উইকিশৈশব:যাবুর
যাবুর কিতাব পরিচিতি
[সম্পাদনা]যাবুর কী?
[সম্পাদনা]যাবুর একটি পবিত্র আসমানি কিতাব, যেটি আল্লাহ তাআলা এক নবীর ওপর নাজিল করেছিলেন। এটি মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস—যে আল্লাহ আগের অনেক নবীদের কাছে কিতাব ও সহিফা পাঠিয়েছেন, আর যাবুর তাদের একটি।
কার ওপর নাজিল হয়েছিল?
[সম্পাদনা]যাবুর কিতাব আল্লাহ তাআলা পাঠিয়েছিলেন হযরত দাউদ (আঃ)-এর উপর। তিনি একজন নবী ও রাজা ছিলেন, যিনি সুন্দর কণ্ঠে আল্লাহর প্রশংসা করতেন এবং মানুষকে সত্য পথে ডাকতেন।
কুরআনে যেভাবে বলা হয়েছে
[সম্পাদনা]কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর আমি দাউদকে দিয়েছিলাম ‘যাবুর’।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৬৩) এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, যাবুর কিতাব আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সত্য ও পবিত্র কিতাব ছিল।
যাবুরে কী ধরনের কথা ছিল?
[সম্পাদনা]যাবুর ছিল অনেকটা গানের মতো সুন্দর ও কাব্যিক ভাষায় লেখা। এতে ছিল:
- আল্লাহর প্রশংসা ও গুণাবলি
- মানুষকে ন্যায়ের পথে চলার উপদেশ
- খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- ধৈর্য, দয়া ও তাওবার গুরুত্ব
হযরত দাউদ (আঃ)
[সম্পাদনা]- হযরত দাউদ (আঃ)-এর কণ্ঠ ছিল এতই সুন্দর যে, তিনি যখন যাবুর পাঠ করতেন, তখন পাহাড় ও পাখিরা তার সঙ্গে আল্লাহর প্রশংসা করত।
- তার জীবন ছিল ন্যায়বিচারে ভরা। তিনি একজন সৎ শাসক ছিলেন।
যাবুর ও অন্যান্য কিতাব
[সম্পাদনা]আল্লাহ চারটি প্রধান কিতাব পাঠিয়েছেন:
[সম্পাদনা]- তাওরাত – হযরত মূসা (আঃ)-এর উপর
- যাবুর – হযরত দাউদ (আঃ)-এর উপর
- ইঞ্জিল – হযরত ঈসা (আঃ)-এর উপর
- কুরআন মাজীদ – হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর
এগুলোকে বলে আসমানি কিতাব বা আকাশ থেকে আসা কিতাব।
আমাদের জন্য শেখার বিষয়
[সম্পাদনা]- যাবুর ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো একটি সত্যিকারের কিতাব
- হযরত দাউদ (আঃ) ছিলেন এক মহান নবী ও রাজার মতো নেতা
- তিনি আল্লাহর কথা সুন্দরভাবে পড়তেন
আমাদের উচিত আল্লাহর কিতাবগুলোকে সম্মান করা ও বিশ্বাস রাখা
উপসংহার
[সম্পাদনা]যাবুর কিতাব আমাদের শেখায়—আল্লাহর প্রশংসা করতে, ভালো কাজ করতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে। আমরা আজ কুরআনের অনুসারী হলেও, পূর্ববর্তী কিতাবগুলোকে সম্মান ও বিশ্বাস করা ঈমানের অংশ।
দোয়া
[সম্পাদনা]“হে আল্লাহ! আমাদের যাবুরসহ সব আসমানি কিতাব ও নবীদের প্রতি সঠিকভাবে ঈমান রাখার তাওফিক দিন। আমিন।”