আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস/রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা কবিতা
রবীন্দ্রোত্তর যুগে বাংলা কাব্যের গতিপ্রকৃতি নতুন পথ ধরে। রবীন্দ্রযুগেই কল্লোল গোষ্ঠীর মধ্যে রবীন্দ্র-বিরোধিতার যে সুর ধ্বনিত হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে পরবর্তী যুগের কবিতার গতিপ্রকৃতি। ইউরোপের যুদ্ধোত্তর সাহিত্য এক দল তরুণ কবিকে প্রভাবিত করে। তাঁরা ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যে কৃতবিদ্য এবং বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার প্রবর্তক। বাক্রীতির বিশেষ ভঙ্গিতে, মননশীলতার গূঢ় সংকেতে, শব্দযোজনার আকস্মিকতায় এবং ছন্দপ্রয়োগের অভিনবত্বে চমকপ্রদ কাব্যাঙ্গিক রচনা করে তাঁরা বাংলা কাব্যের পুরোনো পদ্ধতিকে ধূলিসাৎ করে দেন। রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর প্রতিভাও তাঁদের তালে তাল দিয়েছিল ভেবে বিস্মিত হতে হয়। আরও বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে এই নবীন কবিগোষ্ঠী প্রকাশ্যে রবীন্দ্র-বিরোধী হলেও অন্তরে ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ভাব-কল্পনা ও রোম্যান্টিকতারই অভিসারী। তবে এঁদের প্রত্যেকেই বিশিষ্ট প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। ভাঙনের যুগে জন্মেছিলেন বলে এঁরা কবিতা নিয়ে খেলা করতে বাধ্য হয়েছিলেন, গঠনের যুগে জন্মালে হয়তো এঁরাই রচনা করতেন জাতির নতুন জীবনবেদ।
বুদ্ধদেব বসু
[সম্পাদনা]বিশিষ্ট আধুনিক কবিদের অনেকেই সাহিত্যের অধ্যাপক। ইংরেজি সাহিত্যে এঁরা সুপণ্ডিত এবং কাব্যের রসপ্রমাতা রূপেও বিচক্ষণ। সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও পড়েছিল তাঁদের উপর। বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮—১৯৭৪) রবীন্দ্র-বিরোধী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম কাব্য মর্মবাণী (১৯২৫) প্রচলিত সংস্কারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘোষণাপত্র। বন্দীর বন্দনা (১৯৩০), পৃথিবীর পথে (১৯৩৩), কঙ্কাবতী (১৯৩৭), দময়ন্তী (১৯৪৩), দ্রৌপদীর শাড়ী (১৯৪৮), শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর (১৯৫৫), যে-আঁধার আলোর অধিক (১৯৫৮), মরচেপড়া পেরেকের গান (১৯৬৬), একদিন: চিরদিন (১৯৭১) ও স্বাগত বিদায় (১৯৭১) কাব্যগ্রন্থে বাংলা কাব্যের নতুন সুর ও জীবন সম্পর্কে কবির নতুন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। রোম্যান্টিক স্বপ্ন খুব বেশি এড়াতে না পারলেও, বুদ্ধির কৌশলে ও বাক্শিল্পে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
জীবনানন্দ দাশ
[সম্পাদনা]
ইংরেজি সাহিত্যের আর-এক অধ্যাপক কবি জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯—১৯৫৪)। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালক (১৯২৭)। পরে তিনি লিখেছেন ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬), বনলতা সেন (১৯৪২), মহাপৃথিবী (১৯৪৪), সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ রূপসী বাংলা (১৯৫৯) মরণোত্তর প্রকাশিত। জীবনানন্দের কাব্যে যুগযন্ত্রণার পরিচয় নেই, অসন্তোষ ও ক্ষোভের বহ্নিশিখা নেই, নেই জীবন-প্রত্যয়ের অভাবজনিত তির্যক ব্যঙ্গের ভঙ্গিও। তিনি গভীর আনন্দে সমগ্র বিশ্বের রূপমাধুরী যা প্রত্যক্ষ বর্তমানে বা অতীতের কল্পনায় বিরাজিত তা-ই রূপদক্ষের ন্যায় উপভোগ করেছেন ও করিয়েছেন। তাঁর রচনা প্রতীকধর্মী। তবু বাগ্ভঙ্গির মধ্যে দিয়ে সহজ সুন্দরভাবেই তাঁর কবিমানসের স্নিগ্ধ সুকুমার কান্তিটি ধরা পড়ে।
