বিষয়বস্তুতে চলুন

কম্পিউটার তথ্য ব্যবস্থার পরিচিতি/মাল্টিমিডিয়া

উইকিবই থেকে

ওয়েব-ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া

[সম্পাদনা]

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

মাল্টিমিডিয়া

অজান্তেই হোক বা জেনেশুনে, আপনি অবশ্যই মাল্টিমিডিয়ার সাথে পরিচিত। মাল্টিমিডিয়া বলতে ঠিক যা বোঝায় তা হলো, বিভিন্ন ধরনের মিডিয়ার সরাসরি সংমিশ্রণ। আপনি যদি humblebundle.com[] সাইটটি দেখেন, তবে সেখানে মাল্টিমিডিয়ার চমৎকার প্রয়োগ দেখতে পাবেন। সেখানে একটি কাউন্টডাউন রয়েছে যা অ্যানিমেশনের উদাহরণ, আবার বিভিন্ন গেমের ছবিও রয়েছে। কোনো ছবিতে ক্লিক করলে সেটি বিস্তারিত বর্ণনা এবং সনিবেশিত (অন্তর্ভুক্ত) ইউটিউব[] ভিডিওসহ প্রদর্শিত হবে। এখন আপনি যেহেতু এর প্রাথমিক ধারণা পেয়ে গেছেন, তাই আপনার প্রিয় ওয়েবসাইটগুলোতে মাল্টিমিডিয়ার বিভিন্ন ব্যবহার সহজেই লক্ষ্য করতে পারবেন। মাল্টিমিডিয়া যেকোনো সাইটকে আকর্ষণীয় করে তুললেও মনে রাখবেন, কোনো কিছুরই অতিরিক্ত ব্যবহার ভালো নয়।

তবে ওয়েব-ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া বলতে মূলত ওয়েব পাতায় ব্যবহৃত মাল্টিমিডিয়া (শব্দ, ভিডিও, অ্যানিমেশন, টেক্সট এবং ছবি) বোঝায়। অন্যান্য মাধ্যমের মতোই, ওয়েব-ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া পাতাগুলো হাইপারলিংকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অনুরোধ করা তথ্য প্রদর্শন করে। মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ ওয়েবসাইটগুলো মিথস্ক্রিয়ামূলক হয়ে থাকে, যেখানে ব্যবহারকারী সরাসরি বিভিন্ন উপাদানের সাথে কাজ করতে পারেন। যেমন, কোনো ভিডিও ক্লিপ বা গেম চালানো কিংবা থামানো এবং কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুকে নিয়ন্ত্রণ করা। এক সময় ওয়েব-ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া অত্যন্ত সীমিত ছিল, কারণ কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ উভয়ই এটি সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট ধীরগতির ছিল। সময়ের সাথে সাথে কম্পিউটার এবং ব্রডব্যান্ড সংযোগের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়েব-ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার সম্ভব হয়েছে এবং এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে অধিকাংশ ওয়েবসাইটেই কোনো না কোনো আকারে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, এটি বিজ্ঞাপন হিসেবে, ওয়েবসাইটের নিয়মিত বিষয়বস্তু (যেমন টিভি নেটওয়ার্কের আপলোড করা শো এবং ছবি বা পডকাস্ট), পণ্যের তথ্যমূলক ভিডিও অথবা "ব্যবহারকারী-সৃষ্ট বিষয়বস্তু" যেমন ইউটিউবে আপলোড করা ভিডিও বা ফ্লিকারে আপলোড করা ছবির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।[]

ওয়েব ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ্লিকেশনের ব্যাপক বৈচিত্র্য রয়েছে এবং ইন্টারনেটে এগুলো সর্বত্রই দেখা যায়। কোনো ওয়েবসাইটে যদি একাধিক ধরনের মিডিয়া থাকে, তবে তাকে মাল্টিমিডিয়া ওয়েবসাইট বলা হয়। যেসব সাইটে টেক্সটের পাশাপাশি শব্দ, ভিডিও, অ্যানিমেশন এবং ছবি থাকে, সেগুলো এই বিষয়শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত এই সাইটগুলো দর্শকদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য একাধিক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে। যেমন, পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরতে ছবি এবং পিডিএফ-ভিত্তিক নির্দেশিকা ব্যবহার করতে পারে। অন্য ক্ষেত্রে, মাল্টিমিডিয়াকে শিক্ষার উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়, যেখানে দর্শকরা শিক্ষামূলক ভিডিওর মাধ্যমে শিখতে পারেন। আবার কোনো নিউজ সাইট তাদের পাঠকদের সর্বশেষ সংবাদ জানাতে পডকাস্ট এবং টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করতে পারে। সংগীতশিল্পীরাও তাদের ওয়েবসাইটে ট্যুরের তারিখের পাশাপাশি ছবি ও গান ব্যবহার করেন। বিনোদন জগতেও ওয়েব-ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ্লিকেশনের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। ইন্টারনেট ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ায় মানুষ এখন তাদের সুবিধামতো সময়ে যেকোনো স্থান থেকে প্রিয় টিভি শো দেখতে পারেন। নেটফ্লিক্স এবং হুলুর মতো ওয়েবসাইটগুলো ভিডিওর পাশাপাশি থাম্বনেইল ছবি এবং বর্ণনামূলক টেক্সট ব্যবহার করে। এই অ্যাপ্লিকেশনগুলোর ক্ষেত্রে ইন্টারনেট সংযোগের গতি এবং ব্যান্ডউইথের কথা মাথায় রাখা জরুরি। সংবাদ, খেলাধুলা বা টিভি শোর মতো অধিকাংশ ভিডিও স্ট্রিমিং সাইটে স্ট্যান্ডার্ড ডেফিনিশন (এসডি) ভিডিও দেখার জন্য নূন্যতম ৫০০ কেবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি প্রয়োজন। ভিডিওর রেজোলিউশন বাড়লে প্রয়োজনীয় গতির চাহিদাও বাড়ে। ব্যান্ডউইথও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ অনেক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডেটা ব্যবহারের নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেয়। অধিকাংশ স্মার্টফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মাসে ১জিবি বা ২জিবির সীমা নির্ধারণ করে এবং তা অতিক্রম করলে অতিরিক্ত চার্জ গ্রহণ করে। যেহেতু এক ঘণ্টার একটি এসডি টিভি শো প্রায় ২০০ মেগাবাইট ) হতে পারে, তাই ডেটা খরচের বিষয়ে সতর্ক থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।[]

ছবির মাধ্যমে নির্দেশাবলী যা টেক্সট নির্দেশিকাকে বুঝতে সাহায্য করে

ওয়েব-ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। এর অন্যতম বড় সুবিধা হলো এটি বিভিন্ন ধরনের শিখন পদ্ধতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যখন কাউকে কাগজের বিমান বানানো শেখানো হয়, তখন কেউ হয়তো লিখিত নির্দেশাবলী পছন্দ করবেন, আবার কেউ ছবির মাধ্যমে তা দেখতে চাইবেন। মাল্টিমিডিয়া ছবির পাশাপাশি ক্যাপশন ব্যবহার করে উভয় ধরনের মানুষের চাহিদা মেটাতে পারে। মাল্টিমিডিয়ার আরেকটি সুবিধা হলো এটি তথ্যকে আরও আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় করে তোলে। শুধু টেক্সট পড়া অনেক সময় একঘেয়ে হতে পারে, কিন্তু মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে ওয়েব পাতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করা সম্ভব। যেমন, মানচিত্রে কোনো দেশের অবস্থান শেখার ক্ষেত্রে সাধারণ ছবি খুব একটা আকর্ষণীয় নাও হতে পারে। কিন্তু মাল্টিমিডিয়ার সাহায্যে একটি ইন্টারেক্টিভ মানচিত্র তৈরি করা যায় যা ব্যবহারকারীর মনোযোগ আকর্ষণ করবে। ইন্টারেক্টিভ মানচিত্রের সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকায় ব্যবহারকারীর কাছে এটি শেখার একটি আনন্দদায়ক মাধ্যম হয়ে ওঠে। সুবিধার পাশাপাশি ওয়েব-ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়ার কিছু অসুবিধাও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো এটি বেশ ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হতে পারে।[] মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট তৈরি করতে সাধারণ টেক্সট-ভিত্তিক ওয়েবসাইটের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষতা ও সময়ের প্রয়োজন হয়। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সাধারণত তাদের ওয়েবসাইটে মাল্টিমিডিয়া তৈরি ও বিন্যাসের জন্য পেশাদারদের নিযুক্ত করে থাকে।[]

জাদুঘরে অগমেন্টেড রিয়েলিটি অ্যাপের ব্যবহার

অগমেন্টেড ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

অগমেন্টেড ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো সাধারণত কোনো ডিসপ্লের মাধ্যমে বাস্তব জগতের সাথে কম্পিউটারে তৈরি করা নির্দিষ্ট কিছু উপাদানের সমন্বয় বা সংযোজন। অগমেন্টেড ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ও শিল্পে প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং ই-কমার্স খাতে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। যেমন, আইকিয়া (আইকেএর) মতো কিছু কোম্পানি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে যাতে গ্রাহকরা বুঝতে পারেন তাদের বাড়িতে আসবাবপত্রগুলো দেখতে কেমন লাগবে। অটোমোবাইল শিল্পেও এর ব্যবহার রয়েছে। কিছু নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উইন্ডশিল্ডে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যা হেড-আপ-ডিসপ্লে (এইচইউডি) নামে পরিচিত। এর ফলে চালক তার গাড়ির গতি (এমপিএইচ), জ্বালানি পরিমাপক এবং অন্যান্য জরুরি তথ্য রাস্তার দিকে তাকিয়ে থেকেই দেখতে পারেন। অগমেন্টেড ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আরেকটি উদাহরণ হলো গুগল গ্লাস । এটি ব্যবহারকারীদের চোখের সামনে থাকা ডিসপ্লেতেই ফোনের সব ফিচার ব্যবহারের সুযোগ দেয় এবং ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি যুক্ত করার জন্য বিভিন্ন গবেষণা চলছে। যদিও অগমেন্টেড ভার্চুয়াল রিয়েলিটি একটি সাম্প্রতিক উদ্ভাবন, তবুও এটি বিভিন্ন ডিভাইসে ক্রমাগত জনপ্রিয় হচ্ছে এবং সম্ভবত আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটি সামাজিক জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশে পরিণত হবে।[]

