কম্পিউটার তথ্য ব্যবস্থার পরিচিতি/সিস্টেম সফটওয়্যার
সিস্টেম সফটওয়্যারের পরিচিতি
[সম্পাদনা]
সিস্টেম সফটওয়্যারকে প্রধানত দুইটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়: ইউটিলিটি প্রোগ্রাম এবং অপারেটিং সিস্টেম। অপারেটিং সিস্টেম হলো কম্পিউটারসহ প্রায় প্রতিটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মূল ভিত্তি। এটি কম্পিউটারকে সচল (বুট আপ) করে এবং যন্ত্রটির প্রতিটি অংশ সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করে। মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের কার্যপদ্ধতিও অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপারেটিং সিস্টেম একটি গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (জিইউআই) প্রদান করে, যার মাধ্যমে সব অ্যাপ্লিকেশন দেখা ও ব্যবহার করা যায়। অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কম্পিউটার ব্যবহার করা অসম্ভব। অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন প্রকারভেদ নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউটিলিটি প্রোগ্রাম কম্পিউটারের সক্ষমতা বাড়াতে বা সিস্টেম ব্যবস্থাপনার মতো নির্দিষ্ট কিছু কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, নর্টন [১] এর মতো ভাইরাস সুরক্ষা প্রোগ্রাম এবং উইন্ডোজের সাথে থাকা ইনস্টল/আনইনস্টল প্রোগ্রামগুলো হলো ইউটিলিটি প্রোগ্রামের উদাহরণ।
সিস্টেম সফটওয়্যার বনাম অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
[সম্পাদনা]সিস্টেম সফটওয়্যার
[সম্পাদনা]অপারেটিং সিস্টেম হলো এক ধরনের সিস্টেম সফটওয়্যার কার্নেল, যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এবং ব্যবহারকারীর মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।[২] মূলত পার্সোনাল কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সচল রাখার জন্যই সিস্টেম সফটওয়্যারগুলো ডিজাইন করা হয় এবং এগুলো অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম বা ভিত্তি তৈরি করে দেয়। এর অর্থ হলো, সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ যেমন, হার্ড ড্রাইভ, র্যাম , রম , ক্যাশ , মাইক্রোপ্রসেসর ইত্যাদির সাথে যোগাযোগ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীকে সরাসরি এসবের জটিলতা নিয়ে কাজ করতে না হয়। এতে হার্ডওয়্যারের সাথে যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় সব ড্রাইভার থাকে এবং সহজ কথায়, এটি হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মধ্যবর্তী একটি ইন্টারফেস।[৩] একটি কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) কেবল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সফটওয়্যারই নয়, এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সফটওয়্যারও বটে। এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে বা পর্দার আড়ালে চলতে থাকে এবং কম্পিউটারের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার অংশকে একত্রিত করে ব্যবহারকারীর কাছে একটি নিরবচ্ছিন্ন কাজের পরিবেশ তৈরি করে। মেমরি ও ডিস্কের (হার্ড ড্রাইভ) মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করা এবং স্ক্রিনে আইকন, টেক্সট বা কার্সার প্রদর্শনের মতো কাজগুলো অপারেটিং সিস্টেমই করে থাকে। এই দৃশ্যমান পরিবেশকে গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (জিইউআই) বলা হয়, যা পুরোপুরি অপারেটিং সিস্টেমের ফসল। উবুন্টু এবং ম্যাক স্নো লেপার্ড অপারেটিং সিস্টেমের তুলনা করলে এই পার্থক্য বোঝা যায়। এই দুই সিস্টেমের আইকনগুলোর অবস্থান ও গঠন ভিন্ন। ম্যাক ওএস এর ইন্টারফেস সাধারণত ত্রিমাত্রিক (থ্রি-ডি) ঘরানার হয়, যেখানে উইন্ডোজ কিছুটা সমতল বা ফ্ল্যাট দেখায়। উল্লেখ্য যে, অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারী বা অন্য কোনো অ্যাপ্লিকেশনের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে কাজ করে। অন্যান্য সিস্টেম সফটওয়্যারের মধ্যে বায়োস এবং ডিভাইসের ফার্মওয়্যার অন্তর্ভুক্ত। এগুলো ব্যবহারকারীকে ডায়াগনস্টিক টুলস, ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেটর এবং ডাটা ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের মতো ইউটিলিটিগুলো ব্যবহারে সহায়তা করে। [৪]
-
উবুন্টু জিইউআই
-
ম্যাক জিইউআই
অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
[সম্পাদনা]অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার হলো সবচেয়ে পরিচিত প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের সম্মুখভাগে (ফোরগ্রাউন্ড) চলে। এগুলো মূলত ব্যবহারকারীর সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ সম্পন্ন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যার সাথে কম্পিউটারের রক্ষণাবেক্ষণ, বুট-আপ বা হার্ডওয়্যার যোগাযোগের সরাসরি সম্পর্ক নেই। অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারগুলো হার্ডওয়্যারের সাথে যোগাযোগের জন্য সরাসরি সিস্টেম সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে এবং এটি ছাড়া এগুলো চলতে পারে না। সহজভাবে কল্পনা করলে বলা যায়, অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারগুলো সিস্টেম সফটওয়্যারের ওপর ভিত্তি করে চলে এবং এগুলো ব্যবহারকারীর সাথে সবচেয়ে বেশি মিথস্ক্রিয়া করে; অন্যদিকে সিস্টেম সফটওয়্যার পর্দার আড়ালে অলক্ষ্যে কাজ করে যায়। সিস্টেম সফটওয়্যার হার্ডওয়্যারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার থেকে পাওয়া তথ্য হার্ডওয়্যারে পৌঁছে দেয়। অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার আমাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এবং এর অনেক ধরন রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপারেটিং সিস্টেমের জিইউআইতে থাকা আইকনে ডাবল-ক্লিক করে এগুলো ব্যবহার করা যায়। বহুল ব্যবহৃত কিছু অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ড প্রসেসর, স্প্রেডশিট, ফটো এডিটিং প্রোগ্রাম, ডাটাবেস প্রোগ্রাম এবং অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার। এই তালিকাটিই শেষ নয়; মানুষের দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি হচ্ছে।[৫]
অপারেটিং সিস্টেম
[সম্পাদনা]অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কোনো কম্পিউটার সঠিকভাবে চলতে পারে না। অপারেটিং সিস্টেম হলো এমন একটি সফটওয়্যার যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে সফটওয়্যারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও কাজ করতে সক্ষম করে তোলে।[৬] এটি কম্পিউটারের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অপারেটিং সিস্টেম সাধারণ কাজের পাশাপাশি অত্যন্ত জটিল সব কাজও সম্পন্ন করতে পারে। অপারেটিং সিস্টেমকে মাল্টি-ইউজার, মাল্টি-প্রসেসিং, মাল্টি-টাস্কিং, মাল্টি-থ্রেডিং এবং রিয়েল টাইম, এই কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। অপারেটিং সিস্টেম এটি নিশ্চিত করে যে, একই সাথে চলা ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রাম এবং ব্যবহারকারীরা যেন একে অপরের কাজে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে। কম্পিউটারের মালিক বা ব্যবহারকারী বিভিন্ন কমান্ড বা নির্দেশের মাধ্যমে অপারেটিং সিস্টেমের সাথে যোগাযোগ করেন। প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের জন্য অপারেটিং সিস্টেম প্রয়োজন। এছাড়াও, অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা বা পারফরম্যান্স বৃদ্ধি করে। অপারেটিং সিস্টেমের বেশিরভাগ কাজই নেপথ্যে বা লোকচক্ষুর আড়ালে সম্পন্ন হয় বলে সাধারণত ব্যবহারকারীরা তা খেয়াল করেন না। এই সিস্টেমটি নেটওয়ার্ক সংযোগ ব্যবস্থাপনার কাজও করে থাকে। বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে কম্পিউটারে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য অপারেটিং সিস্টেম আপডেট বা হালনাগাদ করা অত্যন্ত জরুরি। মোটের ওপর, অপারেটিং সিস্টেম হলো সকল কম্পিউটারের মূল চালিকাশক্তি।
-