অজিত দত্ত
[সম্পাদনা]অধ্যাপক কবি অজিত দত্ত (১৯০৭—১৯৭৯) আধুনিক কবিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হলেও তাঁর কবিতায় উৎকট আধুনিকতা দেখা যায় না। তির্যক ভাষাভঙ্গি ও উদ্ভট কল্পনা ছাড়াই তিনি জীবন সম্পর্কে নতুন প্রত্যয়ের সুস্পষ্ট বাণী ঘোষণা করতে পেরেছেন। কুসুমের মাস (১৯৩০), পাতাল কন্যা (১৯৩৮), নষ্ট চাঁদ (১৯৪৫), পুনর্নবা (১৯৪৬), ছায়ার আলপনা (১৯৫১), জানালা (১৯৫৯), সাদা মেঘ কালো পাহাড় (১৯৭১) কাব্যগ্রন্থে তাঁর বাক্শিল্প ও কবিপ্রাণতার পরিচয় পাওয়া যায়।
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
[সম্পাদনা]
মননশীল বিদগ্ধ কবি রূপে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১—১৯৬০) অসাধারণ বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দিয়েছেন। বাঙালি কাব্যরসিকের কাছে তিনি বাগ্ভঙ্গির অপূর্বতায় এবং চিন্তাপ্রণালীর সূক্ষ্মতায় পরম বিস্ময় হয়ে উঠেছেন। তন্বী (১৯৩০), অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫), ক্রন্দসী (১৯৩৭), উত্তর ফাল্গুনী (১৯৪০), সংবর্ত (১৯৫৩), প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) ও দশমী (১৯৫৬) কাব্যগ্রন্থে তিনি যে কাব্যকলার পরিচয় দিয়েছেন তা সাধারণ বাঙালির বোধগম্য সাধারণ কবিতা নয়। তাঁর কাব্য বিদগ্ধজনের সেব্য। তাঁর চিন্তার মধ্যে যেমন অতিসূক্ষ্ম দার্শনিকতা ছিল, প্রকাশের মধ্যেও ছিল সেইরকম দুর্বোধ্যতা। অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহারে তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্তকেও ছাপিয়ে গিয়েছেন। তাঁর কাব্যের কায়া নির্মাণে ক্লাসিক মহিমা সৃষ্টির প্রয়াস দেখা যায় এবং প্রেম ও সৌন্দর্য-চেতনার সহজ অনুভূতিকে কবি-মননের ধূসরতা এবং শব্দের ধ্বনিব্যঞ্জনার মাধ্যমে কিছুটা গুহ্য রাখার একটি প্রয়াসও তাতে সুস্পষ্ট।
বিষ্ণু দে
[সম্পাদনা]ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক কবি বিষ্ণু দে (১৯০৯—১৯৮২) প্রচলিত জীবন-সংস্কারের বিরোধী মনোভাব নিয়ে মানুষের দুঃখকষ্টকে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং ভাষাশিল্পের বৈশিষ্ট্যে এবং শব্দপ্রয়োগের চমকপ্রদ ভঙ্গিতে পাঠককে করেছেন হতচকিত। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলি হল উর্বশী ও আর্টেমিস (১৯৩২), চোরাবালি (১৯৩৮), পূর্বলেখ (১৯৪০), সাত ভাই চম্পা (১৯৪৫), সন্দীপের চর (১৯৪৭), অন্বিষ্ট (১৯৫০), নাম রেখেছি কোমল গান্ধার (১৯৫৩), আলেখ্য (১৯৫৮), তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ (১৯৫৮), স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ (১৯৬৩), সেই অন্ধকার চাই (১৯৬৬), সংবাদ মূলত কাব্য (১৯৬৯), ইতিহাসে ট্র্যাজিক উল্লাসে (১৯৭০), ঈশাবাস্য দিবানিশা (১৯৭০), রবি করোজ্জ্বল নিজদেশে (১৯৭৩), চিত্ররূপ মত্ত পৃথিবীর (১৯৭৫), উত্তরে থাকো মৌন (১৯৭৭) ও আমার হৃদয়ে বাঁচো (১৯৮১)। তাঁর কাব্যে ইলিয়টের প্রভাব লক্ষণীয়। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত পংক্তিগুলির মাঝে মাঝে উল্লেখ এবং বেদ, পুরাণ, গ্রিক সাহিত্য থেকে আহৃত বিশেষ বিশেষ শব্দ ব্যবহার করে তিনি কাব্যভাষায় বৈচিত্র্য এনেছেন।
