বিষয়বস্তুতে চলুন

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস/প্রহসন

উইকিবই থেকে

সামাজিক প্রহসন বাঙালির জাতিগত রসপিপাসার অনুকূল বলে সেই ধরনের নাটক রচনায় বাঙালি নাট্যকারদের সহজাত নৈপুণ্য প্রকাশ পেয়েছে স্বাভাবিক ভাবেই। কিন্তু বাংলা নাটকের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বোঝা যাবে যে, বাঙালি নাট্যকারেরা প্রহসন রচনায় যে পরিমাণ উৎসাহ দেখিয়েছেন, কিন্তু তাতে শৈল্পিক সাফল্য লাভে যতখানি ব্যর্থ হয়েছেন, নাটকের আর কোনও শাখায় তা ঘটেনি।

প্রথম পর্বের প্রহসন: রামনারায়ণ তর্করত্ন, কালীপ্রসন্ন সিংহ, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দীনবন্ধু মিত্র ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর

[সম্পাদনা]

প্রথম উল্লেখযোগ্য বাংলা নাটক রামনারায়ণ তর্করত্নের কুলীনকুলসর্বস্ব (১৮৫৪) প্রহসন-লক্ষণাক্রান্ত নাটক। বাঙালির সহজ রসিকতার প্রমাণ যাত্রায় পাওয়া যায়। তার প্রভাব উনিশ শতকের নাটকেও অনিবার্যভাবে সঞ্চারিত হয়েছিল। তাই দেখা যায়, অবান্তর হলেও এই নাটকে যাত্রাসুলভ ভাঁড়ামির আমদানি করা হয়েছে। নাপিতানী প্রসঙ্গ, দেবল ও রসিকার প্রসঙ্গ, মহিলা ও মাধুরীর কথোপকথন প্রভৃতি প্রায় অশ্লীল হলেও সেকালের নানা শ্রেণির দর্শকের আমোদের কারণ হয়েছিল। সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যে রচিত তাঁর নবনাটক (১৮৬৬) রচনাটিও প্রায় প্রহসন পর্যায়েরই। এতেও রঙ্গরসের প্রাচুর্য ছিল এবং সেকালের রসিক দর্শকেরা এইরকম স্থূল ভাঁড়ামিতেই তৃপ্তিলাভ করত। রামনারায়ণের অপর কয়েকটি বিশুদ্ধ প্রহসন হল যেমন কর্ম তেমনি ফল, উভয় সংকটচক্ষুদান

কালীপ্রসন্ন সিংহের বাবু (১৮৫৪) নাটকটিও আসলে প্রহসন। এই নাটকে তৎকালীন কলকাতার বাবু সমাজের প্রতি কটাক্ষ বর্ষিত হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত প্রহসন রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০) ও বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) নামে দুই প্রহসন রচনায় মধুসূদন প্রথম শ্রেণির নাট্যপ্রতিভার পরিচয় দেন। প্রথমটিতে ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর প্রতি ব্যঙ্গ বর্ষিত হয়েছে, দ্বিতীয়টিতে ধর্মের ভেকধারী ব্রাহ্মণ জমিদারের লাম্পট্যকে তীক্ষ্ণ বিদ্রূপে তিনি ক্ষতবিক্ষত করেছেন। অথচ কোথাও তা প্রচারধর্মী হয়নি। মধুসূদনই প্রথম নিম্ন রুচির ভাঁড়ামির হাত থেকে প্রহসনকে মুক্ত করে নির্মল হাস্যরসে জারিত করেন তাঁকে। মধুসূদনের প্রহসনে চরিত্রগুলি তাদের নিজেদের অসংগতির অভ্যন্তরীণ প্রেরণায়, তাদের কথাবার্তা ও আচরণের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই হাস্যাস্পদ ও উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। এটিই উচ্চাঙ্গের প্রহসনের বৈশিষ্ট্য। এই দুই প্রহসনে মধুসূদন নাট্যচরিত্রের মুখে যে ভাষা দিয়েছেন তা এমনই বাস্তবধর্মী যে তার মধ্যেই তাঁর অভ্রান্ত নাট্যদৃষ্টির পরিচয় পাওয়া যায়। প্রহসনে অম্লমধুর রসের এমন পরিবেশনা বিরল। নাট্যগুণের দিক থেকে মধুসূদনের প্রহসনকে আজও কোনও বাঙালি নাট্যকার অতিক্রম করতে পারেননি।

