অধ্যয়ন দক্ষতা/টার্ম পেপার লেখা
দক্ষতা
[সম্পাদনা]**হেল্পিং ইয়োর টিন-এইজ স্টুডেন্ট** বইতে ড. মারভিন কোহেন বলেন যে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই তাড়াহুড়ো করে একটি বিষয়ে লাফিয়ে পড়ে এবং কষ্টসাধ্যভাবে তাড়াহুড়ো করে নোট নেওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যা শেষ পত্রের জন্য তেমন সহায়ক হয় না। তিনি বলেন, লেখালেখি শুরু করার আগে বিভিন্ন বই ঘেঁটে দেখা এবং সম্ভাব্য গবেষণা প্রকল্প নিয়ে চিন্তা করার জন্য সময় নেওয়া উচিত। কোনও বিষয় বেছে নেওয়ার আগে জেনে নেওয়া সর্বোত্তম যে উক্ত বিষয়ে যথেষ্ট উৎস পাওয়া যাবে কি না। উৎসগুলোর পর্যালোচনার সময়, শিক্ষার্থী কোন উৎসগুলো কার্যকর বলে মনে হয় এবং কোনগুলো নয়, সেটিও নোট করে রাখলে দ্বিতীয়বার অপ্রয়োজনীয় উৎসে ফিরে যাওয়া এড়ানো যায়। যে বইটি আগ্রহজনক মনে হয়, সেটির শিরোনাম, লেখক, অবস্থান এবং একটি বর্ণনা—যেমন একটি অধ্যায়ের সারাংশ—লিখে রাখা উচিত। একই বিষয়ে একাধিক বই পাওয়া গেলে, শিক্ষার্থী সেই বইগুলো একটি সাধারণ দৃষ্টিকোণের ভিত্তিতে তুলনা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, জর্জ ওয়াশিংটনের জীবনীগ্রন্থের একটি সেটের মধ্যে শিক্ষার্থী ওয়াশিংটনের ভ্যালি ফোরজ-এ শীতকালীন অবস্থানের বিবরণ তুলনা করতে পারে। একটি বইয়ের একটি পাতাও না পড়েই অনেক কিছু বোঝা যায়—যেমন লেখক কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, বিষয়বস্তু কীভাবে সংগঠিত, এবং ভাষা কতটা পরিষ্কার। সাধারণভাবে, শিক্ষার্থীর জন্য শুরুতেই একটি ভালো উৎস খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে ভালো, যেটিকে সে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
পাঠের কার্যক্রমকে তিনটি ধাপে ভাগ করা যায়, যেগুলো শিক্ষার্থীরা সাধারণত এই ক্রমে অনুসরণ করে:
১. **অভ্যুপাত** – কোনো বিষয়ে সাধারণ ধারণা নেওয়া, যেমন এনসাইক্লোপিডিয়ার নিবন্ধ পড়ে বা বিষয়টি নিয়ে সাধারণভাবে আলোচনা করে এমন বইগুলো দ্রুত দেখে।
২. **অধ্যয়ন** – পাঠ্যপুস্তকের মতো করে বই বা প্রবন্ধ পড়া, শুধুমাত্র প্রারম্ভিক পাঠ নয় বরং যেগুলো বিষয়ের নির্দিষ্ট দিক নিয়ে আলোচনা করে।
৩. **তথ্য অনুসন্ধান** – বিস্তারিত তথ্য খোঁজা, অর্থাৎ গবেষণার মাধ্যমে যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে তার উত্তর খোঁজা।
নিজের ভাষায় নোট নেওয়া অনিচ্ছাকৃত চৌর্যবৃত্তি থেকে রক্ষা করে। আবার, নিজের ভাষায় লেখা মানেই শিক্ষার্থীকে পাঠ্য নিয়ে চিন্তা করতে হয়। তবে লেখকের বক্তব্য হুবহু তুলে দেওয়ার করার প্রয়োজন হলে সেটি করা যায়। যদিও পত্রে যত কম উক্তি ব্যবহার করা যায়, ততই ভালো, কিন্তু নোটে অনেক উক্তি থাকলেও সমস্যা নেই। নোটের সংখ্যা বেড়ে গেলে শিক্ষার্থীর মনে নিজস্ব মন্তব্য আসবে, যা সে বাক্য বা অনুচ্ছেদ আকারে লিখতে পারে।
পাঠ এবং নোট নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীর মনে কিছু মূলবিষয় উদয় হতে পারে, সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে লিখে রাখা উচিত। পরে সেগুলোর ক্রম বদলাতে হতে পারে। এই তালিকাই পরবর্তীতে রূপরেখায় রূপ নেয়। এই রূপরেখা গাছের বৃদ্ধির মতো: একটি মূল পয়েন্ট থেকে দুই বা ততোধিক ছোট পয়েন্ট তৈরি হয়, এবং সেই ছোট পয়েন্টগুলো থেকেও আরও বিশদ তথ্য যোগ হয়। সাধারণ নিয়ম হলো, একটি কাজ শেষ করার পর সঙ্গে সঙ্গে নতুন কাজ শুরু না করাই ভালো। রূপরেখা লেখার পর কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া উচিত। আধুনিক পড়ালেখার বইগুলোতে মাইন্ড ম্যাপের কথা বলা হয়। শিক্ষার্থী চাইলে এই অনানুষ্ঠানিক চিত্রটি ব্যবহার করে রূপরেখা তৈরির আগেই ধারণাগুলো বিকশিত করতে পারে।
