বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিপিডিয়া কীভাবে কাজ করে/অধ্যায় ৬

অধ্যায় ৬: ভালো লেখা এবং গবেষণা

[সম্পাদনা]

এই অধ্যায়ে উইকিপিডিয়ার মূল কাজগুলো—যেমন বিশ্বকোষীয় নিবন্ধ লেখা, গবেষণা করা ও নিবন্ধের মানোন্নয়ন—কীভাবে করতে হয়, তা আলোচনা করা হয়েছে। একটি নিবন্ধ শুরু করা তুলনামূলক সহজ হলেও সেটিকে মানসম্মত রূপ দেওয়া বেশ কঠিন। ভালো লেখার জন্য নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলনের পাশাপাশি যথাযথ শব্দচয়ন, বিশ্বকোষীয় রচনাশৈলী, নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক তথ্যসূত্র যুক্ত করার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

একজন দক্ষ লেখক যেকোনো নিবন্ধের পরিকল্পনা করার সময় এর সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখেন। উইকিপিডিয়ার বিশাল পরিসর গবেষণার পদ্ধতিতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। উইকিপিডিয়ায় আগে থেকে থাকা নিবন্ধ এবং অন্যান্য ব্যবহারকারীর করা গবেষণা নতুন নিবন্ধের বিষয়বস্তু নির্বাচনে সহায়ক হতে পারে। কোনো বিষয়ে আগে থেকে কী লেখা আছে, তা যাচাই করে নিলে একই কাজের পুনরাবৃত্তি এড়ানো যায় এবং সময়ও বাঁচে।

অসংখ্য সম্পাদকের সম্মিলিত পরিশ্রমে গড়ে ওঠায় উইকিপিডিয়ায় কাজ করার বিষয়টি শুরুতে অনেকের কাছেই কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। এই সহযোগিতামূলক পরিবেশে সফল হতে হলে সুনির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। যাঁরা সম্মিলিতভাবে কয়েক হাজার নিবন্ধ তৈরি করেছেন, এমন অভিজ্ঞ উইকিপিডিয়ানদের পরামর্শের আলোকে কীভাবে একটি মানসম্মত নিবন্ধ লিখতে হয়, তা-ই এই অধ্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন নিবন্ধ শুরু করা

[সম্পাদনা]

উইকিপিডিয়া সম্প্রদায় তথ্যগত শূন্যস্থান পূরণকারী, সুলিখিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রসমৃদ্ধ নতুন নিবন্ধকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। এ ধরনের অবদান সম্প্রদায়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। উইকিপিডিয়ার অন্যান্য নিবন্ধ সম্পাদনা বা পরিমার্জনের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে, আপনার জন্য নতুন নিবন্ধ তৈরি করা বেশ সহজ হবে।

উইকিপিডিয়ায় নিবন্ধিত যেকোনো ব্যবহারকারী মুহূর্তের মধ্যেই নতুন নিবন্ধ তৈরি করতে পারেন। অ্যাকাউন্ট না থাকলেও নিবন্ধ তৈরির প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা পরবর্তী অংশে আলোচনা করা হয়েছে। তবে লেখা শুরু করার আগে কিছু বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি। কোনো নিবন্ধের পেছনে সময় ও শ্রম দেওয়ার আগে নিচের প্রাথমিক বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত। নতুন নিবন্ধ লেখার সাধারণ ধাপগুলো হলো:

  • বিষয় নির্ধারণ করুন।
  • বিষয়টি উইকিপিডিয়ায় আগে থেকেই আছে কি না, তা যাচাই করুন।
  • প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্র সংগ্রহ করুন এবং বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করুন।
  • যথাযথ শিরোনাম নির্বাচন করে নিবন্ধ লেখা শুরু করুন।
  • নিবন্ধের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করুন।
  • প্রাসঙ্গিক অন্যান্য নিবন্ধের সাথে সংযোগ যুক্ত করুন এবং সঠিক বিষয়শ্রেণী নির্ধারণ করুন।

এই ধাপগুলো যত সুচারুভাবে অনুসরণ করবেন, বিশ্বকোষে মানসম্মত তথ্য যুক্ত করা আপনার জন্য ততটাই সহজ হবে। গভীরভাবে গবেষণার পর তথ্যগুলো গুছিয়ে লিখুন; সেটি কোনো বিষয়ের ওপর দীর্ঘ নিবন্ধ, ছোট অসম্পূর্ণ নিবন্ধ অথবা সম্পর্কিত একাধিক নিবন্ধের সমষ্টি—যাই হোক না কেন। নতুন নিবন্ধ তৈরি বা বিদ্যমান কোনো অসম্পূর্ণ নিবন্ধ সম্প্রসারণ—উভয় ক্ষেত্রেই এই কৌশলগুলো একইভাবে প্রযোজ্য। বর্তমানে অনেক বিষয়ে নিবন্ধ একেবারে না থাকার চেয়ে নিম্নমানের নিবন্ধ বেশি দেখা যায়, যেগুলোর পরিষ্করণ ও সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। তবে একজন লেখকের কাছে নতুন নিবন্ধ তৈরি এবং পুরোনো নিবন্ধের মানোন্নয়ন—উভয় কাজই প্রায় সমান চ্যালেঞ্জিং।

কী নিয়ে লিখতে হবে তা নির্ধারণ করা

[সম্পাদনা]

বিশ লাখ নিবন্ধ সমৃদ্ধ একটি বিশ্বকোষ কি সম্পূর্ণ? একেবারেই না। কী নিয়ে লিখবেন তা বুঝতে না পারলে কোনো ভালো গ্রন্থাগারে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নেওয়া একটি সহজ উপায় হতে পারে। এছাড়া, উইকিপিডিয়ায় কোন বিষয়গুলো নিয়ে নতুন নিবন্ধ তৈরি হওয়া প্রয়োজন, তার তালিকা সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন প্রকল্প থেকেও আপনি ধারণা নিতে পারেন:

অনুরোধকৃত নিবন্ধ (শর্টকাট WP:RA)

এটি মূলত বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক পাতার একটি সমষ্টি, যেখানে যে কেউ কেবল একটি লাল সংযোগ বা লিঙ্ক তৈরি করে নতুন নিবন্ধের অনুরোধ যুক্ত করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এখানকার অনুরোধগুলো অনেক সময় অগোছালো হতে পারে। কোনো নিবন্ধ এই তালিকায় থাকার অর্থই এমন নয় যে সেটি উইকিপিডিয়ার উল্লেখযোগ্যতার নীতিমালা পূরণ করে। তাই, অনুরোধকৃত নিবন্ধটি অন্য কোনো নামে আগে থেকেই তৈরি করা আছে কি না এবং বিষয়টি নিয়ে আদৌ নিবন্ধ লেখা উচিত কি না, তা সর্বদা যাচাই করে নিন।

তৈরির জন্য নিবন্ধ (শর্টকাট WP:AFC)

নতুন বা অনিবন্ধিত ব্যবহারকারীরা এই পাতায় নিবন্ধ তৈরির অনুরোধ করতে পারেন। এখানে থাকা একটি ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে অনুরোধ জমা দিতে হয়; এরপর নিবন্ধিত ও অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীরা তা পর্যালোচনা করে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করেন। আপনি যদি উইকিপিডিয়ার একজন নিয়মিত নিবন্ধিত ব্যবহারকারী হন, তবে নিবন্ধ তৈরির জন্য আপনার এই ফর্মটি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তবে এখান থেকে আপনি এমন অনেক বিষয়ের ধারণা পেতে পারেন, যেগুলো নিয়ে নতুন নিবন্ধ তৈরি করা সম্ভব।

অনুপস্থিত বিশ্বকোষীয় নিবন্ধ

অন্যান্য তথ্যসূত্রের ওপর ভিত্তি করে উইকিপিডিয়ায় কোন কোন বিষয় অনুপস্থিত রয়েছে, তা খুঁজে বের করার অন্যতম একটি স্থান হলো এই উইকিপ্রকল্প। "অন্যান্য সাধারণ বিশ্বকোষে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি বিষয়ের জন্য উইকিপিডিয়ায় যেন একটি অনুরূপ নিবন্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করা"-ই হলো এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

বিষয়শ্রেণী:উইকিপিডিয়ায় অনুপস্থিত বিষয়সমূহ হলো একটি মূল বিষয়শ্রেণী, যেখানে সম্ভাব্য অনুপস্থিত নিবন্ধগুলোর তালিকা সংরক্ষণ করা হয়। এসব অনুপস্থিত নিবন্ধের বিষয়ের মধ্যে থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের বাইরের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, বিংশ শতাব্দীর আগের কোনো ব্যক্তির জীবনী (এক্ষেত্রে যেকোনো পাবলিক ডোমেইন জীবনী অভিধান যাচাই করে দেখতে পারেন, বিশেষ করে যেগুলো ইংরেজিতে নয়), বিভিন্ন দেশের জাতীয় একাডেমির বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ইত্যাদি। এছাড়া, কিছু সম্পাদকের সংকলিত অনুপস্থিত নিবন্ধের তালিকা বিষয়শ্রেণী:লাল তালিকাতে পাওয়া যেতে পারে। এটি মূলত লাল সংযোগের একটি তালিকা, যা সম্পাদকরা তাদের কাজের পাতা হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

আপনি যদি কপিরাইট ও পাবলিক ডোমেইন সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত থাকেন, তবে নতুন নিবন্ধ শুরু করার সময় পুরোনো বা উন্মুক্ত উৎস থেকে তথ্য যুক্ত করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার ১৯১১ সালের সংস্করণের (যা বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্ভুক্ত) অনেক লেখা উইকিপিডিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। উইকিসংকলন থেকে পাওয়া পাবলিক ডোমেইন বা জিএফডিএল লাইসেন্সযুক্ত অন্যান্য উপাদানও নিবন্ধে ব্যবহারের জন্য পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন। তবে, এসব উৎস থেকে কেবল লেখা অনুলিপি করাই যথেষ্ট নয়; পুরোনো তথ্যকে আধুনিক ভাষা ও হালনাগাদ তথ্যের সাথে মানানসই করে তুলতে দক্ষ সম্পাদনার প্রয়োজন হয় (উদাহরণস্বরূপ, অনুপস্থিত বিশ্বকোষীয় নিবন্ধ প্রকল্পের একটি উপপাতায় ১৯১১ সালের ব্রিটানিকার নিবন্ধগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়, যাতে সেগুলো সঠিক ও সময়োপযোগী থাকে)।

নতুন নিবন্ধ শুরু করার আগে

[সম্পাদনা]

কোনো বিষয় নির্বাচনের পর, উইকিপিডিয়ায় সেই সম্পর্কে আগে থেকেই কোনো নিবন্ধ আছে কি না, তা যাচাই করে নিন। একই বিষয়ে একাধিক নিবন্ধ তৈরি এড়াতে সাইটে ভালোভাবে অনুসন্ধান করা জরুরি। প্রথাগত বিশ্বকোষের মতো উইকিপিডিয়ায় নির্দিষ্ট কোনো সম্পাদকীয় পর্ষদ নেই, যারা লেখকদের বিষয় নির্ধারণ করে দেন। তাই লেখকদেরই দায়িত্ব হলো, নিজের নির্বাচিত বিষয়ে আগে থেকে কী কী তথ্য রয়েছে তা যাচাই করা এবং নতুন নিবন্ধটিকে উইকিপিডিয়ার বিদ্যমান কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা।

সঠিক সময়

আপনার তথ্যগুলো যদি পুরোনো হয়ে যায়? অথবা ঘটনাটি যদি এখনও না ঘটে থাকে? 'উইকিপিডিয়ায় কী আছে?' শীর্ষক প্রথম অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতের ঘটনা—যেমন কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, নির্মাণাধীন চলচ্চিত্র বা চলমান কোনো স্থাপনা—সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকলে, তা সাধারণত নিবন্ধের জন্য উপযুক্ত নয়। উইকিপিডিয়া কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করার জায়গা নয়। তবে, আপনার কাছে যদি নির্ভরযোগ্য ও যাচাইযোগ্য তথ্যসূত্র এবং ভবিষ্যতের কোনো ঘটনা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে, তবে আপনি তা নিয়ে উইকিপিডিয়ায় লিখতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, নতুন কোনো রাস্তা নির্মাণের তথ্য নিবন্ধে যোগ করা যেতে পারে, তবে সেখানে উপযুক্ত ট্যাগ যুক্ত করে দিতে হবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে তথ্যের সময়কাল নির্দেশ করার জন্য বিষয়শ্রেণী:টেম্পোরাল টেমপ্লেট-এ নীল রঙের তথ্যমূলক টেমপ্লেট রয়েছে। কোনো বিষয় যদি সময়-সংবেদনশীল হয়, তবে তথ্যের সাথে সঠিক ট্যাগ যুক্ত করা উচিত। যেমন, ২০০৮ সাল পর্যন্ত ইয়েতি দেখার কোনো ঘটনা নিশ্চিত করা হয়নি। কোনো তথ্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সঠিক ছিল—তা বোঝানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো {{As of|year}} টেমপ্লেটটি ব্যবহার করা (এখানে 'year'-এর জায়গায় নির্দিষ্ট বছর বসাতে হবে)। উইকিপিডিয়া রক্ষণাবেক্ষণে এটি কীভাবে সাহায্য করে, তা জানতে Wikipedia:As of (শর্টকাট WP:AO) পাতাটি দেখতে পারেন।

আপনি যে বিষয়টি নিয়ে নিবন্ধ তৈরি করতে চান, তা সাইটে অনুসন্ধান করার পর নিচের যেকোনো একটি পরিস্থিতি আপনার সামনে আসতে পারে:

  • বিষয়টির ওপর আগে থেকেই একটি নিবন্ধ রয়েছে (সম্ভবত আপনার ভাবা শিরোনামের চেয়ে ভিন্ন কোনো নামে)।
  • ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে একই বিষয়ে একাধিক নিবন্ধ তৈরি করা হয়েছে।
  • বিষয়টির ওপর কিছু তথ্য রয়েছে, তবে তা বৃহত্তর কোনো নিবন্ধের অংশ হিসেবে, যেখানে আরও অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
  • অন্য কোনো নিবন্ধে বিষয়টি সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু বিস্তারিত আলোচনা করা হয়নি।
  • আপনি যে শিরোনামটি ব্যবহার করতে চান তা ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত হয়েছে, তবে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো বিষয়ের নিবন্ধে।
  • উইকিপিডিয়ার কোথাও এই বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

যদি বিষয়টির ওপর ভিন্ন নামে ইতিমধ্যেই কোনো নিবন্ধ থেকে থাকে, তবে আপনার প্রস্তাবিত শিরোনামটিকে সেই পাতার একটি পুনর্নির্দেশ বা রিডাইরেক্ট হিসেবে তৈরি করুন। এটি কীভাবে করতে হয়, তা 'উইকিপিডিয়ার ওয়েব তৈরি এবং মেরামত করা' নামক অষ্টম অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আপনি বিদ্যমান নিবন্ধটি সম্প্রসারণের কাজ করতে পারেন; কারণ উইকিপিডিয়ার খুব কম নিবন্ধই স্বয়ংসম্পূর্ণ। উইকিপিডিয়ার বিপুলসংখ্যক নিবন্ধের কথা বিবেচনা করলে, বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে লিখতে আগ্রহী লেখকদের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতিই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

যদি একই বিষয়ে একাধিক নিবন্ধ তৈরি হয়ে থাকে এবং সেগুলোকে একে অপরের প্রতিলিপি বলে মনে হয়, তবে সেগুলোকে একত্র করার প্রয়োজন হতে পারে। কীভাবে নিবন্ধ একত্র বা মার্জ করতে হয়, তার নির্দেশনার জন্য অষ্টম অধ্যায় 'উইকিপিডিয়ার ওয়েব তৈরি এবং মেরামত করা' দেখতে পারেন। এর ফাঁকে আপনি নিবন্ধগুলোর মানোন্নয়নের কাজও চালিয়ে যেতে পারেন।

যদি আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি বৃহত্তর কোনো নিবন্ধে আলোচনা করা হয়ে থাকে, তবে আপনি সেই নিবন্ধটিতে আরও তথ্য যুক্ত করে তা সমৃদ্ধ করতে পারেন। আর যদি বিষয়টি নিয়ে আলাদা নিবন্ধ তৈরি করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য থাকে, তবে আপনি নতুন একটি শিরোনাম দিয়ে সেই অংশটিকে বিভক্ত করে নতুন নিবন্ধ তৈরি করতে পারেন (অষ্টম অধ্যায় দেখুন)। নতুন পাতায় একটি উপযুক্ত ভূমিকাংশ, উপসংহার, তথ্যসূত্র এবং "আরও দেখুন" অনুচ্ছেদে প্রয়োজনীয় সংযোগ বা লিঙ্ক যুক্ত করতে ভুলবেন না।

বিষয়টি যদি অন্যান্য নিবন্ধে উল্লেখিত থাকে কিন্তু বিস্তারিত আলোচনা না থাকে, তবে আপনার কাঙ্ক্ষিত শিরোনামটির সাথে প্রতিটি উল্লেখকে উইকিলিঙ্ক হিসেবে যুক্ত করুন। এটি আপনার নতুন নিবন্ধটিকে উইকিপিডিয়ার বিদ্যমান অন্যান্য নিবন্ধের সাথে সংযুক্ত করবে। এছাড়া, এসব উল্লেখ পর্যালোচনা করলে আপনি গবেষণার জন্য চমৎকার অনেক সূত্র পেতে পারেন। যেকোনো কৌতূহলোদ্দীপক বা অপ্রত্যাশিত তথ্য নজরে এলে তা টুকে রাখুন এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র পেলে সেগুলো সংগ্রহ করুন।

যদি নিবন্ধের শিরোনামটি ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে কিন্তু সেটি ভিন্ন কোনো বিষয়ের ওপর হয়, তবে আপনাকে সম্ভবত বর্তমান নিবন্ধটিকে আরও সুনির্দিষ্ট শিরোনামে স্থানান্তর করতে হবে। এরপর আপনার নিবন্ধটিকেও একটি সুনির্দিষ্ট শিরোনামে তৈরি করতে হবে এবং পাঠকদের সঠিক নিবন্ধটি খুঁজে পেতে সহায়তার জন্য একটি দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতা তৈরি করতে হবে (যা অষ্টম অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে)। উদাহরণস্বরূপ, "জন গ্রে" একটি খুব সাধারণ নাম। আপনি যদি এই নামের একজন স্থপতি সম্পর্কে নিবন্ধ লিখতে চান, তবে সরাসরি 'জন গ্রে' শিরোনাম না দিয়ে আপনার নিবন্ধের শিরোনাম দিতে পারেন 'জন গ্রে (স্থপতি)'। যদি 'জন গ্রে' নামে আগে থেকেই কোনো পদার্থবিজ্ঞানীর নিবন্ধ থাকে, তবে সেই নিবন্ধটিকে 'জন গ্রে (পদার্থবিজ্ঞানী)' শিরোনামে স্থানান্তর করা যেতে পারে। এরপর মূল 'জন গ্রে' পাতায় একটি দ্ব্যর্থতা নিরসন তালিকা তৈরি করা যেতে পারে, যাতে পাঠকেরা সহজেই তাদের কাঙ্ক্ষিত নিবন্ধটি খুঁজে পান।

উইকিপিডিয়ায় আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে কোনো নিবন্ধ বা উল্লেখ খুঁজে না পেলে লেখা শুরু করার আগে একটু ভাবুন। আপনার বিষয়টি কেন কোথাও উল্লেখ নেই? বিষয়টি কি আদৌ উল্লেখযোগ্য (নিচে "বিপজ্জনক বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা" অংশটি দেখুন)? আপনি কি সম্ভাব্য সব নামে অনুসন্ধান করেছেন? মাথায় যতগুলো বিকল্প নাম আসে, তার সবগুলো দিয়ে ভালোভাবে অনুসন্ধান করুন। যদি আপনি নিশ্চিত হন যে আপনার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য (কিন্তু উইকিপিডিয়ায় অনুপস্থিত), তবে খেয়াল রাখবেন যেন এটিকে বিদ্যমান অন্যান্য নিবন্ধের সাথে সংযুক্ত করা যায়। সাধারণত, নতুন নিবন্ধ তৈরি করার আগে বিদ্যমান প্রাসঙ্গিক নিবন্ধগুলোতে (যেমন মূল পাঠ্যে বা 'আরও দেখুন' অনুচ্ছেদে) প্রস্তাবিত নিবন্ধটির লাল লিঙ্ক যুক্ত করা উচিত; এতে আপনার নতুন তৈরি করা পাতাটি অনাথ বা পিতৃহীন হবে না।

বিপজ্জনক বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা

[সম্পাদনা]

উইকিপিডিয়ায় আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি সম্পর্কে কোনো নিবন্ধ বা উল্লেখ না থাকলে তার কারণ খোঁজার চেষ্টা করুন। প্রথম অধ্যায় 'উইকিপিডিয়ায় কী আছে?'-তে উল্লিখিত নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির নির্দেশিকাগুলো ("অন্যান্য নির্দেশিকা"), বিশেষ করে উল্লেখযোগ্যতার নির্দেশিকা (শর্টকাট WP:NOTE) এবং যেসব বিষয় নিয়ে লেখা অনুচিত সে সম্পর্কিত পাতাগুলো (শর্টকাট WP:DUMB) পুনরায় পড়ে নিন।

নতুন লেখকেরা প্রায়ই কিছু সাধারণ ভুল করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো আত্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে নিবন্ধ তৈরি করা এবং উল্লেখযোগ্যতা যাচাই না করেই কোনো বিষয়ে লিখতে শুরু করা। আত্মপ্রচারমূলক নিবন্ধগুলো বিশ্বকোষীয় গুরুত্বের তোয়াক্কা না করে কেবল প্রচারণার উদ্দেশ্যে লেখা হয়; আর সাধারণত নিবন্ধের বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেই এই কাজ করে থাকেন। আপনি যদি নিজেকে বা নিজের প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে নিবন্ধ লেখার কথা ভেবে থাকেন, তবে অনুগ্রহ করে তা থেকে বিরত থাকুন। সৎ উদ্দেশ্যে লেখা হলেও এ ধরনের নিবন্ধকে আত্মপ্রচার হিসেবেই গণ্য করা হয় এবং প্রায়শই তা মুছে ফেলা হয়। তাছাড়া, নিজের সম্পর্কে নিবন্ধ লেখার একটি বড় অসুবিধা হলো: নিবন্ধটি একবার প্রকাশিত হওয়ার পর এর ওপর আপনার আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এতে আপনার ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি যেকোনো নেতিবাচক তথ্যও সমানভাবে উঠে আসতে পারে। (ভেবে দেখুন: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকাও আপনার জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশ করবে না।)

উল্লেখযোগ্যতা যাচাই না করে নিবন্ধ তৈরির প্রবণতা অন্যান্য ক্ষেত্রেও দেখা যায়। সাধারণত যেসব বিষয় উল্লেখযোগ্যতার মাপকাঠিতে প্রান্তিক পর্যায়ে থাকে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্থানীয় কোনো ব্যান্ড দল, জীবিত ব্যক্তি এবং নতুন কোনো চলচ্চিত্র, বই বা অ্যালবামের নিবন্ধ। প্রথম অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ধরনের প্রতিটি বিষয়ের জন্যই উইকিপিডিয়ার সুনির্দিষ্ট উল্লেখযোগ্যতা নির্দেশিকা রয়েছে। এই নির্দেশিকাগুলো মেনে চলুন এবং আপনার নিবন্ধটি একটি বিশ্বকোষের জন্য কতটা মানানসই, তা বিবেচনা করুন।

