বিষয়বস্তুতে চলুন

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস/পৌরাণিক নাটক

উইকিবই থেকে

পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রভাবেই আধুনিক বাংলা গীতিকাব্য ও মহাকাব্য, উপন্যাস ও ছোটোগল্প প্রভৃতি সাহিত্যের অন্যান্য বিষয়ের মতো নাটকের ধারাটিও পুষ্ট হয়েছিল। ইংরেজি নাট্যমঞ্চ কলকাতায় যে উত্তেজনা ও বিস্ময়ের সঞ্চার করেছিল, তারই প্রত্যক্ষ প্রভাবে বাংলা ভাষায় পাশ্চাত্য শৈলীর নাট্যরচনার সূচনা ঘটে। এই নাটকগুলিতে শেকসপিয়রের প্রভাব থাকলেও নাট্যকাহিনির জন্য বাঙালি নাট্যকারেরা প্রথমেই ঐতিহাসিক বিষয়বস্তুর দিকে হাত বাড়াননি, বরং উপজীব্য করেছিলেন পুরাণকথাকেই। এর কারণ আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যের মধ্যেই নিহিত ছিল। বাংলার শহরে ও গ্রামে যাত্রার প্রচলন আগে থেকেই ছিল এবং সেই যাত্রা ছিল বাঙালি হিন্দুদের ধর্মীয় সংস্কারের অনুগামী ভক্তিবাস ও অলৌকিক রসে পরিপুষ্ট। তাই নাটক লিখতে বসে বাঙালি একদিকে যেমন সেই ঐতিহ্যকে অস্বীকার করতে পারল না, তেমনই অন্যদিকে তার ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত মন যাত্রার রীতিটিকেও সম্পূর্ণ গ্রহণ করল না। ফলে বাংলা নাটক বহুকাল যাবৎ এমন এক মিশ্র উপাদানের সাহিত্য রয়ে গেল, যার বহিরঙ্গের আবরণটি হইল আধুনিক বিলেতি আচ্ছাদনে আবৃত, কিন্তু অন্তরঙ্গে প্রবহমান রইল মধ্যযুগীয় দৈবনির্ভর ভক্তিরসের উচ্ছ্বাস। তাই বাংলায় রচিত প্রথম আধুনিক নাটকটির বিষয়বস্তুও হল পৌরাণিক।

প্রথম পর্বের বাংলা পৌরাণিক নাটক

[সম্পাদনা]

১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের ভদ্রার্জুন নাটকের মাধ্যমে আধুনিক বাংলা নাটকের যাত্রা শুরু হয়। মহাভারতে উল্লিখিত অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণের কাহিনি এই নাটকের উপজীব্য। পাশ্চাত্য আদর্শে সেই কাহিনিটি অঙ্কে ও দৃশ্যে ভাগ করা হয়েছিল; কিন্তু সেটুকুর মধ্যেই এই নাটকে বিদেশি শৈলী অনুকরণের সীমা। ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাত, চরিত্রের দ্বন্দ্ব ও বিকাশ প্রভৃতি এতে কিছুই নেই। এরপর রচিত হয় হরচন্দ্র ঘোষের কৌরব বিয়োগ (১৮৫৮) ও কালীপ্রসন্ন সিংহের সাবিত্রী-সত্যবান (১৮৫৮)। পৌরাণিক ধারার নাটকে কিছুটা নতুনত্ব নিয়ে আসে মাইকেল মধুসূদন দত্তের শর্মিষ্ঠা (১৮৬০)। সংস্কৃত নাট্যশৈলীর অনুবর্তনে রচিত হলেও এটিই প্রথম বাংলা পৌরাণিক নাটক, যেখানে সচেতনভাবে মানবিক প্রবৃত্তির দ্বন্দ্ব উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। মধুসূদনের অপর পৌরাণিক নাটক পদ্মাবতী (১৮৬০) গ্রিক-পুরাণাশ্রিত। এরপর যে পৌরাণিক নাটকগুলি রচিত হয় সেগুলি হল রামনারায়ণ তর্করত্নের রুক্মিণীহরণ (১৮৭১), কংসবধ (১৮৭৫), ধর্মবিজয় (১৮৭৫) ইত্যাদি। রামনারায়ণ পর্যন্ত পৌরাণিক নাটকগুলিকেই প্রথম পর্বের বাংলা পৌরাণিক নাটক বলা চলে। এই পর্বের নাটকগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, রূপের দিক থেকে এগুলি অঙ্কে ও দৃশ্যে বিভক্ত পুরাণকাহিনির সংলাপ-বহুল অনুকরণ মাত্র। মধুসূদন, কালীপ্রসন্ন, হরচন্দ্র ও রামনারায়ণের নাটকে সংস্কৃত নাট্যশৈলীর প্রভাব প্রচুর এবং ভাষা অতিমাত্রায় সংস্কৃতানুগ ও কৃত্রিম। এঁদের মধ্যে একমাত্র মধুসূদনই ভক্তিবাদের আবেগ পরিহার করে নাট্যচরিত্রে মানবিক অন্তর্দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তাই প্রথম পর্বের পৌরাণিক নাট্যকারদের মধ্যে মধুসূদনের স্থানই সর্বোচ্চে।