একটি প্রবন্ধ আসলে একের পর এক অনুচ্ছেদের সমষ্টি, এবং ভালোভাবে অনুচ্ছেদ লেখার কৌশল শিখলে লেখকের লেখার মান অনেক বেড়ে যায়। ইংরেজি লেখায় বেশিরভাগ অনুচ্ছেদ শুরু হয় একটি বাক্য দিয়ে যা অনুচ্ছেদের মূল ভাবনা প্রকাশ করে। কখনো কখনো সেই মূল ভাবনা অনুচ্ছেদের শেষ বাক্যেও থাকতে পারে। অনুচ্ছেদের মূল ধারণাটিকে অন্যান্য বাক্যগুলো সমর্থন করে। সহজ নিয়ম হলো: খুব বড় বাক্য বা অনুচ্ছেদ লেখা থেকে বিরত থাকা, যাতে লেখাটি সহজপাঠ্য হয়। প্রয়োজনে বড় বাক্য ভেঙে ছোট করা উচিত। অপ্রয়োজনীয় বা দুর্বোধ্য শব্দের পরিবর্তে সাধারণ শব্দ ব্যবহার করাই ভালো, অথবা সেটি লেখায় ব্যাখ্যা করা উচিত।
গবেষণা ও লেখার প্রক্রিয়া
[সম্পাদনা]গবেষণা প্রকল্পকে স্পষ্ট ধাপে ভাগ করা যায় না। এখানে অনেক ক্ষেত্রেই একটির সঙ্গে আরেকটির সংমিশ্রণ ঘটে। সম্ভাব্য উৎস পর্যালোচনার সময়ই কিছুটা নোট নেওয়া শুরু হয়, অন্তত বই বা প্রবন্ধ শনাক্ত করার মতো করে। নোট নেওয়ার কাজের মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ লিখতে শুরু করে, হয়তো বাক্য বা অনুচ্ছেদ আকারে। তথ্যের পরিমাণ বাড়লে সেটিকে রূপরেখায় সংগঠিত করার প্রয়োজন দেখা দেয়, অথবা মাইন্ড ম্যাপ ব্যবহার করে ধারণাগুলোর বিকাশ ঘটাতে হয়। রূপরেখা প্রথমে একটি সাধারণ পয়েন্টের তালিকা হিসেবে শুরু হয়। রূপরেখা লেখার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে: ছোট বাক্য, পূর্ণ বাক্য বা সংযুক্ত বাক্য ব্যবহার করে লেখা যায়। কেউ কেউ সাধারণ রূপরেখার ভিত্তিতে খসড়া লিখে ফেলে, আবার কেউ কেউ রূপরেখায় এত বেশি বিশদ যোগ করে যে তা প্রায় প্রথম খসড়া হয়ে যায়। খসড়া লেখার সময় কেউ কেউ কিছু অংশ দ্রুত লিখে ফেলে এবং অন্য অংশগুলো ধীরে ও যত্ন করে লেখে; আবার কেউ কেউ শুরু থেকেই প্রমিত ভাষা ব্যবহার করে। সব ধরনের লেখার জন্যই প্রবন্ধটি সাবধানে পড়ে সব ধরনের ভুল খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। নম্বর দেওয়ার সময় ছোট ছোট ভুলগুলোও গণনায় আসে। প্রুফরিডিংয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি হলো লেখাটি কিছুদিন সরিয়ে রেখে তারপর “নতুন চোখে” পড়া।
একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রাথমিক অনুশীলন
[সম্পাদনা]**হাউ টু ডাবল ইয়োর চাইল্ড’স গ্রেডস ইন স্কুল** গ্রন্থে লেখক ইউজিন শোয়ার্জ একটি অনুশীলনের কথা বলেছেন, যা সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ থেকে প্রথম টার্ম পেপারে রূপান্তরকে কম কষ্টকর করে তোলে। তিনি বলেন, প্রচলিত গ্রন্থপঞ্জির বদলে শিক্ষার্থী যেন দুই বা তিনটি সহজপাঠ্য বই নিয়েই কাজ শুরু করে। যখন শিক্ষার্থী এগুলোতে পরিচিত হয়ে যায়, তখন সে একটি প্রশ্নমালার উত্তর দেয়, যেখানে থাকে কোন ধারণাগুলো মূল পয়েন্ট হওয়া উচিত এবং কোনগুলো বাদ দেওয়া উচিত সেই সিদ্ধান্ত। লেখাটি শুরু করা উচিত একটি শক্তিশালী বক্তব্য দিয়ে এবং একটি ভালো শেষ বাক্যও ঠিক করে নেওয়া উচিত, যা খসড়া লেখার আগেই স্থির করা হবে। এই অনুশীলনটি আটটি প্রশ্ন নিয়ে গঠিত।