অতীতে মুছে ফেলা হয়েছে এমন কোনো বিষয়ে নতুন করে নিবন্ধ তৈরি করাও অনুচিত। আপনি যদি এমন কোনো বিষয়ে লেখা শুরু করেন যা আগে তৈরি করার পর মুছে ফেলা হয়েছিল, তবে একটি সতর্কবার্তা দেখতে পাবেন যেখানে লেখা থাকবে, 'বিজ্ঞপ্তি: আপনি এমন একটি পাতা পুনরায় তৈরি করছেন যা মুছে ফেলা হয়েছে'। এর অর্থ হলো, এক বা একাধিক সম্পাদক ইতিপূর্বেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে বিষয়টি উইকিপিডিয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। যদি নিবন্ধটি সম্প্রদায়গত আলোচনার মাধ্যমে মুছে ফেলা হয়ে থাকে ('মুছে ফেলার জন্য নিবন্ধ' অথবা সপ্তম অধ্যায়ের 'পরিষ্করণ, প্রকল্প এবং প্রক্রিয়া' অংশটি দেখুন), তবে সতর্কবার্তার সাথে সেই আলোচনার একটি সংযোগও যুক্ত থাকে। সংযোগটি অনুসরণ করে বোঝার চেষ্টা করুন কেন পাতাটি মুছে ফেলা হয়েছিল: বিষয়টি কি সত্যিই উইকিপিডিয়ার জন্য অনুপযুক্ত ছিল, নাকি কেবল মান খারাপ হওয়ায় তা মুছে ফেলা হয়েছিল এবং এখন মানোন্নয়ন করে সেটি পুনরায় তৈরি করা সম্ভব? এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে প্রশাসকদের সহায়তা নিতে পারেন, কারণ মুছে ফেলা সংস্করণ দেখার অধিকার কেবল তাদেরই রয়েছে।

নিবন্ধ শুরু করা

[সম্পাদনা]

অ্যাকাউন্টে প্রবেশ বা লগ-ইন করা থাকলে আপনি যেকোনো শিরোনাম বেছে নিয়ে লেখা শুরু করতে পারেন। নতুন নিবন্ধ তৈরি করতে চাইলে উইকিপিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলার এখনই উপযুক্ত সময়; কারণ, নতুন পাতা তৈরি করতে হলে আপনাকে অবশ্যই অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করা অবস্থায় থাকতে হবে। এ বিষয়ে প্রাথমিক নির্দেশনার জন্য উইকিপিডিয়া:আপনার প্রথম নিবন্ধ (শর্টকাট WP:FIRST) পাতাটি দেখতে পারেন।

একটি লাল লিঙ্কে ক্লিক করুন

[সম্পাদনা]

সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বিদ্যমান কোনো পাতায় থাকা লাল লিঙ্ক থেকে নিবন্ধ শুরু করা। ধরুন, আপনার নির্বাচিত বিষয়টি হলো 'জিঞ্জারব্রেড কটেজ আর্কিটেকচার', এবং আপনি এই শিরোনামে একটি নতুন নিবন্ধ লিখতে চান। এমন হতে পারে যে, শব্দটি ইতিমধ্যেই উইকিপিডিয়ার অন্য কোনো পাতায় (যেমন: কটেজ আর্কিটেকচার বা জিঞ্জারব্রেড হাউস সম্পর্কিত সাধারণ কোনো নিবন্ধে) ব্যবহৃত হয়েছে; সেখানে আপনি সেটিকে একটি লাল লিঙ্কে পরিণত করে নিতে পারেন। অথবা, উইকিপিডিয়ায় কোনো কিছু অনুসন্ধান করার পর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেলেও, অনুসন্ধান করা শব্দের সাথে মিলে যায় এমন কোনো লাল লিঙ্ক আপনার সামনে আসতে পারে।

লাল লিঙ্ক

'সংযুক্ত পাতাগুলো' বা সংযোগকারী পৃষ্ঠাসমূহ অপশনটি লাল লিঙ্কের ক্ষেত্রেও কাজ করে (যখন কাঙ্ক্ষিত পাতাটি থাকে না, তখন অনুসন্ধান পাতায় একটি বিকল্প দেখায়: উইকিপিডিয়ার যেসব পাতা থেকে এই পাতায় সংযোগ রয়েছে, তা দেখুন)। নিবন্ধ লেখা শুরু করার আগে কোন কোন পাতা থেকে এখানে সংযোগ বা ব্যাকলিঙ্ক রয়েছে, তা যাচাই করলে আপনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগে থেকেই থাকা তথ্যগুলো সম্পর্কে ধারণা পাবেন। এছাড়া, আগে থেকেই কতগুলো পাতা এর সাথে যুক্ত রয়েছে তা দেখে বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ বা জনপ্রিয়, তারও একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আপনি চাইলে নিজের ব্যবহারকারী পাতায় 'জিঞ্জারব্রেড কটেজ আর্কিটেকচার'-এর একটি লাল লিঙ্ক যুক্ত করতে পারেন; এভাবেই নিজের তৈরি করা নিবন্ধগুলোর একটি তালিকা শুরু করা যেতে পারে। নতুন নিবন্ধগুলোকে এভাবে তালিকাবদ্ধ করে রাখা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য একটি কাজ, এবং অন্যান্য উইকিপিডিয়ানরাও আপনার তৈরি করা নিবন্ধগুলো দেখতে আগ্রহী হবেন।

লাল লিঙ্কে ক্লিক করলে 'জিঞ্জারব্রেড কটেজ আর্কিটেকচার সম্পাদনা' শিরোনামসহ একটি ফাঁকা সম্পাদনা পাতা আসবে (চিত্র ৬.১, "একটি নতুন নিবন্ধের জন্য ফাঁকা সম্পাদনা উইন্ডো" দেখুন)। সেখানে সরাসরি টাইপ করা শুরু করতে পারেন! অথবা, আপনার লেখা যদি আগে থেকেই প্রস্তুত করা থাকে, তবে তা সরাসরি সেখানে যুক্ত করে দিন ("নিবন্ধের খসড়া তৈরি করা" পরিচ্ছেদটি দেখতে পারেন)।

আপনার কাজ প্রাকদর্শন বা প্রিভিউ করে দেখুন; বিন্যাস, বিরামচিহ্ন ও বানান ভুল থাকলে তা সংশোধন করে নতুন নিবন্ধটি সংরক্ষণ করুন। এটি যে আপনার প্রথম সম্পাদনা, তা বোঝানোর জন্য একটি সংক্ষিপ্ত সম্পাদনা সারাংশ যুক্ত করুন। এই নির্দেশনাগুলো মেনে চললে নতুন পাতাটি পুরোপুরি অনাথ বা এতিম হবে না; কারণ অন্তত একটি পাতায় আপনার নিবন্ধটির নীল লিঙ্ক যুক্ত থাকবে। এছাড়া, 'জিঞ্জারব্রেড কটেজ আর্কিটেকচার'-এর পাশের প্যানেল থেকে 'সংযুক্ত পাতা' বা সংযোগকারী পৃষ্ঠাসমূহ-এ ক্লিক করলে আপনি দেখতে পাবেন আগে থেকেই কোন পাতাগুলো আপনার নিবন্ধের সাথে যুক্ত ছিল (উদাহরণস্বরূপ, এই নিবন্ধটি অন্য কোনো সম্পাদকের তৈরি করার তালিকায় থাকলে তা দেখা যাবে)।

চিত্র ৬.১. একটি নতুন নিবন্ধের জন্য ফাঁকা সম্পাদনা পাতা একটি নতুন নিবন্ধের জন্য ফাঁকা সম্পাদনা পাতা

নিবন্ধের শিরোনামে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য পাতাটি স্থানান্তর করার প্রয়োজন হয়, কারণ শিরোনাম সরাসরি সম্পাদনা করা যায় না। লাল লিঙ্ক দিয়ে নিবন্ধ শুরু করার একটি বড় সুবিধা হলো, এতে শিরোনাম ভুল হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম থাকে।

নিবন্ধ শুরু করার আরও দুটি উপায়

[সম্পাদনা]

নতুন পাতা তৈরির সহজ পদ্ধতি জানতে আপনি 'সাহায্য:নতুন একটি পাতা শুরু করা' পাতাটির সহায়তা নিতে পারেন। উইকিপিডিয়ার ওপরের দিকের অনুসন্ধান বাক্সে আপনার কাঙ্ক্ষিত নিবন্ধের শিরোনামটি লিখে খুঁজুন। উক্ত শিরোনামে আগে থেকে কোনো নিবন্ধ না থাকলে, নতুন পাতা তৈরির একটি বিকল্প আপনার সামনে আসবে।

নিবন্ধ শুরু করার আরেকটি সাধারণ পদ্ধতি হলো ওয়েব ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে ইউআরএল হিসেবে নিবন্ধের নামটি সরাসরি টাইপ করা। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে http://bn.wikipedia.org/wiki/রাঙাবতী_পাখি লিখে আপনি সরাসরি রাঙাবতী_পাখি শিরোনামের নিবন্ধটি তৈরির কাজ শুরু করতে পারেন।

ব্রাউজারের মাধ্যমে উইকিপিডিয়ায় নেই এমন কোনো পাতার ঠিকানায় গেলে একটি বার্তা দেখাবে যে, পাতাটি বর্তমানে বিদ্যমান নেই। সেই বার্তার সাথেই নতুন নিবন্ধটি তৈরি করার একটি সংযোগ বা লিঙ্ক দেওয়া থাকবে; তবে এই সুবিধাটি পেতে আপনাকে অবশ্যই নিজের অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করা থাকতে হবে। এভাবে খুব দ্রুত নিবন্ধ তৈরি করা গেলেও, আগে থেকে আছে এমন কোনো পাতা থেকে উইকিলিঙ্ক তৈরির মাধ্যমে নতুন নিবন্ধ শুরু করাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। এতে আপনার নতুন নিবন্ধটি অনাথ বা এতিম হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। অন্যদিকে সরাসরি ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বার পদ্ধতিটি ব্যবহার করলে একই বিষয়ে একাধিক নিবন্ধ তৈরি হয়ে যাওয়া, শিরোনামে বানান ভুল থাকা বা অন্য কোনো ত্রুটিযুক্ত নামে নিবন্ধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

শিরোনাম নির্ধারণের জটিলতা

[সম্পাদনা]

উইকিপিডিয়ায় নতুন নিবন্ধ তৈরির ক্ষেত্রে নামকরণের কিছু সুনির্দিষ্ট রীতি রয়েছে, যা অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। কোনো কিছু খোঁজার সময় এই রীতিগুলোর সাহায্যে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের সঠিক শিরোনাম অনুমান করা সহজ হয়। সুতরাং, কেবল নিয়মরক্ষার জন্যই নয়, বরং পাঠকদের কাছে সুন্দর ও সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ব্যবহারবান্ধব শিরোনাম তুলে ধরতেই এগুলো মেনে চলা প্রয়োজন। সাধারণত, উইকিপিডিয়ায় আগে থেকে থাকা নিবন্ধগুলোর শিরোনাম দেখলেই এসব রীতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে মৌলিক নিয়ম হলো, সর্বদা একবচন রূপ ব্যবহার করা। যেমন: সাইবেরিয়ান টাইগারসমূহ না লিখে সাইবেরিয়ান টাইগার লেখা হয়। তবে বহুবচন বিশেষ্য পদের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, লম্বা পায়ের নিবন্ধটির শিরোনাম ইংরেজিতে 'Stilts' রাখা হয়েছে; কারণ একবচনে 'স্টিল্ট' বলতে সাধারণত একধরনের পাখিকে বোঝায়, আর খেলার সরঞ্জাম হিসেবে এটি জোড়ায় ব্যবহৃত হয়।

ব্যক্তির জীবনীভিত্তিক নিবন্ধের নামকরণের ক্ষেত্রে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। জীবনী নিবন্ধের শিরোনাম সাধারণত 'প্রথম নাম' ও 'শেষ নাম'—এই কাঠামোতে রাখা উচিত। তবে রাজপরিবারের সদস্য, প্রাচীন রোমান ব্যক্তিত্ব, একাধিক উপাধিধারী ব্যক্তি এবং অন্যান্য বিশেষ ক্ষেত্রে এই রীতি অনুসরণ করা বেশ কঠিন। উদাহরণস্বরূপ, আভিজাত্যসূচক উপাধিগুলো প্রায়ই বাদ দেওয়া হয় বলে 'রেমন্ড, কাউন্ট অব প্রোভেন্স'-এর নিবন্ধটি 'রেমন্ড অব প্রোভেন্স' শিরোনামেও থাকতে পারে। আর যদি একই নামের একাধিক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব থাকেন? যেমন, নামের শেষে রোমান সংখ্যাযুক্ত প্রোভেন্সের 'রেমন্ড দ্বিতীয়' (ইংরেজিতে 'রেমন্ড দ্য সেকেন্ড' নয়)? আবার নামের বানানটি ঠিক কেমন হবে? রেমন্ড, রেমুন্ড, নাকি রাইমুন্ড? নামের মধ্যকার 'অব' শব্দটি ফরাসি 'দ্য' (de) হলে কী হবে? এ ধরনের জটিলতায় নির্দিষ্ট নিবন্ধটি মূলত কাতালান বানান অনুসারে Ramon Berenguer II, Count of Provence শিরোনামে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য সব নামের বৈচিত্র্য থেকে যদি মূল নিবন্ধে পুনর্নির্দেশ বা রিডাইরেক্ট করা থাকে, তবে 'রেমন্ড', 'কাউন্ট' এবং 'প্রোভেন্স' শব্দগুলো দিয়ে গুগলে অনুসন্ধান করাই কাঙ্ক্ষিত নিবন্ধটি খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে দ্রুত উপায়। জীবনী নিবন্ধ নামকরণের বিস্তারিত নির্দেশনা উইকিপিডিয়া:ব্যক্তিবিশেষের নামকরণের রীতি পাতায় পাওয়া যাবে।

আরও কিছু উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন, অ্যাসিসির সেন্ট ফ্রান্সিস সম্পর্কে লেখা নিবন্ধটির শিরোনাম Saint Francis of Assisi না রেখে Francis of Assisi রাখা হয়েছে; যদিও প্রথম নামটি এক্ষেত্রে একটি পুনর্নির্দেশ হিসেবে কাজ করে। সেইন্ট উইকিপ্রকল্পের উইকিপিডিয়া:উইকিপ্রকল্প_সাধু পাতায় সাধুদের নিবন্ধ নামকরণের সুনির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ রয়েছে; এখানকার সম্পাদকরা এ ধরনের নিবন্ধের জন্য বিশেষ রচনাশৈলী বা ম্যানুয়াল অব স্টাইল তৈরি করেছেন। নামকরণের ক্ষেত্রে সাধারণত সর্বাধিক প্রচলিত ও স্বীকৃত নামটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তাই ম্যাডাম মাও-এর নিবন্ধটি Madame Mao নামে না রেখে বরং Jiang Qing নামে রাখা হয়েছে (এক্ষেত্রেও প্রথম নামটি একটি পুনর্নির্দেশ)। ইংরেজি নিবন্ধের ক্ষেত্রে শিরোনামের শুরুতে সাধারণত আর্টিক্যাল বা পদাশ্রিত নির্দেশক (যেমন: দি, এ, অ্যান) যুক্ত করা হয় না। যেমন: 'The Statue of Liberty' না লিখে কেবল 'Statue of Liberty' লেখা হয়। ইংরেজি নিবন্ধের শিরোনামে শুধুমাত্র প্রোপার নাউন বা নামবাচক বিশেষ্যের আদ্যক্ষর বড় হাতের বা ক্যাপিটাল লেটারে হয়। যেমন: 'Pythagorean Theorem' নয়, লিখতে হবে 'Pythagorean theorem'। যদি একাধিক নিবন্ধের শিরোনাম একই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তা সমাধানের জন্য উইকিপিডিয়ায় বিষয়ভেদে দ্ব্যর্থতা নিরসনের নানা পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতিটি হলো, নিবন্ধের নামের পাশে প্রথম বন্ধনীর ভেতর একটি পরিমার্জক বা কোয়ালিফায়ার যুক্ত করা; যেমনটি আগের 'জন গ্রে'-এর উদাহরণে দেখানো হয়েছিল। পাতার শিরোনামের দ্ব্যর্থতা নিরসন কীভাবে করতে হয়, তার সাধারণ নির্দেশিকা মূল দ্ব্যর্থতা নিরসন পাতায় পাওয়া যাবে, যার শর্টকাট WP:DAB#NAME।

আপনার আগ্রহের বিষয়ের সাথে মিল রয়েছে, এমন সমজাতীয় অন্যান্য নিবন্ধের শিরোনাম খেয়াল করলে সঠিক শিরোনাম নির্ধারণ করা আপনার জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। এই সমস্ত নিয়মকানুন উইকিপিডিয়ায় স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ করা আছে; বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়া:নামকরণের রীতি পাতাটি দেখুন, যার শর্টকাট WP:NAME। এটি উইকিপিডিয়ার একটি আনুষ্ঠানিক নীতিমালা, যেখানে নির্দিষ্ট বিষয় অনুযায়ী নামকরণের বিভিন্ন রীতি উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া চাইলে 'বিষয়শ্রেণী:উইকিপিডিয়া নামকরণের রীতি' পাতাও দেখতে পারেন।

পাতার শিরোনামে কিছু অক্ষর ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, যার মধ্যে রয়েছে:

  1. < > [ ] | { }

এছাড়া আরও কিছু অক্ষর রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করলে প্রযুক্তিগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। এগুলোর সম্পূর্ণ তালিকা WP:NAME পাতায় পাওয়া যাবে।

'মৌলিক সম্পাদনা' নামক পঞ্চম অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিডিয়াউইকি সফটওয়্যারের স্বয়ংক্রিয় নিয়মের কারণে ইংরেজি শিরোনামের প্রথম অক্ষরটি সর্বদা বড় হাতের বা ক্যাপিটাল লেটারে হয়। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে শিরোনামগুলো কেস সেনসিটিভ হয়ে থাকে; অর্থাৎ একাধিক শব্দের ইংরেজি শিরোনামে বড় হাতের অক্ষরগুলো বেশ সাবধানে ব্যবহার করতে হয়। যেমন, 'Thomas Jefferson' এবং 'Thomas jefferson' কখনোই এক বিষয় নয়। যেসব ইংরেজি শিরোনামের প্রথম অক্ষরটি ছোট হাতের বা স্মল লেটারে হওয়াই যুক্তিযুক্ত—যেমন iPod বা e—সেগুলোর জন্য একটি বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে; আর তা হলো টেমপ্লেট:Lowercase টেমপ্লেট। এই টেমপ্লেটটি ব্যবহার করলে নিবন্ধের শিরোনামটি ছোট হাতের অক্ষরে প্রদর্শিত হয় (তবে ওয়েব ঠিকানায় বা ইউআরএল-এ তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বড় হাতেরই থেকে যায়)। বিখ্যাত মার্কিন কবি ই. ই. কামিংস-এর নামের ক্ষেত্রে, নিবন্ধটিতেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা আছে, তাই সেখানে আলাদা করে কোনো টেমপ্লেট ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।

নিবন্ধের খসড়া তৈরি করা

[সম্পাদনা]

বিষয় নির্বাচন ও শিরোনাম নির্ধারণের পর আপনাকে মূল নিবন্ধ লেখার কাজ শুরু করতে হবে। মানসম্মত লেখা তৈরি করতে অনেক সময় একাধিক খসড়ার প্রয়োজন হয়। মূল পাতায় প্রকাশের আগে অন্যত্র নতুন নিবন্ধটির খসড়া তৈরি করে নেওয়া ভালো। খসড়া তৈরি করলে আপনি বিভিন্ন ধারণা টুকে রাখার পাশাপাশি তথ্যসূত্রগুলো একত্র করতে পারবেন। এছাড়া, কী লিখতে চান তা গুছিয়ে নেওয়ার সময় নিজের সুবিধার জন্য অসম্পূর্ণ বাক্য বা মন্তব্যও রেখে দেওয়া যায়—এতে বিশ্বকোষে "নিম্নমানের" তথ্য যুক্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না।

আপনি প্রধানত তিনটি জায়গায় নিবন্ধের খসড়া তৈরি করতে পারেন: মূল নিবন্ধের পাতায়, আপনার ব্যবহারকারী নামস্থানে, অথবা অফলাইনে কোনো টেক্সট এডিটরে। তবে নতুন ব্যবহারকারীদের সরাসরি মূল নিবন্ধে খসড়া তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয় না। কারণ, কাজ চলমান অবস্থাতেই অন্য কোনো সম্পাদক তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন অথবা নিবন্ধটি মুছে ফেলার প্রস্তাব দিতে পারেন। নির্বিঘ্নে লেখার জন্য ব্যবহারকারী নামস্থান ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো, কারণ এখানে অন্য সম্পাদকদের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা খুবই কম। প্রাথমিকভাবে আপনার ব্যবহারকারী পাতাতেই খসড়া তৈরি করতে পারেন এবং পরবর্তীতে বড় পরিসরে কাজ করার জন্য আলাদা উপপাতা তৈরি করে নিতে পারেন।

আপনি চাইলে নিজের ব্যবহারকারী নামস্থানে একটি উপপাতা তৈরি করতে পারেন—এটি হতে পারে মূল ব্যবহারকারী পাতা অথবা এর অধীনস্থ অন্য কোনো পাতা ('একজন উইকিপিডিয়ান হওয়া' শীর্ষক ১১তম অধ্যায় দেখুন)। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ব্যবহারকারী নাম যদি Ydobon হয়, তবে আপনার ব্যবহারকারী পাতাটি হবে User:Ydobon। এরপর ব্যবহারকারী নামের শেষে একটি ফরোয়ার্ড স্ল্যাশ (/) দিয়ে সহজেই উপপাতা তৈরি করতে পারবেন, যেমন: User:Ydobon/Draft1। আপনার ব্যবহারকারী পাতায় কেবল খসড়া লিখে একটি লাল লিঙ্ক তৈরি করুন এবং সেটিতে ক্লিক করে লেখা শুরু করুন। উপপাতাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই মূল পাতার সাথে যুক্ত থাকে। ফরোয়ার্ড স্ল্যাশ দিয়ে উপপাতা তৈরির এই সুবিধাটি অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজ করলেও, মূল নিবন্ধ নামস্থানে এর কোনো অনুমতি নেই। উইকিপিডিয়ার প্রকল্প নামস্থানে উপপাতার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে; বিশেষ করে প্রক্রিয়াজনিত পাতায় (সপ্তম অধ্যায় 'পরিষ্করণ, প্রকল্প এবং প্রক্রিয়া'-তে বর্ণিত), যেখানে প্রতিটি আলোচনার জন্য আলাদা পাতা তৈরি করা হয়। বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়া:উপপাতা দেখুন।

আপনি চাইলে পুরোপুরি অফলাইনে কোনো ওয়ার্ড প্রসেসরেও কাজ করতে পারেন এবং লেখা শেষে তা মূল নিবন্ধে যুক্ত করে দিতে পারেন। এই পদ্ধতির বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। খসড়াটি প্রিন্ট করে পড়লে অনেক সময় বাক্যের অসঙ্গতি, ভুল গঠন ও সাবলীলতার অভাব সহজেই ধরা পড়ে। এছাড়া, ওয়ার্ড প্রসেসরে কাজ করলে বানান পরীক্ষা করা এবং লেখাকে নতুন করে সাজানো অনেক সহজ হয়।

ব্যবহারকারী নামস্থানে খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে আপনি যে দৃশ্যমান বিন্যাসে লিখবেন, প্রকাশের পরও নিবন্ধটি ঠিক সেভাবেই দেখাবে। তাই, উইকি মার্কআপ বা সিনট্যাক্স সঠিকভাবে বিন্যস্ত করার জন্য ব্যবহারকারী নামস্থানে খসড়া তৈরি করাই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। সবচেয়ে ভালো উপায় হতে পারে অফলাইনে লেখা শুরু করা এবং উইকি ফরম্যাটিং যুক্ত করার সময় খসড়াটি ব্যবহারকারী নামস্থানে নিয়ে আসা। ব্যবহারকারী নামস্থান মূলত একটি উন্মুক্ত জায়গা, যেখানে আপনি অন্যান্য সম্পাদকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের মতামত নিতে পারেন। তবে, কাউকে সরাসরি অনুরোধ না করা হলে অন্যের খসড়ায় হস্তক্ষেপ বা সম্পাদনা করা অনুচিত।