দ্বিতীয় পর্বের বাংলা পৌরাণিক নাটক

[সম্পাদনা]

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের গোড়াতেই বাংলায় হিন্দুধর্মের পুনর্জাগরণ শুরু হয়। তবে সমকালীন কাব্য ও উপন্যাসে তার প্রচার শুরু হয় অপেক্ষাকৃত পরে। রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, নবীনচন্দ্র সেনের কাব্য এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম দিকের উপন্যাসগুলিই তার প্রমাণ। কিছুকাল পরে নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী রৈবতক, কুরুক্ষেত্রপ্রভাস (১৮৮৭-১৮৯৬) এবং বঙ্কিমচন্দ্রের শেষ তিনটি উপন্যাস আনন্দমঠ (১৮৮২), দেবী চৌধুরাণী (১৮৮৪) ও সীতারাম (১৮৮৭) ও প্রবন্ধে হিন্দু-সংস্কৃতির মাহাত্ম্যকীর্তনের প্রয়াস দেখা যায়। কিন্তু নাটকে তার অনেক আগেই হিন্দুধর্মের ভক্তিবাদের প্রাবল্য দেখা দিয়েছিল। মনোমোহন বসুই ছিলেন তার প্রবক্তা। মনে রাখতে হবে, কাব্য-উপন্যাসের যোগ সমাজের শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু নাট্যাভিনয় শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে সর্বসাধারণের জন্য। পাশ্চাত্য শিক্ষা থেকে বঞ্চিত সেই জনসাধারণ তাই যুক্তিবাদ, দেশপ্রেম প্রভৃতি আধুনিক চেতনায় উদ্দীপ্ত হতে পারেনি। তারা বাস করছিল মধ্যযুগীয় ধর্মচেতনার অলৌকিক রস ও দেবতার মাহাত্ম্যকীর্তনের পরিবেশেই। এদের মনোরঞ্জনের জন্য পুরাণাশ্রয়ী ভক্তিবাদের পথ ছাড়া অন্য গতি ছিল না। যুগের ধারায় জনরুচিকে উন্নত না করে সহজ খ্যাতির লোভে মনোমোহন তাই গীতাভিনয়ের ধারায় পৌরাণিক নাটক লিখতে আরম্ভ করেন। এই কারণেই তাঁর রামাভিষেক (১৮৬৭), সতী (১৮৭৩), হরিশ্চন্দ্র (১৮৭৫), পার্থপরাজয় (১৮৮১), রামলীলা (১৮৮৯) প্রভৃতি নাটক খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করে। রাজকৃষ্ণ রায়ের পতিব্রতা (১৮৭৫), অনলে বিজলী (১৮৭৮), প্রহ্লাদ-চরিত্র (১৮৮৪) এবং অতুলকৃষ্ণ মিত্রের নন্দোৎসবনন্দবিদায় এই ধারারই বাহক।

