বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিশৈশব:বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন/মহাস্থানগড়

মহাস্থানগড় প্রাচীন বৌদ্ধ ও হিন্দু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ। বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিমে মহাস্থানগড়ের অবস্থান। সমস্ত এলাকাটি একটি সুরক্ষিত দেয়াল দিয়ে ঘেরা। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় নগর ‘পুণ্ড্রনগর’ এর ধ্বংসাবশেষ। এখানে ব্রাহ্মী রীতিতে লেখা একটি খণ্ডিত শিলালিপি পাওয়া গেছে। এর নাম মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপি। এ শিলালিপিতে ‘পুণ্ডনগল’ এর উল্লেখ রয়েছে। এ থেকে ধারণা হয়, নগরটি সম্ভবত মৌর্যবংশীয় শাসকেরা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলার যে কোনো অঞ্চলের মধ্যে প্রথম নগরায়নের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এটি। নগর দেয়ালের ভেতরে দক্ষিণ পূর্ব কোণের সবচেয়ে উঁচু স্থানে রয়েছে বিখ্যাত আউলিয়া সুলতান মাহীসওয়ারের মাজার ও মোগল আমলের একটি মসজিদ। দেয়াল বেষ্টিত এলাকার বাইরে বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন মঠ। এগুলোর মধ্যে বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা মন্দির, খোদার পাথর ভিটা, মানকালীর কুন্ডধাপ, পরশুরামের প্রাসাদ ও জিয়ত কুন্ড উল্লেখযোগ্য। এগুলো প্রাচীন প্রাদেশিক রাজধানীর শহরতলির সাক্ষ্য বহন করে। চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং সপ্তম শতাব্দীতে এখানকার বসুবিহার দেখতে আসেন।

মহাস্থানগড়ের যাদুঘরে প্রাচীনকালের বিভিন্ন নিদর্শনাদি বিশেষ করে পোড়ামাটির দ্রব্যাদি, স্বর্ণের অলংকার ও স্বর্ণের মুদ্রা সংরক্ষিত রয়েছে । মহাস্থানগড়ের সমাজ ও সভ্যতার উত্থান, সমৃদ্ধি ও পতনকাল হচ্ছে খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয়

শতাব্দী থেকে ১৫শ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। সাম্প্রতিক খনন কাজের ফলে এখানে ১৮টি নির্মাণ স্তর উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়া আবিষ্কৃত হয়েছে নানা ধরনের মূল্যবান নিদর্শনাদি। এগুলো থেকে বিভিন্ন যুগের সাংস্কৃতিক ধারা বোঝা যায়।