মধুসূদনের ধারা অনুসরণ করে দীনবন্ধু মিত্র বাংলা নাট্যজগতে প্রহসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর বিয়েপাগলা বুড়ো (১৮৬৬) উৎকট বিবাহপ্রবণতাকে উপলক্ষ্য করে এক বৃদ্ধের বিড়াম্বনার চিত্র। জামাইবারিক (১৮৭২) প্রহসনে ঘরজামাইদের নিয়ে রঙ্গ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রহসন সধবার একাদশী (১৮৬৬)। এটি প্রহসন হয়েও নাট্যধর্মী। এতে একেই কি বলে সভ্যতা-র প্রভাব থাকলেও স্বীয় বৈশিষ্ট্যে রসোজ্জ্বল। এই নাটকেও সেকালের ইংরেজি-শিক্ষিত স্বধর্মভ্রষ্ট কদাচারী যুবসমাজকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। নিমচাঁদ এই সমাজের প্রতিভূ। এই চরিত্র অঙ্কনে দীনবন্ধু এক বিস্ময়কর নাট্যপ্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। মদ্যপায়ী অসংযত নিমচাঁদের আত্মসমালোচনায় যেন তার পীড়িত হতাশ আত্মাই ভাঙা বাদ্যযন্ত্রের মতো করুণ হয়ে উঠেছে। দীনবন্ধুর প্রহসনের বৈশিষ্ট্যই এই যে, এতে ব্যঙ্গের পিছনে সহানুভূতি ও সহৃদয়তার স্পর্শ বিদ্যমান। এই বৈশিষ্ট্য আজ পর্যন্ত আর কোনও নাট্যকারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রূপে দেখা যায়নি।

এরপর প্রহসন-রচয়িতা হিসেবে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম করা যেতে পারে। কিঞ্চিৎ জলযোগ (১৮৭২), এমন কর্ম করব না আর বা অলীকবাবু (১৮৭৭), হঠাৎ নবাব (১৮৮৪), হিতে বিপরীত (১৮৯৬), দায়ে পড়ে দারগ্রহ (১৯০২) প্রভৃতি তাঁর লেখা প্রহসন। হঠাৎ নবাবদায়ে পড়ে দারগ্রহ ফারসি নাট্যকার মলিয়ের-এর প্রহসন অবলম্বনে রচিত। জ্যোতিরিন্দ্রনাথের প্রহসনে ব্যঙ্গ নেই, কেবল রঙ্গই আছে।

দ্বিতীয় পর্বের প্রহসন: গিরিশচন্দ্র ঘোষ, অমৃতলাল বসু, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় পর্বের প্রথম প্রহসন-রচয়িতা হলেন গিরিশচন্দ্র ঘোষ। নাটকে যেমন তিনি আধুনিকতাকে অস্বীকার করে মধ্যযুগীয় ভক্তিবাদকে তুলে ধরেছিলেন, প্রহসনেও তেমনই মধুসূদন ও দীনবন্ধুর খুলে দেওয়া স্বর্ণদ্বারকে অস্বীকার করে পঞ্চরং-এর পাঁক ছড়িয়েই দর্শক মনোরঞ্জনে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। ভোটমঙ্গল (১৮৮২), বেল্লিক বাজার (১৮৮৬), সপ্তমীতে বিসর্জন (১৮৯৩), বড়দিনের বখ্‌শিশ (১৮৯৩), সভ্যতার পাণ্ডা (১৮৯৪), য্যায়সা কা ত্যায়সা (১৯০৬) প্রভৃতি তাঁর লেখা প্রহসন। ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “এগুলি নাট্যকারের অক্ষমতার জন্যই হাস্য উদ্রেক করে, ইহার ঘটনা বিরক্তিকর এবং সংলাপ নীচ পল্লী হইতে আমদানি করা হইয়াছে। এই সমস্ত নাটিকা বা ‘পঞ্চরং’ পাঠেই ঘৃণা জন্মে; সে যুগের দর্শকগণ যে কী করিয়া ধৈর্য ধরিয়া নাট্যমঞ্চে এই সমস্ত অপথ্যগুলিকে হজম করিত, ভাবিলে বিস্মিত হইতে হয়।”

