কর্মী বিনিময় কর্মসূচী/আমাদের গ্রাম জ্ঞান কেন্দ্র

উইকিবই থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আমাদের গ্রাম জ্ঞান কেন্দ্র
শ্রীফলতলা, বাগেরহাট
পরিদর্শনের তারিখ: ০৮ অক্টোবর ২০০৯ থকে ১২ অক্টোবর ২০০৯

যেসকল তথ্যকর্মী পরিদর্শন করেছেন:
১. তাবাসসুম রহমান, ব্র্যাক ইলেকশন প্রোগ্রাম (বিইপি), ব্র্যাক ডাঙ্গা গণকেন্দ্র পাঠাগার ডাঙ্গা, নরসিংদী।

২. মো. কামাল চৌধুরী, দিগন্তের ডাক পল্লীতথ্য কেন্দ্র, চরবাটা, সুবর্ণচর, নোয়াখালী

৩. কামনা মল্লিক, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, কেশবপুর, যশোর

যিনি তত্ত্বাবধান করেছেন :
দীপক ব্যানার্জী, আমাদের গ্রাম জ্ঞান কেন্দ্র, শ্রীফলতলা, বাগেরহাট

১. টেলিসেন্টার পরিচিতি

ক. টেলিসেন্টারের শুরুর তারিখ:
২০০১ সাল থেকে।

খ. যেভাবে শুরু হয়েছিল:
শ্রীফলতলা জ্ঞান কেন্দ্র থেকেই আমাদের গ্রামের যাত্রা শুরু। এখানে উল্লেখ্য যে- আমাদের গ্রাম এ সংস্থার নাম নয়। এটি হচ্ছে মূল এনজিওর একটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প। মূলত সংস্থার নাম হচ্ছে বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এডুকেশন সোসাইটি (বিএফইএস)। ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে অস্ট্রেলিয়ার অসএইড-এর সহযোগিতায় ১০০টি গ্রামে জরীপ চালিয়ে প্রত্যেক এলাকার আর্থ-সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার তুলনা করা হয়। জরিপের সময় আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গ্রামে বসবাসরত সকল মানুষকে স্বচ্ছল, দারিদ্র্য ও চরম দারিদ্র্য এই তিনটি ভাগে ভাগ করে তাদের পরিবারকে যথা সম্ভব প্রাপ্ত সকল তথ্য (জমির পরিমাণ, আয়ের উৎস, ব্যায়ের খাত, পরিবারের সদস্যদের বিবরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট্য তথ্যাবলী) কম্পিউটারের বিশেষভাবে তৈরি এক সফটওয়্যার সংরক্ষণ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে জরিপকৃত গ্রামগুলোর মধ্যে রামপালের শ্রীফলতলা গ্রামটি বেছে নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মানসে ২০০১ সালের ১০ মার্চ শ্রীফলতলায় ‘‘আমাদের গ্রাম জ্ঞান কেন্দ্রের’’ উদ্বোধন করা হয়। প্রথম অবস্থান এখানে তথ্য প্রযুক্তি পুরোপুরি সম্ভব না হলেও কিছুদিন পর থেকে তা সম্ভব হয়ে ওঠে। টেলিসেন্টারটি স্থাপনের শুরুতেই সচেতনমূলক প্রশিক্ষণ, পশুপালন, মুরগী পালন এবং সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এই সকল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন এবং দক্ষ করে তারপর তাকে টেলিসেন্টার থেকে ঋন দিয়ে বিভিন্ন কাজে লাগিয়ে দেয়া হয়।

পরিদর্শনকারীর মতামত:
মো. কামাল চেŠধুরী : আমাদের গ্রাম টেলিসেন্টারটি পুরোপুরি জনগণের টাকায় গড়ে না উঠলেও এটি ঐ এলাকার মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, কারণ খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে প্রথম দিকে যারা এ প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেছে তারা সবাই অধীর আগ্রহ নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড় করিয়েছে। এ বিষয়টিকে অবশ্যই ভাল বলতে হবে। কারণ বাংলাদেশে টেলিসেন্টার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রতিটি গ্রামে টেলিসেন্টার করার জন্য এত বিপুল টাকা সরকারী বা বেসরকারী কারও দ্বারা সম্ভব নয়। আর কোন ভাবে সম্ভব হলেও এটির কার্যকারিতা একপেশে হয়ে যাবে। পৃষ্টপোষকের খেয়াল খুশিমত চালাতে হবে সেন্টারগুলোকে। একটু চিন্তা করলে দেখা যাবে আমাদের দেশে মসজিদগুলো জনগণের টাকায় কি সুন্দরভাবে চলছে এবং দিনদিন মসজিদগুলো কাঁচা থেকে পাকা হয়ে যাচ্ছে। আমার নোয়াখালী দিগন্তের ডাকও এভাবে কয়েক বন্ধুর প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখনো তাও আমার মনে হয় ‘‘দিগন্তের ডাক টেলিসেন্টার’’টি ডি.নেট নিজের টাকা দিয়ে দাঁড় করিয়েছে বিধায় আমাদের তেমন বেশি মায়া লাগে না। যদি এলাকাবাসীর টাকায় হতো তাহলে প্রতিষ্ঠানটি আরো বেশি এগোত। তবে বলা যায় আমাদের শ্রমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখনো টিকে আছে। শুরুতে বেইজলাইন সার্ভে করে গ্রাম সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা নেয়া এবং তথ্যগুলি একটি সফটওয়্যারে সংরক্ষণ করার বিষয়টি আমার কাছে খুবই কাজের মনে হয়েছে। আমিও আমার গ্রামে এ ধরণের বেইজলাইন সার্ভে করা ও সংরক্ষণ করার চিন্তা-ভাবনা করছি।

