বিষয়বস্তুতে চলুন

ইন্দ্রিয়তন্ত্র/পিঁপড়া/ঘ্রাণতন্ত্র

উইকিবই থেকে
ছবি ২. স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি চিত্রে পিপড়ার মাথার গঠন

পিপড়ার জন্য সংবেদনশীল ইনপুটের প্রধান চ্যানেল হলো অ্যান্টেনা । এটি নাড়িয়ে তারা তাদের আশেপাশের জিনিস স্পর্শ করতে, স্বাদ নিতে এবং গন্ধ শুঁকতে পারে। তবে এই অ্যান্টেনার কার্যক্ষমতা স্বাদ ও গন্ধগ্রহণের বাইরেও বিস্তৃত; এর মাধ্যমে সংগৃহীত রাসায়নিক সংকেতগুলো তাদের বিভিন্ন আচরণগত কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে সঙ্গী সনাক্তকরণ ও নির্বাচন, নেস্টমেট এবং বহিরাগতদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ, চলাচল, খাদ্যের জন্য নতুন স্থান অন্বেষণ, যোগাযোগ এবং আত্মরক্ষামূলক আচরণ। কিছু উপগোত্র যেমন ডোরাইলিনি , লেপ্টানিলিনি , ও সেরাপাচিনি সম্পূর্ণ অন্ধ এবং শুধুমাত্র কেমোসেন্সরি সংকেতের উপর নির্ভরশীল। তাই পিপড়ারা মূলত কেমোসেন্সিং-এর মাধ্যমেই অত্যন্ত দক্ষ ও সংগঠিত কলোনি গঠন করে।

পিপড়ার অ্যান্টেনার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি বাঁকা বা “এলবোড” । এটি একটি লম্বা প্রাথমিক অংশ স্কেপ এবং তিন থেকে এগারটি ডিস্টাল অংশ নিয়ে গঠিত যা একত্রে ফানিকুলাস বা ফ্ল্যাজেলাম নামে পরিচিত। স্কেপ ও ফ্ল্যাজেলাম একটি কোণে যুক্ত হওয়ায় অ্যান্টেনাটি তার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বাঁকানো রূপ ধারণ করে। প্রতিটি অংশকে বলা হয় অ্যান্টেনোমার , তাই পিপড়ার অ্যান্টেনোমারের সংখ্যা সাধারণত চার থেকে বারোর মধ্যে হয়।

অ্যান্টেনায় তিন ধরণের সংবেদনশীল রিসেপ্টর থাকে: ওডোরান্ট রিসেপ্টর , গাস্টেটরি রিসেপ্টর , এবং আয়নোট্রপিক গ্লুটামেট রিসেপ্টর । জি.আর স্বাদের অনুভূতির জন্য এবং কিছু ফেরোমোন শনাক্ত করতে কাজ করে, অন্যদিকে আই.আর বিষাক্ত যৌগ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। অন্যান্য কীটপতঙ্গের সঙ্গে তুলনায়, পিপড়ার ও.আর-এর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, যা তাদেরকে অতি অল্প পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ সনাক্ত করতে সক্ষম করে।

অ্যান্টেনার নিউরোনাল গঠন

[সম্পাদনা]

সেন্সরি নিউরনগুলো সিলিয়া নামক লোমাকৃতি গঠনের উপর থাকে। এই গঠনের ভিতরে থাকে সেনসিলিয়া ফিল্টার বা সেনসিলিয়া , যা একটি কাটিকুলার গঠন এবং এর মধ্যে সংবেদনশীল নিউরন ও তাদের সহায়ক কোষ থাকে। প্রতিটি অ্যান্টেনোমারে বিভিন্ন ধরনের সেনসিলিয়া ও সিক্রেটরি গ্ল্যান্ড কোষ থাকে, যা স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপিতে দেখা যায়। সেনসিলিয়ার ধরণ শুধু বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে নয়, বরং পিপড়ার লিঙ্গ ও বর্ণভেদেও আলাদা হয়।

সেনসিলিয়ার বিভিন্ন ধরন ও কার্যকারিতা

[সম্পাদনা]

সেনসিলিয়ার গঠনগত বৈশিষ্ট্যের (যেমন ছিদ্র থাকা না থাকা) ভিত্তিতে এদের কার্যকারিতা ও সংবেদনশীলতাকে চিহ্নিত করা যায়। নিচে সাতটি প্রকারের সেনসিলিয়া এবং তাদের ইনপুটের ধরণ দেওয়া হলো:[]