প্রেমেন্দ্র মিত্র
[সম্পাদনা]জীবনানুভূতির তীব্রতায় মনবতাবাদের প্রেরণায় কবিত্বের নতুন বাণী শুনিয়েছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৪—১৯৮৮)। তিনি সমাজসচেতন কবি এবং সমাজবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা কাব্যরচনার নতুন ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থ প্রথমা (১৯৩২) বাঙালি পাঠকসমাজে বেশ আলোড়ন তুলেছিল। সম্রাট (১৯৪০), সাগর থেকে ফেরা (১৯৫৬), ফেরারী ফৌজ (১৯৫৮), হরিণ চিল চিতা (১৯৫৯), কখনো মেঘ (১৯৬১), অথবা কিন্নর (১৯৬৫), নদীর নিকটে (১৯৭২) প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থে তিনি পরাজিত মানুষের মনে জয়ের নেশা জাগিয়েছেন, জীবনের রিক্ততার মধ্যে সার্থকতার গান শুনিয়েছেন। ভাষাভঙ্গির সারল্যে, প্রকাশের সাবলীল সৌন্দর্যে এবং আবেগের গভীরতায় প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবিতায় গীতিসুরের লাবণ্য পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে।
অমিয় চক্রবর্তী
[সম্পাদনা]অধ্যাপক অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১—১৯৮৬) বাংলা কবিতায় আঙ্গিক-প্রকল্পের অভিনবত্ব দেখিয়েছেন। তাঁর শব্দপ্রয়োগের মধ্যে বৈদগ্ধ আছে। জীবনবোধের মধ্যে এই পণ্ডিত কবি কোনও তিক্ত মনোভাবের পরিচয় দেননি। রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য এই কবি প্রেম, সৌন্দর্য, ত্যাগের মহিমা, বৈরাগ্যের দীপ্তি প্রভৃতি মনোভাবকে প্রাচীনপন্থী কুসংস্কার বলে ঘৃণা বা উপেক্ষা করেননি। খসড়া (১৯৩৮), এক মুঠো (১৯৩৯), মাটির দেওয়াল (১৯৪২), অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩), দূরবাণী (১৯৪৪), পারাপার (১৯৫৩), পালাবদল (১৯৫৫), ঘরে ফেরার দিন (১৯৬৪), হারানো অর্কিড (১৯৬৬), পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭), অমরাবতী (১৯৭২), অনিঃশেষ (১৯৭৬) ও নতুন কবিতা (১৯৮০) গ্রন্থে তিনি স্নিগ্ধ কবিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
সমর সেন
[সম্পাদনা]বক্তব্য ও প্রকাশভঙ্গির স্পষ্টতা সমর সেনের (১৯১৬—১৯৮৭) বৈশিষ্ট্য। একাত্তর বছরের জীবনে তিনি কাব্যসাধনা করেন মাত্র বারো বছর, ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত। এই পর্বকালেই প্রকাশিত হয় তাঁর পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ: কয়েকটি কবিতা (১৯৩৭), গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা (১৯৪০), নানা কথা (১৯৪২), খোলা চিঠি (১৯৪৩) ও তিন পুরুষ (১৯৪৪)। বস্তুতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও কবিত্ব সমুজ্জ্বল। আধুনিক যুগের রুচিবিকার নিয়ে এবং জীবন সম্পর্কে মনোরম কল্পনার বিরুদ্ধে তিনি ব্যঙ্গবাণী প্রয়োগ করেছেন। গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা সংকলনে মধ্যবিত্ত সমাজের আদর্শ সংকট, লাঞ্ছনা ও বাস্তব দুঃখের ছবি এঁকেছেন। তিন পুরুষ কাব্যগ্রন্থে তিনি মিথ্যা আদর্শবাদের ফাঁকা বুলিকে ব্যঙ্গ করেছেন। ছন্দহীন গদ্যে কবিতা লেখায় তাঁর বক্তব্য বেশ জোরালো ভঙ্গিতে প্রকাশ পেয়েছে। অভিনবত্বের দাবিতে সমর সেন সমকালীন কবিসমাজে বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী।
