আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস/ঐতিহাসিক নাটক
পাশ্চাত্য নাট্যশালার দৃষ্টান্তে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারই অনুকরণে কলকাতায় নাট্যশালার প্রতিষ্ঠিত হয়। তেমনই ইংরেজি নাটক, বিশেষত শেকসপিয়রের নাটক, সেকালের শিক্ষিত বাঙালিকে মুগ্ধ করে। শেকসপিয়রীয় ট্র্যাজেডি অবলম্বনে যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত রচনা করেন প্রথম বাংলা নাটক কীর্তিবিলাস (১৮৫২)। কিন্তু তারপর সার্থক ঐতিহাসিক নাটকের জন্য অপেক্ষা করতে হয় আরও নয় বছর। সামাজিক প্রহসন ও পৌরাণিক নাটকের যুগ পার হয়ে বাংলা নাট্যসাহিত্য পদার্পণ করে ঐতিহাসিক নাটকের যুগে।
প্রথম পর্ব: মাইকেল মধুসূদন দত্ত
[সম্পাদনা]বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মাইকেল মধুসূদন দত্তই বাংলা ঐতিহাসিক নাটকের প্রথম স্রষ্টা। তাঁর কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) নাটকের কাহিনি কর্নেল টডের অ্যানালস অ্যান্ড অ্যান্টিকুইটিজ অফ রাজস্থান থেকে গৃহীত। টডের গ্রন্থটি যে প্রধানত কিংবদন্তিমূলক, আধুনিক গবেষণায় তা স্বীকৃত। কিন্তু সেকালে বইটি ইতিহাস রূপেই স্বীকৃতি লাভ করেছিল। সুতরাং কৃষ্ণকুমারী-কে ঐতিহাসিক নাটক বলা চলে। নাটকের প্রয়োজনে উপকাহিনি কোনও কল্পিত ঘটনা হতে পারে, কিন্তু কৃষ্ণকুমারী-তে প্রধান ঘটনাবিন্যাসে মধুসূদন টডের গ্রন্থটিকে প্রায় বিশ্বস্তভাবেই অনুসরণ করেছেন। এই নাটকে কেবল পাশ্চাত্য আঙ্গিকই অনুসৃত হয়নি, গভীর অন্তর্দ্বন্দ্বের ভিতর দিয়ে পাশ্চাত্য ট্র্যাজেডি রচনার প্রয়াসও পরিলক্ষিত হয়। ঐতিহাসিক নাটকের প্রথম পর্বে এই একটি মাত্র নাটকই পাওয়া যায়। এই পর্বের নাটকে পাশ্চাত্য নাট্যশৈলীর সঙ্গে পাশ্চাত্য নাটকের ভাববস্তুর সংমিশ্রণের প্রয়াসই প্রধান। ট্র্যাজেডি রচনার মূলেও সেই একই প্রেরণা বর্তমান। অর্থাৎ সব দিক দিয়েই পাশ্চাত্য নাটকের আদর্শকে তুলে ধরার একটি প্রয়াস এই পর্বের ঐতিহাসিক নাটকের বৈশিষ্ট্য।
দ্বিতীয় পর্ব: জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, গিরিশচন্দ্র ঘোষ ও অন্যান্য নাট্যকার
[সম্পাদনা]ঐতিহাসিক নাটকের দ্বিতীয় পর্বের সূত্রপাত জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটকের মাধ্যমে। ঐতিহাসিক বীরত্বগাথা ও ভারতের গৌরবকাহিনি কীর্তন করে দেশবাসীর স্বদেশপ্রীতি উদ্বোধিত করাই ছিল তাঁর নাট্যরচনার মৌলিক প্রেরণা। পুরুবিক্রম (১৮৭৪), সরোজিনী (১৮৭৫), অশ্রুমতী (১৮৭৯) ও স্বপ্নময়ী (১৮৮২) সেই প্রেরণারই ফল। লক্ষণীয় বিষয়, চারটির মধ্যে দুটি (সরোজিনী ও অশ্রুমতী) রাজপুত কাহিনি থেকে গৃহীত। মধুসূদনের কৃষ্ণকুমারী-ও তাই। এর কারণ, রাজপুত জাতির শৌর্য ও আত্মত্যাগের মধ্যেই নাট্যকারগণ স্বদেশপ্রীতির দৃষ্টান্ত দেখতে পেয়েছিলেন, তাই রাজপুত কাহিনিই প্রধানত দেশপ্রেমের প্রতীক বলে বিবেচিত হয়েছিল। তখন দেশে একটি স্বাদেশিক চেতনা পরিব্যাপ্ত হয়েছিল, নাট্যকারদের উপরেও সেই প্রভাব অনিবার্যভাবে ক্রিয়াশীল হয়ে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করেছিল এই শ্রেণির নাটক রচনায়। তাই নাটকগুলি যত না নাটক হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হয়েছে স্বদেশপ্রেম প্রচারের বাহন। মধুসূদনের নাটকে অবশ্য এর বীজ নিহিত ছিল, কিন্তু প্রতিভাবান বলে তিনি সেটিকেই সর্বস্ব করে তোলেননি। তিনি নাটক লিখতে চেয়েছিলেন, আর জ্যোতিরিন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন নাটকের আকারে দেশপ্রেমের উদ্বোধন।