অপারেটিং সিস্টেমের স্থাপত্য (আর্কিটেকচার)
মাল্টি-টাস্কিং এবং মাল্টি-থ্রেডিং
[সম্পাদনা]মাল্টি-টাস্কিং হলো কম্পিউটারের এমন একটি ক্ষমতা যার মাধ্যমে এটি আপাতদৃষ্টিতে একই সাথে একাধিক কাজ বা প্রক্রিয়া চালাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এই পৃষ্ঠাটি পড়ার জন্য আপনি হয়তো একটি ইন্টারনেট ব্রাউজার খুলে রেখেছেন, আবার নোট নেওয়ার জন্য একটি ওয়ার্ড প্রসেসর এবং গান শোনার জন্য একটি মিডিয়া প্লেয়ারও একসাথে ব্যবহার করছেন। বাস্তবে কম্পিউটার প্রকৃতপক্ষে একই সাথে একাধিক কাজ করতে পারে না; বরং এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজগুলোর মধ্যে অদলবদল (সুইচ) করে, যাতে দেখে মনে হয় কাজগুলো একই সাথে চলছে। সময়ের সাথে সাথে সিপিইউ আরও দ্রুত হওয়ায় এখন কম্পিউটারগুলো আগের চেয়ে আরও বেশি অ্যাপ্লিকেশন একসাথে চালাতে পারে এবং খুব সহজে ও দ্রুত একটি কাজ থেকে অন্য কাজে যেতে পারে। কম্পিউটার যদি এটি করতে না পারত, তবে ব্যবহারকারীকে প্রতিবার অন্য কোনো অ্যাপ্লিকেশনে যাওয়ার আগে আগের অ্যাপ্লিকেশনটি কষ্ট করে বন্ধ করতে হতো।
কন্টিনিউইটিহলো মাল্টি-টাস্কিংয়ের একটি নতুন রূপ। এটি অ্যাপলের আইওএস ৮ এবং ওএস এক্স ইয়োসেমাইটের সাথে প্রথম পরিচিত করা হয়। এটি আপনার বিভিন্ন অ্যাপল ডিভাইসের মধ্যে খুব সহজে কাজের আদান-প্রদান করতে অথবা ডিভাইসগুলো একসাথে ব্যবহার করতে সহায়তা করে। কন্টিনিউইটির মধ্যে হ্যান্ডঅফ , ফোন কলিং, ইনস্ট্যান্ট হটস্পট এবং এসএমএস এর মতো সুবিধা রয়েছে। হ্যান্ডঅফ ফিচারের মাধ্যমে আপনি এক ডিভাইসে কাজ শুরু করে অন্য ডিভাইসে তা চালিয়ে যেতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি হয়তো আপনার ম্যাক কম্পিউটারে কোনো ডকুমেন্ট লিখছিলেন কিন্তু হঠাৎ আপনাকে কম্পিউটার থেকে উঠতে হলো; এমতাবস্থায় আপনি হ্যান্ডঅফের মাধ্যমে আইপ্যাডে সেই একই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। ফোন কলিং সুবিধার মাধ্যমে আপনি কম্পিউটারে বসেই ফোন কল করতে বা রিসিভ করতে পারেন যখন সেটি একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের অধীনে ফোনের সাথে যুক্ত থাকে। ইনস্ট্যান্ট হটস্পটের মাধ্যমে আপনার আইফোন থেকেই অন্যান্য ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া যায়। সবশেষে, এসএমএস সুবিধার মাধ্যমে আপনি কম্পিউটার বা ট্যাবলেট থেকেই মেসেজ আদান-প্রদান করতে পারেন। মূলত কন্টিনিউইটি মাল্টি-টাস্কিংয়ের ধারণাকে আরও উন্নত করে একাধিক সিপিইউ এর বদলে একাধিক ডিভাইসের ব্যবহারের মাধ্যমে কাজকে সহজ করে তুলেছে।[৭]
অন্যদিকে, মাল্টি-থ্রেডিং হলো একটি নির্দিষ্ট কাজের অভ্যন্তরেই কম্পিউটারের একই সাথে একাধিক অপারেশন বা কাজ সম্পন্ন করার ক্ষমতা। এক্ষেত্রেও প্রসেসর আসলে সব কাজ একসাথে করে না, কিন্তু এটি বিভিন্ন ক্রিয়ার মধ্যে এত দ্রুত সুইচ করতে পারে যে ব্যবহারকারীর কাছে মনে হয় কাজগুলো একই সাথে হচ্ছে।[৮] যখন কোনো প্রোগ্রাম প্রাথমিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে কাজ শুরু করে এবং অন্য অনুরোধের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়, তখন সেই কাজের অগ্রগতি সংরক্ষিত থাকে যতক্ষণ না সেটি সম্পন্ন হচ্ছে।[৯]
অপারেটিং সিস্টেমের কার্যাবলি
[সম্পাদনা]অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে একটি ইন্টারফেস তৈরি করা, কম্পিউটার বুট করা, হার্ডওয়্যার কনফিগার করা, নেটওয়ার্ক সংযোগ ব্যবস্থাপনা এবং কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করা।
প্রসেস ম্যানেজমেন্ট
[সম্পাদনা]প্রসেস হলো এমন একটি প্রোগ্রাম যা বর্তমানে কার্যকর বা সচল অবস্থায় আছে। একটি প্রসেস তার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সিপিইউ টাইম, মেমরি, ফাইল এবং ইনপুট/আউটপুট (I/O) ডিভাইসের মতো নির্দিষ্ট কিছু রিসোর্স বা উৎসের প্রয়োজন বোধ করে। অপারেটিং সিস্টেম প্রসেস তৈরি বা মুছে ফেলা, সাময়িক স্থগিত বা পুনরায় চালু করা এবং প্রসেসগুলোর মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম তৈরির কাজ করে থাকে।[১০]
মেইন-মেমরি ম্যানেজমেন্ট
[সম্পাদনা]মেমরি ম্যানেজমেন্ট হলো কম্পিউটারের মেমরি নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করার একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সিস্টেমের সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন চলমান প্রোগ্রামকে মেমরির নির্দিষ্ট অংশ বা 'ব্লক' বরাদ্দ করা হয়।[১১] অপারেটিং সিস্টেম মেমরি সংক্রান্ত তথ্যাদি সংরক্ষণ, বিভিন্ন প্রসেসের জন্য মেমরি নির্ধারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মেমরি খালি বা বরাদ্দ করার কাজ করে থাকে।[১২]
ব্যবহারকারী ইন্টারফেস
[সম্পাদনা]
কম্পিউটার এবং ব্যবহারকারীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য কোনো না কোনো ধরনের ব্যবহারকারী ইন্টারফেস বা ইউজার ইন্টারফেসের প্রয়োজন হয়। ব্যবহারকারী ইন্টারফেস টেক্সট বা বর্ণভিত্তিক হতে পারে, যেমন ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ব্যবহৃত আদি ডস ; অথবা এটি চিত্রভিত্তিক হতে পারে। বর্তমানে অধিকাংশ ব্যক্তিগত কম্পিউটার এবং মোবাইল ডিভাইসে চিত্রভিত্তিক ব্যবহারকারী ইন্টারফেস (যা জিইউআই নামেও পরিচিত) ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য আইকন, ডেস্কটপ, পয়েন্টার এবং মেনুর মতো দৃশ্যমান উপাদান ব্যবহার করে। চিত্রভিত্তিক ব্যবহারকারী ইন্টারফেসের প্রাথমিক রূপগুলোর মধ্যে রয়েছে চেকবক্স, তালিকা এবং ইনপুটের অন্যান্য মৌলিক মাধ্যম। উইন্ডোজ, ম্যাক ওএস এবং অন্যান্য আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম চিত্রভিত্তিক ব্যবহারকারী ইন্টারফেসের অন্যতম উদাহরণ। ব্যবহারকারী ইন্টারফেস (ইউআই) বলতে মূলত অপারেটিং সিস্টেম, প্রোগ্রাম বা ডিভাইসের সেই অংশকে বোঝায় যা ব্যবহারকারীকে তথ্য প্রদান ও গ্রহণে সহায়তা করে। [১৩]
কম্পিউটার বুটিং
[সম্পাদনা]
অপারেটিং সিস্টেমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো কম্পিউটার 'বুট' করা বা চালু করা। এই প্রক্রিয়াটি তখন ঘটে যখন একটি বুটস্ট্র্যাপ প্রসেসর (বিএসপি) সম্বলিত সিপিইউ (অথবা মাল্টি-কোর প্রসেসরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি কোর) বেসিক ইনপুট/আউটপুট সিস্টেম বা বায়োস চালু করে। এই বায়োসে কম্পিউটার কীভাবে বুট হবে তার প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলি থাকে। বায়োস চিপ তখন কম্পিউটারকে একটি বুট লোডার খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়। বুট লোডারের কাজ হলো কার্নেল খুঁজে বের করে তা মেমরিতে লোড করার মাধ্যমে অপারেটিং সিস্টেম চালু করা। বায়োস একই সাথে একটি 'পাওয়ার-অন সেলফ-টেস্ট' (পোস্ট) পরিচালনা করে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে বুট করার আগে কম্পিউটারের সমস্ত অংশ ও হার্ডওয়্যার সঠিকভাবে কাজ করছে।
ব্যক্তিগত কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম
[সম্পাদনা]
বাফারিং এবং স্পুলিং
[সম্পাদনা]অপারেটিং সিস্টেমের যে অংশটি মূলত প্রিন্টারের সাথে কাজ করে তা হলো বাফারিং। এটি র্যাম (র্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি) বা হার্ড ড্রাইভে থাকতে পারে। এই অংশটি মূলত সিস্টেম থেকে তথ্য বের হওয়ার সময় ইনপুট ও আউটপুট জমা রাখার কাজ করে[১৪]। যদিও অনেকেই ভিডিও বা মিউজিক স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে বাফারিং শব্দটির সাথে পরিচিত, তবে এটি মেমরির একটি অস্থায়ী রূপ হিসেবেও গণ্য হতে পারে[১৫]। বাফার যখন তার কাজ করে, তখন সিপিইউ তথ্য অন্য কোনো ডিভাইসে সরিয়ে নেওয়ার আগে তাতে পরিবর্তন আনতে পারে। যখন কোনো তথ্য বা ফাইল পুনরায় ব্যবহারের জন্য বাফারে জমা রাখা হয়, তখন তাকে স্পুলিং বলা হয়। প্রিন্টারের সাথে বাফার ব্যবহারের পাশাপাশি স্পুলিং বলতে প্রায়ই 'প্রিন্ট স্পুলিং' বোঝানো হয়। অনেক কলেজ ক্যাম্পাসে প্রিন্ট স্পুলিং ব্যবস্থা থাকে, যার ফলে একটি প্রিন্টারে একসাথে অনেকগুলো প্রিন্ট কমান্ড পাঠানো যায়। এই একাধিক নথি একই কম্পিউটার বা ভিন্ন ভিন্ন কম্পিউটার থেকে পাঠানো হতে পারে। স্পুলিং চলাকালীন একটি 'প্রিন্ট কিউ' বা মুদ্রণ সারি তৈরি হয়, যেখানে সমস্ত নথি প্রিন্ট না হওয়া পর্যন্ত জমা থাকে। স্পুলিং একটি অত্যন্ত দরকারী ব্যবস্থা, কারণ কোনো ডিভাইস ধীরগতিতে চললেও এটি ফাইলগুলোকে অপেক্ষমান রাখার সুযোগ দেয়।
