ইন্দ্রিয়তন্ত্র/পরিশিষ্ট
বর্ণালী
[সম্পাদনা]যখন আলো একটি প্রিজমের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখন প্রিজমের অপর প্রান্তে একটি রঙের বর্ণালী সৃষ্টি হয়, যা লাল থেকে বেগুনি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫০ ন্যানোমিটার থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত হয়, এবং বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ থেকে ৪২০ ন্যানোমিটার পর্যন্ত হয়। এটি হল মানুষের চোখে দৃশ্যমান ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের পরিসর।

রঙ মডেল
[সম্পাদনা]রঙ মেশানোর প্রভাব বোঝাতে প্রায়ই রঙ ত্রিভুজ ব্যবহার করা হয়। এই ত্রিভুজটি দৃশ্যমান বর্ণালীকে ঘিরে রাখে এবং এর মাঝখানে একটি সাদা বিন্দু অবস্থান করে। লাল (৭০০ ন্যানোমিটার), সবুজ (৫৪৬ ন্যানোমিটার) এবং নীল (৪৩৫ ন্যানোমিটার) রঙের সংযোজক মেশানোর বৈশিষ্ট্যের কারণে, এই তিনটি রঙ মিশিয়ে যেকোনো রঙ তৈরি করা যায়।

সেন্সরি সিস্টেমস -এর ইতিহাস
[সম্পাদনা]এই উইকিবইটি শুরু করেছিলেন ইটিএইচ জুরিখ -এ অধ্যয়নরত কিছু প্রকৌশলী, যারা কম্পিউটেশনাল সিমুলেশনস অব সেন্সরি সিস্টেমস কোর্সে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই কোর্সটি শারীরবিজ্ঞান এর সঙ্গে সংবেদী ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রোগ্রামিং এবং সিগন্যাল প্রসেসিং একত্র করে শেখানো হয়। ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সাহিত্যিক উৎসে এ বিষয়গুলোর ওপর প্রচুর তথ্য থাকলেও, এই তিনটি বিষয়ের সংমিশ্রণে একটি সংক্ষিপ্ত ও সুসংগঠিত পাঠ্য উপকরণ ছিল না। এই বইটির লক্ষ্য হলো একজন প্রকৌশলীর দৃষ্টিকোণ থেকে জীববিজ্ঞান ও জীববৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাগুলোর একটি গঠিত ও বিস্তারিত পর্যালোচনা উপস্থাপন করা।
আমরা ভিজ্যুয়াল সিস্টেম দিয়ে শুরু করবো, এর জৈব ও শারীরবৈজ্ঞানিক দিকগুলোর উপর গুরুত্ব দিয়ে, কারণ এই অংশটি আমাদের কোর্স পারফরম্যান্স মূল্যায়নের একটি অংশ। কোর্সের প্রোগ্রামিং অংশটি ইতিমধ্যেই মূল্যায়ন ও গ্রেডিং সম্পন্ন হয়েছে। লেখকদের ইচ্ছা হলো ভবিষ্যতে প্রতিটি সংবেদী ব্যবস্থার জন্য শারীরবিজ্ঞান/জীববিজ্ঞান সিগন্যাল প্রসেসিং এবং প্রোগ্রামিং –এই তিনটি বিষয়েই তথ্য যুক্ত করা হবে। আমরা আশা করি আরও নতুন বিভাগ যুক্ত হবে, যা বইটিকে এমনভাবে প্রসারিত করবে যা আগে কল্পনাও করা হয়নি।
এই উইকিবইটির মূল শিরোনাম ছিল বায়োলজিকাল মেশিনস, যা সংবেদী ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দিককে তুলে ধরতো। তবে উইকিবইটি যত এগিয়েছে, এটি মানুষের সংবেদনব্যবস্থার উপর একটি বিস্তৃত পর্যালোচনায় পরিণত হয়েছে, যেখানে এই ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দিকগুলোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করার জন্য ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে বইটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় সেন্সরি সিস্টেমস।
২০১৫ সালে বইয়ের বিষয়বস্তু এতটাই বিস্তৃত হয়ে পড়ে যে, মূল কাঠামোতে তা রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। নিউরোসেন্সরি ইমপ্লান্টস এবং কম্পিউটার মডেলস আলাদা অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হয়, এবং নন-প্রাইমেটস বিভাগটি বিভক্ত হয়ে আর্থ্রোপডস এবং অথার অ্যানিম্যালস নামে দুটি নতুন বিভাগে রূপ নেয়।