মূল নিবন্ধ নামস্থানে কোনো নিবন্ধ একবার প্রকাশিত হওয়ার পর আপনি সেটির ওপর আর একক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন না। আপনি যদি মূল নিবন্ধে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে চান, তবে পাতার একেবারে ওপরে টেমপ্লেট:Inprogress টেমপ্লেটটি যুক্ত করে নিতে পারেন। এই টেমপ্লেটটি সাধারণ পাঠকদের বিভ্রান্তি এড়াবে এবং সম্পাদনা দ্বন্দ্ব কমাবে। এর মাধ্যমে অন্যান্য ব্যবহারকারীরাও বুঝতে পারবেন যে আপনি নিবন্ধটিতে কাজ করছেন; ফলে নিবন্ধটি মুছে ফেলার প্রাথমিক প্রস্তাব আসার আশঙ্কাও কমে যাবে। তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য এই টেমপ্লেটটি ফেলে রাখা ঠিক নয় (এবং অন্যকে সম্পাদনা থেকে বিরত রাখার কোনো স্থায়ী উপায়ও এটি নয়)। একইভাবে, খসড়া তৈরির সুবিধার্থে কোনো লুকানো মন্তব্য ব্যবহার করে থাকলে কাজ শেষে সেগুলো সরিয়ে ফেলুন।

ভুলবেন না

[সম্পাদনা]

উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে স্বাক্ষর করার কোনো প্রয়োজন নেই। নতুন নিবন্ধ তৈরির সময় অবশ্যই একটি সংক্ষিপ্ত সম্পাদনা সারাংশ যুক্ত করুন, যেখানে কয়েক শব্দে সম্পাদনার সারসংক্ষেপ লেখা থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একবার 'সংরক্ষণ করুন' বোতামে ক্লিক করার পর নিবন্ধটির ওপর আপনার আর কোনো একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের যে কেউ আপনার তৈরি করা নিবন্ধটি সম্পাদনা করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

http://bn.wikipedia.org/wiki/উইকিপিডিয়া:অনুরোধের_খাতা বিষয় অনুযায়ী সাজানো নিবন্ধ তৈরির অনুরোধের তালিকা

http://bn.wikipedia.org/wiki/উইকিপিডিয়া:উইকিপ্রকল্প_নিখোঁজ_বিশ্বকোষীয়_নিবন্ধ অন্যান্য বিশ্বকোষে থাকলেও ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় নেই, এমন নিবন্ধের বিষয়ভিত্তিক তালিকা

http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Most_wanted_articles অস্তিত্বহীন অথচ উইকিপিডিয়ার অন্যান্য পাতা থেকে সবচেয়ে বেশি সংযুক্ত থাকা নিবন্ধের তালিকা

https://bn.wikipedia.org/wiki/উইকিপিডিয়া:আপনার_প্রথম_নিবন্ধ নতুন পাতা তৈরির নির্দেশিকা; এখানে থাকা অনুসন্ধান বাক্সের সাহায্যে কোনো পাতা উইকিপিডিয়ায় আগে থেকে আছে কি না, তা যাচাই করা যায়

https://bn.wikipedia.org/wiki/উইকিপিডিয়া:নিবন্ধ_সৃষ্টিকরণ নিবন্ধ তৈরির প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে অনিবন্ধিত ব্যবহারকারীরাও নতুন নিবন্ধ তৈরির অনুরোধ জানাতে পারেন

http://en.wikipedia.org/wiki/Help:Page_name পাতার নামকরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা

https://bn.wikipedia.org/wiki/উইকিপিডিয়া:নিবন্ধের_শিরোনাম উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ নামকরণের নীতিমালা

https://bn.wikipedia.org/wiki/উইকিপিডিয়া:উপপাতা উপপাতা তৈরির নির্দেশিকা, যেখানে ব্যবহারকারী উপপাতা তৈরির নিয়মাবলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে

ভালোভাবে লেখা

[সম্পাদনা]

উইকিপিডিয়ায় 'নিখুঁত নিবন্ধ' বলতে সম্ভবত কিছু নেই। তবে ভালো লেখা নিয়ে উইকিপিডিয়ানদের বিভিন্ন আলোচনা থেকে একটি আদর্শ নিবন্ধের চমৎকার রূপরেখা পাওয়া যায়। আপনি যদি ফলাফলের চেয়ে কাজের প্রক্রিয়াটিকে বেশি উপভোগ করেন, তবে সহজাতভাবেই আপনি একজন আদর্শ উইকিপিডিয়া সম্পাদক হয়ে উঠতে পারেন। কারণ উইকিপিডিয়ার মূল ভিত্তিই হলো ধারাবাহিক ও ক্রমাগত উন্নতি। সময়ের পরিক্রমায় এখানকার নিবন্ধগুলোর মান ক্রমশ বিকশিত হয়।

একটি ভালো নিবন্ধ পাঠকের প্রয়োজনীয় তথ্যের চাহিদা মেটায়। এটি বিস্তারিত বর্ণনা, প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট এবং সুচিন্তিত ও সাবলীল গদ্যের মাধ্যমে পাঠকদের কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে অবগত করে। অন্ততপক্ষে, একটি ভালো নিবন্ধ এমনভাবে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা উচিত, যেন তা বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ পাঠক—উভয়ের কাছেই সহজে বোধগম্য হয়। উপযুক্ত বর্ণনার মাধ্যমে এটি নির্দিষ্ট বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করে। তবে একটি নিবন্ধ কেবল তার বিষয়বস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একইসাথে একটি ওয়েব পাতাও। উইকিপিডিয়ানদের এই বিষয়টি মাথায় রেখেই লেখা উচিত এবং বিশ্বকোষের আন্তঃসংযোগ বা ওয়েব তৈরির কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত। একটি ভালো নিবন্ধে অন্যান্য পাতার সংযোগ (উইকিলিঙ্ক) এবং বহিঃসংযোগ থাকে। এই বহিঃসংযোগগুলো পাঠকদের নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটগুলোর সন্ধান দেয়। সম্ভব হলে অ্যাকাডেমিক গবেষণাপত্র বা প্রকাশনার তথ্যসূত্র যুক্ত করুন। এর মাধ্যমে আপনি কেবল উইকিপিডিয়াই সমৃদ্ধ করছেন না, বরং ইন্টারনেটের তথ্যভাণ্ডারকেও সমৃদ্ধ করছেন। সংযোগকারী পাতাগুলো—যা তথ্য প্রদানের পাশাপাশি অন্যান্য পাতার সাথে যুক্ত থাকে—পাঠকদের বাড়তি সুবিধা দেয়। উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলো অন্য কোথাও থাকা বিশেষজ্ঞের মতামতকে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করে না, বরং সেই তথ্যগুলো সহজে খুঁজে পাওয়ার পথ তৈরি করে দেয়। ভালো ওয়েব পাতাগুলো তথ্যের শূন্যস্থান পূরণ করে। একটি বিশ্বকোষীয় নিবন্ধ মূলত এই শূন্যস্থানই পূরণ করে, যা বর্তমানে একটি বিস্তৃত ওয়েব নেটওয়ার্কের অংশ।

এই অনুচ্ছেদে আমরা নিবন্ধ লেখার সময় বিবেচনা করার মতো আটটি প্রধান দিক নিয়ে আলোচনা করব। সেই সাথে কাজ সম্পন্ন করার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেব—রচনাশৈলী নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং অন্যদের দিয়ে পর্যালোচনা করানো। আরও পরামর্শের জন্য উইকিপিডিয়া:নিখুঁত নিবন্ধ দেখতে পারেন, যার শর্টকাট WP:PERFECT। সেখানে চমৎকার নিবন্ধ তৈরির প্রায় ২০টি নির্দেশিকা রয়েছে। আবারও বলছি, নিখুঁত হওয়া হয়তো কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। 'বিশ্ব একটি মুক্ত বিশ্বকোষ পেল' নামক দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমরা উল্লেখ করেছি যে, অসম্পূর্ণতা মেনে নেওয়া উইকি সংস্কৃতিরই একটি অংশ। তাই দয়া করে আমাদের পরামর্শগুলোকে উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে এবং উইকিপিডিয়া:উৎকৃষ্ট নিবন্ধ লিখন বা শর্টকাট WP:BETTER পাতার পরিপূরক হিসেবে গ্রহণ করুন।

২.১. রচনাশৈলী নির্দেশিকা দেখা

[সম্পাদনা]

এই অংশের অনেক পরামর্শ ও সংযোগ উইকিপিডিয়ার 'রচনাশৈলী নির্দেশিকা' থেকে নেওয়া হয়েছে, যা মূলত উইকিপিডিয়া সম্প্রদায়েরই তৈরি করা একটি নির্দেশিকা। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো সম্পাদকদের ধারাবাহিকভাবে মানসম্মত নিবন্ধ লিখতে সহায়তা করা। উইকিপিডিয়ার রচনাশৈলী নির্দেশিকা মূলত একটি দীর্ঘ নথি। সময়ের পরিক্রমায় এটি ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে এবং বর্তমানে এটি বিশ্বকোষীয় নিবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে একটি বিশাল সম্মিলিত জ্ঞানভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। এর মূল পাতাটি দেখতে অনেকটা বইয়ের প্রকাশক বা সংবাদপত্রের সম্পাদকদের তৈরি করা 'স্টাইল গাইড'-এর মতোই। তবে এর অধীনে উইকি-শৈলীতে তৈরি অসংখ্য পাতা রয়েছে, যেগুলো উইকিপিডিয়ায় লেখার নিয়মকানুনের এক বিশাল তথ্যভাণ্ডার। এসব পাতায় লেখার ধরন ও কাঠামোর মতো বড় বিষয় থেকে শুরু করে ছোটখাটো ব্যাকরণগত নিয়ম (যেমন: কোথায় কমা বসবে)—সব বিষয়েই সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 'রচনাশৈলী নির্দেশিকা' বলতে সাধারণত উইকিপিডিয়া:রচনাশৈলী-এর পাশাপাশি বিষয়শ্রেণী:উইকিপিডিয়া রচনাশৈলী নির্দেশিকা-এর অধীনে থাকা অন্যান্য পাতাকেও বোঝায়।

উইকিপিডিয়া:রচনাশৈলী নির্দেশনা পাতায় থাকা মূল রচনাশৈলী নির্দেশিকাটি উইকিপিডিয়ার একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা, যার শর্টকাট হলো WP:MOS। এটি এবং এর সাথে যুক্ত অন্যান্য বিশেষায়িত পাতাগুলো নিবন্ধ সম্পাদনার ক্ষেত্রে অপরিহার্য তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করে। লেখক ও সম্পাদকদের নিয়মিত এই নির্দেশিকাটি দেখা উচিত (তবে লেখা শুরু করার আগেই যে এর পুরোটা পড়ে ফেলতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই)।

সম্ভবত এখানকার হাতে গোনা কয়েকটি নির্দেশিকা পাতা আপনার নির্বাচিত বিষয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক হবে। উদাহরণস্বরূপ, যারা নিবন্ধে কম্পিউটার কোডের উদাহরণ যুক্ত করতে চান, কেবল তাদের জন্য উইকিপিডিয়া:রচনাশৈলী নির্দেশনা পাতাটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যার শর্টকাট WP:MOSCOMM। কোন পাতাটি কোথায় আছে এবং তাতে কী লেখা আছে, তা মুখস্থ করার চেয়ে নিজের ব্যবহারকারী পাতায় প্রয়োজনীয় পাতাগুলোর একটি অভ্যন্তরীণ সংযোগ তৈরি করে রাখা বেশি সুবিধাজনক। উদাহরণস্বরূপ, অন্যতম একটি দরকারি পাতা হলো উইকিপিডিয়া:সারাংশ শৈলী, যার শর্টকাট WP:SS। এই পাতায় দীর্ঘ নিবন্ধ কীভাবে সাজাতে হয় এবং একটি একক নিবন্ধে বড় বিষয়গুলো কীভাবে ধাপে ধাপে উপস্থাপন করতে হয়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত রূপের ব্যবহার

রচনাশৈলী নির্দেশিকাকে প্রায়শই সংক্ষেপে MOS বা MoS বলা হয় এবং এর ভেতরের নির্দেশিকাগুলোকে MOS:FLAGS-এর মতো শর্টকাট দিয়ে প্রকাশ করা হয়। উইকিপিডিয়ার এই পাতায় এ ধরনের শর্টকাটগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রয়েছে। তবে সবাই উইকিপিডিয়ার এসব আদ্যক্ষর বা পরিভাষাগুলোর সাথে পরিচিত নাও থাকতে পারেন। অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত রূপের ব্যবহার যেকোনো লেখাকে দুর্বোধ্য করে তুলতে পারে (১৩তম অধ্যায় 'নীতিমালা এবং আপনার ইনপুট'-এ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে)। এই বিষয়টি Wikipedia:WTF? OMG! TMD TLA. ARG! প্রবন্ধে চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যার শর্টকাট WP:OMG।

২.২. ভূমিকাংশ এবং মূল বাক্য

[সম্পাদনা]

যেকোনো নিবন্ধ বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উচিত। প্রথম বাক্যে নিবন্ধের শিরোনাম বা মূল বিষয় ব্যবহার করে বিষয়টির একটি সংজ্ঞা দেওয়া উচিত, এবং এই শিরোনামটি গাঢ় অক্ষরে রাখা বাঞ্ছনীয়। এরপর ভূমিকাংশের বাকি অংশে খুব বেশি বিস্তারিত বিবরণে না গিয়ে, স্পষ্টভাবে ও সঠিকভাবে মূল বিষয়টি এবং এর তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে। মূল বাক্যটি নিয়ে আপনার কোনো সন্দেহ থাকলে, নিবন্ধের শিরোনামটি নিয়ে আরও একবার ভেবে দেখতে পারেন।

নিবন্ধের শুরুতেই বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ বা আকর্ষণীয়, তা তুলে ধরা উচিত। তবে মনে রাখতে হবে, একটি বিশ্বকোষীয় নিবন্ধ কোনো বইয়ের সমালোচনা বা ব্যক্তিগত প্রবন্ধ নয়; আর আপনি এখানে পাঠককে প্রভাবিত করার চেষ্টাও করছেন না। উদাহরণস্বরূপ, w:রবিনসন ক্রুসো নিবন্ধের প্রথম বাক্যেই উল্লেখ থাকা উচিত যে, এটি একটি ইংরেজি উপন্যাস। অন্যদিকে ড্যানিয়েল ডিফো-র সাংবাদিকতা এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সমুদ্রযাত্রার ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে আলোচনা নিবন্ধের ভেতরের অংশে থাকা উচিত। আপনি যদি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে লেখা (যেমন: গবেষণাপত্র বা স্কুলের রচনা) কোনো প্রবন্ধ উইকিপিডিয়ায় যুক্ত করতে চান, তবে নিশ্চিতভাবেই সেটির ভূমিকাংশ নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন হবে।

একটি নিবন্ধের ভূমিকাংশে সর্বোচ্চ তিনটি অনুচ্ছেদ থাকা ভালো, এর বেশি দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়। প্রারম্ভিক এই অংশে মূলত নিবন্ধের মূল অংশের একটি সারসংক্ষেপ থাকবে। এ বিষয়ে আরও পরামর্শ w:উইকিপিডিয়া:রচনাশৈলী নির্দেশনা/ভূমিকাংশ (শর্টকাট WP:LS) পাতায় পাওয়া যাবে।

সংবাদপত্রের কাঠামোগত কিছু মৌলিক ধারণা এ ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে বেশ কার্যকর হতে পারে (উল্টানো পিরামিড নিবন্ধটিতে এই শৈলীর বর্ণনা রয়েছে)। সংবাদের ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিবরণে যাওয়ার আগে, প্রায়শই একটি খবরের কয়েকটি দিক ভূমিকাংশেই একসাথে তুলে ধরা হয়। দীর্ঘ নিবন্ধের মূল অংশের আগে একটি চমৎকার সারসংক্ষেপ তুলে ধরার উপায় হিসেবে উইকিপিডিয়াতেও এই কৌশলটি অত্যন্ত কার্যকর।

উইকিপিডিয়া (জুন ২০০৭) থেকে নেওয়া একটি ভূমিকাংশ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

   হার্বার্ট জর্জ ওয়েলস (২১ সেপ্টেম্বর ১৮৬৬ – ১৩ আগস্ট ১৯৪৬), যিনি এইচ. জি. ওয়েলস নামেই বেশি পরিচিত, ছিলেন একজন ইংরেজ লেখক। মূলত 'দ্য টাইম মেশিন', 'দ্য ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস', 'দ্য ইনভিজিবল ম্যান' এবং 'দ্য আইল্যান্ড অব ডক্টর মোরেউ'-এর মতো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির জন্যই তিনি অধিক পরিচিত। কল্পকাহিনি এবং বাস্তব কাহিনি—উভয় ধারাতেই তিনি প্রচুর লিখেছেন এবং সমসাময়িক উপন্যাস, ইতিহাস ও সামাজিক ভাষ্যসহ সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন। তিনি একজন স্পষ্টভাষী সমাজতান্ত্রিকও ছিলেন। তাঁর পরবর্তী কাজগুলো ক্রমশ রাজনৈতিক এবং শিক্ষামূলক হয়ে ওঠে; ফলে বর্তমানে কেবল তাঁর প্রাথমিক দিককার বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিগুলোই ব্যাপকভাবে পঠিত হয়। হুগো গার্নসব্যাক এবং জুলস ভার্নের সাথে ওয়েলসকেও কখনো কখনো "বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির জনক" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

এই ভূমিকাংশটিতে মোটামুটি একটি সাধারণ A-B-A কাঠামো রয়েছে, যেখানে A হলো "বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি" এবং B হলো "রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি"। (এখানে আপনি যাচাইযোগ্যতার কিছু সম্ভাব্য সমস্যাও লক্ষ করতে পারেন: কে বলেছেন যে তাঁর পরবর্তী কাজগুলো এখন আর তেমন পড়া হয় না, আর কাউকে কোনো কিছুর "জনক" উপাধি দেওয়ার ভিত্তিই বা কী? তবে এই বিষয়গুলো হয়তো নিবন্ধের ভেতরের অংশে আরও ভালোভাবে আলোচনা করা হয়েছে।) উইকিপিডিয়ার নির্দেশিকা অনুসারে, একটি ভূমিকাংশে আদর্শগতভাবে সর্বোচ্চ তিনটি অনুচ্ছেদ থাকা উচিত; তাই এটি উদাহরণের চেয়ে কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। তবে কোনো নিবন্ধে যদি A, B এবং C নামের তিনটি প্রধান ধারণা থাকে, তবে প্রতিটি অনুচ্ছেদে কেবল একটি করে ধারণা উপস্থাপন করাই শ্রেয়। বিষয়ের কাঠামো অনেকটা A-BA-BC-এর মতো হতে পারে, যেখানে A হলো মূল শিরোনাম এবং B ও C হলো সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্কিত বিষয়। তবে ভূমিকাংশ এর চেয়ে বেশি জটিল করা উচিত নয়।

আমরা কার জন্য লিখছি?

আমরা এমন একজন পাঠকের জন্য নিবন্ধ লিখছি, যিনি নির্দিষ্ট বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না, কিন্তু তাকে খুব দ্রুত বিষয়টি বুঝতে হবে। পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য আপনার হাতে মাত্র দশ সেকেন্ড সময় রয়েছে।

   কে, কী, কোথায়, কখন এবং কেন?
   প্রথমেই একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকাংশ, এরপর উল্টানো পিরামিড কাঠামো।
   অপ্রয়োজনীয় শব্দ বাদ দিন।
   দি ইকোনমিস্ট পত্রিকার রচনাশৈলী নির্দেশিকা অনুসারে: স্পষ্টতা এবং সূক্ষ্মতা বজায় রাখুন।
   "কী"-এর চেয়ে "কেন" প্রায়শই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আমি অনেক সময় আমার পাঠকদের দশ থেকে বারো বছর বয়সী অত্যন্ত মেধাবী এক কিশোর হিসেবে কল্পনা করি। এমন কেউ, যার পড়ার দারুণ অভ্যাস রয়েছে, কিন্তু সে নির্দিষ্ট বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানে না। আপনি কি ছোটবেলায় গোগ্রাসে বিশ্বকোষ পড়তেন? (ব্যবহারকারী ডেভিড জেরার্ড-এর "আমার ব্যক্তিগত স্টাইল গাইড" থেকে নেওয়া)।

২.৩. ব্যাপকতা এবং উপযুক্ত দৈর্ঘ্য

[সম্পাদনা]

একটি মানসম্মত উইকিপিডিয়া নিবন্ধে আলোচ্য বিষয়ের প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। অন্য কথায়, একটি বিশ্বকোষীয় নিবন্ধে বিষয়ের সমস্ত দিকই অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এই শর্তটি পূরণ করা একজন লেখকের জন্য বেশ কঠিন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের জীবনের প্রতিটি দিক কি একটি মাত্র নিবন্ধে তুলে ধরা সম্ভব? উইকিপিডিয়ার নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির নীতি অনুযায়ী নিবন্ধে তথ্যের ব্যাপকতা থাকা প্রয়োজন; অর্থাৎ, কোনো বিষয়ে প্রচলিত সবকটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টিভঙ্গিই সেখানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যেমন, ইংরেজি ভাষার বাইরে অন্যান্য সাহিত্যে শেক্সপিয়ারের প্রভাব এবং তাঁর রচনাগুলোর প্রকৃত রচয়িতা নিয়ে যেসব তত্ত্ব বা বিতর্ক রয়েছে, মূল নিবন্ধে সেগুলোরও উল্লেখ থাকা উচিত।

স্বাভাবিকভাবেই, এ ধরনের নিবন্ধের ক্ষেত্রে উপযুক্ত দৈর্ঘ্য বজায় রাখা বেশ কঠিন। এসব ক্ষেত্রে উইকিপিডিয়ার রচনাশৈলী নির্দেশিকায় উল্লেখিত 'সারসংক্ষেপ শৈলী' অনুসরণ করা অত্যন্ত কার্যকর। মূল বিষয়ের ওপর অপ্রয়োজনীয় বিস্তারিত বিবরণে না গিয়ে বরং পর্যাপ্ত তথ্য, গভীরতা ও বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এ ধরনের অতিরিক্ত তথ্যগুলো মূল নিবন্ধে না রেখে এর শাখা নিবন্ধ, সম্পর্কিত অন্যান্য নিবন্ধ (যেমন শেক্সপিয়ারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ w:Shakespeare authorship question নিবন্ধটি), অথবা ক্ষেত্রবিশেষে উইকিমিডিয়ার অন্যান্য সহযোগী প্রকল্পগুলোতে যুক্ত করা যেতে পারে। অনেক সময় নিবন্ধের তথ্যগত ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থেই লেখার বড় কোনো অংশ মূল নিবন্ধ থেকে সরিয়ে অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নিবন্ধে স্থানান্তর করতে হয়।

২.৪. কাঠামো

[সম্পাদনা]

নিবন্ধের যুক্তি ও তথ্যের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে আপনার নিজের ধারণা যতটা স্পষ্ট, পাঠকদেরও ঠিক ততটাই থাকবে—এমনটি আশা করা উচিত নয়। দীর্ঘ বাক্যগুলো ভেঙে ছোট করুন, বিশেষ করে যেগুলো সংযোজক অব্যয় দিয়ে যুক্ত। বিশ্বকোষীয় লেখার ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও জটিল যুক্তিতর্ক খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়। জটিল বা দুর্বোধ্য ভাষা এড়িয়ে উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলো অযথা শব্দবহুল করার পরিবর্তে গোছানো ও সংক্ষিপ্ত রাখা উচিত। ডব্লিউ. এস. গিলবার্ট তাঁর 'এইচ.এম.এস. পিনাফোর' নাটকে লিখেছিলেন, "কারণ ও হেতু নিয়ে মাথা ঘামিও না"। উইকিপিডিয়ানরা জানেন যে, যেকোনো বিষয়ে "কেন" বা কারণের উত্তর দেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাঁরা অতিরিক্ত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এড়িয়ে চলার বিষয়েও সচেতন থাকেন। দীর্ঘ যুক্তিগুলো অবশ্যই সংক্ষিপ্ত ও উপযুক্ত তথ্যসূত্রসমৃদ্ধ হতে হবে।