ডস
[সম্পাদনা]আশির দশক এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে মাইক্রোকম্পিউটারের জন্য ডস (ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম) ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী অপারেটিং সিস্টেম। ডসের প্রথম সংস্করণটি আইবিএম এর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি বেশ সহজ অপারেটিং সিস্টেম হলেও এতে কোনো চিত্রভিত্তিক ব্যবহারকারী ইন্টারফেস ছিল না এবং এটি আধুনিক প্রসেসর সমর্থন করে না, যার ফলে বর্তমানে এটি আর ব্যবহৃত হয় না[১৬]। কিছু কম্পিউটারে এখনো ডস কমান্ড চালানো যায়, তবে ব্যবহারকারীকে কমান্ড প্রম্পট উইন্ডো ব্যবহার করে কমান্ড ইনপুট করার নিয়ম জানতে হয়।
এই চিত্রহীন অপারেটিং সিস্টেমটি মূলত টিম প্যাটারসন লিখেছিলেন এবং ১৯৮১ সালের আগস্টে এটি প্রথম পরিচিতি পায়। ডস সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করণ ছিল ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এমএস-ডস ৬.২২। ডস সিস্টেমে জিইউআই এর পরিবর্তে কমান্ড লাইন ব্যবহার করা হতো, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী বিভিন্ন ফাইলে প্রবেশ ও অন্যান্য কাজ পরিচালনা করতেন[১৭]। বর্তমানে মানুষ কম্পিউটার চালানোর জন্য মাউস ব্যবহার করে, কিন্তু ডসে কমান্ড-লাইন ইন্টারফেস ছিল যেখানে নির্দিষ্ট প্রম্পটে কমান্ড লিখে ফাইল বা প্রোগ্রাম খুলতে হতো। পরবর্তীতে ব্যবহারের সুবিধার জন্য মেনু বা আইকন-ভিত্তিক ইন্টারফেস তৈরি করা হয়। যদিও ডস সিস্টেম এখন আর ব্যবহৃত হয় না, তবে এর কমান্ড শেল (যা বর্তমানে উইন্ডোজ কমান্ড লাইন নামে পরিচিত) আজও ব্যবহৃত হচ্ছে[১৮]। ধারণা করা হচ্ছে যে আধুনিক অপারেটিং সিস্টেমগুলোর বাজার দখলের ফলে ডস একসময় পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বর্তমানে ক্যালডেরা ইনকর্পোরেটেড 'ডিআর-ওপেনডোস' নামে ডসের একটি সংস্করণ বাজারজাত করছে যা এমএস-ডসকে আরও উন্নত করেছে[১৯]।
-
একটি ডস কোড পেজের অংশ
-
একটি কমান্ড লাইন ইন্টারফেস পেজ
উইন্ডোজ
[সম্পাদনা]উইন্ডোজ হলো মাইক্রোসফট কর্তৃক নকশাকৃত অপারেটিং সিস্টেমের একটি সিরিজ। ১৯৮৫ এবং ১৯৮৭ সালে প্রবর্তিত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের প্রথম দুটি সংস্করণ ছিল বেশ প্রাথমিক পর্যায়ের। উইন্ডোজ ১.০ এ কেবল এমএস পেইন্ট এবং ওয়ার্ড প্রসেসরের মতো মৌলিক সুবিধা ছিল এবং উইন্ডোজ ২.০ এ ওয়ার্ড ও এক্সেলের খুব সাধারণ সংস্করণ ছিল। ১৯৯০ সালে তৃতীয় সংস্করণ মুক্তির আগে উইন্ডোজ জনপ্রিয়তা পায়নি। উইন্ডোজ ৩.০ এ উন্নত গ্রাফিক্স, 'মাল্টি-টাস্কিং' সুবিধা এবং প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল মেমোরি যুক্ত করা হয়। এই সংস্করণটি এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে এটি এগারো বছর বাজারে টিকে ছিল। পরবর্তী বড় পরিবর্তন আসে উইন্ডোজ ৯৫ এর মাধ্যমে, যা ১৬-বিট থেকে ৩২-বিটে উন্নীত হয়। উইন্ডোজ ২০০০ পরিচিত ছিল এর প্লাগ-ইন ডিভাইসের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য যা অপারেটিং সিস্টেমের সাথে সহজেই খাপ খেত। উইন্ডোজ এক্সপি বা উইন্ডোজ ২০০১ এ একটি ব্যাপক সহায়তা কেন্দ্র বা হেল্প সেন্টার যুক্ত করা হয়েছিল এবং এটি মূলত ব্যবহারকারীর সহজ স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল[২০]। উইন্ডোজ ভিস্তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্টার্ট মেনুর নিচে থাকা ইনস্ট্যান্ট সার্চ সুবিধা। এরপর উইন্ডোজ ৭ মুক্তি পায় যার মূল লক্ষ্য ছিল সিস্টেমটিকে আরও দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব করা। উইন্ডোজের সবচেয়ে সাম্প্রতিক সংস্করণ হলো উইন্ডোজ ১০, যা ২০১৫ সালের জুলাইয়ের শেষের দিকে মুক্তি পায়। নতুন উইন্ডোজ ব্যবহারকারীকে একসাথে একাধিক কাজ করার সুবিধা দেয়। এটি অনুসন্ধানের নতুন পদ্ধতি এবং হোম পেজ থেকে উইন্ডোজ স্টোর খোলার সুবিধাও প্রদান করে।[২১] বর্তমানে উইন্ডোজ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম এবং বিশ্বের প্রায় ৯০% ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এটি ব্যবহৃত হয়।
-
মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১.০ এর স্ক্রিনশট
-
উইন্ডোজ ৮ এর একটি উপস্থাপনা
ম্যাক ওএস
[সম্পাদনা]অ্যাপল কর্পোরেশনের নিবন্ধিত অপারেটিং সিস্টেমের নাম হলো ম্যাক ওএস । ম্যাক ওএস এক্স পরিবার থেকে এর অনেকগুলো শাখা বা সংস্করণ উদ্ভূত হয়েছে। মূলত এর মানসম্মত ইন্টারফেস এবং গ্রাফিকস শৈলীর কারণে এটি ইউনিক্সের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। একসময় ম্যাক ওএস এক্স স্নো লেপার্ড ছিল প্রধান অপারেটিং সিস্টেম, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ম্যাক ওএস এক্স মাউন্টেন লায়ন তৈরি করা হয়; এটি ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের অন্যতম আধুনিক ও উন্নত সংস্করণ। ম্যাক ওএসে মাল্টিথ্রেডিং এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এতে একটি ৬৪-বিট প্রসেসর রয়েছে যা ৬৪-বিট সফটওয়্যারের সাথে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন চালাতে সক্ষম। ম্যাক ওএস এক্স এর চমৎকার বৈশিষ্ট্যগুলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের জন্য বিভিন্ন ফাইল সহজে ব্যবহারের একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দেয়। ম্যাক ওএস এর উন্নত গ্রাফিকস ফিচারের জন্যও পরিচিত যা শিল্পী বা সৃজনশীল ব্যবহারকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর লঞ্চপ্যাড এবং ড্যাশবোর্ড ও ডেস্কটপের 'বার্ডস-আই ভিউ'সহ মিশন কন্ট্রোল সুবিধাটি অ্যাপ্লিকেশন খোলা এবং ব্যবহার করা সহজ করে তোলে। অ্যাপল ২০১৪ সালে 'ওএস এক্স ইয়োসেমাইট' নামে একটি নতুন অপারেটিং সিস্টেম চালু করে, যাতে নতুন ডিজাইনের ইন্টারফেসের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন অ্যাপল ডিভাইসে কাজ করার সুবিধা যুক্ত করা হয়[২২]। ২০১৫ সালে 'এল ক্যাপিটান' মুক্তি পায়, যার পর ২০১৬ সালে 'সিয়েরা' এবং ২০১৭ সালে 'হাই সিয়েরা' প্রকাশিত হয়।
ইউনিক্স
[সম্পাদনা]
ইউনিক্স ১৯৬৯ সালে বেল ল্যাবসের একদল এটিএন্ডটি কর্মীর মাধ্যমে একটি মাল্টিটাস্কিং এবং মাল্টি-ইউজার কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ট্রেডমার্ক করা হয়। ইউনিক্স মাইক্রোকম্পিউটার থেকে শুরু করে মেইনফ্রেম পর্যন্ত বিভিন্ন ডিভাইসে কাজ করতে পারে। ইউনিক্স বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায় বলে এটি একটি বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এটি বেশিরভাগ অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় ব্যয়বহুল এবং এর সংস্করণগুলো হালনাগাদ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা বেশ কঠিন। ইউনিক্স মূলত এর সরলতা এবং কাজ করার সুবিধার জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত, তাই বিভিন্ন কোম্পানি ইউনিক্সের আদলে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে, যেমন ম্যাক ওএস এক্স।
ইউনিক্স সম্প্রতি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তার ৪০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। ইউনিক্স বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত সিঙ্গেল ইউনিক্স স্পেসিফিকেশনকে এক্স/ওপেন কোম্পানির এক্সপিজি৪, আইইইই এর পসিক্স স্ট্যান্ডার্ড এবং আইএসও সি এর সাথে সমন্বয় করে। সিঙ্গেল ইউনিক্স স্পেসিফিকেশন এই পণ্যটিকে চারটি ভাগে সংজ্ঞায়িত করে: স্পেসিফিকেশন, প্রোডাক্ট, ট্রেডমার্ক এবং প্রযুক্তি; যার ফলে এটিএন্ডটি থেকে আলাদা হয়েও এটি নিজস্ব মহিমায় সফল হতে পেরেছে। এটি একটি উন্মুক্ত ঐকমত্যের স্পেসিফিকেশন তৈরি করেছে যা ইউনিক্স সিস্টেমের জন্য অপরিহার্য। ইউনিক্স ছিল উচ্চ-স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষায় লেখা প্রথম অপারেটিং সিস্টেমগুলোর একটি এবং এটি যেকোনো কম্পিউটারে ইনস্টল করা সম্ভব ছিল। এই উচ্চ-স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষাটি বেল ল্যাবসে ডেনিস রিচি তৈরি করেছিলেন, যা বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহারের জন্য আরও নমনীয় ভাষা হিসেবে পরিচিত এবং এটি ব্যবসার জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকে ইউনিক্সের অনুরাগী হয়ে ওঠেন এবং অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এই কারণে এটি ব্যবহার করে। এটি হোম কম্পিউটার ব্যবসায় খুব একটা জনপ্রিয় না হলেও ওয়ার্কস্টেশনের জন্য এটি অন্যতম প্রধান পছন্দ। এর সোর্স ল্যাঙ্গুয়েজ উন্মুক্ত ছিল, ফলে যে কেউ এটি সংগ্রহ করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে নিতে পারতেন।