মাল্টিমিডিয়া উপাদানসমূহ

[সম্পাদনা]

মাল্টিমিডিয়ার পাঁচটি উপাদান

[সম্পাদনা]
অ্যানিমেশন

লেখা , চিত্র , অডিও, ভিডিও এবং অ্যানিমেশন, এই পাঁচটি হলো মাল্টিমিডিয়ার মূল উপাদান। মাল্টিমিডিয়ার প্রথম উপাদানটি হলো টেক্সট বা লেখা। এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাল্টিমিডিয়া উপাদান। নির্মাতারা দর্শকদের কাছে যে তথ্য পৌঁছে দিতে চান, টেক্সট মূলত সেটিই প্রকাশ করে। যদিও ছবি দ্রুত দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তবুও সাথে টেক্সট রাখা একটি ভালো সিদ্ধান্ত; কারণ কোনো কারণে ছবি লোড না হলেও টেক্সটের মাধ্যমে তথ্য বোঝা সম্ভব হয়। মাল্টিমিডিয়ার দ্বিতীয় উপাদানটি হলো চিত্র বা ছবি। সাধারণ টেক্সটের তুলনায় একটি ছবি অনেক দ্রুত দর্শকের দৃষ্টি কাড়তে পারে। প্রায় সব মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ্লিকেশনেই ছবির ব্যবহার দেখা যায়। সবচেয়ে জনপ্রিয় ছবির ফরম্যাটগুলো হলো জেপিইজি এবং পিএনজি। এছাড়া, ফটোশপ এবং পেইন্ট ডট নেট এর মতো সফটওয়্যার ব্যবহার করে উন্নত মানের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট তৈরি করা হয়, যা ছবির ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত। মাল্টিমিডিয়ার তৃতীয় উপাদানটি হলো অডিও বা শব্দ। বেশিরভাগ সময় প্লাগ-ইন মিডিয়া প্লেয়ারের মাধ্যমে অডিও ফাইলগুলো চালানো হয়। কয়েকটি প্রচলিত অডিও ফরম্যাট হলো RealAudio, MIDI, Wave, WMA এবং MP3। সময় বাঁচাতে নির্মাতারা ফাইলগুলোকে কম্প্রেস (সংকোচন) করে থাকেন। ফাইলটি সম্পূর্ণ ডাউনলোড হওয়ার আগেই স্ট্রিম করে তা শোনার সুযোগ থাকে। মাল্টিমিডিয়ার চতুর্থ উপাদানটি হলো ভিডিও। মাল্টিমিডিয়া উপাদানের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটে ভিডিওর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কয়েকটি ডিজিটাল ভিডিও ফরম্যাট হলো Flash, MPEG, AVI, WMV এবং QuickTime। ডিজিটাল ভিডিও স্ট্রিমিং করলে তা দ্রুত চালানো সম্ভব হয়। দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে নির্মাতারা ভিডিও ব্যবহার করেন। মাল্টিমিডিয়ার পঞ্চম উপাদানটি হলো অ্যানিমেশন। এটি সাধারণত তরুণ প্রজন্মকে বেশি আকৃষ্ট করে। এই ধরনের অ্যানিমেশন তৈরির সবচেয়ে জনপ্রিয় টুল হলো অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ । অ্যানিমেশন হলো মাল্টিমিডিয়ার সবচেয়ে সৃজনশীল এবং আনন্দদায়ক উপাদান। []

সেরিফ বনাম সান-সেরিফ ফন্ট এবং ফন্ট নির্বাচন

[সম্পাদনা]
উপরে একটি সেরিফ ফন্ট এবং নিচে একটি সান-সেরিফ ফন্ট।

সব ধরনের ফন্ট বা টাইপফেস মূলত সেরিফ অথবা সান-সেরিফ এই দুই ভাগে বিভক্ত। ল্যাটিন শব্দ 'সেরিফ' অর্থ হলো 'পাদদেশযুক্ত' , আর 'সান-সেরিফ' অর্থ হলো 'পাদদেশহীন'। এদের মূল পার্থক্যও এখানেই: সেরিফ ফন্টের অক্ষরের নিচে ছোট রেখা বা পাদদেশ থাকে, যা অনেকটা মানুষের পায়ের মতো দেখায়। অন্যদিকে সান-সেরিফ ফন্টে এ ধরনের কোনো বাড়তি অংশ থাকে না।[] টাইমস নিউ রোমান সবচেয়ে জনপ্রিয় সেরিফ ফন্ট, আর আরিয়াল , হেলভেটিকা এবং কমিক সানস এমএস হলো বহুল পরিচিত সান-সেরিফ ফন্ট। সেরিফ নাকি সান-সেরিফ, কোনটি পড়তে বেশি সহজ, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সাধারণত দীর্ঘ লেখার ক্ষেত্রে সেরিফ ফন্ট বেশি ব্যবহৃত হয় (বিশেষ করে মুদ্রিত কাগজে)। অন্যদিকে শিরোনাম এবং ইলেকট্রনিক বার্তার মতো ছোট লেখার ক্ষেত্রে সান-সেরিফ ফন্টকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।[১০] তবে সেরিফ বা সান-সেরিফ নির্বাচনের বাইরেও 'নির্দিষ্ট' ফন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ ভিন্ন ভিন্ন টাইপফেস ভিন্ন ভিন্ন ভাব প্রকাশ করে। যেমন টাইমস নিউ রোমানের মতো একটি আনুষ্ঠানিক ফন্ট শিশুর জন্মদিনের দাওয়াতপত্রের মতো অনানুষ্ঠানিক কাজে মানায় না; তেমনি কমিক সানসের মতো অনানুষ্ঠানিক ফন্ট কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। তাই ফন্ট নির্বাচনের সময় বার্তার উদ্দেশ্য এবং পাঠকদের কথা মাথায় রাখা উচিত।

ভিডিও

[সম্পাদনা]
ভিডিও ক্যামেরা

মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামে ভিডিও অত্যন্ত শক্তিশালী প্রভাব তৈরি করে। এটি একটি ধারাবাহিক ঘটনা থেকে শুরু হয় এবং সেটিকে ছোট ছোট ফ্রেমে বিভক্ত করে, যেখানে অ্যানিমেশন শুরুই হয় ফ্রেম দিয়ে। ভিডিও ফরম্যাটগুলো মূলত 'কন্টেইনার' এবং 'কোডেকের' সমন্বয়ে গঠিত। কন্টেইনার ফাইলের কাঠামো বর্ণনা করে, যেমন ফাইলের বিভিন্ন অংশ কোথায় জমা আছে, কীভাবে সেগুলো সাজানো এবং কোন অংশে কোন কোডেক ব্যবহার করা হয়েছে। কোডেক হলো গুণমান বজায় রেখে ফাইলের আকার কমানোর জন্য তথ্য সংকোচনের একটি পদ্ধতি।[১১] বহুল ব্যবহৃত কিছু ভিডিও ফরম্যাট হলো অডিও-ভিডিও ইন্টারলিভ (.avi), ফ্ল্যাশ ভিডিও ফরম্যাট (.flv), মুভিং পিকচার এক্সপার্টস গ্রুপ ২ (.mp2), মুভিং পিকচার এক্সপার্টস গ্রুপ ৪ (.mp4), কুইক টাইম (.mov) এবং উইন্ডোজ মিডিয়া ভিডিও (.wmv)।[১২] মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ্লিকেশনে ডিজিটাল ভিডিওর জনপ্রিয়তা বাড়ছে কারণ ভিডিও ক্লিপগুলো সহজেই সম্পাদনা করা যায়, কম্পিউটারে অন্য ফাইলের মতো সংরক্ষণ করা যায় এবং গুণমান ঠিক রেখেই কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা যায়, যা ভিডিওর যেকোনো অংশে নন-লিনিয়ার সম্পাদনার সুযোগ দেয়।[১৩] অডিওর মতোই ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে সার্ভার থেকে তথ্যের একটি প্রবাহ বা স্ট্রিম প্রবাহিত হয়। ২০০৬ সালে মানুষ ইউটিউবে প্রতিদিন দশ লাখেরও বেশি স্ট্রিম করা ভিডিও দেখেছিল।[১৪]

