কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/আরবপুর শতদল কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আরবপুর শতদল কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার (সি.আর.সি) আরবপুর, যশোর পরিদর্শনের তারিখ: ০৭ অক্টোবর ২০০৯ থকে ১১ অক্টোবর, ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন
১. প্রতিমা রায়, জন সৃজন ইনস্ট্রিটিউট, কাহারোল, সিডিএ, দিনাজপুর
২. মোছাঃ রোশনা খাতুন, পাশ পল্লীতথ্য কেন্দ্র, কুড়িগ্রাম
৩. মো. আবুল আরশাদ, আরবান পল্লীতথ্যকেন্দ্র, পূর্বধলা, নেত্রকোনা

যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন
মোঃ আজিজুল হাকিম, আরবপুর শতদল সিআরসি, আরবপুর


১. টেলিসেন্টার পরিচিতি

ক. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ:
০৭ এপ্রিল ২০০৩

খ. যেভাবে শুরু হয়েছিল
যশোর জেলায় পতিঙ্গালী ভেকুটিয়া গ্রামের বাজারে, ইউনিয়ন পরিষদ মাধ্যমিক স্কুল সরকারী প্রা: বি: মসজিদের পাশে কিছু সংখ্যক সমমনা ও উদ্যমী কিছু সংখ্যক ছাত্র ও শিক্ষিত বেকার ছেলেমেয়ে স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং চাকুরী সংক্রান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে এবং শহর ও গ্রামের মধ্যে জীবনযাত্রায় পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করতো। এভাবেই একদিন সিদ্ধান্ত হলো তারা একটি কমিটি গঠন করবে, যে কমিটিতে কোন রাজনৈতিক প্রভাব থাকবেনা এবং নিয়মিত পত্রিকা রাখা হবে। পাশাপাশি নিজেদেরও যাতে করে কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা হয়- এই প্রত্যয় নিয়ে যার যা ছিল, যেমন- বাঁশ, কাঠ, টিন, সিমেন্ট, ইট, বালি, শ্রম, সময় ইত্যাদির সমন্বয়ে আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে একটি অফিস ঘর নির্মাণ করে এবং তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে কারা কাজ করে তা খুঁজতে থাকেন। ইতোমধ্যেই ঢাকা আহসানিয়া মিশনের সাথে কমিটির পরিচয় হয় এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতায় টেলিসেন্টারের যাত্রা শুরু হয়।

গ. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল
এলাকার কিছু সংখ্যক শিক্ষিত বেকার যুবক/যুবতী ও সমমান মেম্বার চেয়ারম্যানসহ গ্রামের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে একটি কমিটি করে এসব বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করে এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সার্বিক সহযোগিতায় গণকেন্দ্র নামে এটি শুরু করেন। এভাবে তারা ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরিদর্শনকারীর মতামত
প্রতিমা রায়, মোছাঃ রোশনা খাতুন ও মো. আবুল আরশাদ: যারা এই উদ্যোগটি নিয়েছে তাদের মধ্যে দু একজন যথেষ্ট জ্ঞান দক্ষতা রাখেন যা সেন্টারটিকে এগিয়ে নিতে যথেষ্ট সহায়ক হয়েছে

ঘ. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারণ
টেলিসেন্টারটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ইউনিয়নে মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এর পাশেই রয়েছে মাধ্যমিক স্কুল, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্ডেন, মসজিদ, মাদ্রাসা, ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ, কিন্ডার গার্টেন ও ছোট একটি বাজার রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আসলে টেলিসেন্টারের সাইনবোর্ড তাদের দৃষ্টিতে পড়বে এবং তারা টেলিসেন্টারে আসবে। যে স্থানে টেলিসেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটি একেবারে গ্রাম বা আবার শহর নয়। জায়গাটা শান্ত-শিষ্ট ও নিরিবিলি ফলে নারী আসতে সমস্যা হয় না।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা

সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে
শিক্ষা শিক্ষার্থীদের স্কুল সময় বাদে সার্বক্ষনিক না। তবে প্রিন্ট চার্জ নেওয়া ন্যার্য মূল্যে
স্বাস্থ্য সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা না। তবে প্রিন্ট চার্জ নেওয়া ন্যার্য মূল্যে
জীবন ও জীবিকা পেশা ভিত্তিক প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা না। তবে প্রিন্ট চার্জ নেওয়া ন্যার্য মূল্যে
মানবাধিকার যারা ভুক্তভোগী প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা না। তবে প্রিন্ট চার্জ নেওয়া ন্যার্য মূল্যে
সচেতনতা সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা না। তবে প্রিন্ট চার্জ নেওয়া ন্যার্য মূল্যে
অকৃষি উদ্যোগ সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা না। তবে প্রিন্ট চার্জ নেওয়া ন্যার্য মূল্যে
লাগসই প্রযুক্তি সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা না। তবে প্রিন্ট চার্জ নেওয়া ন্যার্য মূল্যে
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা না। তবে প্রিন্ট চার্জ নেওয়া ন্যার্য মূল্যে
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সকলের জন্য ৩ মাস, সপ্তাহে ৪দিন,৪৮ টি ক্লাস প্রতিজন ৮০০ টাকা
ওজন মাপা সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা জন প্রতি ১ টাকা
প্রেসার মাপা সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা
মোবাইল সেবা সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা মিনিট ১.৫০ টাকা
ডিজিটাল স্টুডিওতে ছবি তোলার সুবিধা সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা প্রতি কপি ২০ টাকা
কম্পিউটার কম্পোজ ছাত্র/ছাত্রী প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা প্রতি কপি ২০ টাকা
স্ক্যানিং সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা প্রতি কপি ৩ টাকা
ই-মেইল/ইন্টারনেট সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা প্রতি ঘন্টা ১৫ টাকা
দৈনিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সকলের জন্য প্রতিদিন ৯ টা থেকে ৫টা না

চ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা
কম্পিউটার ৩টি
প্রিন্টার ১টি
ইউ.পি.এস ৩টি
সাউন্ড বক্স ১টি
টেলিভিশন ১টি
স্ক্যানার ১টি
ক্যালকুলেটার ১টি
জিপিআর এস মডেম ১টি
ওজন মাপার মেশিন ১টি
প্রেসার মাপা মেশিন ১টি
ডিজিটাল ক্যামেরা ১টি
পেইন ড্রাইভ ১টি
মোবাইল ফোন ১টি

ছ. তথ্যকেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ
টেলিসেন্টারে গ্রামীন ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ আছে।
পরিদর্শনকারীর মতামত
প্রতিমা রায়, মোছাঃ রোশনা খাতুন ও মো. আবুল আরশাদ: এ কেন্দ্রে যথেষ্ট পরিমান যন্ত্রপাতি আছে। তবে টেলিভিশনটি অফিসে রাখার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়

জ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি

১. ছাগল পালন ২. অমিয় বানী ৩. জীয়ন স্বাস্থ্য ৪. ১২৩ সিসিমপুর (১-২৭ পর্ব) ৫. টুকুদের পরিবার ৬. জীয়ন কৃষি ৭. ছড়ার ঝুড়ি ৮. সকল ব্যবসার আসল কথা ৯. আইন ও অধিকার ১০. তথ্য অধিকার বিষয়ক সিম সঙ্গীত ১১. গম্ভীরা ১২. সচেতনতা ১৩. লার্নিং সিডি ১৪. নতুন দিনের ডাক ১৫. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ১৬. বিউটি কালচার ১৭. বিজ্ঞানের অবদান ১৮. লাগসই প্রযুক্তি ১৯. দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত করন ২০. বায়ু পরিচিতি ২১. অকৃষি উদ্যোগ ২২. জীবনের জন্য বিজ্ঞান ২৩. কৃষি উন্নয়নে পাওয়ার টিলার ২৪. পানি নিয়ে কিছু কথা ২৫. এইডস থেকে বাঁচব ২৬. খোকার শিক্ষা ভ্রমন ২৭. জ্যাম জেলি তৈরী ২৮. বাবুরাম সাপুড়ে ২৯. বিউটি পার্লার ৩০. আবর্জনা থেকে সম্পদ ৩১.জিয়ন শিক্ষা পরিদর্শনকারীর মতামত
প্রতিমা রায়, মোছাঃ রোশনা খাতুন ও মো. আবুল আরশাদ: অফলাইনে তাদের অনেক তথ্য আছে, যা অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানেই নেই। উঠান বৈঠকে সিডি দেখিয়ে মানুষকে সচেতন করার উদ্দ্যোগ ভালো।


২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি

ক. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা

নাম পদবী কি কাজ করছে?
এস এম আরিফুজ্জামান সভাপতি
মোঃ আজিজুল হাকিম সাধারন সম্পাদক তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা, গণকেন্দ্রভিত্তিক তথ্য সরবরাহ, আয়-ব্যায় এর হিসাব, টেলিসেন্টারের সার্বিক দায়িত্বপালন, অন্যান্য কাজে সহযোগিতা
ডলি পারভীন তথ্য কর্মী/প্রশিক্ষক তথ্য সংগ্রহ, মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেয়া, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া।