-
ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম
লিনাক্স
[সম্পাদনা]
লিনাক্স হলো একটি ওপেন-সোর্স, পোর্টেবল, মাল্টি-ইউজার (যেখানে একাধিক ব্যবহারকারী একই সময়ে মেমরি/র্যাম/অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামের মতো সিস্টেম রিসোর্স ব্যবহার করতে পারেন) এবং মাল্টিপ্রোগ্রামিং অপারেটিং সিস্টেম, যা ১৯৯১ সালের অক্টোবরে লিনাস টোরভাল্ডস প্রথম প্রকাশ করেন। এটি উইন্ডোজ এবং ওএস এক্স এর মতো অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ [২৩]। এর সোর্স কোড জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, যার ফলে ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট থেকে লিনাক্স ডাউনলোড করতে পারেন এবং তাদের পিসি বা ম্যাকে অন্য একটি অপারেটিং সিস্টেম চালানোর ক্ষমতা রাখেন। এর আগে অন্য কোনো কোম্পানি এমনটি করেনি। এই সিস্টেমের মূলত তিনটি উপাদান রয়েছে: কার্নেল (লিনাক্সের মূল অংশ), সিস্টেম লাইব্রেরি (বিশেষ ফাংশন বা প্রোগ্রাম) এবং সিস্টেম ইউটিলিটি (বিশেষায়িত ব্যক্তিগত স্তরের কাজ সম্পাদনকারী)। লিনাক্স সার্ভার, মেইনফ্রেম কম্পিউটার এবং সুপারকম্পিউটারের শীর্ষস্থানীয় অপারেটিং সিস্টেমগুলোর একটি। লিনাক্স মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক রাউটার, ফ্যাসিলিটি অটোমেশন কন্ট্রোল, টেলিভিশন এবং ভিডিও গেম কনসোলের মতো অনেক জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়। এই সিস্টেমটি স্থানীয় এবং জাতীয় সরকারগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে। মার্কিন নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র এবং রোবট গান সজ্জিত নতুন যুদ্ধজাহাজ লিনাক্স দ্বারা পরিচালিত হয়[২৪]। স্পেন শিক্ষাক্ষেত্রে লিনাক্স ব্যবহার করছে এবং চীন প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা অর্জনে লিনাক্স ব্যবহার করে। লিনাক্সের সহযোগীরা নিরন্তর এই সিস্টেমের উন্নতি করে চলেছেন।
ক্রোম ওএস
[সম্পাদনা]
ক্রোম ওএস হলো গুগল দ্বারা তৈরি একটি ওপেন-সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, যা মূলত ইন্টারনেটে বেশি সময় কাটানো ব্যবহারকারীদের কম্পিউটিং অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। [General referenced ১] ২০১১ সালের ১৫ জুন স্যামসাং এবং এসারের তৈরি প্রথম 'ক্রোমবুক' (ক্রোম ওএস চালিত নোটবুক) বাজারে আনার মাধ্যমে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে এইচপি, তোশিবা, আসুস এবং ডেলসহ আরও অনেক কম্পিউটার কোম্পানি ক্রোমবুক তৈরি করছে। ক্রোম ওএস অন্য অপারেটিং সিস্টেম থেকে আলাদা হওয়ার প্রধান কারণ হলো এটি ব্যবহারকারীর ডেটা এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলো 'ক্লাউড' এ রাখার সুবিধা দেয়, যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারে কম জায়গা দখল করে। সিস্টেমে ফাইল এবং ডেটা জমা না রাখার কারণে ক্রোমবুক খুব দ্রুত বুট বা চালু হতে পারে। এটি ভাইরাস প্রতিরোধেও সাহায্য করে, যা ল্যাপটপটিকে সামগ্রিকভাবে নিরাপদ এবং দক্ষ করে তোলে। এ কারণে অনেক ক্রোমবুকে সাধারণ স্মার্টফোনের সমান মেমরি এবং র্যাম থাকে; তবে গুগল প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে দুই বছরের জন্য ১০০ গিগাবাইট গুগল ড্রাইভ ক্লাউড স্টোরেজ সুবিধা প্রদান করে।

কম্পিউটার কেনার সময় অনেক বিষয় বিবেচনা করা উচিত। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো কম্পিউটারটি কোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছে। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে। কেউ যদি ছোট ল্যাপটপ খুঁজছেন, তবে তিনি গুগল ক্রোমবুক বিবেচনা করতে পারেন যা ক্রোম ওএস ব্যবহার করে। কেনার আগে একটি কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সব অপারেটিং সিস্টেমের মতো ক্রোম ওএস এরও ভালো ও মন্দ উভয় দিক রয়েছে। একটি ইতিবাচক দিক হলো ক্রোম ওএস লিনাক্সের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা কার্যত ভাইরাসমুক্ত, অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা সাইবার হুমকি থেকে নিরাপদ থাকবেন। আরেকটি চমৎকার বৈশিষ্ট্য হলো এটি খুব দ্রুত চালু হয়, সাধারণত দশ সেকেন্ডের কম সময়ে। এটি বিভিন্ন ব্যবহারকারীকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদাভাবে কনফিগার করার সুযোগ দেয় এবং প্রত্যেকের ডেটা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে গোপনীয়তা রক্ষা করে। এই অপারেটিং সিস্টেমের একটি অসুবিধা হলো এতে সরাসরি নতুন অ্যাপ ইনস্টল করা যায় না। ব্যবহারকারীদের ওয়েব-ভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহার করতে হয়, যা ক্রোম ওয়েব স্টোর থেকে পাওয়া যায়। ক্রোমবুকের আরেকটি অভাব হলো এতে সহজ কোনো প্রিন্টিং অপশন নেই। কিছু প্রিন্ট করার জন্য ব্যবহারকারীর 'ক্লাউড প্রিন্ট রেডি প্রিন্টার' থাকতে হয়। সাধারণ প্রিন্টারে কেবল প্লাগ ইন করে প্রিন্ট করার সুবিধা এতে নেই, যা মাঝেমধ্যে বিরক্তিকর হতে পারে। আরেকটি অসুবিধাজনক মনে হতে পারে এমন বৈশিষ্ট্য হলো ক্রোমবুকে বেশিরভাগ কাজ করার জন্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন। যারা ভিডিও এডিটিং বা মুভি তৈরির মতো কাজ করেন, তাদের জন্য ক্রোমবুক উপযুক্ত নাও হতে পারে। ক্রোম ওএসের সুবিধা এবং অসুবিধা উভয়ই রয়েছে এবং নিজের প্রয়োজনের সাথে কোনটি সবচেয়ে ভালো মানায় তা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম
[সম্পাদনা]মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিভাইসের জন্য অনেক ধরণের অপারেটিং সিস্টেম থাকলেও প্রধান ছয়টি সিস্টেম সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও পরিচিত। এগুলো হলো অ্যান্ড্রয়েড , আশা , ব্ল্যাকবেরি , আইওএস , উইন্ডোজ ফোন এবং উইন্ডোজ আরটি ।

অ্যান্ড্রয়েড
[সম্পাদনা]বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমগুলোর মধ্যে একটি হলো অ্যান্ড্রয়েড। ২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে অ্যান্ডি রুবিন, রিচ মাইনার, নিক সিয়ার্স এবং ক্রিস হোয়াইট 'অ্যান্ড্রয়েড ইনকর্পোরেটেড' প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে গুগল এটি অধিগ্রহণ করে।[২৫] এটি লিনাক্স-ভিত্তিক একটি অপারেটিং সিস্টেম যা মূলত স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট কম্পিউটারের মতো টাচ স্ক্রিন বা স্পর্শকাতর পর্দার মোবাইল ডিভাইসগুলোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। গত ১৫ বছরে সাদা-কালো ফোনের যুগ থেকে শুরু করে বর্তমানের আধুনিক স্মার্টফোন বা মিনি কম্পিউটারে রূপান্তরের মাধ্যমে এই অপারেটিং সিস্টেমটির অনেক উন্নতি হয়েছে। মূল সংস্করণের পর থেকে অ্যান্ড্রয়েডের অনেকগুলো আপডেট বা হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড একটি শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেম এবং এটি স্মার্টফোনের অসংখ্য অ্যাপ্লিকেশন সমর্থন করে। এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক এবং উন্নত। অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার সমর্থনকারী হার্ডওয়্যারগুলো মূলত এআরএম আর্কিটেকচার প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অ্যান্ড্রয়েড একটি ওপেন সোর্স বা উন্মুক্ত উৎসের অপারেটিং সিস্টেম, যার অর্থ এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় এবং যে কেউ এটি ব্যবহার করতে পারে। অ্যান্ড্রয়েডে লক্ষ লক্ষ অ্যাপ পাওয়া যায় যা ব্যবহারকারীর জীবনযাত্রাকে সহজ করতে সাহায্য করে এবং সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে এটি গ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশ্বজুড়ে অ্যান্ড্রয়েডের বাজার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারের ৮৭.৯% অ্যান্ড্রয়েডের দখলে।