গ. প্রাথমিকভাবে যারা শুরু করেছিল:
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুল হক ও পরিচালক রেজা সেলিম এবং তাদের আরো তিনজন বন্ধু প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন।

ঘ. এই স্থানে টেলিসেন্টার নির্বাচনের কারন:
আশির দশক থেকে এ এলাকায় চিংড়ি চাষের প্রচলন শুরু হয়। ধীরে ধীরে কৃষির পরিবর্তে চিংড়ি চাষ হয়ে দাঁড়ায় মূল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। এই পরিবর্তনটি আরো অনেকগুলি পরিবর্তনের কারণ হিসাবে কাজ করে। যে কৃষকেরা জমির মালিক ছিলেন এবং নিজের জমি চাষ করতেন তারা কেউ নিজে চিংড়ি চাষী হন, কেউবা বড় চাষীদের কাছে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন এবং নিজের সেই জমিতে শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে শুরু করেন। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শ্রম দেয়ার কাঠামো পরিবর্তিত হয়ে যায়। চিংড়ি চাষের কারণে আর্থিক লাভ হয় বটে তবে অপর দিকে নানাভাবে অপরাধ বাড়তে থাকে এবং পারিবারিক বন্ধন শিথীল হতে থাকে। ফলে স্থানীয় যুব সমাজ খুব সহজেই নানা রকম অপরাধমূলক কাজের মাঝে জড়িয়ে পরে। এছাড়া নানা দিক বিবেচনায় টেলিসেন্টারটি স্থাপন করা হয়।

ঙ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি

যন্ত্রপাতির নাম সংখ্যা
কম্পিউটার
ইন্টারনেট মডেম
প্রিন্টার (সাদা-কালো, বর্তমানে বিকল)
স্ক্যানার
ইউপিএস
পেন ড্রাইভ
ওয়েব ক্যাম্প
ফ্যান
মোবাইল ফোনসেট
সচেতনতামূলক ভিডিও সিডি ১৫-১৬
সেলাই মেশিন (বর্তমানে অব্যবহৃত)

চ. টেলিসেন্টারে ইন্টারনেট সংযোগ:
আছে। গ্রামীন জিপিআরএস সংযোগ

ছ. তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত অফলাইন তথ্য ও সিডি:
ভাটির পুরুষ শীর্ষক বাউল শাহ আব্দুল করিমের উপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের সিডি, আমাদের গ্রাম প্রকল্পের উপর নির্মিত একটি সিডি, হেল্থ ক্যাম্প (স্বাস্থ্য বিষয়ক সিডি), মা ও শিশু শিক্ষা (সিডি), টেলিসেন্টারের বুলেটিন, লিফলেট, স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান (যেমন জনসংখ্যা, জমির পরিমাণ, টিউবওয়েলের সংখ্যা, আর্সেনিক মুক্ত বা যুক্ত, কৃষিতথ্য ইত্যাদি), আমাদের বন্ধু (পারিবারিক স্বাস্থ্য শিক্ষার বই), সংক্রামক রোগ ও তার প্রতিকার (বই), খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিক্ষা (বই), পুষ্টি শিক্ষা কার্যক্রম (বই), এইডস ও যৌনবাহিত রোগ (বই) এবং সিডর ও আয়লার সেবা গ্রহনকারীর তালিকা।

পরিদর্শনকারীর মতামত
কামনা মল্লিক: ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের নামের তালিকা সহ মোবাইল নং, জরুরী মোবাইল নাম্বার প্রভৃতি থাকতে পারে।


''''২. টেলিসেন্টার কর্মী পরিচিতি''''

ক. তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীদের তালিকা

নাম পদবী কি কাজ করছে?
কাঁকলী রাণী হালদার তথ্যকর্মী এবং সেন্টার ম্যানেজার প্রতিদিন মাঠে গিয়ে উঠান বৈঠক করা, ব্রেস্ট ক্যান্সারের সম্ভাব্য রোগী চিহ্নিত করে হেল্থ ক্যাম্পে পাঠানো, উঠান বৈঠকে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ নানা তথ্য সমৃদ্ধ আলোচনা ও কেন্দ্রে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা।
রেজাউল করিম ফিল্ড ম্যানেজার তিনি মূলত ফিল্ড ম্যানেজার হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মাঠে এবং সেন্টারের কাজে সহযোগতিা করেন।
তারিকুল মল্লিক আইটি এসিস্টেন্ট সেন্টারের আগত ছাত্রছাত্রীদেরকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেন, টাইপ করেন, মাঝেমাঝে মাঠে সহযোগিতা করেন। কেন্দ্রের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের সময় অংশগ্রহণ করেন।
শেখ সাইদুর রহমান আইটি এসিস্টেন্ট কম্পিউটার প্রশিক্ষনে সহায়তা এবং ফিল্ডে কাজে সহায়তা।
মহুয়া সুলতানা হিসাব রক্ষক সেন্টারের প্রতিদিন আয় ব্যয় এর হিসাব রাখেন। মাঝেমধ্যে মাঠে গিয়ে সহযোগিতা করেন। সেন্টারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা সহ সকল কার্যক্রমে সহায়তা করেন।