খ. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া

এস এম আরিফুজ্জামান: ছাত্র জীবন থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংগঠক হিসেবে কাজ করতেন। নিরক্ষরতা দূরীকরণে সামাজিক আন্দোলন ’বর্ণময় যশোর’ যা সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়, এর সুপার সংগঠক হিসেবে ৭১৬ জনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছিলেন । মানুষের মাঝে ’সাহায্যকারী হাত’ হিসেবে তার বেশ সুনাম আছে। সি আর সি এর কার্যকরী পরিষদ তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে তাকে সেন্টারে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। মজার ব্যাপার হলো তিনি কোন পারিশ্রমিক কেন্দ্র থেকে নেননি এবং নিবেন না বলে জানিয়েছেন

ডলি পারভীন: ঢাকায় আহছানি মিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরখাস্ত করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাশ করে টেলিসেন্টারের নিয়োগ পান। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব ছিল কম্পিউটার এবং সাইকেল চালানো জানেন কিনা।

গ. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ

সময় মোঃ আজিজুল হাকিম এস এম আরিফুজ্জামান ডলি পারভীন
সকালে ১. তথ্য সংগ্রহ করা, সংরক্ষণ করা।

২. গণকেন্দ্র ভিত্তিক তথ্য সরবরাহ।

১. গত দিনের কাজের ফলোআপ করা

২. উক্ত দিনের কর্ম পরিকল্পনা/দায় দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা।

১. তথ্য সংগ্রহ করা, সংরক্ষণ করা।

২. হত দরিদ্র দরিদ্র কাজ করা

দুপুরে ১. কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সহযোগিতা।

২. মানুষদের সেবা দেয়া।

১. মিটিং সহ সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করা।

২. তথ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রস্ত্তত করা।

১. মিটিংসহ সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করা এবং রির্পোট প্রস্ত্তত করা।
বিকেলে ১. কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সহযোগিতা।

২. মানুষদের সেবা দেয়া।

১. দৈনন্দিন তথ্যসেবা প্রদান

২. কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ করানো।

১. কম্পিউটার প্ল্যান অনুযায়ী সিডি রাখা

২. হিসাব খাতে সহযোগিতা করা

সন্ধ্যা ১. অফিসের সরঞ্জাম গোছানো।

২. অফিস বন্ধ করা।

১. দৈনন্দিন তথ্যসেবা প্রদান

২. কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ করানো।

১. অফিসের ফাইল পত্র গুছিয়ে রাখা।

২. অফিস বন্ধ করা।

পরিদর্শনকারীর মতামত
রোশনা খাতুন: কাজের গুরুত্ব বুঝে তারা কাজ ভাগ করে নেন এবং দায়িত্বের বাইরেও সমাজের অনেক কাজ তিনি করে থাকেন যা খুবই চমৎকার।

ঘ. সামাজিক প্রতিকূলতা
বিনা মূল্যে সেবা নিতে চায়
সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে অনীহা
বিদ্যুৎ এর সমস্যা
তীর্যক মন্তব্য
ধর্মীয় গোড়ামী
রাজনৈতিক প্রভাব
পরিদর্শনকারীর মতামত
প্রতিমা রায়: যারা এ কাজে বিঘ্ন ঘঠিয়েছিল তাদের দিয়েই কাজটি শুরু করার কৌশল তাদের রয়েছে।

ঙ. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার

ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন
www.educationbordresult.bd.org এস.এস.সি ও এইচ এসসি রেজাল্ট দেখা
www.dvlotary.org বিদেশে গমনের ভিসা সংক্রান্ত করা
www.gmail.com যোগাযোগের মাধ্যমে, সংবাদ আদান প্রদানের জন্য
www.yahoo.com যোগাযোগের মাধ্যমে, সংবাদ আদান প্রদানের জন্য
www.google.com তথ্য সংগ্রহের জন্য
www.mbbsdoctor.com চিকিৎসা বিষয়ক খবর রাখা
www.ahsaniamission.org ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনকে জানতে
www.jeeon.org.bd জীয়ন সেবা
www.prothom-all.com প্রথম আলো
www.bdnews24.com বিভিন্ন পত্রিকা দেখা
www.information.com তথ্য সেবা
www.bank.com ব্যাংক সংক্রান্ত খবর
www.bdjobs.com চাকুরী খবর

চ. তথ্যকর্মীর ব্লগ কিংবা সামাজিক ওয়েবসাইটে অবস্থান
তথ্যকর্মীদের কেউই কোনো ব্লগ কিংবা অনলাইন গ্রুপের সদস্য না।
পরিদর্শনকারীর মতামত
শাহালা হাবিবি: তথ্যকর্মীর অনলাইন গ্রুপের সদস্য হওয়া উচিত। এতে তাদের পরিচিতি বাড়বে।