একটি ভালো নিবন্ধ সর্বদা যৌক্তিকভাবে সাজানো এবং বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিভক্ত থাকে। কোনো ধারণার ঐতিহাসিক পটভূমি একটি নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদে তুলে ধরুন। পরিচ্ছেদটি ভূমিকাংশের ঠিক পরেই থাকবে নাকি নিবন্ধের শেষে যুক্ত হবে, তা মূলত নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে।

w:গ্যাস মাস্ক-এর মতো নিবন্ধে ইতিহাসের পরিচ্ছেদটি রসায়ন অংশের আগে থাকতে পারে, আবার এর বিপরীতটিও হতে পারে। তবে বেশিরভাগ পাঠকের সুবিধার্থে কোনো বিষয়ের এমন দুটি দিক আলাদাভাবে উপস্থাপন করাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর। প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে লেখার সময় প্রায়শই এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, w:পিয়ানো নিবন্ধটিতে (মার্চ ২০০৮-এর সংস্করণ অনুযায়ী) ভূমিকাংশের ঠিক পরেই এর প্রারম্ভিক ইতিহাসের একটি পরিচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছে। এরপর গ্র্যান্ড পিয়ানো, আপরাইট পিয়ানো ইত্যাদির জন্য তৈরি উপ-পরিচ্ছেদগুলো মূলত বিষয়বস্তুর ভিত্তিতেই সুনির্দিষ্টভাবে সাজানো হয়েছে।

২.৫. পঠনযোগ্যতা

[সম্পাদনা]

উইকিপিডিয়ার প্রতিটি অবদানকারীই একজন ভালো লেখক হয়ে উঠতে চান। আপনার চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত পঠনযোগ্যতা নিশ্চিত করা, অর্থাৎ লেখাটি যেন সহজে পড়া ও বোঝা যায়। পঠনযোগ্যতা বলতে লেখার স্পষ্টতা ও সাবলীলতাকে বোঝায়। বিশ্বকোষীয় নিবন্ধের ভাষা যতটা সম্ভব প্রাঞ্জল হওয়া উচিত, যাতে তা পড়তে গিয়ে পাঠককে হোঁচট খেতে না হয় এবং বিষয়বস্তু বুঝতে কোনো বাধা তৈরি না করে।

পঠনযোগ্যতা মানে এই নয় যে লেখায় কোনো বৈচিত্র্য থাকবে না; একইভাবে, একটি ভালো লেখা মানেই তা নীরস বা একঘেয়ে হবে—এমনটিও নয়। উইকিপিডিয়ায় আগে থেকেই থাকা চমৎকার কিছু নিবন্ধ শক্তিশালী গদ্যের আদর্শ উদাহরণ হতে পারে (অন্যদিকে দুর্বল নিবন্ধগুলো দেখলে আপনি লেখার সাধারণ ত্রুটিগুলোও বুঝতে পারবেন)। নিজের লেখার মান ও শৈলী উন্নত করতে আপনি অন্যান্য উইকিপিডিয়ান বা সম্পাদকদের মতামত নিয়েও সাহায্য নিতে পারেন।

গদ্যকে আরও মার্জিত ও সাবলীল করার ক্ষেত্রে যেকোনো রচনাশৈলী নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমন একটি নির্দেশিকা বেছে নিন, যা আপনার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি নিজেও সহজে পাঠযোগ্য। ভালো লেখার ওপর একটি ধ্রুপদী মার্কিন নির্দেশিকা হলো স্ট্রাঙ্ক ও হোয়াইটের 'দ্য এলিমেন্টস অব স্টাইল'। এছাড়া ফাউলারের 'মডার্ন ইংলিশ ইউসেজ' এবং গাওয়ার্সের 'দ্য কমপ্লিট প্লেইন ওয়ার্ডস'-এর নামও উল্লেখযোগ্য। তবে একটি ভালো রচনাশৈলী নির্দেশিকা পড়ার মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো লেখা পড়ার অভ্যাস। বিভিন্ন বিশ্বকোষে একই বিষয়ের ওপর লেখা নিবন্ধগুলোর তুলনা করে দেখুন—এগুলোর মধ্যে কী কী মিল বা অমিল রয়েছে, তা খুঁজে বের করুন। মানসম্মত বই পড়ার অভ্যাস আপনাকে একজন ভালো লেখক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আপনি এমন সব বিশ্বকোষীয় নিবন্ধ লিখতে সক্ষম হবেন, যা তথ্যগতভাবে সঠিক ও নিরপেক্ষ হওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট, সাবলীল এবং আকর্ষণীয় হবে। অথবা, উইকিপিডিয়ার শুরুর দিকের একটি পরিভাষা ব্যবহার করে বলা যায়—নিবন্ধটি 'চমৎকার গদ্য' দিয়ে লেখা হবে।

চমৎকার গদ্য

'চমৎকার গদ্য' উইকিপিডিয়ার প্রাচীনতম প্রকল্প পাতাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ল্যারি স্যাঙ্গার এই প্রকল্পটি তৈরি করেছিলেন এবং উইকিপিডিয়া-এল মেইলিং লিস্টের একেবারে শুরুর দিকের একটি বার্তায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। ২০০১ সালের ২২ জানুয়ারি স্যাঙ্গার জানিয়েছিলেন যে, তখন উইকিপিডিয়ায় থাকা ১৮৪টি নিবন্ধের মধ্যে ১৪টি নিবন্ধ চমৎকার গদ্যের পাতায় তালিকাভুক্ত ছিল। আর এটিই তাঁকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল যে, "উইকিপিডিয়া সত্যিই অসাধারণ।" (http://lists.wikimedia.org/pipermail/wikipedia-l/2001-January/000000.html থেকে সংগৃহীত)

২.৬. পাঠক

[সম্পাদনা]

সাধারণ পাঠক বলতে আসলে কাদের বোঝায়? আপনার লেখা কাদের উদ্দেশ্যে রচিত? উইকিপিডিয়ার মূল পাঠক কারা, তা নিয়ে সবসময়ই আলোচনা হয়েছে। সর্বসম্মত না হলেও উইকিপিডিয়ায় একটি সাধারণ ঐকমত্য রয়েছে যে, নিবন্ধগুলো মূলত সুশিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্কদের উদ্দেশ্যে লেখা উচিত; ঐতিহ্যবাহী এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকাতেও এই নীতি অনুসরণ করা হয়।

কিছু বিশেষায়িত বিষয়ে (যেমন: গণিত বিষয়ক অনেক নিবন্ধে) এমন কিছু উপাদান থাকা স্বাভাবিক, যা হয়তো সাধারণ পাঠকের কাছে সহজে বোধগম্য হবে না। তবে একটি নিবন্ধ পড়ার পর পাঠকের কাছে অন্তত দুটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া উচিত: বিষয়টি কী এবং এর গুরুত্ব কোথায়। সাধারণ পাঠকের কাছে নিবন্ধের ভূমিকাংশটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশে নিবন্ধের মূল বিষয়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি সাধারণ পাঠকের জন্য তা প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করতে হবে।

অনেক সময় পঠনযোগ্যতা ও নির্ভুলতার মধ্যে সংঘাত দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অত্যন্ত কারিগরি বা প্রযুক্তিগত বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ধারণা সাধারণ পাঠকের জন্য বোঝা বেশ কঠিন হতে পারে। ব্যাখ্যামূলক এই জটিলতা এড়াতে প্রারম্ভিক অনুচ্ছেদে একটি সহজবোধ্য ও সাবলীল সারসংক্ষেপ যুক্ত করুন এবং পরবর্তীতে নিবন্ধের মূল অংশে এর সঠিক ও আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা তুলে ধরুন।

স্বভাবতই, একজনের কাছে যা জটিল পারিভাষিক শব্দ মনে হতে পারে, অন্যজনের কাছে তা সাধারণ পরিভাষা হিসেবে গণ্য হতে পারে। প্রয়োজনে প্রথমে পারিভাষিক শব্দটি ব্যবহার করা যৌক্তিক হতে পারে। তবে এরপর সহজ কোনো বাক্যাংশ দিয়ে পরিভাষাটি বুঝিয়ে দেওয়া আপনার দায়িত্ব। এক্ষেত্রে "সাধারণভাবে বলতে গেলে…", "অন্য কথায়…", "সহজভাবে বললে…" বা এমন অন্য কোনো বাক্যাংশ ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্দেশ করে যে এরপরে সাধারণ মানুষের উপযোগী করে বিষয়টির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হচ্ছে। নিবন্ধে কী ধরনের বিষয়বস্তু রয়েছে, তা সকল পাঠকেরই বোধগম্য হওয়া উচিত।

w:রক্তচাপ নিবন্ধ থেকে নেওয়া নিচের ভূমিকাংশে প্রযুক্তিগত ও প্রাত্যহিক—উভয় ধরনের ভাষার মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়:

    রক্তচাপ (কঠোরভাবে বলতে গেলে: ভাস্কুলার চাপ) বলতে রক্তনালির দেয়ালে প্রবহমান রক্ত কর্তৃক প্রয়োগকৃত বলকে বোঝায় এবং এটি শরীরের অন্যতম প্রধান অপরিহার্য লক্ষণ। ধমনী, ধমনিকা, কৈশিক জালিকা ও শিরার মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হওয়ার সময় প্রবহমান রক্তের চাপ ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। রক্তচাপ শব্দটি মূলত ধমনীর চাপ বা বৃহত্তর ধমনীগুলোর চাপকে বোঝায়; ধমনী হলো সেই রক্তনালি, যা হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের অন্যান্য অংশে রক্ত বহন করে। ধমনীর চাপ পরিমাপের জন্য সাধারণত স্ফিগমোম্যানোমিটার ব্যবহার করা হয়, যা প্রবহমান চাপ নির্ণয়ে পারদস্তম্ভের উচ্চতা ব্যবহার করে (দেখুন #অ-আক্রমণাত্মক পরিমাপ)। বর্তমানে ভাস্কুলার চাপ মাপার অনেক আধুনিক যন্ত্রে পারদের ব্যবহার না থাকলেও, বিশ্বব্যাপী ভাস্কুলার চাপের মান এখনো পারদের মিলিমিটারে প্রকাশ করা হয়।

ওপরের উদাহরণে যেমনটি দেখানো হয়েছে, হাইপারটেক্সট বা উইকিলিঙ্কের একটি বড় সুবিধা হলো এর পরোক্ষ সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা। আপনি যদি কোনো প্রযুক্তিগত শব্দের সাথে একটি উইকিলিঙ্ক যুক্ত করেন, তবে যারা ওই বিষয়ে আরও তথ্য জানতে চান, তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই সেই লিঙ্কে ক্লিক করতে পারবেন। w:স্ফিগমোম্যানোমিটার-এর লিঙ্কটি যুক্ত থাকায় রক্তচাপ নিবন্ধে এর দীর্ঘ ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশেই কমে গেছে।

২.৭. ভাষার ব্যবহার

[সম্পাদনা]

পুরোনো অনেক বিশ্বকোষে প্রায়শই শব্দাড়ম্বরপূর্ণ বা অলঙ্কৃত ভাষা ব্যবহার করা হলেও উইকিপিডিয়ার ভাষা প্রত্যক্ষ, সাবলীল ও সমসাময়িক। উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলো এক ধরনের শিক্ষায়তনিক রচনা, তবে এতে গবেষণাপত্রের মতো মাত্রাতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক বা বিশেষজ্ঞ স্তরের ভাষা ব্যবহৃত হয় না। লেখাগুলো আকর্ষণীয় হওয়া উচিত—শুষ্ক, একঘেয়ে বা নিরস নয়। তবে তা কোনোভাবেই সাহিত্যিক, ব্যক্তিগত, বিতর্কমূলক বা অনুসন্ধানী ধাঁচের হওয়া অনুচিত। বিতর্কিত বিষয়ের নিবন্ধগুলো মতামত-নির্ভর না হয়ে কেবল বর্ণনামূলক হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে উইকিপিডিয়ার রচনাশৈলী একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদপত্রের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কাছাকাছি, যা যেকোনো বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে কেবল ঘটনা তুলে ধরে এবং বিষয়ের সমস্ত উল্লেখযোগ্য দিক উপস্থাপন করে।

কারও মৃত্যুকে দুর্ঘটনাজনিত বলা যেতে পারে, তবে তা অনুশোচনীয়, অকাল বা মর্মান্তিক হিসেবে বর্ণনা করা উচিত নয়। একই যুক্তিতে, ভুল জায়গায় সুভাষণ বা শ্রুতিমধুর শব্দের ব্যবহার অনুচিত। যেমন: 'মারা গেছেন'-এর পরিবর্তে 'গত হয়েছেন' লেখা পরিহার করুন। কোনো আবিষ্কারকে 'অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ' বা কেবল 'তাৎপর্যপূর্ণ' বলা যেতে পারে। তবে গভীরভাবে ভাবলে 'তাৎপর্যপূর্ণ' শব্দটিই অধিক কার্যকর মনে হবে। কারণ, সাধারণ পাঠকরা সাধারণত অতিরঞ্জিত বর্ণনা পড়তে চান না, বরং তারা যেকোনো অগ্রগতির মূল পর্যায়গুলো বুঝতে আগ্রহী হন। বিষয়টি উইকিপিডিয়া: বাজে পরিভাষা পরিহার করুন (শর্টকাট WP:APT) নির্দেশিকায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সংযত বর্ণনা নিবন্ধের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঐতিহাসিক লর্ড অ্যাক্টন বলেছিলেন, "ন্যায়বিচার করার সর্বোত্তম উপায় হলো রায় প্রদানে কিছুটা সংযম বজায় রাখা।"

নিবন্ধের ভাষা কথোপকথন বা আড্ডার সুরে হওয়া উচিত নয়; বরং উইকিপিডিয়ার রচনাশৈলীর নির্দেশিকা মেনে চলা উচিত। মানসম্মত লেখার নিয়মকানুন অনুসরণ করুন: স্বয়ংসম্পূর্ণ বাক্য গঠন করুন এবং সঠিক ব্যাকরণ, বিরামচিহ্ন ও বানান ব্যবহার করুন। অসম্পূর্ণ বা খাপছাড়া বাক্য পাঠককে বিভ্রান্ত করে। কোনো পরিভাষার সংক্ষিপ্ত রূপ বিশেষজ্ঞ মহলে যত প্রচলিতই হোক না কেন, শুধু মূল নিবন্ধে লিঙ্ক করাই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ পাঠকদের সুবিধার্থে এর পূর্ণ রূপও উল্লেখ করা উচিত।

কোন ইংরেজি?

ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় আমেরিকান ইংরেজি ও কমনওয়েলথ ইংরেজি—উভয় রীতিরই সহাবস্থান রয়েছে। এই সহাবস্থান শান্তিপূর্ণ হওয়াই বাঞ্ছনীয়। বানান পরীক্ষকে ভিন্ন সেটিং ব্যবহার করা উইকিপিডিয়ানদের মধ্যে এ নিয়ে বিবাদ কোনোভাবেই কাম্য নয়। কোথায় কোন রীতি ব্যবহার করা হবে, সে সম্পর্কে রচনাশৈলীর নির্দেশনার জন্য w:উইকিপিডিয়া:রচনাশৈলী নির্দেশনা (শর্টকাট WP:ENGVAR) দেখতে পারেন। সাধারণ নিয়ম হলো—যখন উভয় রীতিই গ্রহণযোগ্য, তখন যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়া এক রীতি থেকে অন্য রীতিতে পরিবর্তন করা উচিত নয়। অন্য কথায়, কোনো নিবন্ধ যদি আগে থেকেই ব্রিটিশ বা আমেরিকান ইংরেজিতে লেখা থাকে, তবে নতুন তথ্য যুক্ত করার সময় বিদ্যমান রীতির সাথেই মানিয়ে নেওয়া উচিত। উইকিপিডিয়ার শুরুর দিকে এটি একটি কষ্টার্জিত সমঝোতা ছিল।

উইকিপিডিয়ায় লেখার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ম হলো স্ব-উল্লেখ এড়িয়ে চলা—অর্থাৎ, নিবন্ধের ভেতরে উইকিপিডিয়া প্রকল্পের নাম নেওয়া থেকে বিরত থাকা। আলাপ বা সম্প্রদায়ের পাতার মতো স্থানগুলোতে উইকিপিডিয়া নিয়ে আলোচনা করা স্বাভাবিক হলেও নিবন্ধের মূল অংশে এর উল্লেখ করা বিভ্রান্তিকর। উইকিপিডিয়ার উন্মুক্ত লাইসেন্সের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো তথ্যের অবাধ ব্যবহার, কিন্তু এ ধরনের উল্লেখ অন্য কোনো মাধ্যমে উইকিপিডিয়ার তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। তাই "এই উইকিপিডিয়া নিবন্ধটিতে আলোচনা করা হয়েছে" বা "এই বিশ্বকোষে" ধরনের বাক্যাংশ পরিহার করুন। তবে উইকিপিডিয়া সম্পর্কিত কোনো নিবন্ধের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে w:উইকিপিডিয়া:রচনাশৈলী নির্দেশনা/স্ব-উৎস (শর্টকাট WP:SELF) পাতাটি দেখুন।

২.৮. চিত্র বা গ্রাফিক্স

[সম্পাদনা]

একটি মানসম্মত নিবন্ধে তথ্যবহুল ও প্রাসঙ্গিক চিত্র—যেমন নকশা, লেখচিত্র, মানচিত্র, প্রতিকৃতি, আলোকচিত্র ও শিল্পকর্ম—অন্তর্ভুক্ত থাকে। এগুলো পাঠককে মূল বিষয় সহজে বুঝতে সাহায্য করে এবং তাদের আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে। প্রতিটি চিত্রের সাথে একটি বর্ণনামূলক ক্যাপশন বা পরিচিতি থাকা উচিত। নিবন্ধে কীভাবে চিত্র যুক্ত করতে হয়, সে সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত নির্দেশনার জন্য ১.১ পরিচ্ছেদের "চিত্র ও মিডিয়া ফাইল খোঁজা এবং যোগ করা" অংশটি দেখতে পারেন।

মূল লেখাকে আরও সহজবোধ্য করতেই চিত্র ব্যবহার করা উচিত। তবে নিবন্ধে মাত্রাতিরিক্ত চিত্র যোগ করা ঠিক নয়, যাতে তা মূল বিষয় থেকে পাঠকের মনোযোগ সরিয়ে নেয় বা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। কেবল নিবন্ধের সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ছবি যুক্ত করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী লেখচিত্র, তথ্যচিত্র বা ইনফোগ্রাফিক্স এবং সারণি ব্যবহার করুন; ঢালাওভাবে নয়। মনে রাখবেন, নিবন্ধে যুক্ত প্রতিটি উপাত্তের নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র থাকতে হবে। তবে উইকিপিডিয়ায় কোনো উপাত্ত বিশ্লেষণ করা উচিত নয়, কারণ তা মৌলিক গবেষণার পর্যায়ে পড়তে পারে।

কোনো বিষয়ের মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরতে ব্যবহৃত তথ্যছক বা ইনফোবক্স খুব বেশি জায়গা দখলকারী কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট হওয়া উচিত নয় (এবং এতে থাকা প্রতিটি তথ্য অবশ্যই যাচাইযোগ্য হতে হবে)। সম্পর্কিত নিবন্ধের কোনো ধারাবাহিকে বর্তমান নিবন্ধটির অবস্থান কোথায়, তা তথ্যছকের মাধ্যমে সাধারণ পাঠকের কাছে স্পষ্ট হওয়া উচিত। উদাহরণস্বরূপ, w:War of the Austrian Succession নিবন্ধের তথ্যছকে অষ্টাদশ শতাব্দীর এই ইউরোপীয় যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের একটি কালানুক্রমিক তালিকা তুলে ধরা হয়েছে (চিত্র ৬.২ দেখুন)। এর ঠিক নিচে থাকা আরও দুটি তথ্যছক (যা 'দেখান' সংযোগে ক্লিক করে সম্প্রসারণ করা যায়) এই সংঘাতের প্রধান যুদ্ধগুলোর তালিকা প্রদর্শন করে (সম্পূর্ণ তালিকাটি w:Category:Battles of the War of the Austrian Succession-এও পাওয়া যাবে)। সাধারণত উইকিপিডিয়ায় নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর বেশ কয়েকটি সম্পর্কিত নিবন্ধ থাকলে এ ধরনের তথ্যছক ব্যবহার করা হয়।

চিত্র ৬.২. w:War of the Austrian Succession নিবন্ধ থেকে নেওয়া একটি বিস্তারিত তথ্যছক। নিচের দুটি অংশে অতিরিক্ত তথ্যছক রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী সম্প্রসারণ করা যায়। w:War of the Austrian Succession নিবন্ধ থেকে নেওয়া একটি বিস্তারিত তথ্যছক। নিচের দুটি অংশে অতিরিক্ত তথ্যছক রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী সম্প্রসারণ করা যায়।

২.৯. মৌলিক বিষয়বস্তুর নীতিমালা প্রয়োগ করা

[সম্পাদনা]

কোনো নিবন্ধ পড়ার পর পাঠকের মনে হওয়া উচিত যে, এতে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে আলোচ্য বিষয়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। এই কাজটি করার উপায়টি বেশ স্পষ্ট। উইকিপিডিয়ার নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নিবন্ধ সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীন হয়। এতে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকে, যেখানে বিভিন্ন বিরোধী মতবাদ বা দৃষ্টিভঙ্গিকে যৌক্তিক ও ন্যায্যভাবে তুলে ধরা হয়। ভাষার ব্যবহারও এই মৌলিক নীতিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যার কয়েকটি উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো।

"কুখ্যাত রক্তপিপাসু এবং কীলহোলিং জলদস্যু ব্ল্যাকবিয়ার্ড" বাক্যাংশটির কথা ধরা যাক। একজন অভিজ্ঞ উইকিপিডিয়া সম্পাদকের চোখে 'রক্তপিপাসু' শব্দটি নিছকই একটি মতামত বলে মনে হতে পারে; তবে 'কীলহোলিং' (জাহাজের তলদেশ দিয়ে টেনে শাস্তি দেওয়া) হয়তো একটি সত্য ঘটনা। 'জলদস্যু' শব্দটির ব্যবহারও বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে: স্যার ফ্রান্সিস ড্রেক কি আসলেই জলদস্যু ছিলেন? আপনি হয়তো এমন একটি স্পেনীয় বই পেতে পারেন, যেখানে তাঁকে জলদস্যু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বাক্যাংশটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে 'ব্ল্যাকবিয়ার্ড' ছাড়া বাকি সব মুছে ফেলা এবং w:ব্ল্যাকবিয়ার্ড নিবন্ধটির একটি লিঙ্ক যুক্ত করা (যিনি এডওয়ার্ড টেঞ্চ নামেও পরিচিত)। সর্বোপরি, যাঁর সম্পর্কে আগে থেকেই একটি বিস্তারিত নিবন্ধ রয়েছে, তাঁর পরিচয় নতুন করে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

'দোষী সাব্যস্ত প্রতারক', 'হাতুড়ে ডাক্তার', 'কলঙ্কিত রাজনীতিবিদ' বা 'আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী'-এর মতো সমপদস্থ বা বিশেষণমূলক বাক্যাংশগুলো সম্ভবত নিবন্ধ থেকে মুছে ফেলা হবে। একে "সেন্সরশিপ!" বলে অভিযোগ করার আগে বুঝতে হবে যে, এ ধরনের সম্পাদনাকে মূলত পরিষ্করণ বা ক্লিন-আপ কাজ হিসেবেই ধরা হয়; অর্থাৎ সম্পাদক কেবল উইকিপিডিয়ার নীতিমালা প্রয়োগ করছেন। অবাক করার বিষয় হলো, ভাষার এই বিশ্বকোষীয় পরিমার্জনকে অনেকেই সেন্সরশিপের সাথে গুলিয়ে ফেলেন। উইকিপিডিয়ার নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি হয়তো আপনার ব্যক্তিগত মতামতের পক্ষে কথা বলবে না। একই যুক্তিতে, কোনো নামের আগে থাকা 'বিখ্যাত' বা 'অসাধারণ' শব্দটি সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে। আপনি হয়তো মনে করতে পারেন যে, কোনো বিজ্ঞানী নিবন্ধের প্রতি ছত্রে ছত্রে তাঁর নামের আগে 'নোবেল বিজয়ী' উপাধি পাওয়ার যোগ্য; কিন্তু উইকিপিডিয়া তা মনে করে না। 'কিংবদন্তি' শব্দটির ব্যবহার মূলত লোককথা বা পুরাণনির্ভর গল্প ও চরিত্রের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

