুক্রবার ছাড়া সকাল ৮টা থেকে ৬টা পর্যন্ত নূন্যতম কোর্স ফি নেয়া হয়
আনুষঙ্গিক সেবা (কম্পিউটার কম্পোজ, প্রিন্ট, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেইল,ভিডিও) সকল শ্রেণী ও পেশার জনগণ সকাল ৮.০০ টা থেকে বিকাল ৬.০০টা পর্যন্ত (প্রতিদিন)। নূন্যতম ফি বিশেষ ক্ষেত্রে (পরীক্ষার ফলাফল, এমপিও ভূক্তি) সময়সীমা নেই।
সরকারী ফরম, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ফরম, ডিভি ফরম, পরীক্ষার ফলাফল। সকল শ্রেণী ও পেশার জনগণ

খ. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয়

সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ
কম্পিউটার শিক্ষা এই টেলিসেন্টার থেকে কম্পিউটার শিক্ষা অর্জন করে। বেশ কয়েকজন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্বাস্থ্য, কৃষি, আইন স্বাস্থ্য, কৃষি, আইন এই বিষয়গুলির কিছু কিছু মানুষ অল্প সময়ের মাধ্যমে সমস্যার কথা বলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে।
শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে টেলিসেন্টারে এসে ফর্ম নিয়ে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান এবং ঝামেলা কম।
আত্ম কর্মসংস্থান এই টেলিসেন্টারে এসে চাকুরীর তথ্য নিয়ে বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করছে।
তথ্যসেবা অল্প সময়ে ফ্রি অথবা নূন্যতম ফি নিয়ে নির্ভুল তথ্য প্রদানে সেবা গ্রহীতাদের সময় বাঁচলো, আর্থিক ভাবে লাভবান হলো, নির্ভুল তথ্য পেল এবং ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেল।
আনুষাঙ্গিক সেবা আর্থিক ভাবে লাভবান। যথাসময়ে সেবা গ্রহণে সময়ের অপচয় রোধ হয়।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা:
ডিজিটাল ছবি তোলা, স্ক্যান করা, ফটোকপিয়ার, ভালমানের ফটো প্রিন্টার, লেমিনেটিং।

৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়
ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো:
ব্যাপকভাবে লোডশেডিং, অতি মন্থর গতির ইন্টারনেট ব্যবস্থা, অসচেতন জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় গোড়ামী, সাইকেল চালিয়ে তথ্যসেবা প্রদান করার মতো আগ্রহী তথ্যকর্মীর অভাব।
খ. তথ্যকেন্দ্রের কারিগরী সমস্য:
কারিগরী সমস্যা সমাধানে দক্ষ জনবল না থাকায় অন্য কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠানের কারিগর দিয়ে সমাধান করা হয়।
গ. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা:
কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ঘাটতি, দক্ষতার বৃদ্ধির পর কর্মীর অন্যত্র চলে যাওয়া।
ঘ. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে:
দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, টেলিসেন্টারে আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা।

৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয়
ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে):
গড়ে মাসে ৫০ - ৭০ জন সেবা গ্রহণ করে থাকে
খ. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে:
টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ৫০ ভাগ লোক জানে।
গ. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে:
প্রচারণার মাধ্যমে, বিভিন্ন তথ্য দিয়ে, বিভিন্নভাবে সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে।
ঘ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত অংক
কম্পিউটার- ৬টি ও সাউন্ডবক্স- ১টি ২১৪,৫৫০
টেবিল- ৬টি, চেয়ার, হোয়াইট বোর্ড-১টি ফাইল কেবিনেট- ১টি, সেল্ফ- ১টি ৩০,০০০
হেড ফোন- ১টি ৫০০
ফ্যান- ২টি ৩,৭০০
ওয়েব ক্যামেরা- ১টি ৭০০
সীম সহ মোবাইল- ১টি (নকিয়া ১১১০) ২,৬০০
ইন্টারনেট মডেম (নকিয়া- ৩১১০)- ১টি ৮,০০০
গ্রামীণ সীম- ১টি ৮০০
ওয়েরিং (বিদ্যুৎ) ২,০০০

ঙ. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল:
আরবান নিজস্ব খাত

চ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ:
টেলিসেন্টার স্থাপনের জন্য কোন আর্থিক ঋণ গ্রহণ করা হয়নি।
ছ. তথ্যকেন্দ্রের ব্যায়ের খাত

খরচের খাত অংক (টাকা)
কর্মী বেতন ১৫,০০০
বাড়িভাড়া ২,০০০
বিদ্যুৎ বিল ১,৫০০
ইন্টারনেট বিল ১,০০০
কারিগরী/মেরামত খরচ ১,৫০০
ক্যাম্পেইন/মিটিং ১,০০০
স্টেশনারী ৫৫০
পত্রিকা বিল ২১০
যাতায়াত ৭৫০
অফসেট পেপার ৩৭০
আপ্যায়ন ৩০০
মোবাইল বিল ৩০০

জ. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা)
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ১১,২৫০
জিয়ন তথ্য সেবা ৫৫০
ইন্টারনেট সেবা ১,৬২০
সরকারী সেবা (ফরম) ৫১৫
টেক্সট প্রিন্ট ২,৯৭০

৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা

উপকারভোগীর নামঃ আব্দুল হাই (ছোট্ট মিয়া )
উপকারভোগীর গ্রাম টিকুরিয়া, জারিয়া, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। ০২/০১/২০০৮ ইং তারিখে রিক্সাচালক আব্দুল হাই কিছু গোল আলু গাছ নিয়ে আরবান পল্লীতথ্য কেন্দ্রে এসে রওশন আরা নামে একজন আপাকে খুঁজতে থাকেন। রওশন আরা আপা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ রুমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। হঠাৎ লোকজনের কথাবার্তা শুনে বের হয়ে দেখেন গোল আলু গাছ হাতে নিয়ে এক লোক রওশন আপাকে খুঁজছে। রওশন আরা আপা তার পরিচয় দিয়ে সমস্যার কথা জিজ্ঞেস করলে রিক্সাচালক আব্দুল হাই তার সমস্যার কথা বলেন। সমস্যাটি ছিল- সে ২৮ শতাংশ জমিতে গোল আলু চাষ করার পর গাছ যখন বড় হল এবং ছোট ছোট আলু ধরতে থাকলো তখন গাছের গোড়ায় কালো দাগ হয়ে গাছটি নেতিয়ে পড়ে। গোড়ার দিকে দুই আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে জায়গাটা ফাঁকা/নরম মনে হয়। এভাবে তার ৮ শতাংশ জমির গাছ মরে গেছে। শুনে রওশন আরা আপা জীয়ন তথ্য ভান্ডার থেকে পরামর্শ প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে কোন উপকার হলো কিনা জানানোর কথা বলেন। আবার ১৪/০১/০৮ ইং তারিখে কিছু টমেটো গাছ নিয়ে হাজির হয়। সে বলে- আলু গাছের মরক রোগ রোধ হয়েছে বিধায় সে এখন টমেটো গাছের সমস্যা নিয়ে এসেছে। টমেটো গাছে যে পরিমাণ ফুল ও ফল ধরার কথা সে অনুযায়ী ফুল এবং ফল ধরছেনা। তখনও রওশন আরা আপা ডি.নেট এর হেল্পলাইনে মোবাইল টু মোবাইলে কৃষি বিশেষজ্ঞ জনাব সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে পরামর্শ দেন। এতে রিক্সাওয়ালা উপকৃত হয়ে পরবর্তীতে অফিসে এসে আবার যোগাযোগ করেন। তিনি মাত্র ১০ টাকায় দ্রুত পরামর্শ সেবা নিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

উপকারভোগীর নামঃ নাসির উদ্দিন আকন্দ
পিতা: মো: বছির উদ্দিন আকন্দ
মো: নাসির উদ্দিন আকন্দ একজন রিক্সাচালক। তার গ্রাম শেওলা, হুগলা, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। সে অন্য একজনের কাছ থেকে ২৫ কাঠা (২০০ শতাংশ) জমি নিয়ে বর্গাচাষ করে। জমিতে হাইব্রীড হীরা ধানের চাষ করে। নিয়মানুসারে সার প্রয়োগ করে। হঠাৎ একদিন জমিতে গিয়ে দেখে কিছু ধান গাছের শীষে লালবর্ণ ধারণ করে এবং গাছের শিকড় পঁচে গিয়ে পুরো গাছটি মরে যাচ্ছে। তিনি চিন্তিত হলেন এবং গ্রামের কিছু লোকজনের সাথে এ সমস্যার কথা বলতে লাগলেন। সারাদিন রিক্সা চালিয়ে রাতে আবার যান ক্ষেতের কাছে। এভাবে সকালে গিয়ে যখন দেখেন অতি দ্রুত রোগটি বিস্তার লাভ করছে তখন তিনি পাগলের মতো অনেক জায়গায় ছুটাছুটি করতে থাকলেন এবং সকলকেই এ অসুবিধার কথা জানাতে লাগলেন। তৃতীয় দিনে এক রিক্সাচালক আরবান পল্লীতথ্যে এর সেবাসমূহের বিস্তারিত বললে তিনি ০৩/০৪/২০০৮ ইং তারিখ সন্ধ্যায় আরবান অফিসে এসে দেখেন অফিস বন্ধ। আশেপাশের লোকজনের কাছ থেকে আরবান তথ্যকেন্দ্রের তথ্যকর্মী রওশন আরা আপার বাসার ঠিকানা নিয়ে বাসায় যান। বাসায় রওশন আরা আপার সাথে একটি ধান গাছ নিয়ে গিয়ে দেখা করে সমস্যার কথা বলেন। রওশন আরা সাথে সাথে তাকে নিয়ে অফিসে যান এবং নাসির উদ্দিন সকল কথা অর্থাৎ ধানের জাত চাষাবাদ প্রণালী, জমির পরিমাণ, সার প্রয়োগ প্রণালী সব কিছুই খাতায় লিপিবদ্ধ করেন এবং মোবাইলের মাধ্যমে ধান গাছটির ছবি তুলে সাথে সাথে ডি.নেট অফিসে মেইল করেন এবং নাসির উদ্দিনকে পরের দিন সকালে আসতে বলেন। রওশন আরা আপার কথা মতো সকালে আসলে তিনি ডি.নেট এর সাইফুল ভাইয়ের সাথে রওশন আপা তার নিজস্ব মোবাইল থেকে কথা বলিয়ে দেন এবং সাইফুল ভাই তাকে পরামর্শ প্রদান করেন। পরামর্শ পাওয়ার পর তার আর কোন খবর নেই। সে উপকৃত হলো কি-না কিছুই জানেন না রওশন আপা। হঠাৎ একদিন মোবাইলে নাসির উদ্দিন রওশন আরা আপার নম্বরে ফোন করে খুব হেসে বলছিলেন- ‘‘আফা আফনেরে যদি না জানাই তাইলে আল্লা নারাজ অইব। আমি আফনের কাছ থাইক্যা যে সেবা নিছিলাম এরফর আমার অনেক ধান অইছে।’’ শুনে রওশন আরা খুব খুশি হয়ে তাকে সেন্টারে আসতে বলেন। সে আসে এবং সে যে আরবান পল্লীতথ্য কেন্দ্র থেকে সেবা পেয়ে খুব উপকৃত তা জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।