এই ধারাকেই কিছুটা সাহিত্যিক নৈপুণ্যের সঙ্গে সমৃদ্ধ করে তোলেন গিরিশচন্দ্র ঘোষ। রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জনরুচি সম্পর্কে তাঁর যথেষ্ট বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল। নাটকে সহজে মঞ্চসফল করে তোলার জন্য তিনি সেই জনরুচির কাছেই আত্মসমর্পণ করলেন। কিন্তু পূর্বসূরি মনোমোহন ও রাজকৃষ্ণের নাটকের সঙ্গে তাঁর পৌরাণিক নাটক পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস (১৮৮৩), দক্ষযজ্ঞ, জনা (১৮৯৩), পাণ্ডব-গৌরব (১৯০০), তপোবল (১৯১১) এবং অবতারচরিত্র ও ভক্তচরিত্র-কেন্দ্রিক নাটক চৈতন্য-লীলা (১৮৮৪), নিমাই সন্ন্যাস (১৮৮৫), বিল্বমঙ্গল (১৮৮৬), পূর্ণচন্দ্র (১৮৮৮), শঙ্করাচার্য (১৯১০) ইত্যাদির পার্থক্য এই যে, গিরিশচন্দ্রের নাটকে যাত্রার রীতির সঙ্গে পাশ্চাত্যরীতির কিছুটা মিশ্রণ ঘটেছে। সেটুকুর বাদ দিলে তাঁর নাটকেও যাত্রাসুলভ অকারণ গীতিবাহুল্য, অবাস্তব চরিত্রচিত্রণ, উপদেশ-প্রচারের প্রাধান্য সহ প্রাচীন প্রথার অনুবর্তনমূলক সব কটি লক্ষণই পাওয়া যায়। মধুসূদন তাঁর পৌরাণিক নাটকে যে আধুনিক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, গিরিশচন্দ্র তা সজ্ঞানে অস্বীকার করে কিছুকালের জন্য বাংলা নাটককে আবার পশ্চাদগামী করে তোলেন।

এই দ্বিতীয় পর্বের পৌরাণিক নাটকগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এগুলির মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে যাত্রাসুলভ কাহিনিবিন্যাস ও অবান্তর গীতিবাহুল্য, তেমনই অন্যদিকে আছে ভক্তি ও করুণরসের অতিনাটকীয়তা। তত্ত্ব-উপদেশ প্রচারের প্রবণতা এই নাটকগুলির নাট্যরস ক্ষুণ্ণ করেছে। হাস্যরস সৃষ্টির নামে বিকৃত ও সস্তা রুচির ভাঁড়ামির দ্বারা দর্শক-মনোরঞ্জনের উৎকট প্রয়াসও সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। গিরিশচন্দ্রের নাটকে ইংরেজি নাটকের আদলে চরিত্রসৃষ্টির প্রয়াস কিছুটা রসাভাসের কারণ হয়েছে; কিন্তু তাঁর ভক্তসুলভ শিল্পীমানস পাশ্চাত্য নাটকের প্রাণবস্তু আত্মীকরণের অনুকূল ছিল না।

তৃতীয় পর্বের বাংলা পৌরাণিক নাটক

[সম্পাদনা]

অলৌকিক রস ও ভক্তিবাদে আচ্ছন্ন দ্বিতীয় পর্বের পৌরাণিক নাট্যকারেরা যে বাংলা নাটককে হরিকীর্তনের আসরে পরিণত করেছিলেন, তাকেই আধুনিক মানবতাবাদের স্পর্শে পুনর্জাগরিত করলেন তৃতীয় পর্বের নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। তাঁর পাষাণী (১৯০০), সীতা (১৯০৮) ও ভীষ্ম (১৯১৪) নাটকে পৌরাণিক চরিত্রের মধ্যে মানবধর্ম আরোপিত হয়েছে। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রেরা মানবপ্রবৃত্তির দ্বন্দ্ব-সংঘাতে নাটকীয়ভাবে প্রাণচঞ্চল। ভক্তিবাস ও অলৌকিকতাকে বর্জন করে তিনি নাটকে যাত্রার রীতিটিকেও অস্বীকার করলেন। নাটক হিসেবে এগুলির মধ্যে কিছু দোষত্রুটি থাকলেও, পৌরাণিক নাটকের ধারায় দ্বিজেন্দ্রলাল যে পরিবর্তন এনেছিলেন তা অস্বীকার করা যায় না। অন্যদিকে তাঁর সমসাময়িক অপর নাট্যকার ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ তাঁর পৌরাণিক নাটকে দ্বিধান্বিত থেকে গিয়েছেন। একদিকে তাঁর ভীষ্ম (১৯১৩) নাটকে যেমন ভক্তিবাদ ও যাত্রাশৈলীর প্রাধান্য, অন্যদিকে নরনারায়ণ (১৯২৬) নাটকে মানবতাবাদ ও কর্ণ চরিত্রে অন্তর্দ্বন্দ্বে আধুনিক মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়।