যেকোনো জটিল বিষয়ে একজন নিরপেক্ষ বিচারকের মতো কাজ করুন। নির্দিষ্ট কোনো দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে একটি বিতর্কের সব দিক তুলে ধরুন। বাস্তবসম্মত ও ব্যাপকভাবে স্বীকৃত দৃষ্টিভঙ্গিগুলোর ওপর জোর দিন। সংখ্যালঘু বা অপেক্ষাকৃত কম প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিকে কম প্রাধান্য দিন। তবে এক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত তথ্য ও তথ্যসূত্র যুক্ত করুন, যাতে পাঠকেরা সেই দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারেন।

পুরোনো লেখাগুলোতে প্রায়ই নিরপেক্ষতা এবং রচনাশৈলী সম্পাদনার স্পষ্ট উদাহরণ দেখা যায়। ১৯১৩ সালের একটি বিশ্বকোষ থেকে হুবহু তুলে আনা নিচের অংশটি এর একটি প্রমাণ, যা চরম শব্দবহুল এবং পক্ষপাতদুষ্ট। ফরাসি মরমিয়াবাদী বা সুফি সাধক ম্যাডাম গায়োঁ সম্পর্কে লেখা নিবন্ধের একটি অংশ এখানে তুলে ধরা হলো:

   তাঁর অদ্ভুত আচরণ তাঁর ওপর কঠোর সমালোচনা নিয়ে আসে, যার মধ্যে তিনি কেবল বিদ্বেষের প্রকাশই দেখতে পেতেন। স্পষ্টতই, তাঁর মধ্যে প্রায়ই যথাযথ সংযম এবং বিচক্ষণতার অভাব দেখা যেত; কিন্তু এ নিয়ে যা কিছুই বলা হোক না কেন, এটি অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে তাঁর নৈতিকতা গুরুতর তিরস্কারের কোনো সুযোগ দেয়নি। বস্যুয়েট, যিনি তাঁর প্রতি কখনোই সদয় ছিলেন না, তিনিও ফরাসি পাদ্রিদের পূর্ণ সমাবেশের সামনে বলেছিলেন: "তাঁর নীতিগুলোর ফলে যে জঘন্য কাজগুলো ঘটেছে বলে মনে করা হয়, সেগুলোর জন্য তিনি যে ভয়াবহতার সাক্ষ্য দিয়েছিলেন—তা নিয়ে কখনোই কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।" এটিও লক্ষণীয় যে, চতুর্দশ লুইয়ের রাজদরবারে তাঁর শিষ্যরা সর্বদা অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ এবং অনুকরণীয় জীবনের অধিকারী ছিলেন।

আপনি চাইলে এটিকে আরও গুছিয়ে ও উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করে লিখতে পারেন (যদিও এটি এখনো কিছুটা সম্পাদনার দাবি রাখে):

   তাঁর আচরণ সমালোচনার জন্ম দেয়, তবে এর জন্য তাঁর নৈতিকতা দায়ী ছিল না। তাঁর সমালোচকদের একজন বস্যুয়েট, ফরাসি পাদ্রিদের সামনে বলেছিলেন: "তাঁর নীতিগুলোর ফলে যে জঘন্য কাজগুলো ঘটেছে বলে মনে করা হয়, সেগুলোর জন্য তিনি যে ভয়াবহতার সাক্ষ্য দিয়েছিলেন—তা নিয়ে কখনোই কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।" ভার্সাইয়ে তাঁর শিষ্যরা ছিলেন অনুকরণীয় জীবনের ধর্মপ্রাণ মানুষ।

শুরুতে থাকা বাক্য দুটিকে একত্র করায় এর স্পষ্টতা ও নিরপেক্ষতা বেড়েছে। সম্পাদকীয় মন্তব্য বা অপ্রয়োজনীয় জোর দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত বিশেষণগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে; যেমন: "অদ্ভুত আচরণ"-এর 'অদ্ভুত', "ক কঠোর সমালোচনা"-এর 'কঠোর' এবং "মহান ধর্মপরায়ণ"-এর 'মহান'। খসড়া পর্যায়ে যেকোনো লেখার ক্ষেত্রেই এ ধরনের সম্পাদনা ও সংক্ষিপ্তকরণের কৌশল প্রয়োগ করা উচিত। তবে উদ্ধৃতিটিকে অপরিবর্তিত রাখতে হবে; উইকিপিডিয়ায় উদ্ধৃতির ভাষা কখনোই পরিবর্তন করা উচিত নয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আপনাকে মূল ফরাসি উদ্ধৃতিটি খুঁজে বের করে নতুন করে অনুবাদ করতে হতে পারে। আপনি হয়তো উদ্ধৃতিটিকে সংক্ষিপ্ত করে বলতে পারতেন, "বস্যুয়েট তাঁর প্রতি কঠোর ছিলেন, কিন্তু তাঁকে ভণ্ড মনে করতেন না"—তবে এটি উইকিপিডিয়ার মৌলিক গবেষণার মতো শোনায়। এর চেয়ে বস্যুয়েটের মনোভাব স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখাই উত্তম বিকল্প।

উইকিপিডিয়ার নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির একটি ঝুঁকি হলো, কখনো কখনো অস্পষ্ট শব্দচয়নকে বেশি নিরপেক্ষ বলে মনে হতে পারে; তবে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার পরিহার করা উচিত। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে w:উইকিপিডিয়া:অস্পষ্ট শব্দ পরিহার করুন (শর্টকাট WP:WEASEL) পাতাটি দেখতে পারেন। এ ধরনের অস্পষ্ট শব্দ বা 'উইজেল ওয়ার্ড' ব্যবহারের কারণে লেখায় অযথা শব্দবহুলতা, কর্মবাচ্যের ব্যবহার, জটিল বাক্য গঠন, ত্রুটিপূর্ণ যুক্তির প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থন এবং একঘেয়ে পুনরাবৃত্তি দেখা দিতে পারে।

উইকিপিডিয়ার শুরুর দিকে "কেউ কেউ বলে X, আর অন্যরা বলে Y"—এ ধরনের বাক্যের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেত। এই ধরনের বাক্য গঠনকে প্রথম দেখায় নিরপেক্ষ মনে হলেও আদতে এটি একটি ব্যর্থ কৌশল। এ ধরনের বাক্যের মূল সমস্যা হলো, এটি অলস লেখার পরিচায়ক এবং এতে অস্পষ্ট বা উইজেল শব্দের প্রয়োগ থাকে:

   * বাক্যাংশটি অবশ্যই যাচাইযোগ্য হতে হবে। এর পরিবর্তে লেখা উচিত "A, B, এবং C বলে X, যেখানে D এবং E বলে Y", এবং প্রতিটি দাবির বিপরীতে সঠিক তথ্যসূত্র থাকতে হবে।
   * যারা Z বলছে, তাদের সম্পর্কে কী বলা যায়? তাদের কি অন্যায়ভাবে একপাশে সরিয়ে রাখা হচ্ছে না?
   * পুরো আলোচনাটি কি বিতর্কের মূল কারণগুলোসহ সব পক্ষের মতকে ন্যায্যভাবে উপস্থাপন করছে?

দুটি দৃষ্টিভঙ্গি সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে একটি পক্ষ ভুল হতে পারে; তা সত্ত্বেও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির মূল উদ্দেশ্য হলো উভয় পক্ষকে সমানভাবে উপস্থাপন করা—এর চেয়ে বেশি বা কম কিছু নয়। সাধারণত বিতর্কিত বিষয়ের নিবন্ধগুলোতে এ ধরনের অস্পষ্ট শব্দ যুক্ত করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, "কোনো কিছুই কখনো প্রমাণিত হয়নি" বাক্যাংশটি সিজেন্টহেলার কেলেঙ্কারির সেই আপত্তিকর নিবন্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল (দ্বিতীয় অধ্যায়, 'বিশ্ব একটি মুক্ত বিশ্বকোষ পেল' দেখুন)।

২.১০. পর্যালোচনা

[সম্পাদনা]

আপনি চাইলে যেকোনো সময় অন্যান্য সম্পাদকদের আপনার লেখা পর্যালোচনার অনুরোধ করতে পারেন। উইকিপিডিয়ায় পর্যালোচনা একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এটি এই মুক্ত বিশ্বকোষের অন্যতম প্রধান শক্তি। অন্যদের মতামত বা মন্তব্য পাওয়ার জন্য উইকিপিডিয়ায় নির্দিষ্ট পাতাও রয়েছে; দেখুন উইকিপিডিয়া:পারস্পরিক পর্যালোচনার (শর্টকাট WP:PR)। এখানে আপনি যেকোনো নিবন্ধ পর্যালোচনার জন্য মনোনীত করতে পারবেন এবং নিজের মন্তব্যও যুক্ত করতে পারবেন।

কোনো নিবন্ধকে 'নির্বাচিত নিবন্ধ'-এর মর্যাদায় মনোনীত করার ক্ষেত্রে সমকক্ষ পর্যালোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সপ্তম অধ্যায়ে ('পরিষ্করণ, প্রকল্প এবং প্রক্রিয়া') এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। উইকিপিডিয়ায় যে কেউ নিবন্ধ পর্যালোচনা করতে পারেন। অন্য কোনো সম্পাদকের নিবন্ধ পর্যালোচনা করা মূলত নিবন্ধের গঠন ও মান নিয়ে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা শেখার চমৎকার একটি উপায়। এছাড়া, তুলনামূলক কম আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার জন্য উইকিপিডিয়া:মতামতের জন্য অনুরোধ (শর্টকাট WP:RFF) পাতাটি দেখতে পারেন।

২.১১. গুণমান এবং একটি ভালো অসম্পূর্ণ নিবন্ধ

[সম্পাদনা]

উইকিপিডিয়ায় আপনি চাইলে কোনো বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনাসহ নতুন একটি দীর্ঘ নিবন্ধ লিখতে পারেন, অথবা এমন একটি মানসম্মত অসম্পূর্ণ নিবন্ধ তৈরি করতে পারেন, যা এই বিশ্বকোষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এছাড়া, আপনি বিদ্যমান নিবন্ধগুলোর মানোন্নয়নেও কাজ করতে পারেন। মূল লক্ষ্য হলো, প্রতিটি নিবন্ধ যেন নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য, ব্যাপক ও চমৎকার বিবরণ তুলে ধরে। ঐতিহ্যগতভাবে সব বিশ্বকোষ প্রণেতারই এমন অভিন্ন উদ্দেশ্য থাকে।

এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে এই কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছানো যায়। মানসম্মত লেখা তৈরি করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, তবে ক্রমাগত নিম্নমানের কাজ করলে একসময় তা আর আত্মতৃপ্তি দেয় না। উইকিপিডিয়ায় অসম্পূর্ণ নিবন্ধগুলোকে মানোন্নয়নের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মূলত এ কারণেই অসম্পূর্ণ নিবন্ধগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অসম্পূর্ণ নিবন্ধ "ভালো" হওয়ার অর্থ হলো, নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ হলেও এর একটি নির্দিষ্ট মান রয়েছে। একটি ভালো অসম্পূর্ণ নিবন্ধ—যা Wikipedia:Stub পাতায় আদর্শ অসম্পূর্ণ নিবন্ধ হিসেবে বর্ণিত—যেকোনো পাতার ভিত্তি দ্রুত তৈরি করতে সাহায্য করে। এটি বিশ্বকোষে মূল্যবান তথ্য যুক্ত করে; ফলে অন্যান্য সম্পাদকরা আপনার কাজ দেখে হতাশ না হয়ে বরং সেটি সম্প্রসারণে উৎসাহিত হন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, একটি নিবন্ধের মান নিচের বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে:

  • উইকিপিডিয়ার অন্তর্ভুক্তির মানদণ্ড, বিশেষ করে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি ও মৌলিক গবেষণা নয়—এমন নীতির যথাযথ অনুসরণ।
  • পুরো নিবন্ধজুড়ে সঠিক তথ্যসূত্রের উপস্থিতি, যা প্রমাণ করে যে তথ্যগুলো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করে নেওয়া হয়েছে।
  • নির্ভরযোগ্য উৎস দ্বারা যাচাইকৃত তথ্যগত নির্ভুলতা।
  • আলোচ্য বিষয়ের ওপর প্রাসঙ্গিক ও নির্ভরযোগ্য বহিঃসংযোগ এবং তথ্যসূত্রের একটি তালিকা।
  • বাংলা ভাষার উচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখে এমন সাবলীল গদ্যের ব্যবহার।
  • উইকিপিডিয়ার রচনাশৈলী নির্দেশিকার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিন্যাস, উপযুক্ত চিত্র বা নকশা, যৌক্তিক অনুচ্ছেদ এবং যথাযথ অভ্যন্তরীণ সংযোগ বা উইকিলিঙ্কের উপস্থিতি।
  • তথ্যের যৌক্তিক ধারাবাহিকতাসহ বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা।

আরও পড়ুন

http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:The_perfect_article একটি নিখুঁত নিবন্ধে কী কী থাকা প্রয়োজন, তার সংক্ষিপ্ত তালিকা।

http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Guide_to_writing_better_articles মানসম্মত নিবন্ধ লেখার বিভিন্ন পরামর্শ।

http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Manual_of_Style উইকিপিডিয়ার নিবন্ধ লেখা ও বিন্যাস করার রচনাশৈলী নির্দেশিকা।

http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Stub অসম্পূর্ণ নিবন্ধ তৈরির রচনাশৈলী নির্দেশিকা।

http://en.wikipedia.org/wiki/User:Tony1/How_to_satisfy_Criterion_1a নির্বাচিত নিবন্ধের নির্দেশিকাগুলোর 'মানদণ্ড ১ক' কীভাবে পূরণ করতে হয়, তার ওপর লিখিত একটি প্রবন্ধ—যেখানে নিবন্ধের গদ্যকে "আকর্ষক, চমৎকার এবং পেশাদার মানের" হতে বলা হয়েছে।

কোনো নিবন্ধ শুরু করার সময় আপনি যদি শেষ দুটি শর্তে উল্লিখিত পূর্ণাঙ্গতা ও দৃশ্যগত চমৎকারিত্ব নিশ্চিত করতে নাও পারেন, তবুও মানের অন্যান্য দিকগুলো বজায় রাখার চেষ্টা করুন। এগুলো নিশ্চিত করতে পারলে ধরে নিতে পারেন যে, আপনি একটি আদর্শ অসম্পূর্ণ নিবন্ধ তৈরি করেছেন।

নিবন্ধ নিয়ে গবেষণা করা

[সম্পাদনা]

নিবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি কোনো তথ্যসূত্র উল্লেখ না করেন, তবে অন্য সম্পাদকরা নিবন্ধের অবিশ্বাস্য অংশগুলো মুছে ফেলতে পারেন; এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে পুরো নিবন্ধটিই মুছে ফেলা হতে পারে। একটি ভালো নিবন্ধ সর্বদা নির্ভরযোগ্য উৎসের উদ্ধৃতিসহ সুচারুভাবে তথ্যসূত্রসমৃদ্ধ থাকে। নিবন্ধের লেখক হিসেবে তথ্যসূত্র যুক্ত করার দায়িত্ব আপনারই; অন্তত লেখার সময় যেসব উৎস ব্যবহার করেছেন, তার একটি তালিকা অবশ্যই যুক্ত করা উচিত। আপনি যদি কোনো তথ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজে না পান, তবে ধরে নিতে পারেন সেই তথ্যটি বিশ্বকোষে রাখার উপযুক্ত নয়।

যেকোনো মানসম্মত নিবন্ধের ক্ষেত্রে মূল লেখালেখির চেয়ে এর পেছনের গবেষণায় অন্তত সমান বা তার চেয়েও বেশি সময় দেওয়া উচিত। গবেষণার এই প্রয়োজনীয়তার কারণেই একজন উইকিপিডিয়ান কত দ্রুত বা কত বেশি লিখতে পারবেন, তার একটি সীমারেখা তৈরি হয়; কারণ উইকিপিডিয়া কোনো দ্রুত টাইপিংয়ের প্রতিযোগিতা নয়। উইকিপিডিয়ায় সম্পাদনা দ্রুত ও স্বতঃস্ফূর্ত হলেও, একটি ভালো নিবন্ধ লেখা মূলত উৎস সংগ্রহ ও তথ্য অনুসন্ধানের মতো প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে। তাই একজন দক্ষ উইকিপিডিয়া সম্পাদককে অবশ্যই গবেষণার কাজেও পারদর্শী হতে হয়।

স্মৃতি থেকে সরাসরি তথ্য লিখে ফেলা সহজ ও লোভনীয় হলেও, একবার ভেবে দেখুন আপনি তথ্যটি কীভাবে জেনেছিলেন। বিষয়টি কি স্কুলে শিখেছেন, নাকি নিজে পড়ে জেনেছেন? আপনি কি এটি নিজে দেখেছেন, নাকি কারও কাছ থেকে শুনেছেন? তথ্যটি কোথা থেকে জেনেছেন তা মনে করতে পারলে, সম্ভবত আপনি একটি উৎসও উদ্ধৃত করতে পারবেন। নতুন নিবন্ধ তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান কোনো নিবন্ধ পরিমার্জনের কাজ করলেও আপনাকে গবেষণা করতে হবে। আপনার করা সম্পাদনা ও সংযোজনগুলো অন্যান্য সম্পাদকদের কাছে তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন সেগুলোর সাথে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র যুক্ত থাকবে। আপনি যদি গবেষণা করতে পছন্দ করেন, তবে বিদ্যমান নিবন্ধের তথ্য যাচাই করা এবং তথ্যসূত্র যুক্ত করাই হতে পারে পরিষ্করণের প্রধান কাজ, যা সপ্তম অধ্যায়ে ('পরিষ্করণ, প্রকল্প এবং প্রক্রিয়া') বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পরিশেষে, যেকোনো নিবন্ধের তথ্য মূল্যায়নে ভালো গবেষণার দক্ষতা বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, আলাপ পাতায় নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে দ্রুত অনুসন্ধান করে দেখুন, ওই তথ্যটির অন্য কোনো সমর্থনযোগ্য ভিত্তি আছে কি না।

এই অনুচ্ছেদে আমরা গবেষণা কৌশল এবং উইকিপিডিয়া নিবন্ধের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন তথ্যসূত্র শৈলী নিয়ে আলোচনা করব। লেখার মতোই গবেষণাও এমন একটি দক্ষতা, যা আয়ত্ত করতে প্রচুর অনুশীলনের প্রয়োজন; আর এখানে কেবল এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া হয়েছে। গবেষণার অন্যান্য সহায়ক উপাদানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গবেষণামূলক নির্দেশিকা (যেমন থমাস ম্যানের 'দ্য অক্সফোর্ড গাইড টু লাইব্রেরি রিসার্চ'), গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগারিক (যাঁদের কাজই হলো গবেষণায় সহায়তা করা) এবং উইকিপিডিয়ার নিজস্ব রেফারেন্স ডেস্কের মতো ফোরাম (w:উইকিপিডিয়া:তথ্যকেন্দ্র), যেখানে আপনি যেকোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। মূলত, গবেষণা কোনো বোঝা না হয়ে বরং কৌতূহলোদ্দীপক ও স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া উচিত। বিশ্বকোষ প্রণেতার প্রাথমিক কাজই হলো তথ্য সংকলন করা, আর গবেষণা হলো এর পেছনের মূল চালিকাশক্তি।


৩.১. উইকিপিডিয়ায় ভালো গবেষণা

[সম্পাদনা]

ভালো গবেষণা বলতে আসলে কী বোঝায়? উইকিপিডিয়ায় গবেষণাই হলো সেই চাবিকাঠি, যা এই ওয়েবসাইটটিকে একটি মানসম্মত তথ্যভাণ্ডারে পরিণত করে। একজন সম্পাদকের কাছে লেখার আগে গবেষণা করার অর্থ হলো, উন্মুক্ত একটি প্ল্যাটফর্মে নিজের কাজকে অন্যদের সমালোচনা ও পরিবর্তনের সম্মুখীন করার আগে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া। মানসম্মত গবেষণা আপনাকে উইকিপিডিয়ায় যুক্ত করা তথ্যের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং অন্যান্য সম্পাদকের যেকোনো প্রশ্নের বিপরীতে নিবন্ধটিকে সুরক্ষিত রাখে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ, অন্যান্য অনলাইন সম্প্রদায়ের মতো উইকিপিডিয়াতেও প্রায়ই নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

উইকিপিডিয়ায় 'যাচাইযোগ্যতা' এবং 'কোনো মৌলিক গবেষণা নয়'—এই নীতিগুলোই মূলত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে। নিবন্ধে যুক্ত করা সমস্ত তথ্য অবশ্যই যাচাইযোগ্য হতে হবে। যেসব তত্ত্ব উপস্থাপন করা হবে, তা কোনো নতুন গবেষণার সারসংক্ষেপ না হয়ে আগে থেকে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। সহজ কথায়, নির্ভরযোগ্য উৎসের নির্দেশিকা মেনে প্রতিটি তথ্যের বিপরীতে সঠিক তথ্যসূত্র যুক্ত করতে হবে। উইকিপিডিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু উৎস অন্যান্য উৎসের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। প্রতিটি তথ্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা উচিত। তবে, কোনো তথ্য নিবন্ধে যুক্ত করার আগে সেটির গুরুত্ব ও গভীরতার ওপর ভিত্তি করে গবেষণার মাত্রাও ভিন্ন হতে পারে। বিতর্কিত বা সন্দেহজনক কোনো তথ্য যুক্ত করার আগে অবশ্যই উপযুক্ত তথ্যসূত্র দিতে হবে। তবে বিতর্কিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কোন উৎসটি নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে সব সময় সবার মতৈক্য আশা করা যায় না। কোনো নিবন্ধে যদি একটি বিতর্কের দুটি দিকই তুলে ধরা হয়, তবে উভয় পক্ষের জন্যই নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য তথ্যসূত্র খুঁজে বের করা সম্পাদকদের দায়িত্ব।

মাঝে মাঝে উইকিপিডিয়ার কিছু তথ্য নিছকই প্রচলিত গুজবে পরিণত হয়; যেমন, "বন্ধুর বন্ধুর কাছ থেকে শোনা" কোনো গল্প। এ ধরনের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করুন যে, তথ্যটি সত্যিই কোথাও নথিবদ্ধ আছে এবং তা কেবল কোনো গুজব বা অপেশাদার সাংবাদিকতার ফসল নয়। তথ্যের সত্যতা প্রমাণের জন্য একটি ভালো, নির্ভরযোগ্য ও মুদ্রিত উৎস উদ্ধৃত করুন। কোনো তথ্য যাচাই করা যদি আপনার ধারণার চেয়েও কঠিন বলে মনে হয়, তবে উইকিপিডিয়ার পাঠকদের স্বার্থে তথ্যটি কোথা থেকে পেয়েছেন—তা উল্লেখ করা আরও বেশি জরুরি। মনে রাখবেন, কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা—উইকিপিডিয়া সেই রায় দেয় না। বরং, যেকোনো বিষয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন করাই হলো এই বিশ্বকোষের মূল কাজ।

যেসব বিষয়ে সহজে গবেষণা করা যায়, তার প্রায় সবই ইতিমধ্যে উইকিপিডিয়ায় যুক্ত করা হয়ে গেছে। তাই তুলনামূলক কম পরিচিত বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করা কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবে একজন সাধারণ পাঠকের জন্য কোনো বিষয়ে নিবন্ধ লেখার মতো পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জনের অন্যতম শর্ত হলো, ওই বিষয়ের ওপর ভালোভাবে পটভূমি গবেষণা করা।

৩.২. গবেষণা করা

[সম্পাদনা]