ছ. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে
মোঃ আজিজুল হাকিম: ছোটবেলা থেকে মানুষের কাজে সহযোগিতা করার ইচ্ছা ছিল। তথ্যকে সবার মাঝে পৌঁছে দেয়া এবং কৃষি কাজে সহযোগিতা করা তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করতেন। এস এম আরিফুজ্জামান: মানুষকে কাছে থেকে সহযোগিতা করা যায়। মানুষের খরচ কমিয়ে আয় বৃদ্ধি করা যায়। মানুষের অর্থ, সময়, শ্রম, বেকারত্ব কমিয়ে সুখী, সুন্দর জীবন যাপনে সহায়তা করা যায়। ডলি পারভীন: কম্পিউটার শেখার মাধ্যমে। মানুষের জন্য কাজ করা। তথ্য সংগ্রহ জানতে। মানবাধিকার করার জন্য সচেতন।

জ. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মোঃ আজিজুল হাকিম: সবার মাঝে তথ্য পৌঁছে দেয়া। নিজেকে মানুষের উপকারে বিলিয়ে দেয়া। অধিকার বঞ্চিত মানুষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা। টেলিসেন্টারকে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলা।
এস এম আরিফুজ্জামান: শহর ও গ্রামের জীবনযাত্রার মান সমান করা এবং তথ্য অধিকার সহ সকল মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকারের পাশ থেকে কাজ করে যাওয়া। তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ করে বিশাল জনগোষ্ঠীকে সম্পদে পরিণত করা। সর্বোপরি সি আর সি কে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় নির্ভরশীলতার প্রতীক হিসেবে পৌঁছে দেয়া।
ডলি পারভীন: সবার মাঝে তথ্য পৌঁছে দেয়া, নিজেকে মানুষের উপকারে বিলিয়ে দেয়া, অধিকার বঞ্চিত মানুষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা, টেলিসেন্টারকে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলা এবং নিজে আরও অনেক কিছু শেখা।

ঝ. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন
মোঃ আজিজুল হাকিম: তিনি খুলনা বিএল কলেজ থেকে এমএ পাশ করেন। তিনি বৈবাহিক এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যা পূর্বে ছিল পাঁচজন। বাবা চাকুরীজীবি। মা সমাজসেবক ও গৃহিনী।
এস এম আরিফুজ্জামান: পিতার নাম- এস এম জালাল উদ্দিন, গ্রাম- পতেঙ্গালী, ডাক- ভেকুটিয়া, উপজেলা- যশোর সদর। জন্ম তারিখ- ১২-১১-১৯৭৬ ইং। শিক্ষাগত যোগ্যতা- এম এ (ই: শিক্ষা)। ভাই- নেই, বোন- ৩জন।
ডলি পারভীন: তিনি একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান, যখন ক্লাস সেভেনে পড়েন তখন বাবার এক চোখ নষ্ট হওয়ার কারনে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। । তখন তার মামারা লেখাপড়া করার সুযোগ-সুবিধা করে দেন। তাই তিনি আজ এতদূর পর্যন্ত আসতে পেরেছেন।

৩. টেলিসেন্টার পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে
ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার ভৌগলিক অবস্থান
টেলিসেন্টারটি যশোর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ও অবস্থিত। এর পূর্ব পাশে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ফোরকানিয়া মাদরাসা ও মুক্তেশ্বরী নদী যা কপোতাক্ষ নদীর শাখা, পশ্চিম পাশে সীমান্ত সংক্রান্ত গ্রাম ও লোকালয়, উত্তর দিকে ২ কিলোমিটার দূর বিমান বন্দর, দক্ষিণ পাশে থ্রী স্টার ফার্টি লাইজার ও লোকালয়। জনসংখ্যা ৪৮,৫০০ জন।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার জনগণের পেশা
এই এলাকার ৬০% মানুষের প্রধান পেশা হল কৃষি। এছাড়াও ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবি আছে বেশ কিছু। এসব ব্যবসা কেন্দ্রগুলো এখানে এলাকা ভিত্তিক গড়ে উঠেছে।
পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. আবুল আরশাদ: ব্লক, বাটিক সহ হাতের কাজে প্রতিটি মহিলা ব্যস্ত যা এলাকা তথা দেশের চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো
ভাল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে (পিডিবি পল্লী ভিআইপি পল্লী) টেলিসেন্টারটিতে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। টেলিসেন্টারসহ কমিউনিটিতে ১টি ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। টেলিসেন্টারে যাতায়াতের জন্য পাঁকা রাস্তা ও ইট বসানো রাস্তা রয়েছে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান
এলাকায় ইউ পি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ক্লিনিক, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা, হেফজ খানা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি স্কুল, কিন্ডার গার্ডেন ইত্যাদি আছে।