আশা
[সম্পাদনা]আশা অপারেটিং সিস্টেমটি নকিয়া ফোনে ব্যবহৃত হয়। সফটওয়্যার এবং যন্ত্রাংশের সক্ষমতার দিক থেকে এই স্মার্টফোনগুলো মূলত নিম্ন-সারির বা সাশ্রয়ী। সক্ষমতা কম হওয়ায় নকিয়ার এই স্মার্টফোনগুলো সাধারণত বেশ সস্তা হয়, যা তাদের উচ্চ-সারির স্মার্টফোনগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করে।
ব্ল্যাকবেরি
[সম্পাদনা]
ব্ল্যাকবেরির অপারেটিং সিস্টেমের নাম হলো 'ব্ল্যাকবেরি ১০'। এটি স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট ডিভাইসের জন্য একটি ক্লোজড সোর্স অপারেটিং সিস্টেম। ট্যাবলেট ডিভাইসের জন্য ব্ল্যাকবেরি উদ্ভাবিত সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেমটি হলো 'ব্ল্যাকবেরি ট্যাবলেট ওএস'। স্মার্টফোনে যেসব সুবিধা থাকে ব্ল্যাকবেরি অপারেটিং সিস্টেমে তার সবই রয়েছে: যেমন ইমেইল সুবিধা, ওয়েব ব্রাউজিং, ফোন কল, গান ও ভিডিও চালানো এবং টেক্সট মেসেজ আদান-প্রদান করা। 'স্টর্ম' এবং 'টর্চ' মডেলগুলো বাদে ব্ল্যাকবেরির বেশিরভাগ মডেলই টাচ স্ক্রিন নয়। নেভিগেশনের জন্য টাচ স্ক্রিনের পরিবর্তে এতে ট্র্যাকবল বা ট্র্যাকপ্যাড হার্ডওয়্যার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টাচ স্ক্রিন না থাকায় এই অপারেটিং সিস্টেমের প্রসেসিংয়ের জন্য খুব বেশি ব্যাটারি শক্তির প্রয়োজন হয় না, ফলে এই ফোনগুলো অন্যান্য ফোনের তুলনায় বেশিক্ষণ সচল থাকে।[২৬] ব্ল্যাকবেরিতে অনেকগুলো বাটন বা বোতাম রয়েছে (ডানপাশের ছবির মতো), যার মধ্যে একটি ব্ল্যাকবেরি বাটন, ব্যাক বাটন, কল রিসিভ ও এন্ড বাটন, ১টি বা ২টি কনভেনিয়েন্স কি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কিবোর্ড অন্তর্ভুক্ত। ব্ল্যাকবেরি বাটনটি খুব সহজে বিভিন্ন কাজ সমন্বয় করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেমন ইমেইলের মাধ্যমে ছবি শেয়ার করা। এই সিস্টেমটি গেম বা অ্যাপের চেয়ে যোগাযোগের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এতে এমন একটি ইমেইল সফটওয়্যার রয়েছে যা সরাসরি ব্যবহারকারীর ফোনে ইমেইল পৌঁছে দেয় (পুশ ইমেইল), যা ব্যাটারি সাশ্রয় করে এবং সর্বশেষ তথ্য প্রদান করে। এই ধরনের স্মার্টফোনের একটি অসুবিধা হলো এতে কাস্টমাইজেশন বা নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগ খুব সীমিত। শুধুমাত্র ওয়ালপেপার এবং কয়েকটি বাটনের কাজ পরিবর্তন করা সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো এতে 'উইজেট' বা অ্যাপের বিশাল সমাহার নেই। সামগ্রিকভাবে এই অপারেটিং সিস্টেমটি কাজের জন্য সুবিধাজনক হলেও অ্যাপের বৈচিত্র্যের দিক থেকে প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
আইওএস
[সম্পাদনা]আইওএস হলো অ্যাপলের আইফোন, আইপড টাচ, আইপ্যাড এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যাপল টিভির জন্য তৈরি করা একটি অপারেটিং সিস্টেম। এটি একটি ক্লোজড সোর্স অপারেটিং সিস্টেম এবং 'আইওএস ২.০' সংস্করণের আগে এতে থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের কোনো অফিসিয়াল সুযোগ ছিল না। সেই সময়ে থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহারের একমাত্র উপায় ছিল ডিভাইসটিকে 'জেলব্রেক' করা। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইওএস এর নবম সংস্করণ চলছিল। এটি ২০১৫ সালের শরতে অ্যাপলের পণ্য সম্মেলনে নতুন আইপ্যাডের সাথে পরিচিত করানো হয়। আইওএস এর রঙিন গ্রাফিক্স এবং সহজ ব্যবহারকারী ইন্টারফেসের জন্য পরিচিত। এটি মূলত মোবাইল ডিভাইসের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল কন্টেন্ট তৈরি করার চেয়ে কন্টেন্ট উপভোগ করা। তবে অ্যাপলের নতুন আইপ্যাড কন্টেন্ট তৈরি এবং উপভোগ উভয় কাজের জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে বলে আইওএসকেও সেই অনুযায়ী আপডেট করা প্রয়োজন ছিল। সর্বশেষ সংস্করণে ল্যাপটপের মতো একই সময়ে স্ক্রিন ভাগ করে দুটি অ্যাপ চালানোর (মাল্টি-টাস্কিং) সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন কিছু বিল্ট-ইন অ্যাপ এবং পুরোনো অ্যাপগুলোর উন্নত সংস্করণ যুক্ত করা হয়েছে। অ্যাপল ম্যাপসে এখন গণপরিবহনের তথ্য যুক্ত হয়েছে এবং আরও অনেক অ্যাপ এখন ক্লাউডের সাথে যুক্ত হতে পারে। ব্যক্তিগত সহকারী 'সিরি' কেও আরও উন্নত করা হয়েছে যাতে এটি ছবি খোঁজার মতো অন্যান্য অ্যাপের সাথেও কাজ করতে পারে। পরিশেষে, সিস্টেমে নতুন কিছু 'মাল্টি টাচ জেসচার' যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো ব্যবহারকারীকে টাইপ করা, প্রজেক্ট এডিট করা, নোট নেওয়া এবং ইমেইল করার মতো কাজে সহায়তা করে, যা সাধারণত ল্যাপটপ কম্পিউটারে করা হয়। মূলত আইওএস ৯ কন্টেন্ট উপভোগ করার পাশাপাশি কন্টেন্ট তৈরির জন্যও তৈরি করা হয়েছে।[২৭]

উইন্ডোজ ফোন
[সম্পাদনা]উইন্ডোজ ফোন হলো মাইক্রোসফটের তৈরি করা মোবাইল ফোনের জন্য একটি ক্লোজড সোর্স অপারেটিং সিস্টেম। এটি ব্যবহারকারীদের দূর থেকেই মাইক্রোসফট স্কাইড্রাইভ, অফিস, এক্সবক্স এবং অন্যান্য মাইক্রোসফট প্রোগ্রাম ব্যবহারের সুযোগ দেয়। উইন্ডোজ ফোন ডিভাইসগুলো মূলত নকিয়া, এইচটিসি, স্যামসাং এবং হুয়াওয়ে তৈরি করে থাকে। ১৪ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মাইক্রোসফট তাদের সর্বশেষ মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম 'ফোন ৮.১' অবমুক্ত করে। এই নতুন অপারেটিং সিস্টেমে অ্যাপলের সিরির মতো ব্যক্তিগত সহকারী 'কর্টানা' সহ বেশ কিছু নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়। এছাড়াও এতে নিরাপত্তা, পারফরম্যান্স এবং বুট টাইমে ব্যাপক উন্নতি করা হয়েছে।
উইন্ডোজ আরটি
[সম্পাদনা]
উইন্ডোজ আরটি-ও মাইক্রোসফট তৈরি করেছিল, তবে এটি মূলত মোবাইল ডিভাইস এবং ট্যাবলেটের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। এই ক্লোজড সোর্স অপারেটিং সিস্টেমটি ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য তৈরি 'উইন্ডোজ ৮' এর প্রায় কাছাকাছি ছিল। ২০১৫ সালে উইন্ডোজ আরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।[২৮]
সিম্বিয়ান ওএস
[সম্পাদনা]
এমন এক সময় ছিল যখন একটি অপারেটিং সিস্টেম বাকি সবার উপরে ছিল, কিন্তু আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক এবং সহজ অপারেটিং সিস্টেমগুলোর ভিড়ে সম্প্রতি তা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছে। এই অপারেটিং সিস্টেমের নাম 'সিম্বিয়ান' । ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে নকিয়ার সাথে অংশীদারিত্বের কারণে এটি বাজারের একচ্ছত্র অধিপতি ছিল। নকিয়া তখন প্রচুর পরিমাণে সস্তা মোবাইল ফোন বিক্রিতে বিশ্বসেরা ছিল। সিম্বিয়ান কোম্পানিটি 'পসিয়ন' নামক একটি ব্যর্থ পিডিএ কোম্পানি থেকে পুনর্জন্ম লাভ করে এবং মটোরোলা ও এরিকসনের মতো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম তৈরিতে মনোযোগ দেয়। তবে সিম্বিয়ানে সবচেয়ে বড় অংশীদার ছিল নকিয়া। দুর্ভাগ্যবশত, সিম্বিয়ানের কোডিং ছিল বেশ জটিল (যার কারণে সফটওয়্যার তৈরিতে উইন্ডোজ বা ম্যাকের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগত) এবং পরবর্তীতে নকিয়া মাইক্রোসফটের উইন্ডোজের দিকে ঝুঁকে পড়লে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে সিম্বিয়ান বিদায় নেয়। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও সিম্বিয়ান ওএস ব্যবহার করছেন, তাদের আরও কয়েক বছর সহায়তা দেওয়া হবে, তবে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, উপরে উল্লিখিত অসংখ্য বিকল্প থেকে সিম্বিয়ান ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দমতো উন্নত কোনো অপারেটিং সিস্টেম বেছে নিতে পারবেন।[২৯]
