ইন্দ্রিয়তন্ত্র/ঘ্রাণতন্ত্র/ভূমিকা
সম্ভবত প্রকৃতির প্রাচীনতম সংবেদনশীল ব্যবস্থা হলো ঘ্রাণতন্ত্র (olfactory system), যা গন্ধ শনাক্ত করার ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত। ঘ্রাণতন্ত্র শারীরবৃত্তীয়ভাবে স্বাদতন্ত্র (gustatory system) এর সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত, তাই এই দুটি সাধারণত একসাথে বিশ্লেষণ করা হয়। জটিল স্বাদের অনুভূতি তৈরি হতে হলে স্বাদ ও গন্ধ—দুটিরই প্রয়োজন হয়। ফলে, যদি ঘ্রাণশক্তি ঠিকমতো কাজ না করে (যেমন: সর্দি-কাশিতে), তাহলে খাবারের স্বাদ “ভিন্ন” মনে হতে পারে।
সাধারণভাবে, এই দুটি সংবেদনতন্ত্রকে আভ্যন্তরীণ সংবেদন (visceral sense) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, কারণ এদের কার্যকারিতা পরিপাকতন্ত্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এছাড়া, এগুলোর ভূমিকা আবেগীয় ও যৌন কার্যকলাপের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাদ ও গন্ধ—দুটিই কেমোরিসেপ্টর দ্বারা সংবেদনশীল হয়, যা যথাক্রমে থুতু বা শ্লেষ্মায় দ্রবীভূত অণু দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়। তবে এই দুই সংবেদনের শারীরবৃত্তীয় গঠন ভিন্ন। ঘ্রাণ রিসেপ্টর হলো দূরত্ব ভিত্তিক রিসেপ্টর, যেগুলোর থ্যালামাসের সাথে কোনো সংযোগ নেই। অপরদিকে, স্বাদ রিসেপ্টর মস্তিষ্ককান্ড (brainstem) হয়ে থ্যালামাসে পৌঁছায় এবং মুখের স্পর্শ ও চাপ সংবেদনশীলতার মতোই পোস্টসেন্ট্রাল গাইরাস (postcentral gyrus) এ প্রক্ষেপিত হয়।
এই প্রবন্ধে আমরা প্রথমে ঘ্রাণতন্ত্র গঠিত অঙ্গগুলোর উপর আলোকপাত করব, পরে তাদের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তাদের কার্যকারিতা বোঝার চেষ্টা করব এবং শেষে ঘ্রাণ সংকেতের রূপান্তর (signal transduction) ও এর বাণিজ্যিক প্রয়োগ—যেমন ই-নোজ (eNose)—নিয়ে আলোচনা করব।