পরবর্তী কয়েকজন নাট্যকার আবার পুরোনো ধারাকেই অনুসরণ করেন। তবে সেই ধারায় যাত্রাশৈলীর প্রাবল্য কিছুটা হলেও কম। এই নাটকগুলির মধ্যে অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কর্ণার্জুন (১৯২৩), শ্রীকৃষ্ণ (১৯২৬), শ্রীরামচন্দ্র (১৯২৭), শ্রীগৌরাঙ্গ (১৯৩১); ভূপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষত্রবীর (১৯১৬), সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরমা (১৯৩৪) ইত্যাদির নাম উল্লেখযোগ্য। যোগেশচন্দ্র চৌধুরীর সীতা (১৯২৪) নাটকে আধুনিকতার লক্ষণ বিদ্যমান। এরপর মন্মথ রায় পৌরাণিক নাটকের ধারায় এক আশ্চর্য পরিবর্তন আনেন। তাঁর দেবাসুর (১৯২৮), কারাগার (১৯৩০) প্রভৃতি নাটকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিবেশটি পৌরাণিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে বিশেষ নৈপুণ্যের সঙ্গে গ্রথিত। তাঁর নাটকেই পৌরাণিক ধারায় আধুনিক মানসের পূর্ণ প্রকাশ সূচিত হয় এবং পুরাণের এই আধুনিক ব্যাখ্যায় পুরাণই নতুন করে জীবিত হয়ে ওঠে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, আরও পরবর্তীকালের নাট্যকার মহেন্দ্র গুপ্ত পুরোনো পথ ধরে গিরিশচন্দ্রের অনুবর্তী হলেন। তাঁর উত্তরা, গঙ্গাবতরণ, গয়াতীর্থ, সারথি শ্রীকৃষ্ণ, মদনমোহন প্রভৃতি নাটক আধুনিক গীতাভিনয় মাত্র।

এই পর্বের নাটকগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ নাট্যকারই যাত্রাশৈলীকে বর্জন করেছেন। দ্বিজেন্দ্রলাল, যোগেশচন্দ্র ও মন্মথ রায় তাঁদের নাটকে মানবতাবাদ ও চরিত্রের অন্তর্দ্বন্দ্বকেই প্রাধান্য দিয়েছেন; আবার অপরেশচন্দ্র, মহেন্দ্র গুপ্ত প্রমুখ অলৌকিকতা ও ভক্তিবাদেরই অনুসরণ করেছেন। তবে শেষোক্ত নাট্যকারদের নাটকে দ্বিতীয় পর্বের নাট্যকারদের অনুরূপ বিবৃতি দেওয়ার ভঙ্গি থাকলেও, তত্ত্বোপদেশ প্রচারের প্রবণতা নেই। সেটিও ছিল যুগের প্রভাব। সাহিত্য যে ধর্মগ্রন্থ বা প্রচারপুস্তিকা নয়, তা এই পর্বের নাট্যকারেরা বুঝেছিলেন।

বাংলা পৌরাণিক নাটকের পরিণতি

[সম্পাদনা]

বিশ শতকে যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যুগধর্ম ও জনরুচিরও পরিবর্তন ঘটে। এই যুগে সমাজ সচেতনতা এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে অলৌকিক রস বা ভক্তিবাদ দিয়ে মানুষকে তুষ্ট রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নাট্যকারেরা তাই পৌরাণিক নাটক রচনায় হয় উদ্যোগী হননি, বা হলেও পুরাণ বা মঙ্গলকাব্যের কোনও চরিত্রকে অবলম্বন করে মানবতাবাদ, সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়কেই ফুটিয়ে তুলেছেন। সংখ্যায় অল্প হলেও উত্তর-ঔপনিবেশিক যুগের পৌরাণিক নাটকের সঙ্গে পূর্ববর্তী যুগপর্যায়গুলির পৌরাণিক নাটকের পার্থক্য তাই সহজেই লক্ষ্য করা যায়।