মোবাইল ডিভাইসের সিস্টেমসমূহ
[সম্পাদনা]বর্তমানে তিনটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মোবাইল ফোন বা ডিভাইস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হলো উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড এবং অ্যাপল। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই আলাদা আলাদা অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে।
উইন্ডোজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ তাদের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে উইন্ডোজ ব্যবহার করেছেন, তবে আপনি কি জানেন যে এটি আমাদের জিপিএস সিস্টেম, এটিএম এবং এমনকি রোবটের সাথেও যুক্ত? উইন্ডোজ মোবাইল ডিভাইসে 'টাইলস' নামক কিছু আইকন থাকে যা ডিভাইসে সংরক্ষিত বিভিন্ন জিনিসের শর্টকাট হিসেবে কাজ করে। সম্পর্কিত টাইলসগুলোকে একত্রে 'হাবে' রাখা যায়। উইন্ডোজ ডিভাইসগুলো উইন্ডোজ অফিস সফটওয়্যারের (ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট ইত্যাদি) সাথে কাজ করার সুবিধা দেয়। এতে এক্সবক্স লাইভ ব্যবহারের সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। [৩০]
অ্যান্ড্রয়েড: ৩০টিরও বেশি মোবাইল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একটি গ্রুপ অ্যান্ড্রয়েড তৈরি করেছে এবং এটি লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এই ডিভাইসগুলো স্প্লিট-স্ক্রিন ফিচারের মাধ্যমে একই সাথে একাধিক কাজ (মাল্টিটাস্কিং) করার সুবিধা প্রদান করে (অর্থাৎ স্ক্রিন পরিবর্তন না করেই একই স্ক্রিনে দুটি কাজ করা)। স্ক্রিনে অনেকগুলো অ্যাপ্লিকেশন থাকে যা অ্যান্ড্রয়েড মার্কেট থেকে কেনা বা ডাউনলোড করা যায় (কিছু অ্যাপ বিনামূল্যেও পাওয়া যায়)।[৩১] অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট হয়, যার লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য ত্রুটি (বাগ) সংশোধন করা এবং নতুন ফিচার যুক্ত করা।
আইওএস (অ্যাপল): এই সিস্টেমটি অ্যাপলের ম্যাক ওএস এক্স এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমের অ্যাপের মতো অ্যাপল পণ্যগুলোতেও অ্যাপ থাকে, তবে সেগুলো অ্যাপ স্টোর থেকে কেনা বা ডাউনলোড করতে হয়। বর্তমানে ৯,০০,০০০-এরও বেশি অ্যাপ উপলব্ধ রয়েছে। এই ডিভাইসগুলো আপনার আইটিউনস অ্যাকাউন্টের সাথে সিঙ্ক বা যুক্ত থাকে, যার ফলে আপনি আপনার ডিভাইসে গান আপলোড করতে পারেন। এই ডিভাইসগুলোর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো সাফারি ওয়েব ব্রাউজার, ফেসটাইম এবং "ফাইন্ড মাই আইফোন" অ্যাপের মাধ্যমে আপনার ডিভাইসটি খুঁজে বের করার ক্ষমতা। [৩২]
ইউটিলিটি প্রোগ্রাম
[সম্পাদনা]
সাধারণভাবে, ইউটিলিটি প্রোগ্রাম বলতে এমন বিশেষ সফটওয়্যারকে বোঝায় যা কম্পিউটার সিস্টেমের কর্মক্ষমতা সঠিক স্তরে রাখতে এবং অপারেটিং সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ইউটিলিটি প্রোগ্রামগুলো অপারেটিং সিস্টেমের অংশ হতে পারে অথবা কোনো তৃতীয় পক্ষ (থার্ড পার্টি) ডেভেলপারের তৈরি হতে পারে। আপনি যখনই কোনো প্রোগ্রাম ইনস্টল করেন, ফাইল অন্য ফোল্ডারে স্থানান্তর করেন, কোনো নথি অনুসন্ধান করেন বা নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপন করেন, তখন মূলত আপনি ইউটিলিটি প্রোগ্রামের টুলগুলোই ব্যবহার করেন। ইউটিলিটি প্রোগ্রাম আপনার হার্ড ড্রাইভের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিস্ক চেক, ডিস্ক ক্লিনআপ এবং ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্টেশন প্রোগ্রামের পাশাপাশি ফাইল কমপ্রেশন ইউটিলিটি আপনার স্টোরেজ গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করে এবং তথ্য অনুসন্ধান ও প্রদর্শনের সময় কমিয়ে আনে। ইউটিলিটি প্রোগ্রামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অপারেটিং সিস্টেম এবং আপনার তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ব্যাকআপ ও রিকভারি প্রোগ্রামগুলো নিশ্চিত করে যে সিস্টেমের ত্রুটির কারণে যেন সব তথ্য হারিয়ে না যায় এবং সিস্টেমটি যখন ঠিকমতো কাজ করছিল, সেই অবস্থায় (রিস্টোর পয়েন্ট) যেন ফিরে যাওয়া যায়। অন্যদিকে অ্যান্টিভাইরাস, অ্যান্টিস্পাইওয়্যার এবং ফায়ারওয়ালের মতো ইউটিলিটি প্রোগ্রামগুলো কম্পিউটারকে তথ্য চুরি থেকে রক্ষা করে।

ফাইল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম
[সম্পাদনা]এগুলো ফাইলগুলো গুছিয়ে রাখে এবং ব্যবহারকারীকে সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। ফাইল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শুরুতেই বলা যায় এর নেভিগেশন সিস্টেমের কথা, যা ব্যবহারকারীকে ফাইলের শ্রেণিবিন্যাস দেখার এবং নিজের কাজ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ দেয়। ফোল্ডারগুলোর মধ্যে যাতায়াত করতে "আপ" ও "ডাউন" এবং নির্দিষ্ট তথ্যে পৌঁছাতে "গো টু" অপশন ব্যবহার করা হয়। আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এর অপারেশন ফাংশন, যা ব্যবহারকারীকে ফাইল নিয়ে কাজ করার অনুমতি দেয়। এর সাধারণ কাজগুলো হলো: ওপেন, সেভ, ক্লোজ, কপি, মুভ, ডিলিট, রিনেম, নিউ এবং শেয়ার। ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবেই তাদের ফাইলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন। তাই ফাইলগুলোকে লগইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা যায়, যাতে কেবল ব্যবহারকারীর নাম এবং পাসওয়ার্ড জানা ব্যক্তিরাই ফাইলটি দেখতে পারেন। আপনার ফাইল প্রোগ্রামটি সুশৃঙ্খল রাখতে স্টোরেজ রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন, যেখানে অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো মুছে ফেলা উচিত। ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য এতে একটি কমিউনিকেশন ফাংশন থাকে, যার মাধ্যমে ফাইল নির্দিষ্ট স্থানে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন লিংক পাওয়া যায়। সবশেষে রয়েছে সার্চ ফাংশন, যার মাধ্যমে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট ফাইলটি খুঁজে পেতে পারেন।
বিশেষ করে, সার্চ টুল বা অনুসন্ধান টুলটি ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আগে যেমন বলা হয়েছে, এটি কেবল ফাইলের নাম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ফাইল খুঁজে বের করতে পারে। এমন কিছু প্রোগ্রাম আছে যা কি-ওয়ার্ডের মাধ্যমে তথ্য অনুসন্ধান করে, তবে সব নথিপত্রে কি-ওয়ার্ড খোঁজার চেয়ে সরাসরি নাম জানা থাকলে অনুসন্ধান দ্রুত হয়। [৩৩] এছাড়াও ফাইলটি কোনো নির্দিষ্ট ফোল্ডারে আছে কিনা, ফাইলের নামে নির্দিষ্ট কোনো অক্ষর আছে কিনা, এতে কোনো মেটাডেটা ট্যাগ আছে কিনা অথবা এটি কোন ধরনের ফাইল, এসবের ওপর ভিত্তি করেও ফাইল অনুসন্ধান করা যায়। মেটাডেটা ট্যাগ হলো ফাইল সম্পর্কে কিছু তথ্য, যেমন, এর লেখক, শিল্পী বা কি-ওয়ার্ড। ব্যবহৃত প্রোগ্রামটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি সেট করতে পারে অথবা আপনি নিজের প্রয়োজনমতো হাতেও এটি লিখে দিতে পারেন। তাছাড়া ডকুমেন্ট, স্প্রেডশিট, ভিডিও বা গান, সব ধরনের ফাইলই অনুসন্ধান করা সম্ভব। এই সার্চ টুলগুলো অপারেটিং সিস্টেমের সাথে বিল্ট-ইন থাকতে পারে অথবা আপনি ইন্টারনেট থেকে বিনামূল্যে বা অল্প খরচে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। ইন্টারনেটে কিছু সার্চ টুল রয়েছে যেগুলোকে 'ডেস্কটপ সার্চ টুল' বলা হয়; এগুলো নির্দিষ্ট ওয়েব পেজ, ইন্টারনেটে পাঠানো বার্তা বা ইমেইল খুঁজে পেতে পারে। গুগল, ইয়াহু! এবং বিং এই ধরনের সেবা প্রদান করে। ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা যায় এমন কিছু সার্চ টুল আবার নির্দিষ্ট কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন হার্ড ড্রাইভের ডুপ্লিকেট বা একই ফাইলের একাধিক কপি খুঁজে বের করা। যখন হার্ড ড্রাইভের স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে যায়, তখন এটি খুব কাজে লাগে। পরিশেষে বলা যায়, যখন আপনার হাতে সময় কম থাকে, তখন সার্চ টুল ইউটিলিটি প্রোগ্রাম আপনার ফাইল ও নথিগুলো সহজে খুঁজে পেতে দারুণ সাহায্য করে। [৩৪]