ঙ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ
ফোনের দোকান আছে ২০টি। ডিজিটাল স্টুডিও ৪টি। কোনো ফ্যাক্সের দোকান ও সাইবার ক্যাফে নেই।

চ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা
যশোর ক্যান্টারম্যান্ট, যশোর বিমান বন্দর, মনিহার সিনেমা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রেল স্টেশন, সিল্টার হোম, ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ/মাদ্রাসা, পোষ্ট অফিস।

৪. টেলিসেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল

ক. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী

উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ
স্বাস্থ্য ক্যাম্প মেয়েদের প্রজনন-প্রসব উত্তর ও গর্ভকালীন স্বাস্থ্য সেবা-স্কুল/মাদ্রাসায় ছাত্রীদেরকে ক্লাশে নারী-ডাক্তার দিনে এবং কমিউনিটি নারীদের এফডব্লিইভি/সিডি প্রদর্শনের মাধ্যমে।
শিক্ষা ক্যাম্প স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষকমন্ডলীর সাথে আলোচনা এবং শিক্ষা বিষয়ক সিডি প্রদর্শনের মাধ্যমে।
আইসিটি ক্যাম্প স্কুল/মাদ্রাসা, শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আইসিটি বিষয়ক আলোচনা এবং বিভিন্ন সিডি প্রদর্শনসহ লিফলেট ও ব্রশিয়ার বিতরণ।
ইউপি ক্যাম্প ইউনিয়ন এর সকল মেম্বার এবং চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আইসিটি বিষয়ক আলোচনা ও কার্যক্রম ভিত্তিক সিডি প্রদর্শন।
কমিউনিটি কমিউনিটির সকল পেশার মানুষকে নিয়ে গণকেন্দ্র ভিত্তিক আলোচনা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের সিডি প্রদর্শন

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
কাজ রয়েছে। যেমন- ইন্টারনেট সেবা, তথ্যসেবা, জরিপ কাজ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, কম্পোজ ও প্রিন্ট, সালিশ, রেকর্ড কিপিং, সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কালচারাল প্রোগ্রাম।

গ. স্থানীয় সরকার এবং অন্যান্য সরকারী প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
টেলিসেন্টারের সংগে যেসকল কাজ আছে। যেমন- জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, সালিশ, প্রশিক্ষণ, স্বমন্বয়, মতবিনিময়, আর্থিক লেনদেন, বিশেষ বিশেষ জাতীয়/আন্তর্জাতিক দিবস গুরুত্ব সহকারে আমরা পালন করি।

ঘ. এলাকার ক্ষুদ্র ব্যসায়ীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা
সেবা গ্রহন করে, যেমন : বাজার দর, কৃষি তথ্য, ডিলার তথ্য, কৃষি যন্ত্রপাতির তথ্য।
পরিদর্শনকারীর মতামত
প্রতিমা রায়: ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতিষ্ঠান হচ্ছে আরবপুর শতদল কমিউনিটি রির্সোস সেন্টার।

ঙ. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা
এলাকার নারীরা টেলিসেন্টার থেকে সেবা গ্রহণ করে। যেমন- স্বাস্থ্য তথ্য, ব্লক বাটিক, চাকুরী খোঁজ নেয়া, বিউটি পার্লার সম্পর্কে জানা, পাচার সংক্রান্ত তথ্য, কারচুপির উপর ট্রেনিং।

চ. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা
এলাকার শিশুরা টেলিসেন্টারে সিসিমপুর, মিনা কার্টুন এবং শিক্ষা বিষয়ক ভিডিও দেখার জন্য আসে। সিসিমপুর ১-৩০ পর্ব পর্যন্ত আছে। কিশোররা মূলত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, পেপার পড়া এবং নানা বিষয়ে তথ্যসেবা নিয়ে থাকে ও ইন্টারনেটে চাকুরীর খবর নেয়।
পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. আবুল আরশাদ: শিশুরা সিডি দেখে আনন্দ পেয়েছে, তাই তারা সময়মত চলে আসে।

৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা

ক. দৈনিক কর্মসময়:
সকাল ৯.০০টা থেকে ৬.০০টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
খ. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন:
টেলিসেন্টার এর ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক/বিশেষ মিটিং এর মাধ্যমে আলোচনা করে দায়িত্ব বন্টন করা হয়।
গ. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা
সেন্টার ম্যানেজার সকালে অফিসে এসে রুম খুলে পরিস্কার করে সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মোবাইল লেডী ও কম্পিউটার প্রশিক্ষককে তাদের কাজ ভাগ করে দেন এবং নিজের কাজ করেন। মার্সিক ও দৈনন্দিনে কর্ম পরিকল্পনা করা এবং সে মতে কার্য সম্পাদন করা। মানুষের সমস্যা শোনা, বোঝা এবং সে অনুযায়ী তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে তাদেরকে তথ্য পরামর্শ করা। জন সাধারনের জন্য সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং কাজে লাগাতে তাদেরকে আগ্রহী করা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং কম্পিউটার সংরক্ষন করা। প্রতিদিনের সেবা প্রদানের বিবরন ও সিআইসিতে উপস্থিত সেবা প্রদানকারী নাম তালিকা ভুক্ত করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সচেতনতা মূলক বিভিন্ন সিডি প্রদর্শনের মাধ্যমে জীবন মানের পরিবর্তন করা। জিপিআরএস/ইডিজিএস মডোমের সাহায্যে ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও ই-মেইল করার ব্যবস্থা করা। বিভিন্ন লাইসেন্স ফরম, পাসপোর্ট ফরম, সমবায় সমিতি ইত্যাদি সিআরসি থেকে কম্পিউটার প্রিন্ট এর মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা করা। তথ্য সংরক্ষন, সংগ্রহ ও সরবরাহ সহ ডিসপ্লে করা।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ
টেলিসেন্টার পরিদর্শনকারীগণ সেন্টারে রক্ষিত পরিদর্শন রেজিষ্টার মন্তব্যসহ স্বাক্ষর প্রদান করেন। সেবা গ্রহণকারীদের তথ্য সেবা রেজি: লিপিবদ্ধ করা হয়।
পরিদর্শনকারীর মতামত
প্রতিমা রায়: এ ক্ষেত্রে দিনে কাজ দিনে করা হচ্ছে। যার কারনে সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সুন্দর হয়েছে।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া
টেলিসেন্টার এর ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটির বিশেষ মাসিক মিটিং এর মাধ্যমে নতুন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক কোন কার্যক্রম নতুন ভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে টেলিসেন্টার এর সা: সম্পাদক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কাজটি বাস্তবায়নের উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেন।
পরিদর্শনকারীর মতামত
প্রতিমা রায়: পরিচালনা কমিউনিটি মধ্যে সৃজনশীলতা রয়েছে, বিধায় নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে বাস্তবায়নের সিন্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

চ. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ
ক্যাশ বই, জেনারেল লেজার, ঋণ বিতরণ রেজি:, ঋণ আদায় রেজি:, বিল ভাউচার, মাসিক প্রতিবেদন প্রস্ত্তত, ব্যাংক একাউন্ট প্রভৃতি রেজি: এর মাধ্যমে আর্থিক হিসাব রাখা হয়। লেনদেন ব্যাংক এবং নগদ করা হয়। পরিদর্শনকারীর মতামত
প্রতিমা রায়: টেলিসেন্টারে যথেষ্ট রেজিস্টার রয়েছে। তবে জেনারেল লেজারটি আর একটু সাজানো গোছানো হলে ভাল হয় এবং সেন্টারের আর্থিক হিসাব আরও ভাল হয়।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন
যে সকল বিষয়ে কর্মী মূল্যায়ন করা হয়, তা হলো তার কাজে অর্জন, নতুন উদ্যোগ, সততা স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা, রিপোটিং, সাংগঠনিক দক্ষতা, হিসাব নিকাশে স্বচ্ছতা, যোগাযোগে দক্ষতা, সমস্যা চিহৃিত করণে দক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহনে দক্ষতা, আন্তব্যক্তিক সম্পর্কের দক্ষতা, আবেগ সমালোচনার দক্ষতা, চাপ মোকাবেলার ক্ষমতা।

জ. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা
টেলিসেন্টারটিতে মোট ৪টি রুম আছে। ১. প্রশিক্ষন কেন্দ্র : এ কক্ষটি যে কোন সেমিনার হলে ব্যবহার করে (বাউবি) ক্লাস হয়। অডিও দেখানো হয়। ২. আই সি টি রুম। ৩. অফিস রুম। ৪. একটি গণকেন্দ্র। পরিদর্শনকারীর মতামত
প্রতিমা রায়: এ সেন্টারটিতে অনেক তথ্য রয়েছে। যার মাধ্যমে অনেকেই সুবিধা পাচ্ছে। টেলিসেন্টারটি একটু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হলে ভালো হয়। তবে সব মিলে টেলিসেন্টারটি সুন্দর হয়েছে।

৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম

ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয়

সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ
কৃষি তারা অনেক ভালো ফসল পেয়ে লাভবান হয়েছে
ওজন মাপা সকল শ্রেণী মানুষ ওজন মাপার সুবিধা পায়। মাঝে মাঝে গরিবদের জন্য ফ্রি
কম্পিউটার কম্পোজ ও প্রিন্ট কম্পিউটার কম্পোজ ও প্রিন্ট পেয়ে লাভবান হন।
প্রেসার মাপা সকল শ্রেণীর মানুষের প্রেসার মাপতে পারে।
দৈনিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি টেলিসেন্টারে অনেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেয়ে লাভবান হয়েছে।
মাটি পরীক্ষা কৃষক মাটি পরীক্ষা করে ভালো ফসল পেয়েছে।
বিভিন্ন সরকারী ফরম ছাত্র/ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ও চাকুরী পেয়ে খুশি হয়।
কম খরচে মোবাইল করা মানুষ কম খরচে কথা বলে লাভবান হয়।
ডিজিটাল ক্যামেরা ছবি তোলা মানুষ তাড়াতাড়ি ছবি পেয়ে খুশি হয়।
জীয়ন সেবা জীয়ন ভিত্তিক সেবা নিয়ে লাভবান হয়
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বর্তমান চাকুরীর ক্ষেত্রে কম্পিউটারের দক্ষতার প্রয়োজন।
ইন্টারনেট ব্যবহার ইন্টারনেট দিয়ে চাকুরীর ও দেশ বিদেশের খবর দেয়া হয়
অফলাইন সেবা অফলাইন থেকে তথ্য সেবা নিতে পারে
জন্ম/মৃত্যু নিবন্ধন জন্ম নিবন্ধন কার্ড অনেক কাজে লাগে।
স্ক্যানিং ছবি থেকে ছবি করা হয়।


খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা
ফটোকপির মেশিন
মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর
ল্যাপটপ
জেনারেটর
ওয়েব ক্যামেরা
কালার প্রিন্টার

৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়
ক. তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো
নয়টা থেকে ছয়টা পর্যন্ত অফিস সময়সূচী বাড়িয়ে সার্বক্ষণিক খোলা রাখার ব্যবস্থা করা। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অথবা অনন্ত আইপিএস এর ব্যবস্থা করা। কর্মী ড্রপ-আউট কমাতে বিবাহিত কর্মী নিয়োগ দেয়া (তবে এলাকার বউ হলে ভাল হয়)। প্রয়োজনীয় উপকরণের নিশ্চয়তা এবং ব্যবহারের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
পরিদর্শনকারীর মতামত
প্রতিমা রায়: আমরা আশা করব এসব বিষয় মেনে চলার জন্য তাহলে টেলিসেন্টার আরও ভালো করতে পারবে।

খ. তথ্যকেন্দ্রের কোনো কারিগরী সমস্যা
টেলিসেন্টারে কারিগরি সমস্যা হলে পরিচালনা পরিষদের সেক্রেটারী প্রাথমিক সমস্যাগুলো সেরে ফেলেন। কিন্তু বড় ধরনের সমস্যা হলে টেকনিশিয়ান ডেকে সমাধান করা হয়।
পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. আবুল আরশাদ: তথ্যকর্মী প্রাথমিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেন। তবে স্থায়ীভাবে একজন দক্ষ টেকনিশিয়ান চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। কিংবা তথ্যকর্মীদেরকে পর্যাপ্ত হার্ডওয়ার এর উপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

গ. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা:
যথেষ্ট ট্রেনিং এর অভাব।

ঘ. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে
বাজার বিবেচনা করে কর্মীকে বেতন ভাতা প্রদান, কর্মী ব্যবস্থাপনা ভালোভাবে করা, প্রশিক্ষণের, কাজের প্রতি মনোনিবেশ করার মত পরিবেশ তৈরি করা, কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পায় এমন পরিবেশ তৈরি করা।

৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয়
ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে):
গড়ে মাসে ২৮০ জন সেবা গ্রহণ করে থাকে।
খ. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে:
টেলিসেন্টারের অবস্থান সম্পর্কে শতকরা ৬৩ ভাগ লোক জানে
গ. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে
বিভিন্ন তথ্য, মেধা, শ্রম, অর্থ, সময় দিয়ে সহায়তা করছে।
পরিদর্শনকারীর মতামত
প্রতিমা রায়: সেবা গ্রহনকারীর সংখ্যা আরোও বাড়াতে নতুন নতুন উদ্যোগ নেয়া হলে টেলিসেন্টারটি আরও উন্নত হবে।

ঘ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত অংক (টাকা)
অবকাঠামো ১৫,০০০
কম্পিউটার -৪টি ১৬,০০০
প্রিন্টার-২টি ২,৪০০
স্ক্যানার-১টি ৩,৫০০
ডিজিটাল ক্যামেরা-১টি ১৮,৫০০
মোবাইল সেট- ১টি ৫,০০০
মডেম ও সীমকার্ড ৫,৫০০
চেয়ার ৪৮,০০০
টেবিল ৮,০০০
পেন ড্রাইভ ১টি ৫৫০
টুল ও বেঞ্চ- ৩,৫০০
ওজন ও প্রেসার মাপার যন্ত্র- ২টি ৩,৫০০
স্টিলের আলমারি, বুক সেলফ ১৩,০০০
ফ্যান- ৪টি, টিউবলাইট সেট- ৫টি ৬,৩০০
হোয়াইট বোর্ড- সাইনবোর্ড- নিয়োগ ডিসপ্লে বোর্ড ৯,৫০০
জমি পাঁচ শতক ৫০০,০০০