এই পর্বের অপর প্রধান নাট্যকার ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ। তাঁর প্রতাপ আদিত্য ১৯০৩ সালের রচনা। এই নাটকে অনৈতিহাসিক ঘটনা, এমনকি অলৌকিক ঘটনাও আছে; নাটক হিসেবেও এটি ব্যর্থ। তবু এক সময়ে এটি প্রচুর জনসমাদর লাভ করেছিল। অশোক (১৯০৮), পদ্মিনী (১৯০৬), চাঁদবিবি (১৯০৭), আলমগীর (১৯২১) প্রভৃতি তাঁর লেখা অন্যান্য ঐতিহাসিক নাটক। বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময়ই তাঁর অধিকাংশ ঐতিহাসিক নাটক রচিত হয়। সেই সময়ে জাতীয়তাবাদের উপজাতরূপে এদেশে আর-একটি বিষয় প্রাধান্য লাভ করেছিল। তা হিন্দু-মুসলমানের মিলন আন্দোলন। ক্ষীরোদপ্রসাদ কালাতিক্রমণ দোষে দুষ্ট হয়েও তাঁর আলমগীর ও চাঁদবিবি নাটকে হিন্দু-মুসলমানের মিলনগীত গেয়েছেন। পরবর্তীকালের ঐতিহাসিক নাটকগুলির ধ্রুবপদই হয়ে উঠেছিল দুই সম্প্রদায়ের মিলনবাণী। অবশ্য আলমগীর নাটকে ক্ষীরোদপ্রসাদ আওরঙ্গজেব ও উদিপুরীর চরিত্রে গভীর অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টিতে নাটকীয় প্রতিভার সাক্ষরও রেখেছেন।
এই পর্বের অপর নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচনা করেন তারাবাঈ (১৯০৩), রাণা প্রতাপ সিংহ (১৯০৫), দুর্গাদাস (১৯০৫), নূরজাহান (১৯০৮), মেবার পতন (১৯০৮), সাজাহান (১৯০৯), চন্দ্রগুপ্ত (১৯১১) ও সিংহল বিজয় (১৯১৫)—এই কটি ঐতিহাসিক নাটক। প্রথম ঐতিহাসিক নাটক তারাবাঈ নিতান্তই পরীক্ষামূলক ও বিশেষত্বহীন রচনা। রাণা প্রতাপ সিংহ, দুর্গাদাস ও মেবার পতন নাটক তিনটির বিশেষবস্তু দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ। তবে অন্য নাটকগুলি এইরকম বাহ্য প্রেরণা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এই প্রসঙ্গে সাজাহান ও চন্দ্রগুপ্ত নাটক দুটির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নাটক হিসেবে এগুলির অনেক ত্রুটি আছে। দুই নাটকেই (এবং দ্বিজেন্দ্রলালের অন্যান্য নাটকেও) সংলাপের ভাষা অতিমাত্রায় কাব্যধর্মীয় বলে তা নাট্যরসবিরোধী। অধিকন্তু সকল শ্রেণির চরিত্রের মুখেই একই রকম ভাষা চরিত্রগুলির বাস্তবতা নষ্ট করেছে। উপকাহিনি গ্রন্থনেও দ্বিজেন্দ্রলাল ব্যর্থ। সর্বোপরি নাটকের মধ্যে আদর্শবাদের প্রাধান্যের প্রবণতায় নাট্যকারের আত্মগুপ্তি-ধর্ম তিনি পালন করতে পারেননি। তবু দ্বিজেন্দ্রলালই প্রথম নাট্যকার যিনি বাংলা নাটকের রূপ ও রীতি বিশেষভাবে মার্জিত করে তাকে বহুলাংশে সাহিত্যগুণান্বিত করে তুলেছেন। তাঁর ঐতিহাসিক নাটক বিবৃতিসর্বস্ব নয়, ঘটনার সংঘাতে ও চরিত্রের দ্বন্দ্বে জীবনরসে পরিপূর্ণ। সাজাহান, চাণক্য ও নূরজাহান চরিত্র তিনটির অন্তর্দ্বন্দ্বে তিনি উচ্চ নাটকীয় প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন।