খ. কর্মীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া
শেখ সাইদুর রহমান: ২০০৬ সালে যখন সাইদুর এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র, তখন একই গ্রামের শেখ সফিকুর রহমান, যিনি তখন জ্ঞান কেন্দ্রে কর্মরত, তাকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে উদ্বুদ্ধ করেন। ২০০৭ সালের শেষে আরো ক’জন পরিচিত জনের সাথে সাইদুর জ্ঞান কেন্দ্রের কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ভর্তি হন। প্রশিক্ষণে তার ভাল ফলাফল দেখে তাকে জ্ঞান কেন্দ্রে আইটি এসিসটেন্ট হিসাবে নির্বাচন করা হয়। ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাস থেকে তিনি এই পদে কাজ করছেন।
কাঁকলী রাণী হালদার: ১৯৯৭ সালে এস এস সি পাশ করার পর আমাদের গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক রেজাউল ভাই তাকে আমাদের গ্রামের প্রকল্পের স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। কিছু দিন পর আমাদের গ্রাম প্রকল্পের নির্বাহী পরিচাল রেজা সেলিম, রেজাউল কবিরকে সাথে নিয়ে কাঁকলীদের বাড়িতে চলে আসেন এবং তারা কাঁকলীকে কাজ করার জন্য পুনরায় উৎসাহিত করেন। কাঁকলী জানান- তারও অনেক দিন ধরে ইচ্ছে ছিল লেখাপড়ার পাশাপাশি সমাজ গঠন করার মত কোন কাজ পেলে করবেন। সর্বশেষ রেজা সেলিম তার বাড়িতে যাবার পর তার মা বাবাও কোন আপত্তি করেননা। ঐ দিনই কাঁকলী রাণী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আমাদের গ্রাম প্রকল্পে কাজ করার জন্য নির্বাচিত হন।
মহুয়া সুলতানা: পরিচালক রেজা সেলিম স্যার ম্যানেজারকে দায়িত্ব দেয়ার পর ম্যানেজার মহুয়াকে কাজে যোগদান করতে বলেন ২০০২ সালে। তখন থেকে তিনি এই সেন্টারে কাজ করছেন।

গ. তথ্যকর্মীর প্রতিদিনের কাজ

সময় শেখ সাইদুর রহমান কাঁকলী রাণী হালদার মহুয়া সুলতানা
সকালে ১. প্রয়োজন হলে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সহযোগিতা করেন। ১. সকালে নয়টার মধ্যে সেন্টারে এসে প্রথমে হাজীরা খাতায় সই করেন। পরে অফিসের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা যাচাই করেন এবং ষ্টাফদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
২. পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক মাঠ পরিদর্শন খাতায় সই করে মাঠে বেরিয়ে যান।
৩. মাঠে গিয়ে পূর্ব ঘোষিত উঠান বৈঠক করেন এবং নতুন বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করেন। বৈঠকে কৃষি, স্বাস্থ্য সহ নানা তথ্যসেবা বইয়ের মাধ্যমে দিয়ে থাকেন।
১. হিসাব সংরক্ষণ করেন
২. প্রয়োজনে গ্রামের বিভিন্ন গ্রুপে কথা বলতে যান।
দুপুরে ১. প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করেন। ১. গ্রামের বাড়ী বাড়ী গিয়ে নারী পুরুষের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ করেন। তার কাছে থাকা বিভিন্ন বইয়ের মাধ্যমে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অকৃষি উদ্যোগসহ নানা বিষয়ে তথ্য সেবা প্রদান করেন এবং গ্রামবাসীকে টেলিসেন্টারে আসার জন্য আহবান করেন। দুপুর একটায় সেন্টারে ফিরে এসে খাবার গ্রহণ করেন। ১. প্রশিক্ষনে সহায়তা করেন
বিকেলে ১. প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করেন। ১. সকাল থেকে সেন্টারে দেয়া সেবা ও সেবার মান সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।
২. এ সময় কেন্দ্রে আগত লোকজনের সাথে নিজে আলাপ করেন এবং তথ্যসেবা দেন।
৩. মাঝে মাঝে কম্পিউটারে বসে কাজ করেন।
৪. সর্বশেষ সেন্টারের সকল সার্বিক তথ্য একত্র করে দৈনিক রির্পোট তৈরী করেন।
১. প্রশিক্ষনে সহায়তা করেন ।
সন্ধায় ১. সন্ধ্যায় সেন্টার বন্ধ থাকে তবে জরুরী বা বিশেষ অনু্ষ্ঠান থাকলে প্রয়োজন বুঝে কাজ করেন। ১. সন্ধ্যার আগেই তিনি বাড়ী ফিরে যান।
২. তবে বাড়ী যাওয়ার সময় তিনি পথিমধ্যে গ্রামবাসীকে কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য আহবান জানান।
৩. সন্ধ্যায় মাঝে মাঝে অনেকে তার বাসায় গিয়ে ব্রেষ্ট ক্যান্সার, শাকসবজী চাষ, কম্পিউটার ইন্টারনেট সংক্রান্ত সেবা সম্পর্কে আলাপ করেন, তিনিও বিরক্ত বোধ না করে তাদের সাথে আগ্রহ নিয়ে আলাপ করতে থাকেন।
১. প্রয়োজন হলে কাজ করেন।

ঘ. তথ্যকর্মীর ওয়েবসাইট ব্যবহার

ওয়েবসাইটের তালিকা ব্যবহারের কারন
www.prothom-alo.com পত্রিকা পড়ার জন্য
www.samakal.com.bd পত্রিকা পড়ার জন্য
www.yahoo.com অন্যজন ইমেইল করার সময় তিনি পাশে বসে দেখেছেন