গবেষণা করা বেশ কঠিন একটি কাজ হলেও, গুপ্তধন খোঁজা বা শব্দজব্দ সমাধানের মতো ধাপে ধাপে অজানাকে জানার এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক হতে পারে। আপনার আগ্রহের বিষয় যাই হোক না কেন, কোনো নিবন্ধের তথ্য যাচাই করতে বা কোনো বিষয়ে গভীরভাবে জানতে কয়েকটি মৌলিক ধাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন:

  • প্রথমেই ঠিক করুন, আপনি ঠিক কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। এটি হতে পারে নিবন্ধের কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের সত্যতা যাচাই করা, অথবা সাধারণ কোনো জিজ্ঞাসা (যেমন: "এই বিজ্ঞানী কত সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন?" বা "এই বিজ্ঞানী কোন মৌলিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছিলেন এবং তিনি কি সে কাজের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন?")। আগে থেকে থাকা কোনো নিবন্ধের ক্ষেত্রে যদি বুঝতে না পারেন কোথা থেকে শুরু করবেন, তবে তথ্যের দিকে আরেকবার সতর্ক দৃষ্টি দিন। খুঁজে বের করুন কোন তথ্যগুলো সন্দেহজনক হতে পারে।
  • কাঙ্ক্ষিত তথ্যটি কোন ধরনের উৎসে পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি এবং সেই উৎসগুলো কোথায় পাওয়া যেতে পারে, তা নির্ধারণ করুন।
  • উপযুক্ত উৎস ব্যবহার করুন। এটি ভালো গবেষণার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (এবং প্রায়শই উপেক্ষিত) একটি অংশ; কারণ সব উৎস সব বিষয়ের জন্য মানানসই নয়। সাম্প্রতিক কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের তথ্যের জন্য সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন ও সরকারি বুলেটিন পর্যালোচনা করতে পারেন। গুগল নিউজের মতো বিনামূল্যের ওয়েব ইনডেক্স বা লেক্সিসনেক্সিসের মতো সংবাদ ইনডেক্সে খুঁজলে এ ধরনের সংবাদ পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, উনবিংশ শতাব্দীর কোনো লেখককে নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর জীবনের বিবরণ সাহিত্য বিশ্বকোষ, জীবনী অভিধান, তাঁর কাজের ভূমিকা বা তাঁর ওপর লেখা জীবনীগ্রন্থে পাওয়া যেতে পারে, যা যেকোনো গ্রন্থাগারের ক্যাটালগে খুঁজলেই মিলবে। অনেক সময় সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সবচেয়ে সহজ হয়; যেমন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা নোবেল কমিটির ওয়েবসাইটে সহজেই পাওয়া যায়। তবে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে আপনাকে জীবনীগ্রন্থের সাহায্য নিতে হবে।
  • উপযুক্ত উৎস খুঁজুন। এর জন্য আপনার অনুসন্ধানের প্রশ্নটিকে মূল শব্দ বা কীওয়ার্ডে রূপান্তর করতে হবে, যাতে সেটি ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন, গ্রন্থাগারের ক্যাটালগ, প্রবন্ধের ডেটাবেস বা অনুরূপ কোনো মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। একটি শব্দ ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেলে সমার্থক অন্য কোনো শব্দ বা নামের ভিন্ন বানান দিয়ে চেষ্টা করুন। এই ধাপে এবং এর আগের ধাপে নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও গ্রন্থাগারিকদের সহায়তা নেওয়া বেশ কাজে আসতে পারে।
  • সম্ভাব্য উৎসগুলো পড়ুন এবং সেগুলোর মূল্যায়ন করুন। এটি গবেষণার সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ অংশ। উৎসগুলো কি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে? তারা তাদের তথ্য কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে? এগুলো কি আদৌ নির্ভরযোগ্য? আপনি কী খুঁজছেন, তার ওপর ভিত্তি করে 'নির্ভরযোগ্য' শব্দের অর্থ বদলে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একজন বিজ্ঞানীর জীবন নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো অ্যাকাডেমিক প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত জীবনী নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গণ্য হলেও, কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে লেখা প্রবন্ধ সম্ভবত ততটা নির্ভরযোগ্য নয়। 'নির্ভরযোগ্য উৎস' নির্দেশিকাটি উইকিপিডিয়ায় নির্ভরযোগ্য উৎস বলতে কী বোঝায়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়। তবে মূল কথা হলো, যেকোনো বাস্তব তথ্য বা বিবৃতি সর্বদা হাতের কাছে থাকা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই লেখা উচিত।
  • আপনার উৎসগুলো নথিবদ্ধ করুন। কাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের উত্তর রয়েছে এমন একটি ভালো ও নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজে পাওয়ার পর সেটির উদ্ধৃতি দিন। এটি ইনলাইন শৈলী ব্যবহার করে অথবা নিবন্ধের শেষে আলাদা একটি 'তথ্যসূত্র' অনুচ্ছেদে যুক্ত করতে পারেন।

অভিনন্দন, আপনার গবেষণার কাজ শেষ! (অন্তত ওই নিবন্ধের জন্য।)

টীকা

প্রয়োজনীয় ওয়েব ঠিকানা বা ইউআরএলগুলো সংরক্ষণ করে রাখুন। অনলাইনে খোঁজার সময় সম্ভাব্য ওয়েব পাতা পেলে সেগুলোর ঠিকানা সংরক্ষণ করুন; এমনকি আপনি কীভাবে তথ্যসূত্রটি খুঁজে পেয়েছিলেন, তা মনে থাকলেও ঠিকানাটি টুকে রাখুন। সার্চ ইঞ্জিন ও ইনবাউন্ড লিঙ্কগুলো নিয়মিত হালনাগাদ হওয়ার কারণে পরবর্তীতে একই জিনিস অনুসন্ধান করে একই ফলাফল না-ও পেতে পারেন।

নিচে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি গবেষণা সহায়ক উপাদানের উল্লেখ করা হলো:

অ্যাকাডেমিক নিবন্ধের জন্য

গুগল স্কলার (http://scholar.google.com/ ঠিকানায় উপলব্ধ) সব ক্ষেত্রের গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি ইনডেক্স করে থাকে। তবে মনে রাখবেন, মূল নিবন্ধগুলো অনলাইনে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ না-ও থাকতে পারে; যদিও প্রায় ক্ষেত্রেই এর সারসংক্ষেপ পড়া যায়। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক সাহিত্য খোঁজার জন্য এটি চমৎকার একটি মাধ্যম, তবে অনেক সময় অনুসন্ধানের ফলাফলে প্রাসঙ্গিক উপাদানের একটি বিশাল ও এলোমেলো তালিকা সামনে আসতে পারে। গুগল স্কলার মূলত একটি সাধারণ হাতিয়ার। একাডেমিক ডেটাবেস এবং সার্চ ইঞ্জিনের তালিকা নিবন্ধটি অন্যান্য ডেটাবেসের সন্ধান দেয়, যা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের নিবন্ধ খোঁজার জন্য প্রায়শই বিভিন্ন গ্রন্থাগারের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়।

সাম্প্রতিক গবেষণা এবং NPOV (নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি)

সাম্প্রতিক কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ঘোষণার বিষয়ে লেখার সময় সতর্ক ভাষা ব্যবহার করুন। অনলাইনে সহজেই কোনো তথ্য পেয়ে গেছেন বলেই নির্দিষ্ট কোনো গবেষণার গুরুত্বকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করবেন না। বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে, নতুন ফলাফলগুলো অবশ্যই অন্যদের দ্বারা যাচাইকৃত হতে হবে। নতুন কোনো গবেষণা সত্যিই উল্লেখযোগ্য কি না, তা পরিষ্কার হতে অনেক সময় কয়েক বছর লেগে যায়। এছাড়া মনে রাখবেন, তথ্যের ভারসাম্য বজায় রাখা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম একটি অংশ। আপনার লক্ষ্য হলো সাধারণ পাঠকের কাছে কোনো বিষয়ের সঠিক ও বিস্তৃত বিবরণ তুলে ধরা; নির্দিষ্ট বিষয়ে হওয়া সমস্ত গবেষণা বা অতি সাম্প্রতিক আবিষ্কারের তালিকা তৈরি করা নয়। গুজব, অপ্রকাশিত গবেষণা এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনগুলো কখনোই নির্ভরযোগ্য উৎস নয়।

ওয়েবসাইটের জন্য

সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করার পাশাপাশি (যাদের একটি দীর্ঘ তালিকা w:সার্চ ইঞ্জিনের তালিকা-এ পাওয়া যাবে), আপনি চাইলে লাইব্রেরিয়ানস ইন্টারনেট ইনডেক্সের মতো কোনো ডিরেক্টরিও ব্যবহার করে দেখতে পারেন (http://lii.org/)। অন্যান্য ওয়েব ডিরেক্টরি প্রকল্পের মতো এই সাইটটিও বিষয় অনুসারে ওয়েবসাইটগুলো সংগ্রহ করে থাকে। তবে প্রতিটি সাইট তালিকাভুক্ত করার আগে সেটি যৌক্তিক কি না, তা নিশ্চিত করতে গ্রন্থাগারিকরা সাইটগুলো পর্যালোচনা করে থাকেন। স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা পরিচালিত আরেকটি পরিচিত ওয়েব ডিরেক্টরি হলো http://dmoz.org/; অন্যান্য ডিরেক্টরির একটি তালিকা ওয়েব ডিরেক্টরিগুলির তালিকা-এ পাওয়া যাবে।

বইয়ের জন্য

ওয়ার্ল্ডক্যাট (http://worldcat.org/-এ উপলব্ধ) হলো বিশ্বব্যাপী থাকা গ্রন্থাগারগুলোর একটি সম্মিলিত ক্যাটালগ, যা বর্তমানে অনলাইনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। নির্দিষ্ট কোনো বই খুঁজতে চাইলে এই ক্যাটালগটি আপনার আশেপাশের এমন কোনো গ্রন্থাগারের সন্ধান দিতে পারে, যেখানে বইটি সংরক্ষিত আছে। এছাড়া এখানে বিষয় অনুসারে বই খোঁজার সুবিধাও রয়েছে। অনলাইনে বই পড়ার তিনটি ভালো মাধ্যম হলো: গুগল বুকস (http://books.google.com/), যা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে থাকা বইগুলো স্ক্যান করে সেগুলোর সম্পূর্ণ পাঠ্য অনুসন্ধানযোগ্য করে তোলে (তবে বইটির কপিরাইট থাকলে কেবল এর ছোট্ট একটি অংশ দেখা যাবে); ইন্টারনেট আর্কাইভের 'টেক্সটস' প্রকল্প (http://www.archive.org/details/texts), যা পাবলিক ডোমেইন ও বিনামূল্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বইগুলো স্ক্যান করে অন্যান্য অনলাইন সংগ্রহের সাথে পড়ার সুযোগ দেয়; এবং প্রজেক্ট গুটেনবার্গ (http://www.gutenberg.org/), যেখানে পাবলিক ডোমেইনে থাকা ২০,০০০-এর বেশি বইয়ের সম্পূর্ণ পাঠ্য উন্মুক্ত রয়েছে।

তথ্যসূত্রমূলক কাজের জন্য

বিষয়শ্রেণী:উইকিপিডিয়া উৎস পাতায় নিবন্ধে ব্যবহৃত কিছু সাধারণ উৎসের তালিকা রয়েছে। অন্যদিকে বিষয়শ্রেণী:পাবলিক ডোমেইনে রেফারেন্স কাজ পাতায় পাবলিক ডোমেইনে থাকা তথ্যসূত্রমূলক কাজগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো প্রায়শই অনলাইনে বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং নিবন্ধে অবাধে ব্যবহার করা যায় (তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছু পরিমার্জনের প্রয়োজন হয়)।

বই ও নিবন্ধ খোঁজার অন্যান্য ভালো উৎস হতে পারে কোনো বিষয়ের সাধারণ পাঠ্যবই বা প্রাথমিক ধারণামূলক উৎস। এগুলোতে প্রায় সব সময়ই মূল উৎসের একটি গ্রন্থপঞ্জি থাকে, যা আপনি পরে যাচাই করে দেখতে পারেন। যেকোনো গবেষণার মতোই স্থানীয় গ্রন্থাগার ও গ্রন্থাগারিকরাও আপনাকে সম্ভাব্য উৎসগুলো খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারেন।

আইএসবিএন এবং বইয়ের উৎস

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বুক নাম্বার হলো ১০ বা ১৩ সংখ্যার একটি নির্দিষ্ট শনাক্তকারক, যা বিশ্বব্যাপী প্রকাশক ও গ্রন্থাগারগুলো প্রতিটি বইকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে ব্যবহার করে থাকে। উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলোতে খেয়াল করলে দেখবেন, বইয়ের তথ্যসূত্রের শেষে প্রায়ই সংযোগ বা লিঙ্কযুক্ত আইএসবিএন দেওয়া থাকে। এই লিঙ্কে ক্লিক করলে আপনাকে উইকিপিডিয়া:বইয়ের উৎস নামের একটি বিশেষ পাতায় নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন গ্রন্থাগারের ক্যাটালগের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। এই পাতায় থাকা যেকোনো গ্রন্থাগারের লিঙ্কে ক্লিক করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ক্যাটালগে বইটি অনুসন্ধান করা হবে। আপনার যদি এক বা একাধিক গ্রন্থাগারে প্রবেশের সুযোগ থাকে, তবে এটি আপনার অনেকটা সময় বাঁচাতে পারে। এছাড়া সেখানে কিছু অনলাইন বই বিক্রেতার পরীক্ষিত তালিকাও দেওয়া থাকে। আপনার কাছে যদি কোনো বইয়ের আইএসবিএন থেকে থাকে, তবে আপনি সরাসরি বিশেষ:বইয়ের_উৎস পাতায় গিয়েও অনুসন্ধান করতে পারেন। কোনো তথ্যসূত্রে আইএসবিএন যুক্ত করতে চাইলে, কেবল বিরামচিহ্ন ছাড়াই 'ISBN' লিখে এরপর সংখ্যাটি টাইপ করুন; এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বইয়ের উৎস পাতার সাথে সংযুক্ত হয়ে যাবে।

৩.৩. নির্ভরযোগ্য উৎস

[সম্পাদনা]

তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু উৎস অন্যগুলোর তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য। সবসময় আপনার খুঁজে পাওয়া সেরা উৎসগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। উইকিপিডিয়ায় তথ্যের উৎসের ক্ষেত্রে সাধারণত কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়:

  • উইকিপিডিয়ার বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা এবং অন্যান্য সম্পাদকদের কেবল উন্মুক্ত উৎসগুলোতে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি বিবেচনা করে, এমন উৎস ব্যবহার করার চেষ্টা করুন যা অনলাইনে সবার জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত (সাধারণত মুদ্রিত বা সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক উৎসের পাশাপাশি)। তবে মনে রাখবেন, বিশ্ববিদ্যালয় বা গ্রন্থাগারের মাধ্যমে পাওয়া অনেক তথ্যভাণ্ডার (যেমন: অনলাইন সাময়িকী) সাধারণত সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে পড়তে হয় এবং সাধারণ মানুষের সেখানে প্রবেশাধিকার থাকে না।
  • সাম্প্রতিক ও হালনাগাদ উৎসগুলো বেশি অগ্রাধিকারযোগ্য হলেও কোনো বিষয়ের গভীরতর বিশ্লেষণের জন্য পুরোনো গবেষণামূলক উৎসের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। নতুন উৎস প্রকাশিত হলে তা যেকোনো সময় নিবন্ধে যুক্ত করা যায়।
  • সম্ভব হলে বিভিন্ন ধরনের উৎসের মিশ্রণ ব্যবহার করুন: ওয়েবসাইটের বহিঃসংযোগ, মানসম্মত পাঠ্যবইয়ের তথ্যসূত্র এবং অ্যাকাডেমিক বই ও সাময়িকীর সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্রের সংমিশ্রণ হলো একটি আদর্শ পদ্ধতি।
  • ব্লগ বা এমন কোনো উৎসের ওপর নির্ভর করবেন না, যা বাস্তব তথ্যের চেয়ে ব্যক্তিগত মতামতের ওপর বেশি নির্ভরশীল। সম্পাদকীয় বা উপসম্পাদকীয় কলামগুলো কোনো বিতর্কিত বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রে ভালো উৎস হতে পারে, তবে সেগুলো সাধারণত বাস্তব তথ্যের জন্য সেরা মাধ্যম নয়। অত্যন্ত বিতর্কিত কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণার সময় উৎসের সত্যতা যাচাই করতে এবং ঘটনার উভয় দিক তুলে ধরতে অত্যন্ত সতর্ক থাকুন।
  • যেকোনো উৎসের ক্ষেত্রে লেখকের দক্ষতা বা যোগ্যতা বিবেচনা করুন। একজন 'বিশেষজ্ঞ' বলতে কী বোঝায়, তা প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে; যেমন আধুনিক জনপ্রিয় সংগীতের একজন বিশেষজ্ঞ সম্ভবত একজন সংগীত সাংবাদিকই হবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপক নন। মূল কথা হলো, তথ্যের উৎসটি কোথা থেকে আসছে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।
  • নির্ভরযোগ্য ও যুক্তিসঙ্গত উৎস দিয়ে সমর্থিত কোনো তথ্য অকারণে মুছে ফেলবেন না। আপনি যদি বিদ্যমান উৎসের চেয়ে আরও ভালো কোনো উৎস পান, তবে অবশ্যই সেটি যুক্ত করুন; কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরোনো উৎসটি সরিয়ে ফেলা ঠিক নয়। উৎসগুলোর মধ্যে কোনো অমিল থাকলে তা নিবন্ধের মূল লেখায় বা আলাপ পাতায় উল্লেখ করুন।

উইকিপিডিয়ায় 'নির্ভরযোগ্য উৎস' বলতে কী বোঝায় এবং নিবন্ধের কোন ধরনের দাবির জন্য উৎস দেওয়া আবশ্যক, তা নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একজন কলামিস্টের লেখার চেয়ে গবেষণামূলক উৎস বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে। তবে উৎস নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনাকে যুক্তিবাদীও হতে হবে: মনে রাখবেন, নির্ভরযোগ্যতা ও অভ্রান্ততা এক জিনিস নয়।

টীকা

উৎস হিসেবে উইকিপিডিয়ার অন্য কোনো নিবন্ধ ব্যবহার করে স্ব-উল্লেখ বা আত্ম-উদ্ধৃতি দেবেন না। এ ধরনের কাজ বাইরের নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করে। অন্যান্য নিবন্ধের সংযোগগুলো সর্বদা 'আরও দেখুন' অনুচ্ছেদে রাখা উচিত।

এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য w:উইকিপিডিয়া:নির্ভরযোগ্য উৎস (শর্টকাট WP:RS) দেখতে পারেন। নির্ভরযোগ্য উৎসের এই নির্দেশিকা এবং এটি ঘিরে চলমান বিতর্কগুলো চরম বিতর্কিত ক্ষেত্রগুলোতেই (দুর্ভাগ্যজনক হলেও হয়তো অনিবার্যভাবেই) বেশি প্রাধান্য পায়, যা সাধারণ নিবন্ধের জন্য খুব একটা সহায়ক নয়। উৎসের নির্দেশিকাগুলো মূলত এমন ক্ষেত্রের জন্য, যেখানে নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি; যেমন—ধর্ম, রাজনীতি বা জীবিত ব্যক্তির জীবনী।

জীবনী নিবন্ধের উৎস নিয়ে একটি প্রাসঙ্গিক নির্দেশিকা রয়েছে। নিচের অংশটি w:উইকিপিডিয়া:উল্লেখযোগ্যতা (শর্টকাট WP:BLP) নামক একটি আনুষ্ঠানিক নীতিমালা থেকে নেওয়া হয়েছে (সংগ্রহ: ৩ অক্টোবর ২০০৭):

   স্ব-প্রকাশিত বই, জাইন, ওয়েবসাইট এবং ব্লগ থেকে পাওয়া কোনো তথ্য জীবিত ব্যক্তি সম্পর্কে উৎস হিসেবে কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়; যদি না সেটি ওই ব্যক্তির নিজের লেখা বা প্রকাশিত হয়।
   সম্পাদকদের যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত। নিজেকে প্রশ্ন করুন—উৎসটি কি নির্ভরযোগ্য? তথ্যটি কি সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে? আর যদি সত্যও হয়, তবে এটি ওই ব্যক্তি সম্পর্কে উইকিপিডিয়ার বিশ্বকোষীয় নিবন্ধের জন্য প্রাসঙ্গিক কি না? অনেক সময় নিম্নমানের প্রকাশনাগুলো এমন কিছু তথ্য ছাপে যা তারা নিজেরাই অসত্য বলে সন্দেহ করে এবং এ কারণে তারা প্রায়ই অস্পষ্ট বা উইজেল শব্দ ব্যবহার করে। এগুলোর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। মূল প্রকাশনাই যদি তাদের নিজেদের গল্প বিশ্বাস না করে, তবে আমরা কেন করব?

৩.৪. তথ্যসূত্র প্রদানের ধরন

[সম্পাদনা]

নিখুঁত উৎস খুঁজে পাওয়ার পর আপনাকে নিবন্ধে সেটির একটি উদ্ধৃতি যোগ করতে হবে। সময়ের পরিক্রমায় উইকিপিডিয়ায় তথ্যসূত্র প্রদানের বিভিন্ন শৈলী গৃহীত ও বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে টেমপ্লেটের মতো প্রযুক্তিগত সমাধানের পাশাপাশি শিক্ষায়তনে প্রচলিত একাধিক শৈলীর সংমিশ্রণও দেখা যায়। তবে তথ্যসূত্র প্রদানের এসব শৈলীর মূল উদ্দেশ্য একটাই: নিবন্ধের তথ্যগুলো কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে এবং কোন উৎসগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তা পাঠকের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা। শুরুতে তথ্যসূত্রের নির্দিষ্ট কোনো শৈলী নিয়ে ভাবার চেয়ে তথ্যসূত্রটি যুক্ত করা বেশি জরুরি; অন্যান্য সম্পাদকরা পরবর্তীতে এর শৈলী ঠিক করে দিতে পারবেন।

তা সত্ত্বেও আমরা 'ইনলাইন' তথ্যসূত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিই, যেখানে মূল লেখার নির্দিষ্ট তথ্যের পাশে পাদটীকার জন্য সংখ্যাযুক্ত সুপারস্ক্রিপ্ট সংযোগ বা লিঙ্ক ব্যবহার করা হয়। এই পাদটীকাগুলো নিবন্ধের শেষে (সাধারণত 'তথ্যসূত্র' বা 'টীকা' নামের অনুচ্ছেদে) একসাথে দেখা যায় এবং প্রতিটি তথ্যের নির্দিষ্ট উৎস নির্দেশ করে। বর্তমান উইকিপিডিয়ায় এই শৈলীটিই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত এবং এর বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে। পাদটীকার সংযোগগুলোতে ক্লিক করে পাঠক সহজেই যেকোনো নির্দিষ্ট তথ্যের উৎসে চলে যেতে পারেন। এর মাধ্যমে খুব সুনির্দিষ্টভাবে উদ্ধৃতিও দেওয়া যায়—যেমন, একটি নিবন্ধের প্রতিটি বাক্যের জন্যই ভিন্ন ভিন্ন উৎসের পাদটীকা ব্যবহার করা সম্ভব। এতে প্রতিটি তথ্যের উদ্ধৃতি সরাসরি ওই তথ্যের পাশেই দেখা যায়। এই শৈলীর বড় সুবিধা হলো, সময়ের সাথে সাথে একটি নিবন্ধে অনায়াসে আরও অনেক উৎস যুক্ত করা যায়। কোনো সম্পাদক নির্দিষ্ট কোনো তথ্যের জন্য নিখুঁত একটি উৎস পেলে তিনি সহজেই সেখানে ওই উৎসের একটি পাদটীকা বসিয়ে দিতে পারেন; এতে পাদটীকার তালিকা ও নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়ে যায়। এছাড়া, লেখা সম্পাদনা বা মুছে ফেলার কারণে কোনো পাদটীকা বাদ পড়লে নম্বরগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রমানুসারে সাজানো হয়ে যায়। এসব সুবিধার কারণে যৌথভাবে তথ্যসূত্র প্রদানের ক্ষেত্রে এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি।

আপনার কতগুলো তথ্যসূত্র দেওয়া উচিত?