জেপিইজি, জিআইএফ এবং পিএনজি ফরম্যাট

[সম্পাদনা]
ক্যামেলিয়ন জিআইএফ

ছবির ক্ষেত্রে জিআইএফ এবং পিএনজি এই দুটি ভিন্ন ফরম্যাট ব্যবহার করা হয়। জিআইএফ এর পূর্ণরূপ হলো 'গ্রাফিক্স ইন্টারচেঞ্জ ফরম্যাট' এবং এটি সাধারণত অ্যানিমেশনের জন্য ব্যবহৃত হলেও কখনো কখনো স্থির ছবির জন্যও ব্যবহৃত হয়। এই ছবিগুলো কম্প্রেস বা সংকুচিত করা থাকে, যা 'লস-লেস ডেটা কম্প্রেশন' পদ্ধতি নামে পরিচিত। এই সংকোচনের ফলে ছবির প্রান্তগুলো সুনির্দিষ্ট থাকে এবং রঙের গুণমান নষ্ট হয় না। তবে রঙের সীমাবদ্ধতার কারণে জিআইএফ ছবির গুণমান সব সময় সেরা হয় না, আর এই অভাব পূরণ করতেই পিএনজি তৈরি করা হয়েছিল। পিএনজি হলো 'পোর্টেবল নেটওয়ার্ক গ্রাফিক্স'। এর সংকোচনের ক্ষমতা অনেক উন্নত এবং এটি 'আলফা ট্রান্সপারেন্সি' সমর্থন করে, যার ফলে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডকে আংশিক বা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ দেখানো সম্ভব হয়।[১৫] এগুলো জিআইএফ এর চেয়ে বেশি কালার ডেপথ সংরক্ষণ করতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে জায়গা বেশি নেয়। অবশ্য ৮-বিট ডেটার ক্ষেত্রে উন্নত কম্প্রেশনের কারণে এগুলো অনেক সময় জিআইএফ এর চেয়েও ছোট হয়।[১৬] পিএনজি এবং জিআইএফ এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো পিএনজি অ্যানিমেশন সমর্থন করে না, এটি শুধুমাত্র স্থির চিত্রের ফরম্যাট।[১৭] বর্তমানে ওয়েব পেজগুলোতে এই উভয় ফরম্যাটই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি .jpg চিত্রের উদাহরণ

'জয়েন্ট ফটোগ্রাফিক এক্সপার্টস গ্রুপ' কমিটি যে ফাইল ফরম্যাটটি তৈরি করেছে তা জেপিইজি নামে পরিচিত। রঙিন ছবি, ডিজিটাল ফটো এবং অন্যান্য ডিজিটাল গ্রাফিক্স কম্প্রেস করার জন্য জেপিইজি একটি কৌশল ও ফরম্যাট। কম্পিউটারে ছবি সংরক্ষণ করেন এমন অনেকেই জেপেগের এক্সটেনশন হিসেবে ".jpeg" বা ".jpg" চিনে থাকবেন। কোনো নির্দিষ্ট ছবির আকার ব্যবহারের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন বা অপ্টিমাইজ করা যায়। এই ফরম্যাটটি 'লসি কম্প্রেশন' নামক পদ্ধতি ব্যবহার করে। লসি কম্প্রেশন বলতে এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায় যেখানে ছবির আকার কমানোর সাথে সাথে এর গুণমানও কিছুটা কমে যায়। ব্যক্তিগতভাবে কম্পিউটারে ছবি সংরক্ষণের জন্য জেপিইজি বহুল ব্যবহৃত। তবে ইমেইল বা ওয়েবসাইটে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে ছবির আকার এবং গুণমানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, ওয়েবসাইটে কোনো ছবি পোস্ট করার সময় ফাইলের আকার এবং ফরম্যাটের কথা মাথায় রাখতে হয়। তেমনি ইমেইলে ছবি পাঠানোর সময় খেয়াল রাখতে হয় যেন গুণমান ঠিক থাকে। ছবির গুণমান যত উন্নত হবে, ফাইলের আকার তত বড় হবে। কেউ যদি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বড় ফাইল পাঠায়, তবে তার জন্য অতিরিক্ত ডেটার প্রয়োজন হতে পারে।[১৮]

Mp3 format logo.svg
এমপি৩

বিভিন্ন ধরণের অডিও ফাইল রয়েছে এবং প্রতিটিরই আলাদা আলাদা বিশেষ সুবিধা রয়েছে। সবচেয়ে পরিচিত বা প্রচলিত অডিও ফাইল হলো এমপি৩ । অধিকাংশ ডিভাইস এবং ওয়েবসাইটে এমপি৩ এখন একটি মানদণ্ড হিসেবে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য ফরম্যাটের তুলনায় এমপি৩ ফাইলের প্রধান সুবিধা হলো এর ছোট আকার। অডিও ট্র্যাকের অশ্রাব্য অংশগুলো বাদ দেওয়া যায় বলে এমপি৩ ফাইলগুলো সংকুচিত বা কম্প্রেস করা সম্ভব। এতে ফাইলের আকার ছোট হলেও অডিওর গুণমান যথেষ্ট ভালো থাকে; তবে কিছু ক্ষেত্রে শব্দের মান কিছুটা খারাপ হতে পারে। এমপি৩ ফাইলের অতিরিক্ত কমপ্রেশনের কারণে কণ্ঠস্বর বিকৃত হতে পারে এবং শব্দ অনেকটা 'ঝনঝনে' শোনাতে পারে। উইন্ডোজ-ভিত্তিক পিসিগুলোতে অডিও সংরক্ষণের জন্য সাধারণত ডব্লিউএভি ফাইল ব্যবহার করা হয়। এই ফাইলগুলো সংকুচিত নয়, তাই এগুলো অনেক বেশি জায়গা দখল করে। তবে অধিকাংশ এমপি৩ ফাইলের তুলনায় এগুলোর গুণমান অনেক উন্নত। বেশিরভাগ ডেস্কটপ পিসিতে যথেষ্ট জায়গা থাকায় উন্নত মানের শব্দের জন্য বাড়তি মেমরি খরচ করাকে ভালো বিকল্প হিসেবে দেখা হয়। উইন্ডোজ কম্পিউটারে প্রচলিত আরেকটি ফাইল টাইপ হলো ডব্লিউএমএ। এই ফরম্যাটটি মূলত উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ারে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এর প্রধান সুবিধা হলো এটি কপিরাইট সংরক্ষিত, তবে এটি শুধুমাত্র উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ারেই চালানো যায়। আরেকটি সাধারণ অডিও ফাইল হলো ডিসিটি । এই ধরণের ফাইল এনক্রিপ্ট করা থাকে এবং মূলত চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগীর গোপনীয়তা বজায় রাখার প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।[১৯]

মাল্টিমিডিয়া ওয়েব ডিজাইন

[সম্পাদনা]

নকশা বা ডিজাইনের প্রাথমিক নীতিমালা

[সম্পাদনা]

একটি ওয়েবসাইট ডিজাইনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো এমন কিছু তৈরি করা যা মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হবে এবং দর্শকদের ওয়েবসাইটে টেনে আনবে। শুধু তাই নয়, সাইটটিকে সবসময় আকর্ষণীয় রাখতে হবে; কারণ মানুষ সারাক্ষণ একই জিনিস দেখতে পছন্দ করে না। সময়ের সাথে সাথে এটি আপডেট এবং পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সবাই প্রযুক্তিগতভাবে খুব বেশি দক্ষ নাও হতে পারেন। তাই ওয়েবসাইটটি কিছুটা সহজবোধ্য রাখা জরুরি। জটিল ওয়েবসাইট মানুষকে বিমুখ করে। আপনার ওয়েবপেজগুলো যেন দ্রুত লোড হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। এজন্য মাল্টিমিডিয়া উপাদানগুলো সতর্কতার সাথে নির্বাচন করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোকে পরিমার্জন করতে হবে, যেমন ছবিগুলোকে অপ্টিমাইজ করা যাতে সেগুলো সবচেয়ে কার্যকরভাবে লোড হয়। বর্তমান সময়ে ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে আরেকটি জরুরি বিষয় হলো এটি মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা অন্যান্য ডিভাইসে ঠিকমতো দেখা যাবে কি না। সাইটটির একটি মোবাইল সংস্করণ তৈরি করা বেশ ফলপ্রসূ হতে পারে। মানুষ কোন ব্রাউজারের মাধ্যমে আপনার সাইটে প্রবেশ করবে সেটিও মাথায় রাখা দরকার। কিছু সাইটে এমন কিছু ফিচার থাকে যা নির্দিষ্ট ব্রাউজার ছাড়া ব্যবহার করা যায় না; তাই সব সাধারণ ব্রাউজারে কাজ করে এমন ফিচার ব্যবহার করা উচিত। প্লাগ-ইন প্রয়োজন হয় না এমন ফিচার ব্যবহার করাও সুবিধাজনক। কারণ দর্শকরা সাধারণত সাইটে ঢোকার জন্য বা কোনো কিছু দেখার জন্য নতুন কিছু ইনস্টল করতে পছন্দ করেন না। এছাড়া পেজ কন্টেন্টের আকারের দিকেও খেয়াল রাখা উচিত।[২০] আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আপনার তথ্য সব ধরণের কম্পিউটার স্ক্রিনে দেখা যায়।

ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট

ওয়েবসাইট ডিজাইন করা বেশ সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল হতে পারে। সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাগুলোর সাধারণত উন্নত মানের ওয়েবসাইট তৈরির জন্য পর্যাপ্ত সময় ও অর্থ থাকে। তবে নতুন শুরু করা কোনো কোম্পানির কাছে এই সম্পদগুলো পর্যাপ্ত না-ও থাকতে পারে। সুখবর হলো, বর্তমানে অনেক সাইট ফ্রিতে ওয়েবসাইট ডিজাইনের সুযোগ দেয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Wix.com, Weebly.com, Yola.com এবং Moonfruit.com। নতুন কোনো কোম্পানি বা সংগঠনের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য এটি একটি চমৎকার উপায় হতে পারে। এই ফ্রি সাইটগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে ধারণা নেই এমন কেউও সহজে ব্যবহারযোগ্য টেমপ্লেট এবং ধাপে ধাপে নির্দেশনার মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। যদিও ডিজাইনের সাইটগুলো ফ্রি, তবে ব্যবহারকারীকে প্রথমে একটি ডোমেইন নামকিনতে হবে। GoDaddy, Register.com, Domaine.com এবং Dyn.com এর মতো কোম্পানি থেকে এগুলো কেনা যায়। ডোমেইন কেনার পর ব্যবহারকারী তার সাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য বা কন্টেন্ট যোগ করতে পারেন। নিজের পছন্দমতো সাইট সাজানোর ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী এখানে পূর্ণ স্বাধীনতা পান। উপরে উল্লিখিত অনেক সাইটেই টিউটোরিয়াল দেওয়া থাকে যা ওয়েবসাইট চালু করতে সাহায্য করে। ডিজাইন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্মাতা সেটি পাবলিশ বা প্রকাশ করতে পারেন। ওয়েবসাইটটি নিয়মিত আপডেট করা এবং এর প্রচার চালানো অত্যন্ত জরুরি। নতুন কোনো সংগঠনের জন্য ফ্রি সাইট ব্যবহার করে ওয়েব ডিজাইন করা একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। বর্তমানে অনেক সাইট এই সেবা দিচ্ছে, তাই এটি ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।[২১]