ঙ. উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনা যা তথ্যকর্মীকে কাজ করতে উৎসাহিত করে
শেখ সাইদুর রহমান: সহকর্মী ও বন্ধু শেখ সফিকুর রহমান এর কাছ থেকে তিনি উৎসাহ পেয়েছেন।
কাঁকলী রাণী হালদার: কাঁকলী ছাত্রজীবনে রেডিও টেলিভিশনে নারী এনজিও কর্মীর সফলতার কাহিনী শুনে সমাজ সেবায় আগ্রহী হন। পরবর্তীতে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রজীবন ও সমাজ সেবা শীর্ষক রচনা পড়তে গিয়ে কাঁকলীও মনে মনে ঠিক করেন তিনি স্বেচ্ছাশ্রমে সমাজ সেবা মূলক কাজে আত্মনিয়োগ করবেন। যখন তিনি এ কাজ শুরু করেন তখন অনেক সমস্যার মধ্যেও কিছু কিছু লোক তাকে খুব সাহায্য করেছিল। তখন কাঁকলী বুঝতে পেরেছিলেন এক সময় তার এ কাজের মূল্যায়ন সবাই করবে এবং তার অনেক পরিচিতি হবে।
মহুয়া সুলতানা: তার বাড়ি থেকে বাবা, মা এবং স্বামী কম্পিউটার শেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলে। যা তাকে একাজে আগ্রহী করেছে। পরবর্তীতে পরিচালক রেজা সেলিম স্যার তার কম্পিউটার শেখাসহ বিভিন্ন কাজের প্রতি আন্তরিকা তাকে এই কাজ করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।

চ. তথ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
শেখ সাইদুর রহমান: ভবিষ্যতে কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসাবে কোথাও চাকরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কাঁকলী রাণী হালদার: তার একমাত্র ছেলে শাওন মন্ডলকে কম্পিউটার সাইন্স-এ পড়ানোর ইচ্ছা আছে। তিনি স্বপ্ন দেখেন তার পরিবারের সকল সদস্য কম্পিউটার শিখবে। বর্তমানে তিনি একটি ল্যাপটপ কেনার চেষ্টা করছেন। কিনতে পারলে মহিলাসহ সবাইকে কম্পিউটার শিখানোর চেষ্টা করবেন এবং গ্রামবাসীকে সচেতনতামূলক ভিডিও চিত্র দেখাবেন। তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন আমাদের গ্রাম টেলিসেন্টার এর মত একটি টেলিসেন্টার তার বাড়ীতেই করবেন। তার পরিবারের সকল সদস্য হবে এ সেন্টারের একেক জন কর্মী। তার দেখাদেখি এভাবে প্রতিটি পরিবার হয়ে উঠবে এক একটি টেলিসেন্টার।
মহুয়া সুলতানা: মহুয়া বেগম ডিগ্রী ফলপ্রার্থী। তিনি বলেন সরকারী চাকুরীর বয়স যে কয়দিন আছে সে কয়দিন বিভিন্ন নিয়োগে দরখাস্ত করবেন। যদি সরকারী চাকুরী হয়ে যায়, তাহলে সরকারী চাকুরী করবেন। আর যদি না হয় তাহলে টেলিসেন্টারে চাকুরী করবেন। টেলিসেন্টার থেকে যে বেতন দিচ্ছে এর চেয়ে বেশি বেতন দিলে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করবেন।

ছ. তথ্যকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন:
শেখ সাইদুর রহমান: শেখ সাইদুর রহমান আমাদের গ্রাম প্রকল্পের শ্রীফলতলা জ্ঞানকেন্দ্রে আইটি এসিসস্টেন্ট হিসাবে কাজ করছেন। তার বয়স ১৯ বছর। তিনি রামপাল কলেজে বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। শ্রীফলতলা জ্ঞান কেন্দ্রের কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সাইদুর ২০০৭ সালের শেষের দিকে ভর্তি হন এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাস থেকে তিনি এই কেন্দ্রে কর্মরত আছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সাইদুর জ্ঞান কেন্দ্রে কাজ করেন। এতে তার অভিজ্ঞতা বাড়ে এবং নিজের খরচ তিনি নিজেই চালিয়ে নিতে পারেন। সাইদুরের মা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী, বড়ভাই কখনও কাজ করেন কখনও বা করেন না। এই অবস্থায় নিজের পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচের ভার নিজে বহন করতে পারায় তিনি খুশি। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষিত হওয়ায় অন্যদের তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনে সাহায্য করতে পারেন যা তাকে আনন্দ দেয়। আপাতত সাইদুর বিএ পাশ করতে চান তবে ভবিষ্যতে আর পড়াশোনা করবেন কিনা তা নিয়ে তার কোন পরিকল্পনা নেই।
কাঁকলী রাণী হালদার: কাঁকলী রাণী হালদারের পিতার নাম পরেশ চন্দ্র হালদার, মাতার নাম রেণুকা হালদার। তার বাবার বাড়ি রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের চন্ডীতলা গ্রামে। কৃষক পিতার ঘরে কাঁকলী জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৬ সালের ২৫ অক্টোবর। তারা চার ভাই বোন। ১৯৯১ সালে তিনি এসএসসি পাশ করেন। ১৯৯৮ সালে পাশ্ববর্তী গ্রাম টেংরামারীর মন্ডলবাড়ীর সুজিত মন্ডলের সাথে বিবাহ হয়। বর্তমানে তাদের সংসারে ছয় বৎসর বয়সের একটি ফুটফুটে সন্তান আছে। বাবা-মা আদর করে তার নাম রেখেছে শাওন মন্ডল। কাঁকলীর এনজিওর চাকুরী আর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর টাকা দিয়ে চলছে সংসার। শ্বশুর-শ্বাশুড়ী, স্বামী ও পুত্রকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার। বিয়ের আগ থেকেই আমাদের গ্রাম প্রকল্পে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি মাসিক নির্ধারিত বেতনে কাজ করছেন। কাঁকলী চাকুরীতে গেলে তার সন্তানের দেখাশোনার যেন সমস্যা না হয় সেজন্য ছেলেকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেখানে তার বোন তাকে দেখাশুনা করে।
মহুয়া সুলতানা: তথ্যকর্মীর মহুয়া ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী এবং পুত্র সন্তান নিয়ে সুখের সংসার করছেন। তার স্বামী সমাজ সেবা অফিসে চাকুরী করেন। তিনি ছোট বেলা থেকে অনেক সাহসী ছিলেন এবং সাহসীকতার সাথে সব কাজ করতে ভালবাসতেন। তার বাবা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। মহুয়ার পরিবার তাকে কষ্টের অর্থ বুঝতে দেয়নি। মহুয়া এখন এই টেলিসেন্টারে হিসাবরক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ আর ফিল্ড পরিদর্শন করেন। মহুয়া তাঁর একমাত্র পুত্রকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে গড়ে তুলতে চান।