নিবন্ধের প্রতিটি তথ্যের জন্য (এমনকি সাধারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রেও) উৎস দেওয়া প্রয়োজন, নাকি কেবল মূল বিষয়গুলোতেই তথ্যসূত্র দিতে হবে—তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক রয়েছে। নিবন্ধে প্রচুর সংখ্যক পাদটীকা থাকলে তা পড়ার সাবলীলতা নষ্ট করে কি না, অথবা সাধারণ পাঠকের কাছে এর উপযোগিতা কমে যায় কি না (কারণ তাঁদের প্রতিটি তথ্য বারবার যাচাই করতে হয় না), সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব বিতর্ক একপাশে রাখলেও, যেকোনো তথ্যের জন্য সরাসরি ও সহজে ব্যবহারযোগ্য একটি নির্দিষ্ট উৎস থাকা খুবই সহায়ক; আর পাদটীকাগুলো মূলত সেই সুবিধাই দেয়।

কেবল তথ্যসূত্র নির্দেশ করার পাশাপাশি, মূল লেখার কোনো মন্তব্য বা প্রাসঙ্গিক কথাও পাদটীকায় যুক্ত করা যেতে পারে; তবে উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলোতে এর ব্যবহার তুলনামূলক কম। প্রচুর তথ্যসূত্র রয়েছে এমন নিবন্ধের ক্ষেত্রে, পাদটীকা অনুচ্ছেদটিকে (যাকে এক্ষেত্রে 'টীকা' বলা হয়) চাইলে 'তথ্যসূত্র' বা 'আরও পড়ুন' নামের আলাদা অনুচ্ছেদের সাথেও রাখা যেতে পারে, যেখানে পুরো নিবন্ধের সাধারণ তথ্যসূত্রগুলো তালিকাভুক্ত থাকে। চিত্র ৬.৩-এ 'Phineas Gage' নিবন্ধের (উনবিংশ শতাব্দীর একজন ব্যক্তি, যাঁর মাথার খুলি ও মস্তিষ্কে একটি বড় লোহার রড বিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি বেঁচে ছিলেন) শেষাংশে ব্যবহৃত 'তথ্যসূত্র', 'আরও পড়ুন' ও 'বহিঃসংযোগ' অনুচ্ছেদের শৈলীটি দেখানো হয়েছে।

চিত্র ৬.৩. Phineas Gage নিবন্ধের 'তথ্যসূত্র', 'আরও পড়ুন' এবং 'বহিঃসংযোগ' অনুচ্ছেদসমূহ

উইকিপিডিয়ায় উদ্ধৃতি প্রদানের একক কোনো নির্ধারিত শৈলী নেই; বরং শিক্ষায়তনিক বা গবেষণামূলক শৈলীগুলোর নানা রূপ এখানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় (বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়ার উদ্ধৃতিদান দেখুন)। কোনো কাজের উদ্ধৃতি কীভাবে দেওয়া হবে, তা মূলত কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে। উইকিপিডিয়ার একটি সাধারণ নিবন্ধে ওয়েবসাইট, বই এবং বিভিন্ন সাময়িকী বা গবেষণামূলক জার্নালের উৎস থাকতে পারে। উইকিপিডিয়ায় উদ্ধৃতির শৈলী সম্পর্কে নিচে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো:

   ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন। যদি নিবন্ধটিতে আগে থেকেই তথ্যসূত্র প্রদানের নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি বা শৈলী ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে সেটিই অনুসরণ করুন।
   লেখকের নাম উল্টে লেখার প্রয়োজন নেই। যদিও অনেক শিক্ষায়তনিক শৈলীতে তথ্যসূত্রের তালিকায় লেখকের শেষ নাম বা পদবি প্রথমে রাখার নিয়ম রয়েছে, কিন্তু উইকিপিডিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট লেখকের নাম ধরে অনুসন্ধান করা পাঠকদের জন্য এই পদ্ধতি খুব একটা সহায়ক নয়।
   উইকিলিঙ্কগুলো পরিমিতভাবে ব্যবহার করুন। অনেক বিখ্যাত লেখক এবং সুপরিচিত উৎসের নিজস্ব নিবন্ধ রয়েছে। সেক্ষেত্রে, উদ্ধৃতির মধ্যে থাকা নামগুলো সংযোগ বা লিঙ্ক করে দিলে কৌতূহলী পাঠকদের জন্য তা সহায়ক হতে পারে।
   সম্ভব হলে একটি ইউআরএল যুক্ত করুন। তবে নিশ্চিত করুন যে ইউআরএলটি স্থিতিশীল এবং সবার জন্য উন্মুক্ত (যেমন, এটি যেন কেবল কোনো নির্দিষ্ট ম্যাগাজিনের গ্রাহকদের জন্য সীমাবদ্ধ না থাকে)। আপনি যে তারিখে ইউআরএলটি দেখেছেন, সেই তারিখটিও উল্লেখ করুন।
   সম্পূর্ণ নাম বা তথ্য লিখুন। গবেষণামূলক জার্নালগুলোতে প্রায়ই যেসব অস্পষ্ট বা সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়, তা নতুন পাঠকদের কাছে দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। উৎস সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব বিস্তারিত তথ্য দিন (যেমন—লেখকের পুরো নাম, জার্নালের নাম বা বইয়ের আইএসবিএন)। কারণ, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের পাঠক পরবর্তীতে উৎসটি খোঁজার চেষ্টা করতে পারেন।

তথ্যসূত্র অনুচ্ছেদসমূহ

একটি সাধারণ নিবন্ধের শেষে তথ্যসূত্রের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ থাকে: উইকিপিডিয়ার অন্যান্য নিবন্ধের সংযোগের জন্য 'আরও দেখুন'; 'তথ্যসূত্র', যেখানে নিবন্ধে ব্যবহৃত সমস্ত উৎস থাকে; এবং 'বহিঃসংযোগ', যেখানে বাইরের ওয়েবসাইটের সংযোগ যুক্ত করা হয়। অনুচ্ছেদগুলো ঠিক এই ক্রমানুসারেই থাকা উচিত। কখনো কখনো 'তথ্যসূত্র' অনুচ্ছেদটিকে তিনটি অংশে ভাগ করা হয়—'টীকা' (কেবল পাদটীকার জন্য), 'তথ্যসূত্র' (পাদটীকাবিহীন যেকোনো সাধারণ তথ্যসূত্রের জন্য) এবং 'আরও পড়ুন' (সরাসরি উদ্ধৃত নয়, এমন প্রাসঙ্গিক অন্যান্য উৎসের জন্য)।

৩.৪.১. পাদটীকার ব্যবহার

[সম্পাদনা]

ইনলাইন শৈলীর মূল ভিত্তি হলো <ref> ট্যাগ। মূল লেখার ঠিক যে স্থানে আপনি পাদটীকাটি যুক্ত করতে চান, সেখানে এক জোড়া <ref> ট্যাগের মাঝখানে টীকা ও উদ্ধৃতিগুলো লিখতে হয়। উদাহরণস্বরূপ:

বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্য বেশ বড়। মিলার, ই: "দ্য সান" (The Sun), পৃষ্ঠা ২৩। একাডেমিক প্রেস, ২০০৫, তবে চাঁদ অত বড় নয়।স্মিথ, আর: "সাইজ অব দ্য মুন" (Size of the Moon), সায়েন্টিফিক আমেরিকান, ৪৬(৭৮):৪৬।

এই উদাহরণে দুটি উৎস উদ্ধৃত করা হয়েছে: একাডেমিক প্রেস থেকে প্রকাশিত ই. মিলারের কাজ এবং সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এ প্রকাশিত আর. স্মিথের কাজ। মূল লেখার যে স্থানে আপনি <ref> ট্যাগটি ব্যবহার করবেন, সেখানে তথ্যসূত্রগুলো কেবল সংখ্যাযুক্ত পাদটীকা সংযোগ হিসেবে দেখাবে। নতুন কোনো পাদটীকা যোগ করা হলে এই সংখ্যাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়ে যাবে।

উদ্ধৃত তথ্যসূত্রগুলো পাঠকদের দেখানোর জন্য আপনাকে দ্বিতীয় একটি অংশ যুক্ত করতে হবে—আর তা হলো <references/> ট্যাগ। এটি নিবন্ধের একেবারে নিচে 'তথ্যসূত্র' বা 'টীকা' নামের অনুচ্ছেদে বসাতে হয়। আপনি যেখানে এই ট্যাগটি বসাবেন, ঠিক সেখানেই সমস্ত পাদটীকার বিস্তারিত লেখা প্রদর্শিত হবে (তবে মনে রাখবেন, <ref> ট্যাগের আগে <references/> ট্যাগ বসালে তা কাজ করবে না)। যেমন, ওপরের উদাহরণের জন্য আপনাকে এমন একটি অনুচ্ছেদ তৈরি করতে হবে, যা দেখতে নিচের মতো হবে:


<references/> ট্যাগের ভেতরে আলাদা করে কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন নেই; মূল লেখায় যুক্ত করা তথ্যসূত্রগুলো এখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রদর্শিত হবে:

  1. ^ মিলার, ই: "দ্য সান", পৃষ্ঠা ২৩। অ্যাকাডেমিক প্রেস, ২০০৫
  2. ^ স্মিথ, আর: "সাইজ অব দ্য মুন", সায়েন্টিফিক আমেরিকান, ৪৬(৭৮):৪৬

প্রতিটি পাদটীকা একটি ক্যারেট বা ঊর্ধ্বমুখী তীর চিহ্ন দিয়ে শুরু হয়। মূল লেখার যে অংশে তথ্যসূত্রটি যুক্ত করা হয়েছে, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই নির্দিষ্ট স্থানের সাথে সংযুক্ত হয়ে যায়। কোনো তথ্যসূত্র সম্পাদনা করতে চাইলে নিচে তথ্যসূত্র অংশে না গিয়ে সরাসরি নিবন্ধের মূল লেখার ভেতরেই পরিবর্তন করতে হবে।

যদিও <references/> ট্যাগের ভেতর আলাদা করে নতুন কিছু যোগ করার প্রয়োজন নেই, তবুও আপনি চাইলে এই অংশে পাদটীকাবিহীন অন্যান্য সাধারণ তথ্যসূত্রও তালিকাভুক্ত করতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় দুটি আলাদা অনুচ্ছেদ তৈরি করা—একটি 'টীকা' (কেবল ইনলাইন পাদটীকার জন্য) এবং অন্যটি 'তথ্যসূত্র' (বাকি সব সাধারণ তথ্যসূত্রের জন্য)। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি পাদটীকায় সংক্ষিপ্ত তথ্যসূত্র (যেমন: "স্মিথ, পৃ. ৪৭") ব্যবহার করার সুবিধা পাবেন; আর সম্পূর্ণ তথ্যসূত্রটি 'তথ্যসূত্র' অনুচ্ছেদে বিস্তারিতভাবে লিখে রাখা যাবে।

আপনি একই পাদটীকা (অর্থাৎ একই উদ্ধৃতি) এবং একই পাদটীকা নম্বর নিবন্ধের বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য <ref> ট্যাগের ভেতরে name প্যারামিটারটি ঠিক এভাবে যুক্ত করতে হবে:

বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্য বেশ বড়[১], তবে চাঁদ অতটা বড় নয়।[২]।

পরবর্তীতে এই উদ্ধৃতিগুলোর কোনোটি পুনরায় ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে কেবল ref name উল্লেখ করে তথ্যসূত্রের সংক্ষিপ্ত রূপটি লিখলেই চলবে:

সূর্যও বেশ উত্তপ্ত [১]। অন্যদিকে চাঁদ হলো শীতল [২]।

ট্যাগের শেষে স্ল্যাশ (/) চিহ্নটি দিতে ভুলবেন না; অন্যথায় পাতাটি সংরক্ষণ করার পর উক্ত তথ্যসূত্রের পরের কোনো লেখাই আর পাতায় প্রদর্শিত হবে না!

এর ফলে এই দুটি তথ্যসূত্র একই নাম ব্যবহারের কারণে প্রথম তথ্যসূত্রটির মতোই অভিন্ন পাদটীকা নম্বর ধারণ করবে। পাদটীকা অংশে একাধিকবার ব্যবহৃত তথ্যসূত্রের প্রতিটি প্রয়োগের সংযোগ বা লিঙ্কগুলো ক্রমানুসারে বর্ণ (যেমন: ক, খ, গ ইত্যাদি) দ্বারা চিহ্নিত হয়ে প্রদর্শিত হবে।

মূল লেখার ভেতরে একই উৎস একাধিকবার উদ্ধৃত করার সর্বোত্তম উপায় হলো ref name ব্যবহার করা। ল্যাটিন 'ইবিড' (যার অর্থ হলো এটি আগের টীকায় উল্লেখিত একই বইয়ের ভিন্ন পৃষ্ঠা) ব্যবহারের পুরোনো শিক্ষায়তনিক রীতিটি উইকিপিডিয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। কারণ পরবর্তীতে অন্য কোনো সম্পাদক যদি আপনার ধারাবাহিক টীকাগুলোর মাঝখানে নতুন একটি পাদটীকা যুক্ত করেন, তবে সেই 'ইবিড' টীকাটির আর কোনো অর্থ থাকবে না। ইনলাইন পদ্ধতিটি উইকিপিডিয়ায় চমৎকারভাবে কাজ করে, কারণ মূল লেখা সম্পাদনা বা স্থানান্তরের সাথে সাথে নম্বরগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বিন্যস্ত হয়ে যায়। তবে বর্তমান পাদটীকা পদ্ধতির একটি সীমাবদ্ধতা হলো—আপনি যদি উদ্ধৃত তথ্যসূত্রের কোনো অংশ পরিবর্তন করতে চান (যেমন: ভিন্ন কোনো পৃষ্ঠা নম্বর যুক্ত করা), তবে শুধু ref name দিয়ে তা করা যায় না; সেক্ষেত্রে আপনাকে নতুন করে সম্পূর্ণ তথ্যসূত্রটি টাইপ করতে হবে। দীর্ঘ নিবন্ধের ক্ষেত্রে এটি সময়সাপেক্ষ মনে হলে, 'টীকা' অংশে সংক্ষিপ্ত তথ্যসূত্র শৈলী এবং একটি পৃথক 'তথ্যসূত্র' অংশে পূর্ণাঙ্গ তথ্যসূত্র ব্যবহারের কৌশলটি বিবেচনা করতে পারেন।

৩.৪.২. উদ্ধৃতি টেমপ্লেটসমূহ

[সম্পাদনা]

উইকিপিডিয়ায় উদ্ধৃতিগুলো সুন্দর ও সুবিন্যস্তভাবে সাজানোর জন্য বেশ কিছু টেমপ্লেট রয়েছে। বিভিন্ন উৎসের (যেমন: সংবাদপত্র, বই) উদ্ধৃতিগুলো যাতে সুনির্দিষ্ট ও মানসম্মত উপায়ে প্রদর্শিত হয়, তা নিশ্চিত করতে এসব টেমপ্লেট ব্যবহার করা যায়। পাদটীকার উদ্ধৃতি সাজাতে কিংবা তথ্যসূত্র অনুচ্ছেদে আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত উৎসের ক্ষেত্রেও এই টেমপ্লেটগুলো ব্যবহৃত হয়।

উদ্ধৃতি টেমপ্লেটের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র বা প্যারামিটার সম্পাদককে উৎসের তথ্য (যেমন: লেখক, শিরোনাম) দিয়ে পূরণ করতে হয়। এরপর টেমপ্লেটটি উৎসের ধরন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে উদ্ধৃতিটিকে সঠিকভাবে সাজিয়ে নেয়। উদাহরণস্বরূপ, টেমপ্লেট:News টেমপ্লেট ব্যবহার করে একটি অনলাইন সংবাদপত্রের খবরের উদ্ধৃতির উইকিটেক্সট নিচে দেওয়া হলো:

প্লানকেট, জন (২০০৫-১০-২৭)। [http://media.guardian.co.uk/site/ story/0,14173,1601858,00.html "সোরেল মারডকের বিরুদ্ধে আতঙ্কিত কেনাকাটার অভিযোগ করেছেন"] |url= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। দ্য গার্ডিয়ান। সংগ্রহের তারিখ ২০০৫-১০-২৭।  line feed character in |url= at position 34 (সাহায্য)

পাতাটি সংরক্ষণের পর পাঠকেরা নিচের মতো একটি উদ্ধৃতি দেখতে পাবেন:

প্লানকেট, জন। "সোরেল মারডকের বিরুদ্ধে আতঙ্কিত কেনাকাটার অভিযোগ করেছেন", দ্য গার্ডিয়ান, ২৭ অক্টোবর ২০০৫। সংগৃহীত হয়েছে ২৭ অক্টোবর ২০০৫।

এক্ষেত্রে নিবন্ধের শিরোনামটি নির্দিষ্ট ওয়েব ঠিকানার সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যায়। টেমপ্লেট নিজেই উদ্ধৃতিগুলোকে সঠিকভাবে সাজানোর কাজটি সম্পন্ন করে। এছাড়া এটি তথ্যসূত্রে প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (কেবল ওয়েব ঠিকানা নয়, বরং নির্দিষ্ট তারিখও) অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা করে; যাতে ভবিষ্যতে মূল ওয়েব সংযোগটি অকার্যকর হয়ে গেলেও কোনো আর্কাইভ থেকে নিবন্ধটি সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়।

সাধারণত সুনির্দিষ্ট কিছু উৎসের জন্য আগে থেকেই বিশেষ টেমপ্লেট তৈরি করা থাকে। এ ধরনের টেমপ্লেটে মূল উৎসের স্থায়ী তথ্যগুলো আগে থেকেই কোড করা থাকে বলে সম্পাদককে কেবল লেখকের নাম বা নিবন্ধের শিরোনামের মতো পরিবর্তনশীল তথ্যগুলো যুক্ত করতে হয়। পাতাটি সংরক্ষণ করলে সম্পূর্ণ উৎসের উদ্ধৃতিটি সুন্দরভাবে প্রদর্শিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ফিশবেস (মাছ সম্পর্কিত তথ্যের গবেষণাধর্মী অনলাইন ডেটাবেস)-এর সংযোগ যুক্ত করার জন্য টেমপ্লেট:Fishbase species টেমপ্লেট ব্যবহৃত হয়। w:গাপ্পি নিবন্ধে নিচের উদ্ধৃতিটি দেখা যায়:

অকার্যকর সংযোগ

ওয়েবসাইটগুলো যখন বন্ধ হয়ে যায় কিংবা তাদের আধেয় বা বিষয়বস্তু নতুন করে সাজায়, তখন উইকিপিডিয়ার যেসব পাতা থেকে ওই ওয়েব ঠিকানাগুলোতে সংযোগ দেওয়া ছিল, সেগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। একেই অকার্যকর সংযোগ বলা হয়। উইকিপিডিয়ায় হাজার হাজার ওয়েবসাইটকে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে এটি একটি বড় সমস্যা। এর সমাধানে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রতিটি ওয়েবসাইটের তথ্যসূত্রে সাইটের শিরোনাম, লেখক বা প্রকাশকের নাম এবং সাইটটিতে প্রবেশের তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। এতে পরবর্তীতে মূল ওয়েবসাইটটি বন্ধ হয়ে গেলেও ওয়েব্যাক মেশিনের (http://www.archive.org/ ) মতো ওয়েব আর্কাইভ থেকে তা সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। তথ্যসূত্রের কোনো সংযোগ অকার্যকর হয়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে জানতে WP:DEADREF পাতাটি দেখুন।

সম্পাদক কেবল গণ, প্রজাতি ও সাইটটিতে প্রবেশের তারিখ পূরণ করেন। সংরক্ষিত পাতায় এটি নিচের উদ্ধৃতি হিসেবে প্রদর্শিত হয়:

"পয়েসিলিয়া রেটিকুলাটা"। ফিশবেস। সম্পাদক র্যানিয়ার ফ্রোজ ও ড্যানিয়েল পাউলি। এপ্রিল ২০০৪ সংস্করণ। এন.পি.: ফিশবেস, ২০০৪।

ডেটাবেসের শিরোনাম, সম্পাদকের নাম ও উদ্ধৃতির বিন্যাস—সবই টেমপ্লেটের ভেতরে আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। একই উৎস একাধিকবার উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর। নির্দিষ্ট উৎসের টেমপ্লেটগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা w:বিষয়শ্রেণী:নির্দিষ্ট উৎসের টেমপ্লেট-এ পাওয়া যাবে।

তবে উদ্ধৃতি টেমপ্লেটগুলোর একটি বড় অসুবিধা হলো এগুলো কিছুটা অনমনীয়। উদাহরণস্বরূপ, সংবাদ উদ্ধৃতির আগের উদাহরণটিতে লেখকের নামে উইকিসংযোগ যুক্ত করতে চাইলে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হবে। কারণ সেখানে লেখকের নামের প্রথম ও শেষ অংশ আলাদা প্যারামিটারে বিভক্ত। এর দুটি সমাধান রয়েছে: হয় টেমপ্লেট ব্যবহার না করে নিজেই সম্পূর্ণ উদ্ধৃতিটি লিখুন, অথবা authorlink নামের একটি অতিরিক্ত প্যারামিটার যুক্ত করুন, যা |authorlink=জন প্লানকেট-এর মতো করে পূরণ করা যায় (যৌথ লেখকদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্যারামিটার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে)।

বোঝাই যাচ্ছে যে টেমপ্লেটগুলো কিছুটা জটিল হতে পারে। এগুলো উইকি মার্কআপকে অনেক সময় বেশ ঘন ও দুর্বোধ্য করে তোলে; বিশেষ করে লেখার ভেতরে ইনলাইন উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে। অথচ তথ্যসূত্রের সাধারণ উপস্থাপনে এগুলো খুব বেশি নতুন কিছু যোগ করে না। তাই টেমপ্লেটের ব্যবহার পুরোপুরি ঐচ্ছিক। চাইলে এগুলো ধীরে ধীরে যুক্ত করা যায়: সময়ের সাথে সাথে বিদ্যমান সাধারণ তথ্যসূত্রগুলোকে টেমপ্লেটে রূপান্তর করা সম্ভব। উদ্ধৃতি টেমপ্লেট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়া:উদ্ধৃতি টেমপ্লেট পাতাটি দেখতে পারেন।

আরও পড়ুন

http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Citing_sources নিবন্ধে তথ্যসূত্র যুক্ত করার রচনাশৈলী নির্দেশিকা

http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Footnotes লেখার ভেতরে পাদটীকার ব্যবহার ও এর শৈলী সংক্রান্ত নির্দেশিকা

http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Citation_templates উদ্ধৃতি টেমপ্লেট ব্যবহারের বিস্তারিত বিবরণ

৪. অন্যদের সাথে সম্পাদনা করা

[সম্পাদনা]

উইকিপিডিয়ায় কোনো নিবন্ধই কারও একক সৃষ্টি নয় এবং কোনো সম্পাদকই এখানে একা কাজ করেন না। নিজের সম্পাদনাগুলোকে সর্বদা সাইটের অন্য সম্পাদকদের সাথে যৌথ কাজের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করুন। অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিন এবং নতুন যুক্ত করা যেকোনো তথ্যকে উইকিপিডিয়ার বিদ্যমান কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলুন। উইকিসংযোগ যুক্ত করে কোনো নিবন্ধ তৈরি করার পর, নীল সংযোগগুলোতে ক্লিক করলে যেসব পাতা সামনে আসে, সেগুলোর মান কি আপনার কাছে সন্তোষজনক বলে মনে হয়? উইকিপিডিয়ায় এমন অসংখ্য নিবন্ধ রয়েছে, যেগুলোর মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। তাই কেবল নিজের তৈরি নিবন্ধ সমৃদ্ধ করাই নয়, বরং বিদ্যমান অসম্পূর্ণ নিবন্ধগুলো পরিমার্জন ও সম্প্রসারণেও আপনি ভূমিকা রাখতে পারেন; অথবা কোনো নিবন্ধে ধাপে ধাপে সম্পাদনার কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