ঙ. প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল
জালাল উদ্দিন (অনুদান) ৫,০০,০০০ টাকা, ঢাকা আহসানিয়া মিশন ৩০৫,১৫০ টাকা এবং স্থানীয় জনগণ ১৫৩,৮০০ টাকা।

চ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ
টেলিসেন্টার স্থাপনের জন্য কোন আর্থিক ঋণ গ্রহণ করা হয়নি।
পরিদর্শনকারীর মতামত
রোশনা খাতুন: টেলিসেন্টারটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। যা সেন্টারটিকে একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে সহায়ক হবে।

ছ. তথ্যকেন্দ্রের মাসে (গড়ে) খরচ

খরচের খাত মাসিক খরচের পরিমান (টাকা)
বেতন ভাতা ঢাকা আহসানিয়া মিশন
বিদ্যুৎ বিল ৩০০
পত্রিকা বিল ২৪০
ইন্টারনেট বিল ১,০০০
ঝাড়ুদার বিল ১০০
ষ্টেশনারী ১৫০
অফিস ব্যা: ১০০
আপ্যায়ন ১০০
কম্পিউটার/ আইসিটি টুলস (মেরামত) ১,২০০
মোট খরচ ৩,১৯০

জ. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত মাসিক আয়ের পরিমান (টাকা)
ইন্টারনেট ব্যবহার ৫০০
কম্পোজ ও প্রিন্ট ৩০০
ছবি উঠানো ৪০০
ওজন মাপা ৫০
চাপ মাপা ৫০
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ১,২০০
ছবি থেকে ছবি (স্ক্যানার) ৫০
প্রশিক্ষণ কক্ষ ভাড়া ১,০৫০
সার্ভিস চার্জ আদায় ২০০
স্থানীয় ও ড্যাম কর্তৃক অনুদান1 ২৪০
মোবাইল ব্যবহার ৫০
মোট আয় ৪,০৯০

পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. আবুল আরশাদ: কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ফি কিছু বেশি নেয়া যেতে পারে এবং মোবাইল ব্যবহার বাড়াতে পারলে ভাল হয়।

৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা

উপকারভোগীর নামঃ মোছাঃ সাথী খাতুন
সাথী খাতুন ছাত্রী, অবিবাহিতা, গ্রাম- পতিঙ্গালী, ডাক- ডেকুটিয়া সদর, যশোর। আর্থিক অবস্থা মধ্যবিত্ত, সামাজিক ভাবে গ্রহনযোগ্যতা ভাল। উপকার ভোগী টেলিসেন্টার হতে বিউটি পার্লার সিডি দেখে নিজে রুপচর্চা করতে পারছে এবং অপরকে সহযোগিতা করছে এবং নিজের চলার জন্য অর্থ উপার্জন করতে পারছে।

উপকারভোগীর নামঃ মো. মোক্তার হোসেন স্কুল শিক্ষক, অবিবাহিত।
মো. মোক্তার হোসেন স্কুল শিক্ষক, অবিবাহিত, গ্রাম- ভেকুটিয়া, পো:- ভেকুটিয়া, যশোর সদর। সমাজে শিক্ষিত রুচিশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত, গ্রামের দরবার/সালিশে তাকে ডাকা হয় এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। আর্থিক অবস্থা মধ্যবিত্ত। সি আর সি থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তেশ্বরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগদান করেন (কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে)। চাকুরীর মাধ্যমে তিনি তার সংসার নিয়ে স্বাচ্ছন্দে দিনাতিপাত করছেন।

উপকারভোগীর নামঃ মোছা: রিজিয়া খাতুন, উপকারভোগী বিবাহিত
উপকারভোগী বিবাহিত, গ্রাম: পতেঙ্গালী, পোষ্ট: ভেকুটিয়া যশোর সদর। আর্থিক অবস্থা মধ্যবিত্ত সামাজিক ভাবে গ্রহনযোগ্যতা ভাল। উপকার ভোগী টেলিসেন্টার হতে বিউটি পার্লার সিডি দেখে নিজে রুপচর্চা করতে পারছে এবং অপরকে সহযোগিতা করছে এবং নিজের চলার জন্য অর্থ উপার্জন করতে পারছে।