সুকান্ত ভট্টাচার্য
[সম্পাদনা]
সমাজবাদী চিন্তাকে আধুনিক কাব্যের উপযোগী ভাষারূপের মধ্যে বিধৃত করে কবিত্বের প্রকাশে সার্থক হয়েছিলেন তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬—১৯৫৭)। স্বল্পায়ু এই কবির কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা সাত: ছাড়পত্র (১৯৪৮), ঘুম নেই (১৯৫০), পূর্বাভাষ (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), হরতাল (১৯৬২) ও গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫)। সুকান্ত ছিলেন এক বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী এবং অদ্ভুত কবিপ্রতিভার অধিকারী। আঠারো বছর বয়সের লেখা কবিতার মধ্যেই তিনি আশ্চর্য জীবন-সমীক্ষা ও বাণীশিল্পের উৎকর্ষের পরিচয় দিয়েছেন। ছাড়পত্র অনন্যসাধারণ বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। পূর্বাভাষ তাঁর কৈশোর-অনুভূতির কাব্য। নিজের প্রতিভাকে তিনি নিয়োজিত করেছিলেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। কিন্তু মতবাদ প্রচারের মধ্যে দিয়েও কবিপ্রতিভার শাশ্বতী সৌন্দর্য প্রকাশ পাওয়ায় কবি সুকান্ত কালজয়ী হন। তাঁর অকালমৃত্যু বাংলা কাব্যের অপূরণীয় ক্ষতি।
অন্যান্য কবিগণ
[সম্পাদনা]রবীন্দ্রোত্তর যুগের কবিরা সমাজ-সচেতন। নানা ভঙ্গিতে, নানা প্রকার ছন্দের বৈচিত্র্যে, শব্দ, অলংকার ও রূপকল্পের প্রয়োগে অভিনব উপায় উদ্ভাবন করে কত কবি যে কত কিছু লিখছেন তার ইয়ত্তা নেই। এর মধ্যে পুরোনোর অনুবৃত্তি আছে, নতুনের চমক আছে, কল্পনার অতিচার আছে, আবার আছে ভাবের দুর্বোধ্যতাও। সমাজ-সচেতন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় (১৯১৯—২০০৩) ও সঞ্জয় ভট্টাচার্য (১৯০৯—১৯৬৯) শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। বিমল ঘোষ (১৯১০—১৯৮২), দিনেশ দাশ (১৯১৩—১৯৮৫), অরুণ মিত্র (১৯০৯—২০০০), গোলাম কুদ্দুস (১৯২০—২০০৬), হরপ্রসাদ মিত্র (১৯১৭—১৯৯৪), জগন্নাথ চক্রবর্তী (১৯২৩—১৯৯২) প্রমুখ কবিরা কাব্যের ভাববস্তুতে ও কলাকৌশলের উদ্ভাবনে প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (১৯২৪—২০১৮), মনীন্দ্র রায় (১৯১৯—২০০০), অরুণ ভট্টাচার্য (১৯৫৬—), আনন্দ বাগচী (১৯৩২—২০১২), প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত (১৯৩৩—২০০৭), সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (১৯৩৪—২০১২), শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৩—১৯৯৫) প্রমুখ প্রতিভাবান কবিরা বাংলা গীতিকাব্যের রূপ ও রসসাধনার অভিনব পরিবর্তন সাধনে যত্নশীল হয়েছেন। কিন্তু যাই হোক, আধুনিক বাংলা কবিতা ঠিক গণসাহিত্য হয়ে উঠতে পারেনি। শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী ও সমাজ-সচেতন মননশীল পাঠকেরাই এইসব কবিতার মূল্যনির্ধারক।