ফ্লো চার্ট, পেজ লেআউট এবং স্টোরিবোর্ডের ব্যবহার

[সম্পাদনা]

ওয়েবসাইট ডিজাইনের ক্ষেত্রে ফ্লো চার্ট ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ওয়েবপেজের মধ্যকার সম্পর্ক বোঝাতে। সহজ কথায়, ফ্লো চার্ট হলো একটি ওয়েবসাইটের মানচিত্র। ফ্লো চার্টের রেখাগুলোর মধ্যে লিংক থাকতে পারে যা আপনাকে কাঙ্ক্ষিত পেজে নিয়ে যাবে। ওয়েবসাইট ডিজাইনের সময় আপনি এটিকে আপনার পছন্দমতো সহজ বা জটিল করতে পারেন। প্রায়শই ওয়েবসাইটের শুরুর দিকেই ফ্লো চার্ট তৈরি করা হয়, কারণ এটি ওয়েবসাইট তৈরির একটি মজবুত ভিত্তি প্রদান করে।[২২] পেজ লেআউটও ওয়েবসাইট ডিজাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণত মানুষ দুটি লেআউট তৈরি করে; একটি হোম পেজের জন্য এবং অন্যটি বাকি পেজগুলোর জন্য। হোম পেজ বাটনের মতো বিভিন্ন লোগো কোথায় থাকবে এবং ওয়েবসাইটটি দেখতে কতটা আকর্ষণীয় হবে, তা এই পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়। ওয়েবসাইটটি দৃশ্যত আকর্ষণীয় করা জরুরি হলেও এটি সহজ রাখা প্রয়োজন যেন দর্শকরা বিভ্রান্ত না হন।[২৩] স্টোরিবোর্ড ওয়েবসাইট ডিজাইনের আরেকটি বহুল ব্যবহৃত বিষয়। স্টোরিবোর্ড হলো কতগুলো ছবির ধারাবাহিকতা যা প্রতিটি স্ক্রিনে কী ঘটতে যাচ্ছে তা ফুটিয়ে তোলে। সাধারণত অ্যানিমেশন তৈরির ক্ষেত্রে এগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়।[২৪]

স্টোরিবোর্ড যেভাবে শুরু করবেন

[সম্পাদনা]

একটি ওয়েবসাইটের নকশার জন্য চমৎকার স্টোরিবোর্ড তৈরির কয়েকটি ধাপ রয়েছে। আপনার মাথায় আসা চিন্তাগুলো, সেগুলো খুব একটা ভালো না হলেও, তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর সেগুলো কাগজে এঁকে ফেলুন; কাগজে কাজ করা দ্রুততর এবং নকশাটি পছন্দমতো না হলে সহজেই তা ফেলে দেওয়া যায়। এছাড়া কাগজে নকশা করা সুবিধাজনক, কারণ এতে যে কেউ নতুন কিছু যুক্ত করতে পারে এবং এর জন্য ওয়েবসাইট তৈরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। সবটুকু আঁকা হয়ে গেলে ওয়েবসাইটের প্রতিটি অংশ যেন সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিন। এরপর কোনো কিছু বাদ পড়েছে কি না তা যাচাই করতে নোট নিন। সব কাজ শেষ হলে আঁকা ছবিগুলোকে একটি 'মাইন্ড ম্যাপে' সাজান যাতে ওয়েবসাইটের রূপটি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এরপর স্টোরিবোর্ডটি যাচাই করুন এবং নকশায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনুন। অন্যদের দিয়ে এটি যাচাই করিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ, যাতে স্টোরিবোর্ড সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের মতামত পাওয়া যায়।[২৫] স্টোরিবোর্ড পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে নেভিগেশন, সাইট কাঠামো এবং বিষয়বস্তুগুলো ঠিকঠাক আছে কি না তা নিশ্চিত করুন। নেভিগেশনের ক্ষেত্রে সবকিছুর অবস্থান সর্বোচ্চ ৩টি ক্লিকের মধ্যে থাকা উচিত। সাইট কাঠামো যেন খুব বেশি জটিল না হয় এবং এতে ভিজ্যুয়াল, শব্দকোষ, সূচিপত্র বা ইনডেক্স থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু সহজবোধ্য, সৃজনশীল এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। Google.com[২৬]

নেভিগেশন ডিজাইনের বিবেচ্য বিষয়সমূহ

[সম্পাদনা]
ব্রেইল ডিসপ্লে

একটি ওয়েবসাইট তৈরির সময় ছোটখাটো খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। সহজ নেভিগেশনের জন্য সাইটের কাঠামোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিরোনাম এবং প্রধান মেনুগুলো এমনভাবে সাজানো প্রয়োজন যেন ব্যবহারকারীরা সহজেই তা বুঝতে পারেন। অনেক বিশেষজ্ঞ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মনে করেন যে, মূল পাতায় ফিরতে বা সহজে কোনো কিছু অনুসন্ধান করতে সর্বোচ্চ তিনটি মাউস ক্লিক প্রয়োজন হওয়া উচিত। ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের নেভিগেশনের মধ্যে রয়েছে সার্চ বক্স, ড্রপ-ডাউন মেনু, সাইট ম্যাপ, টেক্সট-ভিত্তিক হাইপারলিংক, নেভিগেশন বার এবং মেনু ট্যাব। ছবিকেও হাইপারলিংক হিসেবে ব্যবহার করে অন্য পাতায় যাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। ওয়েবসাইটের প্রতিটি পাতায় একই লিংকের অবস্থান একই জায়গায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ব্যবহারকারী যদি প্রতিবার নতুন পাতায় যাওয়ার পর নেভিগেশন বাটনগুলো খুঁজতে থাকেন, তবে তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। বড় ওয়েব পেজগুলোকে ছোট ও সুনির্দিষ্ট পাতায় ভাগ করা উচিত যাতে লোডিং সময় বাঁচে এবং স্ক্রল করার ঝামেলা কমে। বর্তমানে অনেক ওয়েবসাইটে বিশেষ করে বড় পাতায় ওপরের দিকে ফেরার জন্য "Back to Top" (উপরে ফিরে যান) অপশন দেখা যায়। সবচেয়ে বড় কথা, ওয়েবসাইটের প্রতিটি পাতায় 'হোম পেজ' বা মূল পাতার লিংক থাকা উচিত।[২৭]

প্রবেশযোগ্যতার বিবেচ্য বিষয়সমূহ

[সম্পাদনা]

মাল্টিমিডিয়া ওয়েবসাইট তৈরির সময় ডিভাইসের সামঞ্জস্যতা এবং সহায়ক প্রযুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত। বর্তমানে ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার জন্য কম্পিউটারের পাশাপাশি স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, আইপ্যাড ইত্যাদির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্মাতাদের এই পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় এই ছোট ডিভাইসগুলোতে ওয়েবসাইটের লেআউট বা বিন্যাস ভিন্ন হতে পারে। বর্তমানে যেকোনো প্রযুক্তিতে ব্যবহারযোগ্য ওয়েবসাইট তৈরির বিভিন্ন পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংক্রান্ত কঠোর আইন প্রণীত হওয়ায় ইন্টারনেটে শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের তথ্য প্রদানের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্রেইল ডিসপ্লে [২৮] এবং স্ক্রিন রিডার [২৯] হলো এমন কিছু উন্নত প্রযুক্তি যা বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। 'অল্টারনেটিভ টেক্সট' বা বিকল্প লেখা [৩০] ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ওয়েবসাইটের ছবির একটি লিখিত বর্ণনা প্রদান করে। এই বর্ণনাগুলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের জন্য খুবই সহায়ক।

রিফ্রেশেবল ব্রেইল ডিসপ্লে

রিফ্রেশেবল ব্রেইল ডিসপ্লে হলো একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা সিরিয়াল বা ইউএসবি ক্যাবলের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে। এটি ছোট ধাতব বা প্লাস্টিকের পিন ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটারের পর্দার লেখাকে ব্রেইল অক্ষরে রূপান্তর করে, যাতে একজন দৃষ্টিহীন ব্যক্তি তা পড়তে পারেন।[৩১] এর "রিফ্রেশেবল" বা পরিবর্তনযোগ্য বৈশিষ্ট্যের অর্থ হলো, ব্যবহারকারী যখন মাউস দিয়ে স্ক্রল করেন বা কার্সার সরান, তখন ডিসপ্লের ব্রেইল অক্ষরগুলোও পরিবর্তিত হতে থাকে। ব্যবহারকারী ডিভাইসের কমান্ড কি, কার্সার রাউটিং কি অথবা উইন্ডোজ ও স্ক্রিন রিডার কমান্ডের মাধ্যমে মাউস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।[৩২] সাধারণত দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের সেরা অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য ডিজিটাল ব্রেইল ডিসপ্লের সাথে স্ক্রিন রিডিং সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। স্ক্রিন রিডার ওয়েবসাইটের তথ্যকে ইলেকট্রনিক টেক্সটে রূপান্তর করে স্পিচ সিন্থেসাইজারে (যা শব্দ উৎপন্ন করে) অথবা রিফ্রেশেবল ব্রেইল ডিসপ্লেতে পাঠায়। স্ক্রিন রিডার শুধুমাত্র গ্রাফিক্স বা ছবি পড়তে পারে না; তাই ওয়েব পেজ তৈরির সময় ছবির বর্ণনা এবং "হোভার-ওভার" ক্যাপশন যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি যাতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সহজে বুঝতে পারেন।[৩৩] অনেকের জন্য স্পিচ সিন্থেসাইজার যথেষ্ট হলেও, অনেকে রিফ্রেশেবল ব্রেইল ডিসপ্লে পছন্দ করেন কারণ এটি তথ্যে সরাসরি প্রবেশাধিকার দেয় এবং কাজের দক্ষতা বাড়ায়। এটি ব্যবহারকারীকে বানান, ব্যাকরণ ও ফরম্যাটিং যাচাই করতে সাহায্য করে এবং এটি নিঃশব্দে কাজ করে বলে অন্যের বিরক্তির কারণ হয় না। রিফ্রেশেবল ব্রেইল ডিসপ্লে সাধারণত ৪০, ৭০ এবং ৮০ ক্যারেক্টারের হয়ে থাকে এবং এর দাম ক্যারেক্টারের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ৩,৫০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।[৩৪]