'৩. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকা সম্পর্কে'
ক. এলাকার ভৌগলিক অবস্থান:
রামপাল ঐতিহ্যবাহী বাগেরহাট জেলার একটি উপজেলা। এ উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম শ্রীফলতলায় কেন্দ্রটি অবস্থিত। শ্রীফলতলা গ্রামের মোট জনসংখ্যা হল ৬,১১৬ জন।
খ. এলাকার জনগণের প্রধান পেশা:
এলাকার অধিকাংশ মানুষের পেশা চিংড়ী চাষ। এছাড়া জেলে, কৃষক, ঘের শ্রমিক বা দিনমজুর প্রভৃতি কাজ করে থাকে।
গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার অবকাঠামো:
শ্রীফলতলা গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা মোটামুটি ভাল হওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। দিনে ১/২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না।
ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান:
এলাকায় সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কৃষি অফিস, পশু সম্পদ অফিস, সমাজ সেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মহিলা অধিদপ্তর, পরিসংখ্যান অফিস, মৎস্য অফিস, পানি উন্নয়ন অফিস, থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বি আর ডি পি, আনসার ভি ডি পি ইত্যাদি। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ওয়াল্ড ভিশন, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা, প্রশিকা, কারিতাস, শাপলাফুল সহ বিভিন্ন ধরনের বড় ছোট এনজিও এবং স্কুল কলেজ রয়েছে।
ঙ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকায় অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ:
উপজেলা সদরে ফোন ফ্যাক্সের দোকান, সাইবার ক্যাফে, ডিজিটাল স্টুডিও ইত্যাদি আছে।
চ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিংবা উল্ল্যেখযোগ্য স্থাপনা বা ঘটনা:
ডাকরা বধ্যভূমি রামপালের একটি উল্লেখযোগ্য স্থাপনা। এয়াড়াও নির্মানাধীন তাজমহল খ্যাত চন্দ্রমহল ইকোপার্ক সবার নজর কাড়বে। এখানকার দুটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ এর মাঝামাঝি ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আইলা।

'৪. তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল'

ক. এলাকার জনগণকে তথ্যকেন্দ্রের সেবার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী

উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর নাম বিবরণ
উঠান বৈঠক স্থানীয় জনগণকে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে একত্রিত করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
জ্ঞান মেলা প্রতি বছর জ্ঞান মেলা করা হয়। এ মেলার আগে মাইকিং সহ নানা ভাবে প্রচারের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে মেলায় জড়ো করে টেলিসেন্টার এর সেবার সাথে সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
আলোচনা সভা বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে বা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এখানে আমাদের গ্রামের তথ্যকর্মীরা তাদের কার্যক্রম উপাস্থাপন করেন।
সবার জন্য কম্পিউটার শিক্ষা এই কর্মসূচীর আওতায় একটি ভ্যান যোগে একটি কম্পিউটার বাজারে বা লোক সমাগম বেশি এমন কোন স্থানে নিয়ে সাধারণ মানুষকে তথ্য প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করিয়ে দেয়া হয়। নির্দিষ্ট দিনের পূর্বেই স্থানীয় জনগণকে জানিয়ে দেয়া হয় কবে কখন এই কর্মসূচী চলবে।
হেল্থ ক্যাম্প প্রতিমাসে একবার হেল্থ ক্যাম্প করে রেজিস্ট্রিকৃত ডাক্তারের মাধ্যমে সাধারণ রোগীদের ঔষধের প্রেসক্রিপশন দেয়া হয়।
ব্রেস্ট ক্যান্সার বিশেষ ক্যাম্প প্রতিদিন গ্রামে গিয়ে উঠান বৈঠক ও বাড়ী বাড়ী যোগাযোগ করে ব্রেস্ট ক্যান্সারের সম্ভাব্য রোগীকে প্রতি বৃহস্পতিবার সেন্টারে ডাক্তারের সেবা দেয়া হয়। ব্রেষ্ট ক্যান্সার ধরা পড়লে তাকে খুলনায় রেফার করা হয়।
বিদ্যালয়গুলোতে ম্যাপিং গ্রুপ ও স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপ প্রতিটি হাই স্কুলে ম্যাপিং গ্রুপ রয়েছে। তারা তাদের এলাকার সামাজিক মানচিত্র তৈরী করে সেন্টারে নিয়ে আসে। অন্যদিকে এলাকায় সেন্টার স্বেচ্ছাসেবক দল রয়েছে তারা সেন্টার সেবা সম্পর্কে প্রচার করে এবং সেন্টারের বিশেষ কাজে সহযোগিতা করে।
লিফলেট, সেমিনার লিফলেট সেমিনারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হয়। আমাদের গ্রাম কি কি তথ্য আছে সেটি জানানো হয়।

