আন্তর্জাতিক সম্পর্ক/আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি/তত্ত্বসমূহ
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্ব
[সম্পাদনা]ভূমিকা
[সম্পাদনা]প্রকৃতপক্ষে, "আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্ব" (Theories of International Relations) পরিভাষাটি কিছুটা বিভ্রান্তিকর। কারণ, এই বিষয়ের অধিকাংশ বই বা প্রবন্ধে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্পর্কে তত্ত্ব (theories OF international relations) আলোচনা করা হয় না, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন তত্ত্ব (theories IN/WITHIN international relations) উপস্থাপন করা হয়। জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার ক্ষেত্রে "আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্পর্কে তত্ত্ব" শিরোনামটি অধিক উপযুক্ত হতে পারে।
বাস্তববাদ
[সম্পাদনা]
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদ একটি ধ্রুপদী তত্ত্ব, যা মনে করে রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রধান ও যুক্তিসঙ্গত অভিনেতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে এটি অরাজক (anarchic) বলে মনে করে, যেখানে কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই। প্রতিটি রাষ্ট্র নিজের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ক্ষমতা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। বাস্তববাদের মতে, সহযোগিতার চেয়ে সংঘাতই বেশি স্বাভাবিক, কারণ প্রতিযোগিতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য আন্তর্জাতিক রাজনীতির মৌলিক বৈশিষ্ট্য। থুসিডিডিস, ম্যাকিয়াভেলি ও হবস প্রমুখ চিন্তাবিদ এর দার্শনিক ভিত্তি গড়ে তোলেন।
বাস্তববাদ এমন এক সময়ে বিকশিত হয়েছিল যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায় একচেটিয়াভাবে রাষ্ট্রের আধিপত্য ছিল। একারণে, এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি রাষ্ট্র-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং এটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), সন্ত্রাসী সংগঠন ইত্যাদির মতো অন্যান্য পক্ষের গুরুত্বকে অস্বীকার করে। এই তত্ত্বে ধরে নেওয়া হয় যে, সকল রাষ্ট্র শুধুমাত্র নিজের স্বার্থে কাজ করে এবং একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সকল রাষ্ট্র একই রকম আচরণ করবে।
অস্তিত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, জনসংখ্যা
[সম্পাদনা]এই তত্ত্বে বলা হয় যে, একটি রাষ্ট্রের টিকে থাকার জন্য প্রধানত তিনটি উপাদান প্রয়োজন। রাষ্ট্রের শীর্ষ তিনটি অগ্রাধিকার (বা "জাতীয় স্বার্থ") হলো যথাক্রমে অস্তিত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জনসংখ্যা:
- অস্তিত্ব: একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা, যার নির্দিষ্ট সীমানা, প্রশাসন এবং সেই সীমানার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
- আঞ্চলিক অখণ্ডতা: অন্য কোনো রাষ্ট্র আক্রমণ চালালে এটি লঙ্ঘিত হয় বলে মনে করা হয়। আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন মানেই রাষ্ট্রের পরাজয় নয়, বরং রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অনেক সময় আপস করা হতে পারে।
- জনসংখ্যা: প্রয়োজনে জনসংখ্যার বিষয়েও আপস করা হতে পারে (যেমন: সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান)।
সমালোচনামূলক তত্ত্ব
[সম্পাদনা]মার্ক্সবাদী আন্তর্জাতিক তত্ত্ব
[সম্পাদনা]সবুজ তত্ত্ব
[সম্পাদনা]আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সবুজ তত্ত্ব: টেকসই পরিবেশ
নাট্যতত্ত্ব
[সম্পাদনা]নাট্যতত্ত্ব মূলত আরভিং গফম্যানের সমাজতাত্ত্বিক কাজের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, বিশেষ করে তার ভাবমূর্তি ব্যবস্থাপনা (impression management) তত্ত্বের উপর। এই তত্ত্বে, বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক পক্ষকে এমনভাবে দেখা হয়, যেন তারা শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদী স্বার্থই হাসিল করতে চায় না, বরং নিজেদের সংস্কৃতি, রীতিনীতি ইত্যাদির একটি দীর্ঘস্থায়ী ভাবমূর্তি তৈরি করতে চায়, যা বিদেশিরা (এবং সম্ভবত তাদের নিজেদের নাগরিকরাও) সত্য বলে গ্রহণ করবে। গ্রেগরি অ্যাডামস এই তত্ত্বটি বিকাশে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন।
নারীবাদী তত্ত্ব
[সম্পাদনা]আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নারীবাদী তত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং এর সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে পুরুষাধিপত্যের প্রভাব বিবেচনা করে।
সভ্যতার সংঘাত তত্ত্ব
[সম্পাদনা]সভ্যতার সংঘাত তত্ত্বটি স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বে সংঘাত ব্যাখ্যা করার জন্য স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন কর্তৃক বিকশিত একটি তত্ত্ব। হান্টিংটন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সংঘাতগুলো মূলত বৃহত্তর জাতিগত এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত সভ্যতাগুলোর মধ্যে ঘটবে। তিনি যে সভ্যতাগুলোর কথা বলেছিলেন সেগুলো হলো: পশ্চিমা, অর্থোডক্স, ইসলামি, আফ্রিকান, ল্যাটিন আমেরিকান, সিনিক (চীনা), বৌদ্ধ, হিন্দু এবং জাপানি।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]এই পাতাটি নিম্নলিখিত উইকিপিডিয়া সম্পদ থেকেও বহুলাংশে তথ্য সংগ্রহ করেছে:
- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্ব
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- দ্য গ্লোবালিস্ট