এইচটিএমএল, এক্সএমএল, এক্সএইচটিএমএল ও সিএসএস ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি

[সম্পাদনা]

এইচটিএমএল

এইচটিএমএল ট্যাগ [৩৫]

এইচটিএমএল বা হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ মূলত ওয়েব পেজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এটি 'ট্যাগ' নামক ছোট ছোট কোডের সমন্বয়ে গঠিত। ট্যাগগুলো কম্পিউটারকে নির্দেশ দেয় যে এর সাথে যুক্ত তথ্যগুলো কীভাবে বিন্যস্ত বা ফরম্যাট করতে হবে। ট্যাগ শুরু হয় একটি 'লেস-দ্যান' (<) চিহ্ন দিয়ে, এরপর কমান্ড লিখে একটি 'গ্রেটার-দ্যান' (>) চিহ্ন দিয়ে বন্ধ করা হয়। এটি হলো প্রারম্ভিক ট্যাগ। এরপর সংশ্লিষ্ট টেক্সট বসানো হয়। সবশেষে ট্যাগটি বন্ধ করার জন্য একটি 'লেস-দ্যান' (<) চিহ্নের পর একটি স্ল্যাশ (/), প্রারম্ভিক কমান্ড এবং একটি 'গ্রেটার-দ্যান' (>) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। সাধারণত বেসিক কোডটি দেখতে এমন হয়: </(কোড)> এখানে টেক্সট </(কোড)>

এইচটিএমএল দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। আপনি টেক্সট হাইলাইট করতে পারেন (এমনকি ভিন্ন রঙেও), টেক্সটের রঙ পরিবর্তন করতে পারেন, (এখানে মাউস রাখুন) অপশন যোগ করতে পারেন এবং টেক্সটকে বোল্ড বা ইটালিক করতে পারেন। এইচটিএমএল ফরম্যাটিং ব্যবহার করে এগুলো প্রাথমিক কিছু পরিবর্তন মাত্র। এমনকি ছবি এবং হাইপারলিংক যুক্ত করার পদ্ধতিও রয়েছে। এখানে আমি আমাদের উইকিবইয়ের মূলপাতার একটি লিংক এবং ডানে কিছু ছবি যুক্ত করেছি। এইচটিএমএল ব্যবহারের সম্ভাবনা প্রায় অসীম।

এইচটিএমএল এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনেকে কোড এবং এর খুঁটিনাটি শেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে চান না। তবে একবার আয়ত্ত করতে পারলে এটি ওয়েব পেজ গুছিয়ে সাজাতে অত্যন্ত কার্যকর। এইচটিএমএল ব্যবহারকারীকে ছবি, ভিডিও, অ্যানিমেশন এবং টেক্সট ফরম্যাটিংয়ের অবস্থান নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়। এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দরকারী ডিজাইনিং টুল, যা অনেক সময়ই যথাযথ গুরুত্ব পায় না।

এইচটিএমএল৫ সোর্স কোড

এইচটিএমএল এর সর্বশেষ সংস্করণ হলো এইচটিএমএল৫ , যা এইচটিএমএল এবং এক্সএইচটিএমএল এর বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এটি আরও সহজবোধ্য করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং এতে অনেক পরিবর্তন ও নতুন কোড যুক্ত হয়েছে। এর ডকটাইপ এবং ক্যারেক্টার এনকোডিং ডিক্লারেশনগুলো কোডিং সহজ করার জন্য পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ডিক্লারেশনের পাশাপাশি সিম্যান্টিকস, কন্ট্রোল, গ্রাফিক্স এবং মাল্টিমিডিয়ার জন্য নতুন উপাদান যুক্ত হয়েছে কারণ ওয়েবসাইটগুলো দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে এবং এতে তথ্যের পরিমাণ বাড়ছে। নতুন কিছু সিম্যান্টিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে <header> এবং <footer>, যা একজন ওয়েব ডিজাইনারের জন্য নতুন পেজের শুরু ও শেষ চিহ্নিত করা সহজ করে দেয়। এইচটিএমএল৫ এ তারিখ, সময় এবং ক্যালেন্ডারের মতো নতুন কন্ট্রোল যুক্ত করা হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় সংযোজন হলো <audio> এবং <video> মাল্টিমিডিয়া এলিমেন্ট, কারণ ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় অডিও বা ভিডিও দেখতে পছন্দ করেন। এটি বিশেষ করে ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য কার্যকর, কারণ ক্রেতারা ভিডিওর মাধ্যমে পণ্যের ব্যবহার দেখতে পারেন। মোটের ওপর, এইচটিএমএল৫ একটি আধুনিক মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ যা ওয়েব ডিজাইনারদের জন্য কোডিং সহজ করে এবং ওয়েবসাইটগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।[৩৬]

সিএসএস এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

[সম্পাদনা]

আপনার ওয়েবসাইটকে সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলতে এইচটিএমএল ও এর সমগোত্রীয় ভাষাগুলো যা করতে পারে, তার চেয়েও উন্নত শৈলীর প্রয়োজন হয়। এখানেই সিএসএস এর ভূমিকা শুরু হয়। সিএসএস এর পূর্ণরূপ হলো ক্যাসকেডিং স্টাইল শিট । এটি কেবল নির্দিষ্ট কোনো ওয়েব পৃষ্ঠার শৈলী নির্ধারণেই নয়, বরং সেই পৃষ্ঠার অন্তর্ভুক্ত সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটের সাজসজ্জার কাজে ব্যবহৃত হয়। সিএসএস চালুর আগে অনেকেই নিজ প্রয়োজনে স্টাইল শিট তৈরি করতেন, কিন্তু তারা তাদের তৈরি কোড বা সিনট্যাক্স প্রকাশ করা অপ্রয়োজনীয় মনে করতেন। তাদের ধারণা ছিল যে, প্রতিটি ব্রাউজারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে তারা ব্যবহারকারীর কাছে পৃষ্ঠাটি কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রদর্শন করবে। ওয়েব পেজ লেখকরা যখন আরও বিস্তারিত কাস্টমাইজেশন বা সাজসজ্জার সুযোগ না পেয়ে অভিযোগ করতেন, তখন ব্রাউজার নির্মাতারা সাধারণত তা উপেক্ষা করতেন। ব্রাউজারগুলো তাদের কাজ সহজ ও দ্রুত করার জন্য খুব সীমিত সুবিধা প্রদান করত। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৯৪ সালে হাকন ভিউম লি নামক একজন নরওয়েজীয় নাগরিক 'ক্যাসকেডিং এইচটিএমএল স্টাইল শিটের' প্রথম খসড়া প্রস্তাব করেন। তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে তার এই উদ্ভাবন কতটা জনপ্রিয় হবে।[৩৭] সিএসএস ডিএসএসএসএল এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী সেটআপগুলোর মতো অকারণে জটিল না হয়েও সাজসজ্জার ব্যাপক সুযোগ প্রদান করে। সিএসএস-কে একটি ভাষা হিসেবে আলাদা করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এটি কোনো পৃষ্ঠার বিষয়বস্তুকে তার প্রদর্শন বা উপস্থাপনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলে।[৩৮] বর্তমানে সিএসএস৩ সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণ হলেও সিএসএস৪ এর পরিচিতিও বাড়ছে।

এক্সএমএল এবং এক্সএইচটিএমএল

[সম্পাদনা]
এক্সএইচটিএমএল এ লেখা একটি ওয়েব পৃষ্ঠার অংশ।

এইচটিএমএল এর সাথে সাদৃশ্য থাকলেও বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য সম্পন্ন অন্য এক ধরনের মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ হলো এক্সটেনসিবল মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ বা এক্সএমএল। এটি ওয়েবে তথ্য ও নথিপত্র সুসংগঠিত রাখার একটি সর্বজনীন ফরম্যাট। এই দুই মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো, এইচটিএমএল বর্ণনা করে 'উপস্থাপনা' , আর এক্সএমএল বর্ণনা করে 'বিষয়বস্তু' । সহজভাবে বলতে গেলে, এইচটিএমএল টেক্সট বা গ্রাফিক ইমেজ কীভাবে প্রদর্শিত হবে বা সেগুলোর সাথে ব্যবহারকারী কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করবেন তা বর্ণনা করে। অন্যদিকে, এক্সএমএল মূলত তথ্যটি 'কী' ধরনের তা বর্ণনা করে। এটি করার জন্য এক্সএমএল ট্যাগগুলো বিভিন্ন তথ্যের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়। একবার তথ্যগুলো ট্যাগ করা হলে তা যেকোনো এক্সএমএল নথিতে ব্যবহার করা যায়। এক্সএমএল-কে "এক্সটেনসিবল" বলা হয় কারণ এতে থাকা তথ্যগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বের করে এনে ব্যবহার করা সম্ভব। [৩৯]