একজন সম্পাদক হিসেবে আপনি মূলত একটি বিশাল সম্প্রদায়েরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। উইকিপিডিয়ার এই সহযোগিতামূলক পরিবেশে অন্যদের মতামত বা পরামর্শ বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উইকিপিডিয়ায় নতুনদের মনে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি জাগে তা হলো, "দুজন সম্পাদকের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে কী হবে?" এর সহজ উত্তর হলো, সংশ্লিষ্ট সম্পাদকরা আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন—যা উইকিপিডিয়ার কার্যপ্রণালির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কীভাবে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হয় এবং বিবাদ মেটাতে হয়, তা নিয়ে চতুর্দশ অধ্যায় 'বিবাদ, বাধা ও নিষেধাজ্ঞা'-তে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই অনুচ্ছেদে আমরা কেবল নিবন্ধ সম্পাদনার সময় অন্যদের সাথে কীভাবে ফলপ্রসূভাবে কাজ করা যায়, সে সম্পর্কে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ তুলে ধরব।

৪.১. অন্যদের লেখা পরিবর্তন করা

[সম্পাদনা]

একসাথে বড় কোনো পরিবর্তনের বদলে ধাপে ধাপে যৌক্তিক সম্পাদনা করুন। কোনো নিবন্ধে অনেক বেশি কাজের প্রয়োজন হলে স্বাভাবিকভাবেই বেশ কিছু সম্পাদনার সুযোগ তৈরি হয়; এক্ষেত্রে আপনার একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকা দরকার। উদাহরণস্বরূপ, নিবন্ধের যৌক্তিক ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করা কেবল শব্দ পরিবর্তনের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাই এটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সাধারণত কোনো নিবন্ধের সবকিছু একসাথে পরিবর্তন না করে নির্দিষ্ট কিছু অংশ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়াই সর্বোত্তম পদ্ধতি। ধাপে ধাপে যৌক্তিক সম্পাদনা করে সঠিক সম্পাদনা সারাংশ যুক্ত করলে (এবং প্রয়োজনে আলাপ পাতায় বার্তা রাখলে) অন্য সম্পাদকরা সহজেই বুঝতে পারবেন যে আপনি নিবন্ধটিতে কী করছেন। এর ফলে আপনার কাজ তাদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। নিজের জন্য ছোট ও যৌক্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন; যেমন, বিষয়বস্তু ও ভাষার মানোন্নয়নে একবারে কেবল একটি নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ বেছে নিন।

কখনো কখনো কোনো নিবন্ধ সম্পূর্ণ নতুন করে লেখার প্রয়োজন হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে আপনি মূলত পুরোনো নিবন্ধের জায়গায় নতুন একটি নিবন্ধ প্রতিস্থাপন করেন; ফলে আগের ও পরের সংস্করণের মধ্যে হয়তো 'এবং' বা 'ও'-এর মতো সাধারণ দু-একটি শব্দেরই মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। এতে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে। নিবন্ধে আগে থেকে থাকা মূল্যবান তথ্যগুলো সংরক্ষণ করাই আপনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে নিবন্ধটির ধারাবাহিক মানোন্নয়ন করা। তা না হলে অন্য সম্পাদকদের মনে হতে পারে যে আপনি নিবন্ধটির ওপর একচেটিয়া অধিকার খাটাতে চাইছেন। নিবন্ধে ব্যবহৃত কোনো বিন্যাস বা ছোটখাটো রীতি অপছন্দ হলে সরাসরি সবকিছু পরিবর্তন করার আগে আলাপ পাতায় একটি বার্তা দিন। অন্যদের মতামত না নিয়ে ঢালাওভাবে বিভিন্ন নিবন্ধের বিন্যাস পরিবর্তন করলে তা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

৪.২. আপনার নিজের সম্পাদনাগুলো কি টিকে থাকবে?

[সম্পাদনা]

উইকিপিডিয়ায় কোনো লেখা যুক্ত করলেই যে তা আজীবন থেকে যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। পাতাগুলো প্রতিনিয়ত নতুন করে লেখা হতে পারে বা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। কোনো নিবন্ধ যদি সাইটের মৌলিক নীতিমালা পূরণে ব্যর্থ হয় বলে অন্য সম্পাদকদের মনে হয়, তবে পুরো নিবন্ধটিও মুছে ফেলা হতে পারে (তবে ভালোভাবে লেখা ও যথাযথ গবেষণালব্ধ নিবন্ধ মুছে ফেলার সম্ভাবনা খুবই কম)। আপনার লেখা নিবন্ধগুলো অন্যরা সম্পাদনা করবেনই এবং কোনো এক পর্যায়ে আপনার করা বড় কোনো পরিবর্তন কেউ হয়তো বাতিল করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেবেন। উইকিপিডিয়ায় এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে আপনি যদি এমন কোনো তথ্য যুক্ত করেন যা নিয়মিতভাবে বাতিল হতে থাকে, তাহলে একসময় এটিকে শুধুই সময়ের অপচয় বলে মনে হবে। আপনার ক্ষেত্রেও কি এমন ঢালাও প্রত্যাখ্যানের ঘটনা ঘটতে পারে? আপনি হয়তো উইকিপিডিয়ায় লেখার পেছনে অনেকটা সময় ব্যয় করলেন, কিন্তু কোনো কারণে আপনার সম্পাদনা বা নিবন্ধগুলো যদি সাইটে না টেকে, তখন মনে হতেই পারে যে পুরো সময়টাই বৃথা গেল।

এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। "বিশ্বকোষের কি এই নিবন্ধটি প্রয়োজন?" এবং "এই সংযোজন বা পরিবর্তনটি কি বিশ্বকোষের জন্য উপকারী?"—এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রশ্ন। একটি পুরো নিবন্ধ যেমন মুছে ফেলা হতে পারে, তেমনি নির্দিষ্ট কোনো সম্পাদনাও বাতিল বা পুনর্লিখন করা হতে পারে। নিবন্ধে নতুন কোনো তথ্য যুক্ত করলে তা সামগ্রিক নিবন্ধের মতোই বিষয়বস্তু ও রচনাশৈলীর নীতিমালার আওতায় পড়ে; তবে একক সম্পাদনাগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়। যেসব নিবন্ধে কিছুটা ঘাটতি থাকে, সাধারণত সেগুলোকে ছাড় দেওয়া হয় এবং সময়ের সাথে সাথে সম্পাদনার মাধ্যমে পরিমার্জন করা হয়। কেবল মৌলিক নীতিমালার মারাত্মক লঙ্ঘন হলেই কোনো নিবন্ধের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট কোনো সম্পাদনা মানসম্মত না হলে তা সরাসরি বাতিল হয়ে যেতে পারে। আপনার সম্পাদনাটি কেন বাতিল করা হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। আপনি কি কোনো ভুল তথ্য দিয়েছিলেন, নাকি নিজের ব্যক্তিগত মতামতকে সত্য হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন? আপনি কি তথ্যের বিপরীতে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যসূত্র যুক্ত করেছিলেন?

ধরে নেওয়া যাক, আপনার করা সাধারণ সম্পাদনাগুলো অন্য সম্পাদকরা প্রায়ই বাতিল করে দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে আপনি কী করবেন? উইকিপিডিয়ার নীতিমালা যদি একগুঁয়েমিকে প্রশ্রয় দিত, তবে এই সাইটটি অনেক আগেই অচল হয়ে যেত। সম্পাদনার ক্ষেত্রে আত্মরক্ষামূলক বা জেদি মনোভাবের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর কিছু পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমত, আপনার আগ্রহের নিবন্ধগুলো নজরে রাখুন ও পর্যবেক্ষণ করুন, যেমনটি 'একাদশ অধ্যায়: উইকিপিডিয়ান হয়ে ওঠা' অংশে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নিজের বিষয় নির্বাচনের দিকটি নিয়ে ভাবুন। সবসময় বিতর্কের দিকে ঝুঁকবেন না এবং নিজে সমস্যার কারণ হবেন না। কিছু বিষয় স্বভাবতই অন্যগুলোর চেয়ে বেশি বিতর্কিত হয়ে থাকে। একজন নতুন সম্পাদক হিসেবে আপনি তুলনামূলক কম বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন (যেমন রাজনীতি বা ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব সম্পর্কিত নিবন্ধ দিয়ে শুরু করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়)। তৃতীয়ত, উদারমনা হোন। অন্যান্য সম্পাদকের দৃষ্টিভঙ্গিকে মূল্যায়ন করতে শিখুন। তাঁরাও অন্তত আপনার মতোই যুক্তিবাদী ও জ্ঞানী হতে পারেন এবং কোনো বিষয়ে তাঁদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে। মেনে নিন যে আপনার সাথে কারও দ্বিমত পোষণ করার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে। এটি মূলত উইকিপিডিয়ার 'সদিচ্ছা ধরে নেওয়ার' মূল নীতিরই একটি অংশ। উইকিপিডিয়ায় পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত জরুরি, যা 'দ্বাদশ অধ্যায়: সম্প্রদায় ও যোগাযোগ' অংশে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। পরিশেষে, কোনো বিষয়ে আপনি যদি সত্যি সত্যিই নিরপেক্ষ থাকতে না পারেন, তবে বিশ্বকোষকে দোষারোপ করবেন না—বরং যেসব বিষয়ে আপনার আবেগ কাজ করে না, সেগুলো নিয়েই কাজ করুন।

আপনার সম্পাদনাগুলো যেন টিকে থাকে, তা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম উপায় হলো শুরুতেই মানসম্মত তথ্য যুক্ত করা। নিজের রচনাশৈলীর দিকে নজর দিন এবং ভালোভাবে লেখার বিষয়ে উইকিপিডিয়ার নির্দেশিকা ও অন্যান্য পরামর্শগুলো মেনে চলুন। আপনি যদি তাড়াহুড়ো করে লেখেন, তবে ধরে নিতে পারেন যে আপনার সম্পাদনাগুলো পরিবর্তন করা হবে (যদি আদৌ সেগুলো রাখা হয়)। যত্নশীল ও সংক্ষিপ্ত ভাষা ব্যবহার করুন এবং সবকিছু প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করুন। এই বইটিতে এমন অনেক পরামর্শ রয়েছে, যা অনুসরণ করলে যে কেউই একজন দক্ষ উইকিপিডিয়ান হয়ে উঠতে পারবেন এবং তাঁর অবদান সবার কাছে প্রশংসিত হবে।

আপনার তৈরি করা কোনো নিবন্ধ যদি মুছে ফেলা হয়, তবে নিবন্ধ অপসারণ প্রক্রিয়া এবং কীভাবে যৌক্তিকভাবে সেই অপসারণের বিরোধিতা করতে হয়, তা আপনার ভালোভাবে বোঝা প্রয়োজন (দেখুন সপ্তম অধ্যায়: পরিষ্করণ, প্রকল্প এবং প্রক্রিয়া)। আপনার লেখাগুলো যেন সুস্পষ্টভাবে বিষয়বস্তু সংক্রান্ত নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া উচিত। উইকিপিডিয়ায় প্রতিদিন প্রচুর নতুন নিবন্ধ মুছে ফেলা হয় (প্রায় প্রতি মিনিটে একটি)। এগুলো মুছে ফেলার কারণ সাধারণত সুস্পষ্ট থাকে। এসব নিবন্ধ সাইটের নির্দেশিকাগুলো মোটেও পূরণ করতে পারে না; যার ফলে এগুলো প্রায়ই দ্রুত অপসারণ বা বিনা আলোচনায় অপসারণের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

পরিশেষে, উইকিপিডিয়ায় আপনি যে কাজটিই করুন না কেন, তার মধ্যে আত্মতৃপ্তি খুঁজে নিন। আপনার এমন একটি ক্ষেত্র বেছে নেওয়া উচিত, যেখানে কাজ করাটা কোনো মানসিক চাপের কারণ হবে না; বরং তা লেখালেখি, গবেষণা বা সাইটের অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণের কাজে সহায়ক হবে। 'উইকিহ্যাপিনেস' বা উইকিপিডিয়ায় কাজ করার আনন্দ হলো, কোনো ধরনের পূর্বধারণা ছাড়াই এমন কোনো কাজ খুঁজে নেওয়া—যা আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি মানানসই।

৪.৩. সম্পাদনা সারাংশ

[সম্পাদনা]

'চতুর্থ অধ্যায়: একটি নিবন্ধ বোঝা ও মূল্যায়ন করা' অংশে সম্পাদনা সারাংশের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছিল; তবে এখানে আমরা বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানব। সম্পাদনা সারাংশ হলো এক লাইনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ, যা কোনো পাতা সম্পাদনার পর সংরক্ষণের সময় লিখতে হয়। এর মাধ্যমে মূলত নিবন্ধের মানোন্নয়নের কাজগুলো নথিবদ্ধ করে রাখা হয়। অন্য সম্পাদকরা আপনার কাজ ও পদ্ধতি যাচাই-বাছাই এবং মূল্যায়নের জন্য এটি ব্যবহার করবেন। বিষয়টি অত্যন্ত যৌক্তিক; কারণ এর মাধ্যমে আপনি নিজেও অন্যদের সম্পাদনা মূল্যায়ন করতে শিখবেন। একটি ভালো সম্পাদনা সারাংশ পারস্পরিক বিশ্বাস তৈরিতে সাহায্য করে। বিশেষ করে কোনো বিতর্কিত অংশে সম্পাদনা করার সময় এটি ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। সম্পাদনা সারাংশ যুক্ত করার অভ্যাস আপনার সুনাম বাড়ানোর পাশাপাশি সাইটের অন্যান্য ব্যবহারকারীদেরও সহায়তা করবে।

কোনো পাতা সংরক্ষণের আগে সম্পাদনা বাক্সের ঠিক নিচে থাকা 'সম্পাদনা সারাংশ' ঘরে আপনার করা পরিবর্তনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিখুন। এই সারাংশ স্থায়ীভাবে আপনার সম্পাদনার সাথে যুক্ত থাকে এবং পাতার ইতিহাস, সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও নজরতালিকার মতো পাতায় প্রদর্শিত হয়। সম্পাদনা সারাংশ লেখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ অক্ষরের সীমাবদ্ধতা রয়েছে; তবে এর মধ্যেই প্রয়োজনীয় অনেক কথা বলা সম্ভব। একটি আদর্শ সম্পাদনা সারাংশে আপনার করা পরিবর্তনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকে। পরিবর্তন করার কারণ যদি এমনিতেই স্পষ্ট না হয়, তবে সারাংশে তার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। সম্পাদনা সারাংশ অনুসন্ধানযোগ্য বা সূচিবদ্ধ নয়; তাই যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিবন্ধের আলাপ পাতাতেও যুক্ত করা উচিত।

সম্পাদনা সারাংশে সাধারণত প্রমিত সংক্ষিপ্ত রূপ ও পরিভাষা ব্যবহৃত হয় (তবে এগুলোর ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়)। সম্পাদনা করতে করতেই আপনি খুব দ্রুত এগুলো শিখে যাবেন। কিছু বিশেষ ধরনের সারাংশ মূলত স্বয়ংক্রিয় বট বা আধা-স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জামের সম্পাদনাকে নির্দেশ করে। এ ধরনের সম্পাদনা চিনতে পারা বেশ উপকারী। আপনার আগ্রহের কোনো নিবন্ধে অপসারণ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত কোনো সারাংশ নজরে এলে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত। সম্পাদনা সারাংশে ব্যবহৃত পরিভাষার একটি তালিকা 'পরিশিষ্ট গ: সম্পাদনা সারাংশের পরিভাষা' অংশে দেওয়া হয়েছে।

যদিও সম্পাদনা সারাংশ লিখতে কেউ আপনাকে বাধ্য করবে না, তবে উইকিপিডিয়ার সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পাদনা সারাংশ উইকিপিডিয়ায় কাজের প্রক্রিয়াকে আরও মসৃণ করে তোলে। নিচের মতো কিছু সাধারণ পরিস্থিতিতে সম্পাদনা সারাংশ ব্যবহার করা বিশেষভাবে প্রয়োজন:

  • অন্যদের লেখা মুছে ফেলার সময়।
  • দীর্ঘ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে সম্পাদকদের দৃষ্টি আলাপ পাতার দিকে আকর্ষণের জন্য।
  • বড় পরিসরে কোনো নিবন্ধ ঢেলে সাজানোর সময় পরিবর্তনের প্রতিটি অংশ আলাদা বিবরণসহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে।
  • পরিবর্তনটি ছোট মনে হলেও, অন্যদের অবহিত করার উদ্দেশ্যে (কারণ আপনার জানা কোনো বিষয় অন্যদের অজানা থাকতেই পারে)।
  • নিবন্ধে রক্ষণাবেক্ষণ ট্যাগ যুক্ত করা বা সরানোর সময়।
  • নতুন পাতা তৈরির জন্য বিষয়বস্তু বিভক্ত করার সময়; যেখানে একটি নিরীক্ষা সূত্র নিশ্চিত করতে উভয় স্থানেই সম্পাদনা সারাংশ যুক্ত করা প্রয়োজন। এর ফলে যে কেউ দেখতে পারে যে "নতুন" লেখাগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং "পুরোনো" লেখাগুলো কোথায় গেছে (জিএফডিএল লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, নতুন পাতার ইতিহাসে মূল রচয়িতার তথ্য দৃশ্যমান থাকতে হয়)।
  • কোনো পাতা অপসারণের প্রস্তাব করার সময়।

আপনি যখন নির্দিষ্ট কোনো অনুচ্ছেদ সম্পাদনা করেন, তখন উইকিপিডিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সারাংশের শুরুতে ওই অনুচ্ছেদের নাম যুক্ত করে দেয়। এসব ক্ষেত্রে আপনি ঠিক কী পরিবর্তন করেছেন, স্বয়ংক্রিয় নামের পাশে তার একটি ছোট্ট ব্যাখ্যা যুক্ত করা উচিত।

বিশেষ করে কোনো নিবন্ধের ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে "সম্পাদনাটি কেন করা হলো?"—সারাংশে এই প্রশ্নের উত্তর থাকা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার তারিখ সংশোধন করার সময় একসাথে তিনটি কাজ করার চেষ্টা করুন: নিবন্ধের ভেতরে একটি সুস্পষ্ট তথ্যসূত্র যুক্ত করা, "পণ্ডিতদের ঐকমত্য অনুযায়ী তারিখ সংশোধন করা হয়েছে, বিস্তারিত জানতে আলাপ পাতা দেখুন" বলে একটি সম্পাদনা সারাংশ লেখা এবং আলাপ পাতায় এ-সংক্রান্ত আরও সমর্থনমূলক তথ্য যোগ করা। সারাংশটি যৌক্তিক দৈর্ঘ্যের মধ্যে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করুন। অস্পষ্ট ব্যাখ্যার চেয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া সাধারণত বেশি কার্যকর (অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত)। যেমন, কেবল "পরিবর্তন করা হলো" লেখার চেয়ে "লেখা স্পষ্ট করতে ইতিহাসের অংশটি নতুন করে লেখা হলো" বলা উত্তম। তবে ছোটখাটো সম্পাদনার ক্ষেত্রে কেবল "বানান সংশোধন" বা "মুদ্রণপ্রমাদ" উল্লেখ করাই যথেষ্ট।

৪.৪. মালিকানা নেই

[সম্পাদনা]

একটি বিষয় মনে রাখবেন: কোনো নিবন্ধ লেখা বা পরিমার্জনে আপনি যত সময়ই ব্যয় করুন না কেন, অন্যদেরও তা সম্পাদনার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কোনো নিবন্ধ কখনোই আপনার একার হতে পারে না। উইকিপিডিয়ার মূল সংস্কৃতিই হলো উন্মুক্ততা, যার মধ্যে অবাধ সম্পাদনার স্বাধীনতাও অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, এখানে যে কেউ যেকোনো পাতা সম্পাদনা করতে আমন্ত্রিত। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা, একচেটিয়া অধিকার খাটানো বা অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা অনুচিত। একগুঁয়ে মনোভাব পোষণ করা ("আমার লেখা মোটেও বাদ দেওয়া যাবে না") উইকিপিডিয়ার আদর্শের পরিপন্থী।

উইকিপিডিয়ায় কোনো নিবন্ধ নিজের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করবেন না। একবার প্রকাশের পর উইকিপিডিয়ার পাতাগুলো কেবল উন্মুক্ত লাইসেন্সের অধীনেই থাকে না, বরং এটি এমন একটি উন্মুক্ত ও সহযোগিতামূলক পরিবেশে প্রবেশ করে, যেখানে যে কেউ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন এবং সবাইকে সম্পাদনায় উৎসাহিত করা হয়। আপনার তৈরি করা কোনো নিবন্ধে অন্যের করা সম্পাদনার সাথে আপনার দ্বিমত থাকলে, অন্য যেকোনো পাতার মতোই আলাপ পাতায় আলোচনার মাধ্যমে মতবিরোধ দূর করুন এবং ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। সম্পাদকীয় আচরণের মৌলিক নীতিগুলো জানতে উইকিপিডিয়া:নিবন্ধের মালিকানা পাতাটি দেখুন। অন্যদের সাথে যৌথভাবে কাজ করার ইতিবাচক দিকগুলোও মনে রাখবেন: তাঁরা নিবন্ধটিতে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসবেন, আপনার নজর এড়িয়ে যাওয়া ভুলগুলো শুধরে দেবেন এবং পাতায় নতুন তথ্য যুক্ত করবেন।

আরও পড়ুন

http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Consensus ঐকমত্য ও তা অর্জনের উপায় সম্পর্কিত মৌলিক নীতিমালা

http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Edit_summary পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সম্পাদনা সারাংশ ব্যবহারের সার্বিক দিক

http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Ownership_of_articles নিজের লেখা নিবন্ধের ওপর "মালিকানা" দাবি না করার নীতি

সারসংক্ষেপ

[সম্পাদনা]

উইকিপিডিয়ার একজন দক্ষ অবদানকারী হয়ে ওঠার পেছনে মূলত কিছু সাধারণ অথচ কার্যকর দক্ষতা কাজ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সঠিক তথ্য খুঁজে বের করে তা গুছিয়ে রাখা, সাধারণ পাঠকের জন্য সহজ ও যৌক্তিকভাবে লেখা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র দিয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা। যেকোনো নিবন্ধিত ব্যবহারকারী লগ-ইন করে উইকিপিডিয়ায় সহজেই নতুন নিবন্ধ তৈরি করতে পারেন। তবে আগে থেকে থাকা কোনো পাতার লাল সংযোগ থেকে শুরু করাই নতুন নিবন্ধ তৈরির সবচেয়ে ভালো উপায়। নিবন্ধের শিরোনাম নির্বাচন ও কাঠামোগত বিন্যাসের ক্ষেত্রে উইকিপিডিয়ার নিজস্ব কিছু রচনাশৈলী বা রীতি রয়েছে। 'রচনাশৈলী নির্দেশনা' হলো মূলত এসব নিয়মেরই একটি সংকলন, যা কোনো নিবন্ধকে নিখুঁতভাবে সাজাতে দিকনির্দেশনা দেয়। মানসম্মত নিবন্ধ তৈরির জন্য সাবলীল লেখার পাশাপাশি চমৎকার গবেষণার দক্ষতা থাকাও অত্যন্ত জরুরি।

উইকিপিডিয়ার দক্ষ সম্পাদকদের অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হয় এবং সম্পাদনার সময় অন্যদের কাজ ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হয়। উইকিপিডিয়ায় সম্পাদনা মূলত একটি সহযোগিতামূলক কাজ। তাই পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত স্থান বা ফোরামগুলোর সঠিক ব্যবহার জানা এবং অন্য সম্পাদকদের সহকর্মী হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রতিটি সম্পাদকের দায়িত্ব।

  1. ↑ ১.০ ১.১ মিলার, ই: "দ্য সান", পৃষ্ঠা ২৩। অ্যাকাডেমিক প্রেস, ২০০৫
  2. ↑ ২.০ ২.১ স্মিথ, আর: "সাইজ অব দ্য মুন", সায়েন্টিফিক আমেরিকান, ৪৬(৭৮):৪৬