ডায়াগনস্টিক এবং ডিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম
[সম্পাদনা]আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তি যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তাই এটি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কম্পিউটারের প্রতিটি অংশ আমাদের নিজেদের হাতে চেক করার বদলে কম্পিউটারে বিল্ট-ইন ডায়াগনস্টিক ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম এবং ডিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম থাকে। ডায়াগনস্টিক ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম সিস্টেমের সবকিছু ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা তা তদারকি করে, আর ডিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম হার্ড ড্রাইভের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে। বেশিরভাগ কম্পিউটারে এই সফটওয়্যারগুলো আগে থেকেই থাকে, তবে অনেকে কম্পিউটারের বাড়তি সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য আলাদা সফটওয়্যার কেনা পছন্দ করেন। এই প্রোগ্রামগুলো আপনার কম্পিউটারকে প্রতিদিন দ্রুত, নির্ভুল এবং কার্যকরভাবে সচল রাখে।[৩৫]

আনইনস্টল এবং ক্লিনআপ ইউটিলিটি
[সম্পাদনা]সাধারণত মনে হতে পারে কোনো প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশন মুছে ফেলার পর তার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে না; তবে বাস্তবে তা ঘটে না বললেই চলে। অনেক ক্ষেত্রে সেই ফাইল, প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশনের অবশিষ্টাংশ হার্ড ড্রাইভে জমা থেকে যায়। এগুলো পুরোপুরি সরিয়ে ফেলার জন্য প্রায়ই 'আনইনস্টল ইউটিলিটি' ব্যবহার করা হয়। এই প্রোগ্রামগুলো হার্ড ড্রাইভ স্ক্যান করে অপ্রয়োজনীয় স্পেস, মেমরি বা একসময় থাকা অ্যাপ্লিকেশনের অবশিষ্টাংশ মুছে ফেলে। অনেক কম্পিউটারে এই সুবিধাটি আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকে, যা কম্পিউটারকে আপ-টু-ডেট এবং গতিশীল রাখার কাজটিকে সহজ করে তোলে। ক্লিনআপ ইউটিলিটিগুলো আনইনস্টল ইউটিলিটির মতোই; তবে এগুলো পুরোনো অ্যাপ্লিকেশন মুছে ফেলার পরিবর্তে কম্পিউটারের টেম্পোরারি বা সাময়িক ফাইলগুলো মুছে কম্পিউটার পরিষ্কার রাখে।[৩৬]

ফাইল কম্প্রেশন প্রোগ্রাম
[সম্পাদনা]ফাইল কম্প্রেশন প্রোগ্রামগুলো ফাইলের আকার ছোট করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীকে স্টোরেজে বাড়তি জায়গা দেয়। উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য এই কম্প্রেসড ফাইলগুলোর এক্সটেনশন সাধারণত .zip বা .zipx হয়ে থাকে। সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রোগ্রামগুলো হলো উইনরার , উইনজিপ এবং ৭-জিপ ।[৩৭] ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফাইলগুলো সাধারণত .sit বা .sitx ফরম্যাটে থাকে। সাধারণত ব্যবহৃত প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে আরএআর এক্সপ্যান্ডার , স্টাফইট এক্সপ্যান্ডার এবং ম্যাকজিপ । কিছু প্রোগ্রামে জিপ করা ফাইলগুলো এনক্রিপ্ট করার সুবিধা থাকে, যার অর্থ ফাইলটি খোলার জন্য পাসওয়ার্ডের প্রয়োজন হবে। এটি যারা নিজের ফাইল সুরক্ষিত রাখতে চান বা নির্দিষ্ট কাউকে অ্যাক্সেস দিতে চান তাদের জন্য সহায়ক। সামগ্রিকভাবে, অন্যান্য কম্পিউটার কাজের জন্য স্টোরেজ স্পেস খালি করতে ফাইল কম্প্রেশন প্রোগ্রাম ব্যবহার করা একটি কার্যকর উপায়। 'জিপ' একটি জনপ্রিয় ফাইল কম্প্রেশন প্রোগ্রাম যা 'লেম্পেল-জিভ কোডিং' (এলজেড৭৭) ব্যবহার করে ফাইল কম্প্রেস এবং ডিকম্প্রেস করে।[৩৮]
ব্যাকআপ এবং রিকভারি ইউটিলিটি
[সম্পাদনা]সময়ের সাথে সাথে যে কেউ বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন, যা সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নষ্ট করে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ঝড়ের কারণে হুট করে বিদ্যুৎ চলে গেলে কম্পিউটার অনিরাপদভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে অপারেটিং সিস্টেম এমনকি হার্ডওয়্যারেরও ক্ষতি হতে পারে। এতে সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একারণেই ব্যাকআপ রাখা অত্যন্ত জরুরি। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে, তাই তাদের পক্ষে নিয়মিত ডেটা ব্যাকআপ না রাখা প্রায় অসম্ভব; কারণ সামান্য কিছু ডেটা হারানোও তাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। উইন্ডোজ ব্যাকআপ প্রোগ্রাম (উইন্ডোজ) এবং টাইম মেশিন প্রোগ্রাম (ম্যাক) তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমের সাথেই থাকে, তবে বিনামূল্যে বা অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করা যায় এমন অন্যান্য সফটওয়্যারও বাজারে প্রচলিত আছে।
অ্যান্টিভাইরাস, অ্যান্টিস্পাইওয়্যার, ফায়ারওয়াল এবং অন্যান্য সুরক্ষা প্রোগ্রাম
[সম্পাদনা]ম্যালওয়্যার বলতে ভাইরাস, ট্রোজান, ওয়ার্ম, স্পাইওয়্যার ইত্যাদিকে বোঝায় যা কম্পিউটারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়। আগেই বলা হয়েছে, ম্যালওয়্যার নানাভাবে কম্পিউটারকে সংক্রমিত করতে পারে, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং আক্রমণকারী লাভবান হন। এই হুমকিগুলো থেকে রক্ষা পেতে অপারেটিং সিস্টেমের নিজস্ব ইউটিলিটি প্রোগ্রামের পাশাপাশি অন্যান্য সুরক্ষা সফটওয়্যার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। উইন্ডোজের জনপ্রিয় অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে এভিজি , নরটন ৩৬০ , ক্যাসপারস্কি এবং মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনশিয়ালস। নেটওয়ার্কে আসা-যাওয়া করা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক পোর্ট পর্যবেক্ষণ করতে ফায়ারওয়াল ব্যবহার করা হয়।[৩৯] এর প্রধান কাজ হলো কম্পিউটারকে ম্যালওয়্যার এবং হ্যাকারদের থেকে রক্ষা করা, তবে এটি ইন্টারনেটের প্রয়োজন এমন প্রোগ্রামগুলোর কাজেও বাধা দিতে পারে। কম্পিউটার একবার সংক্রমিত হয়ে গেলে এটি ম্যালওয়্যার সরাতে পারে না; এটি কেবল ম্যালওয়্যারকে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।[৪০] স্পাইওয়্যার হলো এমন এক ধরণের সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীর অগোচরে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে, যা গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।[৪১] তাই কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করার আগে সেটি সম্পর্কে জানা এবং এর লাইসেন্স চুক্তি ও গোপনীয়তা নীতি পড়ে নেওয়া জরুরি (অপ্রয়োজনীয় কোনো সফটওয়্যার সাথে আছে কি না তা দেখার জন্য)।
পর্যালোচনা
[সম্পাদনা]- অ্যান্ড্রয়েড: লিনাক্স-ভিত্তিক একটি অপারেটিং সিস্টেম যা মোবাইল ফোনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং এটি ওপেন হ্যান্ডসেট অ্যালায়েন্স (গুগলের নেতৃত্বাধীন একদল কোম্পানি) তৈরি করেছে।
- অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার: এই প্রোগ্রামগুলো ব্যবহারকারীকে কম্পিউটারে সুনির্দিষ্ট কাজ করার সুযোগ দেয়, যেমন চিঠি লেখা বা গেম খেলা।
- ব্ল্যাকবেরি ওএস: ব্ল্যাকবেরি ডিভাইসের জন্য তৈরি অপারেটিং সিস্টেম।
- কমান্ড লাইন ইন্টারফেস: এটি এমন একটি ইউজার ইন্টারফেস যেখানে ব্যবহারকারীকে টাইপ করা কমান্ডের মাধ্যমে কম্পিউটারে নির্দেশনা দিতে হয়।
- বাফার: র্যাম বা হার্ড ড্রাইভের একটি অংশ যা সিস্টেমে ইনপুট এবং আউটপুট আসা-যাওয়ার সময় ডেটা সাময়িকভাবে ধরে রাখে।
- ডিভাইস ড্রাইভার: এটি এমন একটি প্রোগ্রাম যা অপারেটিং সিস্টেমকে একটি নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যার ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে; একে সংক্ষেপে 'ড্রাইভার'ও বলা হয়।
- ফাইল কম্প্রেশন প্রোগ্রাম: এমন একটি প্রোগ্রাম যা ফাইলের আকার কমিয়ে দেয়, সাধারণত ডেটা সংরক্ষণ বা স্থানান্তরের সুবিধার্থে এটি করা হয়।
- গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (জিইউআই): একটি গ্রাফিক্স-ভিত্তিক ইন্টারফেস যা ব্যবহারকারীকে সহজে কম্পিউটারে নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ দেয়।