এক্সএমএল এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি এইচটিএমএল এর আরেকটি সংস্করণ হলো এক্সটেনসিবল হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ বা এক্সএইচটিএমএল । এটি এইচটিএমএল এর নমনীয়তা এবং এক্সএমএল এর প্রসারণযোগ্যতাকে একত্রিত করেছে। এইচটিএমএল এর বিপরীতে এই ভাষাটি ওয়েব পেজ তৈরির পাশাপাশি এক্সএমএল সমর্থন করে। এভাবে এক্সএমএল প্রদর্শিত মূল বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করে, আর এক্সএইচটিএমএল ওয়েব পৃষ্ঠার চেহারা ও ফরম্যাট নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এইচটিএমএল ও এক্সএইচটিএমএল ট্যাগের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য হলো, এক্সএইচটিএমএল এ ট্যাগ লেখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, এইচটিএমএল এর মতো নয় বরং এক্সএইচটিএমএল এ সব ট্যাগ ছোট হাতের অক্ষরে লিখতে হয়, প্রতিটি ট্যাগের একটি সমাপ্তি ট্যাগ থাকতে হয় এবং ভ্যালু বা মানের জন্য উদ্ধৃতি চিহ্ন (") ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। [৪০]

এজ্যাক্স

[সম্পাদনা]
এজ্যাক্স এর কার্যপ্রণালীর তুলনা

অনেক আধুনিক ওয়েবসাইট দর্শকদের সাথে দ্রুত এবং কার্যকর যোগাযোগের জন্য এজ্যাক্স নামক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। নেপথ্যে সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং ডায়নামিক পৃষ্ঠা আপডেটের জন্য এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। এজ্যাক্স এর পূর্ণরূপ হলো "Asynchronous JavaScript And XML"। একদম শুরু থেকে এজ্যাক্স বাস্তবায়নের জন্য জাভাস্ক্রিপ্ট কোড তৈরি করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং বিরক্তিকর কাজ। তবে জেকুয়েরি সহ অনেক জাভাস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরিতে চমৎকার কিছু হাই-লেভেল এজ্যাক্স মেথড এবং ফাংশন রয়েছে, যা ওয়েবসাইট তৈরির কাজকে অনেক সহজ ও দ্রুত করে তোলে। এজ্যাক্স হলো ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের এমন একটি উন্নয়ন কৌশল যেখানে ব্রাউজারে থাকা জাভাস্ক্রিপ্ট কোড ওয়েব সার্ভারের সাথে 'অ্যাসিঙ্ক্রোনাস' বা নেপথ্যে যোগাযোগ করে। সাধারণ ওয়েব পৃষ্ঠায় যখন আপনি কোনো লিঙ্ক বা ফর্মে ক্লিক করেন, তখন সার্ভারে একটি নতুন ইউআরএল এর অনুরোধ পাঠানো হয়। সার্ভার তখন সম্পূর্ণ নতুন একটি এইচটিএমএল পৃষ্ঠা পাঠায় যা ব্রাউজার প্রদর্শন করে এবং আগের পৃষ্ঠাটি মুছে যায়। কিন্তু এজ্যাক্স প্রযুক্তি ব্যবহারে জাভাস্ক্রিপ্ট কোড সার্ভারের ইউআরএল এ একটি অনুরোধ পাঠায় এবং প্রয়োজনে তথ্যও পাঠাতে পারে। এরপর জাভাস্ক্রিপ্ট কোড সার্ভারের সেই উত্তর প্রক্রিয়া করে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো হিসাব করা হতে পারে অথবা পৃষ্ঠার কোনো উইজেট বা তথ্য আপডেট করা হতে পারে। যেহেতু এজ্যাক্স অনুরোধ নেপথ্যে চলে, তাই জাভাস্ক্রিপ্ট কোড (এবং দর্শক) সেই সময় পৃষ্ঠায় কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দর্শকের চোখের আড়ালে ঘটে এবং তাদের বর্তমান পৃষ্ঠাটি ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে হয় না। ফলে এজ্যাক্স সমৃদ্ধ পৃষ্ঠা ব্যবহার করা বেশ আরামদায়ক। [৪১]

মাল্টিমিডিয়া ওয়েব ডেভেলপমেন্ট (স্ক্রিপ্টিং, ডেভেলপমেন্ট টুলস এবং টেস্টিং)

[সম্পাদনা]

মাল্টিমিডিয়া উপাদান তৈরি

[সম্পাদনা]
মিডিয়া

মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনায় দর্শকদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য গ্রাফিক্স, সাউন্ড ক্লিপ, ভিডিও ক্লিপ এবং টেক্সট ব্যবহার করা হয়। একটি উপস্থাপনা বা প্রেজেন্টেশন তৈরির জন্য আপনার কেবল একটি মাল্টিমিডিয়া অথরিং প্রোগ্রাম এবং একটি কম্পিউটার প্রয়োজন। মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের মূল কারণ হলো এটি কেবল আপনার বার্তা পৌঁছেই দেয় না, বরং দর্শকদের কাছে তা সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করে। নিচের পরিস্থিতিগুলোতে মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা ব্যবহার করা কার্যকর হতে পারে: শিক্ষক বা সহপাঠীদের সামনে কোনো প্রজেক্ট উপস্থাপন, লাইব্রেরি বা কম্পিউটার ল্যাবের জন্য কোনো প্রদর্শনী, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ডায়েরি হিসেবে অথবা স্লাইডশো এবং ইয়ারবুক হিসেবে। একটি ভালো মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা তৈরির তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য (তিনটি সি) হলো, পরিচ্ছন্নতা , ধারাবাহিকতা এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণতা । এরপর আপনাকে উপস্থাপনার ডিজাইন করতে হবে যাতে তা দর্শকদের আকর্ষণ করতে পারে। কাজ শুরুর আগে একটি পরিকল্পনা বা আউটলাইন তৈরি করুন এবং মূল বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝে নিন। এরপর আপনাকে মিডিয়া নির্বাচন করতে হবে; মাল্টিমিডিয়া উপাদানগুলো যেন আপনার উপস্থাপনার মূল বিষয়কে সমর্থন করে। চার্ট, গ্রাফ, ম্যাপ, ছবি এবং ভিডিও আপনার উপস্থাপনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সবশেষে সবকিছু পুনরায় যাচাই ও পরিমার্জন করে নিশ্চিত করুন যে তথ্যগুলো সঠিক এবং উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত।

ওয়েবসাইট তৈরি

[সম্পাদনা]
পাইথন হলো একটি প্রোগ্রামিং ভাষা যা ওয়েব ডিজাইনে ব্যবহৃত হয়

ওয়েবসাইট নির্মাতারা ওয়েবসাইট তৈরির জন্য অনেক ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করেন। এগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়: মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ, স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ এবং ওয়েবসাইট অথরিং সফটওয়্যার। মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ হলো মূল ভিত্তি; এগুলো হলো এমন কোডিং সিস্টেম যা ট্যাগের মাধ্যমে ওয়েব পৃষ্ঠার সামগ্রিক কাঠামো ও রূপ তৈরি করে। ট্যাগ হলো কিছু কমান্ড যা ডিজাইনারকে টেক্সট এবং মাল্টিমিডিয়া সাজাতে সাহায্য করে। বর্তমানে এইচটিএমএল হলো প্রধান মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ। এর বর্তমান সংস্করণ এইচটিএমএল৫ , যা এইচটিএমএল এবং এক্সএইচটিএমএল উভয়কেই প্রতিস্থাপন করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ ডেভেলপারদের বিভিন্ন নির্দেশনা বা স্ক্রিপ্ট তৈরির সুযোগ দেয় যা ওয়েব পেজের কোডের ভেতরে চলে। বর্তমানে জনপ্রিয় স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজের একটি উদাহরণ হলো জাভাস্ক্রিপ্ট। স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ এখন সর্বত্র ব্যবহৃত হচ্ছে।[৪২] উদাহরণস্বরূপ, গুগল ম্যাপস এবং জিমেইলের মতো জনপ্রিয় সেবায় এজ্যাক্স প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ যুক্ত করে ডেভেলপাররা ওয়েব পৃষ্ঠায় নানা ধরনের বৈশিষ্ট্য ও বিষয়বস্তু যুক্ত করতে পারেন।

অ্যাডোবি ড্রিমউইভার

ওয়েবসাইট অথরিং সফটওয়্যার আরও জটিল ওয়েব পেজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এখানে ডেভেলপাররা এমন সব কমান্ড ব্যবহার করতে পারেন যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্যাগ এবং সিএসএস তৈরি করে দেয়। এর ফলে ডেভেলপাররা অনেক বেশি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন, কারণ অ্যানিমেশন, ইফেক্ট বা ব্যাকগ্রাউন্ড একসাথেই প্রয়োগ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, যখন কোনো মেনু অপশন নির্বাচন করা হয়, তখন প্রয়োজনীয় জাভাস্ক্রিপ্ট বা অ্যানিমেশনের কোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে যায়। এর পাশাপাশি এই প্রোগ্রামগুলোতে শকওয়েভ, ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশন, অ্যানিমেটেড জিআইএফ , ভিডিও এবং অডিও ক্লিপ যুক্ত করার সুবিধা থাকে। দুটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট অথরিং প্রোগ্রাম হলো 'অ্যাডোবি ড্রিমউইভার' এবং 'মাইক্রোসফট এক্সপ্রেশন ওয়েব'। এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশনের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো উইজিউইগ , যার পূর্ণরূপ হলো 'What You See Is What You Get' (যা দেখবেন তাই পাবেন)। এতে ব্যবহারকারীরা হাতে কোড না লিখেও মাউস দিয়ে টেনে বিভিন্ন উপাদান সাজাতে পারেন। এই সফটওয়্যারের সুবিধার মধ্যে রয়েছে টেম্পলেট ব্যবহারের সুযোগ, যা সব পৃষ্ঠার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখে। তবে এর অসুবিধা হলো এটি শেখা কিছুটা কঠিন এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। এসব টুলের মাধ্যমে তৈরি ওয়েবসাইটের কোড সব সময় দক্ষ হয় না, যা ওয়েবসাইট লোড হতে বেশি সময় নিতে পারে। এছাড়াও এইচটিএমএল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা প্রয়োজন এবং এই সফটওয়্যারগুলো বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে।[৪৩]