খ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার এনজিও, সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
রামজারা গণপাবলিক লাইব্রেরি, নড়াইল; প্রতিক ট্রাষ্ট, সাতক্ষীরা; ইনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, নড়াইল;আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাগের হাট; কম্পিউটার শিক্ষাকেন্দ্র, দেপাড়া, বাগেরহাট; রূপদিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, যশোর; সুন্দরবন আইটি এক্সেস সেন্টার, খুলনা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সাথে তথ্য পযুক্তির প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্টনারসীপ কর্মসূচী আছে ।
গ. এলাকার নারীদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
এলাকার নারীরা টেলিসেন্টার থেকে সাধারণত স্বাস্থ্য সেবা (যেমন পুষ্টি, সাধারণ রোগের প্রতিকার, রোগ হলে করণীয়) ও কৃষি বিষয়ক তথ্যসেবা (শাকসবজী চাষ, হাঁস-মুরগি, চিংড়ি চাষ) গ্রহণ করে থাকেন। এছাড়া নারীদের তথ্যপ্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে টেলিসেন্টার উদ্যোগ নিয়ে থাকে। এলাকার স্কুল ও কলেজের ছাত্রী ও অন্যান্য যুব মহিলারা টেলিসেন্টার থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।
ঘ. এলাকার শিশু ও কিশোরদের সাথে তথ্যকেন্দ্রের সম্পৃক্ততা:
শিশুরা মূলত কম্পিউটারে গেমস খেলার জন্য ও সিসিমপুর সিডি দেখার জন্য আসে। কিশোররা কম্পিউটার শিখতে, কম্পোজ ও সিডি রাইট করতে আসে। এছাড়াও রেজাল্ট, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, কম্পিউটার ভর্তি তথ্য ও বিভিন্ন তথ্য ইত্যাদি নিতে আসে।

'৫. টেলিসেন্টার ব্যবস্থাপনা'

ক. দৈনিক কর্মসময়:
প্রতিদিন সকাল ৯.০০টা থেকে বিকাল ৫.০০টা পযন্ত খোলা থাকে (শুক্র ও শনিবার বন্ধ)।
খ. কর্মীদের দায়িত্ব বন্টন:
তথ্য কর্মী এবং ম্যানেজার নিজের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ভাগাভাগি করে নেয়।
গ. কর্মীর দৈনিক কাজের তালিকা:
সকাল বেলা সঠিক সময় অফিসে এসে হাজিরা খাতায় সই করা, অফিস পরিষ্কার পরিচছন্ন করা, যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা যাচাই করা, অন্যান্য কর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করা, মুভমেন্ট খাতায় সই করে মাঠে বেরিয়ে পড়া। দুপুর বেলা উঠান বৈঠক ও গ্রুপ মিটিং সম্পন্ন করা, আগামী দিনের বৈঠকের জন্য লিডার ও সময় ঠিক করা, পরে কেন্দ্রে ফিরে এসে দুপুরের খাবার খাওয়া। বিকেল বেলা পুনরায় কেন্দ্রের স্টাফ ও সেবা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া, কম্পিউটারে বসে কাজ করা, সেবা প্রদান করা, দিন শেষে কেন্দ্রের সকল হিসেব বুঝে নেয়া ইত্যাদি।
ঘ. তথ্যকেন্দ্র পরিদর্শনকারী কিংবা সেবা গ্রহীতাদের তালিকা সংরক্ষণ:
শুধু কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা সংরক্ষণ করা হয় ও ছবি তুলে রাখা হয়। অন্যান্য সেবা গ্রহণকারীদের তালিকা সংরক্ষণ করা হয় না। ঙ. তথ্যকেন্দ্রের নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া:
কর্মীদের সাপ্তাহিক ও মাসিক মিটিং এর মাধ্যমে সেন্টারের দৈনন্দিন এবং নতুন নতুন কাজের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
চ. তথ্যকেন্দ্রের আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ:
রিসিটের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে দিন শেষে ক্যাশ বুকে এন্ট্রি করা হয়। খরচের হিসাব রাখা হয় বিল, ভাউচার ও ক্যাশ বুকে প্রতিদিন এন্ট্রি করে রাখার মাধ্যমে।
ছ.তথ্যকেন্দ্রের কর্মীদের মূল্যায়ন:
কর্মরত প্রজেক্টে কর্মীদের অবদান, নিজ প্রকল্প সম্পর্কে জ্ঞান এবং কাজের গুনগত মানের উন্নতির ভিত্তিতে কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি কর্মীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর জ্ঞান মেলায় একজন কর্মীকে জ্ঞান মেলা পুরস্কার দেয়া হয়। তবে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমাদের গ্রাম পরিচালকের। এছাড়া সেন্টার ম্যানেজার তার কর্মী সম্পর্কে রিপোর্ট করেন। পরিদর্শনকারীর মতামত
মো. কামাল চৌধুরী: জ্ঞান মেলা পুরষ্কারের বিষয়টি অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয়।
জ. তথ্যকেন্দ্রের সাজসজ্জা:
টেলিসেন্টারের দুইটি রুম। ভেতরের রুমের একপাশে পাঁচটি কম্পিউটার টেবিল, অন্যপাশে ম্যানজার ও হিসাব রক্ষকের টেবিল ও সেবাগ্রহণকারীর জন্য কয়েকটি চেয়ার আছে। বাহিরের রুমে অর্থাৎ বারান্দায় গ্রামবাসী অপেক্ষা করার জন্য টেবিল ও পত্রপত্রিকা সাজিয়ে রাখা হয়। ঘরের বাহিরে ছাতার মত গোল করে বসার জন্য সুন্দর একটি জায়গা করা হয়েছে।

৬. টেলিসেন্টারের সেবা ও কার্যক্রম ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবার তালিকা

সেবার নাম কাদের দেয়া হয় কখন দেয়া হয় কোনো ফি নেয়া হয় কি? হলে কিভাবে বিশেষ মন্তব্য
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ছাত্রছাত্রী ও অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন লোকজনকে সকাল নয়টা থেকে পাঁচটা প্রতিটি কোর্সে প্রতিজন ৭০০ টাকা তবে দরিদ্র পরিবারের সম্ভাবনাময় ছেলেমেদের বিনামূল্যে বা আংশিক ফি নিয়ে শেখানো হয়।
সেলাই প্রশিক্ষণ গরিব নারীদেরকে অফিস সময়ে
সবার জন্য কম্পিউটার শিক্ষা গ্রামের শ্রমিক, কৃষক, গৃহিনীসহ শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে পড়া লোকজন সপ্তাহে একদিন