গিরিশচন্দ্রের পরবর্তী উল্লেখযোগ্য প্রহসন-রচয়িতা হলেন অমৃতলাল বসু। তাঁর চোরের উপর বাটপাড়ি নামক নিম্ন রুচির প্রহসনটিতে বোকাচিও রচিত দেকামেরন-এর একটি গল্পের ছায়া আছে। ডিসমিস-এ ব্যঙ্গ করা হয়েছে স্ত্রীলোকের মাথায় ঘোমটা না দেওয়া নিয়ে। তাজ্জব ব্যাপার-এ পুরুষজাতির কাল্পনিক দুরবস্থার ভিত্তিতে স্ত্রী-স্বাধীনতাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে; এর নাট্যকাহিনিতে দেখা যায়, পুরুষেরা অন্দরমহলের কাজে ব্যস্ত এবং নারীরা পুরুষদের কর্মে রত। বিবাহবিভ্রাট (১২৯১ বঙ্গাব্দ) প্রহসনে অল্পশিক্ষিত বাঙালি যুবকের বিলেত গিয়ে সাহেব হওয়ার নেশা এবং বাঙালি মেয়ের ইংরেজি শিখে মেম সাজার ইচ্ছেকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। একাকার (১৮৯৪) প্রহসনে জাতিভেদ প্রথাকে সমর্থন করা হয়েছে। গ্রাম্য বিভ্রাট (১৮৯৭) প্রহসনে গ্রামে মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে উপলক্ষ্যে দলাদলিকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। বাবু (১৮৯৩) প্রহসনের ব্যঙ্গের প্রধান লক্ষ্য নববিধান ব্রাহ্মসমাজ। এছাড়া তাঁর অন্যান্য প্রহসনগুলি হল চাটুজ্যে বাঁড়ুজ্যে (১৮৮৪), কৃপণের ধন (১৯০০), অবতার (১৯০১), তিলতর্পণ, দ্বন্দ্বে মাতনম্‌ (১৯২৬) ইত্যাদি। তাঁর রচনায় বিদ্রূপের তীব্র কশাঘাত, বাগ্‌বৈদগ্ধ্য, নাটকীয় সংস্থানের কৌশলনৈপুণ্য সবই ছিল, ছিল না শুধু আধুনিকতাবোধ। সর্ব বিষয়ে রক্ষণশীল অমৃতলাল কোনও প্রকার প্রগতিকেই সহ্য করতে পারতেন না। মধুসূদন উগ্র আধুনিকতাকে ব্যঙ্গ করেছিলেন, আবার রক্ষণশীল সমাজের ভণ্ডামিকেও বিদ্রূপবাণে জর্জরিত করতে ছাড়েননি। সেই রকম সমদৃষ্টির অভাব ছিল অমৃতলালের মধ্যে। প্রহসন রচনার প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও প্রতিক্রিয়াশীল শিল্পীমানসের জন্যই তাঁর রচনা তাই উত্তরকালে কোনও আবেদন রাখতে ব্যর্থ হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এই পর্বেরই প্রহসন-রচয়িতা। কিন্তু তাঁর কল্কি-অবতার (১৮৯৫), বিরহ (১৮৯৭), ত্র্যহস্পর্শ (১৯০০), প্রায়শ্চিত্ত (১৯০২), পুনর্জন্ম (১৯১১), আনন্দ-বিদায় (১৯১২) প্রহসন হিসেবে সার্থক হয়নি। বিশেষত রবীন্দ্রনাথের প্রতি নিছক ব্যক্তিগত আক্রমণের ভিত্তিতে রচিত আনন্দ-বিদায় তাঁকে সৎ সাহিত্যিকের ধর্ম থেকে বিচ্যুত করেছিল। তবে তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী হাসির গানগুলি এই প্রহসনগুলির মধ্যে ব্যবহার করায় এগুলির আকর্ষণ সামান্য বেড়েছে। দ্বিজেন্দ্রলালের পর থেকেই বাংলা নাটকের ক্ষেত্রে প্রহসনের প্রভাব কমতে শুরু করে।

রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর প্রতিভাও কৌতুকনাট্যও রচনায় নিয়োজিত হয়েছিল। তিনি ঘটনার গ্রন্থনে বা চরিত্রচিত্রণে অসাধারণ দক্ষতার দেখাতে না পারলেও মার্জিত রুচির নির্মল হাস্যরস পরিবেশন করে প্রহসনকে সস্তা ভাঁড়ামির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তাঁর কৌতুকনাট্য ও রঙ্গনাট্যের মধ্যে প্রধান গোড়ায় গলদ (১৮৯২) ও প্রজাপতির নির্বন্ধ উপন্যাসের নাট্যরূপ চিরকুমার সভা (১৯২৬)। গোড়ায় গলদ-এর পরবর্তী অভিনয়যোগ্য সংস্করণ ১৯২৮ সালে শেষরক্ষা নামে প্রকাশিত হয়। এগুলি ছাড়া বৈকুণ্ঠের খাতা (১৮৯৭), হাস্যকৌতুকব্যঙ্গকৌতুক (১৯০৭) তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রহসন। নানা খেয়ালি চরিত্রের সমাবেশ, কৌতুকসিগ্ধ ঘটনার সন্নিবেশ, নির্মল হাস্যরস ও মনোরম বাগবৈদগ্ধ্যে রবীন্দ্রনাথের প্রহসন অফুরন্ত হাসির উৎস।

তৃতীয় পর্বের প্রহসন: রবীন্দ্রনাথ মৈত্র, প্রমথনাথ বিশী, বিধায়ক ভট্টাচার্য প্রমুখ

[সম্পাদনা]

প্রহসন সাহিত্যের তৃতীয় পর্বে রচয়িতা ও রচনার সংখ্যা অনেক কম। অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় থেকে শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত পর্যন্ত নাট্যকারেরা অল্প কয়েকটি প্রহসন লিখেছিলেন। এগুলির মধ্যে ভূপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেলোর কীর্তি, বেজায় রগড় প্রভৃতি এবং নির্মলশিব মুখোপাধ্যায়ের রাতকানা প্রহসনগুলিই উল্লেখযোগ্য।

এই পর্বের একজন শক্তিশালী নাট্যকার রবীন্দ্রনাথ মৈত্র। তাঁর লেখা মানময়ী গার্লস স্কুল (১৯০২) কালজয়ী প্রহসন রূপে প্রতিষ্ঠিত। নাটক-লক্ষণাক্রান্ত এই প্রহসনে নরনারীর স্বাভাবিক আকর্ষণের মনস্তাত্ত্বিক দিকটি কৌতুকপূর্ণ নাটকীয় সংস্থানের ভিতর দিয়ে অপূর্ব ব্যঞ্জনা লাভ করেছে। অথচ নির্মল হাস্যরসের ফোয়ারা যেন উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছে এতে। প্রহসনটির ভাষা, বাগ্‌ভঙ্গি, দৃশ্যবিভাগ ও চরিত্রচিত্রণ সবই আধুনিক শিল্পগুণসম্পন্ন।

এই পর্বের অন্যতম প্রহসন-রচয়িতা প্রমথনাথ বিশী। তাঁর ঋণং কৃত্বা (১৯৩৫), ঘৃতং পিবেৎ (১৯৩৯), মৌচাকে ঢিল (১৯৩৮), পারমিট প্রভৃতি প্রহসনে ব্যঙ্গের জ্বালান কিছু বেশি হলেও সেগুলির তির্যক রঙ্গরস বেশ উপভোগ্য। এই প্রসঙ্গে বিধায়ক ভট্টাচার্যের সেই তিমিরেতাই তো প্রহসন দুটির নাম করা যায়। তাঁর সংলাপের মাধুর্য অনুপম। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের প্রহারেণ ধনঞ্জয়মেস নম্বর ৪৯ প্রভৃতি গতানুগতিক প্রহসন হিসেবে সুন্দর।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রহসনের ধারাটি ক্রমশ শুকিয়ে যেতে শুরু করে। এই যুগের দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক অব্যবস্থায় বাঙালির মুখের হাসি ও সহজাত রসিকতার উৎসমুখটি যেন বন্ধ হয়ে যায়। প্রহসনের দৈন্যের মূল সম্ভবত এখানেই। শুধু শম্ভু মিত্রের কাঞ্চনরঙ্গ, গঙ্গাপদ বসুর মহাগুরুনিপাত-এর মতো দু-একটি প্রহসন এই মরুভূমিতে বিরাজ করছে মরুদ্যানের মতো।