এই পর্বের অন্যতম উল্লেখ্য নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষ। সম্ভবত ক্ষীরোদপ্রসাদের প্রতাপ আদিত্য ও দ্বিজেন্দ্রলালের রাণা প্রতাপ সিংহ ও দুর্গাদাস নাটকের জনপ্রিয়তাই তাঁকে সিরাজদ্দৌলা (১৯০৬), মীরকাশিম (১৯০৬) ও ছত্রপতি শিবাজী (১৯০৭) রচনায় অনুপ্রাণিত করেছিল। এই নাটকগুলির মূল সুর দেশপ্রেম। নাটকগুলিতে কালানৌচিত্য দোষের সঙ্গে তরল উচ্ছ্বাস ও অস্বাভাবিকতা মিশে এগুলিকে মেলোড্রামায় পরিণত করেছে। কয়েকটি ঐতিহাসিক নাটক তিনি আগেও রচনা করেছিলেন। এগুলি হল আনন্দ রহো (১৮৮১), চণ্ড (১৮৯০), কালাপাহাড় (১৮৯৬), সৎনাম (১৯০৪) ইত্যাদি। আনন্দ রহো-তে আকবর, মানসিংহ প্রভৃতি কয়েকটি নাম ছাড়া ঐতিহাসিকতা কিছুই নেই, নাট্যগুণ তো একেবারেই নেই। চণ্ড নাটকটির উৎস টডের গ্রন্থ। কালাপাহাড় ও সৎনাম-এ যৎসামান্য ঐতিহাসিক উপাদান আছে মাত্র। তাঁর নাটকগুলিতে যাত্রার প্রভাব প্রচুর। ঐতিহাসিক নাট্যকার হিসেবে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের পরেই তাঁর আবির্ভাব। জ্যোতিরিন্দ্রনাথের প্রথম ঐতিহাসিক নাটক পুরুবিক্রম প্রকাশিত হয় ১৮৭৪ সালে, আর গিরিশচন্দ্রের প্রথম ঐতিহাসিক নাটক আনন্দ রহো প্রকাশিত হয় ১৮৮১ সালে। অথচ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ যাত্রার প্রভাব থেকে মুক্ত ছিলেন, কিন্তু গিরিশচন্দ্র সৎনাম পর্যন্ত যাত্রার প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি। আসলে ইতিহাস ছিল গিরিশচন্দ্রের কাছে একটি বহিরাবরণ মাত্র। অন্তরালে তাঁর শিল্পীমানসের গীতাভিনয়-প্রবণতাই জয়ী হয়েছে।
অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের অযোধ্যার বেগম (১৯২১) ও মগের মুলুক (১৯২৭), প্রমথনাথ রায়চৌধুরীর ভাগ্যচক্র ও চিতোরোদ্ধার, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিন্দু-বীর, মোগল পাঠান ও আলেকজান্ডার এবং নিশিকান্ত বসুরায়ের বঙ্গে বর্গী, দেবলাদেবী ও ললিতাদিত্য এই পর্বেরই নাটক। তবে এই নাট্যকারেরা গিরিশচন্দ্রের যাত্রাশৈলী ত্যাগ করে দ্বিজেন্দ্রলালের অনুসরণেই নাটক রচনা করেছিলেন।
এই পর্বের নাটক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশুদ্ধ ঐতিহাসিক নাটক রচনার প্রেরণায় সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, নূরজাহান, আলমগীর প্রভৃতি অল্প কয়েকটি নাটকই লেখা হয়েছে; বেশিরভাগ নাটকের মৌলিক প্রেরণা দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ ও হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের বাণী প্রচার। নাট্যরচনায় কল্পনার অতিচার আছে, কালানৌচিত্য ও পাত্রানৌচিত্য দোষও আছে। তবে গঠনের দিক থেকে নাটক আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন হয়েছে। ভাষাও অনেক মার্জিত হয়েছে। তাছাড়া নাটকীয় চরিত্রে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির কিছুটা প্রয়াসও দেখা গিয়েছে। বাংলায় প্রথম ঐতিহাসিক নাটক কৃষ্ণকুমারী রচিত হয়েছিল শেকসপিয়রের আদর্শে। মধুসূদন হয়তো সর্বাংশে সফল হননি, কিন্তু