উইবলি একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বিল্ডার

ওয়েবসাইট বিল্ডার হলো ওয়েব-ভিত্তিক সরঞ্জাম যা ছোট ব্যবসা বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সহজে ওয়েবসাইট তৈরিতে সাহায্য করে। এর একটি বড় সুবিধা হলো এটি ব্যবহারের জন্য এইচটিএমএল সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। ফলে ন্যূনতম কারিগরি জ্ঞান থাকলেও ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এগুলো সাধারণত ব্যবহারকারী-বান্ধব হয়, তাই ওয়েবসাইট তৈরি করা এখন আর কোনো ভীতিজনক কাজ নয়। আরেকটি বড় সুবিধা হলো এগুলো মোবাইল ওয়েব ডিজাইনের সুবিধা দেয়। যেহেতু এখন স্মার্টফোনই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু, তাই বেশিরভাগ ওয়েবসাইটের একটি মোবাইল সংস্করণ থাকে। কিছু ওয়েবসাইট বিল্ডার 'রেসপন্সিভ ডিজাইন' প্রদান করে, যা কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিন অনুযায়ী ওয়েবসাইটের আকার পরিবর্তন করে নেয়। বাজারে অনেক ওয়েবসাইট বিল্ডার আছে, যার কিছু বিনামূল্যে আবার কিছু অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করতে হয়। সাধারণত অর্থের বিনিময়ে ব্যবহৃত বিল্ডারগুলোতে বেশি ফিচার থাকে। তবে এর কিছু অসুবিধাও আছে; এগুলো ব্যয়বহুল হতে পারে এবং যেহেতু তারা নিজস্ব কোড ব্যবহার করে, তাই এক হোস্টিং থেকে অন্য হোস্টিং এ ওয়েবসাইট স্থানান্তর করা কঠিন হয়ে পড়ে।[৪৪] বেশিরভাগ ওয়েবসাইট বিল্ডারেই ড্র্যাগ-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধা থাকে। তবে ভালো মানের ওয়েবসাইট বিল্ডার খুঁজে পাওয়া মাঝে মাঝে কঠিন হতে পারে, তবুও এটি নিজের একটি "ভার্চুয়াল দোকান" বা অনলাইন পরিচিতি তৈরির জন্য একটি চমৎকার ও সহজ পথ।[৪৫]

অন্যান্য কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট সরঞ্জাম

মাইক্রোসফট উদ্ভাবিত অ্যাক্টিভ এক্স

অ্যাক্টিভ এক্স হলো মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের একটি সফটওয়্যার উপাদান। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, মাইক্রোসফট অফিস এবং উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ারের মতো অনেক অ্যাপ্লিকেশন তাদের কার্যাবলীকে অন্য অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত করার জন্য অ্যাক্টিভ এক্স ব্যবহার করে। তবে মাইক্রোসফটের নতুন ব্রাউজার 'মাইক্রোসফট এজ' অ্যাক্টিভ এক্স সমর্থন করবে না, যা এই প্রযুক্তির সমাপ্তি নির্দেশ করছে।

সাইট পরীক্ষা, প্রকাশনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ

[সম্পাদনা]

আপনার ওয়েবপৃষ্ঠাটি উন্মুক্ত করার আগে এটি সচল এবং শতভাগ সক্ষমতার সাথে কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ হলো, ব্যবহারকারী যখন আপনার ওয়েবপৃষ্ঠাটি ব্যবহার করবেন, তখন কোনো বাগ , কারিগরি ত্রুটি বা এরর পেজ প্রদর্শিত হওয়া চলবে না। যদিও এটি যথেষ্ট সহজ মনে হতে পারে, তবে একটি পেজ যথাযথ গতিসম্পন্ন কি না তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রতিটি লিঙ্ক, আইকন, অ্যানিমেশন, ছবি ইত্যাদি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অনেক ওয়েবসাইট এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পছন্দ করে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করে দেয়; তবে ব্যক্তিগতভাবে কোনো সমস্যা বা সংকেতের দিকে নজর রাখা এখনও জরুরি। নিবিড় পরীক্ষার পর, সাইটটি প্রকাশের জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত।

যদিও পেজটি সফলভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তবে কাজ সেখানেই শেষ নয়। অনেকে মনে করেন যে একবার প্রকাশ করলেই সব কাজ শেষ, কিন্তু এই পেজগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। সবকিছু ঠিকঠাক চলছে কি না, তথ্যগুলো হালনাগাদ আছে কি না এবং লিঙ্ক ও অ্যানিমেশনগুলো কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করতে প্রকাশককে ক্রমাগত পরীক্ষা করতে হয়। এই প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া একটি সাইট জটিল এবং সেকেলে হয়ে পড়ে, ফলে ব্যবহারকারীরা সেটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকে।[৪৬] [৪৭]

ব্যান্ডউইথ বিবেচনা

[সম্পাদনা]

ইন্টারনেটের এই যুগে প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে অনলাইন থাকেন; তবে সবার ইন্টারনেটে অবাধ সুবিধা নেই। এখনও এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কেবল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্যবহার করতে পারেন এবং তাদের ডাটা ব্যবহারের সীমা নির্দিষ্ট থাকে। ওয়েবসাইট তৈরির সময় এটি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।[৪৮] একটি ওয়েবসাইট যখন তৈরি করা হয়, তখন এর প্রতিটি উপাদানের আকার ভিন্ন ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি সার্চ ইঞ্জিন "গুগল" তাদের লোগো পুনরায় ডিজাইন করেছে এবং এর ফলে ছবির আকার ৬,৩৮০ বাইট (৬ কিলোবাইট) থেকে কমিয়ে ৩০৫ বাইটে নামিয়ে এনেছে।[৪৯] এটি সীমিত ডাটা ব্যবহারকারীদের ওয়েবসাইটে প্রবেশের সুযোগ বাড়িয়ে দেয়, কারণ প্রতিবার পেজ লোড করার সময় এটি কম ডাটা ব্যবহার করে।

মাল্টিমিডিয়া ওয়েবসাইট তৈরির চাহিদা

[সম্পাদনা]
ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট

বর্তমান যুগে সবকিছুই অনলাইনভিত্তিক। প্রতিদিন মানুষ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ওয়েবসাইট তৈরির শিল্পে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ হয়। ব্যবহারকারীদের কাছে এই সাইটগুলো যেন আকর্ষণীয়, কার্যকর এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য হয়, সেটাই মূল চাহিদা। কোম্পানিগুলো তাদের অনলাইন উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মাল্টিমিডিয়া উপাদান এবং ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ওয়েব ডিজাইনার ও ওয়েব ডেভেলপারদের নিয়োগ দেয়। একজন ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, এইচটিএমএল , সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। একজন দক্ষ ওয়েব ডেভেলপারের সেই সব কিছু জানা দরকার যা একজন ওয়েব ডিজাইনার জানেন, পাশাপাশি তার উন্নত প্রোগ্রামিং দক্ষতাও থাকতে হয়। মাল্টিমিডিয়া এবং সফটওয়্যারের নতুন প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে গ্রাফিক ডিজাইন অর্থনীতির একটি চাহিদাপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উপরে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, ডেভেলপারদের জন্য এইচটিএমএল৫ এবং সিএসএস৩ হলো নতুন কোডিং কৌশল। এই ক্ষেত্রগুলোতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের এইচটিএমএল এবং সিএসএস অধ্যয়ন চালিয়ে যাওয়া উচিত।[৫০]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. https://www.humblebundle.com
  2. http://www.youtube.com
  3. http://ng.cengage.com/static/nb/ui/index.html?nbId=7345&nbNodeId=1013914#!&parentId=1013939
  4. http://www.slideshare.net/kenshin1017/introduction-to-multimedia-4663053
  5. Understanding Computers 14 ed. by Deborah Morley & Charles Parker
  6. http://computingclass6hishamuddin.blogspot.com/2012/07/advantages-and-disadvantages-of-using.html
  7. http://www.vidhyalive.com/
  8. http://smallbusiness.chron.com/5-components-multimedia-28279.html
  9. http://graphicdesign.stackexchange.com/tags/serif/info
  10. http://www.fonts.com/content/learning/fontology/level-2/making-type-choices/serif-v-sans-for-text
  11. http://www.slideshare.net/shortcomp/4-multimedia-elements-video
  12. http://www.w3schools.com/html/html_media.asp
  13. http://www.slideshare.net/azmankadir/multimedia-element-presentation
  14. http://computer.howstuffworks.com/internet/basics/streaming-video-and-audio.htm
  15. https://en.wikipedia.org/wiki/Alpha_compositing
  16. https://en.wikipedia.org/wiki/Graphics_Interchange_Format
  17. https://en.wikipedia.org/wiki/Portable_Network_Graphics
  18. http://graphicdesign.about.com/od/Definitions/g/Jpg-Files.htm
  19. http://www.nch.com.au/acm/formats.html
  20. http://desktoppub.about.com/od/designprinciples/
  21. http://www.wikihow.com/Create-a-Free-Website
  22. http://www.edrawsoft.com/flow-chart-design.php
  23. http://designshack.net/articles/layouts/10-rock-solid-website-layout-examples/
  24. http://www.fastcodesign.com/1672917/the-8-steps-to-creating-a-great-storyboard
  25. http://www.fastcodesign.com/1672917/the-8-steps-to-creating-a-great-storyboard
  26. http://public.wsu.edu/~ericsson/story_bd.html
  27. http://en.wikipedia.org/wiki/Web_navigation
  28. http://en.wikipedia.org/wiki/Refreshable_braille_display
  29. http://en.wikipedia.org/wiki/Screen_reader
  30. http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Alternative_text_for_images
  31. http://www.afb.org/info/living-with-vision-loss/for-job-seekers/careerconnect-virtual-worksites/retail-worksite-for-blind-users/refreshable-braille-display-3652/12345
  32. http://www.afb.org/ProdBrowseCatResults.asp?CatID=43
  33. http://www.afb.org/info/screen-reading-technology/5
  34. http://www.afb.org/ProdBrowseCatResults.asp?CatID=43
  35. http://www.compapp.dcu.ie/~humphrys/Notes/Internet/index.html
  36. http://www.w3schools.com/html/html5_intro.asp
  37. http://www.w3.org/Style/LieBos2e/history/
  38. http://mashable.com/2012/10/24/css-for-dummies/
  39. http://www.w3schools.com/XML/xml_whatis.asp
  40. http://personalweb.about.com/od/basichtml/a/409xhtml_2.htm
  41. http://www.w3schools.com/ajax/ajax_intro.asp
  42. https://en.wikipedia.org/wiki/Scripting_language
  43. http://www.teach-ict.com/as_a2_ict_new/ocr/AS_G061/313_standard_applications/types_software/miniweb/pg6.htm
  44. http://www.pcmag.com/article2/0,2817,2484510,00.asp
  45. http://1stwebdesigner.com/easiest-website-builder/
  46. http://office.microsoft.com/en-us/publisher-help/prepare-publish-and-maintain-your-publisher-web-site-HA010094760.aspx
  47. http://go.hrw.com/eolang/myomed/bringit.htm
  48. http://ng.cengage.com/static/nb/ui/index.html?nbId=7345&nbNodeId=1013914#!&parentId=1013939
  49. http://gizmodo.com/how-could-googles-new-logo-be-only-305-bytes-while-its-1728793790
  50. http://www.orientinfosolutions.com/articles/multimedia-web-design.php