মাঝেমধ্যে বিশেষ দিনে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের সময়

হেল্থ ক্যাম্প গ্রামের নারী-পুরষকে প্রতিমাসে একদিন প্রেসক্রিপশনের জন্য ফি নেয়া হয়
ভ্যান ক্যাম্প তথ্য সেবা গ্রামবাসীদের মাঝেমাঝে ফি নেয়া হয়না ভ্যানে কম্পিউটার নিয়ে একেবারে গ্রামে চলে যাওয়া হয়।
ব্রেস্ট ক্যান্সার নীরিক্ষা ক্যাম্প কেন্দ্র আগত সম্ভাব্য রোগীকে প্রতি বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা-৫টা ব্রেস্ট ক্যান্সার ছাড়া অন্য রোগীর থেকে ডাক্তারী ফি নেয়া হয়
মা ও শিশু স্বাস্থ্য গ্রামবাসীকে অফিস সময় ফি নেয়া হয় না
কৃষিতথ্য সহ নানা ধরনের সচেতনতামূলক তথ্য সেবা উঠান বৈঠক সমিতির মিটিং-এ
সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন গ্রামের নারী-পুরুষদের মাঝেমাঝে বিশেষ অনুষ্ঠান ও উঠান বৈঠকে ফি নেয়া হয় না
কম্পিউটার কম্পোজ এলাকাবাসীকে সকাল নয়টা-পাঁচটা টাইপসহ প্রিন্ট প্রতিপৃষ্ঠা ১৫ টাকা

খ. তথ্যকেন্দ্রের সেবাগুলো গ্রহণ করে কিভাবে জনগণ লাভবান হয়

সেবাসমূহ সেবা গ্রহণকারীদের লাভ
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কম্পিউটার শিখে অনেকে এখন বিভিন্ন জায়গায় চাকুরী করছে।
কম্পিউটার শিক্ষা সবার জন্য কম্পিউটার সম্পর্কে গ্রামবাসীর ভীতি দূর হচ্ছে এবং তারাও কম্পিউটার শিখছে।
হেল্থ ক্যাম্প রোগীরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে কাছে পাচ্ছে এবং প্রেসক্রিপশন পাচ্ছে।
ব্রেষ্ট ক্যান্সার ক্যাম্প রোগীরা স্তনের, সাধারণ রোগের প্রেসক্রিপশন পাচ্ছে এবং স্তন ক্যান্সার অপারেশন করতে পারছে।
কৃষি, স্বাস্থ্য ও আইনী তথ্য সেবা এসব তথ্য নিয়ে গ্রামবাসী সচেতন হচ্ছে এবং সে মোতাবেক কাজ করে উৎপাদনও আরও বাড়ছে।
ভ্যান ক্যাম্প সেবা এ সেবার মাধ্যমে গ্রামবাসীকে কম্পিউটার শেখা ও ভিডিওর মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।
সেলাই প্রশিক্ষণ অনেক নারী এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বর্তমানে নিজ বাড়ীতে সেলাই করে বাড়তি আয় করছে।
ভিডিও প্রদর্শনী এসব ভিডিওর মাধ্যমে গ্রামবাসী সচেতন হয়ে উঠছে।
জ্ঞান মেলা জ্ঞান মেলায় মানুষকে বড় পরিসরে প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়।
মোবাইল ভ্যান ক্যাম্প গ্রামবাসী হাতের কাছে কম্পিউটার পায় এবং তথ্যসেবা গ্রহণ করে।
স্কুল ও প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ করে।

গ. তথ্যকেন্দ্র পরিচালিত এলাকার নতুন কোনো তথ্য বা সেবার চাহিদা
ডিজিটাল ছবি তোলা
মোবাইল লেডীর মাধ্যমে তথ্যসেবা প্রদান করা।
ভালো মানের ইন্টারনেট সুবিধা
জায়গা-জমি বেচা-কেনার তথ্য ও বর-কনের তথ্য।
সরকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা পাওয়ার নীতিমালা।
ক্ষুদ্র ঋণ।

৭. টেলিসেন্টারের প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও উত্তরণের উপায়
ক.তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার প্রতিবন্ধকতাগুলো:
সেন্টারের প্রতিবন্ধকতাগুলো হল আর্থিক সংকট, লোড শেডিং, হার্ডওয়ার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত জনবলসংকট।
খ. তথ্যকেন্দ্রের কারিগরী সমস্য:
টেলিসেনটারের কারিগরী সমস্যা হলে প্রাথমিকভাবে টেলিসেন্টারের কর্মী শফিক সমাধান করেন। জটিল কোন সমস্যা দেখা দিলে জেলা রিসোর্স সেন্টার সেই সমস্যার সমাধান করে অথবা প্রয়োজনে খুলনা শহরে যেতে হয়।
গ. তথ্যকেন্দ্র কর্মীদের দক্ষতা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা:
টেলিসেন্টার কর্মীদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব। এছাড়াও পারিবারিক অস্বচ্ছলতা, টেলিসেন্টারের ভবিষ্যত সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া, হার্ডওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকা, কথা বলার পারদর্শীতার অভাব, সঠিক কর্মপরিকল্পনা না থাকা প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে।
ঘ. এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যেসকল উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে:
কর্মীদেরকে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন টেলিসেন্টারে ঘুরানো, হার্ডওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়া, সেন্টারে মূল্য ফেরত শর্তে বিটিএনের পক্ষ থেকে একটি করে ল্যাপটপ দেয়া, কর্মীদের চাকুরী স্থায়ী করা, কাজের মূল্যায়ন হিসাবে বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, চাকুরী স্থায়ীকরণ ও পুরষ্কারের ব্যবস্থা করা, কর্মীদের ভালো কাজের জন্য ধন্যবাদ দেয়া এবং পরে গঠনমূলক সমালোচনা করা। এছাড়াও কমীদেরকে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে পারিবারিক পিছুটান সমন্বয় করলে তারা মানসিক চাপমুক্ত হবে।