- কার্নেল: অপারেটিং সিস্টেমের সবচেয়ে অপরিহার্য বা কেন্দ্রীয় অংশ।
- লিনাক্স: একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম যা ইন্টারনেটে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এটি বর্তমানে মোবাইল ডিভাইস, ব্যক্তিগত কম্পিউটার, সার্ভার, মেইনফ্রেম এবং সুপার কম্পিউটারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম: মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য মোবাইল ডিভাইসে ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম।
- সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম: নেটওয়ার্ক সার্ভারে ইনস্টল করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি অপারেটিং সিস্টেম।
- সিম্বিয়ান ওএস: ঐতিহাসিকভাবে মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত একটি অপারেটিং সিস্টেম, যা মূলত উত্তর আমেরিকার বাইরে বেশি প্রচলিত ছিল।
- সিস্টেম সফটওয়্যার: এই প্রোগ্রামগুলো (যেমন অপারেটিং সিস্টেম) কম্পিউটার এবং এর যন্ত্রপাতির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর পরিবেশ তৈরি করে।
- ইউটিলিটি প্রোগ্রাম: এক ধরণের সফটওয়্যার যা নির্দিষ্ট কোনো কাজ করে, সাধারণত কম্পিউটার সিস্টেম পরিচালনা বা রক্ষণাবেক্ষণের সাথে জড়িত।
- ভার্চুয়াল মেমরি: মেমরি ম্যানেজমেন্টের একটি পদ্ধতি যা হার্ড ড্রাইভের স্পেসকে অতিরিক্ত র্যাম হিসেবে ব্যবহার করে।
- উইন্ডোজ: মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের তৈরি ব্যক্তিগত কম্পিউটারের প্রধান অপারেটিং সিস্টেম; এর সর্বশেষ সংস্করণ হলো উইন্ডোজ ৭ এবং ২০১২ সালে উইন্ডোজ ৮ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
- উইন্ডোজ এমবেডেড: উইন্ডোজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একগুচ্ছ অপারেটিং সিস্টেম যা ক্যাশ রেজিস্টার বা কনজিউমার ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতো নন-পার্সোনাল কম্পিউটার ডিভাইসের জন্য তৈরি।
- উইন্ডোজ ফোন: মোবাইল ফোনের জন্য তৈরি উইন্ডোজের সংস্করণ; এর বর্তমান সংস্করণ হলো উইন্ডোজ ফোন ৭।
- উইন্ডোজ সার্ভার: সার্ভারে ব্যবহারের জন্য তৈরি উইন্ডোজের সংস্করণ; বর্তমান সংস্করণ হলো উইন্ডোজ সার্ভার ২০০৮ আর২।
পর্যালোচনা প্রশ্নাবলী
[সম্পাদনা]১. কম্পিউটারের __________ হলো কিছু প্রোগ্রামের সমষ্টি যা কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয় করে এবং এটি কম্পিউটারে ইনস্টল করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার।
২. _______ বলতে একটি অপারেটিং সিস্টেমের একই সময়ে একাধিক প্রোগ্রাম চালু রাখার ক্ষমতাকে বোঝায়।
৩. একটি _______ হলো র্যাম বা হার্ড ড্রাইভের একটি অংশ যা সিস্টেমে ইনপুট বা আউটপুট আসা-যাওয়ার সময় ডেটা ধরে রাখার জন্য তৈরি।
৪. কোনো আইটেমকে বাফারে রাখার প্রক্রিয়াকে _______ বলা হয়, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ডিভাইস তা গ্রহণ করতে পারে।
৫. পুরোনো ডস অপারেটিং সিস্টেম এবং ইউনিক্স ও লিনাক্সের কিছু সংস্করণে __________ ব্যবহৃত হয়, যদিও ইউনিক্স এবং লিনাক্সের জিইউআই সংস্করণও পাওয়া যায়।
৬. ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমগুলোকে সাধারণত __________ বলা হয় এবং এগুলো একটিমাত্র কম্পিউটারে ইনস্টল করার জন্য তৈরি।
৭. গত কয়েক বছরে ________এর অনেকগুলো সংস্করণ এসেছে; পরবর্তী কয়েকটি বিভাগে এই অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান বিবর্তনগুলো আলোচনা করা হয়েছে।
৮. _________ হলো ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৯২ সালে লিনাস টরভাল্ডসের তৈরি একটি অপারেটিং সিস্টেম।
৯. অ্যাপল মোবাইল ফোন এবং আইফোন বা আইপড টাচের মতো ডিভাইসের জন্য তৈরি অপারেটিং সিস্টেমটি হলো _______।
১০. _________ তৈরি করা মানে হলো গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের একটি অনুলিপি বা ডুপ্লিকেট রাখা, যাতে কোনো সমস্যা হলে ডেটা হারানো এড়াতে সেই কপি থেকে ফাইলগুলো পুনরুদ্ধার করা যায়।
১১. লিনাক্স হলো ১৯৯১ সালে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন লিনাস টরভাল্ডসের তৈরি একটি অপারেটিং সিস্টেম।
পর্যালোচনা প্রশ্নের উত্তরপত্র
[সম্পাদনা]- অপারেটিং সিস্টেম
- মাল্টিটাস্কিং
- বাফার
- স্পুলিং
- কমান্ড লাইন ইন্টারফেস
- পার্সোনাল অপারেটিং সিস্টেম
- উইন্ডোজ
- লিনাক্স
- আইওএস
- ব্যাকআপ
- সত্য
পর্যালোচনার তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ http://us.norton.com/
- ↑ https://turbofuture.com/computers/The-Five-Types-of-System-Software
- ↑ http://ecomputernotes.com/fundamental/disk-operating-system/difference-between-application-software-and-system-software
- ↑ http://www.buzzle.com/articles/application-software-vs-system-software.html
- ↑ http://uwf.edu/clemley/cgs1570w/notes/concepts-3.htm
- ↑ http://www.computerhope.com/os.htm
- ↑ https://support.apple.com/en-us/HT204681
- ↑ http://www.ni.com/white-paper/6424/en/
- ↑ https://whatis.techtarget.com/definition/multithreading
- ↑ http://www.cs.um.edu.mt/~jcor1/oldwebsite/OS4.pdf
- ↑ https://whatis.techtarget.com/definition/memory-management
- ↑ http://www.cs.um.edu.mt/~jcor1/oldwebsite/OS4.pdf
- ↑ http://www.cs.um.edu.mt/~jcor1/oldwebsite/OS4.pdf
- ↑ Understanding Computer Today and Tomorrow 14th Edition Comprehensive
- ↑ http://www.computerhope.com/jargon/b/buffer.htm
- ↑ http://searchsecurity.techtarget.com/definition/DOS
- ↑ http://www.computerhope.com/jargon/m/msdos.htm
- ↑ http://www.computerhope.com/jargon/m/msdos.htm
- ↑ https://www.webopedia.com/TERM/D/DOS.html
- ↑ http://windows-operating-system-reviews.toptenreviews.com/a-brief-history-of-the-windows-operating-system.html
- ↑ http://windows.microsoft.com/en-us/windows-8/everywhere?ocid=Everywhere_O_WOL_Hero_Home_WinEverywhere_Pos1_01
- ↑ https://www.apple.com/osx/preview/
- ↑ https://www.linux.com/learn/new-user-guides/376-linux-is-everywhere-an-overview-of-the-linux-operating-system
- ↑ http://arstechnica.com/information-technology/2013/10/the-navys-newest-warship-is-powered-by-linux/
- ↑ https://www.engineersgarage.com/articles/what-is-android-introduction
- ↑ http://www.techradar.com/us/news/phone-and-communications/mobile-phones/android-v-blackberry-smartphones-for-business-1136674
- ↑ http://www.apple.com/ios/whats-new/
- ↑ https://www.theverge.com/2015/2/3/7974759/windows-rt-is-dead
- ↑ http://www.pcworld.com/article/2042071/the-end-of-symbian-nokia-ships-last-handset-with-the-mobile-os.html
- ↑ http://www.windowsphone.com/en-us/features?ocid=sem_s_pcrid_30043429957_se_Google_kwd_windows%20mobile%207%20games_pmt_b
- ↑ http://www.android.com/about/
- ↑ http://www.apple.com/iphone/
- ↑ http://smallbusiness.chron.com/functions-file-management-program-41476.html
- ↑ http://www.techrepublic.com/blog/five-apps/five-fast-windows-desktop-search-utilities/
- ↑ http://www.krollontrack.com/information-management/hard-drive-management/
- ↑ http://support.microsoft.com/kb/2438651
- ↑ http://download.cnet.com/windows/file-compression/?tag=rb_content;main
- ↑ "গিজিপের ম্যান পেজ (ফ্রিবিএসডি সেকশন ০)"। unix.com। ২৪ মে ২০০১। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
- ↑ http://www.cat-5-cable-company.com/faq-what-is-a-Firewall.html
- ↑ http://www.ehow.com/about_7547911_purpose-firewall-software.html
- ↑ http://www.microsoft.com/security/pc-security/spyware-whatis.aspx
- ↑ Eckert, Brad (ডিসেম্বর ১৯৯৯)। "Firmware factory & forth"। ACM SIGPLAN Notices। ৩৪ (১২): ৩০–৩৩। doi:10.1145/344283.344290। আইএসএসএন 0362-1340।