পর্যালোচনা

[সম্পাদনা]

আমরা বর্তমানে যে বিশ্বে বাস করছি, সেখানে বিলবোর্ড, সাইন, লোগো, টেক্সট, বিজ্ঞাপন, ইমেল এবং আমাদের প্রতিদিনের ওয়েব ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মাল্টিমিডিয়ার সম্মুখীন হচ্ছি। নিচে এই অধ্যায়ের শব্দভাণ্ডার এবং শব্দগুলোর সাধারণ সংজ্ঞা দেওয়া হলো। তালিকার নিচে কিছু শূন্যস্থান পূরণমূলক প্রশ্ন রয়েছে। শূন্যস্থান পূরণে সহায়তার জন্য এই শব্দভাণ্ডার ব্যবহার করুন। সব শব্দ ব্যবহৃত নাও হতে পারে। এরপর পৃষ্ঠার নিচে আপনার উত্তরগুলো যাচাই করে নিন।

১) মাল্টিমিডিয়া : বিভিন্ন ধরনের মিডিয়ার সমন্বয়।

২) ওয়েব-ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া: (এটি রিচ মিডিয়া নামেও পরিচিত) ওয়েব পৃষ্ঠায় থাকা যেকোনো ধরনের মাল্টিমিডিয়াকে বোঝায়।

৩) ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর): কোনো পণ্য বা পরিষেবা বাস্তব জগতে কেমন দেখাবে বা কী কাজ করবে তা ই-কমার্সে প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

৪) টেক্সট : মৌলিক বিষয়বস্তু সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বেশিরভাগ ওয়েবসাইটের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

৫) ছবি/গ্রাফিক্স : আলোকচিত্র, অঙ্কন, চার্ট এবং অন্যান্য দৃশ্যমান বস্তুর ডিজিটাল উপস্থাপন।

৬) জিআইএফ : (গ্রাফিক্স ইন্টারচেঞ্জ ফরমেট) সাধারণত নন-ফটোগ্রাফিক ছবির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং এটি ওয়েব পেজের ছবির জন্য একটি আদর্শ ফরম্যাট।

৭) পিএনজি : (পোর্টেবল নেটওয়ার্ক গ্রাফিক্স) জিআইএফ ফরম্যাটের সীমাবদ্ধতা দূর করতে ১৯৯৬ সালে তৈরি করা ফরম্যাট।

৮) জেপিইজি : (জয়েন্ট ফটোগ্রাফিক এক্সপার্টস গ্রুপ - যৌথ ফটোগ্রাফিক বিশেষজ্ঞ গ্রুপ) ওয়েব ভিত্তিক আলোকচিত্রের জন্য আদর্শ ফরম্যাট।

৯) থাম্বনেইল ইমেজ : ছোট আকারের ছবি (আইকনের মতো) যা বড় ফাইলের পূর্ণ আকারের ছবির সাথে লিঙ্ক করা থাকে।

১০) জাভা অ্যাপলেট : ওয়েব পেজে থাকা একটি ছোট প্রোগ্রাম যা গণনা থেকে শুরু করে অ্যানিমেশনের মতো নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

১১) অ্যানিমেটেড জিআইএফ : একটি অ্যানিমেটেড ফাইলে একত্রে সংরক্ষিত জিআইএফ ছবির একটি গ্রুপ।

১২) ফ্ল্যাশ বা সিলভারলাইট : অ্যানিমেশন তৈরির সরঞ্জাম।

১৩) অডিও : সব ধরনের শব্দ (গান, ভয়েস এবং ইফেক্ট ইত্যাদি)।

১৪) ভিডিও : দৃশ্যমান তথ্যের একটি অবিচ্ছিন্ন ধারা যা রেকর্ড করার সময় ফ্রেমে বিভক্ত করা হয়।

১৫) ওয়েবসাইট ডিজাইন : আপনার ওয়েবসাইট দেখতে কেমন হবে এবং এটি কীভাবে কাজ করবে তা পরিকল্পনা করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।

১৬) ফ্লোচার্ট : জিনিসগুলো একে অপরের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত তা বর্ণনা করে।

১৭) পেজ লেআউট : একটি ওয়েবসাইটের বিন্যাস এবং নেভিগেশনাল কাঠামো চিত্রিত করে।

১৮) স্টোরিবোর্ড : একটি অ্যানিমেশন সিকোয়েন্সের প্রতিটি পৃষ্ঠা বা স্ক্রিন চিত্রিত করে এমন স্কেচের একটি ক্রম।

১৯) অল্টারনেটিভ টেক্সট : ছবির ক্যাপশন যা যারা ছবি দেখতে অক্ষম তাদের জন্য বিষয়টি পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

২০) ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট : ডিজাইন করার পর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা।

২১) মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ : একটি কোডিং সিস্টেম যা ওয়েব পেজের বিষয়বস্তুর কাঠামো, বিন্যাস এবং সাধারণ চেহারা সংজ্ঞায়িত করতে ব্যবহৃত হয়।

২২) এইচটিএমএল : ওয়েব পেজ তৈরির জন্য ডিজাইন করা মূল মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ।

২৩) এক্সএমএল : ওয়েবে ডাটা বিনিময়ের একগুচ্ছ নিয়ম।

২৪) এক্সএইচটিএমএল : এইচটিএমএল এর একটি সংস্করণ যা এক্সএমএল এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

২৫) ক্যাসকেডিং স্টাইল শীট (সিএসএস): একটি ওয়েব পেজ বা সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত শৈলী বা স্টাইল নির্ধারণ করে।

২৬) ওয়্যারলেস মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ (ডব্লিউএমএল): এক্সএমএল ভিত্তিক ল্যাঙ্গুয়েজ যা ডাব্লুএপি-সক্ষম ওয়্যারলেস ডিভাইসে প্রদর্শনের জন্য ওয়েব পেজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

২৭) জাভাস্ক্রিপ্ট : ওয়েব লেখকদের ইন্টারেক্টিভ ওয়েবসাইট তৈরিতে সক্ষম করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

২৮) অ্যাজাক্স : ওয়েব স্ট্যান্ডার্ডের একটি সেট যা সম্পূর্ণ ওয়েব পেজ পুনরায় ডাউনলোড করার পরিবর্তে শুধুমাত্র নতুন ডাটা ডাউনলোড করে ইন্টারঅ্যাক্টিভিটি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করে।

২৯) ওয়েবসাইট অথরিং সফটওয়্যার : ওয়েব পেজ এবং সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত এক ধরনের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম।

কুইজ:

১. এইচটিএমএল, এক্সএমএল এবং _______ হলো _______ এর বিভিন্ন রূপ।

২. ওয়েব পেজে থাকা মাল্টিমিডিয়া (শব্দ, ভিডিও, অ্যানিমেশন, টেক্সট এবং ছবি) __________ বা রিচ মিডিয়া নামে পরিচিত।

৩. ইউটিউবের মতো অনেক সাইট দর্শকদের বিনোদন প্রদানের জন্য তাদের সাইটে _______ এবং _______ যুক্ত করে।

৪. ছবির প্রধান তিনটি প্রকারের মধ্যে রয়েছে _______, _______ এবং _______।

৫. পৃষ্ঠাগুলোকে একটি _______ এ রাখলে দেখা যায় তারা কীভাবে সম্পর্কিত, অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট অ্যানিমেশন সিকোয়েন্সের ক্রম দেখানোর জন্য _______ ব্যবহৃত হয়।

উত্তর: ১. এক্সএইচটিএমএল (সিএসএস বা ডাব্লুএমএল-ও গ্রহণযোগ্য); মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ ২. ওয়েব-ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া ৩. অডিও; ভিডিও ৪. জিআইএফ; পিএনজি; জেপিইজি ৫. ফ্লোচার্ট; স্টোরিবোর্ড