আদর্শটি সামনেই ছিল। দ্বিতীয় পর্বের ঐতিহাসিক নাটকে সেই অনুসরণের দৃষ্টান্ত প্রায় অনুপস্থিত। সেখানে ঐতিহাসিক কাহিনির আধারে দেশপ্রেমের তরল উচ্ছ্বাসেরই প্রাধান্য, না হয় কোনো ক্রমে একটি ঐতিহাসিক কাহিনির সংলাপময় রূপ বিধৃত। কেবল দ্বিজেন্দ্রলালই দু-একটি চরিত্রে শেকসপিয়রীয় দ্বন্দ্বের অবতারণা করে কিছুটা সফল হয়েছেন। নাট্যবিচারে একমাত্র ভাষার অগ্রগতি ও কাহিনির অধিকতর পরিচ্ছন্ন রূপদান ছাড়া দ্বিতীয় পর্বের ঐতিহাসিক নাটক যে প্রথম পর্বের নাটকটি থেকে শিল্পগুণে খুব বেশি অগ্রসর হয়েছে তা বলা চলে না।
তৃতীয় পর্ব: যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ও অন্যান্য নাট্যকার
[সম্পাদনা]ঐতিহাসিক নাটকের তৃতীয় পর্বের সূত্রপাত যোগেশচন্দ্র চৌধুরীর দিগ্বিজয়ী (১৯২৮) নাটকের মাধ্যমে। তাঁর এই একটিমাত্র ঐতিহাসিক নাটকে শেকসপিয়রীয় নাট্যশৈলীর পরিবর্তে আধুনিক ইবসেনীয় নাট্যশৈলী অবলম্বিত হয়েছে। ইবসেনীয় নাট্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য এই যে, এতে নাট্যবর্ণিত কাহিনির কাল খুবই সংক্ষিপ্ত; এমনকি তা একদিনের অথবা মঞ্চে যতক্ষণ ঘটনাটি ঘটে ততক্ষণেরও হতে পারে। কারণ, এই শৈলী অনুযায়ী, নাটকীয় ঘটনা রয়ে-সয়ে ঘটে না। তা আকস্মিক ঝড়ের মতো, ক্ষণকালের জন্য এসে একটা বিপর্যয় বা বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়ে চলে যায়। নাট্যকাহিনির এমন সংক্ষিপ্ততায় তা দৃঢ়বদ্ধ ও সংহত হয়ে ওঠে। এইরকম নাটকে অঙ্ক-ভাগ থাকলেও দৃশ্য-ভাগ বড়ো একটা থাকে না, এক-একটি দৃশ্যেই এক-একটি অঙ্ক সমাপ্ত হয়। অন্তরঙ্গেও এগুলি চরিত্রপ্রধান নাটক। সেই চরিত্র কেবল স্বীয় স্বভাবজাত দুর্বলতার জন্যই পরিণতির দিকে অগ্রসর হয় না, পারিপার্শ্বিক অবস্থার ঘাত-প্রতিঘাতও তার প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। দ্বিগ্বিজয়ী-র নাদির শাহ এমনই এক চরিত্র। এই পর্বে শেকসপিয়র থেকে বাংলা নাটক প্রবেশ করে আধুনিক যুগে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই আধুনিক নাট্যশৈলী পরবর্তীকালে উৎপল দত্তের কল্লোল ছাড়া আর কোনও ঐতিহাসিক নাটকে খুব একটা অনুসৃত হয়নি। যোগেশচন্দ্রের পরবর্তী নাট্যকার মন্মথ রায়ের অশোক, মীরকাশিম, অমৃত অতীত দ্বিজেন্দ্রলালের রীতিতেই রচিত। শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের গৈরিক পতাকা, সিরাজদ্দৌলা, ধাত্রীপান্না, রাষ্ট্র-বিপ্লব প্রভৃতি নাটকও প্রাচীনপন্থী। সিরাজদ্দৌলা-র মতো আধুনিক নাটকেও যাত্রাশৈলীর মিশ্রণ বিস্ময়কর। এই বিষয়ে মহেন্দ্র গুপ্ত একেবারেই গিরিশযুগে ফিরে গিয়েছেন। তাঁর নাটকে ভাবের উচ্ছ্বাস ছাড়া আর কিছুই নেই। এছাড়া কালানৌচিত্য দোষ, অবাস্তব ও অবান্তর চরিত্রচিত্রণ তো আছেই; আর আছে হাস্যকৌতুকের নামে সস্তা ভাঁড়ামি। ঐতিহাসিক নাটক মহেন্দ্র গুপ্তে এসেই থেমে গিয়েছে। পরবর্তী নাট্যকারগণ এইরকম নাটক রচনায় আর উৎসাহ বোধ করেননি। কল্লোল ব্যতিক্রম মাত্র। আধুনিক জনরুচিও ঐতিহাসিক নাটকে আর তেমন কৌতূহল বোধ করে না, সম্ভবত এই কারণেই ঐতিহাসিক নাটকের উপর এরপর যবনিকাপাত হয়ে যায়।