  • সেনসিলা ক্যয়েটিকা : প্রধানত মেকানোসেন্সরি ইনপুট
  • এস. ট্রাইকোডিয়া : গন্ধগ্রাহী
  • এস. ট্রাইকোডিয়া কুরভাটা : গন্ধগ্রাহী, ফেরোমোন সহ
  • এস. বাসিকোনিকা : গন্ধগ্রাহী
  • এস. কোয়েলোকোনিকা : গন্ধগ্রাহী
  • এস. অ্যাম্পুলাসিয়া : ছিদ্রহীন, এবং আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ও CO₂ সংকেতে প্রতিক্রিয়াশীল রিসেপ্টর বহন করে
  • এস. ক্যাম্পানিফর্মিয়া : গন্ধগ্রাহী

এই সেনসরি নিউরনগুলোর শারীরবৃত্তীয় কার্যকারিতা বায়োসেস টেকনিক ও ইলেকট্রোফিজিওলজিকাল রেকর্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে অধ্যয়ন করা হয়েছে। যদিও সব ধরণের সেনসিলিয়া সব পিপড়ার মধ্যে উপস্থিত নয়, পাঁচটি ধরণ সাধারণত সব পিপড়ায় থাকে: এস. বাসিকোনিকা, এস. ক্যয়েটিকা, এস. ট্রাইকোডিয়া কুরভাটা, এস. কোয়েলোকোনিকা, ও এস. অ্যাম্পুলাসিয়া। এসব সেনসিলিয়াতে একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পোর প্লেট থাকে, যা গন্ধযুক্ত অণু শোষণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। বৃহৎ পৃষ্ঠতলবিশিষ্ট সেনসিলিয়া যেমন এস. বাসিকোনিকা (লম্বা পেগ), এস. ট্রাইকোডিয়া কুরভাটা (লম্বা লোম), ও এস. কোয়েলোকোনিকা (বড় খোলার) গন্ধযুক্ত অণু সংগ্রহে সহায়ক।

ওডোরান্ট রিসেপ্টর নিউরন

[সম্পাদনা]

ও.আর নিউরনগুলো বিশেষায়িত গন্ধগ্রাহী সেনসিলিয়ার মধ্যে অবস্থিত। প্রতিটি ও.আর নিউরন সাধারণত একটি রিসেপ্টর এবং একটি ওর্কো প্রকাশ করে, যা একত্রে কার্যকর রিসেপ্টর ইউনিট গঠন করে। এই নিউরনগুলো রাসায়নিক সংকেতকে স্নায়ু সংকেতে রূপান্তর করে অ্যান্টেনাল লোবের গ্লোমারুলিতে পাঠায়। সেনসিলিয়ার ধরন নির্ভর করে পিপড়ার প্রজাতি, লিঙ্গ ও বর্ণের উপর। কিছু ও.আর জিন শুধুমাত্র ওয়ার্কার অ্যান্টদের অ্যান্টেনায় বেশি থাকে। কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে কুইনের কাটিকুলার হাইড্রোকার্বন শনাক্ত করতেও ও.আর নিউরন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা ওয়ার্কারদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

সেনসিলিয়ার লিঙ্গ ও বর্ণভিত্তিক পার্থক্য এবং কার্যকারিতা

[সম্পাদনা]

একটি পিপড়ার কলোনিতে থাকে অপ্রজননক্ষম স্ত্রী পিপঁড়া এবং প্রজননক্ষম পুরুষ ও স্ত্রী পিপঁড়া। সকল ওয়ার্কার, সোলজার ও কুইন পিপঁড়া নারী। কিছু পুরুষ পিপঁড়া শুধু কুইনকে প্রজননের জন্য সার্ভ করে এবং কয়েক মাসেই মারা যায়। সেনসিলিয়া লিঙ্গ ও বর্ণভেদে ভিন্ন: পুরুষদের ও.আর সংখ্যা নারীদের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ। পুরুষদের সেনসিলিয়া কুইনের নির্গত ফেরোমোন শনাক্তে বিশেষায়িত। যেমন, রেড ফায়ার অ্যান্টের উপর গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের অ্যান্টেনার প্রতিটি অংশে ছিদ্রযুক্ত সেনসিলিয়া রয়েছে।

সেনসিলিয়ার গঠনে পার্থক্য শুধুমাত্র কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং এটাই নির্ধারণ করতে পারে কোন পিপঁড়াকে কী কাজ করতে হবে। যেমন, এস. ইনভিক্টা ওয়ার্কার পিপঁড়াগুলো পলিমরফিক, এবং সেনসিলিয়ার মোট সংখ্যা নির্ভর করে ক্লাবের দৈর্ঘ্যের উপর, যা তাদের গন্ধ সনাক্ত করার ক্ষমতা নির্ধারণ করে।

রেফারেন্স

[সম্পাদনা]
  1. Klaus Dumpert. Bau und verteilung der sensillen auf der antennengeiel von lasius fuliginosus (latr.) (hymenoptera, formicidae). Zoomorphology, 73(2):95-116, 1972.