৮. টেলিসেন্টারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক আয়-ব্যয়
ক. তথ্যকেন্দ্রের সেবা গ্রহণকারী (মাসে):
প্রতিমাসে ২০০-২৫০ জন সেবা পেয়ে থাকে।
খ. তথ্যকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে এলাকার যতভাগ জনগণ জানে:
টেলিসেন্টারের অবস্থান শতকরা ৯৫ ভাগ লোক জানে
গ. এলাকার জনগণ যেভাবে এ কার্যক্রমে সহায়তা করছে:
এলাকার জনগণ কেউ কেউ স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হয়ে কাজ করে। বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা সেন্টারের ম্যাপিং গ্রুপের সদস্য হয়ে ম্যাপিং করে এবং এলাকার নারী পুরুষ কেন্দ্রের সেবা গ্রহণ করে ও সেবা মূল্য দিয়ে কার্যক্রমে সহায়তা করে। সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে এলাকাবাসীর মধ্যে যিনি ভাল সেবা পান তিনি নিজের উদ্যোগে কেন্দ্রের সেবা সম্পর্কে প্রচার করতে থাকেন।
ঘ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনে আনুমানিক খরচ

খরচের খাত অংক
বেতন ২২,৭০০
টেলিফোন ও মোবাইল বিল ২৬০
ষ্টেশনারী ও আপ্যায়ন ১,৬০০
যাতায়াত ৬০০
বিদ্যুৎ বিল ৭০০
পত্রিকা বিল ২৫০
স্কুল ভাড়া ৩০০
বিবিধ ১,০০০

ঙ.প্রাথমিক স্থাপনের খরচ কিভাবে জোগাড় হয়েছিল:
অষ্ট্রেলিয়ার অসএইড এবং মাহমুদুল হক। চ. তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা বা ঋণ গ্রহণ:
কোন ঋন নেয়া হয়নি। ছ. তথ্যকেন্দ্রের আয়ের খাত

আয়ের খাত আয়ের পরিমান (এক মাসে)
কম্পিউটার কম্পোজ ২০০ টাকা

৯. সাফল্যের কাহিনী তথ্য এবং জীবন কাহিনী আলোচনা করা
উপকারভোগীর নামঃ লাভলী
তার বয়স একুশ বছর। তিনি বিবাহিতা এবং তার পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। লাভলীর বাড়ি শ্রীফলতলা দক্ষিণ পাড়ায় কামরাঙ্গা গ্রামে। লাভলীর স্বামী গাউফ শেখ দিন মজুরের কাজ করেন। লাভলী নিজে মাঝে মাঝে সেলাই এর কাজ করেন। গত এক বছর যাবত লাভলী স্বাস্থ্য সেবা গ্রুপের সদস্য। তিনি বলেন এই স্বাস্থ্য সেবা কাযর্ক্রম থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন যেমন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনিয়তা ও উপকারিতা, শিশুর যত্ন, এইডস এবং বিভিন্ন যৌনবাহিত রোগ। এইডস বিষয়ে লাভলী বেশ সচেতন। তবে তিনি জানতে চান কি কি লক্ষণ দেখলে বুঝবেন কারো এইডস হয়েছে।

উপকারভোগীর নামঃ আফরোজা বেগম
আফরোজার বাড়ী রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায়। স্বামী অজিত শেখ পেশায় ভ্যান চালক। ছেলে মেয়ে ২জন। আফরোজা বেগম স্বামী সংসার ও ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব অসহায় ছিলেন। শুধু স্বামীর ভ্যান চালানোর পয়সা দিয়ে সংসার চলত না। নিজের সামান্য জমিতেও লবণাক্ততার কারণে ধান হত না। অনেকদিন এভাবে টানা-হেচড়ায় চলে তার সংসার। আফরোজা জানান- একদিন আমাদের গ্রাম প্রকল্পের কাঁকলী আপার সাথে দেখা হয়। কাঁকলী আপার কথা মত আমাদের গ্রাম সমিতির সদস্য হয়ে নিয়মিত সঞ্চয় করি। তিন মাস পর ৪০০০ টাকা ঋণ নিই। এর মাঝে আফরোজার স্বামী প্রশিকা থেকে রিং স্লাভ তৈরীর প্রশিক্ষণ পায়। প্রশিকার প্রশিক্ষণ আর আমাদের গ্রামের ঋণ মিলে তারা স্বামী-স্ত্রী নিজ বাড়ীর আঙিনায় রিং ও স্লাব তৈরীর ব্যবসা শুরু করেন। আফরোজা এ কাজে তার স্বামীকে সাহায্য করেন। রিং স্লাব ও ভ্যানের আয়ে এখন তাদের সংসার ভালই চলে। আমাদের গ্রাম টেলিসেন্টার থেকে সবজী চাষের তথ্য নিয়ে তিনি এখন লাউসহ বিভিন্ন সবজী চাষ করে বাড়তী আয় করছেন। তার একমাত্র ছেলে সোহেল কলেজে পড়ার পাশাপাশি আমাদের গ্রাম টেলিসেন্টার থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং ভাবছেন লেখাপড়ার পাশাপাশি কম্পিউটারের অভিজ্ঞতা দিয়ে পার্টটাইম একটি চাকুরীও করবেন। আফরোজা মাঝে মাঝে সেন্টারে যান এবং কম্পিউটারে নাম ঠিকানা লিখা ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে আছে।